#শ্যামকন্যা
#পর্ব_৪
#ছুরাইয়া_আক্তার
শ্যামা সিয়ামের হাত ধরে টুকটাক কথা বলতে বলতে বাসায় এসে দেখে তার মা উঠান ঝাড়ু দিচ্ছে। তার মা এখনো তাকে খেয়াল করে নি তাই শ্যামা সিয়ামকে ইশারায় চুপ করে থাকতে বলতেই,নিশি বলে ওঠে,
কীরে শ্যামা এতসময় কই ছিলি?
নিশির কথা শুনে শ্যামা নিশির দিকে তাকিয়ে দেখে সে বারান্দায় বসে আচার খাচ্ছে এবার শ্যামা নিশির থেকে চোখ সরিয়ে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে ভয়ে ঢোক গিললো। শ্যামা মাথা নিচু করে ঘরের দিকে যেতে নিলেই তাঁরা বেগম হাতের ঝাড়ু দিয়েই শ্যামাকে মারতে থাকে এবং গালাগালি করতে থাকে,শ্যামা কয়েকটা ঝাটার বারি খেয়ে দৌড়ে ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। তাঁরা বেগম রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে চেয়েছি বললেন,
হারামজাদি আর কখনো যদি স্কুল থেকে দেরিতে বাড়ি ফিরিস তখন দেখিস তোর হাল কী করি।
তাঁরা বেগম শ্যামাকে বোকতে বোকতে গোয়াল ঘরের দিকে চলে যায়।এতক্ষণ চাঁদ বেগমের সাথে শ্যামার বড় ফুবুও বারান্দায় বসে দেখছিলেন সব এবং নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলো।
এদিকে শ্যামা হাতের লম্বা চিকন ফোলা দাগ গুলো দেখছে আর ফুপিয়ে কাঁদছে, সলার ঝাঁটা হওয়ায় বারিগুলো গায়ে বেশ লেগেছে শ্যামার। শ্যামা কাঁদতে কাঁদতে এক সময় ঘুমিয়ে যায়। শ্যামার ঘুমানোর কিছুক্ষণের মাঝেই তাঁরা বেগম দরজা ধাক্কাতে থাকে।
কীরে শ্যামা দরজা খোল বলছি, নয়তো
খারাব হয়ে যাবে কিন্তু,,,
তাঁরা বেগমের ডাকাডাকির মাঝেই শ্যামার ফুবু জুই হাজির হন। তিনি চিন্তিত হয়ে বললেন,
কী হয়েছে ভাবি এমনে চেচামেচি করছেন কেন?
শ্যামা ভিতর থেকে দরজা আটকাই দিছে তাই দরজা খুলতে ওরে ডাকছিলামা আপা।
তাঁরা বেগমের কথা শুনে জুই ইসলাম অস্থির হয়ে বলেন,
ছি ছি এ কেমন শিক্ষা দিছেন মাইয়ারে, মায়ের হাতে কয়েকটা বারি খেয়েই দরজা আটকাই বইসা আছে, শশুড় বাড়িতে গেলে এই অভ্যাস থাকলে দুইদিনেই তো ওর স্বামী তালাক দিয়ে বাপের বাড়ি পাঠায় দিবে, আমার মাই,,,,,
তাঁরা বেগম জুইকে আর কিছু বলতে না দিয়েই বললেন,
আপা আমার মাইয়ার ওই রকম কোনো আভ্যাস নাই।ছোটবেলা থেকে শ্যামা মাইর খাইলে বা ব্যাথা পাইলে কাঁনতে কাঁনতে ঘুমাই যায়।এখন নিশ্চিত ঘুমাই আছে দয়া করে আমার মেয়েরে নিয়া বাজে কথা বলবেন না।
জুই ইসলাম এবার বিরক্ত নিয়ে বলে,
হ সত্য কইলে তো অমন কথা কইবাই আর আপনারে তো কিছুই কওন যায় না এমনি কী আপনারে আমার ভাল লাগে না।
জুই আরো কিছু কটু কথা বলতে বলতে চাঁদ বেগমের ঘরের দিকে চলে যায় আর পিছনে ফেলে যায় এক অসহায় নারীকে যে তার সর্বস্ব দিয়ে তাদের মন জয় করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ।
তাঁরা বেগম দু-তিনবার ডাক দিতেই শ্যামা ঢুলতে ঢুলতে এসে দরজা খুলে দিয়ে আবার ঢুলতে ঢুলতেই বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পরে।
তাঁরা বেগম দরজায় দাড়িয়ে মেয়ের কান্ড দেখে আনমনে হেসে দেয়।তিনি ঘরে ঢুকে কাপড় নিয়ে গোসল করতে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর গোসল করে এসে মেয়ের পাশে বসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে,
আমার শ্যামকন্যা কী ভাত খাবে না হুম?
তাঁরা বেগমের কথার কোনো জবার দেয় না শ্যামা চুপ করে চোখ বন্ধ করে থাকে, মায়ের ডাকাডাকিতে সেই যে ঘুম ভাঙ্গছে তার আর ঘুম ধরে নি। তাকে চুপ করে থাকতে দেখে তারা বেগম ফের বললেন,
মায়ের উপর রেগে আছিস সোনা আর কখনো মারবো না ওঠ এবার স্কুলের জামা ছেড়ে অন্য জামা পরে আয় আমি খাইয়ে দিবো তাড়াতাড়ি ওঠ।
এবার শ্যামা সোয়া থেকে উঠে বসে ধরা গলায় বলে,
তুমি সবসময় বলো আর মারবো না আর কখনো মারবো না, পরে ঠিকি আমাকে মারো।দেখো দেখো আমার হাতটা কী হইসে ।
বলেই শ্যামা হাতটা এগিয়ে দেখালো
তাঁরা বেগম হাত থেকে দৃষ্টি সরিয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলে,
মার খাওয়ার কাজ না করলেই তো আমি আর মারি না, তুই কেন মার খাওয়ার কাজগুলো বেশি করে করিস। তুই জানিস তোর বাপে আজ কত রাগারাগি করছে।
"সরি মা আর কখনো এমন হবে না, মাফ করে দাও আর কখনো দেরি করবো না আর আব্বার কাছেও বকা খাওয়াবো না তোমায়।
শ্যামা কথাগুলা বলতে বলতেই তার মাকে জরিয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে বলে,
তুমি আর রেগে নেই তো মা, তুমি রেগে থাকলে আমার বেশ কষ্ট হয়।
তাঁরা বেগম শ্যামার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে হেসে বলে,
তোরা তো আমার তারায় ভরা আকাশের মাঝে দুটো চাঁদ যাদের মাঝেই আমার সব সুখ আবদ্ধ। তোদের ওপর কখনো বেশিসময় রাগ করে থাকতে পারি না আমি বল?
শ্যামা মায়ের বুক থেকে মাথা তুলে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,
হুম, চাঁদ দুটো আমি ও বড় আপা আর তারাগুলো সব দুঃখ তোমার তাই না মা?
তাঁরা বেগম মলিন হেসে বলে,
তেমন কিছু না, যা তুই পরিষ্কার হয়ে আয় আমি খাবার আনছি।
বলে তাঁরা বেগম দ্রুত চলে যায় ঘর ছেড়ে বলতে গেলে এক প্রকার পালিয়ে যায়।শ্যামা মায়ের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকেই বিরবির করে বলে,
আমি জানি মা তারাগুলো সব তোমার দুঃখ, জানো মা আমারও আকাশ ভরা তারার মাঝে একটি চাঁদ আছে সেই চাঁদটা তুমি। শ্যামকন্যাদের আকাশটায় বুঝি তারাদের থাকতেই হয়।
আজ শ্যামার ফুবু চলে গেছেন শুধু দুই দিন ছিলেন তিনি।জুই ইসলাম বিদায় হতেই শ্যামা স্বস্তির নিঃস্বাস ফেললো এই ব্যক্তি আসার পর থেকেই কতো বার যে তার আব্বাকে উস্কানি দিয়েছে তার বিয়ে নিয়ে তার ঠিক নেই। সকাল সারে আটটা বাজে এখন, আজ শ্যামাদের স্কুলে পিকনিক। যেহেতু গ্রামের স্কুল আর গ্রামের বাহিরে শিক্ষা সফরে যেতে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীদের পরিবার যেতে দেয় না তাই স্কুলেই পিকনিক আয়োজন করা হয় প্রতিবছর, সাথে স্টেজ সাজিয়ে ছোট খাটো নাচ, গান,আবৃত্তি, নাটক ও লটারির ও আয়োজন করা হয়। শ্যামা তেমন পিকনিকে অংশগ্রহন করে না হাইস্কুলে উঠে একবার সিক্সে ও এইটে পিকনিকে অংশগ্রহণ করেছিলে আর করে নি এবার সিফাতের জোরাজোরিতে রাজি হয়েছে এবং সিফাতেই শ্যামার পিকনিকের ফী জমা দিয়েছে,,,
তাঁরা বেগম ঘর থেকে বের হতেই শ্যামার মলিন মুখ দেখে বলে,
কী হয়েছে শ্যামা এই ভাবে বসে আছিস কেন বারান্দায়?
শ্যামা মায়ের দিকে তাকিয়ে মলিন হেসে বলে ,
মা দেখো নিশিরে কতো সুন্দর লাগছে শাড়ি পড়ায় আর কত সুন্দর করে সেজেছে।
তাঁরা বেগম নিশির দিকে তাকিয়ে বলে,
ও তো সব সময়ই সুন্দর এ আর নতুন কী।
মা আমারে একটা শাড়ি কিনে দিবা?
"আমার কাছে কী টাকা আছে তোর বাপেরে বলিস।
শ্যামা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলে,
বলছিলাম আব্বারে বলছিলো আজ এনে দিবে কিন্তু আব্বায় আনে নাই তার নাকি মনে ছিলো না আমি এখন কী পড়ে যাবো পিকনিকে মা?
তাঁরা বেগম মেয়ের মলিন চেহারার দিকে চেয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,
পিকনিকের টাকা তো আমার কাছে চাস নি তোর আব্বায় দিছে?
শ্যামা দুদিকে মাথা নাড়িয়ে না বলে,
সিফাত ভাই দিছে, মা আমি কিন্তু চাই নাই সে নিজেই দিছে।
তাঁরা বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
তোকে বলছি না সিফাতের সাথে তেমন মিশবি না গ্রামে একবার জানাজানি হলে কিন্তু সর্বনাশ হয়ে যাবে। আর বলেছি না তোকে সিফাতের সাথে কথা হয়েছে আমার সে কোনো চাকরি পেলেই তোদের নিজ দায়িত্বে বিয়ে দিয়ে দিবো কিন্তু এখন দূরে দূরেই থাক।
শ্যামা মায়ের কথা শুনে ধীর কন্ঠে বলল,
জানিতো মা আর সিফাত ভাইও এখন, প্রতিদিন দেখা করে না সপ্তাহে একদিন কী দুইদিন দেখা করে।
তখনি তাঁরা বেগম খেয়াল করলেন নুরুল ইসলাম বাড়িতে ঢুকলেন তাই তিনি উচ্চ স্বরে বলে ওঠে,
ও নুরের আব্বা একটু শুনেন তো
শ্যামা ভ্রু কুচকে বলে,
মা আব্বারে ডাকো কেন?
"দরকার আছে।
নুরুল ইসলাম বারান্দার সামনে এসে বলে,
কী হইছে?
শ্যামা নাকি আপনারে শাড়ি আনতে বলছিলো তা তো আনেন নি এখন মাইয়াডা পিকনিকে কি পোইরা জাইবো,
নুরুল ইসলাম বিরক্ত হয়ে বলে,
আমি কেমনে জানমু কী পরবো না পরবো,
আপনার জানতে হবে না শাড়ি কেনার টাকা দেন,,
এখন আমার কাছে টাকা নাই পরে নিও।
এর মধ্যে চাঁদ বেগম ডাকতে থাকেন নুরুল ইসলামকে তিনি যেতে নিলেই শ্যামা বলে,
আব্বা আমারে অন্তত বিশটা টাকা দিয়া যান।
নুরুল ইসলাম পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে আবার চলে যায়।তিনি চলে যেতেই শ্যামা বলে ওঠে,
মা খালা কী সবসময় আব্বার উপর নজর রাখে আব্বারে তোমার বা আমার সাথে দেখলেই ভ্যা ভ্যা করে ডাকতেই থাকে
তাঁরা বেগম মুচকি হেসে বলেন,
ধুর,এক কাজ কর সিতা মাসির কাছে যা সে তোর সব ব্যবস্থা করে দিবে।
শ্যামা মাথা নেড়ে দ্রুত পায়ে চললো সিতা মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে।
সত্যি সত্যি সিতা দেবীই সব ব্যবস্থা করে দিলেন, তার একটি সাদা পাড়ের লাল শাড়ি শ্যামকে পড়িয়ে দেয় কিন্তু ব্লাউজ খুজতে গিয়ে ঝামেলায় পরতে হয়েছে সিতা দেবীর। তিনি বেশ স্বাস্থবতী আর শ্যামা বেশি মোটাও না আবার বেশি পাতলাও না।পরে সতি দেবীর ছোট বোন শিখার ব্লাউজ এবং পাশের বাড়ির আখির কাছ থেকে নিয়ে এসেছে। শিখার ব্লাউজ পরে সামনের বোতামগুলো লাগাতে গিয়ে শ্যামার জিবন যায় যায় আবস্থা বেশি টাইট হওয়া সেটা বাদ দিয়ে আখির ব্লাউজ পরে শ্যামার মুখ ফেকাসে হয়ে যায় কারণ এটা ঢোলা তবে পরে সিতা দেবী এই সমস্যা সমাধান করেন সিক্টিপিন দিয়ে।
অবশেষে শ্যামাকে পুরোপুরি ভাবে রেডি করে দেন সিতা দেবী।
শ্যামা বাসায় এসে তার মায়ের কাছে গিয়ে বলে,
মা কেমন লাগছে আমায়,
তাঁরা বেগম শ্যামাকে একবার দেখে বললেন ,
মোটামুটি ।
শ্যামা আর কিছু না বলেই বাসা থেকে বের হয়ে যায় স্কুলের উদ্দেশ্যে আর ভাবতে থাকে,
এই মা না ভালো করে আমার প্রসংশা করতে পরে না। আমাকে যখন সিফাত দেখবে তখন সে আমার থেকে চোখ সরাতে পারবে না।
হঠাৎ তার ভাবনার মাঝে কারো কন্ঠ নিজের নাম শুনে থেমে যায় পিছন ফিরে দেখে চাঁদ বেগম দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজন প্রতিবেশি মহিলার সাথে।
কীরে শ্যামা দেখি দেখি এদিকে আয়।
শ্যামা চুপচাপ এগিয়ে গেলো,
জি খালা কিছু বলবেন?
মহিলা মুচকি হেসে বলে ওঠে,
বাহ্ শ্যামা তোকে তো দারুন লাগছে তবে মেকআপ বেশি হয়ে গেছে একটু মুছে নিস।
তখনি চাঁদ বেগম তাচ্ছিল্যের সুরে বলেন,
কাক যতোই ময়ূর সাজুগ না কেন কাক তো কাক ই থাকে।
তখন পাশ আরেক মহিলা বলে,
তাও ঠিক এই শ্যামাটা ওর মায়ের মতোই হইছে বাপের কোনো ধারাই পায় নাই ওর ভাই বোনগুলা সব ওর বাপের মতোই সুন্দর হইছে,,,,,
শ্যামা তাদের আর কোনো কথা না শুনে চুপ চাপ আবার স্কুলের পথে রওনা দেয় পিছন থেকে ওর বার বার ডাকছিলো কিন্তু শ্যামা আর পিছন ফিরে নি। ঠোঁট কামড়ে সব কথা শুনছিলো আর কিছুক্ষন থাকলে ওদের সামনে ওখানেই কেঁদে দিতো। কান্নার কারণে ইতিমধ্যে চোখের কাজল লেপ্টে গেছে। শ্যামা স্কুলে এসে ক্লাসে ব্যাগ রাখতে গিয়ে শেফার সাথে দেখা হয়। শেফা তাকে দেখেও না দেখার মতো করে তার নতুন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে থাকে। শেফার এমন কাজে শ্যামা মোটেই অবাক হয় নি প্রায় কয়েক মাস থেকে এমন করে শেফা। শ্যামাকে যেনো গুরুত্বই দেয় না। শ্যামা নিজে থেকেই শেফার কাছে য়ায় শ্যামা কিছু বলতে নিবে তখনি শেফা হাসতে থাকে শ্যামাকে দেখে শেফার নতুন বন্ধু মানে নিশির ফ্রেন্ড গ্রুপের সকলেই শেফার সাথে পাল্লা দিয়ে হাসতে থাকে এতে শ্যামা বেশ অস্তিত্বে পড়ে,
শ্যামাও হালকা হেসে বলে,
তোরা হাসছিস কেন শেফা?
শেফা হাসতে হাসতে বলে ,
তোর কী মেকাপ নেই যে মুখে একগাদা আটা মেখে এসেছিস,,,
নিশিও তার সাথে তাল মিলিয়ে বলে ,
আর দেখ শেফা ওর বুঝি কাজল ও নেই তাই তো পাতিলের কালি কাজল হিসেবে ব্যবহার করেছে,,,
শেফা আবার বলে,
আজ শ্যামার এই রুপ দেখে নিশ্চিয় সিফাত ভাই ব্রেকআপ করবে।
নিশি এবং শেফার কথা শুনে আশেপাশে সবাই হা হা করে হাসতে থাকে।
মুহুর্তের মধ্যে শ্যামার সারা মুখে অন্ধকার নেমে আসে, শ্যামার আশেপাশে সকলের প্রতিটা হাসি যেনো তীরের মতো লাগছে তার গায়ে, এভাবে সকলের সামনে উপহাসের সম্মুখীন হতে হবে আগে জানলে কখনো স্কুলে পা দিতো না।
শেফা হাসতে হাসতে বলে,
কাঁদছিস কেন শ্যামা আমরা তো মজা করছি,
শেফার কথা শুনে দ্রুত হাত দিয়ে চোখ মুছতে গিয়ে হাত লেগে পুরো লিপস্টিক ঠোঁটের আসেপাশে ছড়িয়ে যায়।এর ফলে আশেপাশে আবার হাসির রোল পরে যায়।
নিশি হাসি থামিয়ে বলে ওঠে ,
আরে শ্যামা আমাদের আর কতো হাসাবি এবার তো তোকে পুরো জোকারের মতো লাগছে।
এবার শ্যামা শব্দ করেই ডুকরে কেঁদে দিলো,, দুহাতে মুখ ঢেকে দৌড়ে ক্লাস থেকে বের হয়ে মাঠ পেরিয়ে স্কুল থেকে বের হয়ে যায়।ব্যাগ থেকে রুমাল বের করে মুখ ডলতে শুরু করলো।
শ্যামা স্কুল থেকে সোজা নদীর পাড়ে এসেছে।স্কুল থেকে এখানে হেটে আসতে বিশ মিনিটের একটু বেশি সময় লাগে।বেঞ্চ বসে চুপচাপ নদীর ঢেউ গুলোকে দেখছে। এদিকটায় তেমন মানুষের ভীর নেই। আজ যেনো তার মতো আকাশটাও মন খারাব। আজ নদীর ঢেউগুলো অশান্ত ঠিক তার মনের মতো। শ্যামার চোখ দিয়ে বারবার পানি গড়িয়ে পরছে যা শ্যামা রুমাল দিয়ে বারবার মুছছে। হঠাৎ সিফাতের কথা মনে পরে শ্যামার সিফাত তো বলছিলো সে স্কুলের বাহিরে অপেক্ষা করবে এবং বাসায় ফিরার সময় একসাথে ফিরবে।
সিফাত কী আমার অপেক্ষায় আছে নাকি চলে গেছে নিশ্চয়ই চলে গেছে এতক্ষণে তো পিকনিক শেষও হয়ে গেছে।
শ্যামার ভাবনার ব্যাঘাত ঘটিয়ে ঝুম করে বৃষ্টি নেমে পড়ে ধরনীর বুকে।বৃষ্টির প্রতিটি ফোটায় থেকে থেকে কেঁপে উঠছে শ্যামা। বৃষ্টির পানির সাথে তার চোখের জল মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে।
__
আজ পাঁচদিন হয়ে গেলো শ্যামার জ্বর পুরোপুরি ছাড়ে নি। সেদির বৃষ্টিতে ভেজার কারনে রাতেই জ্বর আসে তারপর থেকেই বেহাল অবস্থা শ্যামার। মেয়ের টেনশনে তাঁরা বেগমেরও মনের অবস্থা ভালো না। আজ একটু সুস্থ বোধ করছে শ্যামা তবে শরীর দুর্বলের কারনে বিছানা থেকে উঠে নি এই কয়দিন ধরে সে বিছানায় গাড়াগড়ি খাচ্ছে।
তাঁরা বেগম লবণ সরিষা তেল দিয়ে ভাত মাখিয়ে খাইয়ে শ্যামাকে খাইয়ে দিচ্ছিলেন তখন সিয়াম হাজির হয় ঘরে।সে শ্যামার দিকে তাকিয়ে বলে,
আপা কেমন আছো?
"ভালো রে,,
সিফাত এবার শ্যামার থেকে চোখ সরিয়ে তাঁরা বেগমের দিকে তাকিয়ে খুশি মনে বললো,
বড় মা জানো সিফাত ভাইয়ার কাল বউভাত আব্বাকে দাওয়াত দিছে কী সুন্দর কাটটা দেখতে। তুমি দেখবা?
সিয়ামের কথা শুনে শ্যামার যেনো মাথা ঘুড়ে গেলো,শ্যামা কাঁপা কাঁপা গালায় বললো,
কোন সিফাতের কথা বলছিস সিয়াম,,,,
#চলবে