ফন্ট সাইজ:
থিম:
স্মৃতির আড়ালে তুমি

পর্ব 2 স্মৃতির আড়ালে তুমি

লেখক: ছামি

ইনায়ার স্মৃতি ফিরেছে, কিন্তু ডাক্তার বলে দিয়েছে, এখনো পুরোপুরি সুস্থ না। বেশি চাপ নেওয়া যাবে না, বেশি উত্তেজিত হওয়া যাবে না।

কিন্তু ইনায়া শুনবে কেন? তার মনে পড়েছে যে সামনের মাসে তাদের বিয়ে ছিল। কার্ড ছাপানো হয়ে গেছে, শপিং অর্ধেক হয়ে গেছে, কমিউনিটি সেন্টার বুক করা হয়ে গেছে। এক্সিডেন্টের কারণে সব আটকে গিয়েছিল।

ইনায়া অয়নকে বললো, "আমাদের বিয়েটা হবে না?"

অয়ন বললো, "পাগলি, তুই সুস্থ হ। বিয়ে তো হবেই। তুই চাইলে কালকেই।"

ইনায়া বললো, "না, কাল না। আমি চাই আমাদের বিয়েটা ওই দিনই হোক, যেদিন ঠিক করা ছিল। ২৩ তারিখ।"

আজ ১০ তারিখ। মানে আর ১৩ দিন বাকি।

বাড়িতে হইচই পড়ে গেল। যে মেয়ে দুইদিন আগে বরকে চিনতো না, সে এখন বিয়ের জন্য পাগল। ইনায়ার বাবা শাহজাহান তালুকদার প্রথমে রাজি হচ্ছিল না।

"মা রে, তুই এখনো অসুস্থ। বিয়েটা দুই মাস পরে করি?"

ইনায়া কেঁদে ফেললো, "আব্বু, আমি দুই বছর ভুলে ছিলাম। আমি আর একটা দিনও অয়নকে ছাড়া থাকতে চাই না। প্লিজ আব্বু।"

শাহজাহান তালুকদার আর না করতে পারলেন না।

বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হলো আবার। কিন্তু এবার একটা নতুন সমস্যা এলো।

অয়নের খালা জমুনা বেগম। তিনি আগে থেকেই এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। তার ইচ্ছা ছিল তার মেয়ে আয়নাকে অয়নের সাথে বিয়ে দেওয়া। আয়নার বয়স ১৭, দেখতে সুন্দর, আর আয়না অয়নকে পছন্দও করে।

জমুনা বেগম এসে বললেন, "দেখো শাহজাহান ভাই, মেয়েটার তো স্মৃতিভ্রম হয়েছে। একটা পাগল মেয়ের সাথে তুমি অয়নের বিয়ে দেবে? কাল যদি আবার ভুলে যায়?"

এই কথাটা ইনায়া দরজার আড়াল থেকে শুনে ফেললো।

তার বুকটা ফেটে যাচ্ছিল। সে কি পাগল? সে কি অয়নের অযোগ্য?

সে দৌড়ে নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো।

অয়ন খবর পেয়ে এলো। দরজা ধাক্কাচ্ছে, "ইনায়া, দরজা খোল। ইনায়া!"

ইনায়া ভিতর থেকে বললো, "তুমি চলে যাও। খালা ঠিকই বলেছে। আমি পাগল। আমি তোমাকে ভুলে গিয়েছিলাম। আমি তোমার যোগ্য না। তুমি আয়না আপুকে বিয়ে করো।"

অয়ন এবার রেগে গেল। সে জোরে বললো, "ইনায়া, তুই যদি এখন দরজা না খুলিস, আমি এই বাড়ি থেকে চলে যাব আর কোনোদিন আসবো না।"

ইনায়া সাথে সাথে দরজা খুলে দিলো। চোখে পানি।

অয়ন তাকে জড়িয়ে ধরে বললো, "কে বলেছে তুই পাগল? তুই আমার ইনায়া। তুই আমাকে ভুলে গিয়েছিলি, কিন্তু আমি তো তোকে ভুলিনি। ভালোবাসা কি শুধু মনে রাখার নাম? ভালোবাসা হলো ভুলে গেলেও আবার নতুন করে ভালোবাসার নাম।"

"আয়না আপু তো অনেক সুন্দর..."

"আয়না আমার বোন। আর তুই? তুই শুধু আমারই। বুঝেছিস? তুই শুধু আমারই।"

ইনায়া কাঁদতে কাঁদতে বললো, "তাহলে প্রমিজ করো, আমি যদি আবার কখনো ভুলে যাই, তুমি আবার আমাকে মনে করাবে। আবার নতুন করে প্রেম করবে আমার সাথে।"

অয়ন তার কপালে চুমু দিয়ে বললো, "প্রমিজ। হাজার বার ভুলে গেলে হাজার বার নতুন করে প্রেম করবো।"

বিয়ের দিন এগিয়ে আসছে। মেহেদি অনুষ্ঠান, সঙ্গীত অনুষ্ঠান। ইনায়া আবার আগের মতো হাসিখুশি। সে মেহেদি হাতে নিয়ে বসে আছে, মেহেদি ডিজাইনার তার হাতে অয়নের নাম লিখছে।

তখনই আয়না এলো।

আয়না এসে বললো, "ইনায়া, তোকে একটা কথা বলি?"

"বলো আপু।"

"অয়ন ভাইয়াকে আমি পছন্দ করতাম। অনেক আগে থেকে। কিন্তু অয়ন ভাইয়া তোকেই ভালোবাসে। আমি দেখেছি, তুই যখন ওকে ভুলে গিয়েছিলি, ভাইয়া কিভাবে কেঁদেছিল। আমি কোনোদিন ওভাবে কাউকে ভালোবাসতে পারবো না। তোরা সুখী হ।"

ইনায়া আয়নাকে জড়িয়ে ধরলো।

"আপু, তুমি আমার বোনের মতো। তুমিও অনেক ভালো একজনকে পাবে।"

আয়না হাসলো, "তোর মেহেদি অনেক সুন্দর হয়েছে। অয়ন ভাইয়া তো পাগল হয়ে যাবে।"

অবশেষে ২৩ তারিখ। বিয়ের দিন।

কমিউনিটি সেন্টার আলোয় ঝলমল করছে। ইনায়া লাল বেনারসি পরে বসে আছে। তাকে দেখতে ঠিক পরীর মতো লাগছে।

অয়ন পাঞ্জাবি পরে এসেছে। সে বারবার ঘড়ি দেখছে। কাজী সাহেব এসে গেছে।

কাজী যখন বললো, "মা, বলো মা, কবুল।"

ইনায়ার হাত কাঁপছে। তার হঠাৎ মনে হলো, সে যদি আবার ভুলে যায়? যদি কবুল বলার পর ভুলে যায়?

সে অয়নের দিকে তাকালো। অয়ন ইশারায় বললো, "ভয় পাস না, আমি আছি।"

ইনায়া চোখ বন্ধ করে বললো, "কবুল। কবুল। কবুল।"

পুরো বাড়িতে আলহামদুলিল্লাহ ধ্বনি।

অয়নও কবুল বললো।

বিয়ে শেষে যখন তারা গাড়িতে করে যাচ্ছে, ইনায়া অয়নের কাঁধে মাথা রেখে বললো,

"জানো অয়ন, ডাক্তার বলেছিল আমার দুই বছরের স্মৃতি নেই। কিন্তু একটা জিনিস ডাক্তার জানে না।"

"কি?"

"আমি যখন তোমাকে ভুলে গিয়েছিলাম, তখনো আমার হার্টবিট তোমার নামেই চলতো। মেশিনে দেখা যায়নি, কিন্তু আমি টের পেতাম।"

অয়ন বললো, "তাই?"

"হ্যাঁ। কারণ তুমি আমার স্মৃতিতে ছিলে না, তুমি আমার আড়ালে ছিলে। স্মৃতির আড়ালে তুমি। আর সেখান থেকেই তুমি আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলে।"

অয়ন ইনায়ার হাতটা শক্ত করে ধরলো।

"আর এখন?"

"এখন তুমি আমার সামনে। আমার সব স্মৃতি জুড়ে তুমি।"

গাড়িটা চলছে তাদের নতুন বাড়ির দিকে। পেছনে ফেলে আসছে সব কষ্ট, সব ভুলে যাওয়া। সামনে একটা নতুন জীবন।

যেখানে আর কোনো ভুলে যাওয়া নেই। আছে শুধু মনে রাখার গল্প।

যেখানে একটা মেয়ে তার ভালোবাসাকে স্মৃতির আড়াল থেকেও খুঁজে এনেছে। এটা হল এই উপন্যাসের শেষ পাট ভালো লাগলে একটা কমেন্ট করে যাবেন আপনাদের কাছে এই গল্পটা কেমন লাগলো কমেন্ট করে জানাবেন আমার কাছেই গল্পটা অনেক ভাল্লা উপন্যাস লিখতে আমার অনেক কষ্ট হয় কিন্তু বিয়েও আসে না তাই আজকে জামা কম খুশি তেমন লিখে দিলাম আপনার আবার কিছু মনে করবেন না আমার থেকে বয়স আমি সবাই লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন আর হ্যাঁ আমি তাড়াতাড়ি একটা নতুন উপন্যাস নিয়ে আসব সবাই ওই উপন্যাসটা বেশি বেশি পড়বেন আর কমেন্ট করবেন আপনাদের কমেন্টস

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 স্মৃতির আড়ালে তুমি শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন