### 🌹 রক্তজবার প্রেম
লেখিকা: ছামিরা খাতুন
পর্ব ৩ — যে সত্য চাপা পড়ে আছে
কিছু সম্পর্কের শুরু হয় ভালোবাসা দিয়ে, আবার কিছু সম্পর্কের শুরু হয় এমন এক রহস্য দিয়ে, যার শেষ কোথায় কেউ জানে না।
### ১. ছবির পেছনের মানুষটি
রাত তখন প্রায় একটা।
নিজের ঘরের বিছানায় বসে ছবিটির দিকে তাকিয়ে আছে রক্তিমা। ছবিতে ছোট্ট একটি শিশু। শিশুটির পাশে দাঁড়িয়ে আছে আরহাম।
ছবিটি দেখে তার মাথায় অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরছে।
আরহামের সঙ্গে তার পরিচয় মাত্র কয়েক দিনের। অথচ ছবিতে মনে হচ্ছে, আরহাম তাকে অনেক আগে থেকেই চেনে।
রক্তিমা ছবিটির পেছনে আবার চোখ বুলাল।
লেখা ছিল—
তোমার জন্মের রাতেই তোমার ভাগ্য আরহামের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিল।
সে নিজের মনেই বলল,
— আমার জন্মের রাতে কী হয়েছিল?
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।
রক্তিমা দ্রুত ছবিটি বালিশের নিচে লুকিয়ে ফেলল।
— কে?
— আমি।
কণ্ঠটি চিনতে তার এক মুহূর্তও লাগল না।
আরহাম!
রক্তিমা দরজা খুলল।
আরহাম তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— ঘুমাওনি কেন?
— ঘুম আসছে না।
— শরীর খারাপ?
— না।
আরহাম ঘরের ভেতরে তাকিয়ে বলল,
— তোমাকে কিছু বলতে হবে।
রক্তিমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
— কী কথা?
— কাল সকালে আমার সঙ্গে যাবে।
— কোথায়?
— একটা জায়গায়।
— কোথায় যাব?
আরহাম কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
— যেখানে তোমার কিছু প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
রক্তিমা অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
— আপনি কি আমার ছবিটা দেখেছেন?
আরহামের চোখের দৃষ্টি মুহূর্তেই বদলে গেল।
— কোন ছবি?
রক্তিমা বুঝতে পারল, সে ভুল করে ফেলেছে।
— কিছু না।
আরহাম আর কোনো প্রশ্ন করল না। শুধু বলল,
— সকালে তৈরি থেকো।
তারপর চলে গেল।
কিন্তু দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আরহাম মনে মনে বলল,
ছবিটা ওর হাতে পৌঁছাল কীভাবে?
### ২. মায়ার সতর্কবার্তা
পরদিন সকাল।
রক্তিমা নাশতা শেষ করে নিজের ঘরে ফিরছিল। করিডোরে এসে হঠাৎ কারও সঙ্গে ধাক্কা খেল।
— ওহ! সরি!
সামনের মেয়েটি মুচকি হাসল।
— সমস্যা নেই।
রক্তিমা মেয়েটির দিকে তাকাল।
— আপনি কি মায়া আপু?
মায়া অবাক হয়ে বলল,
— তুমি আমাকে চেনো?
— আরহাম ভাইয়ার কাছ থেকে শুনেছি।
মায়ার মুখের হাসি একটু গভীর হলো।
— ওহ! আরহাম তোমার সঙ্গে আমার কথা বলেছে?
রক্তিমা সরলভাবে মাথা নাড়ল।
— না, মানে আপনার নাম শুনেছি।
মায়া কিছুক্ষণ রক্তিমার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
— তুমি আরহামকে কতদিন ধরে চেনো?
— কয়েক দিন।
— তাহলে একটা কথা মনে রেখো। আরহামকে যতটা সহজ মনে হচ্ছে, সে ততটা সহজ নয়।
রক্তিমা একটু থমকে গেল।
— আপনি কি ওনাকে অনেক আগে থেকে চেনেন?
মায়া মৃদু হেসে বলল,
— খুব ভালো করেই।
কথাটা বলে সে চলে গেল।
রক্তিমা দাঁড়িয়ে রইল।
মায়ার কথাগুলো তার মনে অদ্ভুত একটা অস্বস্তি তৈরি করল।
### ৩. পুরোনো বাড়ির পথে
সকাল দশটা।
বাড়ির সামনে কালো গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।
আরহাম গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিল।
রক্তিমা বেরিয়ে আসতেই সে ফোন রেখে দিল।
— তৈরি?
— জি।
— গাড়িতে ওঠো।
রক্তিমা গাড়িতে উঠে জানালার পাশে বসল।
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর সে প্রশ্ন করল,
— আমরা কোথায় যাচ্ছি?
— পুরোনো একটা বাড়িতে।
— কার বাড়ি?
— আমার দাদার।
রক্তিমা অবাক হলো।
— আপনার দাদার বাড়ি?
— হ্যাঁ।
— সেখানে কেন?
আরহাম রাস্তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— তোমার জন্মের রাতের কিছু স্মৃতি সেখানে রয়ে গেছে।
রক্তিমা আর কোনো প্রশ্ন করল না।
গাড়ি শহরের ব্যস্ত রাস্তা পেরিয়ে একটি নির্জন এলাকার দিকে এগিয়ে চলল।
প্রায় এক ঘণ্টা পর গাড়ি একটি বিশাল পুরোনো বাড়ির সামনে এসে থামল।
বাড়িটির দেয়ালে শ্যাওলা জমেছে। চারপাশে বড় বড় গাছ। প্রধান দরজার ওপর পুরোনো নকশা।
রক্তিমা গাড়ি থেকে নেমে বাড়িটির দিকে তাকাল।
— এখানে কেউ থাকে না?
— না।
— এত বড় বাড়ি খালি পড়ে আছে কেন?
আরহাম উত্তর দিল না।
সে শুধু দরজার তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করল।
রক্তিমাও পেছনে পেছনে গেল।
### ৪. একটি পুরোনো ডায়েরি
বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই রক্তিমার মনে হলো, সময় যেন এখানে থমকে আছে।
দেয়ালে পুরোনো ছবি। কাঠের আসবাবপত্র। ধুলোমাখা বইয়ের তাক।
আরহাম তাকে নিয়ে একটি ঘরে প্রবেশ করল।
ঘরের মাঝখানে একটি কাঠের আলমারি।
আরহাম আলমারি খুলে একটি ডায়েরি বের করল।
— এটা পড়ো।
রক্তিমা ডায়েরিটি হাতে নিল।
প্রথম পাতায় লেখা—
১৫ বছর আগের কিছু ঘটনা।
সে পাতা উল্টাতে লাগল।
একটি পাতায় এসে তার চোখ আটকে গেল।
সেই রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। রহমান বাড়িতে একটি কন্যাশিশুর জন্ম হয়েছিল। কিন্তু সেই রাতের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কারণ একই রাতে ঘটে গিয়েছিল এমন একটি ঘটনা, যা দুই পরিবারের সম্পর্ক চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছিল।
রক্তিমার হাত কেঁপে উঠল।
সে আরহামের দিকে তাকাল।
— কী হয়েছিল সেই রাতে?
আরহাম চুপ।
— বলুন না!
— এখনো সবটা জানার সময় হয়নি।
রক্তিমার চোখে পানি জমল।
— সবাই শুধু বলে সময় হয়নি। তাহলে কবে হবে?
আরহাম এবার তার দিকে তাকাল।
— যেদিন তুমি সত্যিটা জানার পরও নিজেকে সামলে রাখতে পারবে।
রক্তিমা ডায়েরিটি বন্ধ করে দিল।
তার কণ্ঠে অভিমান।
— আপনি জানেন, আমি কতটা ভয় পাচ্ছি?
আরহাম কিছুক্ষণ নীরব থেকে বলল,
— জানি।
— তাহলে আমাকে ভয় থেকে বের হতে সাহায্য করছেন না কেন?
আরহাম কোনো উত্তর দিল না।
শুধু ডায়েরিটি আবার আলমারিতে রেখে দিল।
### ৫. আরহামের অতীত
বাড়ির অন্য একটি ঘরে একা দাঁড়িয়ে আছে আরহাম।
দেয়ালে ঝুলছে তার মায়ের ছবি।
ছবির সামনে দাঁড়িয়ে সে বলল,
— মা, তুমি বলেছিলে মেয়েটাকে কখনো কষ্ট দিতে না। কিন্তু আমি কীভাবে ওকে সবকিছু থেকে দূরে রাখব?
তার চোখে আজ অন্যরকম এক ক্লান্তি।
পেছন থেকে একজন বৃদ্ধের কণ্ঠ শোনা গেল।
— ছোট সাহেব!
আরহাম ফিরে তাকাল।
বাড়ির পুরোনো দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা বৃদ্ধ করিম চাচা দাঁড়িয়ে আছেন।
— আপনি এসেছেন?
— হ্যাঁ, চাচা।
করিম চাচা রক্তিমার দিকে তাকিয়ে বললেন,
— মেয়েটি কি সেই ছোট্ট মেয়েটি?
আরহাম মাথা নাড়ল।
বৃদ্ধের চোখ ভিজে উঠল।
— আল্লাহ! এত বছর পর মেয়েটিকে আবার দেখলাম।
আরহাম দ্রুত বলল,
— চাচা, সাবধানে কথা বলবেন। ও এখনো কিছু জানে না।
করিম চাচা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— কিন্তু কতদিন লুকিয়ে রাখবেন, ছোট সাহেব? সত্য তো একদিন বের হবেই।
আরহাম জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,
— তার আগে আমাকে জানতে হবে, পনেরো বছর আগে আসলে কে মিথ্যা বলেছিল।
### ৬. প্রথম অনুভূতি
বিকেল হয়ে এসেছে।
রক্তিমা বাড়ির সামনের বাগানে দাঁড়িয়ে আছে।
সেখানে একটি রক্তজবা গাছ।
গাছটির নিচে ছোট্ট একটি পাথরের ফলক।
রক্তিমা কাছে গিয়ে পড়ল—
স্মৃতির জন্য, ২০০৯।
সে হাত দিয়ে ফলকটির ধুলো সরাতে লাগল।
হঠাৎ পেছন থেকে আরহামের কণ্ঠ শোনা গেল।
— কী করছ?
রক্তিমা ফিরে তাকাল।
— এখানে একটা নাম লেখা ছিল। কিন্তু মুছে গেছে।
আরহাম কাছে এসে ফলকটির দিকে তাকাল।
তার মুখ মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
— চলো।
— কিন্তু...
— বলেছি, চলো!
রক্তিমা চুপ করে তার পেছনে হাঁটতে লাগল।
কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ তার পা পিছলে গেল।
আরহাম দ্রুত হাত বাড়িয়ে তাকে ধরে ফেলল।
কয়েক মুহূর্ত দুজনেই নীরব।
রক্তিমা লজ্জা পেয়ে চোখ নামিয়ে নিল।
— ধন্যবাদ।
আরহাম হাত সরিয়ে নিয়ে বলল,
— সাবধানে হাঁটতে পারো না?
রক্তিমা মৃদু স্বরে বলল,
— সরি।
আরহাম তার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— সবকিছুর জন্য সরি বলতে হয় না।
রক্তিমা মৃদু হাসল।
আরহাম প্রথমবার অনুভব করল, এই মেয়েটির হাসি তার পরিচিত পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে আলাদা।
কিন্তু সে নিজের মনকে কঠিন করে নিল।
কারণ সে জানে, এই মেয়েটির জীবনে তার উপস্থিতি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়।
### ৭. মায়ার ফিরে আসা
সন্ধ্যা সাতটা।
রহমান বাড়িতে ফিরে এসেছে রক্তিমা ও আরহাম।
রক্তিমা নিজের ঘরে চলে গেল। আরহাম ড্রয়িংরুমে বসে ছিল।
ঠিক তখনই মায়া এসে তার সামনে দাঁড়াল।
— কোথায় গিয়েছিলে?
— তোমাকে কৈফিয়ত দিতে হবে?
— মেয়েটাকে নিয়ে গিয়েছিলে, তাই না?
আরহাম চুপ করে রইল।
মায়া এবার একটু কাছে এসে বলল,
— আরহাম, তুমি কি সত্যিই ভাবছ সবকিছু আগের মতো থাকবে?
— তুমি কী বলতে চাও?
— রক্তিমা যদি সব জানতে পারে, তাহলে তোমার কী হবে ভেবেছ?
আরহাম ঠান্ডা গলায় বলল,
— আমার কী হবে সেটা নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না।
মায়া কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল,
— তুমি এখনো ওকে রক্ষা করতে চাইছ?
— হ্যাঁ।
— কেন?
আরহাম উত্তর দিল না।
মায়া মুচকি হেসে বলল,
— সাবধান, আরহাম। যে মেয়েকে তুমি অতীত থেকে বাঁচাতে চাইছ, একদিন সেই মেয়েই তোমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়াবে।
### ৮. মধ্যরাতের কান্না
রাত বারোটা।
রক্তিমা বিছানায় শুয়ে আছে। কিন্তু চোখে ঘুম নেই।
আজকের দিনের ঘটনাগুলো বারবার মনে পড়ছে।
পুরোনো বাড়ি, ডায়েরি, করিম চাচার কথা আর আরহামের অদ্ভুত আচরণ।
সে ফোন হাতে নিয়ে মাকে কল করল।
— হ্যালো মা?
— কী হয়েছে রক্তি? ঘুমাসনি?
— মা, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?
— বল মা।
— আমার জন্মের সময় কি কোনো ঘটনা ঘটেছিল?
ওপাশে কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।
তারপর নাজমা বললেন,
— হঠাৎ এসব প্রশ্ন করছিস কেন?
— এমনি জানতে ইচ্ছে হলো।
— তোর জন্মের সময় অনেক ঝড়-বৃষ্টি হয়েছিল। তুই জন্মানোর পর আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম।
রক্তিমা আবার প্রশ্ন করল,
— আর কোনো ঘটনা?
নাজমা এবার কিছুটা অস্থির হয়ে বললেন,
— এসব কথা বাদ দে। ঘুমিয়ে পড়।
ফোন কেটে গেল।
রক্তিমা ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
মায়ের কণ্ঠেও আজ সে ভয় অনুভব করেছে।
তার চোখ বেয়ে একফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল।
— সবাই আমার কাছ থেকে কী লুকাচ্ছে?
### ৯. রক্তজবার নিচে একটি প্রতিশ্রুতি
রাত প্রায় একটা।
আরহাম বাড়ির বাগানে দাঁড়িয়ে আছে।
তার হাতে একটি লাল রক্তজবা।
হঠাৎ পেছন থেকে নরম কণ্ঠ ভেসে এল।
— এত রাতে এখানে?
আরহাম ফিরে তাকাল।
রক্তিমা দাঁড়িয়ে আছে।
— ঘুম আসছে না?
— না।
— কেন?
রক্তিমা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— আমার মনে হচ্ছে, আমার চারপাশের সবাই আমাকে মিথ্যা বলছে।
আরহাম ফুলটির দিকে তাকাল।
— সবাই মিথ্যা বলে না।
— তাহলে আপনি সত্যিটা বলছেন না কেন?
আরহাম কোনো উত্তর দিল না।
রক্তিমা ধীরে বলল,
— আমি কাউকে কষ্ট দিতে চাই না। শুধু জানতে চাই, আমার জীবনে কী ঘটেছিল।
আরহাম এবার তার দিকে তাকাল।
— একটা প্রতিশ্রুতি দাও।
— কী?
— যাই ঘটুক, নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবে না।
রক্তিমা মাথা নাড়ল।
— প্রতিশ্রুতি দিলাম।
আরহাম ফুলটি বাগানের পাথরের ওপর রেখে বলল,
— এবার ঘুমাতে যাও।
রক্তিমা চলে গেল।
আরহাম একা দাঁড়িয়ে রইল।
তার মনে শুধু একটি কথাই ঘুরছিল—
যদি কখনো তোমাকে ভালোবেসে ফেলি, রক্তিমা, তাহলে কি তোমার অতীত আমাকে ক্ষমা করবে?
### ১০. শেষ দৃশ্য — ফিরে এল অতীত
রাত দুইটা।
শহরের অন্য প্রান্তে একটি অন্ধকার ঘরে বসে আছে একজন অচেনা ব্যক্তি।
তার সামনে রহমান পরিবারের একটি পুরোনো ছবি।
ছবিতে কামাল রহমান, আরহামের বাবা এবং আরেকজন অচেনা নারী।
লোকটি ছবিটির ওপর আঙুল রেখে হাসল।
তারপর ফোন বের করে একটি নম্বরে কল দিল।
— কাজ শুরু হয়েছে।
ওপাশ থেকে প্রশ্ন এল,
— মেয়েটা কি সব জেনে গেছে?
— না। তবে বেশিদিন আর লুকিয়ে রাখা যাবে না।
— আরহাম কী করছে?
লোকটি হেসে বলল,
— আরহাম এখনো মেয়েটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
ওপাশ থেকে উত্তর এল,
— তাহলে এবার আরহামকেই তার অতীতের মুখোমুখি হতে হবে।
লোকটি ফোন রেখে দিল।
তারপর টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটি পুরোনো ছবি বের করল।
ছবিতে ছোট্ট রক্তিমা।
ছবির পেছনে লেখা—
“রক্তিমা রহমান—যে মেয়ের জন্মের সঙ্গে দুটি পরিবারের ভাগ্য বদলে গিয়েছিল।”
লোকটি ছবিটি ছিঁড়ে ফেলল।
তারপর অন্ধকার ঘরে শুধু একটি কথাই শোনা গেল—
— খেলা এবার শুরু হবে!
পর্ব ৩ সমাপ্ত।
চলবে... 🌹