#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_১৬
#লেখিকা_আরিফা_তাসনিম_তামু
[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌🚫]
বর্তমান___
আদ্র "থ" মরে বসে এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে রৌদ্রের দিকে।রৌদ্র মাথা নিচু করে অপরাধীর মতো বসে আছে।নিরবতায় এভাবে কেটে গেলো কিছুক্ষণ আদ্রের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রৌদ্র মাথা তুলে পাশে চাইল। আদ্রকে এমন করে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অপরাধী কন্ঠে বলল
__আমাকে ক্ষমা করে দে আমি জানি আমি ক্ষমার যোগ্য না তার পর বলছি।আমি যে একটা বোনের জন্য এতটা লোভী হয়ে যাবো ভাবতে পারিনি আসলে একটা বোনের অনেক ইচ্ছে ছিলো তুই তো জানতিস আম্মু অসুস্থ কখনো আর মা হতে পারবে না।যেদিন এই কথা শুনে ছিলাম ঠিক কতটা কষ্ট পেয়েছি তোকে বলে বুঝাতে পারবো না।তোদের বাড়িতে গেলে তোর আর তোর বোনের খুনসুটি গুলা আমি ছলছল চোখে তাকিয়ে দেখতাম। আর মনে মনে আফসোস করতাম ইস আজ যদি আমার একটা বোন থাকতো তাহলে আমার এরকম একটা সুন্দর মূহুর্ত আসতো।সাইফা হওয়া পর কিছুটা কষ্ট কম হয় অনেক খুশি হই।কিন্তু তখন সাইফও অবুঝ ছোট ছিলো সাইফাকে দরলে কান্না করে দিতো ওর বোন শুধু ও কোলে নিবে।আমি আর কী করবো আমি তো ওর থেকে বড় বুঝদার ছিলাম তাই আর ওকে কাঁদিয়ে ওর বোনকে দরতাম না।
এতটুকু বলে রৌদ্র থামে লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে আবারও বলতে শুরু করে__
__কতশত রাত যে কান্না করতে করতে ঘুমিয়েছি হিসেব নেই।বার বার আল্লাহ কে বলতাম যেন একটা বোন দেয়।আল্লাহ হয়তো আমার দোয়া কবুল করে। সেদিন নানার বাড়ি থেকে আসার পথে আমার জীবন আলোকিত করে একটা পুতুলি বোন আসে।কিন্তু হসপিটাল থেকে বাসায় নাওয়ার পর মাথার ব্যাথায় যখন কান্না করতো সারা বাড়ি কোলে করে ঘুরেও আমি ও'কে শান্ত করতে পারতাম না।ওর কান্না আমাকে শেষ করে দিতো।মনে মনে সিদ্ধান্ত নি এই নিষ্পাপ ফুলটা যতটা কষ্ট পেয়েছে তার থেকেও বেশি কষ্টে আমি তার মৃত্যু দিবো যে এই নিষ্পাপ ফুলটাকে এভাবে এতটা কষ্ট দিয়েছে।আমি সেই রাস্তায় গিয়ে আশেপাশে সিসি ক্যামেরা খুঁজি এমন কী আমি সেটা পেয়েও যাই কিন্তু আমি ব্যার্থ হোই শুধু গাড়ির নাম্বার দেখতে পাই। তার পরও ওই গাড়ির খোঁজ নি কিন্তু আমার খুঁজতে দেরি হয়ে গেছে সেই গাড়ির মালিক পাকা খেলোয়াড় ছিলো যেদিন বনুকে রক্তাক্ত করে রাস্তায় পেলে যায় সেদিনই গাড়িটা বিক্রি করে দেয় অন্য আরেক জনের কাছে।কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি আজও আমি তাকে খুঁজে বেড়ায়।
রৌদ্র থামে তাকায় আদ্রের দিকে।হঠাৎই আদ্র রৌদ্র জড়িয়ে ধরে বলে উঠে
—তুই ভুল কিছু করিসনি তুই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাই। তুই আজ প্রমাণ করে দিলি শুধু রক্তের হলে ভাই বোন হওয়া যায় না।সেদিন যদি আমার বার্বিডল তোর হাতে না পড়ে খারাপ কারো হাতে পড়তো তাহলে কী হতো.?আমি কোথায় পেতাম আমার ফুলটাকে।ঔষধ খাওয়ালে স্মৃতি আবারও আসবে কিন্তু সেদিন যদি অন্য কোনো বিপদ হতো?
রৌদ্র ঢোল গিলে বলল
—আমি পৃথিবী শ্রেষ্ঠ ভাই হতে পারলেও বন্ধুত্ব হতে পারিনি রে। আ"আমি অনেক বড় ভুল করে পেলেছি রে তোর সাথে।
রৌদ্রের কথায় আদ্র তাকে ছেড়ে বলল
—কী ভুল করেছিস তুই.?
রৌদ্র চোখ বন্ধ করে কয়েকবার ঢোল গিলে সময় নিয়ে বলল
—বনু একটা ছেলেকে পছন্দ করে ছেলেটাও বনুকে ভালোবাসে ভালো ছেলে পরিবার ভালো সব দিক দিয়ে পারফেক্ট এজন্য অনেক আগে থেকে ওদের বিয়ে ঠিক করে রেখেছে দুই পরিবার বনুর পড়ালেখা শেষ হলে বিয়ে হবে।বনুও এই বিয়েতে রাজি অনেক খুশি আমি কীভাবে ও'কে কষ্ট দিয়ে বিয়ে টা ভেঙ্গে দিবো বল?আবার তোকেও কষ্ট দিতে পারবো না তোরা দুইজনই আমার কাছে সমান আমি দোটানায় ভুগছি আদ্র কী করব বল কোণ দিকে জাবো বল না রাস্তা দেখা আমাকে!
আদ্রের মাথায় ঘুরছে শুধু একটা কথা তার বার্বিডল অন্য কাউকে ভালোবাসে?তাকে বিয়েও করতে চায়?এইটুকু বার বার মাথায় ঘুরছে রৌদ্রের আর কোনো কথা তার কানে যাচ্ছে না।আদ্রের শরীর ভেঙ্গে এলো।ধীরে ধীরে শরীর ছেড়ে পড়ে যেতে নিলে রৌদ্র আগলে নেয়।হঠাৎই আদ্র অসহায় কন্ঠে বলে উঠে
—কেন করলি এমন বার্বিডল?আমার এতো ভালোবাসা কী তোর চোখে পড়ে নি?কেন আমাকে ভালোবাসলি না?আমি কীভাবে তোকে ছাড়া থাকবো?আ'আমি মরে জাবো রে জান!আমায় একটু ভালোবাসলে কী এমন হতো? আমি তোকে অন্য কারো জন্য লাল শাড়িতে কীভাবে দেখবো?এমনটা তো কথা ছিলো না? যে বুকের সবটা জুড়ে তোর বসবাস সে বুকে চুরি মারতে একবারও ভাবলি না বার্বিডল?
এতটা যত্ন করে ভালোবাসার পরও কীভাবে এমন করতে পারলি রে জান?
এতটুকু বলে ছেলেটা হাফিয়ে গেলো রৌদ্র অসহায় চোখে চেয়ে।হঠাৎ আদ্র চিৎকার করে বলে উঠে—
ইয়া আল্লাহ ওরে আমার ভালোবাসা বুঝার ক্ষমতা কেন দিলে না?ওরে আমার বা পাঁজরের হাড় দিয়ে কেন তৈরি করলে না?ও আল্লাহ আমার বার্বিডল আমায় ভালোবাসেনি শুনছো তুমি.?
আদ্রের প্রথম আর্তনাদের বিষাদময় হয়ে উঠে রজনী কিন্তু আদ্রের শেষের আর্তনাদ হয়তো আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠলো।জন মাবনহীন নদীর ধারটা বারি হয়ে উঠে আদ্রের আর্তনাদে রৌদ্র ছলছল চোখে দেখছে পাগলা প্রেমিককে।জীবন সঙ্গী হিসেবে আদ্র বেস্ট একজন কিন্তু রোদ কী আদ্রকে চাইবে?
#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_১৭
#লেখিকা_আরিফা_তাসনিম_তামু
[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌]
লম্বা একটা নিরবতা চললে আদ্র মাথা নিচু করে কিছু হয়তো ভাবছে আর রৌদ্র আদ্রের দিকে চেয়ে আছে।হঠাৎ রৌদ্রের ফোনটা শব্দ করে বেজে উঠে সে শব্দে নিরবতা ভাঙ্গে।রৌদ্র ফোন বের করে নাম দেখে আদ্রের দিকে তাকালো আদ্র আগের মতোই বসে আছে।রৌদ্র ফোন রিসিভ করে কিছু বলতে নিবে তার আগেই অপাশ থেকে রোদের কড়া কন্ঠ ভেসে এলো
—কোথায় তুমি ভাইয়া কয়টা বাজে দেখেছো এখনো আসছো না কেন?
—কিছুক্ষণের মধ্যে আসছি ভাইয়াকে আধা ঘণ্টা সময় দে তার মধ্যেই চলে আসছি।
নরম আর আদুরে মাখা কন্ঠে কথাগুলো বলল রৌদ্র না হলে দেখা গেলো বোন তার গাল ফুলিয়ে বসে থাকবে।ভাইয়ের আদুরে কন্ঠে রোদ তাড়াতাড়ি আসো বলে কল কেটে দেয়।
—কোন জানোয়ার আমার জিনিসে নজর দিয়েছে নাম বল ওর কলিজা কত বড় হয়েছে আমিও মেপে দেখবো!
শক্ত কন্ঠে কথা গুলা বলতে বলতে সোজা হয়ে দাঁড়ালো আদ্র।আর এইদিকে রৌদ্র মাএই মোবাইলটা পকেটে ডাকাচ্ছিলো হঠাৎ আদ্রের এমন কথায় বেচারা ফোন ডুকাতেই ভুলে গেছে ড্যাপড্যাপ করে চেয়ে আছে।তার বিশ্বাস হচ্ছে কথাগুলো আদ্র বলেছে ভ্রু কুঁচকে রৌদ্র বলল
—লে হালুয়া তুই গালিও দিতে পারিস?শালা এতক্ষণ মেয়েদের মতো ন্যাকা কান্না করে আমার কিডনি ব্লক করে দিয়েছিস।তুই শালা আসলেই একটা নাটক বাজ।
আদ্র ভাবলেশহীন জবাব দেয়
—শালা না সমন্দী!তোর আবার কিডনিও আছে?আগে জানতাম না তো আচ্ছা তোর কিডনি কী রঙ্গের?না মানে ব্লক খুলে দিতাম!
আদ্রের কথায় রৌদ্র উওর না দিয়ে আদ্রের কপাল গলা চেক করতে করতে বলল
—ভাই তুই ঠিক আছিস তো?না মানে তোর জ্বর টর আসেনি তো আবার?
আদ্র বিরক্ত হয়ে রৌদ্র হাত সরিয়ে বলল
—সর আমি ঠিক আছি
—হঠাৎ এতো পরিবর্তন এই না কান্না করছিলি?
—সেটা সময় হলেই বুঝবি এখন চল আমার বউটাকে দেখতে ইচ্ছে করছে খুব।
তার পর নিজের দিকে তাকালো শরীরের যে অবস্থা এই অবস্থা আহির সামনে গেলে প্রেমে পড়া তো দূর পাগল ভেবে ভয় পাবে।হাটতে হাটতে রৌদ্রের দিকে চেয়ে বলল
—নাহ্ এই অবস্থায় জাবো না।তুই যা গিয়ে আমার বউটাকে সুন্দর মতো খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিস।ও আবার নিজের হাতে খেতে পারে না।কালকে সুন্দর মতো তাড়াতাড়ি কলেজে পাঠিয়ে দিবি।বউ দেখার অপেক্ষায় থাকবো।
আদ্রের কথা রৌদ্র মুখ বেঁকিয়ে বলল
—উম আসছে আমাকে শিখাতে কীভাবে যত্নে রাখতে হয় আপনার বউটাকে এত বছর ধরে যত্ন করে বড় করলো টা কে শুনি?
—উমম তার বিনিময়ে যা চাইবি তাই দিবো বল কী চাস?
রৌদ্র হেঁসে বলল
—আমার বোনটাকে ভালো রাখিস এইটুকুই চাই।আমি জানি তুই ও'কে কতটা ভালোবাসিস ও তোর কাছে ভালো থাকবে।জীবন সঙ্গী হিসেবে তুই পারফেক্ট একজন।প্রতিটা মেয়ে স্বামী হিসেবে তোর মতো একজন যত্নশীল পুরুষ চায়।তবে সবার ভাগ্যে তা থাকে না আমার বনুটা খুব ভাগ্যবতী তোর মতো একজনের ভালোবাসার মানুষ হতে পেরে।তারপরও ভালো রাখার কথা বলার কারণ হচ্ছে বোনটাকে বড্ড ভালোবাসি রে নিজের থেকেও বেশি ওর খুশির জন্য হাসি মুখে জীবনটাও দিয়ে দিতে পারি।"ও" কষ্ট ফেলে ব্যাথা ওর আগে আমার বুকে লাগে।
আদ্র মুচকি হেঁসে বলল
—আমার বার্বিডলটা সত্যিই ভাগ্যবতী তোর মতো একটা ভাই পেয়েছে।একবার তোর বোনটাকে দলিল করে নিতে দে তার পর দেখবি কেমন যত্ন আর ভালোবাসায় মুড়িয়ে রাখি।
রৌদ্র হেঁসে আদ্রকে জড়িয়ে ধরে বলল
_তোর প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। সব সময় তোর পাশে আছি।
________
আদ্র শুয়ে আছে মায়ের কোলে আতিয়া নেওয়াজ ছেলের মাথায় হাত ভুলিয়ে দিচ্ছে আর আদ্র চোখ বন্ধ করে আছে।চেহারায় তার প্রশান্তির চাপ স্পট।পাশে বসে ইয়ানা মা"কে আহির কথা সব বলছে আতিয়া নেওয়াজ তা শুনছে।মনে মনে শুকরিয়া আদায় করছে আল্লাহর কাছে।
—জানো আম্মু আমার ছোট্ট পরীটা দেখতে কতটা কিউট হয়েছে মাশাল্লাহ মনে হয় যেন আস্ত একটা পুতুল।
ইয়ানার কথায় আতিয়া নেওয়াজ হেঁসে বলল
—একটা ছবি তুলে আনতি আমিও একটু দেখতাম মেয়েটাকে কতগুলো বছর দেখি না।
ইয়ানা কিছু একটা ভেবে উল্লাসিত কন্ঠে বলল
—ছবি লাগবে না আম্মু তুমি চাইলে সামনাসামনিও দেখতে পারো রৌদ্র ভাইয়া তো ভাইয়ার বন্ধু।ওদেরকে যদি ভাইয়া বাড়িতে আসার দাওয়াত দেয় তাহলেই তো হবে।
—হ্যাঁ এটা তো ভালো কথা রৌদ্র টাকেও কতগুলো বছর দেখি না কেমন হয়েছে দেখতে ছেলেটা!সেদিন তো দেখাও হলো না।
আদ্র এতক্ষণ সব চুপচাপ শুনছিলো এবার চোখ মেলে বলল
—না এখন বাড়িতে আনা জাবে না ও'কে আমি চাইনা আহিকে পাওয়া গেছে এটা বাড়ির সবাই জানুক।আগে ওর স্মৃতি আনতে হবে এখানে আসলে সবাই ও'কে ঘিরে ধরবে কান্না কাটি করবে এতে ও অস্থির হয়ে মাথায় চাপ ফেলবে।
ইয়ানা আর আতিয়া নেওয়াজ ও বিষয় টা ভেবে দেখলো।আদ্র মায়ের রুম থেকে চলে আসলো।
তবে আদ্রের মনে চললে অন্য কিছু সে রৌদ্রকে মেসেজ দিয়ে বলে কালকে বিকালে দেখা করতে জরুরি কথা আছে।রৌদ্র মেসেজ সিন করে সাথে সাথে কল দেয়। আদ্র রিসিভ করার সাথে সাথে ওপাশ থেকে রৌদ্রের কন্ঠ ভেসে আসে
—কিরে কিশের জরুরি কথা আবার কিছু হয়েছে নাকি?
__কালকে আসলেই জানতে পারবি। এখন বল আমার বউটা কী করে?
—তোর বউ এতক্ষণ আমাকে নাচিয়ে এখন শান্তিতে ঘুমাচ্ছে।
আদ্র ঠাট্টার স্বরে বলল
—এটা তো ভালো কথা! তা কী গানে নাচিয়ে তোকে?
—তুই মজা নিচ্ছিস?তোর জন্য দেরি করে বাড়িতে আসায় রেগে বোম হয়ে বসে ছিলো কেন এত দেরি করছি। কোথায় ছিলাম।আরও কত কী আর আমাকে এতো এতো মিথ্যা বলে রাগ ভাঙ্গাতে হয়েছে।তার পরও তার আবদার তাকে ভাবি এনে দিতে হবে এখন কী করবো না পারতে বলেছি এনে দিবো।কিন্তু এখন কথা হচ্ছে ভাবি তো গাছে ধরে না। কী করবো বল।
__আমি কী বলবো তুই কী করবি তুই জানিস তবে আমার বউয়ের আবদার যেন অপূর্ণ না থাকে।যদি থাকে তাহলে তোর খবর আছে।
এই বলে আদ্র কল কেটে দেয়।কল কেটে হাসতে থাকে সে অন্য দিকে রৌদ্র বোতা মুখ করে মোবাইলের স্কিনের দিকে চেয়ে আছে।
(বেশি বেশি শেয়ার করো রেসপন্স করো নেক্সট পার্ট তাহলে তাড়াতাড়ি দিবো)