ফন্ট সাইজ:
থিম:
রইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ

৩৬তম পর্ব

লেখক: ইয়ুশরা রিমু

#র‌ইলো_প্রেমের_নিমন্ত্রণ

#পর্ব_৩৬

#ইয়ুশরা_রিমু

[ ক'পি করা নিষিদ্ধ]

সায়র তানিয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে গম্ভীর স্বরে বললো,

--- তানিয়া, তুমি বোর্ডে এসে এই প্রশ্নটার উত্তর লিখবে।

তানিয়া কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে ধীরে ধীরে বেঞ্চ থেকে উঠে বোর্ডের দিকে এগিয়ে গেলো। হাতে মার্কার নিয়ে বোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটার দিকে তাকিয়ে রইলো। কয়েক সেকেন্ড পার হয়ে গেলেও সে কিছু লিখতে পারলো না।

সায়র শান্ত কিন্তু কঠিন গলায় বললো,

---কী হলো? লিখছো না কেন?

তানিয়া নিচু স্বরে বললো,

--- স্যার... আমি পারছি না।

সায়র ভ্রু কুঁচকে বললো বলল,

--- পারছো না, নাকি পড়াটা ঠিকমতো শোনোনি?

তানিয়া কোনো উত্তর দিলো না।

সায়র এবার বললো,

--- ঠিক আছে। তাহলে আজকের পড়ার শা'স্তি হবে। কান ধরে ক্লাসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবে।

ক্লাসের সবাই চুপচাপ রইলো। কারণ সায়রের ক্লাসে পড়া না পারলে এমন শা'স্তি পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু ছিলো না। কিন্তু বেলা বুঝতে পারলো, আজকের ঘটনাটা শুধু পড়া না পারার জন্য নয়। তানিয়া যে ইচ্ছা করে তার সামনে পা বাড়িয়েছিলো, সায়র সেটা বুঝে গিয়েছে বলেই হয়তো তাকে আলাদা করে শাস্তি দিচ্ছে।

তানিয়া মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। সায়র দরজার দিকে ইশারা করে বললো,

--- যাও। আর পরেরবার ক্লাসে কাউকে বিরক্ত বা অপদস্থ করার আগে নিজের পড়ার দিকে মন দেবে।

তানিয়া বড় চোখ করে তাকলো সায়ের দিকে। গলা শুকিয়ে উঠলো। তার মানে সায়র স্যার সব বুঝে গেছে। মনে মনে ভাবলো কথাগুলো। সে ধীরে ধীরে ক্লাসের বাইরে চলে গেলো।

বেলা চুপচাপ দাঁড়িয়ে সবকিছু দেখছিলো। সায়র এবার তার দিকে তাকিয়ে বললো,

---- বেলা, তুমি বোর্ডে যাও। যে প্রশ্নটা তানিয়া পারেনি, তুমি লিখে দাও।

বেলা মনোযোগ সহকারে খুব তাড়াতাড়ি লিখে ফেললো উওরটা।লিখে সে তার নির্দিষ্ট বেঞ্চে ইরার পাশে গিয়ে বসে।

___________________________________________________________

কলেজ থেকে বাসায় ফেরার পর সারাদিনের ঘটনাগুলো নিয়ে বেলা নিজের ঘরে বসে ভাবছিলো। তানিয়াকে দেওয়া শা'স্তির কথা মনে পড়তেই তার মুখে একটু হাসি ফুটে উঠলো। কিন্তু হঠাৎ করেই মাথায় অনেকদিন আগের একটা দুষ্টু বুদ্ধি এসে হাজির হয়।

বেলার সেই পুরোনো ফেক আইডিটার কথা মনে পড়ে গেলো, যেটা অনেকদিন ধরে লগইন করা হয়নি। সে কিছুক্ষণ দ্বিধা করে শেষ পর্যন্ত ফোনটা হাতে নিয়ে আইডিটাতে লগইন করলো। আইডিটা খুলতেই পুরোনো কথোপকথনগুলো চোখে পড়লো। বেলার মুখে সঙ্গে সঙ্গে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠলো,

--- দেখি তো, সায়র সাহেবকে আবার একটু জ্বা"লানো যায় কি না!

অন্যদিকে সায়র তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলো। বিকেলের বাতাসে পর্দা হালকা দুলছিলো, আর সে ফোনটা হাতে নিয়ে দিনের নানা কাজের কথা ভাবছিলো।ঠিক তখনই ফোনে একটা মেসেজের নোটিফিকেশন এলো।

সেই পরিচিত আইডির নাম দেখে সায়র কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে রইলো। অনেকদিন পর আবার সেই ফেক আইডি থেকে মেসেজ এসেছে।

সে মেসেজ খুলতেই দেখলো,

--- আপনি বিয়ে করে ফেললেন? আর আমি এতদিন পর এই খবর পেলাম!

সায়র ভ্রু কুঁচকে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো।

আরেকটা মেসেজ সঙ্গে সঙ্গে এলো,

--- তাহলে আমার কী হবে? আমাকে তো ভুলেই গেলেন!

সায়র দীর্ঘশ্বাস ফেললো। কিন্তু তার পরের মেসেজটা দেখে নিজের অজান্তেই কপালে হাত দিলো,

---এতদিন আমাকে যে কথা দিয়েছিলেন, সেগুলোর কী হবে? এখন তো দেখছি বিয়ে করে দিব্যি ব‌উ নিয়ে ভালো আছেন! আমার আর আমাদের অনাগত সন্তানের কথা ভাবলেন না একবারো?

এরপর একের পর এক অদ্ভুত অভিযোগ আসতেই থাকলো। বেলা ইচ্ছে করেই এমন সব কথা লিখছিলো, যাতে সায়র বিরক্ত হয় এবং কিছুতেই বুঝতে না পারে কে তাকে মেসেজ করছে।

শেষে বেলা আরও একটা মেসেজ পাঠালো,

---আর আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে এত স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেগুলোর কী হবে? আমাকে এভাবে ফেলে রেখে বিয়ে করে ফেললেন!

মেসেজটা পাঠিয়ে বেলা নিজের মুখ চেপে হাসতে লাগলো।

অন্যদিকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সায়র ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মুখে ধীরে ধীরে সন্দেহের ছাপ ফুটে উঠলো,

--এই আইডিটা আবার হঠাৎ জেগে উঠল কেন? এতো দিন তো ঠিকই ছিলো। আবার শুরু করেছে।

সে আরেকবার মেসেজগুলো পড়লো। তারপর চোখ সরু করে মনে মনে বলল,

---কোথাও কি কোনো পরিচিত মানুষ এসব করছে? সায়র মনে মনে বিরক্ত হলো কোন পাগলের পাল্লায় পড়েছে সে কে জানে।

এদিকে বেলা বিছানায় বসে ফোন হাতে নিয়ে সায়রের উত্তর আসার অপেক্ষায় দুষ্টু হাসি হাসছিলো।

সায়র কয়েক মিনিট মেসেজগুলো পড়ে কোনো উত্তর দিলো না। বারান্দার রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর হঠাৎ তার ঠোঁটের কোণে দুষ্টু একটা হাসি ফুটে উঠলো।সে খুব ছোট্ট করে টাইপ করলো,

--- হ্যাঁ, বিয়ে করেছি। তবে এখনো বাসরের গল্পই শুরু হয়নি। ভাবছি আজ রাতেই সেই অধ্যায়টা শুরু করব। এত দেরি করে আর লাভ কী!

মেসেজটা পাঠিয়েই সায়র ফোনটা হাতে ঘুরিয়ে একপাশে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো।

--- দেখি, এবার এই রহস্যময় ম্যাডামের প্রতিক্রিয়া কী হয়!

ওদিকে নিজের ঘরে বসে বেলা মেসেজের নোটিফিকেশন দেখেই তাড়াতাড়ি করে ইনবক্সে যায়। উত্তরটা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার চোখ গোল হয়ে গেলো।

--- ছিঃ এই লোকটা কী লিখলো!

মুহূর্তের মধ্যে তার গাল লাল হয়ে উঠে। একদিকে লজ্জা, অন্যদিকে রাগদুটোই একসঙ্গে কাজ করছে।

সে ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করলো,

--- হিটলারটা একদম নির্লজ্জ!

তারপর তাড়াতাড়ি কী উত্তর দেবে সেটা ভাবতে লাগলো। কিন্তু যতই রাগ দেখাক, সায়রের দুষ্টু উত্তরটা পড়ে সে পুরোপুরি হতবাক হয়ে গেছে।

________________________________________________________________

বিকেলের দিকে বেলা নিজের ঘরে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলো। সকাল থেকে কলেজের নানা ঘটনা, তানিয়ার সঙ্গে ঝামেলা আর তার ওপর সায়রকে জ্বালানোর পুরোনো ফেক আইডির কাণ্ড সব মিলিয়ে মাথার ভেতর অনেক কিছুই ঘুরছিলো।

সায়র তখন স্টাডি টেবিলের সামনে বসে কিছু কাগজপত্র দেখছিলো। মাঝে মাঝে কলম দিয়ে কিছু লিখছে, আবার বইয়ের পাতায় চোখ বুলাচ্ছিলো। ঘরটা বেশ শান্তই ছিলো।

হঠাৎ দরজা না পিটিয়েই রুপসা ভেতরে ঢুকে পড়ে।

বেলা উপুড় হয়ে শুয়ে থেকেই শব্দ পেয়ে মাথা তুললো। রুপসাকে দেখামাত্রই তার মুখের ভাব বদলে যায়। বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে সে আবার বালিশের ওপর মুখ রাখলো।

রুপসা অবশ্য বেলার বিরক্তি একেবারেই পাত্তা দিলো না। সোজা সায়রের স্টাডি টেবিলের কাছে গিয়ে মিষ্টি গলায় বললো,

---- সায়র! অবশেষে কিন্তু আসবো আসবো করতে করতে এসেই পড়লাম!

সায়র কাগজ থেকে চোখ তুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলে,

---তুই , হঠাৎ এসময়ে এখানে?

রুপসা হাসতে হাসতে বললো,

---হ্যাঁ। কতদিন ধরে বলছিলাম তোমাদের বাসায় আসবো, কিন্তু সময়ই হচ্ছিল না। আজ ভাবলাম, আর দেরি নয়। হুট করেই চলে এলাম।

সায়র হালকা মাথা নেড়ে বললো,

--- ভালো করেছিস। বস।

রুপসা পাশের চেয়ারে বসে আবার শুরু করল,

--জানো, আসার পথে কতবার ভাবছিলাম ফিরে যাই। তারপর মনে হলো, না, সায়রকে না দেখে আজ ফিরছি না।

বিছানায় শুয়ে থাকা বেলা কথাগুলো শুনে চোখ উল্টে ফেললো।মনে মনে বললো,

---- আবার শুরু হলো ন্যাকামি!

রুপসা তখনও সায়রের সঙ্গে গল্প করেই যাচ্ছে। আর সায়র স্বাভাবিকভাবেই তার কথার উত্তর দিচ্ছে। বেলা চুপচাপ বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে রইলো, কিন্তু তার কান দুটো পুরোপুরি সেদিকেই খোলা।

রুপসা হঠাৎ বেলার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো,

--- ওহ, বেলা! তুমি তো আছোই। এতক্ষণ খেয়ালই করিনি।

বেলা মুখ না তুলেই শুকনো গলায় বললো,

---আমি তো এখানেই ছিলাম।

রুপসা হেসে বললো,

---বুঝতেই পারিনি। তুমি এত চুপচাপ কেন?

বেলা এবার মাথা তুলে তাকায়। ঠোঁট বাঁকিয়ে বললো,

---আপনার গল্পের মাঝে কথা বলার সুযোগ পেলাম কোথায়?

সায়র দুজনের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলো, আজ রুমে শান্তি থাকার সম্ভাবনা খুব কম।

রুপসা বেলার কথাটা শুনে কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থাকল। তারপর ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বললো,

---আরে, তুমি তো দেখি বেশ রাগী হয়ে গেছো! আমি এতদিন পর এসেছি, একটু গল্প করতেও দেবে না?

বেলা বালিশটা ঠিক করতে করতে শান্ত গলায় বললো,

---গল্প করুন, কে মানা করেছে? আমি তো কিছু বলিনি।

সায়র বুঝতে পারলো, বেলার এই অস্বাভাবিক শান্ত স্বরটাই আসলে ঝড়ের আগের নীরবতা। সে দ্রুত নিজের কাগজপত্র গুছিয়ে টেবিলের ড্রয়ার বন্ধ করে দেয়।

রুপসা আবার সায়রের দিকে ফিরে বললো,

--- সায়র, তোমার সঙ্গে কত কথা জমে আছে জানো? দেখা হলেও ঠিকমতো কথা হয় না। আর এখন তো তুমি বিয়ে করে এমন ব্যস্ত হয়ে গেছো যে পুরোনো বন্ধুদের কথাই মনে থাকে না।

সায়র হেসে বলল,

---এমন কিছু না। ব্যস্ততা তো থাকেই।

---না, তুমি বদলে গেছো।

---কীভাবে?

রুপসা একটু নাটকীয় ভঙ্গিতে বললো,

---আগে তো আমার ফোন দিলেই কতো কথা বলতে। এখন মেসেজ দিলেও কখনো দেরিতে উত্তর দাও।

বেলা এবার আর চুপ থাকতে পারলো না। পাশ ফিরে শুয়ে থেকেই বললো,

---মানুষের বিয়ে হয়ে গেলে জীবনেও কিছু পরিবর্তন আসে, তাই না?

রুপসা সঙ্গে সঙ্গে বেলার দিকে তাকিয়ে বলে,

---কথাটা আমাকে উদ্দেশ্য করে বললে?

বেলা মিষ্টি করে হাসলো,

--- না তো। আপনি নিজের মতো করে বুঝে নিলেন কেন?

সায়র কপালে হাত দিলো।

--- তোমরা দুজন কি শুরু করিস না।

রুপসা হেসে বললো,

---আমি কিন্তু কিছুই করছি না। বেলাই আমাকে কথা শোনাচ্ছে।

বেলা সঙ্গে সঙ্গে বললো,

---আমি আবার কী বললাম?

---এই যে কথার মধ্যে কথায় খোঁচা দিচ্ছো।

--- আপনাকে খোঁচা দিয়ে আমার বয়েই গেছে।

সায়র এবার দুজনের মাঝখানে তাকিয়ে বলল,

---ঠিক আছে, তোমরা দুজনেই একটু শান্ত হও। রুপসা, তুই এতদিন পর এসেছিস, শান্তভাবে বসে গল্প কর। আর বেলা, তুই অযথা রাগ দেখাস না।

বেলা চোখ বড় বড় করে বললো,

--- আমি রাগ দেখাচ্ছি?

--- হ্যাঁ।

--- আচ্ছা ঠিক আছে। আমি আর কিছু বলছি না।

সায়র কিছু বলার আগেই রুপসা হেসে ফেললো। সায়র ও হেসে ফেললো বেলার রাগ দেখে।বেলার ভ্রু আরও কুঁচকে গেলো।

মনে মনে সে বলল,

--- দুজন মিলে হাসাহাসিও শুরু করেছে! যতসব ন্যাকামি।

সায়র অবশ্য বেলার মুখের পরিবর্তনটা লক্ষ্য করেছে ।সে বুঝতে পারছিলো, বেলা বাইরে থেকে যতই স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করুক, ভেতরে ভেতরে বেশ বিরক্ত হচ্ছে।

আর সেই কারণেই সায়রের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে উঠলো।

বেলার আর এক মুহূর্তও ভালো লাগছিলো না। রুপসার সঙ্গে সায়রের হাসতে হাসতে কথা বলা, তার ওপর রুপসার একের পর এক ন্যাকামি সব মিলিয়ে বেলার মেজাজ একেবারে বিগড়ে গেলো।

সে হঠাৎ বিছানা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে ফোনটা হাতে নিলো।

সায়র অবাক হয়ে তাকিয়ে বললো,

----কোথায় যাচ্ছিস?

বেলা কোনো উত্তর দিলো না। শুধু একবার রুপসার দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা গলায় বললো,

----আপনারা গল্প করুন। আমি অন্য ঘরে যাচ্ছি।

বলেই দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো।

সায়র কয়েক সেকেন্ড দরজার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে রুপসার দিকে তাকায়। রুপসা অবশ্য বিষয়টা বুঝেও কিছু না বোঝার ভান করে আবার গল্প শুরু করে দিলো।

এদিকে বেলা সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে । রুপসা যতক্ষণ এই বাড়িতে থাকবে, সে সায়রের ঘরে আর ফিরবে না।

রুপসা কিছুক্ষণ পর চলে যাওয়ার পরও বেলার অভিমান কা"টলো না। সে নিজের ঘরেই থেকে গেলো। সায়রও আর জোর করলো না।

সন্ধ্যা হয়ে গেলো, তারপর রাত নামলো। বাড়ির সবাই রাতের খাবারের জন্য একসঙ্গে বসলেও বেলা খুব প্রয়োজন ছাড়া কোনো কথা বললো না। সায়র কয়েকবার তার দিকে তাকায়, কিন্তু বেলা ইচ্ছে করেই চোখ সরিয়ে রাখলো। নাজনীন সুলতানা বললেন ,

---বেলা, ভাত নে।

বেলা শুধু মাথা নেড়ে নিজের মতো খেতে থাকলো। কোনো উওর দিলো না। নাজনীন সুলতানা মেয়ের গোমড়া মুখ দেখে বললো,

--- কিছু হয়েছে?

--- না।

এক কথার উত্তর দিয়েই সে আবার চুপ করে গেলো।

★

রাত অনেকটা গভীর হলে বেলা ধীরে ধীরে সায়রের ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই দেখলো, ঘরের আলো নিভানো। বিছানায় সায়র চুপচাপ শুয়ে আছে।বেলা মনে মনে ভাবলো,

--- মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে।

সে কোনো শব্দ না করে ধীরে ধীরে বিছানার নিজের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ে। চাদরটা টেনে নিয়ে চোখ বন্ধ করতে যাবে, ঠিক তখনই সায়র হঠাৎ ঝাপটে ধরে তাকে চমকে দিলো।বেলা আঁতকে উঠে বললো,

---আপনি জেগে ছিলেন!

সায়র হাসতে হাসতে বললো,

---হ্যাঁ। ভাবছিলাম, আমার রাগী ম্যাডাম আজ রাতে আদৌ ঘরে ফিরবে কি না।

বেলা বিরক্ত হয়ে বললো,

---ছাড়ুন তো! ঘুমাতে দেন।

সায়র মৃদু হেসে বললো,

--- বিকেল থেকে আমার সঙ্গে কথা না বলে থাকার শা'স্তি আগে দিতে হবে।

বেলা চোখ বড় করে তাকাল।

--- আবার শা'স্তি!

সায়র হেসে বললো,

--- না, আজ শুধু হিসাব চাই সন্ধ্যা থেকে এত চুপচাপ ছিলি কেন?

বেলা মুখ ফিরিয়ে বললো,

--- কিছু না।

--- সত্যি কিছু না?

--- হুম।

--- আচ্ছা তোর কথাই মেনে নিলাম।

বেলা বিরক্ত হয়ে বলে,

--- ছাড়েন আমাকে। দম বন্ধ লাগছে আমার।

সায়র ন্যাকামি করে বলে,

--- ছাড়বো না। আজকে তোকে জরিয়ে ধরেই ঘুমোবো।

বেলা ছাড় পাওয়ার জন্য অনেক ছুটোছুটি করলো কিন্তু পারলো না সায়রের শক্ত বাঁধন থেকে মুক্তি পেতে। অবশেষে হার মেনে অনিচ্ছা সত্ত্বেও গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো। আর সায়র বেলার এই কান্ড দেখে মৃদু হেসে বললো,

--- পাগলি একটা। এমন করিস কেন? আমি কি পরপুরুষ? আমিই একমাত্র পুরুষ যে তোর শ'রীর গভীরভাবে ছোঁয়ায় অধিকার আছে। বলে বেলাকে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।

চলবে........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন