"দুই ধারে, দুই ন টির পোলা,
নাইতে নেমেছে......
কে দেখেছে, কে দেখেছে?"
তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র ভঙ্গি ধরে, বক্ষের ওপর হাত তুলে তালি বাজাতে বাজাতে চক্রাকারে ঘুরছিল আদিল। ধুলোবালি মাখামাখি বিধ্বস্ত ছেলে দুটো, হাতজোড় করে অসহায়ের মতো দেখছিল আদিলকে। চুপসানো চোয়ালের ওপর আঙুলের ছাপগুলো যেন তুলি দিয়ে আঁকা হয়েছে। ছলছলে চোখ দু'টো আতঙ্কে সয়লাব। ধূলিধূসর জামাকাপড় গুলোরও কুঁচকে গিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা!
ছেলে দু'টোর চাপা গোঙানিতে বিরক্ত হলো আদিল। ক্ষিপ্ত হয়ে সে সজোরে একটি লাথি বসালো নাকের ফিনকি দিয়ে র ক্ত ঝরা ছেলেটির ঠিক বুক বরাবর। লাথিটা যেন সোজা গিয়ে লাগল পাঁজরের হাড়ে। ছেলেটা যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠল। অপর ছেলেটা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে কুঁকড়ে গেল, মাথাটাও নুয়ে রাখল৷
আদিল ক্রন্দনরত ছেলেটার দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙালো। উগ্রভাবে খেঁকিয়ে উঠল,"বল, কে দেখেছে?"
ছেলেটার কণ্ঠে ভাঙা কাঁচের মতো ভঙ্গুর কম্পন। সে কাঁপা কণ্ঠে কোনোমতে আওড়ালল,"আ...আদিল ভাই দেখেছে!"
মেঘময় আকাশে যেন নির্মল দ্যুতি ঝলক দিয়ে উঠল।
আদিলের চোখে সন্তুষ্টি প্রকাশ পেল। সে মাথা ঝাঁকিয়ে গ্রীবা বাঁকাল। কানটা এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করল,"আদিল ভাই কে?"
"আ---আব্বু।"
মুহূর্তের মধ্যেই আদিলের মুখের অভিব্যক্তি আমূল বদলে গেল। হঠাৎ সে হাঁটু ভেঙে ছেলে দু'টোর সামনে বসে পড়ল। তারপর একজনের গাল আঁজলায় তুলে আদুরে ভঙ্গিতে বলল,
"ওরে আমার সোনা বাচ্চা'রা। জানো তোমাদের খোঁজার জন্য কতগুলো রাত নিদ্রাহীন আমি? একটা মানুষ কি না ঘুমিয়ে কখনো বাঁচবে পারে? পারে না তো! বলোতো, আমি কি করে বেঁচে ছিলাম?"
উৎসুক দৃষ্টি দু'টো একযোগে ঘুরে গেল আদিলের দিকে৷ একসাথে দু'জন বলল,"কি করে ভাই?"
"দিনে ঘুমিয়ে!"
আদিলের কথা শুনে নিহাদ ফিক করে হেসে উঠল। তার উচ্চস্বরের হাসিতে টিএসসির অনেকেই বাঁকা চোখে তার দিকে তাকাল। তবে কে গ্রাহ্য করে কার নজর? সে গা দুলিয়ে হাসতেই থাকে৷ শান্ত মুখের সাজন এগিয়ে গিয়ে আদিলকে টেনে তুলল। গম্ভীর গলায় বলল,
"মজা বাদ দে, আদিল। ভাই যেকোনো সময় এসে পড়তে পারে৷ ভাই আসলে কিন্তু তান্ডব চালিয়ে দিবে। দ্রতু এইগুলোকে বিদায় কর।"
সাজনের কথাগুলো ভুল নয়। আদিলের উগ্র মস্তিষ্ক এবার কিছুটা শান্ত হয়। তিনদিন আগের এক সভায় ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ঘটনার রেশ এখনো কাটেনি, যেখানে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেল বিস্ফোরণে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন খোদ মন্ত্রী মশাই। অলৌকিকভাবে মন্ত্রী মশাই বেঁচে গেলেও তাঁর একমাত্র ছেলের ভেতরকার প্রলয়কারী ক্রোধ একটুও কমেনি। হন্য হয়ে সেই ন র পি শা চ দের খুঁজে বেড়াচ্ছিল সে। ককটেল বিস্ফোরণের নেপথ্যে ছিল এই দু'জন দুষ্কৃতকারী। আদিল, সাজন আর নিহাদ খুব ভালো করেই জানে, তাদের ভাই রণয় যদি ওই শয়তানগুলোর নাগাল পায়, তবে চারপাশ র ক্তে ভেসে যাবে। এই র ক্ত বন্যা এড়াতেই তারা বিষয়টি গোপন রাখে এবং রণয়কে না জানিয়েই নিজেরা সমাধান করতে মাঠে নামে।
তপ্ত রোদ মাথা রেখে টিএসসি চত্বরে এসে উপস্থিত হয় অনির্বাণ। অনির্বাণ হলো রণয়ের সবচেয়ে ঘনিষ্টতম বন্ধু।তার বেস্ট ফ্রেন্ড। আর বাকি তিনজন—আদিল, নিহাল ও সাজন—তার ছোট ভাইতুল্য। তারা তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করছে। অন্যদিকে, রণয় ও অনির্বাণ অর্থনীতিতে মাস্টার্সরত। পড়াশোনার পাশাপাশি তারা দু'জন সক্রিয় রাজনীতির সাথেও যুক্ত। রণয় বর্তমানে ছাত্রদলের দলনেতা। পরিবারে রাজনীতির রক্ত থাকলেও ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির প্রতি তার ছিল অপ্রতিরোধ্য টান। আর সেই টান থেকেই অল্প সময়ের মধ্যেই সে নিজের বিশাল এক পরিচিতিও তৈরি করে নিয়েছে।
দলে যুক্ত হওয়া আদিল, নিহাল ও সাজন রণয়কে নিজেদের আইডল মানে। তাকে নিজের ভাইয়ের চেয়েও বেশি ভক্তি ও সম্মান করে ওরা। এরা সবাই রণয়ের একদম খাস লোক, যাদের ওপর সে চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারে। দলের ছোটখাটো ঝামেলাগুলো তারাই দক্ষতার সাথে সামলে নেয়। আর রণয়? সে ঠান্ডা মাথার এক নৃ শং স খু নি। সে কখনো নিজের হাতে প্রকাশ্যে ঝামেলায় জড়িয়ে হাত ময়লা করে না। আর তার এই শীতল আর নিখুঁত ব্যক্তিত্বই তাকে অন্যদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে তুলেছে।
রণয় নিঃশব্দ শিকারী হলেও অনির্বাণ ক্ষুরধার মস্তিষ্কের৷ সে ক্ষণকালের মধ্যে যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অলৌকিক ক্ষমতা রাখে। সে তৎক্ষনাৎ ছেলে দুটোকে মাটি থেকে তুলে বিদায় দেয়। প্রকাশ্যে গমগমে টিএসসিতে দু'জনকে মারা হচ্ছে, এই দৃশ্য যদি কেউ ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছেড়ে দেয়, তাহলে রণয়ের ব্যক্তিত্বে আঁচ পড়তে পারে, যা সে কখনোই চাই না।
আহত ছেলে দু'টো যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। প্রাণপাখি হাতে নিয়ে ছুটলো তাঁরা। কিছুদূর যেতেই হঠাৎ পেছন থেকে হাঁকিয়ে ডেকে উঠল আদিল। থরহরিকম্পে কেঁপে উঠল দু'জন। ভীত-সন্ত্রস্ত মুখে পেছন ঘুরে তাকাল। একজন সশুঙ্ক গিলে আতঙ্কমিশ্রিত কণ্ঠে বলল,
"কি হয়েছে, ভাই?"
আদিল এগিয়ে আসতে আসতে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলতে থাকে,"দাদী বলে—যার লগে যার ভাব, তার পাছা দেখলেও লাভ। তাই তোদেরটা দেখতে এলাম৷ দাঁড়া।"
আদিলের ওমন অদ্ভুত মশকরাতে ভড়কে গেল দু'জন। মলিন চেহারাজুড়ে হতবুদ্ধিতার ছায়া নেমে এলো।
ওদের ফ্যাকাশে মুখের দিকে তাকিয়ে আদিল প্রলম্বিত শ্বাস ফেলে। তারপর মানিব্যাগ বের করে দুটো হাজার টাকার নোট বের করে, ওদের হাতে ধরিয়ে দিল। থমথমে গলায় বলল,
"ব্যাথার মলম কিনে নিছ ৷ যা, ভাগ এখন।"
আদিল ভূইয়া—উজ্জ্বল গায়ের রঙের, লম্বা ও হ্যাংলা-পাতলা গড়নের একটি ছেলেটি স্বভাবে খানিকটা রগচটা আর চঞ্চল হলেও, তার মনটা মোমের মতো নরম৷ সামান্য উষ্ণতাতেই গলে যায়।
আদিল আবার ফিরে গেল গোল চত্বরে। তবে তার ফেরার পরও কেউ স্বস্তির নিঃশ্বাসটুকু ফেলার সুযোগও পেল না। হঠাৎ প্রলয়ের মতো সেখানে হাজির হলো রণয়।
বাদামি রঙের শর্টস, যা হাঁটুও ছুঁই না, আর আর সাদা টি-শার্টের এলোমেলো চুলে টিএসসি চত্বরে হাজির হলো প্রান্তিক তাজওয়ার রণয়।
চোখ দুটো রক্তিম, মুখটাও খানিকটা ফোলা। দেখলেই বোঝা যায়, ঘুম থেকে উঠেই কোনো রকমে মুখে পানি ছিটিয়ে সরাসরি এখানে চলে এসেছে। চলে এসেছে বললে ভুল হবে, ছুটে এসেছে।
অবশ্য রণয়কে শর্টসে টিএসসিতে দেখে কেউ অবাক হলো না। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় আঠারো ঘণ্টাই, আর সপ্তাহের অধিকাংশ দিন তাকে শর্টসেই দেখা যায়। এই অভ্যাসের জন্য মন্ত্রী মশাই আর মাতারাণীর কাছ থেকে কম বকুনি শুনতে হয়নি তাকে। তবুও কেউই তার এই স্বতন্ত্র অভ্যাস বদলাতে পারেনি।
ফরমাল পোশাক রণয় পরে কেবল বিশেষ উপলক্ষে। সন্ধ্যায় টিএসসি চত্বরে আড্ডা দিতে এলেও তার প্রথম পছন্দ শর্টসই। তবে একটি ব্যাপারে সে বরাবরই অনড়, ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন বা ক্লাসে কখনোই শর্টস পরে যায় না।
রণয় এসেই চিতার হিংস্রতায় খামচে ধরল আদিলের কলার। তার গম্ভীর কণ্ঠস্বরে আগ্নেয়গিরির ভয়াল বিস্ফোরণ ঘটল। ফাটল ধরা সংযম ক্রোধের তান্ডবে ধূলিসাৎ করে দিয়ে স্বয়ংক্রিয়তা ভেঙে উগ্রভাবে চেঁচিয়ে উঠল রণয়,
"কোথায় জানোয়ারগুলো?"
রণয়ের কণ্ঠ এতোটাই ভারি ছিল যে, তার তীব্রতায় গলার পাশের নীলচে রগ স্পষ্টভাবে ভেসে একদম ফুলে উঠল; স্রোতের মতো ঢেউ খেলে গেল কণ্ঠের পার্শ্বদেশে। খোঁচা, খোঁচা দাড়িময় পেশিবহুল চোয়াল টগবগিয়ে উঠল। রণয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে শিউরে উঠল চঞ্চল আদিল৷ অজান্তেই শুকনো ঢোক নেমে গেল কণ্ঠনালির সরু পথ দিয়ে। আদিলের ক্ষণকাল নীরবতায় কঠোরতা নেমে রণয়ের হাতের কামড়ে। আদিলের নিঃশ্বাসে টান পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই অনির্বাণ তৎক্ষনাৎ এগিয়ে গিয়ে পেছনে থেকে রণয়কে জাপ্টে ধরে টেনে সরিয়ে আনল। রণয়কে আলুথালু বলে বুঝ দেওয়া সম্ভব নয়, সে জানে। তারপরও যথাসম্ভব চেষ্টা করল রণয়ের ক্রোধ কমানোর। তবে, পায়ের পাতা হতে রক্তকণিকা দিয়ে সে-ই রোষ মাথার তালুতে ওঠে এসেছে, তা কি এতো সহজে ভদ্রতার মুখোশে আড়াল হয়?
রণয় তখন একপ্রকার ভেতরে ভেতরে ফুঁসছিল। মাটির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে, ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে চেষ্টা করছিল বুকের ভেতরের চড়তে থাকা রাগটাকে সংযম দিয়ে চেপে রাখতে। ঠিক তখনই, যেন কোনো এক অলৌকিক মায়ায়, চারপাশ ভাসিয়ে বসন্তের একচিলতে হিমেল হাওয়া বয়ে গেল। সেই হাওয়ার আলতো স্পর্শ রণয়ের তপ্ত অস্তিত্বে এমন প্রশান্তি হাত বুলিয়ে দিল, যা হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো মুহূর্তের মধ্যে গলিয়ে দিল তার সমস্ত রোষ।
হাওয়ার সেই স্নিগ্ধ অনুভূতির রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই রণয়ের কাঁধে একটি অচেনা স্পর্শ পড়ল। কপালের কুঁচকে থাকা চামড়ায় বিস্ময় নিয়ে সে পেছনে ফিরতেই থমকে গেল। সামনে যে ছিল, তার জন্য রণয়কে গ্রীবা বেশ খানিকটা নিচে নামাতে হলো। তার দৃষ্টি নিচু হলো, চোখের মণি স্থির হলো, কপালের ভাঁজ আরও গাঢ় হলো।
মাঝারি গড়নের একটি মেয়ে চঞ্চল হাতে একটি খাম তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে, হাত উঁচিয়ে দূরে কোথাও একটা ইশারাও করল সে, তবে সেদিকটায় রণয়ের চোখ গেল না।
মেয়েটি এক নিঃশ্বাসে গড়গড় করে বলতে শুরু করল,"এই যে ভাইয়া, এই চিঠিটা আপনার। ওই যে, ওই কর্নারের আপুটাকে দেখতে পাচ্ছেন? আপু আপনাকে এটা দিতে বলল। আমার মনে হয় উনি আপনাকে পছন্দ করেন, কিন্তু মুখে বলতে পারছেন না। তাই আমাকে....
কথা বলতে বলতে মেয়েটি হুট করে সামনে তাকাতেই তার চোখে ধরা পড়ল একটি চওড়া বুক। ধবধবে সাদা টি-শার্টটি সেই বুকে আঁটসাঁট হয়ে লেপ্টে আছে। তার পরপরই নজরে এলো দুটি পেশিবহুল পেটানো বাহু।
এই সুউচ্চ ও সুগঠিত মানবের মুখ দেখার জন্য স্নেহাকে পুরো মুখটাই ওপরের দিকে তুলতে হলো। দৃষ্টি ওপরে উঠতেই সে আটকে গেল একজোড়া গভীর ধূসর চোখে। দুটি ভিন্ন দৃষ্টি মুহূর্তের জন্য একবিন্দুতে আঁটকে গেল। একটি চঞ্চল চাহনি; অন্যটি পুরুষালি গম্ভীর ও নিষ্পলক।
কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্নেহা লোকটির আপাদমস্তক নিখুঁতভাবে মেপে নিল। তীক্ষ্ণ চোয়াল, খাড়া নাক, কপালে লেপ্টে থাকা ঘন কালো সিল্কি চুল, তামাটে রঙের ঠোঁট আর সবশেষে ওই রক্তাভ স্থির, চোখ দুটি। শান্ত তবে, চাহনি গভীর! শেষবারের মতো তার দিকে তাকিয়ে স্নেহা হতবিহ্বল হয়ে একবার রণয়ের পায়ের দিকে তাকাল, তারপর আবার মুখের দিকে।
স্নেহা খেয়াল করল, এই লোকটির মুখের দিকে তাকাতে হলে তাকে ঘাড় পুরোটা ওপরে তুলতে হয়, আর পায়ের দিকে তাকাতে হলে ঘাড় একদম নিচে নামাতে হয়! এমন নিখুঁত আর আকর্ষণীয় উচ্চতা দেখে স্নেহার মনের ভেতরে যেন সুরের দোতারা বেজে উঠল। খুশিতে ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বিস্ময় ঝরে পড়ল,
"ও মাই গড!"
রণয়ের দৃষ্টি তখনও স্থির। তবে স্নেহার এই অস্পষ্ট ও আচমকা স্বগতোক্তিতে তার ঘুমকাতুরে চোখ দুটো খানিকটা ছোট হয়ে এলো।
"হোয়াট?"
"মাশাল্লাহ!"
"কী-হ?"
রণয়ের রাশভারি স্বর এবার বেশ উঁচুতে উঠল। হুঁশ ফিরল স্নেহার। সে দ্রুত চিঠিটি পেছনে লুকিয়ে ফেলে ওষ্ঠপুটে জোরপূর্বক একচিলতে হাসি ফুটিয়ে বলল,
"ইয়ে মানে, এক্সচুয়ালি আই মেইড আ মিস্টেক। ইট’স নট ফর ইউ!"
তুচ্ছ অজুহাত দিয়ে স্নেহা সেখান থেকে দ্রুত সরে পড়ার চেষ্টা করল। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতেই হঠাৎ তার ওড়নায় টান পড়ল। সিনেমার কাহিনীর মতো তার মনে হলো, বেহায়া দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা লোকটাই হয়তো তার ওড়না টেনে ধরেছে। ক্ষণিকের মুগ্ধতা নিমিষেই উবে গিয়ে স্নেহার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। রণমূর্তির মতো ক্ষিপ্ত হয়ে শূন্যে হাত ঘুরিয়ে পেছন ঘুরল সে।
তবে তার হাতটা শূন্যেই আটকে রইল। একটি শক্তপোক্ত বলশালী হাত এসে খামচে ধরল তার সরু কব্জিটা। থরথর করে কেঁপে উঠল স্নেহা। অগ্নিদৃষ্টিতে রণয়ের চোখের দিকে তাকাতেই সে থমকে গেল। লোকটার হাতের চাপে কত তীব্রতা, অথচ চোখ দুটো আগের মতোই শান্ত আর নিষ্প্রভ!
এই দৃশ্য দেখে চমকে উঠল চারপাশ। নিহাদ আর আদিল তো ভয়ে মুখ চেপে ধরল। শুধু সাজন আর অনিবার্ণ সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করতে লাগল রণয়ের অভিব্যক্তি।
স্নেহার দৃষ্টি ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামল। দেখল, তার ওড়না আসলে রণয়ের হাতের ঘড়ির সাথে আটকে গেছে। গত মধ্যরাতে বাসায় ফিরে আর হাতঘড়ি খোলা হয়নি রণয়ের। সে যে অকারণে এত বড় একটা ভুল পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছিল বুঝতে পেরে স্নেহা ভেতরে ভেতরে দমে গেল। হাত ছোটানোর জন্য সে মোচড়ামুচড়ি করতে লাগল।
পাশ থেকে আদিল কিড়মিড়িয়ে বলে উঠল,"এই মেয়ে, এত বড় সাহস! আমার ভাইয়ের গায়ে হাত তোলা? কব্জি থেকে হাত কেটে ফেলব একদম!"
দমে গিয়ে অস্বস্তিতে ছটফট করতে থাকা স্নেহা এবার দ্বিগুণ তেজে ফুঁসে উঠল। জ্বলে ওঠা চোখে সে তাকাল আদিলের দিকে। প্রতিটা শব্দ উচ্চারণ করল তেজের সঙ্গে,
"আপনার ভাইকে একবার শুধু আমার হাতটা ছাড়তে বলুন। যে হাত দিয়ে আমার হাত কাটার চিন্তাভাবনা করেছেন, সে হাতই কেটে হাতে ধরিয়ে দেবো। আমি স্নেহা, কাউকেই ভয় পাই না। নিজের যোগ্যতায় এখানে পড়তে এসেছি। তথাকথিত অন্য সব ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আমাকে মেলাবেন না। রেগিং আমার সঙ্গে চলবে না। আন্ডারস্ট্যান্ড?"
আদিল কিছু বলতে যাবে, এমন সময় রণয় কেবল ঘাড় বাঁকিয়ে তার দিকে তাকাল। শান্ত চোখ, অথচ কী ভয়ংকর চাহনি! এক কদম পিছিয়ে গেল আদিল। তাকে পিছোতে দেখে নিহাদ ভীতসন্ত্রস্ত মুখে ফিসফিস করে বলে,
"এই মেয়ে তো আজকে শেষ! আদিল, তুই একটা হকিস্টিক নিয়ে আয়, আমি অ্যাম্বুলেন্সে কল দিচ্ছি। সাজন, তুই হসপিটালে কেবিন বুক করে রাখ। ভাই আজ কুরুক্ষেত্র বাঁধাবে!"
সাজন নিহাদের দিকে তাকিয়ে চাপা গলায় বলল,"মুখটা বন্ধ রাখ তোরা! দেখ, ভাই কীভাবে হ্যান্ডেল করে।"
"আমারও মনে হয় না ভাই পাবলিক্যালি কোনো রিয়্যাক্ট করবে।"
"ভাইয়ের চোখ দেখেছিস? মনে হচ্ছে মেয়েটাকে জ্যান্ত চিবিয়ে খাবে!"
"রণয় এমন কিছুই করবে না।"
অনিবার্ণের দৃঢ় কণ্ঠে তিনজন একসঙ্গে তার দিকে তাকাল। রণয়কে অনিবার্ণের চেয়ে ভালো আর কেউ চেনে না। আর কেউ কথা বাড়াল না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনজন ফিসফিসাল,
"ওকে, তবে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখে যাই।"
ওদিকে ব্যথায় কুঁকড়ে উঠল স্নেহা, "আহ্, লাগছে আমার!"
যন্ত্রণার বিপরীতে বিপরীত পক্ষের অধরে ফুটে উঠল আত্মতৃপ্তির হাসি। রণয় হাতের চাপে আরও বল প্রয়োগ করল। বোকা মেয়েটা অবচেতনে কত বড় আস্পর্ধা দেখাতে যাচ্ছিল, তা কোনো রকম নৃশংসতা ছাড়াই হাতের সামান্য চাপে বুঝিয়ে দিতে দিতে সে দাঁতে দাঁত চাপল,
"লাগার জন্যই তো ধরেছি। রণয় যাকে ধরে, এভাবেই কামড়ে ধরে।"
স্নেহার চোখের কোণে জল জমে। তবুও রণয় হাত ছাড়ল না। এক ফোঁটা অশ্রু যখন গড়িয়ে পড়ল, তখন সে হাত ছেড়ে দিল, তাও বিশ্রী ঝাঁকুনি দিয়ে।
"পাঁচ গোনার ভেতর চোখের সামনে থেকে দূর হও, নইলে...."
স্নেহা মুখ তুলল। চোখে জল থাকলেও কণ্ঠে এতটুকু ভয়ের লেশমাত্র নেই, "নইলে কী?"
এইটুকু একটা মেয়ের এমন তেজ দেখে বাঁকা হাসল রণয়। সে শর্টসের পকেটে হাত ঢুকিয়ে এক পা এগিয়ে এলো। ঝুঁকে পড়ল স্নেহার কানের বাঁ পাশে,
"সর্বনাশ হয়ে যাবে! আমি ভালো মানুষ, তবে ভীষণ খারাপও বটে।"
একটু থেমে, স্বরটা আরও গাঢ় করে সে যোগ করল,
"আমি প্রান্তিক তাজওয়ার রণয়, ওড়না ধরে টানি না। প্রয়োজন হলে সোজা লাগাম টেনে ধরি।"
রণয়ের চোখে তখন কপট কৌতুকের হাসি। তা দেখে স্নেহাও ঠোঁটের কোণে ফুটিয়ে তুলল ক্রূর হাসি। রহস্যময় সুরে সে বলে উঠল,
"আমাদের আবারও দেখা হবে। আজকের এই অপমানের রিভেঞ্জ নেওয়ার জন্য হলেও!"
কথা শেষ করে সে ঘুরে দাঁড়াল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে চুলগুলো পেছনে এমনভাবে ছুড়ে মারল যে, রেশমের মতো সেই ঘন চুলগুলোর ঝাপটা গিয়ে পড়ল রণয়ের মুখে। রণয় তৎক্ষণাৎ চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলল। সে তখনো সামান্য ঝুঁকে ছিল। স্নেহা চলে যেতেই সে সোজা হয়ে দাঁড়াল। পেছন থেকে আদিল আর নিহাদ হাঁ করে তাকিয়ে ছিল রণয়ের দিকে।
"নিহাদ।"
"জি ভাই,"নিহাদ সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে গেল।
"মেয়েটার পুরো ডিটেইলস চাই আমার।"
রণয়ের গম্ভীর কণ্ঠে স্তব্ধতা নেমে আসে সকলের মাঝে। তার অনড় দৃষ্টি অনুসরণ করতেই চোখে পড়ে, মেয়েটি তখনও দৃশ্যপটের মাঝখানে রয়েছে। নিঃসন্দেহে কারও অপেক্ষা করছে। কার জন্য আর হবে, নিশ্চয়ই প্রেমিক। এমন রূপসী একা থাকবে, তা ভাবাই যায় না।
দুধে-আলতা গড়ন, প্রসাধনবিহীন নির্মল মুখ, ফোলা-ফোলা গাল আর গাঢ় গোলাপি ঠোঁটে শৈশবসুলভ কোমলতা। ছোট-ছোট চোখ দুটি যেন একটুকরো জ্যোৎস্না বুকে ধরে রেখেছে। কানের লতির সমান্তরালে বাঁধা ঘন কালো চুলের পনিটেল হালকা বাতাসে নরম করে দুলছে। পরনে পাউডার ব্লু রঙের ছোট ফুল ছাপের গোল জামা, যা হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। আকৃতি আর হাঁটু ছোঁয়া চুল এমন, যেন জীবন্ত কোনো পুতুল! এমন মায়াবী, বাচ্চাসুলভ চেহারা দেখে প্রথমে হাইস্কুলের ছাত্রী ভেবে ভুল হতেই পারে। কাঁধে উদ্বাস কোচিং সেন্টারের ব্যাগ না থাকলে কেউ হয়তো তাকে ভেতরে ঢুকতেই দিত না। কোনো মুরব্বিগোছের লোক দেখলেই হয়তো হেডমাস্টারকে ফোন করে বলত,
"স্যার, আপনার ছাত্রী পালিয়ে এসে বয়ফ্রেন্ডের জন্য অপেক্ষা করছে!"
কিন্তু সমস্ত অনুমান ভুল প্রমাণ করে দিয়ে এল একজন নয়, দুইজন নয়, তিন-তিনটি ছেলে। এসে একসঙ্গে সকলে ঝাঁপিয়ে পড়ল মেয়েটির ওপর। সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটার মুখে ফুটে উঠল মধুর হাসি। ক্ষণিকের মধ্যে এসে যোগ দিল আরেকটি মেয়েও। পাঁচজনে মিলে চায়ের দোকানের পাশের সিঁড়িতে বসে পড়ল। স্নেহা সবার জন্য চা আর বিস্কুট অর্ডার দিল, কেবল নিজেকে বাদ রেখে। তবে যারা এতক্ষণ তার রূপের মোহে আবিষ্ট ছিল বা লালসা নিয়ে তাকিয়ে ছিল, তারাই এবার নাক সিঁটকোতে শুরু করল।
"তোমাদের মনে ছিল আমি আজ আসব? আমি তো ভেবেই নিয়েছিলাম তোমরা আসবে না। তোমরা হয়তো ভুলেই গিয়েছো আমাকে।"
ফুরফুরে গলায় বলে ব্যাগ থেকে ক্লিপার বের করে পিচ্চি মেয়েটির মাথার চুলগুলো বেঁধে দিতে থাকে স্নেহা। চারজনের মধ্যে সবথেকে বড় ছেলেটা গমগমে আওয়াজে বলে ওঠে,
"না আফু। আমি তো কাল্লাও আইছিলাম এনো। পরে মুইনে কইসে আপনে আজজা আইবেন। আমার তো কুনু কথাই মনে থাহে না।"
"হুম, আফনার কুনু কথাই মনে থাহে না! আফনে তো সব ঠাসঠুস ভুলে যান, মাথা মোটা!"
একগাল হেসে ছেলেটির গাল টেনে দিল স্নেহা। তার বিক্ষিপ্ত মেজাজ মুহূর্তেই ভালো হয়ে গেল। সে বেশিক্ষণ রাগ কিংবা দুঃখ মনে পুষে রাখতে পারে না।
"আফু, রবি কাইলও ড্রাসবিন থেইকা খাওন খাইছে।"
সবচেয়ে ছোট মেয়েটি কচি স্বরে অভিযোগ জানাল। বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন হয়ে উঠল স্নেহার মন। দুহাতের আজলায় ছেলেটির ময়লা-মাখা মুখ আগলে ধরে আফসোসের স্বরে সে বলল,
"আহারে সোনা! টাকা শেষ হয়ে গেছে বুঝি? আর কখনো নোংরা খাবার খাবি না, ঠিক আছে? এখন থেকে আমি রোজ আসব এখানে। প্রতিদিন অপেক্ষা করবি তোরা সবাই আমার জন্য? ক্লাস শেষে থাকব আমি এখানেই, বুঝলি?"
বলতেই সবাই আনন্দে হো হো করে হেসে ওঠে। একরাশ উচ্ছ্বাস নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মেয়েটার ওপর। এরমধ্যেই খাবার চলে আসে। স্নেহা নিজ হাতে অবুঝ পথশিশুদের মুখে তুলে দেয় খাবার। তার মুখে বিরতিহীন হাসি, কথার ছন্দে ছন্দে দুলছে হাত-পা। যেন একসঙ্গে পাঁচটি শিশুর শৈশব খেলা করছে সেখানে, পার্থক্য কেবল তাদের পোশাকে। কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একসময় স্নেহা শরীর হেলিয়ে দেয়, মাথা ঠেকে সিঁড়িতে।
কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একজোড়া শক্ত হাত এসে স্নেহার কান ধরে টেনে বসল। মাথায় টোকা দিয়ে, রক্তিম চোখে তাকিয়ে শরীরের ধুলো ঝেড়ে দিতে থাকে ছেলেটি। তারপর পকেট থেকে একটি মাস্ক বের করে পরিয়ে দেয় স্নেহাকে। এরপর সেই সৌম্য অবয়বের ছেলেটি হেসে মানিব্যাগ বের করে কিছু টাকা দিয়ে পথশিশুদের বিদায় জানায়।
এদিকে তরুণীর মুখে অভিমান, কপালে ভাঁজ। সেটা দেখে যুবকটি মুচকি হাসি দিয়ে পাশের ফুলের স্টল থেকে কিনে আনে একগুচ্ছ গোলাপ আর সতেজ বেলি ফুলের মালা। তরুণী খুশিতে লাফিয়ে জড়িয়ে ধরে তাকে। যেন সারা পৃথিবীটাই এই দুহাতেই লুকিয়ে আছে! যুবকটিও একগাল হাসি নিয়ে দুহাতে আগলে নেয় তাকে। সেখানে আর সময় ব্যয় করল না তারা। বাইক স্টার্ট দিয়ে চারপাশের কৌতূহলী চোখ ফাঁকি দিয়ে মিলিয়ে যায় জনতার স্রোতে।
"বাহ্! কী পসেসিভ ভাই! আজকাল এমন দেখা যায়?"বলল আদিল। তার চোখে বিস্ময় আর মুগ্ধতা একসঙ্গে। এতক্ষণ পুরো দৃশ্যটাই দূর থেকে দেখেছে তারা। এমন বিরল মুহূর্ত আজকের দিনে টিএসসির মতো জায়গাতে তো একপ্রকার অনুপস্থিত। আশপাশে থাকা অনেকে, যারা শুরুতে নাক সিঁটকেছিল, তারাও অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল।
"তোকে কে বলল ভাই? প্রেমিকও তো হতে পারে।"
"আরে ধ্যাত! দেখলি না চেহারার কত মিল? তাছাড়া দুজনেই চোখে হাসে।"
_________
"স্নেহু, দিনকে দিন খুব অবাধ্য হয়ে যাচ্ছিস তুই।"
পিছনে বসে আইসক্রিম খেতে খেতে ঠোঁট উল্টায় স্নেহা,"আমি আবার কী করলাম?"
"মাস্ক খুলে রেখেছিলি কেন? এটা কি ব্যাগে রাখার জন্য? আব্বু জানলে রেগে যাবে, জানিস না?"
"এটা ছাড়া আর করেই বা কী?"
বোনের গলায় অভিমানের সুর টের পেয়ে প্রসঙ্গ ঘোরাতে চাইল স্নেহ। কথার মোড় পাল্টে সে বলল, "আইসক্রিম কী শেষ? আর কিছু খাবি, না সোজা বাসার দিকে যাব?"
"না, আজ আর ইচ্ছে করছে না। ভাইয়াব্বু, জোরে চালাও! আরও জোরে!" পেছন থেকে চেঁচিয়ে ওঠে স্নেহা।
"চুপ! মাথাব্যথা নিয়ে আবার জোরে চালাতে বলছিস? রোদের মধ্যে কেন বসেছিলি? একটা গাছের নিচে বসতে পারতিস। দেখ্, কপালের রগ ফুলে গেছে!" ধমকের সুর থাকলেও গলায় স্পষ্ট উদ্বেগ। পরমুহূর্তেই আবার কোমল কণ্ঠে স্নেহ বলে,
"এত কেয়ারলেস কেন তুই? এমন করিস কেন, বাবু? জানিস না, তোর কিছু হলে ভাইয়া কতটা কষ্ট পায়?"
ভাইয়ার ভারী গলায় আবেগ যেন গলা আটকে ধরে। হঠাৎ স্নেহ ব্রেক কষতেই ধাক্কা খেয়ে স্নেহার মাথা গিয়ে লাগে তার হেলমেটে। হেলমেট থাকায় ব্যথা তেমন একটা লাগেনি।
"লেগেছে, বাবু?"
মাথা নাড়ায় স্নেহা। তারপর গরগর করে বলতে লাগল,
"ভাইয়াব্বু, জানো, এই ঢাকার মেয়েরা না কেমন একটা! প্রথম দিনেই এক সিনিয়র আপু তো আমাকে দিয়ে লাভ ল..."
"কী? বল, বল!"
তখনের ঘটনা চেপে গেল স্নেহা। পেছন থেকে জাপটে ধরল ভাইয়াকে। তারপর পুরো দুনিয়ার আহ্লাদ নিয়ে বলতে লাগল,
"কই না তো! তবে এই শহরের কাউকেই আমার পছন্দ হয়নি, সব ফেইক। তোমার জন্য আমি পুরো দুনিয়া খুঁজে রাজকুমারী এনে দেব! কজ মাই ভাইয়াব্বু ডিজার্ভ দ্য বেস্ট।"
বোনের আদুরে কথা শুনে হেসে ফেলে স্নেহ।
"জ্বি মা, বুঝেছি। খুব মনোযোগ দিয়ে শুনেছি আপনার ভাষণ। আগে তোর একটা ব্যবস্থা করি, তারপর রাজকুমারীর চিন্তা! আমার রাজকন্যাকে এমন একটা মানুষের হাতেই দেব, যে তার মনের যত্ন নেবে। একটা ভালো মানুষের হাতে তোকে তুলে দিতে পারলেই ভাইয়ার ছুটি।"
ভ্যাঙচি কাটে স্নেহা, "আহ্! আমি কোনো দিন বিয়েই করব না। তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারি না, জানো না?"আরও শক্ত করে জাপটে ধরে ভাইয়াকে। স্নেহার পুতুলেপুতুলি আচরণ আর বাচ্চামি দেখে শব্দ করে হেসে ফেলল স্নেহ।
~চলবে.....
উপন্যাস : কে বাঁশি বাজায় রে!
লেখনিতে : মিথুবুড়ি।
জনরা : রম্য, ভার্সিটি রিলেটড, সামাজিক এবং রোমান্টিক।
বিঃদ্রঃ ২৪শে রঙ্গন–এর মাঝের অংশ নতুনভাবে পুনর্লিখন করা হবে। কিছু দৃশ্য সংযোজন ও কিছু অংশ সংশোধন করা হবে। যারা পরিপূর্ণ রাজনৈতিক ফিল নিতে চান, তারা চাইলে আগে ২৪শে রঙ্গন ই-বুকটি পড়ে নিতে পারেন। আল্লাহ চাইলে এবং সুস্থ থাকলে, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা না এলে প্রতিদিন রাত ৯টায় নতুন পর্ব প্রকাশ করা হবে, ইনশাআল্লাহ। ভালো-মন্দ যেকোনো মতামত অবশ্যই জানাবেন। কমেন্টে লিখে বলবেন গল্পটি আপনাদের কেমন লাগছে। ফেসবুকে এই প্রথম আপনারা বুড়ির সামাজিকধর্মী লেখা পড়তে যাচ্ছেন। রেসপন্স করে আমাকে উৎসাহ যোগাতে ভুলবেন না। আসসালামু আলাইকুম 💜