ফন্ট সাইজ:
থিম:
BLOOD BOUND

পর্ব 6

লেখক: Samira appi

### 🖤 BLOOD BOUND

A Novel by Samira ᥫ᭡

### অধ্যায় ৬ — The Bloodline Secret

কিছু সম্পর্ক রক্ত দিয়ে তৈরি হয়, আবার কিছু সম্পর্ক তৈরি হয় বিশ্বাস দিয়ে। কিন্তু যখন রক্তের সম্পর্কই সবচেয়ে বড় রহস্য হয়ে দাঁড়ায়, তখন মানুষ নিজের অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন করতে শুরু করে।

মেহরীন আজ এমন এক সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে, যে সত্য তার পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।

### রাত ১১টা ৪৫ মিনিট — রায়ানের ঘর

দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে মেহরীন।

— রায়ান, দরজা খোলো।

ভেতর থেকে কোনো উত্তর এল না।

মেহরীন আবার দরজায় টোকা দিল।

— আমি জানি তুমি ভেতরে আছ। দরজা খোলো!

কয়েক মুহূর্ত পর দরজা খুলল রায়ান।

— এত রাতে কী হয়েছে?

মেহরীন ফোনটা তার সামনে ধরল।

— এগুলো কী?

রায়ান ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে গেল।

সেখানে দুটি হাসপাতালের পরিচয়পত্রের ছবি।

— এগুলো তুমি কোথায় পেয়েছ?

— সেটা বড় কথা নয়। আমি জানতে চাই, Baby R কে?

রায়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— ভেতরে এসো।

মেহরীন ঘরে প্রবেশ করল।

রায়ান দরজা বন্ধ করে বিছানার পাশে রাখা চেয়ারে বসল।

— Baby R আমি।

মেহরীন বিস্মিত হয়ে তাকাল।

— তার মানে তুমি আর আমি...

রায়ান মাথা নিচু করল।

— হ্যাঁ। আমরা একই মায়ের সন্তান।

মেহরীনের চোখে পানি জমে উঠল।

— এতদিন তুমি জানতে?

— হ্যাঁ।

— আর আমাকে কিছু বলোনি?

— আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি।

মেহরীন কাঁপা গলায় বলল,

— তুমি জানো, এতদিন আমি তোমাকে কতটা বিশ্বাস করেছি?

রায়ান কোনো উত্তর দিল না।

মেহরীন দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

যাওয়ার আগে শুধু বলল,

— আজ থেকে আমার কাছে কোনো সত্য লুকাবে না।

### পরদিন সকাল ৮টা — সিকদার বাড়ি

সকালে ডাইনিং টেবিলে সবাই বসে আছে।

মেহরীন চুপচাপ নাশতা করছে।

রায়ান তার বিপরীতে বসে আছে। দুজনের চোখাচোখি হলেও কেউ কথা বলছে না।

নাসরিন বেগম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— কী হয়েছে মা? আজ এত চুপচাপ কেন?

— কিছু হয়নি।

কামরুল সিকদার পত্রিকা নামিয়ে বললেন,

— রায়ান, আজ তোমার অফিসে যাওয়ার কথা ছিল না?

— ছিল। তবে একটা কাজ আছে।

— কী কাজ?

— কিছু পুরোনো হিসাব মেলাতে হবে।

কামরুল একবার মেহরীনের দিকে তাকালেন।

তারপর কঠিন গলায় বললেন,

— পুরোনো হিসাব ঘাঁটাঘাঁটি না করাই ভালো।

আরমান পাশ থেকে বলে উঠলেন,

— পুরোনো হিসাব না মেলালে নতুন করে জীবন শুরু করা যায় না, ভাই।

কামরুল কোনো উত্তর দিলেন না।

### সকাল ১০টা — নওরীনের বাড়ি

নওরীন জানালার পাশে বসে ছিলেন।

হাতে একটা পুরোনো ডায়েরি।

ডায়েরির প্রথম পাতায় লেখা—

"আমার দুই সন্তান—মেহরীন ও রায়ান।"

তিনি ডায়েরিটা বুকে চেপে ধরলেন।

ঠিক তখনই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো।

দরজা খুলতেই সামনে আরমানকে দেখা গেল।

— নওরীন, আর কতদিন এভাবে লুকিয়ে থাকবে?

— আমি লুকিয়ে নেই, আরমান। আমি শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছি।

— মেহরীন সব জেনে গেছে।

নওরীন চমকে উঠলেন।

— কী বলছ?

— সে জেনে গেছে তুমি তার জন্মদাত্রী মা।

নওরীনের চোখ ভিজে উঠল।

— ও কি আমার ওপর রাগ করেছে?

— রাগ করেছে। তবে তোমার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষাতেও আছে।

নওরীন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,

— আমি ওর সঙ্গে দেখা করব।

— কবে?

— আজই।

### দুপুর ১২টা — পুরোনো হাসপাতাল

রায়ান গাড়ি নিয়ে শহরের একটি পুরোনো হাসপাতালে পৌঁছাল।

তার সঙ্গে মেহরীনও ছিল।

হাসপাতালের রেকর্ড রুমে গিয়ে তারা ২০০৮ সালের ১৪ আগস্টের নথি খুঁজতে শুরু করল।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর একজন বৃদ্ধ কর্মচারী এগিয়ে এলেন।

— আপনারা কী খুঁজছেন?

রায়ান বলল,

— এই তারিখের দুটি শিশুর জন্মসংক্রান্ত রেকর্ড।

বৃদ্ধ লোকটি কাগজগুলো দেখে হঠাৎ থেমে গেলেন।

— এই রেকর্ড তো অনেক বছর আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

মেহরীন দ্রুত জিজ্ঞেস করল,

— কেন?

লোকটি চারপাশে তাকিয়ে নিচু গলায় বললেন,

— ওই রাতের ঘটনায় অনেক বড় ঝামেলা হয়েছিল। তারপর হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী চাকরি ছেড়ে চলে যায়।

রায়ান জিজ্ঞেস করল,

— আপনি কি জানেন, আসলে কী হয়েছিল?

লোকটি কিছুক্ষণ চুপ থেকে একটা পুরোনো ফাইল বের করলেন।

— এই ফাইলটা সেদিনের। তবে সাবধানে রাখবেন।

মেহরীন ফাইল খুলতেই একটি কাগজ চোখে পড়ল।

সেখানে লেখা—

"দুটি শিশুর জন্মের পরপরই একজন অভিভাবক দ্বিতীয় শিশুটির পরিচয় পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন।"

মেহরীন বিস্মিত হয়ে বলল,

— পরিচয় পরিবর্তন?

বৃদ্ধ লোকটি মাথা নাড়লেন।

— হ্যাঁ। তবে আবেদনটি কে করেছিলেন, সেটা এই ফাইলে নেই।

### বিকেল ৩টা — সিকদার বাড়ি

মেহরীন বাড়িতে ফিরে সরাসরি কামরুলের ঘরে গেল।

— বাবা, তোমার সঙ্গে কথা আছে।

কামরুল চশমা খুলে তাকালেন।

— বলো।

— ২০০৮ সালের ১৪ আগস্ট কী হয়েছিল?

কামরুলের মুখের রং বদলে গেল।

— আবার সেই একই প্রশ্ন?

— এবার শুধু প্রশ্ন নয়, প্রমাণও আছে।

মেহরীন হাসপাতালের কাগজটা সামনে রাখল।

কামরুল কাগজটা হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।

তারপর বললেন,

— এসব কাগজ কোথায় পেয়েছ?

— হাসপাতালে।

— কে তোমাকে সেখানে যেতে বলেছে?

— সত্য জানার জন্য কাউকে অনুমতি নিতে হয় না, বাবা।

কামরুল উঠে জানালার কাছে গেলেন।

— মেহরীন, সব সত্য জানার পর মানুষ শান্তি পায় না।

— মিথ্যার মধ্যে থেকেও আমি শান্তি পাচ্ছি না।

কামরুল ধীরে বললেন,

— তুমি কি জানো, তোমার জন্মের রাতে নওরীন কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?

— কী সিদ্ধান্ত?

— সে তোমাদের দুজনকে আলাদা করতে চেয়েছিল।

মেহরীন অবাক হয়ে গেল।

— কেন?

কামরুল আর কিছু বললেন না।

### বিকেল ৫টা — ছাদের নির্জন কোণ

রায়ান ছাদে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিল।

— আমি আর এভাবে থাকতে পারছি না।

অপর পাশ থেকে একজন পুরুষ বললেন,

— তোমাকে যা বলা হয়েছিল, সেটাই করবে।

— কিন্তু মেহরীন সব জেনে যাচ্ছে।

— তাহলে ওকে থামাও।

রায়ানের কণ্ঠ কঠিন হয়ে উঠল।

— মেহরীনকে কোনো বিপদে ফেলব না।

— মনে রেখো, তোমার জন্মের সত্য প্রকাশ পেলে শুধু তোমার নয়, অনেকের জীবন বদলে যাবে।

রায়ান ফোন কেটে দিল।

ঠিক তখনই পেছন থেকে মেহরীন বলল,

— কার সঙ্গে কথা বলছিলে?

রায়ান ঘুরে তাকাল।

— একটা জরুরি ফোন ছিল।

— তোমার জীবনে এত জরুরি বিষয় আছে, অথচ আমাকে কিছুই বলো না।

রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— মেহরীন, আমাকে একটু সময় দাও।

— সময় তো অনেক দিয়েছি। এবার সত্য চাই।

### সন্ধ্যা ৭টা — নওরীনের আগমন

সিকদার বাড়ির গেটে একটা গাড়ি এসে থামল।

গাড়ি থেকে নামলেন নওরীন।

কালো শাড়ি, কপালে ছোট্ট কালো টিপ। মুখে ক্লান্তির ছাপ।

গেটের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বাড়িটার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

কত বছর পর এই বাড়িতে ফিরছেন!

দারোয়ান তাঁকে চিনতে পারেনি।

— কাকে চান?

নওরীন মৃদু গলায় বললেন,

— এই বাড়িতে আমার সন্তান থাকে।

ঠিক তখনই পেছন থেকে আরমানের কণ্ঠ শোনা গেল।

— নওরীন!

তিনি ফিরে তাকালেন।

আরমান এগিয়ে এসে বললেন,

— অবশেষে এলে?

নওরীন চোখের পানি মুছে বললেন,

— আমার মেয়েকে দেখতে চাই।

আরমান তাঁকে ভেতরে নিয়ে গেলেন।

### রাত ৮টা — ড্রয়িংরুম

নওরীনকে দেখে রওশন আরা বেগম চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন।

— নওরীন!

নওরীন এগিয়ে এসে তাঁর হাত ধরলেন।

— মা, আমাকে ক্ষমা করে দিন।

রওশন আরা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বললেন,

— এত বছর কোথায় ছিলি মা?

নওরীন উত্তর দেওয়ার আগেই কামরুল ঘরে প্রবেশ করলেন।

দুজনের চোখাচোখি হলো।

কামরুল কঠিন গলায় বললেন,

— এত বছর পর ফিরে আসার কারণ?

নওরীন শান্তভাবে উত্তর দিলেন,

— আমার সন্তানদের কাছে ফিরে এসেছি।

কামরুল তিক্ত হাসলেন।

— সন্তান? তুমি কি জানো, এত বছর ওদের কীভাবে বড় করেছি?

নওরীনের চোখে পানি এসে গেল।

— জানি। কিন্তু একজন মায়ের জায়গা কি কেউ নিতে পারে?

ঠিক তখনই সিঁড়ি দিয়ে মেহরীন নিচে নামল।

নওরীন মেয়েকে দেখে স্থির হয়ে গেলেন।

— মেহরীন!

মেহরীন থেমে গেল।

কিছুক্ষণ দুজনের কেউ কোনো কথা বলতে পারল না।

তারপর নওরীন ধীরে এগিয়ে এসে বললেন,

— মা, আমাকে চিনতে পারছ?

মেহরীনের চোখ ভিজে উঠল।

— আমি আপনাকে চিনি না। কিন্তু আপনার জন্য আমার এত বছরের জীবন প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

নওরীন মাথা নিচু করলেন।

— জানি মা। আমার ভুলের কোনো ক্ষমা নেই।

মেহরীন বলল,

— আমি শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর চাই। আপনি আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন কেন?

নওরীন কিছু বলতে যাচ্ছিলেন।

ঠিক তখনই রায়ান সামনে এসে দাঁড়াল।

— কারণ শুধু নওরীন নয়, এই ঘটনার সঙ্গে আমিও জড়িত।

সবাই রায়ানের দিকে তাকাল।

কামরুল চিৎকার করে বললেন,

— রায়ান! চুপ করো!

রায়ান প্রথমবারের মতো বাবার চোখে চোখ রেখে বলল,

— আর নয়, বাবা। এবার সব সত্য সামনে আসবে।
### রাত ১০টা — বন্ধ দরজার পেছনে

বাড়ির সবাই ড্রয়িংরুমে বসে আছে।

রায়ান ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল,

— ২০০৮ সালের সেই রাতে শুধু দুটি শিশুর জন্ম হয়নি। সেদিন এই পরিবারের ভাগ্যও বদলে গিয়েছিল।

মেহরীন বলল,

— তারপর?

রায়ান উত্তর দিল,

— জন্মের পর হাসপাতালের কিছু কাগজ পরিবর্তন করা হয়েছিল। কিন্তু কেন করা হয়েছিল, সেটা আমি পুরোপুরি জানি না।

আরমান এবার বললেন,

— কারণ ওই রাতের আসল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্য একজন।

সবাই অবাক হয়ে তাকাল।

নওরীন কাঁপা গলায় বললেন,

— আরমান, তুমি কি এখনও তার নাম বলবে না?

আরমান মাথা নাড়লেন।

— এবার বলতেই হবে।

তিনি সবার দিকে তাকিয়ে বললেন,

— ওই রাতের সবচেয়ে বড় সাক্ষী এখনও বেঁচে আছে।

মেহরীন জিজ্ঞেস করল,

— কে সে?

আরমান উত্তর দেওয়ার আগেই বাড়ির মূল দরজায় জোরে কড়া নাড়ার শব্দ হলো।

সবাই চমকে উঠল।

দারোয়ান এসে জানাল,

— স্যার, একজন মহিলা এসেছেন। তিনি বলছেন, ২০০৮ সালের জন্মের ঘটনার ব্যাপারে তাঁর কাছে প্রমাণ আছে।

কামরুলের হাত থেকে পানির গ্লাস পড়ে গেল।

নওরীন ফিসফিস করে বললেন,

— না! সে আবার ফিরে এসেছে?

### অধ্যায়ের শেষ রহস্য 🖤

দরজা খুলতেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নারীটি বললেন,

— এত বছর পরও তোমরা কি ভেবেছিলে, সত্য চিরকাল লুকিয়ে থাকবে?

তার হাতে একটি পুরোনো হাসপাতালের ফাইল।

তিনি মেহরীনের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— তোমার জন্মের গল্প তুমি যা জানো, আসলে তা নয়। তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটা এখনও তোমার অজানা।

মেহরীন বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল,

— আপনি কে?

নারীটি ধীরে উত্তর দিলেন,

— আমি সেই মানুষ, যে তোমার জন্মের রাতে তোমার পরিচয় বদলানোর ঘটনা নিজের চোখে দেখেছিল।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 6 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন