ফন্ট সাইজ:
থিম:
BLOOD BOUND

পর্ব 5

লেখক: Samira appi

### 🖤 BLOOD BOUND

A Novel by Samira ᥫ᭡

### অধ্যায় ৫ — The Secret of Her Birth

কিছু সত্য জন্মের আগেই লুকিয়ে রাখা হয়। কিছু সম্পর্ক রক্তের বন্ধনে তৈরি হলেও, সেই রক্তের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা।

আর মেহরীন জানত না, তার নিজের জন্মের গল্পটাই একদিন তার পুরো পৃথিবী বদলে দেবে।

### সকাল ৭টা — সিকদার বাড়ি

সকালের আলো পর্দার ফাঁক দিয়ে ঘরে প্রবেশ করছে। মেহরীন বিছানায় শুয়ে আছে। তার হাতে গতকাল আরমান চাচার দেওয়া রুপার লকেট।

লকেটের ওপর লেখা দুটি অক্ষর।

M & N

সারারাত সে ভেবেছে, এই দুটি অক্ষরের অর্থ কী হতে পারে।

হঠাৎ ফোনে একটা মেসেজ এল।

অচেনা নম্বর থেকে।

"তোমার জন্মদিনের তারিখটা কি সত্যিই তোমার জন্মদিন?"

মেহরীন অবাক হয়ে মেসেজটার দিকে তাকিয়ে রইল।

সে দ্রুত উত্তর দিল।

"আপনি কে?"

কয়েক সেকেন্ড পর উত্তর এল।

"যে তোমার জন্মের দিনটা নিজের চোখে দেখেছে।"

মেহরীনের বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠল।

সে আবার লিখল,

"আপনি কী বলতে চাইছেন?"

কিন্তু এবার আর কোনো উত্তর এল না।

### সকাল ৯টা — ডাইনিং রুম

আজ সকালের নাশতার টেবিলে সবাই উপস্থিত।

রওশন আরা বেগম মেহরীনকে দেখে বললেন,

— মা, কাল রাতে ঠিকমতো ঘুমিয়েছিস?

— হ্যাঁ, দাদি।

— মুখটা এমন শুকনো লাগছে কেন?

মেহরীন কিছু বলার আগেই নাসরিন বেগম বললেন,

— ওর আবার রাত জেগে বই পড়ার অভ্যাস। কতবার বলেছি, রাত করে জাগবি না।

মেহরীন মায়ের দিকে তাকাল।

তারপর ধীরে বলল,

— মা, আমার জন্মের সময় কী হয়েছিল?

নাসরিনের হাত থেকে চায়ের কাপ প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।

— হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?

— এমনি জানতে ইচ্ছে হলো।

কামরুল সিকদার পত্রিকা নামিয়ে বললেন,

— জন্মের সময় আবার কী হবে? সবকিছু স্বাভাবিক ছিল।

মেহরীন বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,

— তাহলে আমার জন্মের হাসপাতালের কোনো ছবি নেই কেন?

কামরুল কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

— সবকিছু কি ছবিতে রাখতে হয়?

— না। কিন্তু আমার জন্মের কোনো স্মৃতি তোমাদের কাছে নেই?

নাসরিন এবার উঠে দাঁড়ালেন।

— মেহরীন, এসব প্রশ্ন করে সকালটা নষ্ট করিস না।

তিনি দ্রুত ডাইনিং রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন।

মেহরীন বুঝতে পারল, তার প্রশ্নে কেউ একজন ভীষণ অস্বস্তিতে পড়েছে।

### সকাল ১১টা — পুরোনো ঘর

আরমান সিকদার নিজের ঘরে বসে পুরোনো কাগজপত্র দেখছিলেন।

হঠাৎ দরজা খুলে মেহরীন প্রবেশ করল।

— চাচা, আপনার সঙ্গে কথা আছে।

— আয় মা, বস।

মেহরীন সামনে বসে লকেটটা বের করল।

— এই লকেটের M & N মানে কী?

আরমান লকেটটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।

— M মানে মেহরীন, আর N মানে নওরীন।

— নওরীন কে?

আরমান দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

— যে নারী তোমাকে পৃথিবীতে এনেছিল।

মেহরীনের চোখ স্থির হয়ে গেল।

— আপনি কি বলতে চাইছেন, নওরীন আমার মা?

আরমান মাথা নিচু করলেন।

— হ্যাঁ, মা।

মেহরীন কিছুক্ষণ কোনো কথা বলতে পারল না।

তারপর কাঁপা গলায় বলল,

— তাহলে নাসরিন মা কে?

আরমান উত্তর দেওয়ার আগেই দরজার বাইরে একটা শব্দ হলো।

দুজনেই তাকাল।

দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে রায়ান।

তার মুখের অভিব্যক্তি দেখে বোঝা যাচ্ছে, সে কথাগুলোর কিছু অংশ শুনেছে।

রায়ান ঘরে ঢুকে বলল,

— চাচা, আপনি কি বুঝতে পারছেন কী বলছেন?

আরমান শান্তভাবে উত্তর দিলেন,

— যে সত্য এত বছর চাপা ছিল, সেটা আর কতদিন লুকিয়ে রাখব?

রায়ান মেহরীনের দিকে তাকাল।

— মেহরীন, আমার সঙ্গে আয়।

মেহরীন উঠে দাঁড়াল না।

— না। আজ আমি সব শুনব।

### দুপুর ১২টা — লাইব্রেরি

মেহরীন লাইব্রেরিতে এসে পুরোনো ডায়েরিটা আবার খুলল।

গত দিনের সেই পাতার পর আরও কয়েকটি পাতা ছিল।

এক জায়গায় লেখা—

"২০০৮ সালের ১৪ আগস্ট। নওরীন আজ একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে মেহরীন। কিন্তু পরিবারের সবাইকে জানানো হয়েছে, শিশুটি নাসরিনের সন্তান। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ, তা সময়ই একদিন প্রকাশ করবে।"

মেহরীনের হাত কেঁপে উঠল।

সে ডায়েরিটা বন্ধ করে চোখ মুছল।

ঠিক তখনই রায়ান ঘরে প্রবেশ করল।

— তুমি এখানে কী করছ?

— সত্য খুঁজছি।

— সব সত্য জানার প্রয়োজন নেই।

মেহরীন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল।

— তোমার কেন এত ভয়? তুমি কি আগে থেকেই সব জানতে?

রায়ান চুপ করে রইল।

মেহরীন আবার বলল,

— উত্তর দাও, রায়ান!

রায়ান ধীরে বলল,

— হ্যাঁ। আমি জানতাম।

মেহরীন অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।

— তুমি জানতে আমি নাসরিন মায়ের মেয়ে নই?

— জানতাম।

— তাহলে এতদিন আমাকে কিছু বলোনি কেন?

রায়ান কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— কারণ তোমাকে হারানোর ভয় ছিল।

মেহরীন তিক্তভাবে হেসে বলল,

— সত্য লুকিয়ে কাউকে আপন রাখা যায় না, রায়ান।

### বিকেল ৩টা — নওরীনের অপেক্ষা

শহরের অন্য প্রান্তে একটা পুরোনো বাড়িতে বসে আছেন নওরীন।

তার সামনে মেহরীনের ছোটবেলার ছবি।

ছবিটা হাতে নিয়ে তিনি ফিসফিস করে বললেন,

— আমার মেয়েটা এত বড় হয়ে গেছে!

ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো।

নওরীন দরজা খুলে দেখলেন, সামনে একজন পরিচিত পুরুষ।

— আপনি?

লোকটি ঘরে প্রবেশ করে বলল,

— তোমার ফিরে আসার খবর সবাই জেনে গেছে।

— তাতে আপনার কী?

— তুমি কি মনে করো, এত বছর আগের ঘটনা কেউ ভুলে গেছে?

নওরীন শান্ত গলায় বললেন,

— আমি কিছু ভুলিনি। আর এবার চুপও থাকব না।

লোকটি হেসে বলল,

— মেহরীন যদি জানতে পারে তার জন্মের পেছনে কী ঘটেছিল, তাহলে সে তোমাকে কখনো মা বলে ডাকবে না।

নওরীনের চোখে পানি জমল।

— তবুও আমি সত্যিটা বলব। কারণ আমার মেয়ের সত্য জানার অধিকার আছে।

### বিকেল ৫টা — বাড়ির ছাদ

মেহরীন ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিল।

বাতাসে তার চুল উড়ছে। চোখে জমে আছে অসংখ্য প্রশ্ন।

রায়ান পেছন থেকে এসে দাঁড়াল।

— মেহরীন!

— কী?

— তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।

— আর কী বাকি আছে বলার?

রায়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— নওরীন শুধু তোমার মা নন, তিনি আমার জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ।

মেহরীন অবাক হলো।

— মানে?

— তোমার জন্মের আগে আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে একটা সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের কারণেই আজ এত রহস্য।

— তুমি কী জানো, রায়ান?

রায়ান উত্তর দেওয়ার আগেই তার ফোন বেজে উঠল।

স্ক্রিনে নাম ভেসে উঠল—

UNKNOWN NUMBER

সে ফোন ধরল।

অপর পাশ থেকে নারীকণ্ঠ বলল,

— রায়ান, মেহরীনকে সত্যিটা বলো না। অন্তত এখনই নয়।

রায়ান বিস্মিত হয়ে বলল,

— আপনি কোথায়?

নারীটি উত্তর দিলেন,

— আমি খুব শিগগিরই ফিরছি।

কল কেটে গেল।

মেহরীন রায়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,

— কে ফোন করেছিল?

রায়ান ফোনটা পকেটে রেখে বলল,

— কেউ না।

— মিথ্যা বলছ!

### সন্ধ্যা ৭টা — ড্রয়িংরুম

কামরুল সিকদার বসে ছিলেন।

তার সামনে আরমান দাঁড়িয়ে।

— ভাই, এবার সবকিছু পরিষ্কার করা দরকার।

কামরুল কঠিন গলায় বললেন,

— তুমি কি চাও, এই বাড়ির সব সম্মান শেষ হয়ে যাক?

— সম্মানের নামে একটা মেয়ের পরিচয় কেড়ে নেওয়াকে কী বলে?

— আরমান!

— না ভাই। আজ আমাকে বলতে দিন। নওরীন এত বছর যে কষ্ট পেয়েছে, তার জন্য আমরা সবাই দায়ী।

কামরুল চুপ করে গেলেন।

আরমান আবার বললেন,

— আর একটা কথা। মেহরীনকে নিয়ে যে সত্যটা আপনি লুকিয়ে রেখেছেন, সেটা আমি জানি।

কামরুলের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

— কোন সত্য?

আরমান ধীরে বললেন,

— মেহরীনের জন্মের রাতের সত্য।

কামরুল উঠে দাঁড়ালেন।

— সেই রাতের কথা আর কখনো তুলবে না!

ঠিক তখনই সিঁড়ি দিয়ে নামছিল মেহরীন।

শেষ কথাগুলো তার কানে পৌঁছে গেছে।

সে সোজা বাবার সামনে এসে দাঁড়াল।

— বাবা, আমার জন্মের রাতে কী হয়েছিল?

কামরুল মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

কিন্তু কোনো উত্তর দিলেন না।

### রাত ১০টা — মেহরীনের ঘর

মেহরীন নিজের ঘরে বসে ছিল।

হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটা সাদা খাম ভেতরে ঢুকল।

সে দরজা খুলে বাইরে তাকাল।

কিন্তু কাউকে দেখা গেল না।

খামটা খুলে ভেতর থেকে একটা ছবি বের করল।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন নওরীন, আরমান এবং কামরুল।

ছবির পেছনে লেখা—

"তোমার জন্মের রাতে দুটো শিশু জন্মেছিল। কিন্তু সকালে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছিল শুধু একটি শিশু। অন্য শিশুটির কী হয়েছিল, তা জানতে হলে রায়ানের কাছে যাও।"

মেহরীনের বুক ধক করে উঠল।

দুটো শিশু?

তাহলে অন্য শিশুটি কে?

আর রায়ানের সঙ্গে তার কী সম্পর্ক?

ঠিক তখনই ফোনে একটা মেসেজ এল।

"তোমার সবচেয়ে কাছের মানুষটিই তোমার সবচেয়ে বড় রহস্য লুকিয়ে রেখেছে।"

মেহরীন ধীরে ধীরে ফোনটা নামিয়ে রাখল।

তার চোখের সামনে ভেসে উঠল রায়ানের মুখ।

### রাত ১১টা ৪০ মিনিট — শেষ দৃশ্য

রায়ান নিজের ঘরে বসে একটা পুরোনো বাক্স খুলল।

বাক্সের ভেতরে দুটি ছোট্ট শিশুর হাসপাতালের পরিচয়পত্র।

একটিতে লেখা—

Baby M — Mother: Naureen

অন্যটিতে লেখা—

Baby R — Mother: Naureen

রায়ান পরিচয়পত্র দুটো হাতে নিয়ে চোখ বন্ধ করল।

ঠিক তখনই তার ফোনে মেসেজ এল।

"সময় শেষ। এবার মেহরীনকে সব জানাতেই হবে।"

রায়ান জানালার বাইরে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

— মেহরীন, তুমি যদি সব জানতে পারো, তাহলে আমাদের সম্পর্কটাও আর আগের মতো থাকবে না।

ঠিক তখনই দরজার বাইরে থেকে মেহরীনের কণ্ঠ শোনা গেল।

— রায়ান! দরজা খোলো। আমার কিছু প্রশ্ন আছে।

রায়ান বাক্সটা দ্রুত বন্ধ করল।

কিন্তু সে জানত না, দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেহরীনের হাতে ইতিমধ্যেই সেই দুটি পরিচয়পত্রের ছবি পৌঁছে গেছে।

### অধ্যায়ের শেষ রহস্য 🖤

মেহরীন কি সত্যিই একা জন্মায়নি?

রায়ান কি নওরীনের দ্বিতীয় সন্তান?

আর যদি তাই হয়, তাহলে এত বছর ধরে এই সত্য কেন লুকিয়ে রাখা হয়েছে?

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 5 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন