ইংলিশ টিচার
সুমনা হক
পর্বঃ৩
শুভ মিলিকে খাবার এনে দিতেই মিলি বললো
-আপনি না ঠিক আমার বাবার মতো
শুভ রেগে আগুন হয়ে বলে
-বাবার মতো মানে কি বুঝতে চাচ্ছেন?
-আরে আমার বাবা ও মাঝেমধ্যে অনেক রাতে আমার রুমে খাবার নিয়ে আসে আর আমাকে খাইয়ে দেয়। আমি বাবাকে অনেক মিস করছি। এখন আপনি আমাকে খাইয়ে দিবেন বুঝছেন?
শুভ ভালোই বুঝতেছিলো মিলি আসলে শুভকে বিরক্ত করতে চাচ্ছে। শুভ তো বিরক্ত হবেনা, কারণ সে মিলির সব কারসাজি বুঝতে পেরেছে।
শুভ মিলিকে খাইয়ে দেয়ার পর জানতে চায় তার বোন কোথায়।
মিলি তখনি তার ফোন থেকে মিলির বাবাকে কল দিয়ে বলে
-বাবা শুনো তোমার বালিশের নিচে দেখো একটা চাবি। আর সে চাবি নিয়ে আমাদের ষ্টোর রুমে যাবে সেখানে গিয়ে তালা খুললে আপুকে দেখতে পাবে।আপু হয়তো ঘুমিয়ে আছে কিন্তু তুমি টেনশন করোনা আপুর কিছু হয়নি। বেশি না ৪ টা ঘুমের ঔষদ খাইয়ে ছিলাম।চোখ মুখে পানি দিয়ে লেবুর সরবত খাওয়ালে ঠিক হয়ে যাবে।
ওপাশে মিলির বাবা কি বলছিলো সেটা অবশ্য শুভ শুনতে পারেনি।
ফোন রাখার পর শুভ বলছে
-তুমি তোমার বোনকে স্লিপিং পিল কেন খাওয়ালে?
-কারন সে বুঝতেই চাচ্ছিলো না যে আপনি মানুষ হিসেবে কত খারাপ।লাস্ট পর্যন্ত উপায় না পেয়ে এই কাজ কররে হলো। কি করবো বলেন,বোনকে তো এমন অপাত্রের হাতে তুলে দিতে পারিনা।
শুভর মাথা ঘুরছে এটা ভেবে এই মেয়ে কখন না জানি শুভকে কত্তগুলা স্লিপিং পিল খাইয়ে দেয়।
মিলি শুভর দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসি দিচ্ছে আর তা দেখে শুভ বললো
-আর কি শয়তানি করা বাকি আছে? সেগুলা করে ফেলো।
-স্যার আসলে আপনার জন্য মায়া হচ্ছে, কত আশা করেছিলেন আজ আপনার বাসররাত হবে আপুর সাথে।আহারে স্যার মায়া হচ্ছে।
-মিলি তুমি ঠিক চাও টা কি? আর এমন কেনো করলে?
-স্যার আপনি তো জানেন আমি মিথ্যা বলি না, আসলে আপনি খারাপ মানুষ আর আমি এটা জেনে শুনে আমার বোনকে আপনার সাথে কিভাবে বিয়ে দেয় বলুন?
-তো নিজে করলে কেন?আমি খারাপ মানুষ।
-আপনার বাবা রিকুয়েস্ট করছে যেন আপনাকে ভালো মানুষ বানিয়ে দিয়ে যায় তাই আর শ্বশুর আংকেল এর কথা ফেলতে পারিনি।
-মিলি এইটা কি কথা? শ্বশুর আংকেল আবার কি?
-সে আগে ছিলো আংকেল পরে হলো শ্বশুর তাই শ্বশুর আংকেল।
-তুমি মানসিক ভাবে অসুস্থ।অসহ্য লাগছে সব আমার মিলি।
এই কথা বলে শুভ রুম থেকে বের হয়ে যায়।মিলি শুভ আসবে ভেবে বসে ছিলো কিন্তু শুভ আসেনি। মিলি তো এবার ভয় পেয়ে গেছে এমনি বেচারি জ্বিন আছে এ বাসায় মনে করছে।মিলি তার ফোন থেকে শুভ কে কল দেয় অনেকবার কিন্তু রিসিভ হচ্ছে না। মিলি উপায় না দেখে ফেইসবুকে খুঁজ নেয় শুভ এক্টিভ কিনা।শুভ কে অনলাইন দেখে ম্যাসেজ দেয় মিলি " প্লিজ স্যার রুমে আসেন।"
১০ মিঃ পর উত্তর না পেয়ে আবার ম্যাসেজ দেয় "প্লিজ শুভ রুমে আসেন।"
শুভর ফোন সাইলেন্ট মুড এ ছিলো তাই সে আর খেয়াল করেনি প্রায় ১ ঘন্টা পর শুভ যখন ফোন টা হাতে নিলো দেখলো ১ টা নাম্বার থেকে অনেকগুলো ফোন, অনেক রাত বলে শুভ আর কল ব্যাক করেনি। শুভ ডাটা কানেকশন অফ করবে এমন সময় একটা ম্যাসেজ দেখে আর, সেটা মিলির ম্যাসেজ।
শুভ অবাক হয়ে আছে! কিভাবে মিলি তার বন্ধু তালিকায় আসতে পারে। এমন একটা পাগল মেয়ে তার সাথে এড কিভাবে থাকতে পারে সে ভাবছে।
ম্যাসেজ দেখে শুভ রুম এ গিয়ে দেখে মিলি ঘুমাচ্ছে।
মিলির ঘুম থেকে শুভ ভাবছে এই পাগলী মনে হয় আমার বলা জ্বিন এর গল্প শুনে ভয় পেয়ে আমাকে কল আর ম্যাসেজ দিয়েছে,আমাকে এত্ত জ্বালাচ্ছে তার একটু জ্বলার দরকার আছে।
শুভ নিজের অজান্তেই মিলির দিকে তাকিয়ে আছে
কি আশ্চর্য ঘুমের মধ্যে মিলির মুখটা কত পবিত্র লাগছে আর কত মায়াবতী মনে হচ্ছে।
শুভ খেয়াল করলো যে নাম্বার থেকে মিলি কল দিয়েছে এটা থেকে মাঝেমধ্যে কল আসতো। শুভর স্পষ্ট মনে আছে কেউ একজন কল দিয়ে আর কথা বলতো না।
এইটা তাহলে মিলি ছিলো তা ক্লিয়ার হলো শুভর কাছে।
ঠিক তখনি শুভ মিলির ফেইসবুক প্রোফাইল যায়।
শুভ তার প্রোফাইল এ গিয়ে চুপ হয়ে আছে, এই সে মিলি যে এখন তার বেড এ ঘুমাচ্ছে।
মিলি খুব ভালো গল্প লিখে আর তার প্রত্যেক টা গল্প শুভ পড়েছে।মিলির গল্প পড়ে কেউ বুঝতেই পারবেনা সে এই পাগলী যে তার বোনকে স্লিপিং পিল খাইয়েছে।
মিলি একটা রহস্যময় মেয়ে যার রহস্যভেদ করা সহজ না।
মিলি পুরো খাট নিয়ে শুয়ে আছে, শুভ তাই ছুফায় বসেই ঘুমিয়ে গেছে।
ফজর এর আজান দিতেই শুভ উঠে নামাজ পড়লো আর সেটা মিলি চোখ খুলে দেখছে কিন্তু বুঝতে দেয়নি শুভকে ।
শুভ এবার একটা বই পড়তে বসে গেলো আর তখন মিলি উঠে সোজা চলে গেলো শুভর বাবার রুমে।
গিয়েই তার রুম থেকে তাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বললো
-শ্বশুর আংকেল আপনি আমার সাথে এইটা কি করলেন??
-কি করলাম মা?
-আপনি জেনে শুনে আমাকে এই ভুতুড়ে বাড়িতে নিয়ে আসছেন।
-কি বলো এসব মা? আমাদের বাসা ভুতুড়ে কেন হবে?
-স্যার সব বলে দিছে, আপনার বাবা তো জ্বিন পোষাত।
-মা শুভ এসব বলছে? আরে পাগলী মেয়ে তোমাকে সে বোকা বানিয়েছে।
-কি বললেন আপনি শ্বশুর আংকেল। এত্ত দিন তো সে আমাকে মিথ্যাবাদী বলতো এখন সে নিজে কি করলো।
শুভর বাবা মিলিকে বললো তুমি শান্ত হও।আজকে আর কিছু করো না আপাতত চুপ থাকো পরে এর প্রতিশোধ নিও।
এরপর মিলির শাশুড়ি এসে মিলিকে বললো আজ মিলিকে রান্না করে খাওয়াতে হবে।
চলবে.... ইনশাআল্লাহ পাখিরা টা টা 👋