ফন্ট সাইজ:
থিম:
রইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ

৩২তম পর্ব

লেখক: ইয়ুশরা রিমু

#র‌ইলো_প্রেমের_নিমন্ত্রণ

#পর্ব_৩২

#ইয়ুশরা_রিমু

[ ক'পি করা নিষিদ্ধ]

খাটের ওপর ধপাস করে পড়ে যাওয়ার পর কয়েক সেকেন্ডের জন্য যেন পুরো ঘরটাই স্তব্ধ হয়ে গেলো। বেলা বিস্ময়ে বড় বড় চোখ মেলে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইলো আর তাকে পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে গিয়ে সায়রও ভারসাম্য হারিয়ে তার ওপরই পড়েছে। ষ হঠাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনায় দুজনেই কিছু মুহূর্ত হতভম্ব হয়ে গেলো।সায়র পুনরায় দ্রুত মুখ তুলে উদ্বিগ্ন গলায় বললো,

--- বেলাঠিক আছিস? কোথাও বেশি লেগেছে?

বেলা মুখ কুঁচকে কষ্টের ভান করে তাকাল। তারপর রাগী গলায় বিড়বিড় করে বলল,

---আপনি উপর থেকে সরলে তো বুঝবো ঠিক আছি কি না!

সায়র থমকে গেলো।

বেলা এবার আরও নাটকীয় মুখ করে বললো,

---সরুন তাড়াতাড়ি চালের বস্তার মতো পড়ে আছেন! মনে হচ্ছে আমার শরীরটা একেবারে চ্যাপ্টা হয়ে গেছে।

কথাটা শুনে সায়রের মুখে অপ্রস্তুত হাসি ফুটে উঠলো।

--- এই মেয়ে! আমি আবার চালের বস্তা হলাম কবে?

---এইমাত্র। এখন নামবেন, নাকি আমি উদ্ধারকারী দল ডাকবো?

সায়র সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে সামলে দ্রুত পাশ ফিরে খাট থেকে নেমে দাঁড়াল। তারপর হাত বাড়িয়ে বললো,

--- আয়, উঠ।

বেলা তার হাতের দিকে তাকিয়ে নাক সিটকালো,

--- না, নিজেই উঠবো। আবার টান দিয়ে ফেলে দেবেন।

সে ধীরে ধীরে উঠে বসতেই কোমরে হাত দিয়ে মুখ বাঁকাল।

---উফ।সত্যিই ব্যথা পেয়েছি।

সায়র ভুরু কুঁচকে বললো,

--- দেখি কোথায় লেগেছে?

বেলা সঙ্গে সঙ্গে দুই হাত তুলে তাকে থামিয়ে দিল।

--- দেখতে হবে না। আপনি দূরে থাকলেই আমি ভালো হয়ে যাবো।

--- অতক্ষণ তো দৌড়ে বেড়াচ্ছিলি!

---দৌড়েছি ঠিকই, কিন্তু পেছনে যে হিটলার মাস্টার দৌড়াচ্ছিল, সেটা তো ভাবিনি।

সায়র হেসে ফেলল।

--- হিটলার?

---হুম। বাসায় এসেও ক্লাস, প্রশ্ন, পরীক্ষা, শাস্তি। আপনি একটা সাইক্লোন

সায়র বুকের সামনে হাত গুটিয়ে দাঁড়াল।

--- তাহলে সাইক্লোন থেকে বাঁচতে পড়া মুখস্থ করলেই তো হতো।

বেলা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,

--- আপনি না একদম নির্দয় মানুষ। একটু আদর করে পড়াতে পারেন না?

সায়র বাঁকা হেসে বলে,

---আদর করে পড়াতে পারি। আয় চল পড়াই

বেলা দ্রুত বলে,

--- আপনি একটা দুষ্টু লোক। আমার প্রয়োজন নেই। আপনার কাছে পড়ার।

দুজনেই হেসে উঠলো। তারপর মৃদু কিন্তু অর্থপূর্ণ হাসি দিয়ে বললো,

--- আজকে তোর ভাগ্য ভালো। পড়ে গিয়ে যা অবস্থা করেছিস, তাই শা'স্তিটা আজ দিচ্ছি না।

বেলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

--- আলহামদুলিল্লাহ! তাহলে আমি বেঁচে গেলাম।

সায়র সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে বলল,

---এত খুশি হবি না। শা'স্তি কিন্তু বাকি রাখলাম।

বেলার হাসিটা মুহূর্তেই মিলিয়ে গেল।

--- মানে?

--- মানে খুব সহজ। সুযোগ মতো সুদ-আসলে শা'স্তি আদায় করবো। ছাড় কিন্তু একদমই পাবি না।

বেলা চোখ গোল করে তাকিয়ে রইলো। তারপর আস্তে করে শুকনো ঢোক গিলে মনে মনে বলল,

--- ইশ্ এই হিটলার বেটা ওকে একটুও শান্তিতে থাকতে দিবেনা।

★

রাত তখন প্রায় সাড়ে এগারোটা। খান বাড়ির প্রতিটি ঘর ধীরে ধীরে নীরবতায় ডুবে গেছে। নিচতলার ড্রয়িংরুমের বড় ঘড়িটা টিকটিক শব্দে সময় গুনছে, আর বাইরে দূরের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক মিলেমিশে চারপাশে এক অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ তৈরি করেছে। সারাদিনের ঘটনাগুলো মনে পড়তেই বেলার বুকের ভেতর আবারও কেমন ধুকপুক করে উঠলো।

সায়রের কথাটাই বারবার মাথার ভেতর ঘুরছিলো। শা'স্তি সত্যিই দেবে নাকি শুধু ভয় দেখিয়েছে, সেটা বুঝতে না পেরে বেলা সিদ্ধান্ত নিলো একটু দেরি করেই যাবে। হয়তো ততক্ষণে সায়র ঘুমিয়ে পড়বে, আর আজকের মতো রক্ষা পাওয়া যাবে।

নিজের ঘরের দরজাটা আস্তে করে খুলে বেলা চারপাশে একবার তাকালো। ওড়নার আঁচলটা ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে সে গেলো সায়রের রুমের দিকে।ঠিক সেই সময় নিচতলার ড্রয়িং রুমে মমতাজ বেগম পানি পান করতে এসেছিলেন। কিচেনের দিকে যেতে গিয়েই তাঁর চোখ পড়লো করিডরের দিকে। আধো আলোয় তিনি স্পষ্ট দেখতে পেলেন বেলা নিঃশব্দে চারপাশে দেখে দেখে সায়রের ঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।মমতাজ বেগম থমকে দাঁড়ালেন। তাঁর চোখমুখ মুহূর্তেই কঠিন হয়ে উঠলো। ঠোঁট বাঁকিয়ে খুব নিচু স্বরে বিরক্তি নিয়ে বিড়বিড় করে বললেন,

---লজ্জা-শরম বলতে কিছু নেই মেয়েটার! রাতদুপুরে আমার ছেলের ঘরে চুপিসারে যাচ্ছে । যেমন ভাঁজা মাছ উল্টে খেতে জানে না। আল্লাহই জানে আর কত নাটক বাকি আছে।

আরও কয়েক মুহূর্ত তিনি সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলেন। রাগে মুখ শক্ত হয়ে গেলেও কোনো শব্দ করলেন না। শুধু তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে বেলার পেছনের দিকে তাকিয়ে থেকে ধীরে ধীরে কিচেনের দিকে চলে গেলেন।

এদিকে বেলা কিছুই টের পেলো না। সে আস্তে করে সায়রের দরজায় হাত রাখতেই দরজাটা কিঞ্চিৎ ফাঁক হয়ে গেলো। মনে হলো আগে থেকেই বন্ধ করা ছিলো না।ঘরের ভেতর একেবারে অন্ধকার। শুধু জানালা দিয়ে ঢুকে পড়া চাঁদের ম্লান আলো বিছানার এক কোণে পড়েছে। বেলা নিঃশ্বাস আটকে ভেতরে ঢুকে দরজাটা আলতো করে টেনে দিল।সে নিজের মনেই ফিসফিস করে বললো,

---মনে হয় সত্যিই ঘুমিয়ে গেছে ।‌যাক বাবা আজ বেঁচে গেলাম।

ধীরে ধীরে বিছানার কাছে এগিয়ে গিয়ে অন্ধকারে চোখ সয়ে আসতেই সে বিছানার দিকে ঝুঁকে দেখতে গেলো।সায়র ঘুমিয়েছে কি না।হঠাৎ,

---“ভাউ!”

পেছন থেকে বিকট আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে দুটো হাত হঠাৎ তার কাঁধের পাশে উঠতেই বেলা চিৎকার করে ভয়ে প্রায় লাফিয়ে উঠলো।বুকের উপর হাত চেপে কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে হাঁপাতে লাগলো সে। ভয়ে তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।।অন্ধকারের মধ্যেই সায়রের অট্টহাসি ভেসে উঠলো।

---হাহাহা! এই সাহস নিয়ে আমাকে ফাঁকি দিতে এসেছিলি?

বেলা রাগে কাঁপতে কাঁপতে বুকের উপর হাত রেখেই বললো,

---আপনি মানুষ নাকি ভূত? এভাবে কেউ ভয় দেখায়? আমার তো হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো!

সায়র দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে বললো

--আমি তো অনেকক্ষণ ধরেই জেগে আছি। ভাবছিলাম, দেখি ভীতু ম্যাডাম কখন চুপিসারে আসে।

বেলা চোখ রাঙিয়ে বলল,

---আমি ভীতু? আমি শুধু ভাবছিলাম আপনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। আর আপনি কিনা অন্ধকারে লুকিয়ে থেকে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছেন!

---তা হলে এতো দেরিতে এসেছিলি কেন?

প্রশ্নটা শুনে বেলা এক মুহূর্ত থেমে গেল। তারপর গলা খাঁকারি দিয়ে ভান করা স্বাভাবিক মুখে বললো,

---আমিআমি তো শুধু দেখতে এসেছিলাম আপনি সত্যিই ঘুমিয়েছেন কি না।

সায়র মুচকি হেসে এক পা এগিয়ে এলো,

---সত্যি? নাকি শা'স্তির ভয়ে দেরি করে এসে ভেবেছিলি আমি ঘুমিয়ে যাবো?

বেলার মুখটা সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে গেল। সে চোখ ফিরিয়ে বিড়বিড় করে বললো,

--আপনি সবসময় এতো বেশি বুঝেন কেন?

সায়র হেসে মাথা নাড়লো,

---কারণ তোর মুখ মিথ্যা বলতে পারে, কিন্তু চোখ পারে না।

বেলা আবারও বুকের উপর হাত রেখে দীর্ঘশ্বাস ফেললো। তারপর রাগী গলায় বললো,

---আগে বলে রাখছি, আজকের এই ভয় দেখানোই আপনার শা'স্তি ধরা হবে। নতুন করে আর কিছু চলবে না।

সায়র দুষ্টু হাসি চেপে শান্ত গলায় বলল,

---না, এটা তো শুধু ট্রেলার ছিলো। আসল শা'স্তির এখনও শুরুই হয়নি।

বেলা বিরক্ত হলো।।ঘরের ভেতর আবার নীরবতা নেমে এলো। জানালার ফাঁক গলে আসা চাঁদের ম্লান আলোয় সায়রের মুখের দুষ্টু হাসিটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, আর বেলা এখনও বুকের ওপর এক হাত চেপে বসে আছে। ভয়ের ধাক্কা কে'টে গেলেও বিরক্তিটা যেন কিছুতেই কমছে না।সায়র ধীরে ধীরে বিছানার কিনারায় বসে দুই হাত ভাঁজ করে বললো,

--- জানিস, আমি কেন জেগে আছি??

বেলা ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

--- কেন?

সায়র ঠোঁটের কোণে রহস্যময় হাসি টেনে খুব ধীর স্বরে বলল,

--- শুধু তোকে শা'স্তি দেওয়ার জন্য জেগে আছি।

কথাটা শুনতেই বেলার মুখের রং পাল্টে গেলো। সন্ধ্যার সেই হুমকির কথা মুহূর্তেই মনে পড়ে গেল তার। সে অজান্তেই একটু সরে বসলো, তারপর তোতলাতে তোতলাতে বললো,

---আ… আবার শা'স্তি? আপনি তো মজা করছিলেন না?

সায়র কোনো উত্তর দিলো না। বরং ইচ্ছে করেই ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। এক পা… দুই পা… করে বেলার দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। ঘরের অন্ধকারে ওর ছায়াটা যেন আরও বড় লাগছিল।বেলা দ্রুত পিছিয়ে যেতে যেতে খাটের হেডবোর্ডে ঠেকে গেল। পালানোর আর কোনো জায়গা নেই। ওড়নার কোণা শক্ত করে মুঠোয় চেপে ধরে ভীত গলায় বলল,

--- এই... এইভাবে সামনে আসছেন কেন? দূরে দাঁড়ান।

সায়র গম্ভীর মুখেই দাঁড়িয়ে রইল।

---শা'স্তি তো দিতেই হবে। কথা দিয়েছি।

---না।আজ না। কাল দেন। পরশু দেন। কিন্তু আজ না!

---কেন? এত ভয় পাচ্ছিস?

বেলা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,

--- আপনাকে না আপনার আইডিয়াগুলোকে ভ'য় পাই। কখন কী করেন, আল্লাহই জানে!

আর এক সেকেন্ডও গম্ভীর থাকতে পারলো না সায়র। হঠাৎ করেই জোরে হেসে উঠলো। হাসতে হাসতে বিছানায় বসে পড়ে বললো,

--- তোর মুখটা দেখেছিস? সত্যি সত্যিই ভেবে ফেলেছিস আমি তোকে শা'স্তি দিতে যাচ্ছি!

বেলা কয়েক মুহূর্ত হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো। তারপর বুঝতে পেরে রাগে ফুঁসে উঠে পাশের বালিশটা তুলে সোজা সায়রের মুখের দিকে ছুড়ে মা'রলো।

---আপনি একটা জঘন্য মানুষ! সব সময় শুধু আমাকে ভয় দেখান।

সায়র সহজেই বালিশটা ধরে ফেললো,

---এই যে! শা'স্তির আগে আবার হা"মলাও শুরু করে দিলি?

--- আরও একটা বালিশ আছে। দরকার হলে সেটাও মা'রবো।

--- তাহলে আমি আত্মসমর্পণ করি নাকি?

বেলা নাক সিটকিয়ে বললো,

--ওটাই ভালো হবে।

সায়র হেসে বালিশটা নিজের কোলে রেখে বললো,

---কিন্তু একটা কথা বল তো, তুই এত রাতে চুপিচুপি এলি কেন? সত্যিটা বলবি।

বেলা চোখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকাল।

--বলবো না।

---তাহলে আমি আন্দাজ করি?

--- করুন দেখি।

--- তুই ভেবেছিলি আমি ঘুমিয়ে পড়বো। তারপর চুপচাপ এসে শুয়ে পড়বি। তাই না?

বেলা সঙ্গে সঙ্গে চমকে তাকালো,

--- আপনি কীভাবে বুঝলেন?

সায়র বিজয়ীর ভঙ্গিতে বলল,

---কারণ তোর মাথায় সারাদিন কী চলে , সেটা আমার খুব ভালো করে জানা আছে।

--- মিথ্যা! আপনি আন্দাজে বলছেন।

--- আন্দাজ যদি এত নিখুঁত হয়, তাহলে ভাব আমার কতো বুদ্ধি।

বেলা মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করল,

--- নিজের প্রশংসা করতে আপনার জুড়ি নেই।

--- আর তুই? আমাকে চালের বস্তা বলেছিলি কে?

বেলা সঙ্গে সঙ্গে ঠোঁট চেপে ফেলল। তারপর খুব আস্তে বলল,

---ওটা ভুল করে বের হয়ে গিয়েছিলো।

--- ভুল? এত সুন্দর উপাধি ভুল করে আসে?

--- আচ্ছা, সরি। খুশি?

সায়র ভান করে অনেক ভাব নিয়ে বলল,

--- না, এত সহজে মাফ হয় না।

---আবার শুরু!

--- হুম, শা'স্তির ফাইল এখনও খোলা আছে।

বেলা বিরক্ত হয়ে আরেকটা বালিশ তুলে নিলো।

--- এক পা সামনে আসবেন, সত্যি করে বলছি এটা ছুড়ে মা'র'বো।

সায়র দুই হাত ওপরে তুলে নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো,

---ঠিক আছে ঠিক আছে, আমি নি'রস্ত্র। কিন্তু তুইও অ"স্ত্র নামা।

বেলা হেসে ফেললো।রাগের অভিনয়টা আর ধরে রাখতে পারলো না। বালিশটা আবার পাশে রেখে বললো,

---- আপনার সঙ্গে ঝগড়া করতে এলেই শেষ পর্যন্ত হাসি পায় কেন, বুঝি না।

সায়র নরম গলায় উত্তর দিলো,

--- কারণ তোর রাগ পাঁচ মিনিটের বেশি টেকে না।

--- কে বলেছে? অনেকক্ষণ টেকে।

--- তা হলে এখন হাসছিস কেন?

বেলা সঙ্গে সঙ্গে মুখ গম্ভীর করে ফেললো।

-- আমি হাসিনি।

---আচ্ছা।

বেলা বললো,

---চুপ করে ঘুমান! একদম কথা বলবেন না।

সায়র চাদরটা ধরে মৃদু হেসে বলল,

--- ঠিক আছে, আজ শা'স্তি স্থগিত থাকলো।

রাতের খুনসুটি, বালিশ যুদ্ধ আর হাসাহাসির পর ধীরে ধীরে ঘরটা আবার শান্ত হয়ে এলো। জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া শীতল বাতাসে পর্দাগুলো আস্তে আস্তে দুলছে। টেবিলের ওপর রাখা ছোট্ট ঘড়িটার কাঁটা বারোটার অনেকটা পেরিয়ে গেছে। এতক্ষণে দুজনেরই চোখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।সায়র বালিশটা ঠিক করে হেলান দিয়ে বসে মৃদু হেসে বলল,

--- আচ্ছা, এবার যু''দ্ধবিরতি। চল, ঘুমাই।

বেলা চাদরটা টেনে গায়ে দিতে দিতে বললো,

--- হুম।আজ অনেক ঝামেলা হয়ে গেছে।

সায়র মাথা নেড়ে শান্ত গলায় বললো,

--- সকালে কিন্তু আমাদের দুজনেরই কলেজ আছে। তুই তো ক্লাস শুরু হওয়ার একটু আগে গেলেও চলে যাবে, কিন্তু আমি টিচার। আমাকে সবার আগে গিয়ে ক্লাসের প্রস্তুতি নিতে হবে। তাই আজ আর রাত জাগা ঠিক হবে না।

বেলা মুচকি হেসে উত্তর দিল,

--- ঠিক আছে, আপনি আগে ঘুমান।

-- আমি আগে কেন?

--- কারণ আপনিই তো বড় মানুষ। টিচারদের আগে ঘুমানো উচিত।তাই সম্মান করে বলছি।

সায়র হেসে ফেললো,

---বাহ! নতুন নিয়ম শুনলাম।

--- আমি বানালাম। এখন মানুন।

সায়র আর কিছু বললো না। ধীরে ধীরে লাইট বন্ধ করে শুধু জানালার পর্দা সরিয়ে দিলো, যাতে চাঁদের হালকা আলো ঘরে পড়ে। তারপর বিছানার এক পাশে গিয়ে শুয়ে পড়লো। বেলাও অন্য প্রান্তে গিয়ে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে রইলো। দুজনের মাঝখানে একটা ছোট্ট ফাঁকা জায়গা, যেন অদৃশ্য সীমারেখা টানা আছে।

কিছুক্ষণ শুধু নীরবতা।হঠাৎ সায়র ছাদের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় ডাকলো,

---বেলা ঘুমিয়ে পড়েছিস?

বেলা চোখ বন্ধ রেখেই বলল,

---না। বলুন।

--- একটা কথা অনেকক্ষণ ধরে ভাবছিলাম।

---কী কথা?

সায়র কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললো,

--- সামনের উইকে তো টানা কয়েক দিনের বন্ধ। ভাবছিলাম যদি কোথাও ঘুরতে যাই? শহর থেকে অনেক দূরে। সমুদ্রের ধারে, কিংবা পাহাড়ে। কোনো ভিড় থাকবে না, শুধু একটু শান্ত পরিবেশে ঘুরে আবার ফিরে আসব।

বেলা এবার চোখ খুলে সোজা ছাদের দিকে তাকালো। তারপর একদম দৃঢ় গলায় বললো,

--- না, আমি যাবো না।

সায়র পাশ ফিরে ওর দিকে তাকালো,

--- এত তাড়াতাড়ি না বলে দিলি? কারণটা অন্তত বল।

বেলা ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,

--- কারণ আপনি হিটলার। আপনার সঙ্গে ভুলেও কোথাও যাওয়া যাবে না।

--- কেন যাবি না?

--- আজ সন্ধ্যায় ভুলে গেছেন? সারাক্ষণ শা'স্তি, শা'স্তি,আর শা'স্তি! বাইরে নিয়ে গিয়ে বলবেন। এখানে কেউ বাঁচাতে আসবে না, এবার শা'স্তি নে। আমি এত বোকা নই।

সায়র হো হো করে হেসে উঠলো,

--- তোর কল্পনাশক্তি দেখে আমি সত্যি অবাক হই। আমি তো ঘুরতে যাওয়ার কথা বললাম, আর তুই পুরো সিনেমা বানিয়ে ফেললি!

বেলা গম্ভীর মুখে বললো,

--- আমি আগে থেকেই সাবধান থাকি। পরে কান্নাকাটি করার চেয়ে আগে বলাই ভালো।

সায়র দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল,

--- দূর বোকা! তুই একটা এক নম্বর গাধী।

--- হ্যাঁ, গাধীই ভালো আছি।

--- ঠিক আছে, থাক। তোর যাওয়া লাগবে না। আমি অন্য কাউকে নিয়ে চলে যাবো। পাহাড় দেখবো, সমুদ্র দেখবো, ভালো ভালো খাবার খাবো।

বেলা সঙ্গে সঙ্গে বললো

--- যান। কে আটকাচ্ছে?

--- একটুও খারাপ লাগবে না তোর?

--- একদম না।

সায়র নাটকীয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

--- আহারে! এত নিষ্ঠুর একটা মেয়ে আমি জীবনে দেখিনি। স্বামী অন্য কাউকে নিয়ে ঘুরতে যাবে। তুই বসে বসে মুড়ি খা ইডিয়েট।

বেলা হেসে ফেললেও দ্রুত মুখ গম্ভীর করে নিলো। মনে মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, সায়র কি আবার রুপসা চুন্নীকে নিয়ে যাবে নাকি। তবুও নিজের ইগো ধরে রাখতে বললো,

--- নাটক বন্ধ করে ঘুমান। কাল আবার কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বকা দিতে হবে না?

--- আর তোকে?

--- আমাকে কেন?

-- কারণ তুই নিশ্চয়ই আবার হোমওয়ার্ক করিসনি।

--- করেছি

---দেখা যাবে।

তারপর দুজনেই আর কথা বাড়ালো না। সায়র ডানদিকে মুখ ফিরিয়ে শুয়ে পড়লো। বেলা বাঁদিকে মুখ ঘুরিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে রইলো। বাইরে আকাশে গোল চাঁদটা মেঘের আড়ালে লুকোচুরি খেলছে।বেলার মনে ঘুরছে সায়রের ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব। মুখে যতই “যাবো না” বলুক, কোথাও যেন ক্ষীণ কৌতূহল জন্ম নিয়েছে। অন্যদিকে সায়রও চোখ বন্ধ করে মৃদু হেসে ভাবলো,

---আজ না বলেছিস, কাল আবার অন্য কথা বলবি আমি জানি।

নীরব রাত তাদের অগোচরেই আরও গভীর হয়ে উঠলো। ধীরে ধীরে দুজনের চিন্তা এলোমেলো হয়ে ঘুমের কাছে হার মানলো, আর একই ঘরে দুজন দুদিকে মুখ ফিরিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়লো।

_____________________________________________________________

পরদিন সকালটা যেন অন্য দিনের তুলনায় একটু বেশিই ব্যস্ত ছিলো। ভোরের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই খান বাড়ির চারপাশে দিনের ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেছে। কলেজে যাওয়ার তাড়া থাকায় বেলা তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নিলো।

বেলা ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিচে নামতেই দেখলো সায়র ইতিমধ্যে বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কালো শার্টের হাতা গুটিয়ে নেওয়া, এক হাতে বাইকের চাবি ঘোরাচ্ছে আর অন্য হাতে হেলমেটটা ধরে আছে। বেলাকে দেখেই সে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বললো,

--- এত দেরি হলো?

বেলা ভ্রু কুঁচকে বললো,

---দেরি কোথায়? আপনি তো এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছেন যেন কলেজে একটু দেরিতে গেলে আজ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে।

---আমার তো সময়মতো পৌঁছাতে হয়। আমি টিচার, মনে আছে?

--- হ্যাঁ, মনে আছে। আপনি পৃথিবীর একমাত্র টিচার, যার কাছে পাঁচ মিনিট দেরি মানেই মহাপাপ।

সায়র হেসে হেলমেটটা বেলার দিকে বাড়িয়ে দিলো।

--- এসব কথা পরে বলিস। আগে এটা পর।

বেলা হেলমেটটা নিয়ে মাথায় পরতে পরতে বলল,

--- আপনি নিজে এত নিয়ম মানেন, অথচ কাল রাতে আমাকে ভয় দেখিয়েছিলেন কেন?

--- আবার শুরু করলি?

--- সত্যি বলছি, কাল রাতে যদি কিছু হয়ে যেতো?

--- তাহলে তোকে হাসপাতালে নিয়ে যেতাম।

--- তারপর?

--- তারপর ডাক্তারকে বলতাম, রোগীর মূল সমস্যা হচ্ছে অতিরিক্ত কথা বলা।

বেলা সঙ্গে সঙ্গে সায়রের বুকে হালকা একটা থাপ্প'ড় দিলো,

--- চুপ করুন!

সায়র হেসে বাইক স্টার্ট করলো। বেলা অনিচ্ছার ভান করে বাইকের পেছনে উঠে বসলো। প্রথমে যথেষ্ট দূরত্ব রেখে বসে দুহাতে সিটের পাশের হাতল ধরলো।সায়র আয়নায় তাকিয়ে বললো,

--- এভাবে বসে থাকলে পড়ে যাবি।

----আমি ঠিক আছি।

--- পরে পড়ে গিয়ে দোষ দিবি আমাকে।

---আপনি ধীরে চালালেই হয়।

--- ঠিক আছে, ম্যাডাম।

বাইকটা ধীরে ধীরে বাড়ির গেট পেরিয়ে রাস্তায় উঠলো ।সকালের শহর তখন ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। রাস্তার দুপাশে দোকানপাট খোলার প্রস্তুতি চলছে, কোথাও চায়ের দোকান থেকে ধোঁয়া উঠছে, আবার কোথাও স্কুল-কলেজের পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত পায়ে চলাচল।কিছুদূর যাওয়ার পর সায়র ইচ্ছে করেই একটু গতি বাড়িয়ে দিলো।বেলা সঙ্গে সঙ্গে বললো,

--- আস্তে!

সায়র হাসতে হাসতে বলল,

---এই তো একটু গতি বাড়ালাম!

--- আমার কাছে এটা একটু না।

--- তাহলে শক্ত করে ধর।

--- ধরবো না।

--- পড়ে গেলে?

বেলা বাধ্য হয়ে সায়রের কোটের পেছনের অংশটা হালকা করে ধরে বললো,

--- এবার ঠিক আছে?

সায়র আয়নায় তাকিয়ে মুচকি হাসলো।

--- হুম, এখন ঠিক আছে।

কিছুক্ষণ পর রাস্তার একটা গর্ত এড়াতে বাইকটা হঠাৎ একটু দুলে উঠতেই বেলা চমকে সায়রের কাঁধ আঁকড়ে ধরলো।সায়র সঙ্গে সঙ্গে বললো,

---কী হলো?

বেলা নিজের অপ্রস্তুত ভাব লুকিয়ে বললো,

---কিছু হয়নি।

---কিছু হয়নি? এইমাত্র তো আমাকে এমনভাবে ধরলি যে?

--- চুপ করুন। গর্তটা হঠাৎ সামনে এসেছে। আপনি বেশি কথা বললে এখনই ছেড়ে দেবো।

---আচ্ছা, চুপ।

কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকার পর সায়র আবার বললো,

--- তবে একটা কথা!!!

বেলা বিরক্ত হয়ে বলল,

--- আবার কী?

--- কাল কিন্তু বলেছিলি আমার সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাবি না।

---এখনো যাবো না।

-- এতো নিশ্চিত?

--- একশো ভাগ।

--- ঠিক আছে, মনে রাখলাম।

বেলা বুঝতে পারল না সায়রের কণ্ঠে কেন যেন অদ্ভুত একটা হাসি লুকিয়ে আছে।

★

অবশেষে কিছুক্ষণ পর তারা কলেজের গেটের সামনে এসে পৌঁছালো। সায়র বাইকটা নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে নামলো। বেলাও নেমে ব্যাগটা ঠিক করে নিলো। দুজন পাশাপাশি কলেজ ভবনের দিকে হাঁটতে শুরু করলো।কলেজের করিডোরে ঢুকতেই পরিচিত কোলাহল কানে এলো। শিক্ষার্থীরা কেউ ক্লাসে যাচ্ছে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করছে। সায়র বেলার দিকে তাকিয়ে বললো,

--- তুই ক্লাসে যা। আমি অফিস রুমে যাচ্ছি।

বেলা মাথা নেড়ে বলল,

--- আচ্ছা।

কিন্তু সিঁড়ির কাছে পৌঁছাতেই সামনে এমন একজন এসে দাঁড়ালো, যাকে দেখেই বেলার মুখের হাসি মুহূর্তে মিলিয়ে গেলো।তানিয়া।তানিয়াও বেলাকে দেখেই থেমে গেলো। দুজনের চোখাচোখি হতেই চারপাশের পরিবেশ যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য ভারী হয়ে উঠলো। তাদের সম্পর্ক এমনিতেই সাপে-নেউলে। একজন আরেকজনকে দেখলেই পুরোনো ঝামেলাগুলো মনে পড়ে যায়।বেলা কোনো কথা না বলে পাশ কা'টিয়ে চলে যেতে চাইলো। কিন্তু তানিয়া ইচ্ছে করেই এক পা এগিয়ে এসে তার পথ আটকে দিলো।

---কী হলো? আমাকে দেখে এত তাড়াহুড়ো করে পালাচ্ছিস কেন? ল'জ্জা পাচ্ছিস নাকি??

বেলা বিরক্ত চোখে তাকালো।

--- রাস্তা ছাড়, তানিয়া।

তানিয়া ঠোঁট বাঁকিয়ে হেঁসে বললো,

--- ওহ! এখন তো অনেক ভাব। বিয়ে হয়ে গেছে বলে বুঝি?

বেলার মুখ শক্ত হয়ে গেলো।তানিয়া আরও কাছে এসে নিচু গলায় বললো,

--- কলেজে সবাইকে সামনে নিয়ে এত নাটক করার পর শেষ পর্যন্ত সত্যিই সায়র স্যারের সঙ্গেই বিয়ে করে ফেললি! বাহ, বেলা! গল্পটা তো বেশ জমেছে।

বেলা চোয়াল শক্ত করে বললো,

---তানিয়া, পুরোনো কথা টেনে আমাকে বিরক্ত করিস না।

তানিয়া হেসে উঠলো।

--- পুরোনো কথা? আরে, আমি তো শুধু জানতে চাইছি কলেজে যে স্যারকে নিয়ে এত কাণ্ড করলি, শেষ পর্যন্ত সেই স্যারকেই বিয়ে করে এখন প্রতিদিন বাইকে করে কলেজে আসিস, ব্যাপারটা কেমন লাগে?

বেলা আর কিছু বললো না। শুধু তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইলো।তানিয়া থামলো না। বরং সুযোগ পেয়ে একের পর এক খোঁচা দিতে লাগলো,

--- কী হলো? এখন আর মুখে কথা নেই? সেদিন তো বেশ সাহস ছিলো। সবাইকে সামনে রেখে তর্ক, ঝগড়া। এখন কথা নাই?

বেলার হাতের মুঠো শক্ত হয়ে গেলো। সে বুঝতে পারছিলো, তানিয়ার উদ্দেশ্য শুধু পুরোনো ঘটনা মনে করিয়ে দেওয়া নয়।সে ইচ্ছে করেই বেলাকে অপমান করার চেষ্টা করছে।

বেলা ধীর কিন্তু কঠিন গলায় বললো,

--- তুই যা বলার বলেছিস। এবার আমার রাস্তা ছাড়।

তানিয়া মুচকি হেসে বললো,

---কেন? স্যারকে ডেকে আনবি? নাকি এখন স্বামীকে দিয়ে আমার সঙ্গে ঝামেলা করাবি?

বেলা আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না। তানিয়াকে পাশ কা"টিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলো। কিন্তু পেছন থেকে তানিয়ার কটাক্ষভরা হাসিটা তার কানে বাজতেই থাকলো।আর একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকা সায়রের চোখও ইতিমধ্যে পুরো ঘটনাটার দিকে গিয়ে থেমেছে। সে কিছুটা দূর থেকেই বেলার মুখের পরিবর্তন লক্ষ্য করছিলো। কিছুক্ষণ আগেও যে মেয়েটা তার সঙ্গে বাইকে আসতে আসতে হাসছিল, সেই বেলার মুখে এখন জমে উঠেছে চাপা রাগ আর অপমানের ছাপ।সায়র ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে এলো।

বেলা আর তানিয়াও ক্লাস রুমে ঢুকেছে মাএ।ঠিক তখনই সায়র ক্লাসে ঢুকলো। তাকে দেখামাত্রই এক মিনিটের মধ্যেই পুরো ক্লাসের পরিবেশ বদলে গেলো। যে শিক্ষার্থীরা এতক্ষণ গল্পে ব্যস্ত ছিলো, সবাই দ্রুত নিজেদের জায়গায় গিয়ে সোজা হয়ে বসে পড়লো। সায়র কোনো কথা না বলে প্রথমে পুরো ক্লাসের দিকে একবার তাকালো, তারপর তার দৃষ্টি গিয়ে থামলো তানিয়ার ওপর।

তানিয়ার দিকে সায়রের চোখের দৃষ্টি এতটাই তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল যে তানিয়ার মুখের হাসিটাও মুহূর্তে মিলিয়ে গেলো। বেলাকে নিয়ে তার করা কথাগুলো সায়রের কানে গেছে আর সেই কারণেই রাগে তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে তানিয়াকে কয়েকটা চ'ড় বসিয়ে দিতে ইচ্ছে করছিলো তার, কিন্তু শিক্ষক হিসেবে নিজের সম্মান আর ক্লাসের পরিবেশের কথা ভেবে সায়র নিজেকে সামলে নিলো।

চলবে.......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন