ফন্ট সাইজ:
থিম:
কষ্টের জালে প্রেমের প্রদীপ

পর্ব 4

লেখক: Sultana_Notes

কষ্টের জালে প্রেমের প্রদীপ
পর্ব সংখ্যা ০৪

তরিকুল সুলতানার পথ আটকে ওর সাথে কথা বলতে চাইলো সুলতানের মন খারাপ ছিল আর ওকে সব সময় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতো তাই ওর সাথে কথা বলতে অস্বীকার করলো কিন্তু তারপরও বারবার কথা বলার চেষ্টা করছিল তাই বাধ্য হইও কথা শুনতে দাঁড়ানো তখন ঐ বিভিন্ন উল্টাপাল্টা কথা বলতেছিলাম দেখলাম তোমার জামাইকে নিয়ে পোস্ট করছো এত সুন্দর নয় কি দেখতেও তো সুন্দর নাম ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছু তো এই সব কথা শুনে সুলতানা মাথা গরম হয়ে গেল তাই তরিকুলের গালে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিল আর তারপরে বলল আমার জামাই যেমনই হোক না কেন কেমন জামাই আমি তাকে ভালোবাসি দুনিয়ার সব থেকে খারাপ ছেলেটা যদি আমার জামাই হয় তোর সমস্যা কি তুই এসব কিছু বলার কে তোকে এত বড় সাহস দিল কে তুই আমার জামাই কি নিয়ে কথা বলস তরিকুল ও রেগে গিয়েছিল সুলতানা কিছু বলতে আসবে এমন সময়ই বাইজিদ আরো সামনে এসে তরিকুল কে স্কুল থেকে বাইরে যেতে বললে এবং বের করে দিল তারপর সুলতানা কে বলল তোর কি মাথা খারাপ তুই একটা ছেলের সাথে তর্কে জড়াইছে আকাশে থেকে থাপ্পড় মেরে দিছস তোকে নিয়ে আর পারিনা তুই যা করতে যাচ্ছিস যা আর প্লিজ এরকম কাজ আর করিস না অন্তত আমাকে পাশে রাখিস না হলে যে কখন কোন ঝামেলায় পরশ সেইটা আল্লাহই ভালো জানে বাইজিদের কথা মত নিজের জ্যামিতি বক্স দিয়ে প্রাইভেট পড়তে চলে গেল বিকেলবেলা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে সুলতারা মনে মনে ভাবছিল যদি গার্জিয়ান ডাকে তো কি হবে ওকে কি স্কুল থেকে বের করে দেবে সিনিয়রের গায়ে হাত দেওয়ার অপরাধ কিন্তু পরের দিন এমন কিছুই হয়নি তরিকুল কোন কমপ্লেন করেনি বরং তাহসিনার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে জানা গেল তাহসিনা এসে সুলতানা কে জানালো নিজের বয়ফ্রেন্ডের সাথে সুতানার পরিচয় করিয়ে দিল সুলতা নাও তাদের শুভকামনা জানানো এতে করে সুলতানের জীবনের সমস্যা আরও বেড়ে গেল আগে শুধু তাহসিনা সুলতানাকে ডিস্টার্ব করত বিভিন্ন প্রবলেমে ফেলতো এখন আমরা দুজন মিলে ওকে সমস্যায় ফেলছে এই দুই মাস পরেই স্কুল অনেক বড় একটা অনুষ্ঠান হবে যে অনুষ্ঠানে জেলার প্রেসিডেন্ট এবং এলাকার চেয়ারম্যান আর সম্মানিত অনেক মানুষ উপস্থিত থাকবে এই অনুষ্ঠানটা হবে স্কুল প্রতিষ্ঠিত দিবস হিসেবে স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আজ প্রায় ৪০০ বছর হয়ে গেছে অনেক পুরনো স্কুল কিন্তু সময় আর কালের ধাপে ধাপে এখন অনেক উন্নত হয়েছে এ অনুষ্ঠানটা নিয়ে অনেক পরিকল্পনা যা বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে সবাই ছুটছে সবার অনেক দায়িত্ব প্রত্যেককে আলাদা আলাদা একটা দেওয়া হবে তাই সবাই খুব ভালো করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সুলতানা টিমের জন্য একটা আলাদা এসাইনমেন্ট দেওয়া হল সুলতানা সিমের কাজ স্টেজ সাজানোর সমস্ত পরিকল্পনা করা এবং সুলতানা বিশেষ দায়িত্ব পুরো অনুষ্ঠানটা পরিচালনা করা এরকম সবাইকে সবার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হল সুলতানা কে একটা সিডিউল তৈরি করতে দেওয়া হল যেখানে থাকবে কোথায় কি কি করা হবে হবে কে কোথায় বসবে কাকে কিভাবে বরণ করা হবে এবং স্টেজ সাজানোর সমস্ত প্ল্যান ওর টিমকে করতে হবে ও নিজের দায়িত্ব বুঝে নিয়ে নিজের কাজ করতে শুরু করল অনুষ্ঠানের ৫ দিন আগে থেকেই স্টেজ সাজানোর কাজ শুরু হল সুলতানা কোথায় কোন ফুল রাখতে হবে কোন দিকে লাইট ভারি হবে কোথায় কেমন হবে সবকিছু বলে দিচ্ছিল এবং সেই অনুযায়ী সবাই কাজ করছিল সুলতানা একটা কালার পিক্স করল যেখানে সবাই কালো রংয়ের জামা পরে আসবেন ছেলেরা পাঞ্জাবি আর মেয়েরা শাড়ি যার যেটা পছন্দ সুলতানের এই এক কালারের কথা শুনে সবাই বেশ খুশি হলো স্যার রাও ওকে সম্মতি জানালো এভাবেই ওই দিনটি চলে এলো অনুষ্ঠান শুরু হল বিকেলের দিক থেকে রাত দশটা পর্যন্ত এ অনুষ্ঠানটি হবে 7 টার দিকে অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ শুরু করা হবে সুলতানের পরিবারের সকলকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল এবং সকল শিক্ষার্থীদের পরিবারকেও দাওয়াত দেয়া হয়েছিল যেনো তারা স্কুলে উপস্থিত থাকে বিকেলে সুলতানা তার পরিবারকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছে টুকটাক খাবার খেয়ে অনুষ্ঠান শুরুর দিকে মনোযোগ দিল সুলতানা যেহেতু সুলতানের অনুষ্ঠান পরিচালনা করার কথা তাই স্যারের অনুমতি পেয়ে মাইক হাতে এস্টেজে উঠে পড়ল সবাইকে সালাম জানিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে শুরু করলে অনুষ্ঠান সুলতানা কথা বলার ধরন ওর এক্সপ্রেশন ওর ব্যবহার এবং ওর সম্পর্কে জেনে ওইখানে অতিথিরা ভীষণ খুশি হয়েছে এরকম একটা মেয়ে যার মধ্যে এত গুণ আছে অনেক নাচ গান কবিতা নাটকের ও আয়োজন করা হয়েছে এর জন্য পুরস্কারও ছিল সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটা অনেক ভালই গিয়েছেন। তার এক সপ্তাহ পর স্কুল অফ দা ভিক্টোরিয়া নির্বাচন করা হলো এতে যেকোনো একজনই উত্তীর্ণ হবে পুরো ইস্কুল থেকে একজনই হবে চাইনি এসব করতে কিন্তু তাহসিনা তোকে চ্যালেঞ্জ করল বলল তুই কখন জিদতে পারবি না এবং আরো বাজে বাজে কথা বলল তাই সুলতা নাও এই নির্বাচনে অংশ নিল নির্বাচনের দিন সুলতানা ৮০৩ টি ভোট পেল আর তাহসিনা ২৮০ টি সুলতানা তাসিনার থেকে ৫২৩টি বেশি ভোট পেয়ে ক্যাপ্টেন অফ দা ভিক্টোরিয়া হল ওর একটা বড় ছবি প্রেম বানিয়ে স্টাডি রুমে রাখা হল এবং একটা ছবি ডিজিটাল লাইব্রেরীতে রাখা হলো যা নিচে লেখা ছিল ক্যাপ্টেন অফ দা ভিক্টোরিয়া উম্মে সুলতানা। এতে করে পাওয়ার আরো বেড়ে গেল স্কুলে টিচারদের পরে প্রত্যেকটা স্টুডেন্ট সুলতানার কথা শুনতে বাধ্য তাহসিনা সুলতানার সাথে এরপর থেকে আরও বেশি ঝামেলা করতে শুরু করল একবার তাহসিনা সুলতানা কে ক্লাসে আটকে রেখে চলে গেল সুলতানা প্রায় চার ঘণ্টার মতন ক্লাসে বন্দী ছিল অনেক মানুষকে ডাকলো কেউ এলোনা প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যাইতেছে কিন্তু কারো কোন সাড়া নেই।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন