ফন্ট সাইজ:
থিম:
কি ভয়ংকর মায়া তোর

পর্ব 46

লেখক: আরিফা তাসনিম তামু

#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_৫০
#লেখিতে_আরিফা_তাসনিম_তামু

_____কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌🚫________

সন্ধ্যা বেলায়,,নেওয়াজ বাড়ি...!

দেখতে দেখতে আদ্র আর আহিরের বিয়ের সেই কাঙ্ক্ষিত সময়টা একেবারে দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে।এইতো একটু পর গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শুরু হতে চলেছে আর আগামীকালই শুভ পরিণয়ে বাঁধা পড়বে দুটো হৃদয়।

সেই আনন্দেই আজ পুরো নেওয়াজ বাড়ি সেজেছে নতুন এক রূপে।বাড়ির প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে আছে উৎসবের আমেজ। আদ্র আহি দুজনেই এই বাড়ির সন্তান। তাই একসাথে দুজনের বিয়ে হচ্ছে বলে কী কম কিছু করা যায়?যদি রৌদ্ররা খুব করে চেয়েছে আহিকে ওইখানে রেখে বিয়ে সম্পূর্ণ করতে কিন্তু আদ্র মানতে নারাজ।সবাই একবাড়িতে থেকেই বিয়ে হবে বলে সে জানিয়েছে।

হলুদ আর গাঁদা ফুলের মিষ্টি সুবাসে চারপাশটা যেন মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। বাড়ির প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ সাজানো হয়েছে তাজা ফুল আর ছোট ছোট ঝলমলে আলো দিয়ে। চারদিকে হলুদ, সাদা আর কমলা রঙের মায়াবী ছোঁয়া।

তবে আজকের আসল আকর্ষণ বাড়ির ছাদ!
বিশাল ছাদটাকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন এক টুকরো স্বপ্ন নেমে এসেছে মাটির পৃথিবীতে। ছাদের চারপাশে ঝুলছে অসংখ্য ছোট ছোট ফেয়ারি লাইট, যেগুলোর মায়াবী আলোয় পুরো জায়গাটা ঝলমল করছে। মাথার ওপর খোলা আকাশ, দূরে মিটিমিটি জ্বলতে থাকা শহরের আলো আর মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা গাঁদা ও রজনীগন্ধার মালা—সব মিলিয়ে পরিবেশটা দারুণ লাগছে!

ছাদের মাঝখানে তৈরি করা হয়েছে বিশাল এক গায়ে হলুদের স্টেজ। স্টেজের পেছনে হলুদ ও সাদা ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে চমৎকার একটি ব্যাকড্রপ। মাঝখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা—
আদ্র&আহির হলুদ সন্ধ্যা💛🌼

স্টেজের দুই পাশে রাখা হয়েছে ফুলে সাজানো দোলনা, আর সামনে গোল করে সাজানো নরম কুশন ও নিচু টেবিল। টেবিলগুলোতে রাখা হয়েছে কাচের ফুলদানি আর হলুদ রঙের ছোট ছোট সাজসজ্জার সামগ্রী। এক পাশে তৈরি করা হসুন্দর ব্যবস্থা। সবকিছুতেই যেন আভিজাত্য আর রুচির নিখুঁত ছোঁয়া!

বাড়িরয়েছে সুন্দর একটি ফটো কর্নার, যেখানে ফুলের ফ্রেমের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে পারবে সবাই।

ছাদের অন্য পাশে খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। বাহারি খাবারের সুবাসে চারপাশটা ম-ম করছে। অতিথিদের বসার জন্যও রয়েছে সুন্দর ব্যবস্ত।

মেয়েরা সবাই পোলাপি আর কলাপাতা রঙ্গের পাড়ের শাড়ি পড়ছে বাঙালি স্টাইলে।সবাই কাঁচা ফুল দিয়ে সেজেছে।ছেলেরা সবাই কচুপাতা রঙ্গের পান্জাবি পড়েছে।আহিকে বিকালেই সাজানো হয়েছে গেছে।সন্ধ্যার পরপরই ওকে ইয়ানা,শ্রেয়া,তিহা সাইফা শালু সহ আরও কয়েকজন মেয়ে ছাদে নিয়ে আসে।ছাদের দরজায় এসে দাঁড়াতেই আহির চোখ গিয়ে আটকে স্টেজে বসা আদ্রের দিকে।অফ হোয়াইট রঙ্গের পান্জাবির উপর কোটি পড়েছে। দেখতে দারুন লাগছে।কোনো হিরো চেয়ে কম লাগছে না।দুজনেই দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।এই দিকে আদ্রের পাশে দাড়ানো রৌদ্রের হার্ট থেমে গেলো।তার দৃষ্টি ইয়ানার দিকে আজ প্রথম বার সে মেয়েটাকে শাড়িতে দেখছে। তাও নিজে বিয়ে করার পর।কখনো সেভাবে মেয়েটাকে দেখা হয়নি।শুধু মেয়েটাকে কেনো?আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ের দিকেই সে চোখ তুলে ভালো করে দেখেনি।আজ দেখতে তবে পরনারীকে না তার বিয়ে করা হালাল স্ত্রী কে। শাড়িতে মেয়েটার সৌন্দর্য যেন উপচে পড়ছে।

কলাপাতা রঙের শাড়ি, খোঁপায় সাদা গাজরা, হাতে কাঁচা ফুলের গাজরা। ইয়ানা মাথা নিচু করে আহিকে ধরে নিয়ে আসছে, কিন্তু রৌদ্রের চোখ আটকে আছে ওর মুখে।

ইয়ানা ছাদে ঢুকতেই রৌদ্র আনমনে বলে ফেললো—

— মাশাআল্লাহ...

পাশে দাঁড়ানো আদ্র ভ্রু কুঁচকে তাকালো—

— কাকে দেখে মাশাআল্লাহ বললি?

রৌদ্র দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে দুষ্টু হেসে বলে—

— রোদকে। আমার বনুটাকে আজ পরীর মতো লাগছে।অবশ্য আমার বোন জন্ম থেকেই পরীর মতো দেখতে।কিন্তু আমি একটা বিষয় মিলাতে পারছি না বুঝলি?

—কোন বিষয়.?

—আমার পরীর মতো দেখতে বনুটাকে তোর মতো বাঁদর মুখোকে পছন্দ করলো কীভাবে রে...?

আদ্র কিছুক্ষণ রৌদ্রের দিকে চেয়ে থেকে মুচকি হেসে বলল

—সেটাই তো মানতে হবে আমার পাওয়ার আছে..!কিন্তু আমিও একটা জিনিস ভেবে পাই না।তোর মতো হুতুমপেঁচার সাথে আমার ফুলের মতো বোনকে গ্রামবাসী কীভাবে বিয়ে দিতে পারলো রে.?

রৌদ্রের হাসি ঘায়েব হয়ে গেলো মুখ গম্ভীর করে বলল

—মুখ সামলে কথা বল তোর সমন্দী লাগি ভুলে যাস না।😒

—তুইও মুখ সামলো কথা বলবি আমিও তোর সমন্দী লাগি ভুলো যাস না।😃

রৌদ্র ভ্রু কুঁচকে বলল

—কিন্তু তোকে দেখতে সমন্দী মতো লাগে না।

—তোকে কোন দিক দিয়ে সমন্দীর মতো লাগে?

—বেশি করবি বোন দিবো না তোর কাছে।

—তোর কী মনে হয় আমি ঢাক ঢোল পিটিয়ে তোর কাছে আমার বোন দিবো.?

রৌদ্র চোখ মুখ কুঁচকে বলে

— এই বর বেশি কথা বলে বেশি কথা বলা বর আমার পছন্দ না।

— বোনের জামাইয়ের মুখে মুখে তর্ক করা সমন্দীও আমার পছন্দ না।

রৌদ্র এবার দুষ্ট হেঁসে বলে

—তোর পছন্দ করা লাগবে না তোর বোন করলেই হবে। বাসর টা তো তোর বোনের সাথে করবো তোর সাথে না।

আদ্র চোখ পাকিয়ে বলে

— তোর মুখে ঠাডা পড়ুক আমি ইয়ানার বড় ভাই লাগি।

রৌদ্র ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে

—তাতে আমার কী.?

এবার আদ্র বাঁকা হেঁসে বলে

—তোরও আমাকে পছন্দ করা লাগবে না। বাচ্চা তো তোর বোনের পেটে দিবো তোর পেটে না।

লে রৌদ্র—🫠❤️‍🩹

আদ্র—🥴😎

___________

চারদিকে বক্সে গান বাজছে শুরু হলো হলুদ সন্ধ্যা।আহিকে স্টাজের সামনে আনতেই আদ্র হাত বাড়িয়ে দিলো।আহি হাতের দিকে চেয়ে লাজুক হেঁসে নিজের হাত বাড়িয়ে আদ্রের হাত দরলো। শালু শীষ বাজালো বাকিরা ওয়াও বলে চেঁচিয়ে উঠলো।আদ্র আহিকে হাত দরে উঠিয়ে নিজের পাশে বসালো।এবার একে একে হলুদ লাগাতে স্টেজে উঠলো।

প্রথমে বড়রা। ফারদিনা নেওয়াজ(দাদি)উনিই সবার আগে হলুদ দিলেন।দুই নাতি আর নাতনিকে মন ভরে দোয়া করলেন।ইদানীং উনার শরীর ভালো না বয়স তো আর কম হয়নি হয়তো নাতির পূর্ণতা দেখার জন্য এখনো আছেন।বাইরে থেকে চিকিৎসা করিয়ে এনেও লাভ হচ্ছে না। এর পর
আজিজ নেওয়াজ আর আতিয়া নেওয়াজ এসে আদ্র-আহি দুজনের কপালে হলুদ ছোঁয়ালেন।দোয়া করল।তারপর সায়ান খান রাইসা বেগম এলো। তার পর তরিকুল নেওয়াজ আর পারুল নেওয়াজ।একে একে সবাই আসলো।তারপর একে একে ছোটরা সবাই।

ইয়ানা, শ্রেয়া, তিহা, সাইফা শালু সবাই মিলে বাটি ভর্তি হলুদ নিয়ে একে অপরকে মাখছে।

একপাশে দাড়িয়ে রৌদ্র ফাইজ আর ইয়াশ,তিহান কথা বলছে কিছু একটা নিয়ে।কিন্তু ফাইজের নজর শ্রেয়ার উপর।মেয়েটা এমনিতেই বাঁচাল টাইপ এখন তো আরো নাচানাচি শুরু করে দিয়েছে। কোনো দিকে খেয়াল নেই।

আদ্র আহিকে দেখছে এই একটা মেয়ে যাকে দেখার পর আদ্র আর অন্য নারীর দিকে তাকাও নি। যাকে পেতে সে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে। প্রতি রাতে আল্লাহর দরবারে চেয়েছে নিজের করে।কতশত রাত নির্ঘুমে কাটিয়েছে আদ্র নিজেও জানে না।নিজেকে যোগ্য পাএ হিসেবে গড়ে তুলেছে।এই মেয়েকে হারিয়ে সে পাগল হয়ে গিয়েছিলো।ভাবা যায় কী ভয়ংকর মায়ায় এই মেয়ে তাকে আবদ্ধ করেছে?আহি খেয়াল এসবে নেই সে তো ইয়ানাদের দুষ্টামি দেখায় মগ্ন।আদ্র সামনে থাকা হলুদের বাটি থেকে অনেকটা পরিমান হলুদ নিয়ে পিছন থেকে আহির কাপড় ভেদ করে কোমড়ে ছোঁয়াল।ঠান্ডা স্পর্শে আহি কেঁপে উঠে।বেচারি জমে যায়।আদ্র ফিসফিস করে বলে

—সবাই হলুদে রাঙ্গিয়ে দিয়েছে অথচ আমার রানীকে আমিই হুলদে রাঙ্গাবো না তা কী করে হয়.?আমার হাতের হলুদের স্পর্শ ছাড়া যে আপনার হলুদ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে ম্যাডাম।

আহি লজ্জায় মুইয়ে গেলো।আজব আজ এতো লজ্জা লাগছে কেনো আহির.?আদ্র হাসলো মেয়েটার লজ্জা মাখা মুখের দিকে চেয়ে।

ক্যামরা ম্যান তাড়া দিলো পিক তুলার জন্য। প্রথমেই বর কোণেকে বিভিন্ন স্টাইলে কাপল পিক তুলা হলো।তার পর একে একে সবাই তুললো। ফ্যামেলি পিকও তুলা হলো।

এরপর নাচের পালা প্রথমেই আসলো শালু কালা চশমা গানে নাচলো সবাই তার নাচ দেখে হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়ার অবস্থা। তার পর সাইফা আর তিহা আসলো এরপর ইয়ানা আর শ্রেয়া আসলো।ইয়ানা আর শ্রেয়া নাচ দেখে দুই মানবের অজ্ঞান হওয়ার অবস্থা। ইয়ানা কোমড় দুলানো দেখে বেচারা রৌদ্র গিয়ে একের পর এক শরবত খাচ্ছে আর বড় বড় শ্বাস নিচ্ছে । এইদিকে আরেক বেচারা ফাইজ গিয়ে মাথায় পানি দিচ্ছে।

সবশেষে চুনারি চুরাই গানে একটা কাপড় ডান্স হলো,

আদ্র&আহি ,রৌদ্র&ইয়ানা শ্রেয়া&ফাইজ, সাইফ&তিহা, তিহান&সাইফা শালু &ইয়াশ

এই কাপল ডান্সের মাধ্যমে কারো কারো প্রতি নতুন অনুভূতির খেলা।মিললো যা এখন কেউ টের না ফেলেও আগামীতে পাবে।

___________

শ্রেয়া ছাদের সিঁড়ি ভেয়ে নামছিলো।প্রথমবার শাড়ি পড়ায় হাঁটতে অসুবিধা হচ্ছে মনে হচ্ছে এক্ষুনি খুলে পড়ে যাবে।তার আর সম্ভব না শাড়ি পড়ে থাকা।চেঞ্জ করে নাওয়াই ভালো।সেজন্যই নিচে যাচ্ছিলো।হঠাৎ শাড়িটা পায়ে আটকে পড়ে যেতে নিলো আর আগেই কেউ একজন হাত দরে টান মারলো।শ্রেয়া চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে আছে।আজ বুঝি তার কোমড়টা গেলো।বেশ কিছুক্ষণ পর যখন বুঝল পড়েনি কেউ তাকে ধরেছে।আর খুব কাছ থেকে একটা চেনা পারফিউমের স্মেইল পাচ্ছে। তখন পিটপিট করে তাকালো।অমনিই চোখ আটকালো ফাইজের চোখে ফাইজ আগে থেকেই তাকিয়ে ছিলো। এতে করে দু'জনের দৃষ্টি মিলিত হলো।

শালু মাএই নিচ থেকে উপরে উঠছিলো এমন দৃশ্য দেখে চোখ বড় বড় করে বিরবির করে বলে

— হায় আল্লাহ চারিদিকে খালি পেরেম পেরেম গন্ধ পাচ্ছি। আমার পেরেমে মনে হয় সুভাসে ভরপুর তাই গন্ধ পাচ্ছি না

( আর মাএ একটা পার্ট আছে আরেকটু অপেক্ষা করলেই গল্পের সমাপ্তি মিলবে।)

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 46 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন