#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট:৪৩
#লেখিতে_আরিফা_তাসনিম_তামু
_____কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌____
পরের দিন,
আহি,শ্রেয়া,সাইফা আর তিহা মাঠে হাঁটছে কারণ ওদের প্রথম ক্লাস টা হবে না। তাই একটু ঘুরছে। এরই মাঝে তিহান কোথা থেকে জানি দৌড়ে আসে ওদের কাছে। সবাই ওর দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করছে আসলে ব্যাপারটা কি
এদিকে তিহান হাঁপাচ্ছে, তিহা বলে উঠলো,
--- কিরে এভাবে হাঁপাচ্ছিস কেন আর কোথা থেকে দৌড়ে এলি?
তিহান এবার বললো,
--- তোরা কিছু শুনিস নি?
সবাই এবার ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকালো কি শুনবে
আহি বললো,
--- কি শুনবো? তুই কি বলছিস?
তিহান বললো,
--- আরে আমাদের সিনিয়র সিফাত ভাই তাকে কে জানি মেরেছে সে এখন হাসপাতালে ভর্তি।
সবাই এই কথা শুনে অবাক হলো। কালকেও তো ভালোই দেখলো।
শ্রেয়া বলে উঠলো,
--- মেরেছে কেন?
--- শিওর জানি না তবে সবার মুখে যেটা শুনেছি কালকে নাকি সিফাত ভাইয়ের একটা কাজ ছিলো সেটা শেষ করে বাসায় ফিরতে একটু রাত হয়ে গেছিলো তাই সে একা একা বাসায় যাচ্ছিলো এর মাঝে নাকি একটা লোক এসে তাকে মারতে শুরু করে, সবাই যেটা ধারণা করছে হয়তো রাস্তায় কত বাজে লোক থাকে তাদের মধ্যে হয়তো কেউ মেরেছে।
এখন হাসপাতালে ভর্তি হাত ভেঙে গেছে শরীরে আরও অনেক জায়গায় আঘাত পেয়েছে।
সবাই চুপ করে ঘটনা শুনলো। শ্রেয়া আপসোসের সুরে বলে উঠলো,
--- ইস রে বেটার জন্য খুবই কষ্ট বোধ হচ্ছে অতি কষ্টে আমি কুষ্ঠিত বোধ করছি
এত সিরিয়াস কথার মাঝেও শ্রেয়ার এই কথায় সবাই হেসে দিলো।
সাইফা হাসি থামিয়ে বললো,
--- এমনি যাই বলিস না কেন ভাই, সিনিয়র টা কিন্তু দেখতে সুন্দর আছে।
তিহান বললো,
--- তোর তো সব ছেলেকেই ভালো লাগে যারে দেখিস তারেই বলিস দেখ ভাই ছেলেটা কি সুন্দর।
সাইফা রেগে বললো,
--- আমি মোটেই সবাইকে বলি না, কই তোকে জীবনে বলছি শয়তান একটা ।
তিহান কিছু বলতে যাবে এর মাঝে আহি এসে থামিয়ে দিলো,
--- ভাই তোরা থাম ঝগড়া করিস না চল ক্লাসে যাই
তারপর সবাই চুপচাপ ক্লাসে চলে গেলো।
______
এদিকে ফাইজ তার রুমে বসে রেডি হচ্ছে কলেজ যাই নি আজ সে। আজকে অফিসে একটা মিটিং আছে তাই আদ্র ফাইজকে যেতে বলেছে অফিসে।
ফাইজ আয়নার সামনে বসে চুল ঠিক করছিলো, তার আজ রেডি হতে একটু সমস্যা হচ্ছে কারণ তার হাতে ব্যান্ডেজ করা।
এর মাঝে আদ্র আসলো
--- কিরে ফাইজ হয়েছে তোর?
--- হ্যাঁ ভাইয়া আর একটু
আদ্র খেয়াল করলো ফাইজের হাতে ব্যান্ডেজ আদ্র ফাইজের হাত নিজের কাছে নিয়ে বললো,
--- কি ব্যাপার হাতে ব্যান্ডেজ কেন?
ফাইজ আমতা আমতা করে বললো,
--- না মানে আসলে ভাইয়া ব্যাথা পেয়েছি একটু।
আদ্র সন্দেহ গলায় বললো,
তুই কি এমন ব্যাথা পেয়েছিস যে হাতে ব্যান্ডেজ করেছিস?
--- কিছু না ভাইয়া ছাড়া তো, চলো দেড়ি হয়ে যাচ্ছে আমাদের।
--- ফাইজ দেখ মিথ্যে পছন্দ করি না আমি, সত্যি কথা বল তুই কি মারামারি করেছিস?
ফাইজ কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না কারণ ও জানে আদ্রর কাছে মিথ্যে বলতে পারবে না তাই বললো,
--- ভাইয়া এখন বাদ দেও পরে বলবো তোমায়।
--- কালকে রাতে নাকি দেড়ি করে বাসায় এসেছিস দারোয়ান আঙ্কেল বললো।
ফাইজ জানতো আদ্রর কাছে কিছু লুকানো যাবে না, তাই সে বললো,
--- হ্যাঁ
--- তার মানে আমার সন্দেহ ঠিক তুই মারামারি করেছিস?
--- হ্যাঁ
--- কিন্তু কেন? আর কাকেই বা মেরেছিস?
--- প্লিজ ভাইয়া তুমি জানতে চেয়েছো আমি বলেছি কিন্তু এখন সব বলা সম্ভব না আমি তোমাকে পড়ে সব বলবো।
আদ্র বললো,
--- ঠিক আছে কিন্তু এভাবে আর মারামারি করবি না।
ফাইজ মুচকি হেসে বললো,
--- ঠিক আছে চলো ভাইয়া
এরপর দুই ভাই অফিসের জন্য বের হলো।
_____
সূচি আর ইয়ানা একটা রেস্টুরেন্টে বসে কফি খাচ্ছিলো আর কথা বলছে। কথা বলার টপিক হচ্ছে ইয়ানার আর রৌদ্রের বিয়ের ব্যাপার টা।তাই সে ইয়ানাকে বলছে,
--- দেখ ইয়ানা এভাবে আর কত দিন দেখ বিয়েটা কোনো ছেলেখেলা না। তোর একটা ভবিষ্যৎ আছে কিছু দিন পরে যখন তোর পরিবার তোকে বিয়ের কথা বলবে তখন কি করবি তুই? এভাবেই চুপ করে থাকবি?
ইয়ানা বললো,
--- কি করবো আমি বুঝতে পারছি না।
--- তুই রৌদ্র ভাইয়ের সাথে কথা বল। তার সাথে বসে কথা বল, জানতে চা সে কি চায়
--- আমার তার সাথে এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে কেমন জানি লাগে
--- তাহলে তোর পরিবারের কাউকে জানা তোর দুই ভাই বা কাউকে একটা তো জানা।
--- ভয় হয় আমার।
--- কিসের ভয়?
--- যদি তারা আমাকে ভুল বুঝে, এটার ভয়।
--- দেখ আশা করি তুই বুঝিয়ে বললে কেউ ই তোকে কিছু বলবে না।
কথা বলার মাঝে ইয়ানা রেস্টুরেন্টের দরজার দিকে তাকালো দেখতে পেলো রৌদ্র কে। রৌদ্র একজন লোকের সাথে কথা বলতে বলতে ঢুকছে। ঢুকে একটা টেবিলে বসলো। ইয়ানার নজর মিলিয়ে সূচি তাকালো দেখলো রৌদ্র। সূচি ইয়ানার দিকে চেয়ে বললো,
--- ভাইয়া এসেছে দেখি।
--- হুমম।
সূচি কিছু একটা ভেবে বললো,
--- এই ইনু আম্মু ফোন দিয়েছিলো আমার একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে আমি যাই কেমন তুই থাক।
এই বলে সূচি উঠে গেলো
ইয়ানা বলে উঠলো,
--- এই, এই সূচি আমাকে রেখে কই যাস
ইয়ানার বলা কথা টা একটু বেশিই জোরে ছিলো তাই রেস্টুরেন্টে থাকা সব মানুষ আপতত ইয়ানার দিকেই তাকিয়ে আছে।
এটা বুঝতে পেরে ইয়ানা একটা বোকা বোকা হাসি দিয়ে সবার দিকে তাকাতেই চোখ গেলো রৌদ্রের দিকে।
হ্যাঁ রৌদ্রও ইয়ানার দিকে তাকিয়ে আছে।
রৌদ্রের তাকানো দেখে ইয়ানা একটু অস্বস্তি ফিল করলো।
রৌদ্র সামনে থাকা ব্যক্তিকে কিছু বলতেই সে রৌদ্রের সাথে হাত মিলিয়ে চলে গেলো।
ইয়ানা আস্তে করে কেটে পড়তে চেয়েছিলো কিন্তু রৌদ্র আটকে দেয়।
রৌদ্র বলে উঠলো,
--- কি ব্যাপার ম্যাম আমাকে দেখে পালাচ্ছেন কেন?
--- আপনাকে দেখে পালাতে যাবো কেন আজব? আমি তো এমনিই যাচ্ছিলাম
--- ও আচ্ছা তাই নাকি
--- হুম
--- তাহলে একটু বসেন।
ইয়ানা ভ্রু কুঁচকে বললো,
--- কেন? বসবো কেন?
--- উফ এত প্রশ্ন করো কেন তুমি উষ্ঠা খাওয়ালী? একটু বসো সুখ দুঃখের গল্প করি তোমার সাথে।
--- দেখুন আমার একটা সুন্দর নাম আছে। আমাকে মোটেই এই নামে ডাকবেন না।
রৌদ্র একটু ইয়ানার দিকে এগিয়ে আসে ইয়ানা পিছিয়ে যায় রৌদ্র আরেকটু এগিয়ে এসে ইয়ানার মুখের উপর একটা ফু দিয়ে বলে,
--- ডাকবো একশোবার ডাকবো, এই নামে শুধু আমিই ডাকবো তোমাকে।
ইয়ানা তাকিয়ে আছে রৌদ্রের দিকে ওর কেমন জানি লাগছে, বুক টা ধুকপুক করছে রৌদ্রের এত কাছে আসাতে।
রৌদ্র বুঝতে পেরে সরে আসে,তারপর বিল মিটিয়ে ইয়ানার কাছে এসে বলে,
--- চলো।
--- কোথায় যাবো?
রৌদ্র একটু বিরক্ত হয়ে বলে,
--- এত প্রশ্ন করো কেন? কিডন্যাপ করছি না তোমাকে।
এই বলে সামনে এগিয়ে গেলো। ইয়ানাও বের হলে দেখতে পারে রৌদ্র গাড়িতে উঠছে, ইয়ানা কোনো কথা ছাড়াই গাড়িতে উঠে বসে।
ইয়ানা উঠতেই রৌদ্র গাড়ি ছেড়ে দেয়।
ইয়ানা রৌদ্রের গাড়িতে উঠে কোথাও যাচ্ছে সেটা একজন দেখে ফেলে। হ্যাঁ সেই একজন আর কেউ না সে হলো গোয়েন্দা শালু।
সে নিজে বিড়বিড় করে বলতে থাকলো,
--- এই পোলারে মোর একটুও সুবিধার লাগতাছে না, ছোট আপারে আবার কই লইয়া গেলো। এগোরে আমার নজরে নজরে রাখতে হইবো।
____
এদিকে কলেজ ছুটি দিয়ে দিয়েছে আহি আর শ্রেয়া গেট দিয়ে বের হলো দেখতে পেলো আদ্র গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আহি গেটের কাছে আসতেই মন খারাপ হয়ে গেলো আজ ভেবেছিলো শ্রেয়ার সাথে যাবে। কিন্তু যেহেতু আদ্র এসেছে তাহলে ওকে ওর সাথেই যেতে হবে।
এসব ভাবার মাঝেই ফাইজও গাড়ি থেকে নেমে আসলো, হাতে ব্যাথা থাকার কারণে আজকে আদ্রর গাড়িতেই আসা।
ওরা এগিয়ে আসতেই আদ্র আহিকে বলে উঠলো,
--- আসো বার্বিডল।
শ্রেয়া আদ্রর কথা শুনে মুচকি হেসে আহিকে বললো,
--- তাহলে তো ভাইয়া এসেছে তোর তো আর আমার সাথে যাওয়া হবে না। তুই তাহলে ভাইয়ার সাথে চলে যা আমি রিকশা করে চলে যাই।
এই কথা শুনে আদ্র বললো,
--- সমস্যা নেই তুমিও উঠো গাড়িতে তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিবো।
--- না না স্যার আমি যেতে পারবো। আপনরা যান।
আদ্র কিছু বলতে যাবে এর মাঝে ফাইজ বলে উঠলো,
--- তুমি যেতে পারবে আমরা সবাই জানি কিন্তু ভাইয়া যেহেতু বলছে তাই গাড়িতে উঠো।
শ্রেয়া বিরক্তি নিয়ে তাকালো ফাইজের দিকে, শ্রেয়া কিছু বলবে তার আগেই আদ্র বলে,
--- শ্রেয়া গাড়িতে উঠো তুমি যদি আমাদের সাথে না যাও আমার বউটার মন খারাপ হয়ে যাবে, আমার একটা মাত্র বউ ওর মন খারাপ হলে আমার মনটা যে ভেঙে যাবে।
শ্রেয়া আদ্রর কথা শুনে হেসে দিলো আহি চোখ রাঙিয়ে শ্রেয়ার হাত ধরে গাড়ির পিছনে উঠে বসলো।
আর আদ্র আর ফাইজ সামনে।
গাড়ি চলতে শুরু করলো, পিছনে বসে আহি আর শ্রেয়া কথা বলছে আর হাসছে
ফাইজ লুকিং গ্লাসে সেটা দেখছে
এর মাঝে আদ্র আহিকে বললো,
--- বার্বিডল, শুনলাম তোমাদের কলেজের কোন সিনিয়রকে নাকি কে জানি মেরেছে?
আহি আদ্রকে বললো,
--- হ্যাঁ। আপনাকে সিফাত ভাইয়ের কথা বলেছিলাম না যে শ্রেয়াকে ডিস্টার্ব করে ওনাকেই কে জানি মেরেছে।
--- ওহ্
আহি আবার বললো,
--- যাক শ্রেয়া কিছুদিন ওনার ডিস্টার্ব থেকে ছুটি পাবি।
শ্রেয়া উত্তর দিলো,
--- হ্যাঁ
এতক্ষণ সব কথা শুনছিলো ফাইজ হঠাৎ কি জানে ভেবে একটা শয়তানি হাসি দিলো, যেটা আদ্রর চোখে এড়াতে পারেনি। আদ্র দেখেছে সেই হাসিটা কিন্তু ও কিছু বললো না ও ভাবছে কিছু একটা।
গাড়ি থেমেছে একটা রেস্টুরেন্টের সামনে ওরা বলছে যেহেতু দুপুর হয়ে গেছে সবাই বাহিরে থেকেই লাঞ্চ করে যাবে। তাই শ্রেয়া ওর আম্মুকে ফোন করে বললো ও আহিদের সাথে আছে ফিরতে দেড়ি হবে একটু সাথে আদ্রও শ্রেয়া আম্মুর সাথে কথা বলছে, যে টেনশন নিতে হবে না সে পৌঁছে দিবে বাসায়।
ওরা খাওয়া দাওয়া শেষে ঠিক করলো একটু ঘুরবে।
তাই ওরা একটা ফাঁকা রাস্তায় এসেছে হাঁটছে ওরা। আদ্র আহির হাত ধরে অন্য দিকে নিয়ে গেলো কতদিন হলো বউ টার সাথে একটু ঘুরে না।
আহি বললো,
--- আরে কি করছেন কি ওদিকে ভাইয়া আর শ্রেয়া একা তো।
--- এই বউ দুটো মানুষ একা হয় কিভাবে?
--- তারপরও শ্রেয়া একা ভাইয়ার সাথে কি করবে?
--- উফ বউ তুমি সবার কথা ভাবো শুধু নিজের জামাই টার কথাই ভাবো না।
এই বলে আদ্র একটু মন খারাপ করার নাটক করলো।
আহির খারাপ লাগলো আসলেই এতদিন আদ্রকে একটুও সময় দিতো পারে নি।
তাই বললো,
--- ঠিক আছে চলুন হাঁটি।
আদ্র মুচকি হেসে হাঁটা শুরু করলো। হাঁটতে হাঁটতে বেশ দূরে এলো। দুজনেই চুপ কেউ কোনো কথা বলছে না। তাই আহি বলে উঠলো,
--- একটা কথা বলবো?
--- একটা কেন বার্বিডল তুই হাজারটা কথা বললেও আমি শুনতে রাজি।
--- না হাজার টা পড়ে শুনিয়েন আগে এটা শুনন।
--- হুম বল।
--- আচ্ছা যদি কখনো আমাকে চিনতে না পারতেন তাহলে কি করতেন? অন্য কাউকে বিয়ে করতেন?
আদ্র মাথা নিচু করে একটা মুচকি হাসি দিলো আর বললো,
--- অন্য কাউকে বিয়ে করতাম? কী করে করতাম বল তো? তুই না থাকলে হয়তো জীবনটা চলত, কিন্তু সেই জীবনে বেঁচে থাকার কোনো মানে থাকতো না।
এই বলে একটু থামে আদ্র, আহির দিকে তাকিয়ে আবার বলে উঠলো,
--- তুই যদি কোনোদিন আমার জীবনে না আসতিস, সেটা আলাদা কথা। কিন্তু তোকে একবার ভালোবেসে অন্য কারও হয়ে যাওয়া? সেটা আমার দ্বারা কখনোই সম্ভব হতো না। তোকে না ফেলে পুরো এক জনম কেন সাত জনমও আমি আদ্র একা পার করে দিতাম।তবুও তোর জায়গা অন্য কাউকে দিতাম না।
আহি মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আদ্রকে বললো,
--- আপনি এমন কেন বলুন তো? আপনাকে যতবার দেখি, ততবারই মনে হয় মানুষটা তো একই, অথচ আমি প্রতিবারই নতুন করে তার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি।
আদ্র একটু দুষ্ট হেসে বললো,
--- তাই নাকি বউজান? কই আপনি তো একটুও নিজের জামাই টাকে আদর করেন না।
আহি লাজুক হেসে আদ্রকে একটু ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে অন্য পাশে চলে যায় আর আদ্রও তার পিছে পিছে চলে যায়।
____
এদিকে শ্রেয়া একটা বেঞ্চে বসে আসে ওর খুবই বিরক্ত লাগছে একা একা তখন আহিকে যেতে দেখলো আদ্রর সাথে কিন্তু শ্রেয়া আর আহিকে ডাকে নি যেহেতু ও ওর হাজবেন্ডের সাথে আছে তাই ডিস্টার্ব না করাই ভালো মনে করলো।
এসব ভাবতে ভাবতে বুঝলো কেউ ওর পাশে এসে বসেছে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো ফাইজ হাতে একটা আইসক্রিম সেটা শ্রেয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,
--- নেও এটা।
শ্রেয়া অবাক হলো ফাইজ ওকে আইসক্রিম দিচ্ছে। কিন্তু শ্রেয়া বললো,
--- না স্যার আমি খাবো না আপনি খান।
ফাইজ ভ্রু কুঁচকে বলল,
— তোমাকে যা দিচ্ছি, সেটা নেও। এত কথা বলার কী আছে?
শ্রেয়া একটু থমকে গিয়ে বলল,
— কিন্তু স্যার, আমি তো
ফাইজ এবার একটু বিরক্ত গলায় বলল,
— আবার কিন্তু কী? আইসক্রিমটা গলে যাচ্ছে। চুপচাপ খাও।
শ্রেয়া অবাক চোখে কিছুক্ষণ ফাইজের দিকে তাকিয়ে থেকে আইসক্রিমটা হাতে নিল।
ফাইজ তখন অন্যদিকে তাকিয়ে গম্ভীর মুখে বসে রইল।
শ্রেয়া কিছুক্ষণ চুপচাপ আইসক্রিমটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর আস্তে করে বলল,
— আপনি সবসময় এমন ধমক দিয়ে কথা বলেন কেন?
ফাইজ ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,
— তুমি সবসময় এত কথা বলো কেন?
শ্রেয়া মুখ বাঁকিয়ে আইসক্রিমে কামড় দিয়ে বলল,
— আমি তো আপনার সাথে কথাই বলছিলাম না।
— চুপ করে খাও
শ্রেয়া অবাক চোখে ফাইজের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিচু গলায় বলল,
— আপনি বেশ কড়া মানুষ তো!
ফাইজ মৃদু হেসে সামনে তাকিয়ে বলল,
— এখনো তো কিছুই দেখোনি।
শ্রেয়া কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। তারপর আইসক্রিমে ছোট্ট একটা কামড় দিয়ে বলল,
— আচ্ছা, আপনি আমাকে আইসক্রিম দিলেন কেন?
ফাইজ কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে দুষ্ট হেসে বলল,
— আমি খাব আর তুমি তাকিয়ে থাকবে তার পর নজর লাগবে তখন আমার পেট খারাপ হবে না
শ্রেয়া চোখ পাকিয়ে তাকাল।
— আপনি এমন কেন?
ফাইজ চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল,
— কেমন?
—এই যেমন মানুষের নজরের কথা বুঝতে পারেন কিন্তু মনের কথা পারেন না
ফাইজ ঝড়ের গতিতে ভ্রু কুচকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে কথাটার মানে বুঝার চেষ্টা চালালো।শ্রেয়া ততক্ষণে উঠে চলে গেলো
চলবে,,,