ফন্ট সাইজ:
থিম:
অবরুদ্ধ অভিমান

পর্ব 35

লেখক: নুসরাত জাহানের রাফা

### নিষিদ্ধ অনুভূতি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা ৩৫

### ভালোবাসার পূর্ণতা

সকালের মিষ্টি আলো জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে এসে পড়েছে। রাফা জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে আছে। তার জীবনে এখন অনেক পরিবর্তন এসেছে। একসময় যে মেয়েটি নিজের স্বপ্ন পূরণের কথা ভাবত, আজ সে নতুন একটি দায়িত্বের অপেক্ষায় দিন গুনছে।

আদবি ঘরে এসে বলল,

— কী ভাবছেন?

রাফা মৃদু হেসে বলল,

— ভাবছি, আমাদের জীবনে কত কিছু বদলে গেছে।

— ভালো পরিবর্তনগুলো মনে পড়ছে নিশ্চয়ই?

— হ্যাঁ। মনে আছে, প্রথম দিকে আপনার সঙ্গে কথা বলতেও কত সংকোচ হতো?

আদবি হেসে বলল,

— আমারও মনে আছে। আর এখন দেখুন, কত কথা জমে থাকে!

রাফা হেসে ফেলল।

— সব সময় কি এত কথা বলব?

— অবশ্যই। আপনার কথা শোনার জন্য আমার সময় থাকবে।

রাফা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— আমাদের ছোট্ট অতিথি কবে আসবে, সেটাই এখন ভাবছি।

আদবি বলল,

— আর কিছুদিন অপেক্ষা। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন। সবকিছু ভালো হবে, ইনশাআল্লাহ।

এরপরের দিনগুলোতে দুই পরিবারের সবাই রাফার খোঁজখবর নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। শারমিন প্রায় প্রতিদিন ফোন করে মেয়ের শরীরের খবর নিতেন। আদবির মা নিজের মতো করে রাফার যত্ন করতেন। মাহিরা তো ছোট্ট অতিথির জন্য নানা পরিকল্পনা করে রেখেছে।

একদিন মাহিরা এসে বলল,

— ভাবি, আমার ভাগ্নে হলে আমি তাকে ফুটবল খেলতে শেখাব!

রাফা হেসে বলল,

— আর ভাগ্নি হলে?

মাহিরা একটু ভেবে বলল,

— তাকেও শেখাব! আমার কাছে ছেলে-মেয়ে কোনো পার্থক্য নেই।

আদবি পাশ থেকে বলল,

— আগে তোমার নিজের পড়াশোনা ঠিক করো। তারপর ভাগ্নে-ভাগ্নির শিক্ষক হবে।

মাহিরা মুখ বাঁকিয়ে বলল,

— ভাইয়া, আপনি সব সময় আমার পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত!

সবাই হেসে উঠল।

দিন যত এগোতে লাগল, রাফার জীবনে নতুন অতিথিকে ঘিরে অপেক্ষাও বাড়তে লাগল। আদবি প্রতিটি প্রয়োজনীয় সময়ে তার পাশে থাকার চেষ্টা করত। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু চলছিল।

একদিন সকালে রাফার শরীর একটু বেশি খারাপ লাগায় আদবি তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেল। পরিবারের সবাই চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

কিছু সময় পর হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছিল আদবি, আমিরুল সাহেব, শারমিন ও সোহাগ সাহেব।

আদবি বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিল। তার মুখে চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।

শারমিন বললেন,

— বাবা, চিন্তা করো না। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো।

আদবি মাথা নেড়ে বলল,

— জি, আম্মা। সবার জন্য দোয়া করবেন।

কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক এসে জানালেন, রাফা ভালো আছে এবং তাদের ঘরে একটি সুস্থ কন্যাসন্তান এসেছে।

খবরটি শুনে আদবির মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠল।

— আলহামদুলিল্লাহ!

শারমিনের চোখে আনন্দের পানি চলে এল। সোহাগ সাহেব আনন্দে আমিরুল সাহেবকে জড়িয়ে ধরলেন।

আমিরুল সাহেব বললেন,

— আলহামদুলিল্লাহ! আজ আমাদের দুই পরিবারে নতুন আনন্দের দিন।

কিছুক্ষণ পর আদবি মেয়েকে দেখতে পেল। ছোট্ট শিশুটিকে দেখে তার চোখ আনন্দে ভরে উঠল।

সে ধীরে বলল,

— আমাদের ছোট্ট রাজকন্যা!

রাফা ক্লান্ত হলেও মুখে ছিল মিষ্টি হাসি।

আদবি তার কাছে গিয়ে বলল,

— কেমন আছেন?

— আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আমাদের মেয়েটা কেমন?

— খুব সুন্দর হয়েছে। একদম ছোট্ট পরির মতো।

রাফা মৃদু হেসে বলল,

— আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া।

আদবি বলল,

— আপনি অনেক কষ্ট করেছেন। এখন শুধু বিশ্রাম নেবেন। সবকিছু আমরা দেখব।

রাফা তার দিকে তাকিয়ে বলল,

— আমাদের মেয়েকে যেন ভালো মানুষ হিসেবে বড় করতে পারি।

— ইনশাআল্লাহ। তাকে ভালোবাসা, সম্মান, সত্য আর সুন্দর আচরণের শিক্ষা দেব।

কিছুক্ষণ পর দুই পরিবারের সবাই শিশুটিকে দেখতে এলেন। মাহিরা তো আনন্দে আত্মহারা।

— আমি ফুফু হয়েছি! ভাবি, আমি কি এখনই ওকে কোলে নিতে পারব?

আদবির মা হেসে বললেন,

— আগে ভালোভাবে হাত পরিষ্কার করো। তারপর আস্তে করে কোলে নেবে।

মাহিরা খুব যত্ন করে ছোট্ট শিশুটিকে কোলে নিল। তারপর বলল,

— ওর নাম কী রাখা হবে?

সোহাগ সাহেব বললেন,

— নামটা সবাই মিলে আলোচনা করে ঠিক করা যাক।

অনেক আলোচনা শেষে সুন্দর একটি নাম ঠিক করা হলো। সবাই শিশুটির জন্য দোয়া করলেন।

কয়েক দিন পর রাফা ও তার সন্তান বাড়িতে ফিরে এল। বাড়িতে ছোট্ট অতিথিকে স্বাগত জানানোর জন্য সবাই অপেক্ষা করছিল। ফুল দিয়ে ঘর সাজানো হয়েছে। মাহিরা নিজের হাতে ছোট্ট একটি সাজানো জায়গা তৈরি করেছে।

রাফা ঘরে ঢুকতেই আদবির মা বললেন,

— এসো মা, তোমাদের জন্য সবাই অপেক্ষা করছে।

রাফা হাসিমুখে সবার দিকে তাকাল।

রাতে শিশুটি ঘুমিয়ে পড়ার পর আদবি ও রাফা কিছুক্ষণ পাশাপাশি বসে রইল।

আদবি বলল,

— মনে আছে, একদিন আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কত কথা বলেছিলাম?

রাফা বলল,

— মনে আছে। তখন শুধু স্বপ্ন দেখতাম। আজ সেই স্বপ্নের অনেকগুলোই সত্যি হয়েছে।

— সামনে আরও অনেক পথ বাকি।

— হ্যাঁ। আমাদের মেয়েকে বড় করতে হবে, নিজেদের স্বপ্নও পূরণ করতে হবে।

আদবি মৃদু হেসে বলল,

— আমরা একসঙ্গে চেষ্টা করব।

রাফা বলল,

— একটা কথা জানেন? আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, আমরা একে অপরের স্বপ্নকে সম্মান করতে শিখেছি।

আদবি উত্তর দিল,

— আর সেই সম্মানই আমাদের ভালোবাসাকে সুন্দর করেছে।

রাফা ঘুমন্ত মেয়ের দিকে তাকিয়ে দোয়া করল, আল্লাহ যেন তাকে ভালো মানুষ হিসেবে বড় হওয়ার তৌফিক দেন।

একসময় যে অনুভূতিকে তারা বুঝতে পারত না, সময়ের সঙ্গে সেই অনুভূতিই হয়ে উঠেছিল বিশ্বাস, দায়িত্ব আর ভালোবাসার বন্ধন।

তাদের জীবনে অভিমান এসেছে, আনন্দ এসেছে, নতুন দায়িত্ব এসেছে। কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে তারা একে অপরকে বোঝার চেষ্টা করেছে।

জীবনের সব স্বপ্ন হয়তো একদিনে পূরণ হয় না। তবে পাশে যদি থাকে বিশ্বাস, সম্মান আর ভালোবাসা, তাহলে কঠিন পথও সুন্দর হয়ে ওঠে।

রাফা জানত, সামনে আরও অনেক গল্প লেখা বাকি। মেয়ের প্রথম হাসি, প্রথম কথা, প্রথম হাঁটা—প্রতিটি মুহূর্ত তাদের জীবনে নতুন আনন্দ নিয়ে আসবে।

আদবি মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল,

— আমাদের ছোট্ট পৃথিবীটা আজ পূর্ণ হলো।

রাফা হাসল।

— আলহামদুলিল্লাহ।

সেদিন রাতে তাদের ঘর ভরে ছিল এক নতুন আনন্দে। দুই পরিবারের ভালোবাসা, বাবা-মায়ের দোয়া আর ছোট্ট মেয়ের আগমনে তাদের জীবন পেল এক নতুন পূর্ণতা।

সমাপ্ত। ❤️

৩৫ পর্বে উপন্যাস সমাপ্ত

“নিষিদ্ধ অনুভূতি” — লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 35 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন