ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমিই আমার হৃদয়হরণী

১৪তম পর্ব

লেখক: আশু

#তুমিই_আমার_হৃদয়হরণী পর্ব-১৪

#লেখিকা_আশু

রাত গভীর।

বিয়ে বাড়ি মানেই ঘুম হারাম, চারদিকে হইহুল্লোড় আর আনন্দের মেলা। গায়ে হলুদের জমজমাট নাচগান তখনো সবার চোখে লেগে আছে। হিয়া আর শাওনের সেই মিষ্টি পারফরম্যান্সের পর আসর যেন আরও জমে উঠেছিল।

হিয়া স্টেজ থেকে নেমেই ইমার হাত ধরে টানতে টানতে বলল, "অনেক হয়েছে দর্শকদের সিটে বসে হাততালি দেওয়া! এবার ভাইয়া আর আমাদের মিষ্টি ইমুর একটা ডান্স না দেখলে আসরই ভাঙবে না!"

শাওনও ওপাশ থেকে আরিমানকে ধাক্কা দিয়ে স্টেজের দিকে ঠেলে দিল, "যান আরিমান ভাই! ইতালি গিয়ে তো রোমান্স করা ভুলে গেছেন, আজ দেশের মাটিতে একটু হাত-পা নাড়িয়েই ফেলুন!"

ইমা আর আরিমান দুজনেই প্রথমে বেশ থতমত খেয়ে গিয়েছিল। আরিমান তো নিজের চেনা রাশভারী মুখটা গম্ভীর করে বলল, "শাওন, লিমিট ক্রস করিস না। আমি স্টেজে নাচব?"

কিন্তু ইমা যখন ওর বাসন্তী শাড়ির কুচিটা আলতো করে ধরে আড়চোখে আরিমানের দিকে তাকাল, তখন আরিমানের ভেতরের সেই 'কড়া ডন' যেন এক সেকেন্ডে পানি হয়ে গেল। ও আর না করতে পারল না।

শাওন আর হিয়া জোর করে ওদের দুজনকে স্টেজের ঠিক মাঝখানে দাঁড় করিয়ে দিল। ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন মৃদু সুরে বাজতে শুরু করল এক চমৎকার রোমান্টিক বাংলা গান।

চারদিকের আলো কিছুটা কমতেই স্পটলাইট এসে পড়ল ওদের দুজনের ওপর। ইমা কিছুটা লাজুক হেসে আরিমানের দিকে তাকাল। আরিমান আর এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে ইমার পাতলা কোমরটা নিজের শক্ত এক হাতের বেড়াজালে আগলে নিল। অন্য হাত দিয়ে ইমার নরম হাতটা মুঠোয় পুরে নিল।

ওদের এই অনবদ্য কেমিস্ট্রি দেখে পুরো হলরুমে শিস আর হাততালির ঝড় উঠল। ইমা যখন গানের তালে তালে আলতো করে ঘুরছিল, ওর শাড়ির আঁচলটা আরিমানের পাঞ্জাবির বোতামে গিয়ে আটকে গেল। আরিমান পা না থামিয়েই খুব সাবধানে নিজের বাম হাত দিয়ে সেই আঁচলটা ছাড়িয়ে নিল এবং ইমাকে নিজের বুকের আরও কাছে টেনে নিল। ইমা জোরে শ্বাস ফেলে আরিমানের কলারের কাছে নিজের মুখটা রাখল। আরিমানের চোখ দুটোতে তখন শুধু ইমাকে পাওয়ার এক আদিম তৃষ্ণা আর গভীর ভালোবাসা স্পষ্ট ফুটে উঠছিল। পুরো চার-পাঁচ মিনিটের সেই নাচের পারফরম্যান্সে মনে হচ্ছিল যেন পুরো পৃথিবী থেমে গেছে, শুধু ওরা দুজন একে অপরের হৃদস্পন্দন শুনছে।

নাচ শেষ হতেই সবাই যখন হাততালিতে ফেটে পড়ল, তখন এক কোণে দাঁড়িয়ে তৃষা রাগে, হিংসায় তেলেবেগুনে জ্বলে খাক হচ্ছিল। ও মনে মনে ভাবল, "ইমা তুই এত সুখে থাকবি?আর আমি ধ্বংসে থাকব? এটা আমি হতে দেব না!"

তৃষা খুব ভালো করেই জানত, নাচ শেষ করে ইমারা যখন দোতলার চেঞ্জিং রুমের দিকে যাবে, তখন সিঁড়ি দিয়ে নামতে হবে। ও এই সুযোগটা হাতছাড়া করল না। ও চুপিচুপি রান্নাঘরের দিকে গিয়ে একটা বাটিতে সর্ষের তেল নিয়ে এলো। সিঁড়ির শেষ তিনটে ধাপের ওপর অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তেলটা ঢেলে দিল তৃষা। ওর কুৎসিত প্ল্যান বা পরিকল্পনা ছিল, ইমা যেন সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পা পিছলে পড়ে যায় এবং ওর পা-টা যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

নিজের কুৎসিত কাজ শেষ করে তৃষা এক কোণে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, শিকারের অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পর ইমা হিয়ার সাথে হাসতে হাসতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিল। ও নিজের শাড়িটা একহাতে একটু উঁচুতে ধরে সাবধানেই নামছিল, কিন্তু তেলের চটচটে ভাবটা ওর নজরে আসেনি। ঠিক শেষের তিন নম্বর ধাপে পা রাখতেই ইমার পা-টা সজোরে পিছলে গেল!

ইমা আতঙ্কে চোখ বন্ধ করে এক তীব্র চিৎকার দিতে চাইল। ও নিশ্চিত ছিল আজ ওর হাড্ডিগোড্ডি একটাও আস্ত থাকবে না।

কিন্তু ঠিক তখনই যেন এক জীবন্ত দূত এসে হাজির হলো। আরিমান ইমার ঠিক পেছনেই আসছিল। ইমাকে ওভাবে পড়ে যেতে দেখেই ও এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশে নিজের দীর্ঘ হাত বাড়িয়ে ইমার হাতটা এক হ্যাঁচকা টানে নিজের দিকে টেনে নিল। টানটা এতটাই তীব্র ছিল যে ইমা সরাসরি এসে আছড়ে পড়ল আরিমানের সেই শক্ত, চওড়া বুকের ওপর। আরিমান অন্য হাত দিয়ে ইমার কোমরটা শক্ত করে চেপে ধরে ওকে একদম শূন্যে ঝুলিয়ে ফেলল।

ইমা বুক ধড়ফড় করে চোখ খুলে আরিমানের দিকে তাকাল। আরিমানের বুকটাও তখন রাগে আর আশঙ্কায় কাঁপছে। ইমা যদি আর এক ইঞ্চি ওপাশে পড়ত, তবে ওর পা-টা নির্ঘাত ভেঙে যেত!

নিজের কাজ সফল করতে না পেরে দূর থেকে তৃষা

রাগে দাঁত কিড়মিড় করতে করতে গজগজ করে ওখান থেকে চলে গেল। ও মনে মনে ভাবল, "এই আরিমান সিকদার সবসময় ওর ঢাল হয়ে দাঁড়ায় কেন!"

এদিকে আরিমান ইমাকে সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিয়ে নিজের কড়া চোখের চশমাটা খুলে পকেটে রাখল। অত্যন্ত রাগী ও গম্ভীর গলায় ধমক দিয়ে বলল, "সাবধানে চলতে পারিস না? সবসময় তোকে ধরার জন্য এই আরিমান সিকদার বসে নেই!"

ইমা এতক্ষণে নিজের ভয়টা কাটিয়ে উঠেছে। ও আরিমানের থেকে নিজেকে একটু দূরে সরিয়ে নিয়ে কোমরে হাত দিয়ে জেদি গলায় বলল, "আপনাকে তো আমি ধরতে বলিইনি মিস্টার সিকদার! আমি কি ডেকেছিলাম আপনাকে? আপনিই যেচে এসে ধরেছেন!"

বলেই ইমা আর এক মুহূর্ত দাঁড়াল না। ও শাড়ির কুচিটা টেনে ধরে গটগট করে ওখান থেকে চলে গেল।

আরিমান ইমার যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে দাঁত চেপে নিজের মনেই বিড়বিড় করে বলল, "বেশ বাড় বেড়েছে মেয়েটার! এখানে এসে যেন ডানা গজিয়েছে!"

রাত তখন প্রায় দুটো।

বিয়ে বাড়ি মানেই তো ঘুম বলতে কিছু নেই। চারিদিকে তখনো আত্মীয়স্বজনদের হাসাহাসি আর আড্ডা চলছে। ইমা নিজের মায়ের সাথে বেশ কিছুক্ষণ গল্প করে নিজের রুমের দিকে ফিরছিল। করিডোরের মাঝখানে আসতেই হঠাৎ মুখোমুখি দেখা হয়ে গেল তৃষার সাথে।

ইমা তৃষাকে দেখেই এক্কেবারে ইগনোর করে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইল। কিন্তু তৃষা ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে এক কুৎসিত হাসি দিয়ে বলল, "কী রে ইমা? সুখেই তো আছিস দেখছি! এত ভাব দেখানোর কী দরকার?"

ইমা হালকা একটু হাসল। ওর চোখে তখন এক শান্ত গভীরতা। ও বলল, "সবই খোদার দয়া, আপু।"

তৃষা একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল, "হ্যাঁ, তবে তোকে এত খুশি দেখে ভালোই লাগছে। তুই তো ইদানীং বেশ ভালোই উড়ছিস।"

ইমা সোজা তৃষার চোখের দিকে তাকাল। "সত্যি বলছ আপু? আমার খুশি দেখে তোমার ভালো লাগছে?"

তৃষা এবার চরম অপ্রস্তুত হয়ে এদিক-ওদিক তাকিয়ে আমতা আমতা করে বলল, "দেখ ইমা... আরিমান ভাইকে পুরোনো কিছু বলিস না প্লিজ। আমি জানি তুই বলবি না, তুই তো এমন মেয়ে নোস। তবুও..."

ইমা হাত তুলে তৃষাকে মাঝপথেই থামিয়ে দিল। ওর কণ্ঠস্বর এবার কিছুটা ভারী আর গম্ভীর হয়ে উঠল।

"থাক আপু, আর বলতে হবে না," ইমা এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল। "তোমার কথা ভেবে ভেবে, তোমার ভালো চেয়ে আমি নিজের জীবনের মূল্যবান চারটে বছর নষ্ট করলাম! অথচ তোমার একটুও মায়া হলো না আমার জন্য? কোনোদিন একটা বারও এসে বললে না—'বোন, আমার ভুল হয়েছে, আমাকে ক্ষমা করিস।' বা এটাও বললে না—'চিন্তা করিস না ইমু, সব ঠিক হয়ে যাবে।' উল্টো তুমি মাত্র এক বছরের মাথায় ধুমধাম করে বিয়ে করে নিলে! নিজের নতুন সংসার সাজিয়ে নিলে! কত স্বার্থপর তুমি, আপু!"

তৃষা একদম চুপ হয়ে মাথা নিচু করে রইল। ওর মুখে কোনো উত্তর ছিল না।ইমা আবার বলল, "তুমি দয়া করে আমার সামনে এসো না, আপু। তোমাকে দেখলে আমার বারবার মনে হয় আমি বুঝি আরিমানকে খুন করেছি! নিজের ভালোবাসাকে নিজ হাতে বলি দিয়েছি শুধু তোমার জন্য।"

তৃষা এবার অস্ফুটস্বরে আর কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, "প্লিজ ইমা... আরিমান ভাইকে কিছু বলিস না। ও জানলে আমার সংসারটা ভেঙে যাবে।"

"কী বলবে না ইমা?"

হঠাৎ পেছন থেকে এক বজ্রকণ্ঠের আওয়াজ ভেসে এল। ইমা আর তৃষা দুজনেই চমকে উঠে পেছনে তাকাল। দেখল করিডোরের অন্ধকারে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আরিমান। ওর হাতে একটা জ্বলন্ত সিগারেট, আর চোখ দুটো অন্ধকারে বাঘের মতো জ্বলছে।

তৃষা ভয়ে একদম ফ্যাকাসে হয়ে গেল। ও কাঁপতে কাঁপতে ইমার দিকে তাকাল। ইমা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তৃষাকে চোখের ইশারায় ওখান থেকে সরে যেতে বলল। তৃষা আর এক সেকেন্ডও না দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে সেখান থেকে পালিয়ে গেল।

আরিমান যখন তৃষাকে আটকানোর জন্য পা বাড়াতে যাবে, ঠিক তখনই ইমা এক লাফে দৌড়ে এসে আরিমানের শক্ত হাতটা নিজের দুহাতে চেপে ধরল। ও একদম আদুরে গলায়, চোখ বড় বড় করে বলল, "বেইবি! চলুন না, ঘুমাবো।"

আরিমান নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারল না! ও এক ঝটকায় থমকে দাঁড়িয়ে নিজের কানটা ইমার মুখের দিকে এগিয়ে নিয়ে বলল, "কী? কী বললি তুই?"

ইমা আরিমানের হাতটা নিজের বুকের সাথে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মিষ্টি করে হেসে বলল, "বললাম, চলুন রুমে যাই। অনেক রাত হয়েছে তো!"

আরিমান ওর কড়া চোখ দুটো ছোট ছোট করে ইমার দিকে তাকিয়ে বলল, "আগে তুই কী বললি, সেটা বল। তুই আমায় 'বেইবি' ডাকলি?"

ইমা একটু হেসে বলল, "এতো শোনার শখ? রুমে চলুন না, সেখানে গিয়ে বলব... মানে ঘুমাবো চলুন।"

আরিমান নিজের হাতটা ইমার বাঁধন থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে গম্ভীর গলায় বলল, "আমার কিছু শোনার দরকার নেই। তুই সর এখান থেকে।"

ইমা এবার আরিমানকে আরও বেশি চেপে ধরল। ও আরিমানের খুব কাছে গিয়ে ওর পাঞ্জাবিরর বোতামে আঙুল বোলাতে বোলাতে বলল, "আজকে আপনাকে যা লাগছে না! এত হট কেন আপনি বলুন তো?"

আরিমান এবার থতমত খেয়ে জোরে জোরে কাশতে শুরু করল। ও মনে মনে ভাবল, "এই মেয়ে কি সত্যি পাগল হয়ে গেল নাকি? নাকি বাপের বাড়িতে এসে কোনো উল্টোপাল্টা কিছু খেয়েছে?"

ইমা এবার একটু সাহস বাড়িয়ে নিজের নরম হাতটা আরিমানের চুলের ভেতর বিলি কেটে দিয়ে বলল, "আপনার চুলগুলো কিন্তু ভীষণ সুন্দর!"

আরিমান ভ্রু কুঁচকে, অবিশ্বাস্য চোখে তাকিয়ে বলল, "আজকে তোর মনে হলো আমার চুল সুন্দর? এতদিন তো আমায় জল্লাদ ডাকতিস!"

ইমা ফিক করে হেসে হাতটা নামিয়ে নিয়ে বলল, "উহু! এখন মনে হলো। এখন আপনাকে এত হ্যান্ডসাম লাগছে কেন বলুন তো?"

আরিমান এবার বুঝল, এই মেয়ে নির্ঘাত ওকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আর তৃষাকে বাঁচানোর জন্য এই নাটকটা করছে। ও এক ঝটকায় ইমার কোমর ধরে ওকে নিজের কোলে তুলে নিল। ইমা ভয়ে আরিমানের গলা জড়িয়ে ধরল।আরিমান ইমার কানের কাছে মুখ এনে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, "কারণ আমি জানি তুই কার থেকে বাঁচতে এই নাটক করিস। আমি এখনো আমার উত্তর পাইনি, ইমা। আমি কিন্তু পুরোনো কোনো কথা ভুলি না।"

ঠিক তখনই সেই করিডোর দিয়ে পানির গ্লাস হাতে যাচ্ছিল শাওন। ও ওদের দুজনকে ওভাবে রোমান্টিক পজিশনে কোলাকুলি অবস্থায় দেখে থতমত খেয়ে গেল। ও চোখ বন্ধ করে উল্টো ঘুরে দৌড়ে পালাতে গিয়ে সোজা সামনের ইটের দেয়ালে "ধড়াম" করে এক কড়া ধাক্কা খেল! ধাক্কাটা এতটাই জোরে ছিল যে শাওন ওখানেই চিৎপটাং হয়ে ফ্লোরে পড়ে গেল।

ইমা আর আরিমান দুজনেই চরম থতমত খেয়ে ইমাকে কোল থেকে নামিয়ে দিল। ওরা দৌড়ে শাওনের কাছে গেল। গিয়ে দেখল শাওন ততক্ষণে চোখ উল্টে জ্ঞান হারিয়েছে!

কিছুক্ষণ পর।

হলরুমের সোফায় শাওনকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। ওর কপালে আর মাথায় বরফের পোটলা ধরে বসে আছে ইরফান। শাওনের কপালের ঠিক মাঝখানটা ফুলে একদম আলুর মতো হয়ে গেছে!

শাওন আধো-বোজা চোখে গোঙাচ্ছিল, "ভাইরে... আমার কপালটা কি বাসর ঘরের দেয়াল গিয়ে লেগেছিল? এত শক্ত কেন!"

এই দৃশ্য দেখে ইমা সোফার এক কোণে দাঁড়িয়ে নিজের মুখ চেপে হাসছিল। বেচারা শাওন! রোমান্স দেখতে গিয়ে নিজের মাথাটাই আলুর মতো বানিয়ে ফেলল। ইমা নিজের হাসি আর কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তাড়াতাড়ি নিজের রুমের দিকে চলে গেল। ও হাসতে হাসতে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল।

পরদিন সকাল।

জানালার পর্দা চিরে সকালের মিষ্টি রোদ এসে পড়েছে বিছানার ওপর। ইমা ঘুমের ঘোরে আস্তে আস্তে চোখ খুলল। চোখ খুলেই ও এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। ও দেখল ও আরিমানের চওড়া বুকের ওপর এক হাত দিয়ে পরম শান্তিতে শুয়ে আছে। আরিমানের এক হাত ইমার কোমরের ওপর জড়ানো। ইমা ঘুমের ঘোরে আবার চোখ বন্ধ করে ফেলল।। কখন যে রাতের ডিস্টেন্স বা দূরত্ব ঘুচে গিয়ে ওরা একে অপরের এত কাছাকাছি চলে এসেছে, তা ওরা নিজেরাও জানে না।

ঠিক তখনই আরিমানেরও ঘুম ভাঙল। ও চোখ খুলে ইমাকে নিজের বুকে ওভাবে শুয়ে থাকতে দেখে একটু শক্ খেল। কিন্তু ও নিজের হাতটা সরাল না। আরিমান ইমার মুখের ওপর এসে পড়া এলোমেলো চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিল। ওর কড়া চোখ দুটোতে তখন এক মায়াবী আকুলতা।

আরিমান ইমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল, "প্রত্যেকটা সকাল কি এমন হতে পারত না, ইমু? কেন তুই আমার থেকে দূরে গেলি? কেন আমার জীবনটা এভাবে শেষ করে দিলি? তুই চলে যাওয়ার পর আমি যে একদম শূন্য হয়ে গেলাম, ইমু।"

ঠিক তখনই ইমার ঘুমটা পুরোপুরি ভেঙে গেল। ও আরিমানের এই আবেগঘন কথাগুলো শুনতে পেল না। দুজনের চোখাচোখি হতেই, দুজনেই তড়াক গতিতে একে অপরের থেকে দূরে সরে বিছানার দু-প্রান্তে চলে গেল।

ইমা নিজের ওড়নাটা টেনে নিয়ে রেগে বলল, "আপনি... আপনি আমার ঘুমের সুযোগ নিচ্ছিলেন?"

আরিমান এক ঝটকায় উঠে বসে নিজের শার্টের কলার ঠিক করে বলল, "আমার বয়েই গেছে ভাই! তোর মতো ডাইনির সুযোগ নেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই। বল তুই সুযোগ নিচ্ছিলি এই মাসুম ছেলেটার!"

ইমা ঠোঁট উল্টে মুখ ভেঙচে বলল, "আপনি মাসুম? যে লোকটা দিনে কয়েকটা করে খুন করে, সে নাকি মাসুম! নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখেছেন?"

আরিমান কথা না বাড়িয়ে ইমার দিকে একটা রাগি লুক দিয়ে ওয়াসরুমের দিকে এগিয়ে গেল।

সকালের সেই "ডাইনি" আর "মাসুম ছেলে"র ঝগড়াটা ওখানেই থামেনি। ওটা ছিল জাস্ট ট্রেলার, আসল সিনেমা শুরু হলো ব্রেকফাস্টের টেবিলে।

বিয়ের দিন সকাল মানেই চারদিকে হইচই, তার ওপর ইরফানের শ্বশুরবাড়ি থেকে গাদা গাদা মিষ্টি আর পরোটা এসেছে। ইমা তখন প্লেটে একটা বড় সাইজের পরোটা আর খাসির মাংস নিয়ে আরাম করে বসেছে, ঠিক তখনই আরিমান গটগট করে এসে ওর ঠিক সামনের চেয়ারটায় বসল। ওর পরনে কালো টি-শার্ট, চুলগুলো এখনো কিছুটা ভেজা।

আরিমান টেবিলে বসেই ইমার প্লেটের দিকে একটা কড়া লুক দিয়ে বলল, "সকাল সকাল এত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তোর মতো ওজনের মেয়ের তো আরও সাবধানে খাওয়া উচিত।"

ইমা মুখের পরোটার টুকরোটা গিলতে গিলতে থমকে গেল। ও আরিমানের দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে বলল, "আমার ওজন নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে কে বলেছে মিস্টার সিকদার? আমি ডাইনি তো, তাই চর্বি খেলেও আমার কিছু হবে না। আপনি বরং নিজের চিন্তা করুন, বুড়ো বয়সে খাসির মাংস খেলে প্রেশার হাই হয়ে যেতে পারে!"

"বুড়ো বয়স?" আরিমান হাতের চায়ের কাপটা টেবিল ঠাস করে নামিয়ে রাখল। টেবিলে থাকা চামচগুলো টুং করে কেঁপে উঠল। "ইমা, তুই আমায় বুড়ো বললি?"

"মিথ্যা বলেছি?" ইমা এবার আরও এক টুকরো মাংস মুখে পুরে বেশ আয়েশ করে চিবোতে চিবোতে বলল,

"যে লোক সারাক্ষণ কপালে তিনটে ভাঁজ ফেলে হিটলারের মতো ঘুরে বেড়ায়, তাকে যুবক বলবে কোন পাগল? শাওন ভাইয়া তো ঠিকই বলে, আপনি আসলে একটা আস্ত প্রাচীন রোমান ভাস্কর্য—শক্ত আর পুরনো!"

পাশ থেকে শাওন তখন মাথায় বরফের পোটলা ধরে কোনোরকমে বসে লিকুইড স্যুপ খাচ্ছিল। দেয়ালের ধাক্কায় ওর কপালটা এখনো লাল হয়ে ফুলে আছে। ও আরিমান আর ইমার এই বাকযুদ্ধ দেখে ফিসফিস করে ইরফানকে বলল, "ভাইরে, আমার তো মনে হচ্ছে ইরফান ভাইয়ের বাসর ঘরের আগে আরিমান ভাইয়ের এই ডাইনিং টেবিলে যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হবে। আমি বরং প্লেট নিয়ে অন্য ঘরে যাই, কখন আবার চামচ উড়ে এসে আমার কপালে লাগে!"

ইরফান হেসে ফেলে। ও আরিমানকে শান্ত করার জন্য বললেন, "আরে ছাড় তো আরিমান। ও বাচ্চা মেয়ে, খাচ্ছে খাক না।"

"ও বাচ্চা?" আরিমান দাঁত চিবিয়ে বলল, "যে মেয়ে দিনে আটটা গালি হজম করতে পারে আর স্বামীর মুখের ওপর বাপের বাড়ির তোপ দাগতে পারে, সে আর যাই হোক বাচ্চা না। ও একটা আস্ত এটম বোম!"

ইমা এবার প্লেটটা এক ধাক্কায় সরিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। ও আরিমানের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙচে বলল, "হ্যাঁ, আমি এটম বোমই! পারলে ডিফিউজ করে দেখান!" বলেই ও ওখান থেকে হনহন করে চলে গেল।

আরিমান স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। শাওন এবার স্যুপের চামচটা মুখে দিয়ে বলল, "বস, ভাবি কিন্তু ওয়ান জিরো তে লিড নিচ্ছে। ইতালির ডন এখন ঢাকার জামাই বাবু!" আরিমান শাওনের দিকে এমন একটা খুনে চাউনি দিল যে শাওন সাথে সাথে স্যুপের বাটিতে মুখ গুঁজে দিল।

দুপুর গড়াতেই বিয়ে বাড়ির আসল হুল্লোড় শুরু হয়ে গেল। গায়ে হলুদের পর আজ হলো মেইন বিয়ের অনুষ্ঠান। ইরফানকে বরের সাজে সাজানো হচ্ছে ওদিকের একটা রুমে, আর এদিকে ইমা নিজের ঘরে হিয়ার সাথে মিলে রেডি হচ্ছিল।

আজ ইমা পরেছে একটা গাঢ় লাল রঙের ঢাকাই জামদানি। ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, কপালে ছোট একটা লাল টিপ আর খোঁপায় জড়ানো তাজা বেলি ফুলের মালা। গয়না বলতে একদম হালকা সোনার চেইন আর কানে ছোট ঝুমকো। ও যখন পুরোপুরি রেডি হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াল, হিয়া ওটার দিকে তাকিয়ে নিজের গালে হাত দিল।

"উফ ইমু! তোকে যা লাগছে না আজ! আমার নিজেরই তো তোর প্রেমে পড়ে যেতে ইচ্ছে করছে। ভাইয়া আজ নির্ঘাত হার্ট অ্যাটাক করবে!" হিয়া চোখ টিপে বলল।

ইমা আয়নায় নিজের লাল লিপস্টিকটা একটু ঠিক করতে করতে মনে মনে ভাবল, "করুক হার্ট অ্যাটাক! সকালে কত বড় ধমকটা দিল আমাকে!"

এদিকে আরিমান যখন ওপরের করিডোর দিয়ে নামছিল, ও জাস্ট একটা সাদা পাজামা আর ওপরে রয়েল ব্লু কালারের একটা সিল্কের কটন পাঞ্জাবি পরেছিল। পাঞ্জাবির হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গোটানো। ও নামার সময় হুট করেই ইমার ঘরের দরজাটা খুলে গেল। ইমা আর হিয়া হাসতে হাসতে ঘর থেকে বের হচ্ছিল।

আরিমানের চোখ দুটো ইমার ওপর গিয়ে পড়তেই ও যেখানে ছিল সেখানেই জমে গেল। ওর পায়ের জুতো জোড়া যেন মেঝের সাথে আঠা দিয়ে আটকে গেল। লাল শাড়িতে ইমাকে জাস্ট কোনো অপ্সরার মতো লাগছিল। ফর্সা ঘাড়ের ওপর বেলি ফুলের সাদা মালাটা এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করেছে। আরিমান নিজের অজান্তেই একটা শুকনো ঢোক গিলল। ওর বুকের ভেতর একটা তীব্র তোলপাড় শুরু হয়ে গেল, কিন্তু ও মুখে কোনোভাবেই সেটা প্রকাশ করতে চাইল না। ও নিজের স্বভাবসুলভ গম্ভীর মুখ করে ইমার সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

ইমা আরিমানকে দেখে একটু থমকে গেল। রয়েল ব্লু পাঞ্জাবিতে এই লোকটাকে যে কতটা মারাত্মক হ্যান্ডসাম লাগছে, তা ও নিজেও অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু সকালের ঝগড়ার জেদ তো এখনো কমেনি!

আরিমান ইমার আপাদমস্তক একবার দেখে নিয়ে একটু খিটখিটে গলায় বলল, "লাল শাড়ি পরেছিস কেন? তোকে তো একদম মরিচ বাতির মতো লাগছে। আর এই লিপস্টিকের কালার এত কড়া কেন? দূর থেকে মনে হচ্ছে কেউ রক্ত চুষে খেয়েছে!"

ইমা রেগে আগুন হয়ে গেল। এত সুন্দর একটা সাজকে এই লোকটা মরিচ বাতি আর রক্তচোষা বলল! ও আরিমানের একদম কাছাকাছি এসে, ওর পাঞ্জাবির একটা বোতাম শক্ত করে চেপে ধরে বলল, "হুম, আমি তো রক্তচোষাই! আর প্রথম রক্তটা কার খাবো জানেন? আপনার! ওই রয়েল ব্লু পাঞ্জাবি পরে নিজেকে তো একদম নীলতিমি ভাবছেন, তাই না? যান, আমার সামনে থেকে সরুন!"

ইমা এক ঝটকায় আরিমানকে ধাক্কা দিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে গেল।

বিয়ের আসরে তখন চূড়ান্ত গ্যাঞ্জাম। বরযাত্রী আসার পর পরিবর্তে যাওয়ার জন্য গেট ধরার পর্ব শুরু হয়েছে। ইমা, হিয়া আর বাড়ির বাকি মেয়েরা মিলে মেইন গেটে ফিতে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ওদিকে বরের বন্ধুবান্ধব আর শাওন মিলে গেট পার হওয়ার চেষ্টা করছে।

শাওন কপালে ব্যান্ডেজ নিয়ে গেটের সামনে এসে বলল, "দেখুন ভাবি সাহেবানরা, আমার অলরেডি একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে। দয়া করে বেশি টাকা চাবেন না, আমার মেডিকেলের খরচ আছে!" তারউপর বউয়ের বাড়ির গেইটের টাকাও তোহ্ দিতে হবে"একটু ছাড় দিন"

হিয়া হেসে উঠে বলল, "কোনো ছাড় নেই শাওন ! ইরফান ভাইকে নিতে হলে পুরো ৫০ হাজার টাকা গুনতে হবে। এক টাকা কম হলেও গেট খুলবে না!"

"৫০ হাজার!" শাওন আকাশ থেকে পড়ল। "তোরা কি গেট ধরেছিস নাকি টোল প্লাজা খুলেছিস?"

ঠিক তখনই পেছন থেকে আরিমান ধীর পায়ে হেঁটে গেটের সামনে এসে দাঁড়াল। ও পকেটে হাত দিয়ে ইমার দিকে তাকাল। ইমা তখন খুব অহংকার নিয়ে গেটের ফিতেটা ধরে দাঁড়িয়ে আরিমানকে চ্যালেঞ্জিং লুকে দেখছিল।

আরিমান ওর পকেট থেকে একটা বেশ মোটা টাকার বান্ডিল বের করল। চকচকে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল। ওটা দেখে হিয়া আর বাকি মেয়েদের চোখ তো চকচক করে উঠল।

আরিমান বান্ডিলটা ইমার সামনে ধরে ঠান্ডা গলায় বলল, "টাকাটা নে আর গেট ছাড়।"

ইমা টাকার বান্ডিলটার দিকে একবার তাকিয়ে মুখ বাঁকাল। "উহু, এত সহজে হবে না মিস্টার সিকদার। টাকাটা আপনাকে নিজের হাতে আমার কাছে দিতে হবে, আর সাথে বলতে হবে—'দয়া করে গেটটা খুলুন ম্যাডাম'।"

আরিমান ইমার এই চরম ধৃষ্টতা দেখে চোখ দুটো সরু করল। ও এক বিশাল মাফিয়া গ্যাংস্টারের লিডার, ও কাউকে 'দয়া করে' বলবে? আরিমান ইমার আরও এক কদম কাছে এগিয়ে এলো। ওদের মাঝের দূরত্ব তখন এতটাই কম যে ইমা আরিমানের গায়ের সেই কড়া পারফিউমের গন্ধ পাচ্ছিল।

আরিমান ইমার কানের কাছে ঝুঁকে এসে একদম ফিসফিস করে, কিন্তু এক তীব্র পজেসিভ গলায় বলল, "গেটটা যদি এখন না খুলিস ইমা, তাহলে সবার সামনে তোকে কোলে তুলে নিয়ে আমি ভেতরে যাব। তখন কিন্তু তোর এই ঢাকাই জামদানির মান-সম্মান আর থাকবে না। চয়েস ইজ ইয়োরস।"

আরিমানের এই মারাত্মক আর ফানি হুমকিতে ইমা এক সেকেন্ডে সোজা হয়ে গেল। ও খুব ভালো করেই জানে, এই লোকটা যা বলে তা সত্যিই করতে পারে। এর কোনো ঠিক নেই! ইমা তাড়াতাড়ি হিয়ার হাত থেকে ফিতেটা কেড়ে নিয়ে গেটটা ছেড়ে দিল এবং আরিমানের হাত থেকে এক ঝটকায় টাকার বান্ডিলটা কেড়ে নিয়ে বলল, "নিন, যান! আস্ত একটা গুন্ডা!"

শাওন আর ইরফান হেসে কুটিকুটি। শাওন বলল, "বাহ! ডন ভাইয়ের ডনগিরি গেটেও কাজে লেগে গেল!"

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে রাত প্রায় একটা বেজে গেল। ইরফান আর ওনার নতুন বউকে বাসর ঘরে পাঠানো হয়েছে। বাড়ির বাকি সবাই তখন ক্লান্ত হয়ে যে যার রুমে চলে গেছে। পুরো বাড়িটা আস্তে আস্তে নিঝুম হয়ে আসছিল।আরিমান ওপরের করিডোর দিয়ে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ও দেখল তৃষা সিঁড়ির কোণে একলা দাঁড়িয়ে একটা জলের গ্লাস হাতে নিয়ে কাঁপছে। ওনার চোখ-মুখ পুরো ফ্যাকাশে। আসলে কাল রাতে ইমা যেভাবে ওকে সুবিধাবাদী আর স্বার্থপর বলেছিল, তারপর থেকে তৃষার মনের ভেতর এক তীব্র অপরাধবোধ আর ভয় কাজ করছিল। ও খুব ভালো করেই জানত, ইমা যদি আজ মুখ খোলে, তবে আরিমান সিকদার ওকে এই দুনিয়া থেকে গায়েব করে দিতেও দুবার ভাববে না।

আরিমান ধীর কিন্তু অত্যন্ত দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে গেল। ওর পাঞ্জাবির হাতা দুটো তখনো গোটানো, আর চোখ দুটোতে এক অদ্ভুত, বরফশীতল গাম্ভীর্য। ও তৃষার এক্কেবারে সামনে গিয়ে দাঁড়াল। করিডোরের মৃদু আলোয় আরিমানের অবয়বটা কোনো এক মৃত্যুদূতের মতো দেখাচ্ছিল।

তৃষা আচমকা আরিমানকে সামনে দেখে চমকে উঠল। ওর হাতের জলের গ্লাসটা কেঁপে উঠল। ও আমতা আমতা করে বলল, "আরিমান... আরিমান ভাই... আপনি এখানে?"

আরিমান কোনো ভূমিকা করল না। ও পকেটে দুহাত পুরে, অত্যন্ত নিচু কিন্তু এক ভয়ংকর তীক্ষ্ণ গলায় সরাসরি তৃষাকে জিজ্ঞেস করল, "আপনার জন্যই কি ইমা আমাকে চার বছর আগে রিজেক্ট করেছিল, মিসেস তৃষা রায়হান?

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন