ফন্ট সাইজ:
থিম:
BLOOD BOUND

পর্ব 8

লেখক: Samira appi

### 🖤 BLOOD BOUND

A Novel by Samira ᥫ᭡

### অধ্যায় ৮ — The Woman Behind the Secret

কিছু মানুষ পরিবারের সদস্য হয়েও অচেনা থেকে যায়। তাদের পরিচয় জানা থাকে, কিন্তু তাদের অতীত অজানা থাকে।

সিকদার বাড়ির সেই অচেনা নারী জারিন। যাঁর নাম এত বছর ধরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আজ তিনি নিজেই ফিরে এসেছেন নিজের পরিচয় জানাতে।

### রাত ১০টা ১৫ মিনিট — সিকদার বাড়ির সিঁড়ি

মেহরীন সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা নারীর দিকে তাকিয়ে আছে।

নারীটির বয়স প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি। পরনে হালকা নীল শাড়ি, চোখে অদ্ভুত এক বিষণ্ণতা।

মেহরীন ধীরে নিচে নেমে এল।

— আপনি জারিন?

নারীটি মৃদু হাসলেন।

— হ্যাঁ মা। আমি জারিন।

— আপনি এত বছর কোথায় ছিলেন?

জারিন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,

— এই বাড়ি থেকে অনেক দূরে। কিন্তু বিশ্বাস করো, এই বাড়ির মানুষগুলোকে কখনো ভুলতে পারিনি।

ঠিক তখনই কামরুল সিকদার ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করলেন।

জারিনকে দেখে তিনি থমকে গেলেন।

— তুমি!

জারিন তাঁর দিকে তাকিয়ে বললেন,

— অবাক হয়েছ, কামরুল?

— তুমি এখানে কেন এসেছ?

— নিজের পরিবারের কাছে ফিরতে।

কামরুল তিক্ত স্বরে বললেন,

— তোমার এই পরিবারে আর কোনো জায়গা নেই।

জারিন শান্তভাবে বললেন,

— জায়গা না থাকলেও রক্তের সম্পর্ক মুছে যায় না।

### রাত ১০টা ৪০ মিনিট — পুরোনো সম্পর্ক

আরমান সিকদার ঘরে প্রবেশ করলেন।

জারিনকে দেখে তাঁর চোখে বিস্ময় ফুটে উঠল।

— আপা!

জারিন এগিয়ে এসে ভাইকে জড়িয়ে ধরলেন।

— কেমন আছিস, আরমান?

— এত বছর পর কোথা থেকে এলে?

— অনেক কথা জমে আছে ভাই। আজ সব বলতে চাই।

মেহরীন অবাক হয়ে বলল,

— তাহলে আপনি আরমান চাচার বোন?

জারিন মাথা নাড়লেন।

— হ্যাঁ। আমি আরমানের বড় বোন।

মেহরীন আবার প্রশ্ন করল,

— তাহলে এতদিন আপনাকে কেউ আমাদের কথা বলেনি কেন?

জারিনের চোখে পানি জমল।

— কারণ এই পরিবারের ইতিহাসে আমার নামটাও একসময় মুছে ফেলা হয়েছিল।

### পরদিন সকাল ৯টা — ডাইনিং রুম

সকালের নাশতার টেবিলে আজ অদ্ভুত পরিবেশ।

জারিন এক পাশে বসে আছেন। নাসরিন বেগম বারবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছেন।

মেহরীন চুপচাপ সব দেখছিল।

হঠাৎ জারিন বললেন,

— নাসরিন, আমাকে চিনতে পারছ?

নাসরিন ধীরে উত্তর দিলেন,

— এত বছর পরও কি কাউকে ভোলা যায়?

জারিন বললেন,

— তাহলে নিশ্চয়ই মনে আছে, ২০০৮ সালের সেই রাতের কথা।

নাসরিনের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

কামরুল দ্রুত বলে উঠলেন,

— সকালের নাশতার টেবিলে পুরোনো কথা তুলতে হবে না।

মেহরীন বাবার দিকে তাকাল।

— কেন বাবা? পুরোনো কথা উঠলেই তোমার এত সমস্যা হয় কেন?

কামরুল কোনো উত্তর দিলেন না।

### দুপুর ১২টা — জারিনের ঘর

মেহরীন জারিনের ঘরে প্রবেশ করল।

জারিন জানালার পাশে বসে পুরোনো ছবির অ্যালবাম দেখছিলেন।

— আসতে পারি?

— অবশ্যই মা। এসো।

মেহরীন তাঁর পাশে বসে বলল,

— আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।

— বলো।

— ১৯৯৯ সালে কী হয়েছিল?

জারিন অ্যালবাম বন্ধ করলেন।

— সেই বছর আমাদের পরিবারে একটা বড় ঘটনা ঘটেছিল। আমার বিয়ে ঠিক হয়েছিল একজন মানুষের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের কয়েক দিন আগে জানতে পারি, তিনি আমার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

— তারপর?

— পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য সবাই আমাকে চুপ থাকতে বলেছিল। কিন্তু আমি প্রতিবাদ করেছিলাম।

মেহরীন জিজ্ঞেস করল,

— সেই মানুষটি কে ছিলেন?

জারিন উত্তর না দিয়ে একটা ছবি বের করলেন।

ছবিতে একজন যুবক দাঁড়িয়ে আছে।

— এই মানুষটিকে চিনো?

মেহরীন ছবিটার দিকে তাকিয়ে বলল,

— না।

জারিন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

— এই মানুষটির কারণেই আমাদের পরিবারের এতগুলো সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল।

### বিকেল ৩টা — রায়ানের সন্দেহ

রায়ান নিজের ঘরে বসে পুরোনো কাগজপত্র দেখছিল।

তার হাতে একটা চিঠি।

চিঠিতে লেখা—

"জারিন ফিরে এলে তাকে বিশ্বাস করবে না। সে যা বলবে, তার সবটাই সত্য নয়।"

রায়ান চিঠিটা কয়েকবার পড়ল।

ঠিক তখনই মেহরীন ঘরে প্রবেশ করল।

— কী পড়ছ?

রায়ান চিঠিটা লুকিয়ে ফেলল।

— কিছু না।

মেহরীন বিরক্ত হয়ে বলল,

— তোমার এই কিছু না কথাটা শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত।

রায়ান মৃদু হেসে বলল,

— সবকিছু একদিনে জানতে চেয়ো না।

— তাহলে তুমি বলো, জারিন কে?

রায়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— তিনি শুধু আরমান চাচার বোন নন। তিনি আমাদের পরিবারের সবচেয়ে পুরোনো রহস্যের সঙ্গে জড়িত।

— কী রহস্য?

— ১৯৯৯ সালে তাঁর বিয়েটা কেন ভেঙেছিল, সেটা কেউ ঠিকমতো জানে না।

### বিকেল ৫টা — পুরোনো বাগান

জারিন বাগানে বসে ছিলেন।

আরমান তাঁর পাশে এসে বসলেন।

— আপা, এত বছর পর ফিরে এসে কী করতে চাও?

— সত্য প্রকাশ করতে চাই।

— কামরুল ভাই সেটা মেনে নেবেন না।

জারিন মৃদু হাসলেন।

— আমি আর কারও অনুমতির অপেক্ষায় নেই।

আরমান বললেন,

— তুমি কি এখনও সেই চিঠিটা রেখেছ?

জারিন তাঁর দিকে তাকালেন।

— কোন চিঠি?

— ১৯৯৯ সালের চিঠি।

জারিন কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর নিজের ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো খাম বের করলেন।

— এই চিঠিটাই আমাদের পরিবারের সবকিছু বদলে দিয়েছিল।

আরমান খামটা হাতে নিয়ে দেখলেন।

খামের ওপর লেখা—

"নওরীনের জন্য।"

আরমান বিস্মিত হয়ে বললেন,

— এটা নওরীনের কাছে যাওয়ার কথা ছিল?

জারিন মাথা নাড়লেন।

— কিন্তু চিঠিটা কখনো তার হাতে পৌঁছায়নি।

### সন্ধ্যা ৭টা — নওরীনের ঘর

নওরীন চিঠিটা হাতে নিয়ে বসে আছেন।

চিঠির ভেতরে লেখা ছিল—

"নওরীন,

তুমি যাকে নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষ মনে করছ, সে তোমার সঙ্গে সত্য গোপন করছে। তোমার সন্তানদের নিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার পেছনে শুধু কামরুল নেই।

সত্য জানার আগে কাউকে বিশ্বাস কোরো না।

— জারিন"

নওরীন চিঠিটা পড়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন।

— তাহলে জারিন এতদিন সত্য জানতেন?

ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।

জারিন ভেতরে প্রবেশ করলেন।

নওরীন উঠে দাঁড়ালেন।

— আপা, আপনি এতদিন কোথায় ছিলেন?

জারিন তাঁর হাত ধরে বললেন,

— অনেক দূরে ছিলাম। কিন্তু তোমাকে একটা কথা বলার জন্য ফিরে এসেছি।

— কী কথা?

জারিন ধীরে বললেন,

— তোমার সন্তানদের আলাদা করার সিদ্ধান্ত কামরুল একা নেয়নি।

নওরীন বিস্মিত হয়ে বললেন,

— তাহলে আর কে ছিল?

জারিন উত্তর দেওয়ার আগেই ঘরের বাইরে কারও পায়ের শব্দ হলো।

দুজনেই দরজার দিকে তাকালেন।

### রাত ৯টা — অপ্রত্যাশিত মুখোমুখি

ড্রয়িংরুমে সবাই উপস্থিত।

কামরুল সিকদার জারিনের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন,

— তুমি কি মনে করেছ, ফিরে এসে সবকিছু নিজের মতো করে বদলে দেবে?

জারিন শান্তভাবে বললেন,

— আমি কিছু বদলাতে আসিনি। শুধু সত্যটা ফিরিয়ে দিতে এসেছি।

— কোন সত্য?

— যে সত্য তুমি এত বছর ধরে লুকিয়ে রেখেছ।

কামরুল রাগে বললেন,

— সাবধান, জারিন!

জারিন এবার কঠিন গলায় বললেন,

— ভয় দেখিয়ে আর লাভ হবে না। কারণ এবার আমার কাছে প্রমাণ আছে।

তিনি ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো ছবি বের করলেন।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের সামনে কামরুল, নওরীন এবং আরও একজন পুরুষ দাঁড়িয়ে আছেন।

মেহরীন ছবিটা হাতে নিয়ে বলল,

— এই তৃতীয় মানুষটি কে?

জারিন উত্তর দিলেন,

— এই মানুষটিই তোমাদের জন্মের রাতের সবচেয়ে বড় রহস্য।

সবাই ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল।

রায়ান ছবিটা হাতে নিয়ে হঠাৎ চমকে উঠল।

— অসম্ভব!

মেহরীন প্রশ্ন করল,

— কী হয়েছে?

রায়ান কাঁপা গলায় বলল,

— এই মানুষটিকে আমি চিনি।

কামরুল চিৎকার করে উঠলেন,

— রায়ান! ছবিটা নামিয়ে রাখো!

রায়ান বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,

— কিন্তু বাবা, উনি তো...

সে বাকিটা বলতে পারল না।

### রাত ১১টা ৩০ মিনিট — শেষ দৃশ্য

মেহরীন নিজের ঘরে ফিরে ছবিটা আবার দেখছিল।

ছবির পেছনে ছোট করে একটা নাম লেখা ছিল।

"ডা. মাহফুজ রহমান।"

ঠিক তখনই তার ফোনে অচেনা নম্বর থেকে কল এল।

— হ্যালো?

অপর পাশ থেকে একজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেল।

— মেহরীন, তুমি কি জারিনের সঙ্গে দেখা করেছ?

— আপনি কে?

— আমার নাম মাহফুজ।

মেহরীনের হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।

লোকটি আবার বললেন,

— তোমার জন্মের রাতের সত্য জানতে চাইলে কাল বিকেল পাঁচটায় পুরোনো হাসপাতালের সামনে এসো।

মেহরীন জিজ্ঞেস করল,

— আপনি এতদিন কোথায় ছিলেন?

লোকটি ধীরে উত্তর দিলেন,

— কারণ আমি জানি, তোমাদের দুজনের মধ্যে আসলে কী ঘটেছিল।

কল কেটে গেল।

মেহরীন জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।

তার মনে একটাই প্রশ্ন—

ডা. মাহফুজ কি সত্যিই সব জানেন, নাকি তিনিও এই রহস্যের আরেকজন অংশ?

### অধ্যায়ের শেষ রহস্য 🖤

* জারিন কেন ১৯৯৯ সালের চিঠি এতদিন লুকিয়ে রেখেছিলেন?

* ডা. মাহফুজের সঙ্গে সিকদার পরিবারের সম্পর্ক কী?

* নওরীন ও তাঁর সন্তানদের আলাদা করার সিদ্ধান্তে আসলে কার হাত ছিল?

* রায়ান ছবির মানুষটিকে দেখে এতটা চমকে উঠল কেন?

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 8 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন