### তোর আসক্ত আমি
লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা
পর্ব সংখ্যা: ২
### অচেনা অনুভূতি
সন্ধ্যায় মায়া বাড়িতে ফিরে নিজের ঘরে গেল। পোশাক পরিবর্তন করে বিছানায় বসতেই ফোনে নীলার কল এল।
মায়া ফোন রিসিভ করে বলল,
— হ্যালো, কী করছিস?
নীলা হেসে বলল,
— কিছু না। তুই কী করছিস?
— এই তো বসে আছি। বল, কী বলবি?
— একটা কথা বলব?
— বল।
— আজকের ছেলেটার নামটা জেনে নিতে পারতি!
মায়া অবাক হয়ে বলল,
— কেন? নাম জেনে কী করব?
— আরে বাবা! ছেলেটাকে দেখে মনে হলো সিনেমার নায়ক। আর তুই কিনা নামটাও জিজ্ঞেস করলি না!
মায়া হেসে বলল,
— আমার এত সময় নেই বুঝলি? আর আমি তো ওর নাম জানার জন্য দাঁড়িয়ে থাকব না।
নীলা মজা করে বলল,
— আচ্ছা, আচ্ছা! বুঝেছি। তোর কোনো আগ্রহ নেই।
— একদম নেই। এবার রাখ তো, মা ডাকছে।
কথা শেষ করে মায়া ফোন রেখে নিচে চলে গেল।
রান্নাঘরে গিয়ে দেখল, মা রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মায়া মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বলল,
— মা, আপনাকে সাহায্য করব?
মা অবাক হয়ে তাকালেন।
— আজ সূর্য পশ্চিম দিকে উঠেছে নাকি? আমার মেয়ে নিজে থেকে রান্নাঘরে এসেছে!
মায়া মুখ ফুলিয়ে বলল,
— তোমার মেয়েকে নিয়ে এত মজা করতে হবে?
মা হেসে বললেন,
— আচ্ছা, আয়। সবজিগুলো ধুয়ে দে।
মায়া কাজ করতে করতে সারাদিনের গল্প করতে লাগল। তার হাসি আর কথায় রান্নাঘরটা যেন প্রাণ ফিরে পেল।
অন্যদিকে খান বাড়িতে...
শাহজাদ নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিল। এমন সময় তার ছোট বোন ঘরে প্রবেশ করল।
— ভাইয়া!
শাহজাদ চোখ না তুলেই বলল,
— কী হয়েছে?
— আপনার সঙ্গে একটু কথা ছিল।
— বল।
— আপনি কি আমাকে আগামীকাল শপিংয়ে নিয়ে যাবেন?
শাহজাদ এবার ল্যাপটপ বন্ধ করে বোনের দিকে তাকাল।
— হঠাৎ শপিংয়ের কথা মনে পড়ল কেন?
— আমার কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস লাগবে।
— ঠিক আছে। কাল সময় পেলে নিয়ে যাব।
বোন খুশি হয়ে বলল,
— সত্যি?
— মিথ্যা বলার কী আছে?
— আমার পৃথিবীর সেরা ভাই!
কথাটা বলে সে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
শাহজাদ মুচকি হেসে আবার কাজে মন দিল।
পরদিন সকাল।
মায়া আজ বেশ খুশি। অনেক দিন পর সে মায়ের সঙ্গে বাইরে যাবে। তাই সকাল থেকেই তৈরি হওয়ার ব্যস্ততা।
নীল রঙের একটি সুন্দর পোশাক পরে চুলগুলো খোলা রাখল। আয়নায় নিজেকে দেখে বলল,
— বাহ! আজ তো বেশ সুন্দর লাগছে!
ঠিক তখনই পেছন থেকে মায়ের কণ্ঠ ভেসে এল,
— নিজের প্রশংসা নিজেই করছিস?
মায়া লজ্জা পেয়ে বলল,
— মা!
দুজনেই হেসে উঠলেন।
কিছুক্ষণ পর মা-মেয়ে একটি শপিংমলে পৌঁছালেন।
অন্যদিকে শাহজাদও তার বোনকে নিয়ে একই শপিংমলে এসেছে।
বোন একটি দোকানে পোশাক দেখছিল। শাহজাদ বাইরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিল।
হঠাৎ তার চোখ পড়ল সামনের দিকে।
একটি মেয়েকে দেখে সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল। মেয়েটি আর কেউ নয়, মায়া।
মায়া মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে হাঁটছিল। হঠাৎ তার হাতে থাকা ব্যাগটি নিচে পড়ে গেল।
শাহজাদ এগিয়ে এসে ব্যাগটি তুলে দিল।
— আপনার জিনিসটা পড়ে গেছে।
মায়া তাকিয়ে একটু অবাক হলো।
— আপনি আবার!
শাহজাদ মৃদু হেসে বলল,
— মনে হচ্ছে আমাদের দেখা হওয়ার সময়গুলো বেশ মিলে যাচ্ছে।
মায়া হেসে বলল,
— তা তো দেখতেই পাচ্ছি।
শাহজাদ বলল,
— আপনার নামটা কি জানতে পারি?
মায়া একটু থেমে উত্তর দিল,
— মায়া।
— সুন্দর নাম।
মায়া মৃদু হেসে বলল,
— ধন্যবাদ। আপনার নাম?
— শাহজাদ খান।
ঠিক তখনই শাহজাদের বোন এসে বলল,
— ভাইয়া, আপনি এখানে দাঁড়িয়ে কী করছেন?
শাহজাদ বলল,
— কিছু না। চলো।
বোন মায়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
— আপু, আপনি কি ভাইয়ার পরিচিত?
মায়া হেসে বলল,
— না, তেমন কিছু না। আগে দুবার দেখা হয়েছে।
শাহজাদের বোন মিষ্টি করে বলল,
— ওহ! আচ্ছা, ভালো থাকবেন।
মায়াও হাসিমুখে উত্তর দিল।
শাহজাদ চলে যাওয়ার আগে একবার পেছনে তাকাল। মায়া তখন মায়ের সঙ্গে কথা বলছে।
তার বোন বিষয়টি লক্ষ করে মুচকি হাসল।
— ভাইয়া, মেয়েটাকে কি আপনার ভালো লেগেছে?
শাহজাদ ভ্রু কুঁচকে বলল,
— এসব কী বলছিস?
— কিছু না! এমনিই জিজ্ঞেস করলাম।
— বেশি কথা না বলে গাড়িতে চল।
বোন হেসে সামনে এগিয়ে গেল।
সন্ধ্যায় মায়া নিজের ঘরে বসে ফোন দেখছিল। হঠাৎ নীলার মেসেজ এল।
নীলা লিখেছে,
— আজ আবার সেই ছেলেটার সঙ্গে দেখা হয়েছে?
মায়া অবাক হয়ে লিখল,
— তুই জানলি কীভাবে?
— আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে কথা!
মায়া হেসে উত্তর দিল,
— হ্যাঁ, দেখা হয়েছে। নামও জেনেছি।
নীলা সঙ্গে সঙ্গে লিখল,
— কী নাম?
— শাহজাদ খান।
নীলা লিখল,
— বাহ! নামটাও বেশ সুন্দর!
মায়া ফোনটা পাশে রেখে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
অন্যদিকে শাহজাদও নিজের ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। তার বোন এসে বলল,
— ভাইয়া, একটা কথা বলব?
— আবার কী?
— আজকের আপুটার নাম কী ছিল?
শাহজাদ আকাশের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,
— মায়া।
বোন হেসে বলল,
— নামটা আপনার বেশ মনে আছে দেখছি!
শাহজাদ কিছু বলল না। শুধু মুচকি হাসল।
দুজন মানুষ, দুটো আলাদা বাড়ি। অথচ তাদের দুজনের মনেই আজ একটি নতুন পরিচয়ের স্মৃতি রয়ে গেল।
তারা কেউ জানত না, এই পরিচয় একদিন কতটা গভীর হয়ে উঠবে।
এটি একটি কাল্পনিক উপন্যাস, আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। কেউ কপি করবেন না কপি করলে মেসেজ দিয়ে বলবেন, আমিও চাইবো সুন্দর করে লেখার জন্য,।
আমার প্রিয় উপন্যাস ও নিজের হাতে লেখা উপন্যাস।
চলবে... ❤️