ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার

পর্ব 5

লেখক: আরজিনা খাতুন

#প্রেম আমার
#পর্ব -৫



সেই প্রশান্ত শরৎসন্ধ্যাতেই, অজ্ঞাতসারে, দুটি স্বতন্ত্র জীবনের গতিপথ যেন ক্রমশ পরস্পরের অভিমুখে ধাবিত হতে শুরু করেছিল। তারা তখনও অবগত ছিল না—অতি সাধারণ একটি ক্ষুদ্র বার্তালাপ কীভাবে তাদের জীবনের সুদীর্ঘ উপাখ্যানে সূচনা করবে এক অনির্দেশ্য অধ্যায়ের।

ভালোবাসা—চারটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত একটি শব্দমাত্র হলেও এর অন্তর্নিহিত ব্যঞ্জনা সুদূরপ্রসারী, গভীর এবং বহুমাত্রিক। কখনো তা স্নিগ্ধ মমতারূপে হৃদয়ের নিভৃত প্রদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে, কখনো অভিমান ও অনুযোগের আবরণে নিজের অস্তিত্ব প্রকাশ করে, আবার কখনো অদৃশ্য কোনো আকর্ষণের সূত্র ধরে দুটি পৃথক সত্তাকে একই অনুভূতির বন্ধনে আবদ্ধ করে। অনুভূতির সেই বিচিত্র রূপান্তরের মধ্য দিয়েই ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছিল নিহাদ চৌধুরী ও সিদরাতুল ঈশিতা রহমানের সম্পর্ক।

ইতোমধ্যে সময়ের প্রবহমান স্রোতে অতিবাহিত হয়েছে প্রায় আটটি দিন। এই স্বল্প পরিসরেই ঈশিতা অসংখ্যবার নিহাদের নিকট তার আলোকচিত্র প্রেরণের অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই নিহাদ অত্যন্ত সংযত অথচ অনমনীয় ভঙ্গিতে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে। তার বক্তব্য ছিল সুস্পষ্ট—প্রথমবার সামনাসামনি সাক্ষাতের দিনই তারা পরস্পরকে প্রত্যক্ষ করবে; তার পূর্বে কোনো আলোকচিত্র বিনিময় নয়।

বিষয়টি ঈশিতার কাছে বরাবরই বিস্ময়কর বলে প্রতিভাত হয়েছে। বর্তমান সময়ে যেখানে একটি আলোকচিত্রের আদান-প্রদান নিতান্তই সাধারণ ঘটনা, সেখানে নিহাদের এমন অনড় অবস্থানের অন্তর্নিহিত কারণ তার বোধগম্য হয়নি। কৌতূহলবশত একাধিকবার প্রশ্ন উত্থাপন করেও সে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পায়নি। ফলে নিহাদকে প্রত্যক্ষভাবে দেখার আকাঙ্ক্ষা তার মনে ক্রমশ প্রবলতর হয়ে উঠেছিল।

অবশেষে উপস্থিত হলো সেই প্রতীক্ষিত দিন।

দীর্ঘ বিরতির পর সেদিন ঈশিতাদের বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। প্রত্যুষের স্নিগ্ধ আলোয় নিদ্রালস প্রকৃতি যখন ধীরে ধীরে জাগ্রত হয়ে উঠছিল, তখন ঈশিতাও শয্যা ত্যাগ করে দিনের প্রারম্ভিক কার্যাবলিতে মনোনিবেশ করল। পবিত্র ফজরের নামাজ আদায়ের পর সে প্রায় এক ঘণ্টা একাগ্রচিত্তে অধ্যয়নে নিমগ্ন রইল। অতঃপর স্নান সেরে পরিপাটি পোশাকে নিজেকে প্রস্তুত করে নিল বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে।

প্রাত্যহিক প্রস্তুতির সমাপ্তিলগ্নে মুঠোফোনটি হাতে তুলে নিল সে। পরিচিত নামটির সন্ধান করে নিহাদের কথোপকথনের পরিসর উন্মুক্ত করতেই তার অধরে ফুটে উঠল মৃদু হাসির রেখা। একের পর এক কয়েকটি বার্তা প্রেরণ করল ঈশিতা—

‘আসসালামু আলাইকুম।’

‘এখনো কি ঘুমাচ্ছেন?’

‘তাড়াতাড়ি উঠুন।’

‘আর শুনুন, আজ আমার স্কুল আছে। আমি স্কুলে যাচ্ছি। আপনি বেশি চিন্তা করবেন না, ঠিক আছে? বাই!’

বার্তাগুলো প্রেরণ করে ঈশিতা নাশতা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হলো। ঠিক সেই মুহূর্তেই মুঠোফোনের পর্দায় নতুন বার্তার সংকেত ফুটে উঠল।

নিহাদের প্রত্যুত্তর—

‘সাবধানে যেয়ো আর নিজের খেয়াল রেখো, মেহু। আজ আমিও স্কুলে যাব। স্কুল থেকে ফিরে আমাকে মেসেজ দিও, মনে থাকে যেন। আর হ্যাঁ, টেক কেয়ার।’

বার্তাটি পাঠ করে ঈশিতার মুখে স্নিগ্ধ হাসি প্রস্ফুটিত হলো। সে দ্রুত প্রত্যুত্তর লিখল—

‘আচ্ছা বাবা, আচ্ছা! আমি নিজের খেয়াল রাখব। আপনিও নিজের খেয়াল রাখবেন। এখন রাখি, মা খেতে ডাকছে।’

নিহাদ সংক্ষিপ্তভাবে উত্তর দিল—

‘ঠিক আছে, যাও।’

বার্তালাপের সমাপ্তি ঘটিয়ে ঈশিতা নাশতা গ্রহণ করল। অতঃপর প্রয়োজনীয় বইপত্রসহ ব্যাগটি কাঁধে তুলে নিয়ে তার দাদার সঙ্গে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হলো। একই বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত হওয়ায় অধিকাংশ দিনই তাদের একসঙ্গে যাতায়াত করা হয়। যদিও মাঝেমধ্যে পিতার সঙ্গেও বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ ঘটে, তথাপি দাদার সঙ্গেই তার যাতায়াত অধিক নিয়মিত।

বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সম্মুখে পৌঁছানোর পর ঈশানের সঙ্গে সে ভেতরে প্রবেশ করল না। তার বান্ধবী রুহিসার জন্য অপেক্ষমাণ থাকাই ছিল এর প্রধান কারণ। ঈশান বোনকে ফটকের নিকট দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে শ্রেণিকক্ষের অভিমুখে অগ্রসর হয়ে গেল।

বিদ্যালয়ের সম্মুখভাগে তখন শিক্ষার্থীদের আগমনজনিত কোলাহল ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কেউ দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করছিল, কেউবা পরিচিত সহপাঠীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত ছিল। সেই পরিচিত কর্মচঞ্চল পরিবেশের মধ্যেই আকস্মিকভাবে ঘটে গেল এক অনভিপ্রেত দুর্ঘটনা।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই একটি দ্রুতগামী মোটরবাইক এসে ঈশিতাকে ধাক্কা দিল।

মুহূর্তের মধ্যে তার চারপাশের পরিচিত দৃশ্যাবলি যেন ওলটপালট হয়ে গেল। ভারসাম্য হারিয়ে সে মাটিতে পড়ে গেল; হাত-পায়ে আঘাতের যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়ল তীব্রভাবে। আকস্মিক ঘটনার অভিঘাতে কয়েক মুহূর্তের জন্য সে হতবিহ্বল হয়ে রইল।

কিছুটা সামলে নিয়ে ঈশিতা মাথা তুলে তাকাতেই দেখতে পেল, বিদ্যালয়ের পোশাক পরিহিত এক যুবক মোটরবাইক থেকে নেমে তার দিকে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

কিন্তু দুর্ঘটনার আকস্মিকতা ও শারীরিক যন্ত্রণায় তার মন তখন ক্ষোভে আচ্ছন্ন। সাহায্যের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হাতটির দিকে না তাকিয়েই সে ক্রুদ্ধ কণ্ঠে বলে উঠল,

— How dare you! আমাকে এভাবে ফেলে দেওয়ার সাহস হলো কী করে আপনার? উত্তর দিন!

যুবকটি কোনো প্রত্যুত্তর দিল না। তার নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলল। পরক্ষণেই সে এমন একটি অপ্রত্যাশিত আচরণ করল, যা ঈশিতাকে সম্পূর্ণ হতবাক করে দিল—যুবকটি তার গালে সজোরে একটি চড় মারল।

আকস্মিক সেই আঘাতে ঈশিতা বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গেল। কয়েক মুহূর্ত আগেও যে কণ্ঠে প্রতিবাদের দৃঢ়তা ছিল, তা যেন বিস্ময় ও অপমানে স্তব্ধ হয়ে পড়ল। তার চোখের কোণে অশ্রু জমে উঠল; গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল কয়েক ফোঁটা জল।

কেন এমন আচরণ করা হলো, তার কোনো ব্যাখ্যাই সে খুঁজে পেল না।

যুবকটি অবশ্য কোনো কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করল না। সে নিজের মোটরবাইকটি নির্ধারিত স্থানে রেখে নির্বিকার ভঙ্গিতে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে প্রবেশ করল। একবারের জন্যও পেছন ফিরে তাকাল না।

ঈশিতা স্থবির দৃষ্টিতে তার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল। শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও তখন তার মনে অধিকতর তীব্র হয়ে উঠেছে অপমানের অনুভূতি। অপরিচিত একজন মানুষের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ তার বোধগম্যতার সম্পূর্ণ বাইরে।

ঠিক সেই সময়েই পেছন থেকে ভেসে এল পরিচিত কণ্ঠস্বর।

— এই ঈশিতা! তোর কী হয়েছে? এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? হাত-পায়ের এই অবস্থা হলো কী করে?

রুহিসার কণ্ঠস্বর শুনে ঈশিতা ধীরে ধীরে তার দিকে মুখ ফেরাল। বান্ধবীকে সামনে পেয়ে এতক্ষণ ধরে সংবরণ করে রাখা অভিমান যেন পুনরায় জেগে উঠল।

রুহিসা উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে তার হাত-পায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

— তুই আগে ওঠ। এভাবে বসে থাকিস না। চল, ক্লাসে যাই। দরকার হলে পরে সব দেখব।

ঈশিতা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। আঘাতপ্রাপ্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গে তখনও যন্ত্রণার রেশ বিদ্যমান। রুহিসার সহায়তায় সে শ্রেণিকক্ষের দিকে অগ্রসর হলো। পথিমধ্যে দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ জানাতে গিয়ে তার কণ্ঠে বারবার ক্ষোভ ও অভিমানের প্রতিফলন ঘটল।

— একটা ছেলে বাইক দিয়ে আমাকে ধাক্কা দিল। আমি পড়ে গেলাম, তারপর আবার আমাকে চড় মারল! বল তো, এমন করার কোনো মানে হয়? দোষটা তো ওরই ছিল!

রুহিসা বিস্মিত হয়ে বলল,

— কী বলছিস! ধাক্কা দেওয়ার পর আবার তোকে চড়ও মেরেছে?

— হ্যাঁ! কিছু না বলে চলে গেল। কী অদ্ভুত মানুষ!

— এটা তো একেবারেই অন্যায় করেছে। তুই আঘাত পেয়েছিস, আর ও উল্টো তোকে মারল!

ঈশিতা আর কোনো উত্তর দিল না। অপমানের তীব্রতা তখনও তার মনকে আলোড়িত করছিল। অচেনা যুবকটির নির্বিকার মুখচ্ছবি তার স্মৃতিতে বারবার ফিরে আসছিল, আর প্রতিবারই তার ক্ষোভ যেন আরও ঘনীভূত হচ্ছিল।

---

একটির পর একটি শ্রেণি অতিবাহিত হতে লাগল। পাঠদানের আনুষ্ঠানিকতা, শিক্ষকদের ব্যাখ্যা এবং সহপাঠীদের সঙ্গে দৈনন্দিন কথোপকথনের মধ্য দিয়েও ঈশিতার মন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে পারল না। শরীরের আঘাতের পাশাপাশি মানসিক অপমানের স্মৃতিও তাকে বারবার বিচলিত করে তুলছিল।

চারটি শ্রেণি শেষ হওয়ার পর টিফিনের বিরতিতে ঈশিতা ও রুহিসা কমনরুমে গিয়ে বসেছিল। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া ও খাবার গ্রহণের পর তারা পুনরায় শ্রেণিকক্ষের অভিমুখে অগ্রসর হলো।

কিন্তু শ্রেণিকক্ষে প্রবেশের ঠিক পূর্বমুহূর্তে ঈশিতার দৃষ্টি পড়ল তার দাদার ওপর। ঈশান দ্রুত পায়ে তার দিকে এগিয়ে আসছিল। বোনের হাত-পায়ের আঘাত চোখে পড়তেই তার মুখের স্বাভাবিক ভাব পরিবর্তিত হয়ে গেল।

— কী হয়েছে রে, বনু? তোর এই অবস্থা কী করে হলো?

ঈশিতা আর কিছু গোপন করল না। সকালের দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে অপরিচিত যুবকের অপ্রত্যাশিত আচরণ পর্যন্ত সবকিছুই বিস্তারিতভাবে জানাল।

ঈশান মনোযোগ দিয়ে বোনের কথা শুনল। তার মুখাবয়বে তখন গভীর গাম্ভীর্য। তবে সে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করল না। সময়ের স্বল্পতার কারণে তাকে দ্রুত নিজের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যেতে হবে।

— আচ্ছা, তুই সাবধানে থাকিস। পরে তোর সঙ্গে কথা বলব।

কথাটি বলেই ঈশান নিজের শ্রেণিকক্ষের দিকে চলে গেল। তার নীরবতা ঈশিতার মনে আরও কিছু প্রশ্নের জন্ম দিলেও সে তখন আর কিছু ভাবার অবকাশ পেল না।

অবশেষে বিদ্যালয়ের শেষ ঘণ্টাধ্বনি প্রতিধ্বনিত হলো। দিনের দীর্ঘ কর্মব্যস্ততার অবসানে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে শুরু করল।

প্রধান ফটকের সম্মুখে ঈশিতাও রুহিসার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ঈশানের জন্য অপেক্ষা করছিল। কিছুক্ষণ পর ঈশান এগিয়ে এল। মাথা থেকে হেলমেটটি খুলতে খুলতে সে রুহিসার দিকে তাকিয়ে পরিচিত হাসি ফুটিয়ে বলল,

— হাই, বিউটিফুল গার্ল! কেমন আছ?

রুহিসা মৃদু হেসে উত্তর দিল,

— আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন, ভাইয়া?

ঈশান দীর্ঘশ্বাস ফেলার ভঙ্গি করে বলল,

— আমি তো ভালো নেই, বিউটিফুল গার্ল।

রুহিসা উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করল,

— কেন? কী হয়েছে আপনার?

ঈশান রহস্যময় ভঙ্গিতে বলল,

— অনেক কিছু হয়েছে। সব কি আর এভাবে বলা যায়? একদিন আমার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলো, সব বুঝিয়ে দেব।

রুহিসা কিছুটা লজ্জিত হয়ে মৃদু হাসল।

— আচ্ছা, দেখা যাবে।

ঈশান হেলমেটটি হাতে নিয়ে বলল,

— ঠিক আছে, আজকের মতো বাই। ভালো থেকো।

— আপনিও ভালো থাকবেন, ভাইয়া।

দুজনের কথোপকথন ঈশিতা নীরবে শুনছিল। কিন্তু তার চিন্তা তখনও সকালের সেই অজ্ঞাত যুবককে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছিল। ঈশানের সঙ্গে রুহিসার কথোপকথন শেষ হতেই সে যেন চিন্তার জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে এল।

ঈশান বোনের দিকে তাকিয়ে বলল,

— কী রে, বনু? উঠবি, নাকি আমি একাই চলে যাব?

ঈশিতা তৎক্ষণাৎ সাড়া দিল,

— না না, ভাইয়া! যাচ্ছি, যাচ্ছি।

— হুম, তাহলে তাড়াতাড়ি ওঠ।

ঈশিতা মোটরবাইকে উঠে বসল। রুহিসাও তাদের বিদায় জানিয়ে নিজ গন্তব্যের পথে রওনা হলো।

মোটরবাইকটি ধীরে ধীরে বিদ্যালয়ের সম্মুখভাগ অতিক্রম করে ব্যস্ত সড়কে মিশে গেল। কিন্তু ঈশিতার অন্তরে তখনও সকালের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার রেশ অম্লান।

সে জানত না, অচেনা সেই যুবকের সঙ্গে তার এই প্রথম সংঘাতই ভবিষ্যতে আরও কত ঘটনার সূত্রপাত ঘটাবে। সময়ের অদৃশ্য পর্দার আড়ালে তখনও অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে সেই ঘটনার প্রকৃত তাৎপর্য।

আর জীবন—নিজস্ব রহস্যময় গতিতে—তাদের অজান্তেই এগিয়ে চলেছে পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে।

চলবে ইনশাল্লাহ
পর্ব -৬

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 5 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন