ফন্ট সাইজ:
থিম:
সে আমার সর্বনাশ-২

৮ম পর্ব

লেখক: লামইয়া তাসনিম

#সে_আমার_সর্বনাশ_২

(০৮)

পাঁচ বছর বয়সি পাখির বিয়েটা হয়েই গেল। তাও তার থেকে গুণে গুণে দশ বছরের বড়ো দামড়া পাত্রের সঙ্গে। পাত্রের বয়স ১৫। নাম নাওয়াফ তালুকদার। ছোট করে তার মা নাবু বলে ডাকে। আজ তাদের বাসর রাত। ফুল দিয়ে সাজানো খাটটিতে ঘুমিয়ে আছে নাওয়াফ। তার বুকে গুটিশুটি মেরে চড়ুই পাখির মতন উম পেয়ে ঘুমিয়ে আছে ছোট বালিকা বধূ। পরনে ছোট একটা হাফপ্যান্ট, আর একটা শর্ট ফ্রক। ভোরের ফুটফুটে আলো ফুটেছে। সেই আলো জানলা ফুঁড়ে কিছু অংশ ভিতরে প্রবেশ করে। নাওয়াফের ঘুমটা ভেঙে গেল। সে টের পেল তার প্যান্টের নিচে গরম আর ভেজা ভেজা। বুকেও ভারী ভারী ঠেকছে। কাণ্ডটা কি ঘটল? চোখ দুটো খুলে দেখল বুকের ওপর শুয়ে আছে তার সদ্য বিয়ে করা বালিতা বধূ। তার পিঠের নিচটা ভেজা। সে ভাবল ভিজানায় পানি আসল কি করে? তাও গরম পানি। হাতটা পিঠের পিছনে নিল সে। কেমন প্রস্রাব স্মেল আসছে। সে হাতটা নাকের কাছে নিল। সঙ্গে সঙ্গে প্রস্রাবের তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধে সে নাক খিঁচে নিল। মুখ কুঁচকে বিকৃত করে নিল। পাখিকে ধাক্কা দিয়ে পাশে ফেলে আম্মু বলে দিল এক বীভৎস চিৎকার। ফাতিহা নুর ছুটে এলেন না। ঘরে থাকলে তো আসবে। আশ্চর্য! তার আম্মা কি বাড়িতে নেই? ততক্ষণে পাখির ঘুম ভেঙে গেল। মেয়েটা ভেজা কাপড় নিয়ে জড়োসড়ো হয়ে একটা পাশে দাঁড়িয়ে রইল। গোলগাল মুখটা ভীতসন্ত্রস্তে ছোট হয়ে আছে। গা থেকে প্রস্রাবের ঝাঁঝালো ঘ্রাণ আসছে। নাওয়াফ নাক চেপে ধরল।

“এই মুতুনি, যা দূরে যা। ওয়াক, কি বিশ্রি গন্ধ? পানি খাস না কতদিন হয়েছে?”

পাখি ঠোঁট দুটি দাঁত দিয়ে চেপে ভয়ার্ত মুখটা নিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। নাওয়াফ উঠে দেখল তার কাপড় সব ভেজা। বিছানার চাদরটিও ভেজা। ছিহ, কি জগন্য?

সে চোখ দুটি রাঙিয়ে পাখিকে বলল, “খবিশ, বাসর রাতে কাউকে দেখেছিস বিছানায় হিসু করে? ছিহ, বদজাত মহিলা কোথাকার! এই বিছানা এখন তুই ধুবি।”

পাখি ফ্যাল ফ্যাল করে বোকার মতন নাওয়াফের মুখটার দিকে চেয়ে রইল। নাওয়াফ ওর কান ধরে টানল।

“আয় আগে কাপড় পরিষ্কার করবি।”

পাখি নাওয়াফের দিকে মুখটা মলিন করে নিয়ে বলল, “নাবু, হাগু দিব। আমার হাগু পেয়েছে। প্যান্ট খুলে দেও।”

নাওয়াফের মাথায় হাত। কাম সাড়ছে রে। এখন না আবার বাথরুম থেকে এসে বলে, “নাবু, হোগা পরিষ্কার করে দেও। না না, কোন হাসবেন্ড কি বউয়ের হোগা পরিষ্কার করে দেয়? ছিহ ছিহ কি জনগ্য?” সে পাখির দিকে চোখ পাকিয়ে চাইল।

“না না, এখন হাগু দেওয়া চলবে না। তোর হাগু বন্ধ।”

পাখি কেঁদে দিল। মনে জেদ নিয়ে বলল, “নায়াহ.. আমি বাথরুমে যাব। হাগু দিব। নতুবা প্যান্ট নষ্ট করে দিব নাবু।”

নাওয়াফ চোখ দুটো রাঙিয়ে বলল, “আয় খবিশশা খবিশ।”

পাখিকে বাথরুমে বসিয়ে দিয়ে নাওয়াফ চলে যাচ্ছিল। পাখি পিছু থেকে নাওয়াফকে ডাকল, “নাবু ভয় লাগছে। যেও না। এখানেই দাঁড়িয়ে থাকো।”

নাওয়াফ রাগে চোখ দুটো খিঁচে নিল। হাত দেখিয়ে বলল,

“কানের নিচে দিব একটা। এখানে সেন্টের ঘ্রাণ শুঁকতে দাঁড়িয়ে থাকব, বদজাত!”

পাখি ঠোঁট উল্টে কেঁদে দিল। নাওয়াফের মাথা গোল গোল করে ঘুরতে লাগল। এ মেয়ে তো আস্ত পাজি। সে বলল, “ওই সাউন্ড বক্স থামা। থাকছি থাকছি। তবুও ওই বক্স চালু করিস না।”

পাখির কান্না থেমে গেল। নাওয়াফ নাক চেপে বাথরুমের সামনে দাঁড়িয়ে রইল। ওয়াক, কি বিশ্রি গন্ধ? কোন জনমের পাপের শাস্তি পাচ্ছে সে, যার কারণে তার আম্মি আপদটাকে তার কাঁধে ঝুলিয়ে দিয়েছে। তার ভাবনা মাঝে পাখি উঠে এলো। ফ্রক উঠিয়ে নাওয়াফের সামনে দাঁড়াল। নাওয়াফের নজর পাখির নিচের দিকে পড়তেই নাওয়াফ চোখ দুটো চেপে ধরল।

“আসতাগফিরুল্লাহ, খবিইশ্শা মহিলা ফ্রক নিচে নামা। ছিহ, পুরুষের সামনে নেংটা হইয়া ভেটকাইয়া দাঁড়াইয়া আছে। দিব এক চড়।”

ছোট পাখি ঠোঁট ফুলিয়ে ক্ষণিকের মধ্যে মুখটা কাঁদো কাঁদো করে নিল। ম্লান মুখে বলে, “নাবু, হোগা পরিষ্কার করে দেও।”

নাওয়াফ কপাল চেপে ধরল।

“আল্লাহ.. কোন পাপের শাস্তিসরূপ এই ঝামেলা আমার কাঁধে উঠিয়ে দিলা। এখন নাকি বউয়ের পাছা ধোয়াইয়া দিতে হবে। এ ছিল আমার কপালে! এই বয়স কি বউয়ের পাছা ধোয়ানোর ছিল?”

নাওয়াফ ওকে শক্ত গলায় ধমক ছুড়ল, “তোর লজ্জা করছে না বরকে বলছিস পাছা ধুয়ে দিতে? ছিহ, অসভ্য মহিলা কোথাকার! নিজের পাছা নিজে পরিষ্কার কর।”

পাখি ফ্রক পেঁচাতে পেঁচাতে ঠোঁট উল্টে বলে, “আমি ধুতে পারি না নাবু। ধুয়ে দেও।”

“কানের নিচে দিব এক চড়।”

পাখি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দিল। নাওয়াফ কান দুটো চেপে ধরল। বিরক্তিতে তার মাথা ধরে গেছে। সে বলল, “থাম থাম আমার হাগু দেওয়া বউ। তোর পাছা পরিষ্কার করে দিচ্ছি। তবুও কানটার বারোটা বাজাস না।”

পাখি থামল ঠিকই। কিন্তু তার হেঁচকি কমছে না।

নাওয়াফ ওকে শক্ত গলায় এবার একটা ধমক দিল।

“কান্না থামাতে বলছি না?”

পাখি ঠোঁট ফুলিয়ে ভয়ে হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরল। নাওয়াফ তা দেখে হেসে ফেলল। সে একটা মাক্স মুখে লাগিয়ে ওকে পরিষ্কার করে দিল। এরপরে ওর ফ্রক খুলে ওকে একটা তোয়ালে পরিয়ে বলল, “ঘর থেকে একদম বের হবি না। নিখিল এসে ডাকলেও না, বুঝেছিস?”

পাখি দুদিকে মাথা ঘুরাল, না সে বের হবে না।

নাওয়াফ গেল বিছানার চাদর ধুতে। মুতে ভর্তি। যেখানে এখন তার বউয়ের আদরে ডুবে থাকার কথা। সেখানে সে বসে বসে বউয়ের প্রস্রাবের বেডসিট ধুচ্ছে। এটাকে বলে অভিশাপ। এই অভিশাপ তার মা তার ঘাড়ে তুলে দিছে। এমনও দিন দেখতে হলো তাকে, ছিহ।

এরমধ্যে ডয়িংরুমে নিখিলের গলা পাওয়া গেল।

‘পাখি পাখি’ বলে দুবার ডাক দিল। পাখি তখন ছোট একটা ঘোড়া নিয়ে খেলতে ছিল। নিখিলের গলা পেয়ে সে নাওয়াফের আদেশ ভুলেই গেল। সে দিল ডয়িংরুমের দিকে দৌড়। নিখিলও নাওয়াফের রুমের দিকে আসতে যাচ্ছিল। নাওয়াফ নিখিলের গলা পেয়ে বাথরুমের দরজা খুলে পাখিকে সতর্ক করতে যাবে, তার আগেই দেখল পাখি দৌড় দিয়েছে। সে পিছু পিছু ছুটল। মাঝপথে দৌড়ানো অবস্থাতে পাখির শরীর থেকে সাদা তোয়ালেটা নিচে ঢলে পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে নাওয়াফের মাথায় হাত। সর্বনাশ! নিখিল পুরা আহাম্মক হয়ে গেল। চোখ দুটো তার বড়ো বড়ো হয়ে এল। সে সঙ্গে সঙ্গে উল্টো ঘুরে গেল। নাওয়াফ রেগে আগুন। সে অর্ধভেজা কাপড় নিয়ে পাখির সামনে গিয়ে চোখ গরম করে দাঁড়াল। পাখি ভয়ে ভয়ে নিচ থেকে তোয়ালেটা উঠিয়ে গায়ে জড়িয়ে মৃদু হাসতে চেষ্টা করল। নাওয়াফ চোখ লাল করে দিল এক ধমক, “পাখির বাচ্চা, আমার সম্পদ তুই নিখিলকে দেখিয়ে দিলি? আজ তুই শেষ।” ঠাস করে ওর নরম মসৃণ গালে বসিয়ে দিল এক চড়।

সঙ্গে সঙ্গে পাখির ঘুম ভেঙে গেল। চোখের সামনে দেখতে পেল ইচ্ছে বসে আছে। হাতে তার একটা স্টিলের বাটি। সঙ্গে খুন্তি। যেটা দিয়ে সে এতক্ষণ তবলা বাজিয়েছে। পাখির সমগ্র শরীর ঘামে ভিজে ওঠল। স্বপ্নটা এখনো জীবন্ত মনে হচ্ছে। ছিহ, কি একটা বাজে স্বপ্ন দেখল। তাও লোকটার সামনে সে লেংটা হয়ে দাঁড়িয়ে। আল্লাহ বাঁচাও। আগামীকালই সে লোকটার সঙ্গে জয়নগর থেকে ফিরে এসেছিল। মোল্লা বাড়ি যাইনি। নিখিলদের বাড়িতে এসেছে। এখানে দুদিন থাকবে। সে রাতে সামনের ঘরের দক্ষিন দিকের ঘরটাতে ঘুমিয়ে ছিল। এই ঘরে বেশি ভাগ নাওয়াফ ভাই ঘুমোয়। লোকটা রাতে এখানেই মাঝেমধ্যে থাকে। পাখি দেখেছে এই রুমটিতে ঘুমোলে সে এসব উল্টাপাল্টা স্বপ্ন বেশি দেখে। ইশ, লোকটা তাকে লেংটা অবস্থায় দেখে ফেলল। কি বিশ্রি কাণ্ড? মুতু দিয়ে লোকটাকে ভিজিয়ে দিল। এটা একদম ভালো ছিল। ইচ্ছে বলল, “ম্যাডাম, ঘুম ক্লিয়ার হলে এখন উঠুন। স্কুলে যেতে হবে। আপনার বোন এসে কয়েকবার ডেকে গেছে। গাঢ় ঘুম আপনার। শোনেননি।”

পাখি বালিশটা বুকের সঙ্গে শক্ত করে চেপে ধরে অলস ভঙ্গিতে বলল, “আজ একটা স্বপ্ন দেখেছি জানু।”

“আবারও।” ইচ্ছের কণ্ঠে হতাশ।

পাখি মুখটা মিনিট কয়েক এর মধ্যে অসহায় করে নিল। মাথাটা হ্যাঁ বোধকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, “হুঁ, শোন না, আজকের স্বপ্নটা ছিল অনেকটা ভিন্ন। আমার মানসম্মান স্বপ্নের মধ্যে সব চলে গেছে।”

“কেন, বিয়ের আগে কাউকে চুমু খেয়ে বসেছিস?”

“তারচেয়েও ভয়ংকর কিছু ঘটেছে জানু। তোকে পুরোটা খুলে বলি।”

“না না, আমার শোনার টাইম নেই। তোর গল্প একবার শুরু হলে থামবে না সে আমি জানি। শেষে ক্লাস মিস করব।”

“মিস করলে করলি। সারাজীবন তো স্কুলেই যাব। মাঝেমধ্যে ব্রেনকে একটু বিশ্রামও দিতে হয়। এই দ্যাখ আমি স্কুলে আজ যাব না। কোন প্যাড়াও নাই। সবার আগে নিজের শান্তি। মাই লাইফ, মাই চয়েস।”

“হ, পরীক্ষায় ফেল করলে তিনদিন গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখবে নাওয়াফ ভাই।”

নাওয়াফের প্রসঙ্গ আসতেই পাখির গাল দুটো লাজে রঙিন হয়ে ওঠল। তার রাতের স্বপ্নের কথা মনে পড়ে গেল। নিখিল আর নাওয়াফ ভাইয়ের সামনে বসে তার কোমর থেকে তোয়ালেটা পড়ে গিয়েছিল। হায় সর্বনাশ! তার ইজ্জত সব নিলামে গেছে।

ইচ্ছে পাখির কাঁধ ঝাঁকাল।

“কিরে মিট মিট করে হাসছিস কেন? জ্বিনে ধরেছে নাকি?”

“তার চেয়েও বড়ো কিছু হয়েছে জানু। আমার সর্বনাশ হয়ে গেছে। ইজ্জত সব শেষ। তাও নাওয়াফ আর নিখিল ভাইয়ের সামনে। এই মুখ এখন আমি কেমনে দেখামু?”

“এই এক মিনিট এক মিনিট। ইজ্জত শ্যাষ মানে কি?”

“আমার বিয়ে হয়ে গেছে। তাও পাঁচ বছর বয়সে।”

ইচ্ছের মুখ বিস্ময়ে দুই ইঞ্চি হা হয়ে গেল। সে পাখির মাথায় ছোট করে একটা চড় বসাল।

“শালি, বিয়ে করে ফেলেছিস? তাও ওত ছোট বয়সে? তা বর কে? নিশ্চয়ই নাওয়াফ ভাই? আমি তা জানি।” বলেই ইচ্ছে কাঁধ ঝাঁকিয়ে হেসে দিল।

“আগে পুরো কথাটা শুনবি তো। পরে দাঁত ভেটকা।”

ইচ্ছে গা ছাড়া ভঙ্গিতে খাটে পা ঝুলিয়ে বসে বলল, “ এবার বল।”

“সবটা স্বপ্ন ছিল।”

“এ্যাঁহ্..!”

“আরে হ্যাঁ। স্বপ্নে দেখি ওনার সঙ্গে খুব ছোট থাকতে আমার বিয়ে হয়েছে। আমি মুতু দিয়ে ওনাকে ভিজিয়ে দিয়েছি। হাগু দিতে ওনার কাছে প্যান্ট খুলতে গেছি। তিনি আমার পাছা..!”

ইচ্ছে আর পাখিকে পুরোটা শেষ করতে দিল না। সে মাঝপথে পাখিকে বিরত দিয়ে ত্বরিত শুধাল, “পাছা ধুয়ে দিছে?”

পাখি মাথা ঝাঁকাল।

“হ্যাঁ।”

“হায় সর্বনাশ! এতো কিছু স্বপ্নের মধ্যে ঘটে গেল?”

“হুঁ।”

“আর কি কি হলো জানু? বল বল।”

“ওনার আর ওনার বন্ধুর সামনে দৌড়াতে গিয়ে আমার ইজ্জত শ্যাষ। আমার পরনে শুধু একটা টাওয়েল ছিল। দৌড়াতে গিয়ে সেটাও পরে গেছে।”

ইচ্ছে গা কাঁপিয়ে হেসে দিল। হাসতে হাসতে সে পাখির গা নিয়ে ধুম করে পড়ল। পাখি ব্যথায় চিৎকার করে ওঠল, ‘আহ্।’ ইচ্ছে তখনো হেসে যাচ্ছে। পাখি বিছানার মাঝে চিৎ হয়ে শোয়া অবস্থাতে ইচ্ছের দিকে অসহায় চোখে তাকিয়ে রইল।

“আমার ইজ্জত শ্যাষ, আর তুই হাসছিস?”

“গাধা তোর ইজ্জত শ্যাষ হবে কি করে? তুই তো তখন ছোট ছিলি।”

”ছোট থাকলে কি হয়েছে? আমার লজ্জা আছে না?”

“ওসব ফাও চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দে। ওটা তো কেবল স্বপ্ন। বিয়ের পর এমনিতে কত কি দেখবে সে?”

“কে?”

“কে আবার, নাওয়াফ ভাই?”

“কুত্তি ওনি দেখবে কেন?”

“কারণ তোর ভবিষ্যৎ হাসবেন্ড তো ওনিই।"

“কে বলেছে তোকে?”

“সকলে জানে। আর তুই জানিস না?”

পাখি জানে না এমনটা নয়। তবে আঁচ করেছিল কিছু। সত্যি কিনা সে এতো দিন সিউর ছিল না।

পাখি মুখ ভার করে বলে, “যে যাই করুক। আমি ওনাকে বিয়ে করে ওনার ঝাড়ি খাচ্ছি না বাবা। এক মগাকে ধরে বিয়ে করে নিব। আর তাকে নাকে দড়ি দিয়ে আমি সারাদেশ ঘুরে বেড়াব। ওমন চতুর লোকের বউ হচ্ছি না।”

“তোর মানা আর না মানাতে যায় আসে কি? সবাই তো রাজি। সবচেয়ে বড়ো কথা নাওয়াফ ভাইও রাজি। দেখিস না সর্বক্ষণ তোকে বউ বউ করে। তাছাড়া আমার অনেক শখ তোকে ভাবি বানাব। ভেবে দেখ, তুই নাওয়াফ ভাইয়ের বউ হলে নাওয়াফ ভাইয়ের ফলের পুরো বাগান তোর আর আমার। তুই আর আমি গাছে উঠে উঠে ফল খেতে পারব। ওনার সঙ্গে দেশ বিদেশে ঘুরতে পারব। আহা কি শান্তি?”

“বাল শান্তি। এতোই যদি তোর ওনাকে ভালো লেগে থাকে তাহলে তুই ওনার গলায় গিয়ে ঝুলে পড় না। আমাকে বলছিস কেন?”

“চড় খাবি একটা! ওনি আমাকে বোন মনে করে। আমিও তাকে ভাই ভাবি।”

পাখি আর অতিরিক্ত কোন কথা বলল না। সকাল সকাল হাত মুখ ধুয়ে সে একটা লাল টুকটুকে শাড়ি পরে নিল। লম্বা চুলগুলি দুটো খণ্ড করে দুটো বেনি করে নিল। হাত পায়ে আলতা দিয়ে রাঙিয়ে চোখে গাঢ় করে কাজল দিল। ঠোঁটে রাঙাল কৃত্রিম রঙ। এরপরে ছুটল ইচ্ছেকে টেনে নিয়ে ট্রি-হোমের দিকে। আজ নাওয়াফ ভাই গ্রামে নেই। তিনি শহরে গেছেন। আসবে কখন ঠিক ঠিকানা নেই। সেই সুযোগে তারা ওনার ফল বাগানে ঢুকে টসটসে পেয়ারা ছিড়ে লবন, মরিচ, তেল মাখিয়ে খাবে। ট্রি-হোমে পৌঁছাতেই ইচ্ছে বলল, “তুই গিয়ে গাছে ওঠ। আমি দেখি নাওয়াফ ভাই ট্রি-হোমে সত্যিই আছে কি নেই।”

পাখি কাঁধ নাড়িয়ে ভাব নিয়ে বলল, “আরে নেই ভাই। ওনি দুদিনের জন্য বরিশাল গেছেন।”

“তবুও রমিজ ভাইকে গিয়ে জিজ্ঞেস করি। ওনি ট্রি-হোমে না থাকলে আমরা ওনার টিভিতে মুভি দেখব। হরর মুভি।”

পাখি রাজি হলো।

“ঠিকাছে।”

ইচ্ছে ট্রি-হোমের সামনে যেতেই দেখল রমিজ দরজা তালা লাগিয়ে কোথাও যাচ্ছিল। ইচ্ছেকে দেখে রমিজ দাঁড়াল।

“কিছু বলবা?”

“ হ্যাঁ, রমিজ ভাই, ট্রি-হোমের চাবিটা একটু দেন। আমরা টিভি দেখব।”

রমিজ ইচ্ছেকে সন্দিগ্ধ নজরে এক পলক দেখল। তারপরে বলল, “চাবি দেওয়া যাবে না। নাওয়াফ ভাই ঘরে না।”

“দিবেন না?”

“না।”

“আপনাদের ভাবিজান চাইলেও দিবেন না?”

রমিজ না বলতে গিয়েও আটকে পড়ল। বুঝল সে দুর্দান্তভাবে ফেঁসে গেছে।

“ভাবিজান এসেছে?”

“জি, পেয়ারা গাছে উঠে পেয়ারা ছিড়ছে। বিশ্বাস না করলে গিয়ে দেখে আসুন।”

“ঠিকাছে, তাহলে নেও।”

ইচ্ছে ভীষণ ভীষণ খুশি হলো। তারা আজ সারাদিন শুধু টিভি দেখবে। ভালো হবে। ওনার টিভির সাইজটা বেশ বড়ো। দেখতে ভালো লাগে। বাহিরে মেঘে অন্ধকার করে রেখেছে। বৃষ্টি নামবে নামবে ভাব। সে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকল। প্রথমে ওয়াই-ফাই কানেক্টেড করে এরপরে পাখিকে ডেকে এনে তারপরে টিভি ছাড়ল। ওরা দেখল আশিক বানাইয়া রোমান্টিক গানটি টিভির পর্দায় চলছে। ইচ্ছে আহাম্মক হয়ে গেল। এই গান কে শুনছিল? নিশ্চয়ই নাওয়াফ ভাই। লজ্জায় দু’জনের কান অবধি গরম হয়ে গেল। ছিহ, ওসব সে দেখে? গাল দুটোও দুজনের ভারী ভারী আর রক্তিম দেখাল। ইচ্ছে গানটি পাল্টাতে যাচ্ছিল। পাখি বাঁধা দিল।

“পাল্টাস না। একটু দেখি।”

ইচ্ছের লজ্জা লাগল। তবুও সে পাল্টালো না। কৌতূহল হলো। অদ্ভুত আর্কষণ জন্মাল। ওইযে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি টান বেশি, সেই অবস্থা। সে দরজা জানলা লাইট সব বন্ধ করে দিল। এরপরে মনযোগ দিয়ে দেখতে লাগল। পাখি রান্নাঘর থেকে মরিচ লবন এনে পেয়ারা খেতে খেতে গানটা দেখছিল। এর ভিতরে খট করে ট্রি-হোমের মেইন দরজাটি খুলে গেল। ইচ্ছে দেখল দরজার সামনে লম্বাটে একটা ছায়া। তার আর বুঝতে বাকি নেই সে কে? সে ভয়ে দ্রুত কেটে পড়ল। লোকটা যদি জানে তারা লুকিয়ে লুকিয়ে এসব গান দেখছে, সোজা কান ধরিয়ে ফেলবে। ওইদিকে পাখি যে টিভির পর্দায় তাকিয়ে আছে, আছেই। সে বান্দার আর চোখের পলক সরছে না। চারপাশে কি ঘটছে না ঘটছে তাতে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। এখন লিপ কিসের পর্বটা চলছে। তার মুখটা দুই ইঞ্চি হা হয়ে গেল। সমগ্র শরীর উষ্ণতায় শিরশির করে ওঠল। কপাল ঘামছে। তবুও আগ্রহ কমছে না। ওইদিকে ওর পেছনে যে একজন লম্বাটে লোক দেওয়ালের সঙ্গে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার দিকে ওর কোন হুশ নেই। গানটা অবশেষে শেষ হলো।

নাওয়াফ পিছু থেকে ওকে শুধাল, “দেখা শেষ?”

পাখি আনমনে জবাব দিল, “না, আরেকটু দেখি।”

পরক্ষণে তার পঞ্চম ইন্দ্রীয় তাকে সজাগ করল। ইচ্ছের গলা তো এমন পুরুষ পুরুষ না। সে টিভির পর্দা থেকে তাৎক্ষণিক দৃষ্টিজোড়া ত্বরিত সরিয়ে পাশে চাইল। দেখল ইচ্ছে নেই। গেল কই মেয়েটা? দরজার সামনে নজর পড়তেই সে স্তম্ভিত হলো। সেখানে দাঁড়ানো আছে সুপরিচিত মুখটা। লম্বাটে এক ছায়া। টিভিতে চলছে আশিক বানাইয়া গানটি। বাহিরে সন্ধ্যার মতন মেঘে অন্ধকার আবহাওয়া বানিয়ে রেখেছে। রান্নাঘরে লাইট জ্বলছে। সেই লাইটের স্বল্প আলোকটুকুতে দেখা গেল লোকটা ক্রমশ এক ধাপ এক ধাপ করে ওর দিকে এগিয়ে আসতেছে। পাখি উঠে দাঁড়াল। ক্রমশ পিছু হটল। তার গলদেশ শুকনো ঠেকছে। আজ সে পাখি শেষ। পালানোর কোন রাস্তা পেল না। সে পিছু হটছিল। বারান্দার দরজা বাহির থেকে আটকানো। নিশ্চয়ই ইচ্ছে ওখানে। শয়তানটা এজন্যই আগে ভাগে কেটে পড়ছে। তার হলো মরণ যন্ত্রণা। টিভির স্ক্রিনে ভাসছে সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তটি। আর এইদিকে তার শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার মতন অবস্থা। কেননা একে অপরকে কৃত্রিম শ্বাস দিচ্ছে সেই সিনটিই ভাসছে। পাখির শ্বাস ভারী ভারী হয়ে এলো। লোকটা একদম ওর গা ছুঁইছুঁই হয়ে এসে দাঁড়িয়েছে। কড়া পারফিউমের ঘ্রাণ আর গানের মিউজিকের শব্দে সে একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেল। লোকটা ওর পেট ঠেলে সামান্য ধাক্কা দিতেই সঙ্গে সঙ্গে পাখি বিছানার মাঝে চিৎ হয়ে ধুম করে পড়ে গেল। লোকটা এবার ওর মুখের ওপর ঝুঁকে গেল। ওর কোমল হস্ত দুটো বিছানার সঙ্গে শক্ত হাতে চেপে ধরল। ওর কর্ণপাতে ওষ্ঠজোড়া এগিয়ে নিয়ে ফিসফিস করে আফিম মেশানো কণ্ঠে বলল, “কিস খাওয়া তোর বড়ো শখ না রে? চল আজ তোকে লিপ কিস খাওয়া শেখাই!”

#(চলমান~)

#লামইয়া_তাসনিম।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন