ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ অভিমান

পর্ব 18

লেখক: নুসরাত জাহানের রাফা

### নিষিদ্ধ অনুভূতি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা ১৮

### ভালোবাসার নতুন দায়িত্ব

সকালের আলো ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। রাফা প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে উঠে পড়ার টেবিল গুছিয়ে নিল। গত রাতের লেখা খাতাটা খুলে নিজের স্বপ্নগুলোর দিকে আবারও তাকাল। মনে মনে ঠিক করল, আজ থেকে নিয়ম করে পড়াশোনা করবে।

ঠিক তখনই রান্নাঘর থেকে শারমিন বেগমের ডাক এল,

—রাফা, মা! নাশতা করতে আয়।

—আসছি আম্মু!

রাফা বই বন্ধ করে নিচে চলে গেল। নাশতার টেবিলে বসতেই মা বললেন,

—আজ বিকেলে আদবিরা আসবে। ওর মা ফোন করেছিলেন।

রাফা একটু অবাক হলো।

—কেন আম্মু?

—এমনিই দেখা করতে আসবে। আর শুনলাম, তোর জন্য কিছু বইও নিয়ে আসবে।

রাফা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করল।

শারমিন বেগম মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন।

—কী হলো? এত লজ্জা পাচ্ছিস কেন?

—কিছু না আম্মু। আপনি শুধু হাসবেন না।

মা হেসে বললেন,

—আচ্ছা, আর হাসব না। এবার নাশতা শেষ কর।

অন্যদিকে খান বাড়িতে সকাল থেকেই একটু ব্যস্ততা।

আদবি নিজের ঘরে বসে কয়েকটি বই গুছিয়ে রাখছিল। পাশে দাঁড়িয়ে মাহিরা একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছিল।

—ভাইয়া, এতগুলো বই কার জন্য?

—রাফার জন্য।

—ভাবি কি এত পড়াশোনা করবেন?

আদবি বইগুলো ব্যাগে রাখতে রাখতে বলল,

—নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চাইলে পড়াশোনা তো করতেই হবে।

মাহিরা মুচকি হেসে বলল,

—বাহ! ভাইয়া তো এখন অনেক দায়িত্ববান হয়ে গেছেন!

আদবি হেসে বলল,

—আগে ছিলাম না?

—ছিলেন। তবে এখন দায়িত্বের সঙ্গে একটু বেশিই যত্ন যোগ হয়েছে।

আদবি কিছু বলল না। শুধু বোনের মাথায় আলতো করে হাত রেখে বলল,

—তুইও কিন্তু পড়াশোনায় মন দিবি।

মাহিরা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

—আমার কথা বাদ দেন। আগে ভাবির বইগুলো ঠিকমতো পৌঁছে দেন।

বিকেল প্রায় পাঁচটা। রাফা নিজের ঘরে বসে পড়ছিল। হঠাৎ নিচ থেকে ছোট বোনের চিৎকার শোনা গেল,

—আপু! আদবি ভাইয়া এসেছে!

রাফা চমকে বইয়ের দিকে তাকাল। তারপর দ্রুত বই বন্ধ করে আয়নার সামনে দাঁড়াল। চুলগুলো একটু ঠিক করে নিচে নেমে এল।

ড্রয়িংরুমে গিয়ে দেখল, আদবি তার বাবার সঙ্গে বসে কথা বলছে। পাশে আমিরুল সাহেবও আছেন।

রাফাকে দেখে আদবি মৃদু হেসে বলল,

—কেমন আছেন?

—আলহামদুলিল্লাহ, ভালো। আপনি?

—ভালো আছি।

সোহাগ সাহেব হেসে বললেন,

—আদবি, তুমি তো আজ বেশ কিছু বই নিয়ে এসেছ!

আদবি ব্যাগটা টেবিলের ওপর রেখে বলল,

—জি, আঙ্কেল। রাফা যেসব বিষয় পড়তে চায়, সেগুলোর কয়েকটা বই এনেছি। ওর কাজে লাগবে আশা করি।

রাফা বইগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,

—এতগুলো বই আনার কী দরকার ছিল?

আদবি শান্ত গলায় বলল,

—আপনার প্রয়োজন হবে বলেই এনেছি। পছন্দ না হলে বলবেন, বদলে দেব।

রাফা মাথা নেড়ে বলল,

—না, পছন্দ হয়েছে। ধন্যবাদ।

মাহিরা পাশ থেকে বলে উঠল,

—ভাবি, ভাইয়া কিন্তু বইগুলো বাছাই করতে অনেক সময় নিয়েছে!

আদবি সঙ্গে সঙ্গে বলল,

—মাহিরা, তুই একটু চুপ করবি?

সবাই হেসে উঠল। রাফাও হাসি লুকাতে পারল না।

কিছুক্ষণ পর সবাই বসার ঘরে গল্প করছিল। রাফা নতুন বইগুলো নিয়ে পাশের টেবিলে বসে দেখতে লাগল। আদবি দূর থেকে তাকে লক্ষ করছিল।

হঠাৎ একটি বইয়ের পাতা উল্টাতে গিয়ে রাফার মুখ একটু মলিন হয়ে গেল।

আদবি কাছে এসে জিজ্ঞেস করল,

—কী হয়েছে?

—কিছু না।

—কিছু একটা হয়েছে। বলুন।

রাফা একটু দ্বিধা করে বলল,

—আমি এত কিছু একসঙ্গে সামলাতে পারব কি না বুঝতে পারছি না। পড়াশোনা, পরিবারের দায়িত্ব—সবকিছু ঠিকভাবে করতে পারব তো?

আদবি তার কথা মন দিয়ে শুনল।

—একদিনে সবকিছু সামলাতে হবে না। ধীরে ধীরে এগোবেন। ভুল হলে আবার চেষ্টা করবেন। নিজের ওপর এত চাপ দেবেন না।

রাফা নিচু স্বরে বলল,

—কখনো কখনো মনে হয়, আমি যদি ব্যর্থ হই?

আদবি বলল,

—ব্যর্থ হওয়ার ভয়েই যদি চেষ্টা না করেন, তাহলে নিজের সামর্থ্যটা বুঝবেন কীভাবে? আপনি চেষ্টা করবেন। ফলাফল যেমনই হোক, সেখান থেকে শিখবেন।

রাফা মৃদু হেসে বলল,

—আপনি কথা খুব সুন্দর করে বলতে পারেন।

—শুধু কথা বললে হবে না, কাজেও প্রমাণ করতে হবে।

—তাহলে আপনিও নিজের কাজগুলো ঠিকমতো করবেন।

—অবশ্যই। আমরা দুজনেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করব।

সন্ধ্যার দিকে আদবি ও তার পরিবার বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিল। যাওয়ার আগে আদবি রাফাকে বলল,

—বইগুলো পড়া শুরু করবেন। কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে আমাকে জানাবেন।

রাফা বলল,

—আপনাকে সবসময় বিরক্ত করতে ভালো লাগে না।

আদবি একটু গম্ভীর হয়ে বলল,

—সাহায্য চাইলে সেটা বিরক্ত করা হয় না। আর আমি ব্যস্ত থাকলে পরে উত্তর দেব। তাই বলে নিজের সমস্যা লুকিয়ে রাখবেন না।

রাফা মাথা নেড়ে বলল,

—আচ্ছা।

আদবি চলে যাওয়ার পর রাফা বইগুলো নিয়ে নিজের ঘরে গেল। একে একে সব বই সাজিয়ে রাখল। নতুন বইয়ের পাতাগুলো থেকে একটা সুন্দর গন্ধ আসছিল। সে বইয়ের প্রথম পাতায় নিজের নাম লিখে রাখল।

তারপর ফোনে আদবিকে মেসেজ দিল,

—বইগুলো খুব সুন্দর হয়েছে। আবারও ধন্যবাদ।

আদবি উত্তর দিল,

—আপনার ভালো লেগেছে, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট।

রাফা লিখল,

—আপনি আজ অনেক সাহায্য করেছেন।

—সাহায্য নয়, আপনার পাশে থাকার ছোট্ট চেষ্টা।

রাফা কিছুক্ষণ ভেবে লিখল,

—একটা কথা বলব?

—বলুন।

—আপনি কখনো আমার ওপর রাগ করবেন না তো?

আদবি কিছুক্ষণ পর উত্তর দিল,

—রাগ বা অভিমান মানুষের মধ্যে হতেই পারে। কিন্তু কোনো সমস্যা হলে আমরা কথা বলে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করব। আপনাকে কষ্ট দিয়ে চুপ করে থাকা আমার উদ্দেশ্য নয়।

রাফার মুখে আবার হাসি ফুটে উঠল।

রাতের খাবারের পর রাফা পড়তে বসে গেল। আজ নতুন বই থেকে কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়ল। সবকিছু পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও সে হাল ছাড়ল না।

অন্যদিকে আদবিও নিজের কাজ শেষ করে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হঠাৎ মাহিরা এসে বলল,

—ভাইয়া, একটা কথা বলব?

—আবার কী?

—আপনি কি ভাবিকে সবসময় এভাবেই সাহায্য করবেন?

আদবি বোনের দিকে তাকিয়ে বলল,

—ইনশাআল্লাহ, যতটা সম্ভব করব। তবে ওর নিজের চেষ্টাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মাহিরা হেসে বলল,

—তাহলে আমি বুঝেছি, আপনারা দুজন মিলে অনেক সুন্দর একটা জীবন গড়বেন।

আদবি মৃদু হেসে বলল,

—আল্লাহ যেন আমাদের সবার জন্য ভালো কিছু রাখেন।

সেদিন রাতে রাফা ঘুমানোর আগে নতুন বইগুলো আরেকবার গুছিয়ে রাখল। তার মনে হলো, জীবনে ভালোবাসা মানে শুধু মিষ্টি কথা নয়; ভালোবাসা মানে একে অপরের স্বপ্নকে সম্মান করা, দায়িত্ব বুঝতে শেখা এবং কঠিন সময়ে সাহস দেওয়া।

আর আদবির কাছে রাফার স্বপ্নগুলো এখন শুধু রাফার একার স্বপ্ন নয়—সেগুলো পূরণ হওয়ার পথে পাশে থাকার একটি সুন্দর দায়িত্ব।

কিন্তু পরদিন সকালে রাফার জন্য অপেক্ষা করছিল এমন একটি খবর, যা শুনে তার আনন্দের সঙ্গে কিছুটা চিন্তাও মিশে যাবে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 18 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন