ফন্ট সাইজ:
থিম:
কি ভয়ংকর মায়া তোর

পর্ব 38

লেখক: আরিফা তাসনিম তামু

#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_৪২
#লেখিতে_আরিফা_তাসনিম_তামু

____কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌_____

কেটে গেছে প্রায় দুই মাস, ফিহা এবং পারুলে ওই সব কাহিনি জানার পরে ওদের সাথে সবাই ই কথা কম বলতো এমনকি তরিকুল নেওয়াজ তো ওদের সাথে কথা বলা বাদই দিয়ে দিয়েছে।
শুধু এই বাড়ির একজন মাত্র ব্যক্তি যে নিজে নিজে ওদের সাথে কথা বলতে গেছে হচ্ছে আহি,,, হ্যাঁ আহিই একমাত্র ওদের সাথে হাসি মুখে কথা বলছে।
প্রথম প্রথম পারুল আহির সাথে কথা বলতো না পরে আস্তে আস্তে টুকটাক করে কথা কথা বলতে বলতে এখন প্রতিদিনই কথা হয়। পারুল মাঝে মধ্যে অবাক হয় যেই মেয়ে টার ও এত ক্ষতি করছে তার জন্য বাড়ির কোনো মানুষ ওর সাথে কথা বলছে না সেখানে আহি নিজেই ওর সাথে কথা বলছে
কিন্তু ফিহাকে আর দেশে রাখে নি পারুল,, ফিহাকে তার খালার কাছে কানাডা পাঠিয়ে দিয়েছে
_____

আহি রৌদ্রদের বাসায় আছে প্রায় ১০ দিন হতে চললো আজকে ফাহিদরা আসবে ওদের বাসায় সেই জন্য আদ্রদের বাসার সবাইকেই আসতে বলা হয়েছে। সন্ধ্যায় অফিস শেষ করে আদ্র এসেছে আহিদের বাসায়। আদ্র আজ ঠিক করছে বউ কে আজ নিয়েই যাবে সাথে করে। বউ কে ছাড়া এত দিন থাকা যায় নাকি, সেটা তো তার বউ একটুও বুঝে না।

আদ্র এসে দেখলো আহি রান্নাঘরে রাইসা বেগমের সাথে সাহায্য করছে। রৌদ্র এখনও অফিস থেকে আসে নি তাই আদ্র সায়ান খানের সাথে বসে টুকটাক কথা বলছে আর উঁকি মারছে রান্নাঘরের দিকে তার বউয়ের কী আর সে খেয়াল আছে?

এর সব ভাবার মাঝেই আহি তার বাবাকে এক কাপ চা এবং আদ্রকে এক কাপ কফি দিয়ে গেলো আদ্র তো আহির দিকে তাকিয়েই ছিলো আহি একবার তাকাতেই দুজনার চোখাচোখি হয়ে গেলো আহির কেন জানি ভিষণ লজ্জা লাগলো। তাই সেই তাড়াতাড়ি আবার রান্না ঘরে চলে গেলো।

এর মাঝে আদ্রদের বাসা থেকে সবাই এসেছে পারুল বাদে অবশ্য তাকে তরিকুল নেওয়াজই আনতে চাইনি তাই আর পারুল আসেনি।

কিছুক্ষন পরে ফাহিদরাও আসে। হঠাৎ বাড়িটা পুরো ভরে গেলো। একটুপরেই রৌদ্র এলো, এসে সবার সাথে কথা বললো তারপর হঠাৎ করে চোখ যায় ইয়ানার দিকে
একটা নীল রঙের কাজ করা থ্রি পিস পড়া। ফর্সা গায়ে বেশ লাগছে, চোখে আবার সুন্দর করে কাজলও পড়ছে ঠোঁটে হালকা গোলাপি রঙের লিপস্টিক।
রৌদ্রের বুকের ভেতর কেমন জানি ধকধক করে উঠল ইয়ানাকে দেখে। আচ্ছা আগে তো এমন লাগতো না তবে এখন কি সে তার বউ বলে এমন লাগছে কিন্তু ওদের বিয়েটার আদৌও কি ভবিষ্যৎ তা জানে না রৌদ্র এসব ভেবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

সবাই রাতের খাবার খেতে বসেছে সবাই খাচ্ছে আর টুকটাক গল্প করছে শুধু ফাহিদের মন টা খারাপ কারণ যাকে ভালোবেসে এই বাড়িতে আসতো সে এখন অন্য একজনের বউ ভাবতেই কেমন জানি নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।

খাওয়ার মাঝে রাইসা বেগম মজা করে বললো

--- আদ্রর তো বিয়ে হয়ে গেলো এবার ইয়ানার পালা মেয়ে তো বড় হয়ে গেলো কী বলেন আপা?

কথাটা আতিয়া নেওয়াজকে উদ্দেশ্য করে বলেছে।এই কথা শুনেই ইয়ানা এবং রৌদ্র একসঙ্গে ভিষম খেলো
আহি তাড়াতাড়ি ভাইকে পানি দিলো আর রাইসা বেগমও ইয়ানাকে পানি খেতে বললো
আহি বলে উঠলো,

--- আরে কি ব্যাপার ভাইয়া তোমরা দুজন একসাথে ভিষম খেলে কিভাবে

রৌদ্র কোনোমতে বলে উঠলো

--- বনু আমার মনে হয় এই উষ্ঠা খাওয়ালী আমার খাবারে নজর দিছে

ইয়ানা চেতে উঠলো

--- এই আমি আপানর খাবারে নজর দিতে যাবো কেন আর এটা কেমন লজিক যে খাবারে নজর দিলে ভিষম খায়, তার মানে আপনিও আমার খাবারে নজর দিছেন তাই আমিও ভিষম খেয়েছি

রৌদ্র বললো,
--- আমার বয়েই গেছে তোমার খাবারের দিকে নজর দিতে

ইয়ানা কিছু বলতে যাবে এর মধ্যে আতিয়া নেওয়াজ বলে উঠলো

--- এই চুপ কর দুটোতে কি বাচ্চাদের মতো ঝামেলা করছিস

এরপরে সবাই খাবার খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। তবে শালুর চোখ রৌদ্র আর ইয়ানার উপর জহুরি নজরে দেখছে।দেখবে না"ই বা কেন আড়ালে কতকিছুর সাক্ষী বেচারি।

___

খাবারের পড়ে আদ্র হাঁটতে হাঁটতে ছাদে দিকে গেলো,কারণ খাওয়া বেশি হয়ে গেছে।শাশুড়ি জোর করে খাইছে। ছাদের দরজার কাছে এসেই গান শুনতে পেলো, হ্যাঁ একটা ছেলে গান গাইছে আদ্র আরেকটু ভালো মতো শোনার চেষ্টা করলো

~ আমার আসার সময় হলে ~
~ তুমি হাত ফসকে গেলে ~
~ তোমার যাওয়ার পায়েতারা~
~ আমি হই যে দিশেহারা ~
~ তুমি অন্য গ্রহের চাঁদ ~
~ আমার একলা থাকার চাঁদ~
~ তোমার ফেরার সম্ভাবনা ~
~ অমাবস্যয় জোছনা ~

ফাহিদ গেয়ে থামলো আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো

--- আমি কেন পেলাম না ওকে আল্লাহ?কেন? আমি ও তো ওকে ভালোবেসেছি তাহলে কেন? আদ্র কেন এসে আমার কাছ থেকে আহিকে নিয়ে গেলো। আহিরও কি একবারও আমার কথা মনে পড়ে নি? ও কি আমাকে তাহলে ভালোবাসি নি?

আদ্র চুপচাপ শুনছে ফাহিদের বলা কথা গুলো

ফাহিদ একটা তাচ্ছিল্য হেসে আবার বলে উঠলো

--- আসলে আমি ওর ভালোলাগা ছিলাম ভালোবাসা না। যদি ভালোবাসা হতাম তাহলে কি ও আমাকে ছেড়ে যেতো?

আদ্র আর ছাদের দিকে গেলো না কারণ তার ফাহিদকে আপতত কিছু বলার নেই তাই সে নিচে নেমে এলো
সবাই এবার বাড়ি ফিরবে রাত হয়ে গেছে আহিও আদ্রদের সাথে চলে গেলো
___

পরের দিন সকালে,
আহি অনেক দিন কলেজে যায়নি তাই আজ কলেজে যাবে। আহি রেডি হয়ে নিচে নামলে আদ্র আহিকে কলেজে নিয়ে যায়

কলেজে এসেই শ্রেয়ার সাথে আহির দেখা হয়.।শ্রেয়া অবাক হয়ে বললো,

—ওমা তুই কই থেকে আসলি? না মানে তোর বাপের বাড়ি বেড়ানো শেষ বুঝি? আমি তো ভাবলাম হয়তো কলেজের রাস্তা ভুলে গেছিস

আহি শ্রেয়ার পিঠে দুটো কিল দিয়ে বললো,
—ওই ফাজিল, এমন ভাবে বলিস কেন?

শ্রেয়া পিঠ ডলতে ডলতে বললো,

--- তাহলে কিভাবে বলবো তোকে আদর করে? দেখ বইন এসব আদর আমি তোরে কেন করবো? এসব শুধু মাত্র আমার জামাইয়ের জন্য।

--- সেই জামাইটা আগে বানা!

এর মাঝে সিফাত এবং আহান আসলো, শ্রেয়া দেখেই বিরক্ত হলো এই সিফাত ইদানিং একটু বেশি জ্বালাচ্ছে শ্রেয়াকে। সিনিয়র দেখে কিছু বলতেও পারে না
ওরা দুজন কাছে আসতেই
শ্রেয়া এবং আহি তাদের সালাম দিলো

সিফাত সালামের উত্তর দিয়ে বললো,

--- কি জুনিয়ররা কেমন আছো?

আহি বললো,

--- জ্বি ভাইয়া ভালো আছি।

সিফাত শ্রেয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,

--- কি ব্যাপার ম্যাম আপনি ভালো নেই?

শ্রেয়া বিরক্তি নিয়ে বললো,

--- ছিলাম এখন আর নেই? ভালো আর থাকতে দিচ্ছেন কই?
আহান মনে মনে ভাবলো এই কার প্রেমে পড়লো ওর বন্ধুটা শুধু ত্যাড়া করে কথা বলে।

সিফাত বললো,

--- তাহলে চলো তোমার মন ভালো করি?

শ্রেয়া কিছু বলতে যাবে এর মাঝে একটা কণ্ঠ শুনে থেমে গেলো

--- কেন সিফাত তুমি কি সবার মন ভালো করার চাকরি নিয়েছো নাকি?

সবাই পিছে ফিরে দেখে ফাইজ দাঁড়ানো
সিফাতরা তাড়াতাড়ি সালাম দিয়ে বললো,

--- ইয়ে মানে স্যার,,,,

--- শাট আপ যাও নিজের কাজে যাও।

সিফাতরা চুপচাপ চলে গেলো ফাইজ এবার শ্রেয়ার দিকে তাকালো, শ্রেয়া ফাইজের দিকেই তাকিয়ে ছিলো
ফাইজ ভাবলো এই মেয়ে অনেক দিন ধরে কোনো ঝামেলা করে না তার সাথে এমনকি তার ক্লাসও করে না হয়তো সামনে পরীক্ষা তার জন্য ।
ফাইজ আবার তাকালো ভালো করে দেখলো, তার কেন জানি সেই প্রথম দিন ওই বৃষ্টিতে ভিজতে থাকা অবস্থায় যখন শ্রেয়াকে দেখলো সেদিন শ্রেয়ার পুরো মুখ না দেখেই ভালো লেগে গেছিলো। তার একটা বড় কারণ হলো তার চোখ দুটো।

এরপরে যখন শ্রেয়াকে কলেজে দেখলো তখন কেমন জানি লাগতো ওকে দেখে। শ্রেয়াকে দেখলেই বুকের ভিতর কেমন একটা অনুভব হয় তার
এসব ভাবার মাঝেই আহি বলে উঠলো,

--- কি ব্যাপার ভাইয়া কি এতো ভাবো?

ফাইজ দৃষ্টি সরিয়ে এনে বলে,

--- কিছু না, এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিলি?

--- আর বলো না ওই সিনিয়রা এসে বিরক্ত করছিলো।

--- তোকে কিছু বলছে?

--- আরে না ওরা আমাকে কিছু বলে না ওই সিফাত ভাইয়া শুধু শ্রেয়াকে জ্বালায়, কলেজে আসলেই তো দেখি শ্রেয়ার পিছু পিছু ঘোরে তারপর মাঝেমধ্যে গিফটও দেয়। আমার মনে হয় কি সিফাত ভাইয়া মনে হয় শ্রেয়াকে পছন্দ করে।

ফাইজের মাথাটা চট করে গরম হয়ে উঠলো। পছন্দ করে মানে? শ্রেয়াকে কেন ও পছন্দ করবে?

তবে উপরে নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বললো,

--- তুই ক্লাসে যা আর শ্রেয়া তুমি আগের দিনের নোট গুলি নিয়ে আমার রুমে আসো।

এই বলে ফাইজ চলে গেলো, এবার শ্রেয়া বলে উঠলো,

--- ধুর এখান আবার নোট নিয়ে এর কাছে যাওয়া লাগবে?
আহি মুচকি হেসে বললো,

--- তাড়াতাড়ি যা ভাইয়া কিন্তু রাগ করবে দেড়ি হলে।

এই বলে আহি ক্লাসে আর শ্রেয়া ফাইজের রুমের দিকে বিরক্ত মুখ নিয়ে এগোলো
এদিকে ফাইজের হঠাৎ করে রাগ উঠতে লাগলো বার বার মনে আসছে সিফাত শ্রেয়াকে পছন্দ করে কিন্তু তার কেন রাগ লাগছে?
এসব ভাবার মাঝেই রুমে টোকা পড়লো, শ্রেয়া বললো,

--- স্যার আসবো?

--- হ্যাঁ এসো।
শ্রেয়া রুমে ঢুকে ফাইজের দিকে খাতা টা দিলো, ফাইজ খাতা না নিয়ে শ্রেয়ার দিকে চেয়ে রইলো।

ফাইজ খাতা না নিয়ে চেয়ে থাকার কারণে শ্রেয়া একটু অবাক হলো, তারপর আসেপাশে একবার তাকালো নিজের দিকে তাকালো সব ঠিক কাছে কিনা, তারপর দেখলো সবই ঠিকই আছে তাহলে উনি এভাবে তাকিয়ে আছে কেন, শ্রেয়ার কেমন অস্থির বোধ হচ্ছে।

তাই ডেকে উঠলো,

--- স্যার?

--- হুমম

ফাইজ শ্রেয়ার দিকে তাকিয়েই উত্তর দিলো

--- ইয়ে মানে স্যার নোট চেয়েছিলেন না? নোট নিয়ে এসেছি তো দেখেন।

এবার ফাইজের ধ্যান ভাঙালো হাত বাড়িয়ে নোট টা নিলো, পৃষ্ঠা উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখতে লাগলো আর মনে মনে ভাবতে লাগলো, না এই মেয়ের হাতের লেখা তো বেশ

শ্রেয়ার খুব অস্হির লাগছে এভাবে একা একটা রুমে, আর এই স্যারও আজকে এতো লেট করছে কেন

--- স্যার আর কি কিছু দরকার.? নাহলে যাবো আমি ক্লাসের দেড়ি হয়ে যাচ্ছে।

হঠাৎ করে ফাইজের মনে পড়ে গেলো কি কারণে ও ডেকে ছিলো শ্রেয়াকে, আবার রাগ উঠে গেলো ওর। হাতের রগ গুলো ফুলে উঠছে তারপরও ফাইজ নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো শ্রেয়ার সামনে ও রাগ দেখাতে চাচ্ছে না। তাই কোনোমতে বললো,

--- ওই সিনিয়র তোমাকে বিরক্ত করে?

শ্রেয়ার ভ্রু কুচকে আসে অকপটে বললো,

--- হ্যাঁ,,।

--- কতদিন ধরে ডিস্টার্ব করে?

--- প্রায় অনেক দিন হবে।

—ও আচ্ছা এবার আসতে পারো।

শ্রেয়া যেন হাফ ছেড়ে বাচলো।উল্টো ঘুরে দ্রুত বের হয়ে গেলো।ফাইজ তীক্ষ্ণ চোখে ওর যাওয়ার প্রাণে চেয়ে থাকল।

চলবে,,,,,

(তোমরা তো জানোই আমার অবস্থার কথা কীবোর্ডে হাত দিতে মন চায় না।এই দিকে এই গল্পটা লেখা শুরু করছি নয় মাস হয়ে গেছে এখনও শেষ করতে পারি নি।তাই ভাবলাম এটা টানা দিয়ে শেষ করে দি।আর হ্যাঁ আমি কিন্তু লেখিনি আমি জাস্ট মুখে বলেছি আমার বোন লেখেছে।কেমন হয়ছে জানিও আর আশা করি আগের মতো রেসপন্স পাবো।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 38 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন