ফন্ট সাইজ:
থিম:
বিষন্ন বাসর

অধ্যায় পর্ব 4

লেখক: সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

#বিষন্ন_বাসর
#পর্ব-৭+৮
#সাদিয়া_খান(সুবাসিনী)

পৃথিবীর সবচেয়ে দামী জিনিসটা হচ্ছে খাবার। অনেক সময় একমুঠো খাবারের জন্য মানুষকে ভীষণ হাহাকার করতে হয়। বিশেষ করে সে যদি হয় কোনো পরিবারের কাছে বাড়তি কেউ।প্রয়োজন পড়ে না সে কি করছে না করছে, সারা দিন খাবার খেয়েছে কি না।তার মুখের সামনে থেকে যদি আহার কেড়েও নেওয়া হয় নিরুপায় হয়ে কেবল দু গ্লাস পানি খেয়ে বিছানায় চলে যেতে বাধ্য হয় সেই মানুষগুলো।এই মানুষগুলো জীবনে সবসময় আতঙ্কে থাকে। কখনো কোনো বিষয় নিয়ে হাসতে তারা ভয় পায় কারণ একটাই,"এখন হাসলে পরে কাঁদতে হবে।"
কিন্তু পেটের ক্ষুধা কোনো বাহানা মানে না।খাবারের গন্ধে তাদের একমুঠ খাবারের আশা করে, এটাই তাদের ভুল।আলবিনা এই ভুলটা জীবনে এতো এতো বার করেছে যে একটা সময় নিজের প্রতি তার ঘৃণা শুরু হয়ে গিয়েছিল। শখ আহ্লাদের কোনো খাবার তার ভাগ্যে ছিল না।তার যা জুটতো তাই খেয়ে নিতো।গরুর গোস্ত,ইলিশের স্বাদ কেবল দূর থেকেই পেয়েছে দীর্ঘ বছর।আজ ব্যতিক্রম হলো। প্লেটে থাকা খাবারগুলো দেখে চোখে জ্বালা করছে তার। দুই একবার মুখে দিয়ে আর গিলতে পারলো না সে। বারান্দার দিকে মুখ করে বসে রইল।পাওয়া না পাওয়ার হিসেব যে মিলছে না। আজ সায়মাকে বউয়ের সাজে কেমন লাগছে?সেজুতির সাথে কি আদনানের বিয়ের কথাটা পাকাপাকি হয়ে গেছে?আর তার ভাই?সে তো প্রতিদিন বিছানা না ফেলে দিলে ঘুমাতে পারে না।গতকাল কি করে ঘুমিয়েছে?দাদুকে ইনসুলিনটা কে দিয়ে দিলো?মায়ের কোমরের ব্যথা নিয়ে রান্নাঘরে কাজ করতে হচ্ছে? কোনো প্রশ্নের জবাব তার কাছে নেই।একটা সময় সে ভাবতো পেট ভরে, প্লেট ভরে খাবার নিয়ে খাবে কিন্তু এই মুহুর্তে প্লেট ভর্তি খাবার থাকলেও মন পড়ে আছে ওই বাড়িতে। নিজেকে ব্যস্ত করার খাতিরে পুরো ঘরটা ঘুরে ঘুরে দেখছিলো।লাগেজ থেকে শাড়ি বের করে গুছিয়ে রাখলো ক্লোজেটে। ঠিক সেই মুহুর্তে দরজায় কড়া নাড়লো কেউ

"ভিতরে আসুন।"
"রোদেলা মামনি আসছে।আপনাকে নিচে যেতে বলে।"
"রোদেলা কে?আর কে নিচে যেতে বলেছে?"
"রোদেলা মামনি হচ্ছে ছোটো আব্বার পিয়ারের মানুষ। সে এই বাড়িতে যা বলে সবাই তাই করে।"
"আমি বের হতে পারবো না।প্রয়োজন হলে আসতে বলুন।আর আপনি এগুলো নিয়ে যান।"

কাজের লোক খানিকটা গজগজ করতে করতে চলে গেল।কিছু সময় পর রোদেলা এসে দাঁড়ালো দরজায়।আলবিনা তখন বুকশেলফ গুছিয়ে রাখছে।তার পিছনে দাঁড়িয়ে রোদেলা বলল,
"প্রতিটা জিনিসের একটা নির্দিষ্ট জায়গা আছে। ইচ্ছে করলেই সব করা যায় না।"
"সময়ের সাথে সব পরিবর্তন করা যায় এবং হতে হয়।"
"আপনি বেশ মানিয়ে নিয়েছেন দেখছি।"
"কিছু বলবেন?"
" যে মেয়েটাকে তার বাপ ভাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দিলো সে মির্জা বাড়িতে টিকে থাকবে কি করে?"
"দেখা যাক রোদেলা আপু।চিন্তা করবেন না।আপনার জায়গা আমি নিতে যাচ্ছি না।আশা করি আপনিও আমায় বিরক্ত করবেন না।"

রোদেলা যা ভেবে এসেছিল কিছুই করতে পারলো না। সে চলে যাওয়ার পর আলবিনা হাত বাড়িয়ে মির্জার ব্যাটার পাঞ্জাবি হাতে নিলো।নিয়ে ভাবছিল
"এটা কামিজ হিসেবে পরলেও মন্দ হবে না।"

কিন্তু কি ভেবে আবার রেখে দিলো।এমনিতেই লুঙ্গি নিয়ে বেশ লজ্জায় আছে সে। আলবিনার কখন ঘুমিয়ে পড়েছে খেয়াল ও করেনি।ঘুম ভাঙলো কারোর উষ্ণ হাতের স্পর্শে।কেউ একজন তার পেটের উপর হাত রেখে দিব্যি ঘুমিয়ে আছে। পাশ ফিরে তাকিয়েই দেখলো তার সদ্য গোজানো স্বামী ঘুমিয়ে আছে তার পাশে। ঠেলেঠুলে তাকে সরিয়ে দিতে চাইলে আরো জোর করে জরিয়ে ধরছে তাকে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আলবিনা তার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল,
"বিশ্বাস করেন মির্জা ব্যাটা, এই মুহুর্তে আমাকে না ছাড়লে আমি আপনাকে গন ধোলাই দিব।"
"স্বামী দ্রোহী নারী! এভাবে কেউ হুমকি দেয়?"। বলেই ওর পেটের উপর রাখা হাত দিয়ে আলতো চিমটি কাটলো সে। আলবিনা কিছু বলার পূর্বেই সে আরো ফিসফিস করে বলল,
" আমার শরীরে আরেকটা বার একটা চিমটি দিলে আপনার গুষ্টির কাঁ্ধে হাল জুড়বো মির্জার ব্যাটা।"
"তুমি রাজি থাকলে আমি এক্ষুণি তোমার এই দুই পায়ের দায়িত্ব আমার কাধে তুলে নিতে পারি। দিবে আমায়?"
লোকটার কথা শুনে ফাঁকা ঢোক গিললো সে।কারণ অবাধ্য হাতটা যে এই মুহুর্তে তার পুরো শরীরে ঘুরছে।

হাত বাড়িয়ে যাকে স্পর্শ করা যায় মন বাড়িয়ে তাকে ধরা যায় না।আলবিনার ক্ষেত্রেও হয়তো সেটাই হয়েছে। সে সব কিছু এক দিনে মানিয়ে নিতে পারছে না।না পারছে তার পাশে অবাধে আচরণ করা এই মানুষটাকে।

"দেখুন এসব ঠিক হচ্ছে না।আপনি....
" শোনো আলবিনা, তুমি আমার স্ত্রী। তোমাকে স্পর্শ করার সম্পূর্ণ অধিকার আমার আছে।"
"অধিকার চুলোয় দিন। আগুন লাগাই অধিকারের খেতায়।"

মানুষটা হাসছে, তার হাসির কাপনে আলবিনার শরীর ও কাপছে। সে উঠে বসতে চায় কিন্তু শাড়ির আঁচল গিয়ে পড়েছে এই স্বরে-সভ্য লোকের পিঠের তলায়।
"উঠুন।দিনে দুপুরে বউ নিয়ে ঘরে দরজা দিতে নেই।"
"এই তুমি সবসময় এমন দাদী দাদী ভাব নিয়ে কথা কেন বলো?"
"যা সত্য তাই।লোকে নিন্দেমন্দ করবে।তাছাড়া রোদেলা এসেছিল।ও দেখলে মন খারাপ করবে।"
আলবিনাকে অবাক করে দিয়ে মির্জার ব্যাটা উঠে বসলো।তার মুখভঙ্গি ইতিমধ্যে পরিবর্তন হয়ে গেছে।সে এক হাতে ভর দিয়ে অন্য হাত কপালের মাঝে ঘষতে ঘষতে জিজ্ঞেস করলো,
"কখন এসেছিল রোদ?"

রোদ শব্দটা শুনে মনে খানিকটা আঘাত লাগলেও প্রকাশ করলো না আলবিনা।সে বিছানা ছেড়ে উঠে বলল,
"আপনি যাওয়ার পর পর।"
"কি করছিলে তখন তুমি?"
"বুক শেলফে বই গুছিয়ে রাখছিলাম।"

এক মুহুর্ত অপেক্ষা না করে মির্জার ব্যাটা দৌড়ে গেল শেলফের দিকে। বইগুলো গোছানো হলেও জায়গা পরিবর্তন করা। খানিকটা রাগ হলো তার। সে কিছুটা রুক্ষ ভাষায় বলল,
"তোমার যা কাজ তুমি সেটাই করবে। এসব না ধরাই তোমার জন্য ভালো।"

বলেই বইগুলো আগের জায়গায় ঠিক করে রাখছিল কিন্তু কিছুতেই যেন মন মতো হচ্ছে না।ফোন হাতে নিয়ে কাকে যেন কল দিলো সে।প্রায় মিনিট পাঁচ পর রোদেলা ঢুকলো। সে এসে মির্জার ব্যাটার পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
"গুছিয়ে দিচ্ছি। এতো চিন্তার কিছু নেই।"
"কিন্তু.....
" দশ মিনিট টাইম দাও আমাকে।ওয়েট তুমি কফিটা নাও, আমি এরমধ্যে শেষ করে ফেলব।"

কফিটা হাতে নিয়ে চেয়ারে বসলো সে। রোদেলা ধীরে ধীরে বুক শেলফ গুছিয়ে দিলো।কিছু সময় পর যখন দুজনে বেরিয়ে যাচ্ছে তখন রোদেলা আলবিনার পাশে এসে বলল,
"নতুন কেউ এলেই পুরাতন ফেলনা হয়ে যায় না। যা জীবনের সাথে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে তাকে সরানো এতো সহজ নয়।"

"আমি সরাতে চেয়েছি বলেও আমার মনে হয় না।তাছাড়া আমি হয়তো সারা জীবন উচ্ছিষ্ট নিয়ে বেচে পার করে এসেছি কিন্তু উচ্ছিষ্ট হওয়ার ইচ্ছে নেই।আপনাকে আপনার জিনিস মুবারক। রাখুন আপনার কাছেই।"

আলবিনা বারান্দায় চলে গেল।সেখানে মেলে দিয়েছিল নিজের শাড়িটা। শুকিয়ে গেছে ততক্ষণে।ওয়াশরুমে গিয়ে শাড়ি বদলে নিজের শাড়িটা পরে নিলো।জুতো তো তার নেই।খালি পায়েই বের হতে হবে তাকে। সাথে ফোনও নেই।যাবে তো যাবে কোথায়? একবার ভাবলো মায়ের বাড়িতে যাবে কিন্তু সেখানে আজ সায়মার বিয়ে।নিজের জীবনের তামাশা নিয়ে অন্যের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনটা নষ্ট করতে ইচ্ছে হলো না। ভাবলো নিচে গিয়ে সবার সাথে কথা বলার আরেকটা বার চেষ্টা করবে কিন্তু কেউ তার সাথে ওভাবে কথা বলেনি।তাই ধীরে ধীরে খালি পায়ে সে হেঁটে বাড়ির বাইরেই চলে এলো।
ডানে বায়ে তাকিয়ে দেখলো ভর দুপুর বলেই হয়তো এখন রাস্তায় মানুষ জন কম।এরপর আবার শুক্রবার। এক পা দুই পা করে এসে এগিয়ে গেল ডান পাশের রাস্তা ধরে।তার বাবার বাড়ির রাস্তার বিপরীতে। শীত আসি আসি করছে বলেই হালকা বাতাস বইছে।ফিনফিনে বাতাসে খারাপ লাগছে না।আপাতত পেট ভরা আছে, যতক্ষণ হাঁটা যায় সে হাঁটবে।

আলবিনার ধৈর্য এতোটুকু হয়ে গেছে যে সে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে টিকে থাকতে চাইছে না।সে জানে না রোদেলার সাথে তার স্বামীর কি সম্পর্ক তবে আজকের ব্যবহার তার মনে আঘাত দিয়েছে। এমন নয় সে জানতো না তার জন্য অবহেলা অপেক্ষা করছে কিন্তু যখন অবহেলা পেল তখন হয়তো আশা করেনি এতোটা কষ্ট হবে। একটা স্কুলের পাশে সান বাধানো পুকুর পাড়ে বসে রইল আলবিনা।মিনিট বিশেক পর বরযাত্রী গেল গাড়ি নিয়ে।সায়মার বরযাত্রী যাচ্ছে। তার বড় বোনের আজ বিয়ে অথচ কাল রাতে তার বাবা তাকে বিনা অনুমতিতে বেঁচে দিয়েছে মান সম্মান কিনতে। আর নশের উদ্দীনের দোকানে বড় করে লিখা "বিক্রিত মাল ফেরত যোগ্য নহে।"
সে নিজেও তো তাই। বড় গাছটার আড়ালে বসে মাথা রাখতেই ক্লান্তিতে ঘুম নেমে এলো দুই চোখে। হালকা বাতাস এবং মিষ্টি রোদে পুরো বিকেল কোন দিক দিয়ে কেটে গেছে সে বুঝতেই পারেনি।সন্ধ্যেবেলা মশা কামড় না দিলে হয়তো ঘুম আরো পরে ভাঙতো।চোখ মেলে তাকিয়ে দেখলো অন্ধকার হয়ে গেছে। তবুও সে উঠলো না।আরো কিছু সময় চোখ বন্ধ করে শুয়ে রইল।অন্ধকার চোখ সইয়ে এসেছে। রাতে এখানে থাকবে কি না ভাবছে, আগামীকাল কোথায় যাবে? হ্যাঁ লাবণ্যর কাছে যাওয়া যায়।ওর কাছে সে প্রায় হাজার দুয়ের মতো টাকা পায়।টাকাটা এই মুহুর্তে পেলে অন্তত এক জোড়া জুতো আর এক হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে কোনো হোস্টেলে উঠে যাবে। আগামীকাল থেকে টিউশনিগুলো শুরু করে ফেলবে।যদিও তাদের থেকে ছুটি নিয়েছিল।মাস শেষ হলে যে টাকাটা আসবে সেটা দিয়ে হোস্টেলে থেকে তার চলে যাবে।কষ্ট হবে তবে চলবে। পেটের মধ্যে ক্ষুধার যন্ত্রণায় শব্দ হতে শুরু করেছে।সামনেই টিবওয়েল। পানি খেয়ে বারান্দায় গিয়ে বসার সিদ্ধান্ত নিলো সে। উঠে বসে হাত পা ঝাড়তেই খেয়াল করলো তার থেকে হাত দুই দূরে কিছু একটা জ্বলছে।সিগারেট!
ভয় পেয়ে গেল মেয়েটা। এই মুহুর্তে এখানে কেউ বসে আছে ভাবতেই গায়ে কাটা দিলো।ফাঁকা ঢোক গিলে সে পিছানোর প্রস্তুতি নিলো।নিশ্চয়ই যে বসে আছে সে তাকে দেখেনি।তাই দেখার আগেই পালানো উচিৎ। পা টিপে টিপে সরতে যেই চেষ্টা করলো ওমনি লাইটার জ্বলে উঠেছে। সে দেখলো সরু দুই ঠোঁটের মাঝে সিগারেট নিয়ে আগুন জ্বালাচ্ছে তার মির্জার ব্যাটা। যার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে এবং চোখ দুটোয় ভীষণ রাগ।
আলবিনা সাহস পেল।এতোক্ষণের সব ভয় উবে গেছে। সে ধীর পায়ে পানি খেতে চলে গেল টিবওয়েলের কাছে। এক হাতে চাপ দিয়ে অন্য হাতে পানি খাচ্ছে।তার স্বামী হুট করে এসে টিবওয়েলে চাপ দিতে লাগলো।পানি খাওয়া শেষ হলে সে বলল,
"আমি জানতাম না যে আমার স্ত্রীর মির্জা বাড়ির বিছানা এতো অপছন্দের।ঘুমানোর জন্য এই খোলা মাঠের পুকুরপাড় পছন্দের। জানলে....

" শুনুন, আমি জানি না কেন বা কি কারণে আপনি আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছেন।তবে অনুরোধ করবো আমাদের তালাকের ব্যবস্থা করুন।মোহরানার কোনো ব্যাপার নেই।আমার কিছুই চাই না।কেবল মুক্তি চাই।"

মির্জার ব্যাটা সে এবার যেন হাসলো।তার এক হাত গিয়ে থামলো আলবিনার চিবুকে।সে তার ঠোঁটের এক সেন্টিমিটার দূরে নিজের মুখ নিয়ে বলল,
"ইহজন্মে তুমি কেবল আমার, প্রয়োজনে দুনিয়া থেকে সরিয়ে ফেলবো তোমাকে তবুও আমার নাম থেকে তোমার মুক্তি নেই।

চলবে(রেসপন্স করবেন)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে অধ্যায় পর্ব 4 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন