ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ অভিমান

পর্ব 31

লেখক: নুসরাত জাহানের রাফা

### নিষিদ্ধ অনুভূতি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা ৩১

### নতুন সংসারে ভালোবাসার ছোঁয়া

বিয়ের পর কয়েকটি দিন কেটে গেছে। রাফা ধীরে ধীরে নতুন বাড়ির পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। আদবির মা তাকে নিজের মেয়ের মতোই স্নেহ করেন। আর মাহিরা তো সারাক্ষণ তার সঙ্গে গল্প করার জন্য অপেক্ষা করে থাকে।

সেদিন সকালে রাফা ঘুম থেকে উঠে দেখে, আদবি ইতিমধ্যে ঘুম থেকে উঠে প্রস্তুত হয়েছে। সে টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু কাগজপত্র দেখছিল।

রাফা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,

— আপনি এত সকালে উঠে গেছেন?

আদবি মৃদু হেসে বলল,

— আজ একটু কাজ আছে। আপনার ঘুম ভাঙিয়ে দিতে চাইনি।

— আমাকে ডাকলেই পারতেন।

— আপনার বিশ্রাম দরকার। নতুন পরিবেশে অভ্যস্ত হতে একটু সময় লাগবে।

রাফা হেসে বলল,

— আমি কিন্তু ধীরে ধীরে সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছি।

— সেটা দেখে আমারও ভালো লাগছে।

ঠিক তখন মাহিরা ঘরে ঢুকে বলল,

— ভাবি! আপনারা কি সকাল থেকেই গল্প শুরু করেছেন?

রাফা হেসে বলল,

— তুমি এত সকালে কোথা থেকে এলে?

— আমি তো অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছি। আজ আপনার সঙ্গে নাশতা করব।

আদবি মজা করে বলল,

— তাহলে আমার নাশতার কী হবে?

মাহিরা বলল,

— আপনি তো প্রতিদিনই নাশতা করেন। আজ ভাবির সঙ্গে আমার সময়!

তিনজনের হাসিতে ঘরটা আনন্দে ভরে উঠল।

নাশতার টেবিলে আদবির মা রাফাকে বললেন,

— মা, আজ তোমার কোনো কাজের চাপ নেই। নিজের মতো সময় কাটাও। আর পড়াশোনা করতে চাইলে নিশ্চিন্তে করবে।

রাফা বলল,

— আম্মু, আমি একটু পরেই পড়তে বসব। অনেক দিন পড়াশোনার রুটিন ঠিকমতো করা হয়নি।

আদবির মা খুশি হয়ে বললেন,

— খুব ভালো। নিজের স্বপ্নের প্রতি যত্নবান থাকবে।

নাশতা শেষে রাফা নিজের ঘরে ফিরে পড়ার টেবিল গুছিয়ে নিল। নতুন সংসারে এসেও নিজের পড়াশোনার জন্য আলাদা জায়গা পেয়ে তার ভালো লাগছিল। সে বই খুলে মনোযোগ দিয়ে পড়তে শুরু করল।

কিছুক্ষণ পর আদবি ঘরে এসে দেখল, রাফা পড়ছে।

— কী পড়ছেন?

রাফা বই থেকে চোখ তুলে বলল,

— আগামী দিনের পড়ার পরিকল্পনা করছি।

— খুব ভালো। কোনো বই বা খাতা প্রয়োজন হলে আমাকে বলবেন।

— সবকিছু আছে। আপনি বরং নিজের কাজ করুন।

আদবি হেসে বলল,

— ঠিক আছে, ম্যাডাম।

রাফা হেসে আবার বইয়ের দিকে মন দিল।

দুপুরে মাহিরা রাফার ঘরে এসে বলল,

— ভাবি, আজ বিকেলে আমরা একটু ছাদে বসব?

— অবশ্যই। তবে আগে তোমার পড়াশোনা শেষ করো।

— আপনি না একদম শিক্ষকের মতো কথা বলেন!

— পড়াশোনা না করলে কিন্তু তোমাকে কোনো গল্প শোনাব না।

মাহিরা সঙ্গে সঙ্গে বই নিয়ে বসে পড়ল। রাফা তাকে কয়েকটি বিষয় বুঝিয়ে দিল। দুজনের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা চলতেই থাকল।

বিকেলে আদবি কাজ থেকে বাড়ি ফিরল। ঘরে ঢুকেই সে মাহিরার পড়ার টেবিলের দিকে তাকিয়ে বলল,

— বাহ! আজ তো দেখি সবাই খুব পড়াশোনায় ব্যস্ত।

মাহিরা বলল,

— ভাইয়া, ভাবি আমাকে অনেক পড়িয়েছেন। এবার আপনি আমার জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসুন।

আদবি হেসে বলল,

— পড়াশোনা করেছ নাকি শুধু খাবারের পরিকল্পনা করেছ?

রাফা হেসে ফেলল।

সন্ধ্যায় সবাই একসঙ্গে বসে চা পান করছিল। আদবির মা পুরোনো দিনের কিছু গল্প বলছিলেন। রাফা মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। তার মনে হচ্ছিল, এই পরিবারে সে ধীরে ধীরে নিজের একটি জায়গা খুঁজে পাচ্ছে।

হঠাৎ তার ফোনে বাবার কল এল।

— আসসালামু আলাইকুম, বাবা।

— ওয়ালাইকুমুস সালাম, মা। কেমন আছিস?

— আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনারা কেমন আছেন?

— আমরা ভালো আছি। নতুন বাড়িতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো?

রাফা একটু আবেগ নিয়ে বলল,

— না বাবা। সবাই অনেক ভালো। আম্মুও আমাকে নিজের মেয়ের মতো দেখেন।

সোহাগ সাহেব স্বস্তির সঙ্গে বললেন,

— আলহামদুলিল্লাহ। নিজের যত্ন নিস আর পড়াশোনা চালিয়ে যাস।

— জি বাবা। আপনাদের খুব মনে পড়ে।

— আমাদেরও তোকে খুব মনে পড়ে, মা। সময় পেলে একদিন চলে আসিস।

ফোন রেখে রাফা কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। আদবি তার পাশে এসে বলল,

— বাবার সঙ্গে কথা বলে মন খারাপ হয়েছে?

— একটু। আগের মতো প্রতিদিন তাঁদের পাশে থাকা হচ্ছে না।

আদবি শান্তভাবে বলল,

— চাইলে আমরা সুবিধামতো আপনার বাবার বাড়িতে ঘুরে আসতে পারি। আপনার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য কখনো সংকোচ করবেন না।

রাফা তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

— আপনি আমার অনুভূতিগুলো এত সহজে বুঝে যান কীভাবে?

— কারণ আপনার কথা মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করি।

রাফা বলল,

— আমিও চাই, আপনার কথাগুলো মন দিয়ে শুনতে। আমাদের মধ্যে যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি জমে না থাকে।

আদবি সম্মতি জানাল।

রাতের খাবারের পর রাফা নিজের ঘরে এসে পড়ার টেবিলে বসল। আজকের পড়াগুলো গুছিয়ে রেখে সে একটি নতুন খাতা খুলল। প্রথম পাতায় লিখল, নতুন সংসার, নতুন দায়িত্ব, কিন্তু স্বপ্নগুলো আগের মতোই আমার নিজের।

কিছুক্ষণ পর আদবি ঘরে এসে খাতার দিকে তাকাল।

— কী লিখছেন?

রাফা খাতাটি বন্ধ করে বলল,

— নিজের জন্য কিছু কথা লিখছি।

— ভালো কথা। নিজের স্বপ্নগুলো লিখে রাখবেন। একদিন সব পূরণ হলে আবার পড়ে দেখবেন।

রাফা মৃদু হেসে বলল,

— সেদিন আপনাকেও দেখাব।

আদবি বলল,

— আমি সেই দিনের অপেক্ষায় থাকব।

সেদিন রাতে রাফার মনে আর কোনো অস্বস্তি ছিল না। নতুন সংসারের প্রতিটি দিন তাকে নতুন কিছু শেখাচ্ছিল। সে বুঝতে পারছিল, একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে ওঠে ছোট ছোট যত্ন, সম্মান আর বিশ্বাস দিয়ে।

আর আদবিও মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, রাফার হাসি ও স্বপ্নের পাশে সে সবসময় থাকার চেষ্টা করবে।

তবে নতুন সংসারের দিনগুলোতে এবার অপেক্ষা করছিল একটি ছোট্ট অভিমান, যা দুজনকে একে অপরকে আরও ভালোভাবে বুঝতে শেখাবে।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 31 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন