ফন্ট সাইজ:
থিম:
কি ভয়ংকর মায়া তোর

পর্ব 16

লেখক: আরিফা তাসনিম তামু

#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_১৮
#লেখিকা_আরিফা_তাসনিম_তামু
[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌🚫]

রোদ কলেজ গেট দিয়ে ডুকছে অন্যমনস্ক হয়ে। গভীর ভাবনায় ডুবে আছে সে।তার সকল ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে আদ্র কালকে থেকে এই লোককে চাইলেও রোদ মাথা থেকে বের করতে পারছে না।এতোদিন পর্যন্ত প্রতিরাতে যে মানুষ কে নিয়ে কল্পনা না করলে রোদের ঘুমই আসতো না।আর কালকে সারারাত কিনা তাকে নিয়ে কল্পনা করতে গেলেই আদ্রের মুখ ভেসে উঠে। বারবার আদ্রের করা পাগলামি গুলোর কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।হাত আপনাআপনি আদ্রের চুমু দাওয়া স্থানে চলে যাচ্ছে। এসব কী হচ্ছে সে বুঝতেই পারছে না।তার উপর আজকে সাইফা আসেনি রৌদ্র আজকে তাড়াতাড়িই রোদকে কলেজে নামিয়ে দিয়ে গেছে।এসব ভাবতে ভাবতে রোদ হেঁটে ক্লাসের দিকে যাচ্ছিলো।হঠাৎ ওর হাতে টান পড়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই কেউ তাকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে।ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নেয়।কোমড়ে বলিষ্ঠ হাতের বাঁধন অনুভব করতেই রোদ দ্রুত চোখ খুলে।চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার।ভয়ে রোদ যখনি চিৎকার করতে নিবে তখনি কানে আসে আবেগময় মিষ্টি এক নাম

—পাখি

ডাকটা রোদের কাছে এতোটাই ভালো লাগলো যে চোখ বুঝে নিলো সঙ্গে সঙ্গে।আদ্র রোদকে আরেকটু নিজের দিকে টেনে নিলো।কোমড়ে থাকা হাতের বাঁধন আরেকটু শক্ত করলো।মুখটা রোদের কানে কাছে নিয়ে আস্তে করে আবারও ডাকলো—

—পাখি!

—হুম"

চোখ বন্ধ রেখেই রোদ "হুম" বলে জবাব দিলো।সঙ্গে সঙ্গে আদ্রের মুখে এক চিলতি হাসি ফুটে। আদ্র এবার আরেকটু আদুরে মাখা আর ভালোবাসা মেশানো গলায় বলল

—ভালোবাসি!

এই বলে আদ্র রোদের গলায় মুখ গুঁজে লম্বা শ্বাস নিলো।এবার রোদের হুস ফিরে।হাত পা আপনাআপনি কাঁপতে শুরু করে। সে বুঝতে পারছে না এটা কে?তার এতো কাছে কেন আসছে?মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। গলায় যেন কিছু আটকে আছে।

— একটু ছুঁতেই এমন কাঁপা-কাঁপি করছো যখন পুরোপুরি অধিকার নিয়ে ছুঁবো তখন কী করবে বউ?

"বউ" ডাকটা কানে যেতেই রোদের বুক কেঁপে উঠলো।আবারও চোখ বন্ধ করে নিলো।আদ্র রোদকে হালকা ধাক্কা দিয়ে একটু দূরে সরিয়ে দ্রুত পায়ে বের হয়ে গেলো।রোদ তাড়াতাড়ি চোখ খুলে আশেপাশে চাইল না কেউ নেই!কে ছিলো এটা আর কি সব বলে গেলো?রোদ ভয়ে ঘামাতে শুরু করে!

_________

আজকের প্রথম ক্লাসটাই আদ্র নিবে তার জরুরি কাজ আছে এজন্য ক্লাস শেষ করে আগে আগেই বের হয়ে যাবে।আদ্র ক্লাসে ডুকা মাএই চারদিকে সোরগোল শুরু হয়ে গেছে।কেউ মুগ্ধ নয়নে আদ্রকে দেখছে। কেউ আবার ফিসফিস করে কিছু বলছে।আজকে রোদও বাদ পড়েনি তাকিয়ে থাকা থেকে।আজকে আদ্র কফি রঙ্গের শার্ট আর সাদা জিন্স পেড়েছে।হাতে ঘড়ি চোখে পাওয়ারি চশমা।রোদ আজকে একটা জিনিস বেশ ভালো করেই খেয়াল করলো।আদ্রের ঠোঁট গুলা পিংক কালার সাথে ঠোঁটে কোণে বাদামি তিলটা উফ পুরাই জোস। ছেলেদের ঠোঁট ও এতো সুন্দর হয় রোদের আগে জানা ছিলো না রোদ মেয়ে হয়েও মনে হয় না আদ্রের থেকে ওর ঠোঁট বেশি সুন্দর হবে।

—স্যারটা একটু বেশিই হ্যান্ডসাম তাই না?

পাশ থেকে শ্রেয়া কথাটা বলল।রোদ অন্যমনস্ক হয়ে জবাব দিলো

—হুম আর আজকে তো পুরাই চকলেট বয় লাগছে।

রোদ এতোটাই ঘোরে চলে গেছে যে আদ্র তার পাশে এসে যে দাঁড়িছে বুঝতেই পারেনি।এই দিকে রোদের কথাটা কানে যেতেই আদ্র হালকা ঠোঁট বেঁকিয়ে হাসে।তবে কেউ দেখার আগেই স্বাভাবিক হয়ে যায় কিন্তু রোদকে কিছুই বলেনি সেখান থেকে সরে যায়।

______

গত একটা যাবত নিজের কেবিনে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে আদ্র।অফিসে এসেছে দু'ঘন্টার মতো হবে এসে একটা মিটিং এ জয়েন করেছে।পাশ থেকে ফোন টা হাতে তুলে নিয়ে কল লাগালো রৌদ্রর নাম্বারে।রৌদ্র মাএই একটা রেস্টুরেন্টে ডুকে বসলো।মোবাইল হাতেই ছিলো আদ্র কল দাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ করে বললো

—হ্যাঁ বল

—তুই কোথায় আছিস?

—এই তো একটা রেস্টুরেন্টে আছি।

—কলেজ থেকে সোজা আমার বউকে আমার অফিসে এনে দিবি একসঙ্গে "লাঞ্চ" করবো।

—পারবো না

—প্লিজ ভাই এনে দে না।তুই তো জানিস আমি তোকে কতটা ভালোবাসি।

আদ্রের কথা রৌদ্র মুখ বেঁকিয়ে বলল

—থাক ভাই তোর আর আমাকে ভালোবাসতে হবে না। তোর এতো ভালুপাসা পেতে পেতে আজ আমি গর্ববতী।

ইয়ানা মাএই খাবার মুখে নিচ্ছিলো পিছন থেকে এমন বাক্য কানে আসতেই যক্ষা রোগীর মতো কাঁশতে শুরু করলো।পিছন থেকে এমন কাঁশির শব্দে রৌদ্র বিরক্ত হয়ে আদ্রকে বলল

—বনু যাবে কিনা জানি না গেলে নিবো আমি দুপুরে তোর অফিসে আসবো।

এই বলে রৌদ্র ফোন কেটে দিয়ে পিছন ফিরে বলল

—এই মেয়ে তোমার কী যক্ষা রোগ আছে?থাকলে ডাক্তার কাছে যাও চিকিৎসা করো এভাবে শব্দ দূষণ করছো কেন?

ইয়ানা রৌদ্রের গলা পেয়ে পিছন ফিরে চাইল।রৌদ্রকে দেখে অবাক হয়ে বলল

—রৌদ্র ভাইয়া আপনি গর্ববতী কিন্তু কেমনে কী?

প্রথমত রৌদ্র ইয়ানাকে এখানে একদমই আশা করেনি দ্বিতীয়ত ইয়ানার এমন প্রশ্নে রৌদ্র থতমত খেয়ে যায়।পাশে ইয়ানার ফ্রেন্ডরা মুখ টিপে হাসছে।

—এই যে উষ্ঠা খাওয়ালি মানুষের কথায় কান না দিয়ে মন দিয়ে খাও যেন মাথায় একটু বুদ্ধি হয় মাথায় তো গবর ছাড়া কিছুই নেই ইডিয়েট একটা

এই বলে রৌদ্র একটা ওয়েটার কে ডেকে ইয়ানাদের জন্য অনেক রকমের আইটেম অর্ডার করে বিল মিটিয়ে চলে গেলো।ইয়ানা তো ইডিয়েট আর উষ্ঠা খাওয়ালি এই দুটা শুনে চুপসে গেলো আর কিছুই বলল না।ইয়ানার এক বান্ধবী তো ইয়ানাকে পাগল করে দিলো।এই হ্যান্ডসাম ছেলেটাকে।ওর সাথে একটু সেটিং করিয়ে দিতে।বিরক্ত হয়ে ইয়ানা বলল

—কচুর হ্যান্ডসাম ওই ছেলের ৪টা বাচ্চা আছে বউ আছে এখন আরেকটা পেটে আছে বাচ্চা।

—আল্লাহ কী বলিস দেখলে তো বুঝা যায় না।কিন্তু তুই কীভাবে এতো কিছু জানিস?

অবাক হয়ে ইয়ানার এক বান্ধবী বলল।বান্ধবীর কথা ইয়ানা শয়তানি হেঁসে বলল

—আমি জানবো না তো কে জানবে এটা আমার ভাইয়ের বন্ধু। এখন কথা না বলে চুপচাপ খাওয়ায় মন দে।

______

আদ্র বসে বসে ফাইল চেক করছিলো।রৌদ্র চুপিচুপি দরজা ঠেলে ডুকে আদ্রের চোখে চেপে ধরলো।আদ্র জানে এটা রৌদ্র আর এটাও জানে এই বাঁদর তার বউ কে নিয়ে আসেনি একাই এসেছে। বিরক্ত হয়ে বলল

— দূরে থাক সারাক্ষণ মেয়েদের মতো আমার সঙ্গে এমন গোসাগোসি করছ কেন?

রৌদ্র চোখ ছেড়ে আদ্রের গা গেঁষে বসতে বসতে গেঁয়ে উঠলো

—তোর সঙ্গ না ফেলে—

সারাদিন কেমন

""" আনচান আনচান করে মন ""

আমার আনচান আনচান করে

_____মন গো_____

#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_১৯
#লেখিকা_আরিফা_তাসনিম_তামু

____কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌_____

একের পর এক বকবক করেই যাচ্ছে রৌদ্র।আর আদ্র চোখ বুজে সব হজম করছে।এবার রৌদ্র কথা থামিয়ে আদ্রের দিকে চেয়ে ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো

—কী রে তুই এতো ভালো কবে হলি?আমি এত কথা বলছি আর ফাইজান নেওয়াজ আদ্র কিনা ধৈর্য ধরে সব শুনছে এই দিনও আমাকে দেখতে হচ্ছে বাহ্?।ওরে কে কোথায় আছো সূর্য আজকে কোন দিকে উঠেছে আমাকে একটু বল তো?

শেষের কথা গুলা একটু নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল।এবার আদ্র চোখ খুলে রৌদ্রের দিকে চেয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে উওর দিলো।

— সূর্য সূর্যের জায়গায়ই আছে।কিন্তু আমাদের সম্পর্ক বদলে গেলো এক পলকে।আগে ভাবতাম আমার বন্ধুই শুধু পাগল এখন দেখি আমার একমাএ সমন্দী তার থেকে ডাবল পাগল। কী আর করার একমাএ সমন্দী বলে কথা তাই হজম করা শিখছি না হলে আমার বউ টা যে কষ্ট পাবে।

রৌদ্র এবার বাংলা সিনেমার মতো অভিনয় করে বলল

—না এ হতে পারে না এটা আমি বিশ্বাস করি না।এতো বড় অপমান আমি সইবো কীভাবে ও'রে আমার যে পাপ হবে!

দুইজনেই হেঁসে ফেললো।

—হয়েছে এবার থাম খাবারের কথা বলছি খেয়ে যাবি।

আদ্রের কথা রৌদ্র আবদারের সুরে বলল

—একটা চুমু দে না সোনা।তোর চুমুর অভাবে আমি শুকিয়ে গেছি দেখ!

—ছ্যাহ্ আমি গেও না।

রৌদ্র মুখ বেকালো।তার পর বলল

—না খাবো না আম্মু বলেছে তোকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে যেতে ওইখানে দুপুরে খেতে।

—তুই কী আন্টিকে সব বলে দিয়েছিস.?

—হুম আম্মু আব্বু দুজনকেই সব জানিয়েছি।আমার উপর সব ছেড়ে দিয়েছে আমি যা চাইবো তাই হবে।

—ভালো বাট আমি এখন জাবো না কাজ আছে তুই বরং এখানে খেয়ে যা আন্টিকে ফোন করে বলে দে।

—হবে না রে তোর বউ ওইখানে বোমের মতো ফুলে বসে থাকবে খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে।

আদ্র আর জোর করল না।বউ তার ছোট থেকেই জেদ্দি তবে সবার কাছে জেদ করে না যে ওকে ভলোবাসে তার সাথে জেদ বাচ্চামী সব করে।

_________

এইদিকে গতকাল রাতে সাইফ নতুন একটা পারফিউম কিনে এনে লুকিয়ে রেখেছে।কারণ এই বাড়িতে রোদ আর সাইফার জন্য পারফিউম কিনে কেউ শান্তি পায় না। বিশেষ করে বেচারা সাইফ কারন সে দুদিন পর পরই পারফিউম কিনে আনে। রোদ আর সাইফার যদি কোনো পারফিউমের
স্মেইল ভালো লাগে তাহলে সেটা ওদের লাগবেই লাগবে।রৌদ্ররে কাছে চাইলে বিনা বাক্যে দিয়ে দেয়।কিন্তু সাইফ দিতে চায় না। এজন্য দুই বোন মিলে সাইফের পারফিউম এনে উরাধুরা গায়ে মাখে আবার নিজেদের পছন্দের জামাতেও মেরে নেয়।কালকের আনা পারফিউমটা রোদ দেখে ফেলে।গিয়ে সে খবর সাইফাকে দেয় অসুস্থ শরীর নিয়ে সাইফা রোদের সাথে লাফাতে লাফাতে চুরি করতে চলে যায়।চুপিচুপি এনে রোদের রুমে দু'জন উরাধুরা পারফিউম মারছে।এর মধ্যে শ্রেয়া বিডিও কল দিলো।কল রিসিভ করতে শ্রেয়া বলল

—কী করছিস তোরা জন?

রোদ পিছনের ক্যামরা দিয়ে খাটের দিকে দেখলো। অনেক গুলা জামা পাশে একটা পারফিউম। এটা দেখে শ্রেয়াও নিজের ক্যামরা ঘুরিয়ে খাট দেখালো।এবার তিনজন হা করে মোবাইলের দিকে চেয়ে আছে কারণ শ্রেয়ার খাটেরও একি অবস্থা।

—তুইও আমাদের মতো চুরি করে এনেছিস.?

—তোরাও কী আমার মতো চুরি করে এনেছিস?

তিনজনের কথা একসাথে হয়ে গেলো।এক একজন একজনের দিকে চেয়ে আছে।কিছুক্ষণ পর তিনজনই হেঁসে ফেললো। হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে।

—কালকে ভাইয়া এটা এনে রেখেছিলো আমার আর সাইফার ছোট বেলা থেকে অভ্যাস এটা।

রোদের কথা শ্রেয়া বলল

—আমারও সেম এটা সকালে আমার ভাই এনে রেখে ছিলো এখন আমি চুরি করে নিয়ে এসেছি🙃

এভাবে ওরা আরো অনেকক্ষণ কথা বলে।কে কোথায় কবে কার কয়টা পারফিউম চুরি করেছে এসব।

______

হঠাৎ করেই খবর আসে সাইফার খালা আসছে খান বাড়িতে সাথে উনার ছেলে আর মেয়ে।মেয়ে সাইফাদের সমানই ছেলে রৌদ্রের বয়সের।সাইফার খালারা আসার খবর পেতেই রোদের বুক কেঁপে উঠলো। ভিতরে ভিতরে খুশি হয়েও কেন যে হতে পারছে না।আজকাল রোদের কী হয়েছে রোদ নিজেও জানে না।সব অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা তার সাথে ঘটছে আজকে কলেজের সেই ঘটনার কথা মনে পড়লেই গা শিউরে উঠে।হাত পা আপনাআপনিই কাঁপতে শুরু করে।কে ছিলো এটা?রোদ বুঝতেই পারছে না। বার বার সে ঘটনার কথা মনে পড়ে যায়।

[এখানে আসল চোর আমি আর আমার বনু সুন্দর স্মেইল ফেলেই ওটা মেরে দি যারই হোক🙃

রেসপন্স না করে গল্প চাইবে না পাপির দল আর ছোটও বলতে পারবে না কারণ আগের পার্টের রেসপন্স আমার পছন্দ হয়নি🙃)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 16 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন