কষ্টের জালে প্রেমের প্রদীপ
পর্ব সংখ্যা ০৩
আমি সুলতানার আব্বু তোর মামাদের সাথে কথা বলে আপনাকে জানাবো এটা বলেন সবার সাথে কথা বলার পর সবাই নিজেদের মত পোষণ করেন কেউ কেউ মত দিলেও বাকিরা মত দেয় না এখনো ছোট বয়স মাত্র ১৫ এই বয়সে বিয়ে যদি ওকে নিয়ে যাবে না তারপরও বিয়ে হয়ে গেছে এই জিনিসটা নিয়েও সার্ভিস করতে পারবে না ছেলেটার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে ওর মেজ মামা চাচা এবং আমার ভাই যায় ওদের বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়ার পর জানতে পারা গেল ছেলেটা ভালো সর্ব দিক থেকেই ভালো ফ্যামিলি ও ভালো যদিও তাদেরকে আগে থেকেই চিনতো ওর বাবারা চিনলেও ও কাকারা চিনতো না তাই সবাই মিলে গিয়ে খোজ খবর নিও ভালো রিভিউ পাওয়ার পর অনেকেই একমত হয়েছিল কিন্তু তখনও সুলতানা রাজি ছিল না তারপর ওকে দেখতে আসা দিন ঠিক করা হলো আগস্ট মাসের ১৬ তারিখ ওকে দেখতে আসে দেখেই সবার পছন্দ হয়ে যাওয়ায় ওকে আন্টি পরায় দেখতে এসেছিলো ১৩ জন গ্রামের মাতবর এবং মামা কাকা খালুদের নিয়ে বাবা ও ভাই মিলে তেরো জন পছন্দ হয়ে যাওয়াই আংটি পরিয়ে দিয়ে যাও ঐদিন সবাই চলে যাওয়ার পর অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করেছি সুলতানা ড্রেসিং টেবিলের কাজ ভাঙ্গা এবং ঘরের মধ্যে নিজেকে অনেকক্ষণ বন্ধ করে রেখেছিল এইতো এখন আর কি করার ওর কান্নাকাটি দেখে ওর আম্মুকে বলল তুই যদি কাউকে পছন্দ করি তাহলে আমাকে বল আমি এসব কিছু ভেঙে দিয়ে তোকে তার হাতে তুলে দেব কিন্তু সুলতানা তো কাউকে পছন্দ করত না তাই কিছু বলল না ওকে বোঝানো হলো অবশ্য বুঝতে বাধ্য হল আর না বুঝেই বা কি করবে এখন আর কোন কিছু বদলানো যাবে না এর থেকে দেড় মাস পর অক্টোবর মাসের ২২ তারিখে ওর বিয়ে হয় বিয়েটা হয় ঘরোয়া ভাবেই বিয়েতে কেউ আসেনি তেমনি ওর মামা নানা এবং দুই কাকা ওর আব্বু ভাই এবং ছেলের ভাই বাবা মা ও বোন এসেছিল শুধু কাবিন করা হয় ওই দিন সুলতানা সারি ও পরিনি সাজেওনি খুবই সাধারণ ভাবে ছিলো ও বিয়েটা মেনে নিতে পারছিল না এখনো ও তার ছিলো দুই তিন দিন ছেলের মা ও বোন এর দুদিন পর ওই স্কুলে গেলে স্কুলে যাওয়ার পর সুলতানের নাকের নাগপুর দেখে অনেকেই বলছিল ওর বিয়ে হয়ে গেছে যেটা শুনতে সুলতানার একটু ভালো লাগছিল না ক্লাসে বিজ্ঞান শিক্ষাকে সেও ওকে বলল তোমার বিয়ে হয়ে গেছে তাই না যেটা শুনে ও নিজেকে আর কন্ট্রোল করতে পারো না স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাড়ি ফিরে অনেকক্ষণ কান্নাকাটি করলো তারপর সুলতানের আম্মু প্রতিদিনই অবশ্য মতন মেয়েকে খাবার খাইয়ে দিতে দিতে বোঝালেন এটা সমাজ থেকে নিজেকে রক্ষা করা তুমি এখন স্কুলে যাচ্ছ পড়াশুনা করছ তোমার লাইফে এর কোন প্রভাবই পড়ছে না বরং তুমি বকাটে ছেলেদের থেকে খুব সহজে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে কেউ তোমাকে কোন কিছুই বলবে না কারণ তুমি এখন বিবাহিত যা তোমাকে মানুষের নোংরা চিন্তা ধারা থেকে মুক্তি দেবে মন খারাপ করা একদমই উচিত না মা। এরপরে সন্ধ্যার দিকে সুলতানের জামাই কল দিল জামাইয়ের নাম হলো আয়ান আইনের ছোট ভাইয়ের নাম ইব্রাহিম এবং বোনের নাম ফাতেমা ওর জামাই আয়ান কল দিল সুলতানের আম্মুর ফোনে কারণ সুলতানা কে কোন ফোন কিনে দেয়নি সুলতানা আয়ানের সাথে কথা বলতে ওর আম্মুর ফোন দিয়েই এভাবে দিন কাটতে শুরু করব সবকিছু নিয়ে খুব স্বাভাবিক দেখা গেলেও সুলতানা মনের ভিতর এক প্রকার ঝড় সব সময় বৈইতো মানসিকভাবে অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছিল সুলতানা দিনদিন পড়াশোনায়ও অমনোযোগী হয়ে পড়ছিল এর সমস্ত কারন ছিল আয়ান। আয়না সুলতানাকে ফোন কিনে দেয়নি তবুও সন্দেহ করতো আর মাঝে মাঝে ঝগড়াও পড়তে ওর সাথে ছোট ছোট বিষয় নিয়েও সুলতানা ফোনে কথা না বললেও সেটা নিয়েও ঝামেলা করতো কেন ফোন দিল না এটা নিয়েও ঝামেলা করতাম তাই ও কল দিত না। ছোট ছোট ঝগড়া আর কথায় কথায় অপদস্থ করাটা থেকে সুলতানা মনে অনেক অভিমান জমে গেছিল বিয়ের এক বছর উপলক্ষে প্রথম এনিভার্সারি পালন করার কথা বলল সুলতানের জামাই আয়ান তার শাশুড়িকে বলল সুলতানের জন্য একটা শাড়ি সাজানোর জন্য সব কিছু এবং এটাকে কেক অর্ডার দিতে ঘর সাজানোর জন্য সব কিছু কিনে আনার পর একটা শাড়ি ও কেনা হয় ওর জন্য সুলতানা এনিভার্সারি পালন করতে অসম্মতি জানান এ জামাই ওকে ভিন্ন ধরনের কথা বলতে থাকে কথার এক পর্যায়ে ওকে বলে আমি তোমার পছন্দের নাম ভালো লাগে না তোমাকে জোর করে বিয়ে দিছে তাই তুমি এনিভার্সারি পালন করবে না এরকম নানা ধরনের কথা বলছিল ভালো না লাগলে বলে দাও তারপরে কি করা লাগে দেখব এ সমস্ত কথা শুনে সুলতানা আর কিছু বলে না কথা বলায় না যা বলে সব কিছু শুনলো অ্যানিভার্সারি দিনেও চলে এলাম মোটামুটি ভালোভাবেই তাদের অ্যানিভার্সারি পালন করা হলো সুলতানা ওর কিছু অ্যানিভার্সারি ছবি টিকটক একাউন্টে এস্টরি হিসেবে দেয় তা দেখে ওর পিছনে ঘুরঘুর করা ওই ছেলেটা তরিকুল। ওই দিন স্কুলে গেল গিয়ে পর সাতটা থেকে স্কুলে গেটের সামনে অপেক্ষা করছে সুলতানের জন্য রাত্রেবেলা আয়ানের সাথে সুলতানা ঝগড়া হয় যে কারণে ওর মন খারাপ ছিল সকালবেলা ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছে তাই না খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে সুলতানা ওর আম্মু ওকে বলছিল কিছু খেয়ে নিতে কিন্তু ওর খাওয়ার সময় নেই তানি ওর আম্মুকে রাগারাগি করলো তাই ওর মন খুব খারাপ ছিল স্কুলে গিয়ে প্রাইভেট রুমে চলে গেল গিয়ে দেখো জ্যামিতির বক্তা আনতে ভুলে গেছে তাই তিন তলা থেকে নিচে নাম ছিল সুলতানা তখনই দেখা হল তরিকুলের সাথে।