ফন্ট সাইজ:
থিম:
কি ভয়ংকর মায়া তোর

পর্ব 47

লেখক: আরিফা তাসনিম তামু

#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_অন্তিম পর্বের (১ম খন্ড)
#লেখিতে_আরিফার_তাসনিম_তামু

______কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ🚫❌__

আজ শুক্রবার পবিএ জুম্মারদিন আজকেই আদ্র আহির বিয়ে।

সকাল থেকে পুরো বাড়িতে হৈচৈ শুরু হয়ে গেছে।চারদিক থেকে ডাকাডাকি,চেচামেচির শব্দ,আত্মীয়সজনের গিজগিজ, যে যার মতো ব্যস্ত কাজে।

আদ্র সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই বিয়ের আয়োজন দেখতে শুরু করেছে। কখনো রৌদ্রর সঙ্গে ডেকোরেশনের কাজ দেখছে, কখনো বাপ-চাচাদের সঙ্গে বসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। সবকিছু ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, সেদিকে তার কড়া নজর।

অথচ এত ব্যস্ততার মাঝেও তার মন পড়ে আছে একজনের কাছে।

আহি..!

সকাল থেকে মেয়েটার সঙ্গে একবারও দেখা হয়নি তার। একই বাড়িতে থেকেও দেখা হচ্ছে না—ব্যাপারটা আদ্রের কাছে রীতিমতো অসহ্য লাগছে।
সকাল নয়টার দিকে আহিরকে সাজানোর জন্য পার্লারে পাঠানো হয়েছে। বাড়ির মেয়েরা সবাই মিলে তাকে পার্লারে নিয়ে গেছে। যাওয়ার আগে একবার আদ্রকে দেখার ইচ্ছে থাকলেও সবার তাড়াহুড়োয় আর তা হয়ে ওঠেনি।
এদিকে আদ্র বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে।

রৌদ্র এসে আদ্রকে ঠেলেঠুলে নিয়ে গেলো রেডি করাতে।অলরেডি ১১টা বেজে গেছে।রেডি হয়ে সোজা মসজিদে গিয়ে নামাজ শেষ করতে তার পর বিয়ে পড়ানো হবে।

আদ্রের জন্য আগে থেকেই একটি সুন্দর অফ হোয়াট রঙ্গের শেরওয়ানি বের করে রাখা হয়েছে। সঙ্গে মানানসই পাগড়ি, ঘড়ি আর জুতো। আদ্রকে রেডি করিয়ে পাগড়ি টা মাথায় দিতে দিতে রৌদ্র সুর তুলে গেয়ে উঠলো_

**বর বেশে আদ্র যখন এলো রেএএএ..

,,,,,যেন খুশির বন্যা বয়ে গেলো রেএএএ..

~সম্পর্ক বদলে গেলো একটি পলকে..!

**শত্রু থেকে সমন্দী হয়ে গেলাম রে..!

রৌদ্রের এমন গান শুনে ফাইজ,সাইফ,তিহানসহ বাকিরা রীতিমতো হাসতে হাসতে গোড়াগুড়ি খাচ্ছে।

আদ্র বিরক্ত হয়ে বলল

—আজকের দিনে অন্তত তোর ভাঙ্গা কেছেট টা বন্ধ রাখ।

রৌদ্র ছোট বাচ্চার মতো ঠোঁটে আঙ্গুল চেপে চুপ করলো।বাকিরা আরো জোরে হেঁসে উঠল।আদ্রও হালকা হাসলো।রৌদ্রকে এসব বলেও লাভ নেই ও প্রাণ খোলা নিজেও হাসতে পছন্দ করে অন্যদেরও হাসাতে পছন্দ করে। জুম্মার আজান দিয়ে নামাজের সাময় হয়ে গেছে। সবাই রেডি হয়ে আদ্র কে নিয়ে মসজিদে গেলো।

ছেলেরা সব মসজিদে যাওয়ার পর আহি'কে নিয়ে বাকিরা সব পার্লার থেকে সাজগোছ করে এসে বাড়িতে ডুকলো।

__________________

নামাজ শেষে পুরুষরা কাজি নিয়ে বাড়িতে আসলো।খাওয়া দাওয়ার পার্ট আরো আগে শুরু হয়ে গেছে।আদ্রের সাথে রৌদ্র,ফাইজ,সাইফ,তিহান,ইয়াশ বসেছে। খাবার দিতেই সবাই খাওয়া শুরু করেছে। খাওয়ার মাঝে খাবার পরিবেশন করা লোকটাকে রৌদ্র দাঁত কেলিয়ে বলল

— এই যে ভাই আমাকে রোস্ট একটার পর একটা দিবেন কারণ আমি হচ্ছি বরের অনলি ওয়ান বেস্ট ফ্রেন্ড টু সমন্দী।জাত শত্রুও বলতে পারেন আমি আবার এসবে মাইন্ড করি না।

রৌদ্রের কথায় লোকটা হেঁসে রৌদ্রের প্লেটে রোস্ট তুলে দিতে নিলে রৌদ্র ইশারায় মানা করে দেয়।ওর আর খেতেই ইচ্ছে করছে না জাস্ট মজা করার জন্য এটা বলেছে।বাকিরা মিটিমিটি হাসছে।

খাওয়া শেষ হওয়ার আগে সেখানে এসে হাজির হলো মেয়েদের দল।কারণ ওরা গেট দরতে পারেনি ছেলেরা ভিতরে চলে এসেছে।মেয়েদের এক একজনের সাজ দেখে ছেলেরা খাওয়া ছেড়ে হা করে চেয়ে আছে।একমাএ আদ্র বাদে কারণ তারটা এখানে নেই।শালু এসে খুশিতে গদগদ হয়ে আদ্রেকে বলল

— হ্যাপি বাতডে ভাই জান।

শালুর কথা শুনে সবাই হাসতে হাসতে শেষ।অতি উওেজনায় ভুলবাল বলে ফেলেছে। তাও আবার ভুল ইংরেজি। রৌদ্র কোনো রকম হাসি থামিয়ে বলল

—আলু শালু তোমাকে কত বার বলেছি একটু রংডং কম করে ইংরেজি শিখো। দিলে তো পেট টা ব্যথা করে।

শালু লজ্জা ফেলো তবুও মুখ ভেঙ্গিয়ে বলল

— ওসব বাদ দেন আগে কামের কথায় আসি। এই গরম পানিতে হাত ধুইয়া আমাগো টেকা দেন।

—ভাইয়া টাকাও দাও গেটের টাকাও দিবা।

ইয়ানা আদ্রকে উদ্দেশ্য করে বলল।রৌদ্র একটা হাড্ডি মেয়েদের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল

—এক দাঁত দিয়ে এই হাড্ডি কামড় দিয়ে দেখাতে পারলেই টাকা দাওয়া হবে না হলে এক পয়সাও পাবা না।

রৌদ্রের কথায় ছেলেরা শায় দিলো।শালু মুখ কুঁচকে বলল

—আপা আপনের জামাইডা বেশি কতা কয় এইডারে কেমনে আপনের পছন্দ হলো আপনে তো অনেক শান্ত।

—এই আলুর মা শালু একদম আমার ভোলাবালা বউটাকে কনপড়া দিবা না।

ইয়ানা রৌদ্রের মুখে বউ ডাক শুনে লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।তা দেখে রৌদ্র মুচকি হেঁসে বলল

—যাও বউ ভিতরে চলে জাও পঁচা আলুর সাথে থেকো না।

এই কথা শুনে শালু চেতে গেলো।

—আপনে পঁচা রোদ গরমে সাজ নষ্ট করেন।আপা আপনে জাবেন না সব টাকা না দাওয়া ধান্দা এই শালু কি এসব বুঝে নাকি।

রৌদ্র কিছু বলতে জাবে এর আগে ইয়ানা অন্য দিকে তাকিয়ে বলল

—আজকের দিনে কোনো জামাই বউ না। হিসাব আলাদা ভাইয়া টাকা দাও।

আদ্র ওয়ালেট বের করে ওদেরকে ওদের টা বুঝিয়ে দিলো।যদিও আরো ঝামেলা করতো দুই পক্ষ ।কিন্তু তা আর হয়নি কাজির তাড়া আছে। বিয়ে পড়াতে হবে।

______________

ফুলের বেড়া দিয়ে একপাশে মেয়েরা আর অন্য পাশে ছেলেরা বর কে ঘিরে দরেছে।আদ্র ফুলের বেড়ার হালকা পাক দিয়ে যতটুকু আহিকে দেখা যায় দেখো।তবে ভালো করে দেখা যাচ্ছে না।লাল দোপাট্টায় মুখ ঢেকে বসে আছে।মেহেরুন রঙ্গের একটা লেহেঙ্গা পড়েছে।

অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসে গেল!
আদ্র আর আহিরের বিয়ে পড়ানোর সময় হয়েছে।প্রথমে দুই পরিবারের অভিভাবকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বললেন। এরপর বিয়ের দেনমোহর নির্ধারণ ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত করে আদ্রের দিকে তাকালেন।
কাজি সাহেব গম্ভীর অথচ স্নেহপূর্ণ কণ্ঠে বললেন,

— পিতা সিদ্দিক সায়ান খান ও মাতা রাইসা খানের এক মাএ কন্যা ফাহিরা নেওয়াজ আহিয়া কে নগদ ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে নিজের স্ত্রী হিসেবে কবুল করেছো।তাহল বল আলহামদুলিল্লাহ কবুল,!

ঘরের ভেতর মুহূর্তেই নীরবতা নেমে এল।
আদ্র সামবে আহিরের দিকে তাকাল।স্পষ্ট দেখা না গেলেও দেখলো মেয়েটা মাথা নিচু করে বসে আছে। হাতের আঙুলগুলো পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছে। তার বুকের ভেতরেও যেন একসঙ্গে হাজারটা অনুভূতি খেলা করছে।
আদ্রের মুখে ধীরে ধীরে হাসি ফুটে উঠল।
স্পষ্ট, দৃঢ় কণ্ঠে সে বলল,
— আলহামদুলিল্লাহ কবুল..!

শব্দটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আহির বুক ধুপ করে উঠলো।অন্য রকম অনুভূতি হচ্ছে তার আজ।

কাজি সাহেব এবার আবার বললেন,

— আলহামদুলিল্লাহ কবুল

আদ্র এবারও দৃঢ় কণ্ঠে বলল,

— আলহামদুলিল্লাহ কবুল।
তৃতীয়বার প্রশ্ন করা হলে আদ্র বিন্দুমাত্র দেরি না করে বলল,

— আলহামদুলিল্লাহ কবুল।

কথাটা বলার পর তার মুখে এমন এক প্রশান্তি ফুটে উঠল, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলল।

এবার কাজি সাহেব আহির কাছে গেলেন।
আহিরের পাশে পরিবারের মেয়েরা বসে আছে। ইয়ানা তার হাতটা আলতো করে ধরে রাখল।

কাজি সাহেব বললেন,

— পিতা আজিজ নেওয়াজ ও মাতা আতিয়া নেওয়াজ এর একমাএ যোগ্য পুএ ফাইজান নেওয়াজ আদ্র কে নিজের জীবন সঙ্গী নিজের স্বামী গ্রহণ করেছো।তাহলে বল আলহামদুলিল্লাহ কবুল।

এক মিনিট ২ মিনিট পার হয়ে গেলো তবুও আহি কবুল বলছে না।একে একে সবাই ওর পাশে বসলো বুঝাচ্ছে তবুও বলছে না।সবাই চিন্তায় পড়ে গেলো।আদ্র তো ঘামতে শুরু করে দিলো।রৌদ্র যেতে নিলে আদ্র তাকে থামিয়ে ফুল গুলো সরিয়ে এগিয়ে গেলো।সবাই সরে গেলো।আদ্র আহি গোমটা সরালো না।শুধু নিচু হয়ে ফিসফিস করে বলল

— কী হলো বার্বিডল কবুল বলছো না কেনো..?

আহি ও ফিসফিস করে অভিমানি কন্ঠে বলল

— আগে বলুন আমাকে চকলেট দিবেন। নাহলে আমি কবুল বলবো না।

আহির কথা শুনে বেচারা আদ্র পেট পেটে হাসি আসলো তবে এই মুহূর্তে হাসা যাবে না।পৃথিবীতে মনে সেই একমাত্র ব্যক্তি যেকিনা চকলেটের লোভ দেখিয়ে বিয়ে করছে।তার বাচ্চাদের কি বলবে? আব্বু তোমাদের আম্মুকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে বিয়ে করেছি?সবই কপাল কী আর করার বউয়ের ছোট্ট একটা আবদার এমন আবদারে আদ্র জানও দিয়ে দিতে পারবে।আবার ফিসফিস করে বলল

—কয় দোকান চকলেট চাই..?

—উম এক বক্স হলেই হবে।

—ওকে ডান এবার কবুল টা বলে দেন।আপনি তো আমার হার্ট অ্যাটাক করিয়ে দিচ্ছিলেন।মাথায় ডুকিয়ে নেন মিসেস আদ্র নেওয়াজ আমাকে ভয় দেখানোর অপরাধে আপনাকে যাবত জীবনের জন্য আমার কারাগারে বন্দি করা হলো।এটাই শাস্তি।এবার কবুল টা বলে কারাগারে ডুকে পড়ুন তো চট করে।

বলে আদ্র এসে নিজের জায়গায় বসলো।আহি মাথা নিচু করে মৃদু কণ্ঠে বলল,
— আলহামদুলিল্লাহ কবুল।

এভাবে তিনবার বলে দিতে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বলে ওদের জন্য দোয়া করলো।ইয়ানা ভাইয়ের দিকে চেয়ে বলল

—ভাইয়া এবার তুমি আহি'র গোমটা তুলো।

আদ্র উঠে এসে আস্তে করে আহির গোমটা তুললো।আহি নিচু হয়ে মুচকি হাসলো।গোমটা তুলে আহির মুখ দেখে আদ্র মুচকি হেঁসে বুকের বাম পাশে হাত দিয়ে মাশাআল্লাহ বলে পড়ে যেতে নিলে রৌদ্ররা দরে ফেলে।আদ্র উঠে আহির কপালে ছোট্ট একটা চুমু দিলো।সবাই হেঁসে উঠল।আহি তো লজ্জায় মরিমরি অবস্থা।ওদের দুজনকে পাশাপাশি বসিয়ে ইয়ানা একটা সুন্দর ফুলের গোল আয়না এনে দুজনের সামনে দরে বলল

— ভাইয়া আয়নাতে কী দেখতে পাচ্ছো..?

আদ্র আয়নায় আহির লাজুক মুখটার দিকে চেয়ে হালকা হেঁসে বলল

—আমার ঘরের চাঁদ কে।

সবাই একসাথে ওয়াও বলে চেঁচিয়ে উঠলো।এবার আহিকে জিজ্ঞেস করলো

— আহি আয়নায় কী দেখতে পাচ্ছিস.??

আহি আয়নায় তাকিয়ে লাজুক কন্ঠে বলল

—আমার পৃথিবী।

সবাই আবারও চেচিয়ে উঠলো।আদ্রের মুখ থেকে হাসিই সরছে না যেন। যে ছেলে সারাদিন গম্ভীর থাকে তার মুখ থেকে আজ হাসি সরছে না। সত্যি ভালোবাসা এমনই হয় কাঁদাতে জানে হাসাতেও জানে।

রৌদ্রের আর হাসতে ইচ্ছে করছে না বড্ড কান্না পাচ্ছে তার।বার বার চোখের কোণে পানি জমছে।আহি উঠে এলো ভাইয়ের কাছে।ভাইয়ের সামনে এসে ভাইকে জড়িয়ে দরেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো।রৌদ্রের চোখ থেকে টপটপ করে পানি ঝরছে।সবাই অবাক হয়ে দুজনকে দেখছে। কে বলছে শুধু রক্তের সম্পর্ক থাকলেই ভাইবোন হবে।এই যে রৌদ্র ছোট থেকে আহিকে নিজের বোনের মতো বড় করলো আজ বোনটা তার পরের ঘরে চলে যাচ্ছে। আর সবসময় চোখের সামনে দেখবে না। আগের মতো আবদার করবে না।আজ থেকে তাঁর বাড়ি খালি।

রৌদ্র বোনের চোখের পানি মুছে দিতে দিতে বলল

—পাগলি কাঁদছিস কেনো.?তোকে কি আমি একবারে দিয়ে দিচ্ছি তোর যখন ইচ্ছে তখন চলে যাবি। ভাইয়াকে কল দিবি ভাইয়া এসেই নিয়ে জাবো।যদি ওই আদ্রের বাচ্চা আটকাতে আসে ওকে আমরা গুলি করে দিবো তবুও তোকে নিয়ে যাবো কাঁদিস না সাজ নষ্ট হয়ে যাবে।

রৌদ্রের কথায় আহি কান্নার মাঝেও হাসলো।রৌদ্র আদ্রের দিকে চেয়ে বলল

—আমার বনুকে একদম কষ্ট দিবি না। কখনো কাঁদাবি না যদি কখনো এমন কিছু শুনেছি তো তোকে নিজের হাতে খুন করবো।

আদ্র হেসে বলল

—তোর বোন আমার ঘরের রানী।কথা দিলাম আজকের পর থেকে তোর বোনের চোখ থেকে এক ফোঁটা পানিও পড়তে দিবো না।

রৌদ্র হাসলো সে জানে আদ্র কেমন।রাইসা খান আর সায়ান খানও মেয়ের জন্য কাঁদলো।আহি সায়ান খানকে দরে কাঁদছে সায়ান খান মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে এটা ওটা বলছে দূর থেকে তরিকুল নেওয়াজ এই দৃশ্য দেখে মলিন হাসলেন।তিনি জন্ম দিয়েও বাপ হতে পারলো না কতটা ব্যড়থ তিনি। সত্যি তার মেয়েটা ভাগ্যবতী এমন পরিবারের হাতে পড়ে।উনি দোয়া করলো মেয়েটা যেন সুখি হয়।

________________________

রাত ১১:৩০

আদ্রের রুমের সামনে দাড়িয়ে আছে সেনাবাহিনীরা।অপেক্ষা কখন আদ্র আসবে আর তাঁরা হামলে পড়বে। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলল।আদ্রকে রৌদ্রের সাথে কথা বলতে বলতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে দেখা গেলো।সবাই নড়েচড়ে দাঁড়ালো।

আদ্র নিজের রুমের সামনে সবাইকে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলল

—সবাই এভাবে দাড়িয়ে আছিস কেনো.?

ফাইজ দাঁত কেলিয়ে বলল

—টাকা দাও ভাইয়া অনেক কষ্ট করে রুম সাজিয়ে টাকা না দিলে ডুকতে দিবো না।

—তোর লজ্জা শরম নেই বড় ভাই হয়ে বোনের বাসর ঘরের সামনে টাকার জন্য দাড়িয়ে আছিস.?

—না আমার কোনো লজ্জা শরম নেই। কারণ আমার মতো আরেকজনও আছে যে এখানের লিডার।

—কে লিডার.?

—ওই যে তোমার পিচে দাড়িয়ে আছে রৌদ্র ভাই।

আদ্র পিছে থাকাতেই রৌদ্র এমন ভাব করলো যেন সে কিছুই জানে না।

— রৌদ্র তুইও..?

রৌদ্র বোকা হেঁসে বলল

—হে হে হে বউয়ের আবদার দল বড় করতে হবে তাই আর কি। দিয়ে দে না ১-২ লাখ।

—কিহ..?

—যা শুনেছিস তাই বলেছি দেখছিস না আমরা মতো জন..?আলু শালু আসার আগে ভালোই ভালোই টাকা দে না হলে আজ তোকে ডুকতেও দিবে না।

আদ্র ফোঁস করে শ্বাস ফেলে নগদ ১০ হাজার দিলো কিন্তু তারা নিবে না।শেষমেশ ৫০ হাজার দাওয়ার পর মানলো।আদ্রকে ডুকতে দিলো।আদ্র ভিতরে ডুকে দরজা আটকিয়ে ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলে পিছনে তাকাতেই তার শরীর প্রশান্তিতে ভরে যায়।মুখে হাসি ফুটে।পুরো রুম ওরা ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়েছে।মাঝখানে ঘোমটা টেনে লাল টুকটুকে একটা বউ বসে আছে।আদ্র এক পা এক পা করে এগিয়ে গেলো।

খাটের সামনে এসে দাড়াতেই আহি নেমে পা দরে সালাম করতে নিলে আদ্র দরে ফেলে।ঘোমটা টা তুলে আহির লাজুক মুখের দিকে চেয়ে কয়েকবার মাশাল্লাহ আওড়ালো মনে মনে।তার কপালে ছোট্ট একটা চুমু দিয়ে বুকে জড়িয়ে বলল

—তোমার স্থান তো পায়ে না বুকে বউজান। আমি অনেক অনেক খুশি আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। তোমাকে আমার করে দাওয়ার জন্য। আমার ১৫ বছরের অপেক্ষার ফল হিসেবে তোমাকে দাওয়ার জন্য।

বলতে বলতে আদ্র ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো।আজকে কান্না খুশির কান্না। আহি অবাক হলো আদ্রের কান্না দেখে সত্যি সে অনেক ভাগ্যবতী আদ্রের মতো এমন একজনকে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেয়ে।যে তাকে ছোট থেকে ভালোবেসে তার জন্য অপেক্ষা করেছে শত-শত পালগামি করেছে।আহিরও চোখ ভিজে উঠে।

আদ্র অনেক্ক্ষণ কেঁদে নিজেকে শান্ত করে আহিকে বলল ওযু করে আসতে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করতে হবে।আহিও বাদ্য মেয়ের মতো গেলো।দুজনে ওযু করে আদ্র সামনে আহি পিছনে দাড়িয়ে নামাজ আদায় করলো।

নামাজ শেষে আদ্র ইয়া বড় বড় দুটা লাগেজ আহির সামনে এনে বলল

— এগুলো খুলো বউজান।

আহি অবাক হয়ে বলল

—এত বড় লাগেজে কি আছে..?

—নিজেই খুলে দেখেন।

আহি প্রথম টা খুলতেই হা হয়ে গেলো।পুরোটাতেই বিভিন্ন নামি-দামি চকলেট। আদ্রের দিকে অবাক হয় চাইতেই আদ্র ইশারা করলো ওটাও খুলতে।আহি খুললো ওটাতেও সেম চকলেট।

—এত চকলেট কেনো.??

—আমার মহারানীর আবদার পেলে দিলে তো চলবে না।

—তাই বলে এতো..?

—এগুলো শেষ করুন আরো আসবে।

আহির মাথায় হাত।আদ্র ওগুলো রেখে আহিকে কোলে তুলে।খাটে এনে বসিয়ে নিজেও আহির সামনে বসলো।তার বলল

— হাত দুটা এদিকে দাও বউজান।

আহি হাত বাড়িয়ে দিলো।আদ্র পকেট থেকে সুন্দর একজোড়া স্বর্নে চুড়ি একটা চেইন একটা নাকফুল,একজোড়া কানের দুল আর একজোড়া স্বর্ণে নুপুর বের করে একে একে আহি কে সব পড়িয়ে দিয়ে ঘোমটা টেনে দিয়ে মুচকি হেঁসে বলল

—এবারে লাগছে একদম ফাইজান নেওয়াজ আদ্রের মিসেস।

আহি মুচকি হাসলো,,,অতঃপর কেটে গেলো সুন্দর আর সুখময় একটি রাত। শুরু হলো নতুন একটি সংসার। দুজনের ভালোবাসা আজ পূর্ণতা ফেলো।প্রকৃতিও আজ যেন খুশি বাইরে চাঁদের আলো ঝলমল করছে।রুমটাতে সুখ সুখ একটা বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

চলবে,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 47 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন