### নিষিদ্ধ অনুভূতি
লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা
পর্ব সংখ্যা ৩৪
### নতুন অতিথির আগমনী বার্তা
সকালের সময়। রাফা ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরিয়ে দিল। বাইরে সুন্দর রোদ উঠেছে। আজ তার মনটা অন্য দিনের তুলনায় একটু বেশি ভালো। আদবি নাশতার টেবিলে বসে অপেক্ষা করছিল।
রাফা এসে বসতেই আদবি বলল,
— আজ এত দেরি হলো কেন?
— ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হয়েছে।
— শরীর ঠিক আছে তো?
— হ্যাঁ, আমি ভালো আছি। আপনি নাশতা করেছেন?
— আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।
রাফা হেসে বলল,
— আমার জন্য অপেক্ষা করতে হবে কেন? সময়মতো খেয়ে নেবেন।
আদবি মৃদু হেসে বলল,
— ঠিক আছে, পরের বার মনে রাখব।
নাশতা শেষে রাফা নিজের ঘরে ফিরে গেল। কয়েক দিন ধরে সে একটু বেশি ক্লান্ত বোধ করছিল। তাই আদবির মা তাকে বিশ্রাম নিতে বলেছিলেন। রাফা প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।
দুপুরে আদবির মা ঘরে এসে বললেন,
— মা, আজ তোমাকে একটু ক্লান্ত দেখাচ্ছে। শরীর খারাপ লাগছে?
রাফা বলল,
— কয়েক দিন ধরে একটু দুর্বল লাগছে আম্মু।
— তাহলে সময় করে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবে। নিজের যত্ন নেওয়া খুব জরুরি।
রাফা সম্মতি জানাল।
সেদিন বিকেলে আদবি বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পারল।
— আপনার শরীর খারাপ লাগছে শুনলাম। আমাকে আগে বলেননি কেন?
— তেমন কিছু না। একটু ক্লান্তি লাগছে।
— তবুও বিষয়টা অবহেলা করা ঠিক হবে না। প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যাব।
রাফা বলল,
— ঠিক আছে। কাল সময় করে যাব।
পরদিন আদবি ও রাফা চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে গেল। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক তাদের কিছু বিষয় বুঝিয়ে দিলেন এবং পরবর্তী করণীয় জানালেন।
বাড়ি ফেরার পথে রাফা বেশ চুপচাপ ছিল।
আদবি জিজ্ঞেস করল,
— কী ভাবছেন?
— জানি না। একটু চিন্তা হচ্ছে।
— অযথা চিন্তা করবেন না। আমরা সবকিছু বুঝে ধীরে ধীরে এগোব। আপনার স্বাস্থ্যের যত্নটাই আগে।
রাফা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
কয়েক দিন পর চিকিৎসকের সঙ্গে আবার দেখা করার সময় হলো। এবার প্রয়োজনীয় রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক তাদের একটি আনন্দের খবর জানালেন। রাফা মা হতে চলেছে।
খবরটি শুনে রাফা কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে রইল। তার চোখে আনন্দ আর বিস্ময়ের পানি জমে উঠল।
আদবিও খবরটি শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে গেল।
— আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের জীবনে নতুন একজন আসছে!
রাফা মৃদু কণ্ঠে বলল,
— আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না।
আদবি বলল,
— ভয় পাবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলব। আপনার যত্নটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িতে ফিরে তারা প্রথমে আদবির মাকে খবরটি জানাল। খবর শুনে তিনি আনন্দে রাফাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
— আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তোমাদের জীবনে অনেক আনন্দ দিয়েছেন।
মাহিরা পাশ থেকে বলে উঠল,
— তাহলে আমি ফুফু হতে যাচ্ছি!
সবাই হেসে উঠল।
রাফা লজ্জা পেয়ে বলল,
— এখন থেকেই এত আনন্দ?
মাহিরা বলল,
— অবশ্যই! আমি কিন্তু ছোট্ট অতিথির জন্য অনেক কিছু কিনব।
আদবি হেসে বলল,
— আগে তোমার পড়াশোনার দিকে মন দাও। তারপর অতিথির জন্য কেনাকাটা করবে।
মাহিরা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— ভাইয়া, আপনি সব সময় পড়াশোনার কথা বলেন কেন?
সন্ধ্যায় রাফা নিজের বাবা-মাকে ফোন করে খবরটি জানাল। খবর শুনে শারমিন আনন্দে কেঁদে ফেললেন।
— আলহামদুলিল্লাহ মা! আল্লাহ তোমাকে সুস্থ রাখুন। নিজের যত্ন নেবে।
সোহাগ সাহেবও মেয়েকে বললেন,
— মা, কোনো কিছুর প্রয়োজন হলে আমাদের জানাবে। আমরা সব সময় তোমার পাশে আছি।
রাফা আবেগ নিয়ে বলল,
— বাবা, আপনাদের খুব মনে পড়ছে।
— আমরাও তোকে দেখতে আসব মা। চিন্তা করিস না।
পরদিন সোহাগ সাহেব ও শারমিন মেয়েকে দেখতে এলেন। রাফাকে দেখে শারমিন তাকে জড়িয়ে ধরলেন।
— কেমন আছিস মা?
— ভালো আছি, মা।
— চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলবি। নিজের যত্নে কোনো অবহেলা করবি না।
রাফা মাথা নেড়ে বলল,
— জি মা।
দুই পরিবারের সবাই সেদিন একসঙ্গে বসে অনেক গল্প করলেন। ভবিষ্যতের ছোট্ট অতিথিকে নিয়ে সবার মনে নানা আনন্দের পরিকল্পনা তৈরি হলো।
রাতে আদবি রাফার পাশে বসে বলল,
— আজ সবাইকে এত খুশি দেখে আমার খুব ভালো লাগছে।
রাফা মৃদু হেসে বলল,
— আমারও। তবে নতুন দায়িত্বের কথা ভেবে একটু ভয় হচ্ছে।
আদবি বলল,
— ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলব। পরিবারের সবাই পাশে আছে।
রাফা বলল,
— আমি চাই, আমাদের সন্তান যেন ভালো মানুষ হয়ে বড় হয়। তাকে যেন ভালো শিক্ষা দিতে পারি।
আদবি হাসল।
— আমিও তাই চাই। তাকে ভালোবাসা, সম্মান আর সত্যের শিক্ষা দেব।
রাফা জানালার বাইরে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল,
— আল্লাহ যেন আমাদের এই দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করার শক্তি দেন।
আদবি বলল,
— আমিন।
সেদিন রাতে রাফা ঘুমানোর আগে নিজের বাবা-মা, আদবি এবং অনাগত সন্তানের জন্য দোয়া করল।
তার মনে হচ্ছিল, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েই আল্লাহ নতুন কোনো না কোনো আনন্দের দরজা খুলে দেন। এবার তাদের পরিবারে আসতে চলেছে এমন একজন, যার অপেক্ষায় দুই পরিবারের প্রতিটি মানুষ দিন গুনবে।
রাফা এরপর নিজের ঘরে এসে বিছানায় বসল। ছোট্ট অতিথির কথা ভাবতেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল। সে ভাবল, একদিন এই ছোট্ট মানুষটি তাদের ঘরজুড়ে আনন্দ ছড়িয়ে দেবে। আদবি পাশে এসে বসে বলল, সবকিছু ঠিকভাবে হবে, ইনশাআল্লাহ। রাফা মৃদু হেসে তার কথায় সম্মতি জানাল। দুজনেই নতুন দায়িত্বের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে লাগল। তাদের মনে তখন একটাই চাওয়া, সন্তান যেন সুস্থ থাকে এবং সুন্দর পরিবেশে বড় হয়ে ভালো মানুষ হতে পারে। এই আনন্দের অপেক্ষায় দুই পরিবার দিন গুনতে লাগল।
আমার সুন্দর একটা উপন্যাস, আশা করি ভালো লাগবে এই উপন্যাস টি,
চলবে...