ফন্ট সাইজ:
থিম:
নির্বাসিত চোখের কাজলছায়া

পর্ব 2

লেখক: নাজিফা বিনতে নাছির

*উপন্যাস : নির্বাসিত চোখের কাজলছায়া*
*২য় পর্ব
---
মধ্যাহ্নের সূর্য তখন মধ্য গগনে অবস্থান করছে। তার প্রখর, অথচ স্নিগ্ধ কিরণমালা উঠানের মৃত্তিকার উপর এসে পড়েছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছ সদ্য পাক করা অন্নের ধূম্রগন্ধ, ডালে ফোড়ন দেওয়ার তীব্র সৌরভ, আর ভাজা মৎস্যের মনোহর ঘ্রাণ মিশ্রিত এক চিরপরিচিত, ক্ষুধাবর্ধক আবহ।
উঠানের মধ্যস্থলে একটা প্রাচীন, জীর্ণ কাষ্ঠপীঠ পাতা রয়েছে। তার চতুর্দিকে পরিবারের সকলে উপবিষ্ট। মধ্যস্থলে একটা বৃহৎ পাত্রে ধূমায়িত অন্ন।
ইতি উপবিষ্ট। তার আচরণে কোনো কৃত্রিম লজ্জা নেই, কোনো ন্যাকামি নেই, মুখ ফুলিয়ে বসে থাকার কোনো প্রবণতা নেই। সে বসে আছে মেরুদণ্ড সোজা করে, দৃষ্টিতে দৃঢ়তা, অধরে চাপা কৌতুকের আভাস নিয়ে।
তিথি তার পার্শ্বে উপবিষ্ট। তার নয়নে কৌতূহল, ওষ্ঠে চাপা হাসি।
-------------------
ঠিক সেই মুহূর্তে উঠানে একটা গম্ভীর, অথচ সুরেলা কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
*চমৎকারুন্নেছা বাতাসি বেগম।*
নামটা দীর্ঘ, গাম্ভীর্যপূর্ণ, অথচ তার অন্তরালে রয়েছে এক অদ্ভুত কৌতুক। গ্রামের লোকজন বলে, ওনার কথা বাতাসের গতির চেয়েও দ্রুত ধাবিত হয়। বাতাস পরে আসে, কথা আগে পৌঁছে যায়। এইজন্যই সকলে ওনাকে ডাকে — বাতাসি বেগম।
দাদি উঠানে ঢুকেই আঞ্চলিক টানে বললেন —
_"ওডা, এই বাড়িত কেউ বাঁচি আছে না? নাকি বেক্কুন ঘুম গেইয়্যি? আই তো আইয়েরে দেখির, বাড়ি একদম ঠাণ্ডা হই গেইয়্যি।"_
তিথি হাসতে হাসতে বললো —
"দাদি, আমরা আছি তো।"
দাদি — _"থাকিলে তো ভালা। আই তো মনে করছি, বেক্কুনে পলাই গেইয়্যি। তিথি, তোর বোইন কই? বেয়ান্নে তুন ওর গলা ন শুনির। ও চুপ থাকা মানে তো ঝড় আইবার আগের নীরবতা।"_
তিথি — "দাদি, আপু চুপ না, আপু গবেষণা করতেছে।"
দাদি — _"কিয়ের গবেষণা? আবার কোন নতুন কাণ্ড ঘটাইছে?"_
তিথি — "আরে, যেই ছেলেটা ৬ বছর পর আসছে, ওইটাকে নিয়ে।"
----------------
দাদির কথা শেষ হইতে না হইতেই অপর প্রান্ত থেকে আরেকটা ভারী কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।
*হাবিব।*
গ্রামের সকলে ওনাকে ডাকে *হাবলু হাবিব*।
ছোটবেলায় তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল। একবার একটা ছাগলকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, "তুই ঘাস খাস কেন? ভাত খাইতে পারস না?" — সেই থেকে গ্রামের লোকজন ওনাকে হাবলু ডাকা শুরু করেছে।
আর এখন? এখন তিনি গ্রামের সবচেয়ে বিচক্ষণ, চতুর, দূরদর্শী মানুষ। গ্রামের যত শালিশ, বিবাদ, মীমাংসা — সব ওনার কাছেই আসে।
হাবিব দাদা এসে আঞ্চলিক ভাষায় বললেন —
_"বাতাসি, তুঁই আবার শুরু করছস? বেয়ান্নে বেয়ান্নে এত জোরে কথা কওস কা? গেরামের মানুষে মনে করবো, আরাঁর বাড়িত মাইক লাগাইছি।"_
বাতাসি বেগম — _"আই জোরে কথা কই? তুঁই তো ছোডবেলায় ছাগলর লগে কথা কইতা। আই তাও মানুষর লগে কথা কই।"_
দাদা — _"ছাগলর লগে কথা কওন খারাপ কিছু না। ছাগলে অন্তত তর্ক করে না। মানুষে তর্ক করে।"_
দাদি — _"ওইদিন তুঁই ছাগলরে জিগাইছিলা, তুঁই দুধ দস না কা? ছাগলে তো আর কথা কয় না। তুঁই রাগ করি ছাগলর সামনে বই থাকছিলা ৩ ঘণ্টা।"_
--------------
ঠিক সেই মুহূর্তে নাহিয়ান এলো।
তার আগমনটা ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক, নির্লিপ্ত, কোনো প্রকার আড়ম্বর ছাড়া। হাতে একটা গামছা, মুখমণ্ডলে প্রশান্তি, দৃষ্টিতে নির্বিকার ঔদাসীন্য।
সে এসে দাদা-দাদিকে সালাম দিয়ে বললো —
"দাদা, দাদি, আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন?"
বাতাসি বেগম আঞ্চলিক টানে বললেন —
_"ওয়ালাইকুম আসসালাম। তুঁই তো দেখি ডাঙর হই গেইয়্যিস। ৬ বছর আগে যেত্তে গেইছিলি, এত্তে তো প্যান্ট পিন্দতি আঁটু পর্যন্ত। অহন দেখির ফুল প্যান্ট পিন্দছস।"_
নাহিয়ান হাসতে হাসতে বললো —
"দাদি, ৬ বছরে মানুষ বড় হয়, প্যান্টও বড় হয়। এইটা স্বাভাবিক।"
হাবিব দাদা এবার গম্ভীরভাবে, আঞ্চলিক ভাষায় বললেন —
_"তা নাহিয়ান, তুঁই ৬ বছর ঢাকাত কি করলি, একটু খুলি ক তো। গেরামের বেক্কুনে জানতো চায়।"_
সকলে এবার নীরব হয়ে গেলো।
নাহিয়ান ধীরে ধীরে, একদম স্বাভাবিকভাবে বললো —
"দাদা, আমি যখন ঢাকায় গেছিলাম, তখন আমার বয়স ছিল কম। পড়াশোনার জন্য গেছিলাম। প্রথমে কলেজে ভর্তি হইছি, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছি। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর একটা অফিসে চাকরি করছি।"
দাদি — _"কি চাকরি?"_
নাহিয়ান — "একটা অফিসে হিসাবের কাজ করতাম দাদি। সকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস, রাতে অফিস থেকে এসে ঘুম। মাঝখানে জ্যামে বসে থাকতাম। আমার জীবনটা ছিল জ্যাম আর অফিসের মাঝখানে আটকায় থাকা।"
দাদা — _"জ্যামত বই কি করতি?"_
নাহিয়ান — "চিন্তা করতাম, এই জ্যাম কখন ছাড়বে। আর এখন চিন্তা করতেছি, আমি ঢাকা ছেড়ে কেন আগে আসলাম না।"
বাতাসি বেগম — _"ঢাকা ছাড়ি আইলি কা?"_
নাহিয়ান — "দুইটা কারণে দাদি। এক — ঢাকায় আপনার হাতের রান্না পাওয়া যায় না। ঢাকায় সব পাওয়া যায়, শুধু আপনার হাতের ডাল পাওয়া যায় না। দুই — অফিসের কাজ করতে করতে আমি বুঝছি, টাকা দিয়ে সব কেনা যায়, কিন্তু গ্রামের এই শান্তি কেনা যায় না। এইজন্য কিছুদিনের জন্য চলে আসলাম।"
হাবিব দাদা খুশি হয়ে বললেন —
_"বাহ! তুঁই তো দেখি অনেক বুদ্ধিমান হই গেইয়্যিস। ৬ বছর আগে তুঁই আছিলি একদম চঞ্চল, অহন দেখির অনেক বুঝদার হই গেইয়্যিস।"_
নাহিয়ান — "দাদা, আমি চঞ্চল এখনো আছি। খালি চঞ্চলতাটা এখন একটু ভদ্র হয়ে গেছে।"
বাতাসি বেগম — _"ভদ্র হইলে তো ভালা। তোর দাদার মতো ছাগলর লগে কথা কওন শুরু করিস না, তাইলে হইছে।"_
দাদা — _"বাতাসি, তুঁই আবার আর নামে বদনাম করর? আই তো গবেষণা করতাম।"_
-----
ততক্ষণে ইতি সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
ইতি একদম মুখের উপর বললো —
"দাদি, তুমি ওর কথায় ভুলতেছো। ও সকাল থেকে খালি মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতেছে।"
নাহিয়ান — "আমি মিষ্টি কথা বলি নাই। আমি সত্যি কথা বলছি।"
ইতি — "সত্যি কথা? তাইলে দোষটা কার?"
নাহিয়ান — "দোষটা দালানের। দালানটা এত চিকন কেন? দুইজন মানুষ একসাথে হাঁটা যায় না। দালান বানানোর সময় কেউ ভাবে নাই, একদিন দুইজন মানুষ একসাথে হাঁটবে?"
তিথি হাসতে হাসতে বললো —
"দাদা, দেখছো? দোষ এখন দালানের ঘাড়ে চলে গেছে।"
হাবিব দাদা শালিশের ভঙ্গিতে, আঞ্চলিক ভাষায় বললেন —
_"আচ্ছা, আই শালিশ করির। এই বাড়ির শালিশ আই করি। গেরামের শালিশও আই করি। আর রায় হইলো — দালান দোষী। দালানরে ভাঙি ডাঙর করি বানাইতে হইবো।"_
বাতাসি বেগম — _"হাবলু, তুঁই আবার শুরু করছস? দালান ভাঙবি কা? দালানে কি কথা কইতে পারে?"_
দাদা — _"দালানে কথা কইতে পারে না, কিন্তু দালানর লাই ঝগড়া হইছে। তাই দালানই দোষী।"_
ইতি এবার হাসতে হাসতে বললো —
"দাদা, তুমি তো দেখি একদম ঠিক বিচার করছো। দালানকে শাস্তি দাও।"
নাহিয়ান — "দালানকে শাস্তি দিলে কী হবে?"
ইতি — "আপনি সব কথায় কথা বলেন কেন?"
নাহিয়ান — "আমার মুখে কথা আসে, আমি বলি। আপনার মুখে কথা আসে, আপনি চিন্তা করেন, তারপর বলেন। এইটাই পার্থক্য।"
৬. তিথির নিয়ম
তিথি এবার দুই হাত তুলে বললো —
"থামো, থামো! আমি একটা কথা বলি। তোমরা দুইজন যদি এভাবে ঝগড়া করতে থাকো, তাইলে এই বাড়িতে শান্তি থাকবে না।"
বাতাসি বেগম — _"কি নিয়ম?"_
তিথি — "নিয়ম হইলো, দিনে ৩ বারের বেশি ঝগড়া করা যাবে না। এর বেশি ঝগড়া করলে জরিমানা দিতে হবে।"
ইতি — "জরিমানা কত?"
তিথি — "জরিমানা হইলো, যে বেশি ঝগড়া করবে, সে অন্যজনকে চা বানায় খাওয়াবে।"
ইতি আর নাহিয়ান একসাথে বললো —
"আমি চা বানাইতে পারি না!"
আর এই একসাথে কথা বলাটা শুনে বাতাসি বেগম আর হাবলু হাবিব দুইজনই হাসতে হাসতে একে অপরের দিকে তাকালেন।
বাতাসি বেগম আঞ্চলিক ভাষায় বললেন —
_"দেখছস হাবলু? যারা একলগে কথা কয়, তারা শেষ পর্যন্ত একলগেই থাকে। আরাঁরও তো এইভাবেই শুরু হইছিলো।"_
হাবিব দাদা — _"হ, ঠিক কইছস বাতাসি। আই তোরে বাতাসি ডাকতাম, তুঁই আরে হাবলু ডাকতি। অহন গেরামের বেক্কুনে আরাঁরে এই নামেই চিনে।"_
---

***********************************************🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️🕊️

[বিকেলের মায়াবী আলো তখন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছে। পার্কের এক কোণে ঝিউলি গাছের দীর্ঘ ছায়া পড়ে চারপাশটা কেমন একটা রহস্যময় আবডালে ঢাকা পড়ে গেছে। হেমন্তের হালকা ঠান্ডা হাওয়া গাছের পাতাগুলোকে আলতো নাড়া দিয়ে যেন কী এক অদৃশ্য ফিসফিসানি তুলে যাচ্ছে।
​ঠিক সেই পরিবেশের মাঝেই পার্কের একটি কাঠের বেঞ্চে বসে আছে সে। পরনে নিখুঁত কালো রঙের একটি সুতির আবায়া আর মুখটা সুনিপুণভাবে নিকাবে ঢাকা। তবে কাপড়ের আড়াল ভেদ করেও তার অবয়ব থেকে এক অনন্য স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ছে। সে তখন তার ছোট বোনের সঙ্গে বেশ হালকা সুরে নিচু গলায় কোনো একটা বিষয়ে কথা বলছিল। কথার ফাঁকে তার খেয়ালী দৃষ্টি যখনই চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তার সেই অনাবৃত জোড়া চোখের মায়ায় থমকে যাচ্ছিল পার্কের ব্যস্ত বাতাসও।
​মেয়েটির চোখ দুটো ছিল প্রকৃতির এক অদ্ভুত এবং নিখুঁত শিল্পকর্ম। কালো আর গাঢ় বাদামির এমন এক দুর্লভ ও মোহনীয় সংমিশ্রণ, যা এক পলক দেখলে হৃদস্পন্দন অনায়াসেই কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে যেতে পারে। কাজলরেখায় ঘেরা চোখ দুটি যেমন বড়, তেমনি তার গভীরতা ছিল অতল সমুদ্রের মতো রহস্যময়। চোখের পাতার প্রতিটি পলক ফেলার ভঙ্গিটিতেও যেন একটা রাজকীয় আভিজাত্য লুকিয়ে ছিল। সেই চোখের তারার দিকে তাকালে মনে হতো, সেখানে জমে আছে কোনো অপার্থিব বিষণ্ণতা কিংবা অবর্ণনীয় কোনো মুগ্ধতা। আলো পড়লে সেই গাঢ় বাদামি মণিগুলো কেমন যেন এক অদ্ভুত আলোয় ঝিলমিল করে উঠত, যা যেকোনো মানুষকে নিমেষেই মোহগ্রস্ত করে ফেলতে পারে। মনে হচ্ছিল, সৃষ্টিকর্তা বুঝি তার সমস্ত যত্ন আর নিখুঁত শিল্পবোধ দিয়ে কেবল ওই চোখের মায়াতেই সাজিয়েছেন এই পৃথিবীকে।
​আর ঠিক সেখান থেকে কিছুটা দূরে, একটা পুরোনো মেহগনি গাছের আড়ালে ছায়াচ্ছন্ন পরিবেশে দাঁড়িয়ে ছিল সে। মানুষটার উপস্থিতি মাত্রই চারপাশের বাতাসে কেমন যেন এক ভারী ও থমথমে নীরবতা নেমে এসেছে। তার পরনে একদম এ টু জেড গভীর কালো রঙের ওভারকোট আর ইম্পোর্টেড গ্যাবার্ডিন প্যান্ট; পোশাকের নিখুঁত কাটছাঁট আর তার শীতল ভঙ্গিই বুঝিয়ে দিচ্ছিল সাধারণ কোনো ভিড়ের মাঝে সে মিশে নেই। তার মুখমণ্ডল ঢাকা একটি গাঢ় কালো মাস্কে, যার ওপর দিয়ে দৃশ্যমান রয়েছে কেবল তার একজোড়া চোখ। সেই চোখগুলোর রং ছিল জমাট বাঁধা গভীর নীল—শীতের রাতের হিমেল আকাশের মতো বরফশীতল, অথচ অদ্ভুত রকমের সম্মোহনী।
​সেই নীল চোখের দৃষ্টিতে ছিল না কোনো অস্থিরতা, ছিল না কোনো পলক ফেলার তাড়া। সে সম্পূর্ণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে এক পলকে তাকিয়ে ছিল ওই নিকাব পরিহিতা মায়াবিনীর দিকে। তার দৃষ্টির গভীরতায় লুকিয়ে ছিল এমন এক ঠান্ডা ও তীক্ষ্ণ কর্তৃত্ব, যা যেকোনো সাধারণ মানুষকে চোখের পলকে শিউরে তুলতে বাধ্য। তার প্রতিটি অঙ্গভঙ্গিতে ছিল ত মেরুর এই দুই মানুষের উপস্থিতিতে পার্কের বাতাস তখন থমকে ছিল। কে সেই মানুষটি? কেন তার এই তীক্ষ্ণ নজর আটকে গেল ওই সাধারণ অথচ মায়াবী চোখের ওপর? তার সেই বরফশীতল নীল চোখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অভিপ্রায় কি তবে কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস? কুয়াশাঘেরা সেই গোধূলিলগ্নে প্রশ্নগুলো বাতাসে মিলিয়ে গেল, আর উত্তরটা হারিয়ে রইল কেবল সেই রহস্যময় চাহনির গভীরে]।(৩য় পর্বের খন্ডাংশ)
--------

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন