ফন্ট সাইজ:
থিম:
ম্যারিড লাইফ

৩২তম পর্ব

লেখক: রঙ্গনা মৈত্র ঊর্মি

‎#ম্যারিড_লাইফ্

‎#পর্ব_৩২

‎#রঙ্গনা_মৈত্র_ঊর্মি

‎

‎সকালের আলো তখন ইখতিয়ারের ঘরের জানালা বেয়ে টেবিলের উপর নরম হয়ে পড়েছে।

‎ঘরটা শান্ত। টেবিলে গোছানো ফাইল, পাশে ঘড়ি আর কফির কাপ। ইখতিয়ার শার্টের হাতা গোটাতে গোটাতে বারবার পাশের ঘরের দিকে কান পাতছিল। ওখান থেকে ভেসে আসছে ইশতিয়াকের দুষ্টুমি আর মুগ্ধার চাপা ধমক।

‎ইখতিয়ার কলমটা নামিয়ে রাখল। একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে ডাকল।

‎"মুগ্ধা।"

‎

‎কণ্ঠটা গম্ভীর, কিন্তু তার ভেতর একরাশ অপেক্ষা।

‎ওপাশের গল্প থেমে গেল। কয়েক সেকেন্ড পর দরজায় মৃদু টোকা।

‎"জি?"

‎গলার স্বরটা কেঁপে গেছে। দরজা ঠেলে মুগ্ধা ঢুকল। খোঁপাটা এলোমেলো, চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ, গালে হালকা লালচে আভা। আঁচলটা বারবার ঠিক করছে। তিন হাত দূরে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে ফেলল।

‎"ডেকেছিলেন?"

‎

‎ইখতিয়ার উত্তর দিল না। উঠে এসে দরজাটা আলতো করে ভেজিয়ে দিল। এখন ঘরের ভেতর শুধু তাদের নিঃশ্বাসের শব্দ।

‎"এদিকে আসো।"

‎

‎মুগ্ধা আস্তে আস্তে এগিয়ে এলো। ইখতিয়ারের একদম সামনে এসে থেমে গেল। এত কাছে যে তার শার্টের পারফিউম আর কফির মিশেল গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

‎"কাল রাতে ঘুম হয়েছিল?"

‎ইখতিয়ার নিচু স্বরে জিজ্ঞেস করল। প্রশ্নটা শুনে মুগ্ধার গাল দুটো মুহূর্তে রাঙা হয়ে উঠল। কি বজ্জাত লোক! নিজে ঘুমাতে না দিয়ে আবার জিজ্ঞেস করছে। মুগ্ধা ঠোঁট কামড়ে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকল। ইখতিয়ার আগবাড়িয়ে বলল,

‎"মনে তো হচ্ছে না।"

‎ ইখতিয়ার একটু ঝুঁকে তাকাল।

‎"চোখে ঘুমের ক্লান্তি স্পষ্ট।"

‎

‎মুগ্ধা কিছু বলতে পারল না। শুধু আঁচলের শেষাংশ দুই আঙুলে পেঁচাতে লাগল। ইখতিয়ার হঠাৎ এক হাত বাড়িয়ে মুগ্ধার কোমর আলতো করে আঁকড়ে ধরল। নিজের কাছে টেনে নিল।

‎অপ্রত্যাশিত ছোঁয়ায় মুগ্ধার বুকের ভেতর কেঁপে উঠল। সে দুই হাত দিয়ে ইখতিয়ারের বুক ঠেলতে চাইল, পারল না।

‎"কি...কি করছেন আপনি?"

‎মুগ্ধা ফিসফিস করে বলল।

‎"ভয় পাচ্ছ মিসেস?"

‎ইখতিয়ার তার কপালটা মুগ্ধার কপালে ঠেকাল।

‎মুগ্ধা মাথা নাড়ল। না। আবেশে চোখ বন্ধ তার।

‎"তাহলে এমন কাঁপছেন কেন ম্যাডাম?"

‎ইখতিয়ার পিঠে হাত বুলিয়ে দিল। স্পর্শটা এত যত্নের যে মুগ্ধার চোখে পানি এসে গেল।

‎"আপনি এমন করছেন কেন।"

‎মুগ্ধা অভিমানী গলায় বলল।

‎"কেমন?"

‎ইখতিয়ার আরও একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। "যদি ম্যাডামের থেকে দূরে থাকি তাও দোষ আবার কাছে আসি যত্ন করি, সেটাও দোষ?"

‎

‎মুগ্ধা উত্তর দিল না। ইখতিয়ারের বুকের ভেতর মুখ লুকাল। বুকের ধুকপুকানি স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। কিছুক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না। শুধু নীরবতার মাঝে বেড়ে উঠল একরাশ প্রশান্তি।

‎ইখতিয়ার আলতো করে মুগ্ধার এলোমেলো চুল ঠিক করে দিল।

‎"অফিসে যাওয়ার আগে একটু শান্তি পেলাম।"

‎সে নিচু স্বরে বলল। মুগ্ধা চোখ তুলে তাকাল। ইখতিয়ারের চোখে ক্লান্তি নেই, আছে একরাশ মায়া। ইখতিয়ার ছেড়ে দিয়ে টেবিল থেকে ছোট একটা সাদা প্যাকেট তুলে নিল।

‎"এটা রাখো।"

‎

‎মুগ্ধা অবাক হয়ে নিল।

‎"কি এটা?"

‎"পেইন কিলার।"

‎ইখতিয়ার স্বাভাবিক গলায় বলল।

‎ "শরীর ক্লান্ত লাগলে, মাথা ধরলে কাজে দেয়।"

‎"আমার তো কিছু হয়নি।"

‎মুগ্ধা অবুঝমনে আমতা আমতা করে বলল।

‎ইখতিয়ার হালকা হাসল।

‎"অত প্রশ্ন করতে হয়না, খেয়ে নিও।"

‎

‎শেষের কথাটার মানে বুঝে মুগ্ধার গাল আবার লাল হয়ে গেল। সে দ্রুত প্যাকেটটা আঁচলের নিচে লুকিয়ে ফেলল।

‎"আপনি... আপনি ঘুরিয়ে কথা বলছেন কেন।" মুগ্ধা রাগ আর লজ্জা মিশিয়ে বলল।

‎"আমি?"

‎ইখতিয়ার ভ্রু উঁচাল। বলল,

‎"আমি তো সোজা কথাই বললাম।"

‎"একদম না।"

‎"আচ্ছা বাবা ।"

‎ ইখতিয়ার হেসে ফেলল। তারপর মুগ্ধার থুতনি ধরে মুখটা উপরে তুলল।

‎"তোমার লজ্জা ও লাগে, বাহ্, তবে লজ্জা পেলে ভীষণ মায়াবী লাগে, জানো?"

‎কথাটা শুনে মুগ্ধার মনে হলো পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। সে চোখ বন্ধ করে ফেলল।

‎"দেরি হয়ে যাচ্ছে।"

‎ ইখতিয়ার ঘড়ি হাতে বাঁধতে বাঁধতে বলল। "ওষুধটা মনে করে খেয়ে নেবেন। আর নিজের খেয়াল রাখবেন।"

‎"কিসের খেয়াল?"

‎মুগ্ধা ছোট করে জিজ্ঞেস করল।

‎"সব কিছুর।"

‎ ইখতিয়ার আপাদমস্তক ইশারা করল মুগ্ধার। দরজার দিকে যেতে যেতে বলল,

‎ "শরীরেরও। মনেরও।"

‎

‎বলেই বেরিয়ে গেল। আর মুগ্ধা?

‎সে অনেকক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বুকের ভেতর এখনও ইখতিয়ারের স্পর্শের উষ্ণতা লেগে আছে। হাতের মুঠোয় ধরা প্যাকেটটা যেন গরম হয়ে আছে।

‎"আল্লাহ... এই মানুষটা!"

‎

‎আয়নার সামনে গিয়ে দেখল গাল দুটো টকটকে লাল। চোখে পানি আর ঠোঁটে এক চিলতে লাজুক হাসি। নিচ থেকে ইন্তিয়ার ডাক এলো, "মুগ্ধা মা, নাস্তা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।"

‎মুগ্ধা লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে নিচে নামল। বুকের ভেতর তখনও সেই আলিঙ্গনের আবেশ, সেই নরম কণ্ঠস্বরটা বাজছে।

‎

‎শেখবাড়ির সকালটা আবার নিজের ছন্দে ফিরল। শুধু মুগ্ধার বুকের ভেতর থেকে গেল একরাশ লজ্জা আর একটুকরো মিষ্টি ভালোবাসা।

‎

‎

‎

‎

‎

‎

‎জানালার কাঁচ বেয়ে রোদ নেমে এসে ডাইনিং টেবিলের সাদা কাপড়টার উপর সোনালি নকশা এঁকে দিয়েছে। বাতাসে ভাসছে গরম পরোটার গন্ধ, ভাজা ডিম আর এলাচ দেওয়া চায়ের সুবাস।

‎টেবিলের মাথায় ইখতিয়ার।

‎সাদা শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। সামনে কফির কাপ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উঠছে। পত্রিকাটা খোলা, কিন্তু চোখ সেখানে নেই। তার দৃষ্টি স্থির সিঁড়ির বাঁকে। পাশের চেয়ারে ইশতিয়াক।

‎গায়ে নীল-সাদা টি-শার্ট। ঠিক যেন এক টুকরো আর্জেন্টিনার আকাশ গায়ে জড়িয়ে বসে আছে। পায়ে হালকা ব্যান্ডেজ, তবুও পা দুলছে। ঠোঁটে দুষ্টুমির হাসি। আরেকটু পরেই সিঁড়িতে শব্দ।

‎নরম, ছন্দময় তরঙ্গধ্বনি।

‎

‎মুগ্ধা নামছে। আকাশী রঙের থ্রি-পিসে তাকে সকালের প্রথম মেঘের মতো লাগছে। ওড়নার পাড়ে সরু হলুদ বর্ডার, যেন ব্রাজিলের পতাকার এক টুকরো শোভা। খোঁপাটা বাঁধা, তবু কপালে দুই গাছি চুল ঘামে লেপ্টে আছে। ঘুম ভাঙা চোখে ক্লান্তির ছায়া, আর গালে... গালে সকালের গোলাপের আভা।

‎সে চেয়ারে বসতেই ঘরের আবহাওয়া পাল্টে গেল।

‎" ঐ তো ব্রাজিলের আফা, মিস ব্রাজিল এসে গেছে।"

‎

‎ইশতিয়াকের গলা। চায়ের কাপ নামিয়ে সে হেলান দিল। মুগ্ধা উত্তর দিল না। শুধু প্লেটে খাবার তুলে নিল।

‎"কি হলো? কথা বলো না কেন?লজ্জা পাচ্ছো? নাকি রাতের খেলার কথা ভেবে টেনশন হচ্ছে?"

‎ইশতিয়াক আবার খোঁচাল। মুগ্ধা চোখ তুলল। "আমার টেনশন হবে কেন? খেলা তো তোদের আজ, কাপ নিব তো আমরা।"

‎"আমরা?কে আমরা?"

‎ইশতিয়াক ভ্রু নাচাল।

‎"ব্রাজিল। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।"

‎"পুরনো গল্প।"

‎ইশতিয়াক নাক কুঁচকাল। আবার বলল,

‎"নতুন গল্প শোন। ৩ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। শেষ কাপটা কার ঘরে শোভা পাচ্ছে বলতো? এতো আমার দলের"

‎"ভাগ্যের জোরে।"

‎"ভাগ্য না। মেসির জাদু।‌ যে জাদুতে পুরো স্টেডিয়াম কেঁদেছিল।"

‎ইশতিয়াক চামচ দিয়ে বাতাসে গোল আঁকল। মুগ্ধা মুখ বেঁকাল।

‎দুইজনের কথার মাঝে টেবিলের বাতাস গরম হয়ে উঠছে। ইন্তিয়া রান্নাঘর থেকে উঁকি দিয়ে দেখছেন। রাফিয়া বেগম আঁচলে মুখ চেপে হাসছেন।

‎আর ইখতিয়ার?

‎সে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে। মাঝে মাঝে মুগ্ধার রাঙা গালের দিকে তাকাচ্ছে। মাঝে মাঝে ইশতিয়াকের চঞ্চল মুখের দিকে। তার চোখে না আছে রাগ, না আছে বিরক্তি। আছে একরাশ প্রশ্রয়। যেন সে এই যুদ্ধের নিরব বিচারক।

‎

‎"আচ্ছা ভাবি।"

‎ইশতিয়াক গলা নরম করল।

‎"তুই সত্যি করে বল। খেলা বুঝিস তো? না এমনিই লাফাস"

‎

‎মুগ্ধা গর্বের সাথে মাথা তুলল।

‎"বুঝি। ভিনির বিদ্যুতের মতো দৌড়, রদ্রিগোর তীরের মতো শট। সব বুঝি।"

‎ইশতিয়াক বুক ফুলাল।

‎"আর আমাদের? মেসির পায়ে জাদু, আলভারেজের বাজপাখির চোখ, মার্টিনেজের পাথরের মতো হাত।"

‎মুগ্ধা হাসল।

‎"হাত? সেই হাত আজকে ভেঙে দিবে দেখিস।"

‎

‎"তাই?"

‎ ইশতিয়াক হাসতে হাসতে চেয়ারে হেলে পড়ল। নাটকীয় ভঙ্গিতে গালে হাত রেখে বলল,

‎"তাহলে আজকে রাতে দেখা যাবে। কে কার হাত ভাঙে।"

‎মুগ্ধাও পাল্টা হাসল। ওর দিকে তাকিয়ে বলল,

‎"দেখা যাবে। আর হেরে গেলে কিন্তু কান্না করতে পারবি না। বাড়ি টিস্যু পেপার ফুরিয়ে গেছে"

‎"আমি? আর কান্না? হুশশশ"

‎ ইশতিয়াক অবাক হওয়ার ভান করল।

‎"আমি কাঁদব কেন? আমি তো আজ আনন্দে নাচব।"

‎

‎খাওয়া প্রায় শেষ। ইশতিয়াক হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। "চল ভাবি। পতাকা টানাই।"

‎"কার পতাকা?"

‎মুগ্ধা ভ্রু কুঁচকাল।

‎"আমারটা আর্জেন্টিনার। তোমারটা..."

‎সে মুগ্ধার ওড়নার দিকে তাকাল,

‎ "ব্রাজিলের।"

‎অমনি ইন্তিয়া নেমে এলো। কোমড়ে হাত গুজে বলল,

‎"থাকককক! তোমরা বিদেশে গেছো,ভালো কথা, আমার বাড়িতে আর বিদেশের পতাকা লাগানোর দরকার নেই।"

‎গলা মিলালো ইখতিয়ার। উঠে দাঁড়ালো সে।

‎"হ্যাঁ হ্যাঁ, আমরা বাংলাদেশী, একেবারে পিওর"

‎ইশতিয়াক ভ্রু কুচকালো। ঠোঁট উল্টে বলল,

‎"হ্যাঁ খাঁটি তো, সরিষা তেলের মতো "

‎ইখতিয়ার এইবার ধমক দিলো। বলল,

‎"তোদের না পরিক্ষা? দু'দিন আছে তো, সোজা যে যার ঘরে গিয়ে পড়তে বয়, নয়তো দুইটারেই বাড়ি থেকে বের করে দিব"

‎

‎মুগ্ধা ইখতিয়ার ভ্রু কুঁচকে তাকালো। তাদের বের করে দিবে? এতই সস্তা নাকি? ইখতিয়ার ওদের চাহনিতে খুব একটা পাত্তা দিলো না। ইন্তিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,

‎"আম্মু, এরা দুটো যদি পড়া ছেড়ে ওঠে আমারে কল দিবা, বাড়ির ওয়াইফাই কেটে দিব আমি "

‎ওয়াইফাই কাটবে? শোনামাত্রই দুটো তড়িঘড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেল। তবু তাদের ঝগড়া বন্ধ গেল না। ঝগড়া করতে করতেই যে যার কাজে গেল।

‎তাদের গলা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। ডাইনিং টেবিলে এখন নিস্তব্ধতা বিদ্যমান।

‎ ইখতিয়ার তার কফির কাপ আবার তুলে নিলো। ইন্থিয়া রান্না ঘরে গেছেন। ইখতিয়ার একা বসা।

‎সে জানালার দিকে তাকাল। ইখতিয়ার কাপটা নামিয়ে রাখল। খুব আস্তে বলল,

‎"সব পাগলের দরবার"

‎

‎

‎

‎

‎

‎বিকালটা যেন ব্যস্ত শহরের বুকের উপর হাঁপাতে থাকা একটা মানুষ।

‎আকাশের রং তখন গলানো সোনার মতো। রোদের তেজ কমে এসেছে, কিন্তু উত্তাপটা এখনো বাতাসে লেগে আছে আগুনের পরশের মতো।

‎রাস্তার দুইপাশে মানুষের ঢল। কেউ অফিস থেকে ফিরছে ক্লান্ত পায়ে, কেউ স্কুল ছুটির ব্যাগ কাঁধে দৌড়াচ্ছে। রিকশার টুংটাং, গাড়ির হর্ন, হকারের হাঁক— সব মিলে একটা অদ্ভুত সুরের ঝাঁক বেঁধেছে।

‎

‎চায়ের দোকানে ভিড়। কাপের টুংটাং শব্দ বেজে উঠছে ঘণ্টার মতো। বেঞ্চে বসা মানুষগুলোর মুখে সারাদিনের গল্প। পাশের ফুটপাতে কলেজের মেয়েরা দল বেঁধে হাসতে হাসতে হাঁটছে, তাদের ওড়না উড়ছে প্রজাপতির ডানার মতো।

‎আকাশে কাকের ঝাঁক ঘরে ফিরছে। ডানার শব্দে মনে হচ্ছে কেউ আকাশের পাতা উল্টে দিচ্ছে।

‎

‎গাছের পাতায় বিকালের আলো লেগে আছে সোনালি রঙের আঁচড়ের মতো। বাতাসে মিশে আছে ধুলো, পোড়া তেল আর জুঁই ফুলের গন্ধ।

‎সময় ছুটছে ঘোড়ার মতো। কারো থামার সময় নেই। সবার চোখে তাড়া, পায়ে গতি। এই ব্যস্ততার ভিড়েও বিকালটা কিন্তু বড্ড মায়াবী। দিন আর রাতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক টুকরো সোনালি সেতুর মতো। যে সেতু পেরিয়ে মানুষ ঘরে ফেরে, ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে, আর অপেক্ষা করে সন্ধ্যার নরম ছায়ার।

‎

‎তলুকদার বাড়ির চারপাশে ফুলের বাগান। গাঁদা, বেলি আর গোলাপের ঘ্রাণে বাতাস মাতাল। প্রজাপতিরা ফুলে ফুলে উড়ছে রঙিন ফিতার মতো। হঠাৎ গেটের কাছে একটা গর্জন।

‎কালো রঙের বাইকটা ধুলো উড়িয়ে এসে থামল।

‎বাইক থেকে নামল ইখতিয়ার।

‎গায়ে সাদা শার্ট, চোখে রোদচশমা। এক হাতে মিষ্টির বড় প্যাকেট, অন্য হাতে টুকটাক ব্যাগ। প্যাকেট থেকে ভেসে আসছে রসগোল্লার মিষ্টি গন্ধ।

‎সোজা ভেতরে গিয়ে ঢুকলো। আয়েশা বেগম দরজার কাছেই ছিলেন। জামাই কে দেখে বেড়িয়ে এলেন। ইখতিয়ার হাসল। পা ছুঁয়ে সালাম দিল। মিষ্টির প্যাকেটটা বাড়িয়ে দিলো। আয়েশা হেসে নিল। ভেতরে নিয়ে গেল জামাইকে।

‎ইখতিয়ার এসেছে দেখে স্নিগ্ধা নামল। আয়েশা রান্নাঘরে ছুটলেন।

‎"ভাইয়া কেমন আছেন?"

‎ইখতিয়ার কথা বিনিময় করল। বলল,

‎"ভালো, তোমার জন্যই আসা"

‎স্নিগ্ধা অবাক হলো। বলল,

‎"জ্বী ভাইয়া?"

‎ইখতিয়ার হাতের মোড়ানো প্যাকেটটা স্নিগ্ধার হাতে দিলো। বলল,

‎"এত তোমার পরিক্ষা গিফট আছে, টুকটাক তোমার পরিক্ষা দিতে প্রয়োজনীয় কিছু আছে, পরশুদিন থেকে তো পরিক্ষা"

‎স্নিগ্ধা খুশি হলো। বলল,

‎"এসবের দরকার ছিল না ভাইয়া, দোয়া করলেই হতো"

‎ইখতিয়ার স্নেহের দৃষ্টিতে হাসল। বলল,

‎"দোয়া তো অফুরন্ত আছে, তবে গিফট দিলাম, গিফট পেলে মন ভালো থাকে, মন ভালো থাকলে পরিক্ষাও ভালো হবে"

‎"ধন্যবাদ ভাইয়া"

‎স্নিগ্ধা ইখতিয়ারের পা ছুঁয়ে সালাম করল। ইখতিয়ার একটু ইতস্তত করল। তারপর ধীরে ধীরে বলল,

‎"স্নিগ্ধা আমার কোন বোন নেই, কাজিন টাইপ ও নেই, তোমাকে বোনের চোখে দেখি, আই হোপ তুমি আমারে ভাইয়া ভাবো?"

‎"জ্বী ভাইয়া"

‎"ভাইয়া হিসাবে কিছু বলছি, খারাপ ভাবে নিবা না"

‎"জ্বী বলেন"

‎স্নিগ্ধার চোখে ভয়। কি বিষয়ে বলবে ইখতিয়ার? তার আর ইশতিয়াকের ব্যাপারে? ভাইয়া কি বকবে ?

‎টেনশনে চোখ জমে যাচ্ছে যেন স্নিগ্ধার। পলক ফেলাও দায়।

‎

‎#চলবে___?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন