ফন্ট সাইজ:
থিম:
রইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ

৩৩তম পর্ব

লেখক: ইয়ুশরা রিমু

#র‌ইলো_প্রেমের_নিমন্ত্রণ

#পর্ব_৩৩

#ইয়ুশরা_রিমু

[ ক'পি করা নিষিদ্ধ ]

সায়র কয়েক সেকেন্ড তানিয়ার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার পর ধীরে ধীরে নিজের রাগটাকে নিয়ন্ত্রণ করলো। ক্লাসরুমের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন শিক্ষক হিসেবে তার ব্যক্তিগত ক্ষো'ভ প্রকাশ করার কোনো সুযোগ নেই, আর বেলার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তানিয়ার করা মন্তব্যের জবাবও সে এই মুহূর্তে ব্যক্তিগতভাবে দিতে চায় না। তবু চোখের দৃষ্টিটাই যেন যথেষ্ট ছিলো,তানিয়া অস্বস্তিতে নিজের খাতা খুলে নিচের দিকে তাকিয়ে রইলো।সায়র টেবিলের ওপর বইটা রাখলো। তারপর গম্ভীর অথচ স্বাভাবিক কণ্ঠে বললো,

----সবাই বই বের করো। আজকের ক্লাসটা গুরুত্বপূর্ণ। আর একটা কথা, ক্লাসে অপ্রয়োজনীয় কোনো কথা বা কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা আমি একদম পছন্দ করি না। কারও সম্পর্কে কিছু বলার থাকলে ক্লাসের বাইরে বলবে, ক্লাসরুমকে এসবের জায়গা বানাবে না।

কথাগুলো শুনে পুরো ক্লাস নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। কেউ আর মাথা তুলেও তাকাচ্ছে না। বেলা চুপচাপ নিজের বই খুলে বসে থাকলেও বুকের ভেতর কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছিলো। সে বুঝতে পারছিলো, সায়র তানিয়াকে উদ্দেশ্য করেই কথাগুলো বলেছে।

তানিয়া মুখ নিচু করে বসে থাকলেও তার ভেতরের বিরক্তি আরও বেড়ে গেলো। সে মনে মনে ভাবল, সায়র স্যার কি তাহলে বেলার পক্ষ নিচ্ছেন? নাকি বেলার সঙ্গে তার সম্পর্কটা সত্যিই এতটা গভীর হয়ে গেছে যে এখন কেউ বেলাকে কিছু বললেই তিনি সহ্য করতে পারছেন না?সায়র বোর্ডের দিকে ফিরে মার্কার হাতে নিয়ে বলে,

---- গত ক্লাসে আমরা যে টপিকটা পড়েছিলাম, আজ সেখান থেকেই শুরু করবো। সবাই মনোযোগ দাও।

কয়েক মিনিট পর পুরো ক্লাস পড়ায় ডুবে গেলো। সায়রের গলা বরাবরের মতোই দৃঢ়, পরিষ্কার এবং নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু মাঝেমধ্যে তার দৃষ্টি অজান্তেই বেলার দিকে চলে যাচ্ছিলো। বেলা মাথা নিচু করে খাতায় লিখছে, কিন্তু তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে তানিয়ার কথাগুলো এখনও তার মনে ঘুরছে।হঠাৎ সায়র পড়ানো থামিয়ে বললো,

---বেলা।

বেলা চমকে মাথা তুলে বললো,

---জি?

--- বোর্ডে লেখা প্রশ্নের উওর দেও।

বেলা কয়েক সেকেন্ড বোর্ডের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিতে শুরু করলো। প্রথমে গলায় সামান্য জড়তা থাকলেও ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলো। উত্তর শেষ করতেই সায়র মাথা নেড়ে বললো,

---ঠিক আছে। বসো।

বেলা বসে পড়ল। পাশে বসা ইরা খুব আস্তে করে তার কনুইতে ধাক্কা দিয়ে ফিসফিস করে বললো,

---কী হয়েছে তোর? মুখটা এমন গোমড়া করে রেখেছিস কেন?

বেলা আস্তে করে বললো,

---কিছু না।

ইরা আবার ফিসফিস করে বললো,

--- তানিয়া কিছু বলেছে?

বেলা উত্তর দেওয়ার আগেই সায়রের কণ্ঠ ভেসে এলো,

---পেছনে কী আলোচনা হচ্ছে?

ইরা সঙ্গে সঙ্গে সোজা হয়ে বসলো।

--- কিছু না স্যার।

সায়র একবার তাকিয়ে আবার বোর্ডের দিকে ফিরে গেলো।

---- তাহলে ক্লাসে মনোযোগ দাও।

বেলা মুখ চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করল। ইরা নিচু গলায় বলল,

--- তোর সাহেব কিন্তু আজ ভ'য়ংকর মুডে আছে।

বেলা ফিসফিস করে উত্তর দিলো,

---চুপ কর।

সায়র বোর্ডে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাক্য লিখে ক্লাসের দিকে ফিরে তাকালো। তারপর হঠাৎ তার দৃষ্টি গিয়ে থামলো তানিয়ার ওপর। তানিয়া খাতা সামনে খুলে রাখলেও তার চোখ বইয়ের পাতায় নেই।বরং সে অন্যমনস্কভাবে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিলো।সায়র কয়েক সেকেন্ড লক্ষ্য করে গম্ভীর গলায় বললো,

---তানিয়া, তুমি বলো।

তানিয়া চমকে উঠে সোজা হয়ে বসল।

---জি স্যার?

সায়র বোর্ডের দিকে ইশারা করে বলোল,

--- এইমাত্র যে বিষয়টা ব্যাখ্যা করলাম, সেটার উত্তর দাও।

তানিয়া কয়েক মুহূর্ত বোর্ডের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর অসহায় মুখে বলল,

---স্যার… আমি ঠিক বুঝিনি।

সায়রের ভ্রু কুঁচকে গেলো।

---বুঝোনি, নাকি মনোযোগ দাওনি?

তানিয়া চুপ করে রইলো।

সায়র গম্ভীর স্বরে বললো,

---ক্লাসে বসে শুধু বই খুলে রাখলেই পড়াশোনা হয় না, মনটাও ক্লাসে রাখতে হয়। আমি গত কয়েক মিনিট ধরে বিষয়টা বুঝিয়ে বলছি, আর তুমি নিজের চিন্তায় ব্যস্ত। এভাবে চললে শুধু আমার ক্লাস না, তোমার নিজের পড়াশোনারই ক্ষতি হবে।

তানিয়া মাথা নিচু করে বসে রইলো।

সায়র আরও বললো,

---আর একটা কথা মনে রাখবে, ক্লাসে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে চিন্তা করার চেয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করা বেশি জরুরি। কার কী হয়েছে, কে কী বলেছে এসব নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় ন'ষ্ট না করে পড়ায় মন দাও।

ক্লাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী চুপচাপ একে অপরের দিকে তাকাল। বেলা কিছু না বলে নিজের খাতার দিকে তাকিয়ে রইলো।সায়র এবার তানিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,

--- এখন বলো, প্রশ্নটার উত্তর কী?

তানিয়া এবার খাতা থেকে চোখ তুলে ধীরে ধীরে উত্তর দিতে শুরু করলো। আগের মতো আত্মবিশ্বাস না থাকলেও এবার সে মনোযোগ দিয়ে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলো।সায়র উত্তর শুনে সংক্ষেপে বললো,

--- এবার ঠিক আছে। বসো। আর পরেরবার ক্লাসে মনোযোগ দেবে। একই কথা বারবার বলতে আমার ভালো লাগে না।

তানিয়া চুপচাপ বসে পড়লো। আর সায়র কোনো বাড়তি কথা না বলে আবার বোর্ডের দিকে ফিরে ক্লাস চালিয়ে গেলো।

_____________________________________________________________

ছুটির ঘণ্টা বাজতেই কলেজের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে কমে এলো। একে একে শিক্ষার্থীরা কলেজের গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে শুরু করলো। সায়রও নিজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে অফিসরুম থেকে বেরিয়ে এলো। গেটের বাইরে এসে দেখলো, বেলা ইতিমধ্যেই বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে।সায়র কাছে আসতেই বেলা ব্যাগটা কাঁধে তুলে বললো,

--- চলুন।

---এত তাড়া কিসের?

--- বাসায় যেতে হবে না?

সায়র হেলমেট এগিয়ে দিয়ে বলল,

---আগে এটা পর।

বেলা হেলমেট পরে বাইকের পেছনে উঠে বসলো। কিছুক্ষণ পর বাইকটা কলেজের গেট পেরিয়ে ব্যস্ত রাস্তায় উঠলো। সকালের তুলনায় এখন রাস্তা অনেক বেশি ব্যস্ত। অফিস ছুটির ভিড়, রিকশা, বাস আর পথচারীদের ভিড়ের মাঝ দিয়ে সায়র সাবধানে বাইক চালাচ্ছিল।কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ বেলা সায়রের কাঁধের দিকে একটু ঝুঁকে বললো,

---সায়র…

---হুম?

--- একটা কথা বলবো?

---বল।

---আমার আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করছে।

সায়র আয়নায় ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো,

--- এখন?

---হ্যাঁ, এখনই।

-- বাসায় গিয়ে খাস।

--- না, এখন খাব।

---- তুই কি ছোট বাচ্চা?

----হ্যাঁ, আজকে আমি ছোট বাচ্চা। আর ছোট বাচ্চার আইসক্রিম চাই।

সায়র হেসে মাথা নাড়লো,

---তোর বায়নার কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানতেই হয়।

বেলা খুশি হয়ে বললো,

---তাহলে খাবো?

---খাবি। সামনে দোকান দেখলে দাঁড়াচ্ছি।

কিছুদূর এগিয়ে রাস্তার পাশে একটা আইসক্রিমের দোকান চোখে পড়তেই সায়র বাইকটা ধীরে করে রাস্তার পাশে নিরাপদ জায়গায় থামালো।বেলা নামতে যাবে, এমন সময় সায়র বলল,

--- তুই এখানেই থাক। আমি নিয়ে আসছি।

--আমি যাব না?

--- না। এত ভিড়ের মধ্যে আবার তুই হারিয়ে যাবি।

বেলা ভ্রু কুঁচকে বলল,

---আমি কি এতটাই বাচ্চা?

---আইসক্রিমের জন্য পাঁচ মিনিট আগে যে বায়না ধরেছিস, তাতে তো তাই মনে হচ্ছে।

বেলা মুখ বাঁকিয়ে বাইকের পাশেই দাঁড়িয়ে রইলো।

সায়র রাস্তার পাশের দোকানের দিকে এগিয়ে গেলো। কয়েক মিনিট পর পছন্দের আইসক্রিম হাতে নিয়ে ফিরে আসছিল সে। কিন্তু দোকান থেকে বের হওয়ার পরই হঠাৎ সামনে পরিচিত একটি কণ্ঠ ভেসে এলো।

---সায়র!

সায়র থেমে তাকাতেই তার সামনে রুপসা দাঁড়িয়ে।রুপসাকে দেখেই সায়রের মুখে বিস্ময়ের ছাপ ফুটে উঠলো।

---রুপসা? তুই এখানে?

রুপসা সঙ্গে সঙ্গে মুখে অতিরঞ্জিত আনন্দের ভাব এনে বললো,

---আরে! এতদিন পর দেখা, আর তুমি আমাকে দেখে শুধু তুই এখানে? বলছো? একটু ভালো করে কথা বলতে পারো না?

সায়র হালকা বিরক্ত হয়ে বললো,

--- এমন কিছু না। হঠাৎ দেখলাম তো, তাই অবাক হয়েছি।

রুপসা ঠোঁট ফুলিয়ে ন্যাকামি করে বললো,

--- হুম, বুঝেছি। এখন তো তোমার অনেক ব্যস্ততা। আমাকে দেখার সময় কোথায়?

সায়র হাতে থাকা আইসক্রিমের দিকে তাকিয়ে বললো,

---আসলে আমি একটু তাড়ায় আছি।

রুপসা সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড় বড় করে বললো,

---তাড়ায় আছো? আমার সঙ্গে দুই মিনিট কথা বলারও সময় নেই?

--- তা না। কিন্তু আমাকে যেতে হবে।

রুপসা আবার মিষ্টি গলায় বললো,

--- তুমি বিয়ে করে পাল্টে গেলে।এতদিন পর দেখেও আমাকে এভাবে এড়িয়ে যাচ্ছো!

সায়র এবার কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ে গেলো। সে একবার পেছনে তাকালো। রাস্তার পাশে বাইকের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা বেলার দিকেও তার চোখ চলে গেলো।বেলা দূর থেকেই পুরো দৃশ্যটা দেখছিলো।রুপসা সায়রের সামনে দাঁড়িয়ে ন্যাকামি করে কথা বলছে, আর সায়রের হাতে বেলার জন্য কেনা আইসক্রিম।বেলার মুখের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেলো।সে মনে মনে বিড়বিড় করলো,

--- বাহ! আইসক্রিম আনতে গিয়েও রুপসা চুন্নীর সঙ্গে দেখা হতে হলো!

এদিকে রুপসা তখনও সায়রকে ছাড়ার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

--- সায়র, এতদিন পর দেখা হয়েছ । তুমি কি সত্যিই আমাকে একটা কথাও না বলে চলে যাবে?

সায়র দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

---আচ্ছা, বল। কী হয়েছে?

রুপসা মুচকি হেসে আরও কাছে এগিয়ে এলো।আর রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেলার চোখে তখন স্পষ্ট বিরক্তি।

রুপসা যেন সায়রকে পেয়ে পুরোনো গল্পের ঝুলি খুলে বসেছে। একটার পর একটা কথা বলেই যাচ্ছে, আর সায়রও বেশ স্বাভাবিকভাবেই হেসে হেসে তার কথার উত্তর দিচ্ছে। বেলা দূরে দাঁড়িয়ে পুরো দৃশ্যটা দেখছে আর ধীরে ধীরে তার বিরক্তি চরমে উঠছে।

দূর থেকে বেলার ভ্রু তখন কুঁচকে একাকার। সে বিরক্তিতে একবার ডান পায়ে, একবার বাঁ পায়ে ভর বদলাতে লাগলো। হাত দুটো বুকের কাছে গুটিয়ে নিয়ে মনে মনে বললো,

--- বাহ! আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি, আর উনার তো দেখি গল্প শেষই হচ্ছে না! আইসক্রিম আনতে পাঠিয়েছিলাম, নাকি রুপসার সঙ্গে আড্ডা দিতে?

রুপসা আবার বললো,

-- আচ্ছা, তোমার সঙ্গে এতদিন পর দেখা হয়েছে, একদিন সময় করে কিন্তু বাসায় যাবো। অনেক কথা জমে আছে।

সায়র হেসে বললো,

--- আচ্ছা। আসিস।আমার আজ যেতে হবে।

রুপসা ঠোঁট ফুলিয়ে বললো,

--- ঠিক আছে। নতুন বিয়ে করেছো। এখন আবার আমাকে বা আমার কথা ভুলেও না।

সায়র হেসে মাথা নাড়ল।

---তোকে ভুলে যাওয়া এত সহজ নাকি?

কথাটা শুনেই দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বেলার চোখ আরও বড় হয়ে গেলো। সে মনে মনে বললো,

---ওহ! তাই নাকি? ভুলে যাওয়া এত সহজ না! বাহ, বেশ ভালোই চলছে!

রুপসা শেষবারের মতো হাসিমুখে সায়রের দিকে তাকিয়ে বিদায় নিয়ে চলে গেলো। কিন্তু বুঝতে দিলো না তার মনে কি চলছে।সায়র আইসক্রিম হাতে নিয়ে এবার বেলার দিকে এগিয়ে এলো। কাছে এসেই বুঝতে পারলো, কিছু একটা ঠিক নেই। বেলা একদম পাথরের মতো মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।সায়র আইসক্রিমটা তার দিকে বাড়িয়ে দিলো।

--- নে, তোর আইসক্রিম।

বেলা হাত বাড়ালো না।

সায়র অবাক হয়ে বললো,

---কী হলো?

বেলা কোনো উত্তর দিলো না।

--- এই যে, আইসক্রিমের জন্য এতক্ষণ বায়না ধরছিলি। এখন আবার নিচ্ছিস না কেন?

বেলা এবারও নিশ্চুপ।সায়র একটু কাছে এসে ওর মুখের দিকে তাকালো।

---বেলা?

বেলা মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল।সায়র বুঝতে না পেরে বললো,

--- রাগ করেছিস?

কোনো উত্তর নেই।

---রুপসার সঙ্গে কথা বলেছি বলে?

বেলা এবারও চুপ।শুধু তার মুখের ভাব দেখে বোঝা যাচ্ছে, ভেতরে ভেতরে রাগে যেন হিরহির করছে। সায়র কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে মৃদু হেসে ফেললো।

--- আচ্ছা, বুঝেছি। আজকে ম্যাডাম কথা বলবেন না।

বেলা একবারও তাকালো না।সায়র বাইকের কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললো,

---চল, বাসায় যাই।

বেলা চুপচাপ বাইকের পেছনে উঠে বসলো। সায়র বাইক স্টার্ট করলো। রওনা দেওয়ার আগে আয়নায় একবার তাকিয়ে দেখলো, বেলা অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বসে আছে।

সায়র ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বললো,

--- এত রাগ কিসের?

বেলা কোনো উত্তর দিল না।সায়র আবার বললো,

---আইসক্রিমটা কিন্তু গলে যাবে।

বেলা এবার শুধু আইসক্রিমটা নিয়ে নিলো, কিন্তু মুখে একটি শব্দও করল না।সায়র বুঝে গেল, আজকে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য বেলাকে বেশ কিছুটা সময় দিতে হবে। বাসায় গিয়ে কথা বলবে নি কে জানে? এই রাগ ভাঙাতে জানি কতদিন লাগবে। আর বেলা মনে মনে ঠিক করলো, সায়র তাকে শা'স্তি দিতে চেয়েছিলো। আজ সায়রের সঙ্গে কথা না বলে ওকে একটু শা'স্তি দিবে।

চলবে........ ‌

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন