ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিষন্ন বাসর

অধ্যায় পর্ব 1

লেখক: সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

#বিষন্ন_বাসর
#পর্ব-১+২
#সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

বড় আপার বিয়ের আগের দিন রাতে এক অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দিলেন আব্বা আম্মার কাছে। একই খরচে আমাকেও বিয়ে করতে হবে। যদি রাজি না হয় আম্মা তাহলে যেন এক কাপড়ে বাড়ি থেকে তক্ষুণি বেরিয়ে যায়।আম্মা এদিকে স্বামী অন্ত প্রাণ। স্বামী যদি বলে, রাবেয়া তুমি সারা রাত এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে, আম্মা তাই থাকবে কিন্তু আমি তো আর তা নই।আমি আব্বার সবচেয়ে অবাধ্য সন্তান।তাই আমি আমার নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিয়ে ফেলেছি।আমি গলায় দ'ড়ি দিব। আমার আব্বা এই পৃথিবীর নির্দয় মানুষের মধ্যে অন্যতম একজন।আমাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত এখন নিতো না কিন্তু গতরাতে বড় চাচার মেয়ে পালিয়েছে, তার জন্য ঠিক করা বরের সাথেই আমার বিয়েটা হবে।বড় চাচার মান বাঁচাতে আব্বা নিজের মেয়েকে বিসর্জন দিবে। কথা দিয়ে এসেছে, আর ভদ্র লোকের এক কথা।আমাকে কিছুই জিজ্ঞেস করেনি, করার প্রয়োজন নেই।আব্বার খুব একটা আদরের মেয়ে আমি নই। তাইতো তার সবচেয়ে অপছন্দের লোকের সাথেই আমার বিয়েটা দিবে। লোকটা রাজনীতি করে। তাকে কখনো দেখিনি আমি, যদি আমি ম'রে টরে যাই তাহলে তুমি একটা বার আসিও। তোমার কাছেও তো আমি বেশি ছিলাম তাই না? তোমার হাত ধরে বেরিয়ে যাবো,কিংবা একা একা যাবো তোমার কাছে সেই সাহস আমার নেই। কারণ আমি জানি তুমি আমায় গ্রহণ করবে না। আর শোনো, আমার জন্য আর কারোর কথা শুনে রাত জেগেও কল দিতে হবে না।ভালো থেকো কেমন?
ম্যাসেজটা পাঠিয়ে ফেসবুক আইডি ডিএক্টিভেট করে ফেলল আলবিনা। ফোনটা পাশে রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।আঠারো বছরের জীবনে শান্তি এসেছিল বলে মনে পড়ে না।আব্বার গলা শোনা যাচ্ছে। এদিকেই আসছে, ঘরের দরজা খোলাই আছে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সে বলল,
"নিজের গায়ের চামড়া দিয়ে জুতো বানিয়ে দিলেও বাপ মায়ের ঋণ শোধ হয় না।জানিস তো?"
"হুম জানি।"
"তাই কোনো নাটক না করে বিয়েটা করেনে।আমার বড় ভাইয়ের মান ইজ্জতের ব্যাপার।"
"আমিই কেন আব্বা?সেঝ আপাও তো ছিল?"
"না সেজুতি নরম মেয়ে।আর রাজনীতি যারা করে ওরা নানান কাজে ব্যস্ত থাকে, ওসব সেজুতি নিতে পারবে না।ও র'ক্ত দেখে ভয় পায়।"
"আর আমি?"
"এতো কথার কি দরকার?বিয়ে করলে করবি নাইলে তোর মায়েরে আমি তালাক দিমু।"
"আম্মারে তালাক দিলে দাও,আমার তাতে কি?আমি বিয়ে করবো না।"
অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইল নশের উদ্দীন।ছোটো মেয়েটা মুখে মুখে তর্ক করে, কিন্তু মাকে ভীষণ ভালোবাসে, তাই এই হুমকি দিয়েই বিয়েটা সারতে চেয়েছিল কিন্তু যদি মেয়েটা বেঁকে বসে তাহলে তো বিপদ।মেয়ের সামনে দুর্বল হলে চলবে না।সে মুহুর্তেই বাড়ি মাথায় তুলে নিলো।সবাই এসে আলবিনাকে বুঝাচ্ছে কিন্তু সেও অনড়।বাধ্য হয়ে তালাক শব্দটা মুখে আনলো নশের উদ্দীন। ঠিক সেই মুহুর্তে মেয়ের পায়ের কাছে বসে পড়লো মা।মেয়ের পা ধরে বলতে লাগলো,
"আমার সংসার তুই ভাঙ্গিস না বিনা। আমি মইরা যামু।তোর বাপে আমারে তালাক দিলে আমি কি নিয়া বাঁচমু?তুই আমারে এই দিন দেখাইস না।"
আলবিনা মায়ের দিকে একবার তাকালো।তারপর বাবার দিকে। তাচ্ছিল্যের হাসি বেরিয়ে এলো তার মুখ দিয়ে।সে বাবার সামনাসামনি দাঁড়িয়ে বললো,
"বিয়ে যদি করতেই হয় তবে বলুন ওই মির্জার ব্যাটাকে।এই মুহুর্তে এসে আমাকে এই নরক থেকে নিয়ে যেতে।না হলে কাল ভোর হতে না হতেই আমি গলায় দ'ড়ি দিব।হয় এখন, এই মুহুর্তে বিয়ে না হয় কাল আমার জানা'জা। সিদ্ধান্ত আপনার।"
মেয়ের পা ধরে মা বসে আছে৷ আশেপাশের দুই একজন মা চাচী নানান কথা বলতেছে। যে মা জন্ম দিলো, বড় করলো সেই মায়ের সংসার ভাঙতে বসেছে এই মেয়ে।এমন মেয়ে থাকার থেকে জন্মের সময় লবন খাইয়ে মেরে ফেলাও ভালো।অথচ তার মা কেবল শাড়ির একটা কোণা ধরে আছে।অপবাদ সবটা শুনছে আলবিনা কিন্তু সে জবাব দিচ্ছে না।নশের উদ্দিন ফোন বের করার আগেই গেটের কাছে কয়েকটা মোটর সাইকেল এসে থামার শব্দ হলো।কয়েকটা নয় মনে হচ্ছে প্রায় শ'খানেক মটর সাইকেল এসে থেমেছে। কালো পাঞ্জাবি পরিহিত এক যুবক এসে দাঁড়িয়েছে দরজায়।অন্য সময় হলে নশের উদ্দীন বিরক্ত হয়ে তাকাতো কিন্তু আজ তার চোখে এক লোভ দেখলো আলভিনা।যুবক চুপচাপ তাকিয়ে আছে আলবিনার দিকে। হাত ঘড়ি ঠিক করতে করতে বলল,
"মির্জার ব্যাটা?বেশ ইন্টারেস্টিং নাম তো!"
মুহুর্তেই ঘরের পরিবেশ বদলে গেল। আলবিনার মা উঠে দাঁড়ালো। মেয়েকে হাত ধরে টেনে ভিতরে নিতে চাইলো। কিন্তু মেয়ে নড়ছে না। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবকের জুতোর দিকে তাকালো একবার ভদ্রমহিলা। র'ক্ত! র'ক্ত লেগে আছে।ওদের সব কাজ অজানা নয়। এই নরপি'শাচের হাতে মেয়েকে তুলে দিতে মন কাঁপছে তার। সেঁজুতির দিকে তাকালো একবার।সেঁজুতি যেমন তার মেয়ে আলবিনাও তো মেয়ে। অন্যের মেয়ের করা পাপের ফল তার মেয়ে কেন বইবে? প্রতিবাদ করতে চাইলো কিন্তু ততক্ষণে দেরী হয়ে গেছে।মা বাবার প্রতি এক বুক অভিমান নিয়ে ওই যুবকের দিকে এগিয়ে গেল মেয়েটা।পাশাপাশি সোফায় বসে বলল,
"বিয়ে পড়ান কাজী সাহেব।"
যুবক ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। পাশে বসলো রমনীর।কাজী বিয়ে পড়ানো শুরু করার আগে হাত ইশারায় থামতে বলল। আশেপাশের দুই একজন বলেও ফেলল এসব।
কনেকে কোনো ভাবেই বিয়ের কনে মনে হচ্ছে না।তার পরণে লাল নয় গোলাপি শাড়ি। চুল এলোমেলো হয়ে আছে। খোঁপার ফুলগুলো পড়ে যাচ্ছে একে একে।কোনো প্রসাধনী নেই। অন্তত মাথার একটা ওড়না? এই মেয়েটা এতোটাই বেশি হয়ে গেছে এই পরিবারে? আলবিনা তখনো কঠিন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে।সে এগিয়ে এসে বলল,
"আমি আজ তোমার ভালো করলাম। বাপ মা কোনো দিন সন্তানের ক্ষতি চায় না।"
আলবিনা কাজী সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল,
"বিয়ে পড়াবেন না কি আমি উঠবো?"
যুবকের ইশারায় বিয়ে পড়ানো শুরু হলো।যুবক নিজের চাদরের একটা অংশ তুলে দিলো কনের মাথায়।কবুল বলার সময় একটা বার আলবিনার বুক কাঁপলো।মনে পড়লো তার সদ্য সদ্য প্রেমের কথা।নিশ্চয়ই এতোক্ষণে সে নিজেও এসে দরজায় দাঁড়িয়েছে। দৌড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু এটাও জানে সে গেলে তাকে ফিরিয়ে দিবে লোকটা।কেন দিবে এটাও সে জানে।সেজুতির যে সে ভীষণ পছন্দের। আব্বার কানে আজ সকালেই কথাটা তুলেছে আম্মা। আজ হোক কাল হোক মেয়ের এই পছন্দও আব্বা তাকে দিবেই। তাকে চুপ থাকতে দেখে পাশে বসা যুবক বলল,
"মির্জার ব্যাটার বউ,কবুল বলো।এতোক্ষণ যে ঠোঁট দিয়ে হুমকি দিচ্ছিলে সেই ঠোঁট যদি না খোলো তবে আমি কিন্তু ছিড়ে ফেলবো।"
আলবিনা তার দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে বলল,
"কবুল।"

সেজুতি আলবিনার পাশে এসে দাঁড়াতে চাইলেও আলবিনা হাত সরিয়ে নিলো। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো।দরজার দিকে পা বাড়াতেই ওর মা এগিয়ে এলো। তাকে বুকে আগলে ধরতে চাইলে আলবিনা কাজী সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল,
"বাবা মাকে তালাক দেওয়া যায় না কাজী সাহেব?বাপ মা সন্তানকে ত্যাজ্য করতে পারে,সন্তান পারে না?পারলে আজ এই মুহুর্তে আমি আমার বাপ মাকে আমার জীবন থেকে ত্যাজ্য করে গেলাম।আমার মরার খবর শুনেও যেন তারা কোনো দিন মির্জার দুয়ারে না যায়।"
এক মুহুর্ত অপেক্ষা করলো না আলবিনা।বাপের ঘর থেকে এক কাপড়ে, খালি পায়ে বেরিয়ে গেল।যাওয়ার সময় একটা বার পিছন ফিরে চাইলো না।কেবল বলল,
"আপনাদের মান সম্মান বাঁচিয়ে আমাকে জন্ম দেওয়ার ঋণ শোধ করলাম।আজ থেকে আমি এতিম।মা-বাপ ওয়ালা এতিম।"
চলবে( রেসপন্স করবেন কিন্তু।তাহলে আগামীকাল আগামী পর্ব দিব)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে অধ্যায় পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন