ফন্ট সাইজ:
থিম:
শীতল স্বামী

পর্ব 1

লেখক: Megh

পর্ব ১

বিয়েবাড়ির কোলাহল থেমে গেছে অনেকক্ষণ।
লাল বেনারসি, ভারী গয়না আর এক বুক স্বপ্ন নিয়ে ইরা খাটের মাঝখানে বসে আছে। ঘরে মৃদু আলো। বাইরে শীতের হাওয়া। তার বুক ধুকপুক করছে। আজ থেকে তার নতুন জীবন।
প্রায় আধা ঘন্টা পর দরজা খুললো।
আয়ান ঢুকলো। সাদা পাঞ্জাবি পরা, ফর্সা, লম্বা। দেখতে রাজপুত্রের মতো, কিন্তু মুখটা পাথরের মতো শক্ত। চোখে কোনো মুগ্ধতা নেই, আছে বিরক্তি।
ইরা লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে বলল, "আসসালামু..."
তার কথা শেষ হওয়ার আগেই আয়ান ঠান্ডা গলায় বলে উঠলো,
"শোনো মেয়ে।"
ইরা চমকে তাকালো।
"এই বিয়েটা আমার ইচ্ছায় হয়নি। আমার মা অসুস্থ, তার শেষ ইচ্ছা ছিল তাই আমি বাধ্য হয়ে করেছি। তাই কিছু আশা করার আগে একটা কথা পরিষ্কার শুনে রাখো।"
আয়ান এক পা এগিয়ে এসে বলল, "তুমি এ বাড়িতে থাকবে, খাবে, সবাই তোমাকে বউ বলে জানবে। কিন্তু আমার ঘরে তোমার কোনো জায়গা নেই। আমার বিছানায় না, আমার জীবনে না। আমার স্ত্রী হওয়ার অধিকার তোমার নেই।"
কথাটা যেন বজ্রপাতের মতো পড়লো ইরার মাথায়।
"মানে?" ইরার গলা কেঁপে উঠলো।
"মানে খুব সোজা। আমি তোমাকে বউ হিসেবে মানি না, মানবোও না। ওই সোফাটা দেখছো? আজ থেকে ওটাই তোমার জায়গা। আর ভুলেও আমার কাছে আসার চেষ্টা করবে না।"
বলেই আয়ান ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো।
"মানে?" ইরার গলা কেঁপে উঠলো।
"মানে খুব সোজা। আমি তোমাকে বউ হিসেবে মানি না, মানবোও না। ওই সোফাটা দেখছো? আজ থেকে ওটাই তোমার জায়গা। আর ভুলেও আমার কাছে আসার চেষ্টা করবে না।"
বলেই আয়ান ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো।
ইরার চোখ বেয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগলো। মেহেদি রাঙা হাত দিয়ে সে মুখ চেপে ধরলো যাতে কান্নার শব্দ বাইরে না যায়। বাসর রাতে কোনো মেয়ের সাথে এমন হয়?
কিছুক্ষণ পর আয়ান বেরিয়ে এসে লাইট বন্ধ করে খাটে শুয়ে পড়লো। একবারও তাকালো না।
ইরা সেই লাল শাড়ি পরেই সোফার এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে রইলো। বাইরে তখন কনকনে শীত, আর ঘরের ভেতর তার শীতল স্বামীর শীতলতা।
তার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে - এই বরফ কি কোনোদিন গলবে।
ঠিক আছে ভাই, নাও পর্ব ২ একবারে কপি করার মতো করে দিলাম -
---
সকাল ৬টা।
ইরা সোফাতেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘাড়ে প্রচন্ড ব্যথা। লাল শাড়িটা এলোমেলো হয়ে আছে। চোখ ফুলে আছে কান্নায়।
দরজায় টোকা পড়লো। শাশুড়ি ডাকছে, "ইরা মা, আয়ান বাবা, ওঠো।"
আয়ান বিরক্ত মুখে উঠে দরজা খুলে দিল। শাশুড়ি মিষ্টি হেসে বলল, "নতুন বউকে নিয়ে নিচে আয়। সবাই অপেক্ষা করছে।"
ইরা তাড়াতাড়ি শাড়ি ঠিক করে নিচে গেল। রান্নাঘরে গিয়ে সবার জন্য চা বানালো, নাস্তা বানালো। শাশুড়ি তো খুশিতে বলেই ফেলল, "আমার ছেলে হীরা আনছে।"
সবাই ইরার প্রশংসা করছে, শুধু একজন ছাড়া। আয়ান।
সে নাস্তার টেবিলে এসে বলল, "আমার ব্ল্যাক কফি।"
ইরা নরম গলায় বলল, "আমি বানিয়ে দিচ্ছি।"
"লাগবে না। কাজের মেয়েকে বলো। তোমার হাতের কিছু খাবো না আমি।"
পুরো টেবিল চুপ হয়ে গেল। ইরার হাত থেকে চায়ের কাপটা কেঁপে উঠলো। শাশুড়ি পরিস্থিতি সামলাতে বলল, "আহা আয়ান, কি বলিস!"
আয়ান না খেয়েই অফিসে চলে গেল।
সারাদিন ইরা বাড়ির সব কাজ করলো। বিকালে ছাদে কাপড় শুকাতে দিতে গিয়ে দেখে আয়ানের শার্টের বোতাম ছেঁড়া। রাতের অপমানের কথা ভুলে সে সুঁই সুতা নিয়ে শার্টটা সেলাই করে ভাঁজ করে রাখলো বিছানায়।
রাত ১০টায় আয়ান ফিরলো। ঘরে ঢুকে শার্টটা দেখে ভ্রু কুঁচকালো।
"কে করতে বলেছে এসব?"
ইরা বলল, "বোতামটা ছেঁড়া ছিল তাই..."
"আমার জিনিসে হাত দিবে না। আমি তোমাকে এই অধিকার দেইনি। নিজের সীমার মধ্যে থাকো।"
ইরা আর সহ্য করতে পারলো না। বলল, "সীমা কি শুধু আমার জন্য? আপনি স্বামী হয়ে যা ইচ্ছা বলবেন? আমি কি মানুষ না?"
আয়ান ইরার চোখের দিকে তাকালো। প্রথমবার। ইরার চোখে জল টলমল করছে, কিন্তু আজ ভয় নেই, আছে রাগ।
আয়ান কিছু না বলে বারান্দায় চলে গেল।
ইরা খাটে না, আজও সোফাতেই শুয়ে পড়লো। কিন্তু আজ সে কাঁদলো না। মনে মনে বলল, "ঠিক আছে শীতল স্বামী, তোমার এই শীতলতা আমি ভাঙবোই।"
বারান ধোঁয়া ছাড়ছেয় দেখছে সোফায় শুয়ে থাকা মেয়েটাকে। কেন যেন বুকে একটু খচ করে উঠলো।
-
---
মাঝরাত।
ইরার গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। সারাদিন ঠান্ডা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল, সোফায় ঘুমিয়েছে পাতলা চাদরে। জ্বর আসাটাই স্বাভাবিক।
"মা... ও মা..." ঘোরের মধ্যে বিড়বিড় করছে ইরা।
আয়ান ল্যাপটপে কাজ করছিল। শব্দ শুনে তাকালো। দেখলো ইরা কাঁপছে। মুখ লাল হয়ে গেছে।
আয়ান প্রথমে পাত্তা দিলো না। আবার কাজে মন দিলো। কিন্তু ১০ মিনিট পরও যখন কাঁপুনি থামছে না, সে বিরক্ত হয়ে উঠে গেল।
"এই মেয়ে? এই?"
ইরা সাড়া দিচ্ছে না। আয়ান কপালে হাত দিয়ে দেখে অবাক। ১০২ ডিগ্রি জ্বর।
সে নিচে গিয়ে মাকে ডাকতে গিয়েও থেমে গেল। মা ঘুমাচ্ছে, প্রেশারের রোগী।
অগত্যা নিজেই বাথরুম থেকে বালতি ভরে জল আনলো, তোয়ালে ভিজিয়ে জলপট্টি দিতে শুরু করলো।
ইরা চোখ খুলে আবছা দেখলো, আয়ান তার মাথার পাশে বসে।
"আ...আপনি?"
"চুপ। বেশি কথা বললে জ্বর বাড়ে।"
আয়ান এক হাতে জলপট্টি দিচ্ছে, অন্য হাতে ফোনে ডাক্তারকে মেসেজ দিচ্ছে।
"ওষুধ... লাগবে না..."
"তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি? নাটক বন্ধ করে ঘুমাও।"
মুখে ঝাড়ি মারছে, কিন্তু হাতটা খুব যত্নে কপালে রাখছে।
ভোর ৪টার দিকে জ্বর একটু কমলো। ইরা ঘুমিয়ে গেল। আয়ান সোফার পাশে নিচে বসেই ঘুমিয়ে পড়লো, হাতে জলের বাটি।
সকালে ইরার ঘুম ভাঙলো। দেখে সে খাটে শুয়ে আছে, গায়ে কম্বল। আয়ান বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে, যেন কিছুই হয়নি।
"আপনি আমাকে খাটে..."
আয়ান না তাকিয়েই বলল, "সোফায় মরে পড়ে থাকলে আমার ঘর নোংরা হতো। তাই। এর বেশি কিছু ভেবো না। আর হ্যাঁ, কাউকে বলার দরকার নেই রাতে জ্বর এসেছিল।"
ইরা মুচকি হাসলো। এই প্রথম।
মনে মনে বলল, "বুঝেছি, আমার শীতল স্বামীর ভেতরটা আসলে গরম। শুধু দেখাতে লজ্জা পায়।"
আয়ান আয়নায় দেখলো ইরা হাসছে। সে তাড়াতাড়ি মুখ ঘুরিয়ে নিলো, কিন্তু তার কানটা লাল হয়ে গেছে।
[

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন