ফন্ট সাইজ:
থিম:
রইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ

৩৭তম পর্ব

লেখক: ইয়ুশরা রিমু

#র‌ইলো_প্রেমের_নিমন্ত্রণ

#পর্ব_৩৭

#ইয়ুশরা_রিমু

[ ক'পি করা নিষিদ্ধ]

পরদিন সকালে কলেজে গিয়েও বেলার মাথায় আগের রাতের কথাগুলো ঘুরছিলো। সায়র বলেছিল সাজেক ভ্যালি যাওয়ার কথা, আর বেলা শেষ পর্যন্ত রাজিও হয়েছে। তবে একা সায়রের সঙ্গে যাওয়ার কথা মনে পড়তেই তার ভেতরে আবার একটু অস্বস্তি হচ্ছিলো। তাই ক্লাসে ঢোকার পর থেকেই সে ভাবছিলো, ইরাকে সঙ্গে নেওয়া যায় কি না।আর সায়র ভাই তো বলেছেই বিহান ভাই আর ইরাকে নিয়ে যাবে।

ক্লাস শুরু হওয়ার আগেই ইরা এসে বেলার পাশে বসতেই বেলা তাকে আস্তে করে বললো,

--- ইরা, তোকে একটা কথা বলবো?

ইরা সঙ্গে সঙ্গে বেলার দিকে তাকিয়ে বললো,

-- কী কথা? তোর মুখ এমন গম্ভীর কেন?

বেলা একটু ইতস্তত করে বললো,

--- আমরা কয়েকদিনের জন্য সাজেক ভ্যালি ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাবছি। তুই আমাদের সঙ্গে যাবি?

কথাটা শুনেই ইরার চোখ চকচক করে উঠলো।

---কী বলছিস! সাজেক? সত্যি?

বেলা হেসে মাথা নাড়লো।

---হ্যাঁ। সামনের সপ্তাহে কলেজ কয়েকদিন বন্ধ থাকবে। তাই সায়র ভাই বলেছে কোথাও ঘুরে আসা যায়।

ইরা যেন এক মুহূর্তেই পুরোপুরি উত্তেজিত হয়ে লাফিয়ে উঠলো,

---আমি তো অবশ্যই যেতে চাই! তুই জানিসই, ঘুরতে যাওয়ার কথা শুনলেই আমার মাথা ঠিক থাকে না। পাহাড়, মেঘ, ঠান্ডা বাতাস ভাবতেই ভালো লাগছে!

বেলা হেসে বললো,

--- তাহলে ঠিক আছে, তুই যাবি।

ইরার হাসিটা হঠাৎ একটু ম্লান হয়ে গেলো।

--- কিন্তু একটা সমস্যা আছে।

-- কী?

---বাসা থেকে আমাকে যেতে দেবে কি না, সেটা তো নিশ্চিত না। কয়েকদিনের জন্য বাইরে যাওয়ার কথা শুনলেই আম্মু-বাবা অনেক প্রশ্ন করবে। কারা যাবে, কোথায় থাকবো, কতদিন থাকবো সব জানতে চাইবে।

বেলা একটু চিন্তিত হয়ে বললো,

--- তুই আগে বাসায় কথা বলে দেখ। আমার কথা বলিস।তাইলে আঙ্কেল পারমিশন দিবে দেখিস।আমি চাই তুই আমাদের সঙ্গে থাকিস।

ইরা বান্ধবীর মুখের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলো।

--- তুই যখন এত করে বলছিস, তখন চেষ্টা তো করতেই হবে। এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না, কিন্তু আমি বাসায় কথা বলবো।

বেলা খুশি হয়ে বললো,

--- সত্যি চেষ্টা করবি?

--- অবশ্যই। তোর সঙ্গে এতদিন পর এমন একটা ট্যুরে যাওয়ার সুযোগ এসেছে, আর আমি চেষ্টা না করেই হাল ছেড়ে দেবো? সেটা কি হয়!

বেলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো। তারপর দুজনেই নিজেদের মধ্যে সাজেকের পাহাড়, মেঘ আর ঘোরাঘুরি নিয়ে নানা পরিকল্পনা করতে লাগলো। তবে ইরার মাথায় তখন একটাই চিন্তা বাসা থেকে শেষ পর্যন্ত তাকে যাওয়ার অনুমতি দেবে তো?

_________________________________________________________

সন্ধ্যার পর খান বাড়ির ড্রয়িংরুমে সবাই একসঙ্গে বসে হালকা নাস্তা আর চা খাচ্ছিলো। সারাদিনের ব্যস্ততার পর পরিবেশটাও বেশ স্বাভাবিক ছিল। বেলা একপাশে বসে চুপচাপ চা খাচ্ছিলো, আর সায়র মাঝে মাঝে সবার সঙ্গে টুকটাক কথা বলছিলো।

হঠাৎ সায়র খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললো,

----একটা কথা বলার ছিল। সামনের সপ্তাহে কলেজ কয়েকদিন বন্ধ থাকবে। তাই ভাবছিলাম বেলাকে নিয়ে সাজেক ভ্যালি ঘুরে আসবো।

কথাটা শুনে বেলা সঙ্গে সঙ্গে সায়রের দিকে তাকালো। কিন্তু পরের কথাটা শুনে তার চোখ কপালে উঠে গেলো।

সায়র নির্বিকার মুখে বললো,

---আসলে বেলাই বেশ কয়েকদিন ধরে বায়না করছে কোথাও ঘুরতে যাবে। তাই ভাবলাম, এবার নিয়ে যাই।

বেলা মনে মনে ফুঁসতে ফুঁসতে বললো,

--- খচ্চর বেটা! হিটলার বেটা! নিজে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করে এখন সব দোষ আমার ঘাড়ে চাপাচ্ছে!

বেলা মুখে কিছু বললো না, কিন্তু তার চোখেমুখে রাগটা স্পষ্ট হয়ে উঠলো। সায়র অবশ্য বেলার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলো, যেন ইচ্ছে করেই তাকে আরও রাগিয়ে দিচ্ছে।

মমতাজ বেগম এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিলেন। সায়রের কথা শেষ হতেই তাঁর মুখ গম্ভীর হয়ে গেলো,

--- বিয়ে হয়েছে এক মাসও হয়নি, এর মধ্যেই আবার ঘোরাঘুরি নিয়ে এত বায়না শুরু হয়ে গেছে? সংসার করার আগেই দেখি ন্যাকামি শুরু হয়ে গেছে।

বেলা চুপ করে রইলো।

মমতাজ বেগম এবার বিরক্ত গলায় আরও বললেন,

--- আজ এখানে যেতে হবে, কাল সেখানে যেতে হবে এসব নিয়ে সারাক্ষণ পড়ে থাকলে সংসার করবে কখন? আমার ছেলের ব্রেন ওয়াশ করে ফেলেছে একদম অসভ্য মেয়েটা। এখন যখন যা বলে ছেলেটা তখন তাই করে।

বেলার মুখটা আরও গম্ভীর হয়ে গেলো। সে একবার সায়রের দিকে তাকালো। সায়র তখনও চুপচাপ বসে আছে, কিন্তু চোখেমুখে এমন একটা ভাব যেন সে পরিস্থিতিটা সামলানোর কথা ভাবছে।

মমতাজ বেগম আর কিছু না বলে বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালেন। মুখ গোমড়া করে বললো,

---তোমরা যা ভালো বোঝো করো। এসব নিয়ে আমাকে আর কিছু বলতে হবে না।

বলেই তিনি নিজের ঘরের দিকে চলে গেলেন।

মমতাজ বেগম চলে যেতেই বেলা ধীরে ধীরে সায়রের দিকে তাকাল। চোখে স্পষ্ট রাগ।মনে মনে শুধু একটাই কথা ঘুরছে,

---সব কিছুর জন্য আমাকেই সামনে ঠেলে দেয়! এবার এই হিটলার সাহেবকে আমি ছাড়ছি না!‌

মমতাজ বেগম রাগ করে ঘরে চলে যাওয়ার পর ড্রয়িংরুমে কিছুক্ষণ নীরবতা নেমে এলো। বেলা চুপচাপ নিজের চায়ের কাপের দিকে তাকিয়ে রইলো, আর সায়রও মায়ের কথার পর আর কিছু বললো না। এমন সময় সারোয়ার খান হেসে ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,

---তোর মায়ের কথা শুনে মন খারাপ করার কিছু নেই। তোরা ঘুরে আয়। সারাদিন কাজ আর কলেজ নিয়ে পড়ে থাকিস, একটু বাইরে গেলে মনটাও ভালো হবে।

সায়র বাবার দিকে তাকিয়ে বললো,

---আমিও সেটাই ভাবছিলাম, বাবা। তবে শুধু বেলাকে নিয়ে গেলে ওর একা একা ভালো লাগবে না। তাই ইরা আর বিহানকেও সঙ্গে নেওয়ার কথা ভাবছি।

বেলা সঙ্গে সঙ্গে মুখ তুলে সায়রের দিকে তাকালো। মনে মনে বললো,

--- অন্তত এই কথাটা ঠিক বলেছে!

নাজনীন সুলতানা মাথা নেড়ে বললেন,

---হ্যাঁ, সেটাই ভালো। সবাই মিলে গেলে ঘোরাটাও জমবে। ইরা তো ঘুরতে খুব পছন্দ করে, ও গেলে তোমাদেরও ভালো লাগবে।

সায়র বললো,

--- ঠিক তাই। আর কয়েকদিনের ছুটি আছে, সবাই মিলে একটু সময় কা'টিয়ে আসা যাবে।

এমন সময় বিহান এতক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে মুখ বাঁকিয়ে বলল,

--- আমি কিন্তু যাচ্ছি না।

সায়র ভ্রু তুলে তাকালো।

---কেন?

--- আমার এখন এসব পাহাড়-টাহাড় ঘোরার শখ নেই। তোমরা যাও, আমি বাড়িতেই থাকবো।

কিন্তু মনে মনে ভাবলো অন্য কথা,

--- সায়র বেলার বিবাহিত জীবনের কিছু সুন্দর মুহূর্ত উপভোগ করে আসুক। সেখানে বড় ভাই হিসেবে বোনের সাথে যাওয়াটা বেমানান।

বেলা সঙ্গে সঙ্গে বললো,

---বাহ! তুমি না গেলে তো আমাদের ট্যুরটাই মাটি।

বিহান হেসে বললো,

--- তোদের ট্যুর তোদেরই থাক। আমাকে এসবের মধ্যে টানিস না।

ঠিক ইরার প্রসঙ্গ উঠতেই বিহানের মুখের ভাব একটু বদলে গেলো। সে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে বললো,

--- ইরা কি যাবে?

সায়র মুচকি হেসে বললো,

--- ওর যাওয়ার কথা আছে। তবে বাসা থেকে অনুমতি পেলে।

বিহান কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল। তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বললো,

--- তাহলে... যেতে পারি।

সায়র সঙ্গে সঙ্গে চোখ ছোট করে বিহানের দিকে তাকালো,

---এই তো! একটু আগেই বললি যাবি না। এখন আবার যেতে পারিস কীভাবে?

বিহান গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,

--- আসলে ভাবলাম, সবাই যাচ্ছে যখন আমিও গেলে খারাপ কী?

সায়র হেসে বললো,

--- বুঝেছি। পাহাড়ের টানে নয়, অন্য কোনো টানে যাচ্ছিস।

বিহান সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করল,

---আরে না! এমন কিছু না।

বেলা মুখ চেপে হাসলো।

--- হুম, আমরা কিছুই বুঝিনি।

বিহান বিরক্ত হয়ে বললো,

--- তোরা বেশি বুঝিস।

সারোয়ার খান হেসে বললেন,

--- তাহলে ঠিক হলো। ইরা আর বিহানও যাবে। সবাই মিলে গেলে ভালোই হবে।

বেলা মনে মনে বেশ খুশি হয়ে গেলো। একদিকে সায়রের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া নিয়ে তার আগের অস্বস্তিটা কিছুটা কমলেও, অন্যদিকে ইরা থাকলে পুরো ভ্রমণটা আরও আনন্দের হবে। আর বিহান ভাই কেন হঠাৎ রাজি হলো, সেটাও তার বুঝতে খুব একটা বাকি রইলো না।

_____________________________________________________________

বেলা ঘরে ঢুকেই দরজাটা একটু জোরে বন্ধ করলো। মুখজুড়ে তখনও অভিমানের ছাপ। সায়র বিছানার পাশে বসে ফোন দেখছিলো। বেলার এমন মুখ দেখে সে বুঝতে পারল, আবার কোনো একটা বিষয় নিয়ে ম্যাডামের রাগ উঠেছে।বেলা কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে বললো,

--- আপনি আমাকে সবার সামনে দোষ দিলেন কেন?

সায়র ফোনটা নামিয়ে বললো,

---কোন দোষ দিলাম আবার?

--- এই যে বললেন, আমি নাকি বায়না করেছি ঘুরতে যাওয়ার জন্য! আমি কখন সবার সামনে গিয়ে বলেছি যে আমাকে সাজেক নিয়ে যেতে হবে?

সায়র হেসে বললো,

---আরে, তোর কথা বললে কেউ যেতে মানা করবে না, বুঝলি? তাই একটু তোর নামটা সামনে আনলাম।

বেলা চোখ বড় বড় করে বললো,

--- তাই বলে আমার ঘাড়ে সব দোষ চাপিয়ে দেবেন? আপনার আম্মু তো আমার দিকে কেমন ভাবে তাকিয়ে কথা শুনিয়ে গেলো দেখলেন?

সায়র হাসি চেপে বললো,

--- তুই এত ভাবছিস কেন? আম্মুর কথা ছাড়। আব্বু তো ঠিকই বলেছে, সবাই মিলে ঘুরতে গেলে ভালো লাগবে।

--- সেটা চাচ্চু বলেছেন, আপনি না! আপনি তো প্রথমে আমাকে একা নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

--আমিই তো শেষে বুদ্ধি দিলাম ওদের নিয়ে যেতে।

--- বুদ্ধি দিয়েছেন, আর আমাকে ফাঁসিয়েছেন ও সাথে!

সায়র এবার একটু হেসে বললো,

---আচ্ছা, এত রাগ করার কী আছে?

বেলা হাত গুটিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

--- আছে। সবাই আমাকে বকবে, আর আপনি পাশে বসে হাসবেন এটা আমি হতে দেব না।

---তাহলে কী করবি?

বেলা একটু ভেবে বলল,

---পরেরবার কোথাও যেতে চাইলে সবার সামনে বলবেন, আমার বউকে নিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে। আমার ব‌উকে ছাড়া কোথাও যেতে ভালো লাগে না। তখন দেখি কে কী বলে!

সায়র কিছুক্ষণ বেলার দিকে তাকিয়ে থেকে হেসে ফেললো।

---আচ্ছা, ম্যাডাম। পরেরবার তাই বলবো।

বেলা মুখ বাঁকিয়ে বললো,

---এখন হাসছেন কেন?

--- এমনি।

--- আমি আর আপনার সঙ্গে কথাই বলবো না!

বলেই বেলা মুখ ঘুরিয়ে অন্যদিকে চলে গেলো। সায়র পেছন থেকে হেসে বললো,

--- এই কথাটাও তুই পাঁচ মিনিটের বেশি রাখতে পারবি না।

বেলা ফিরে তাকিয়ে চোখ রাঙিয়ে বললো,

--- দেখবেন, আজ আমি সত্যিই কথা বলবো না!

সায়র আবার হেসে ফেললো। আর বেলা আরও রাগ দেখিয়ে নিজের জায়গায় গিয়ে বসে রইলো।

সায়র বেলার রাগী মুখটার দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর হঠাৎ মুচকি হেসে বলোল,

---আচ্ছা, আর রাগ দেখাতে হবে না। চল, শপিংয়ে যাই।

বেলা সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে তাকাল।

---শপিং?

--হ্যাঁ। আমারও কয়েকটা জিনিস কেনার আছে। তোর কিছু কেনার থাকলে কিনে নিস।

কথাটা শেষ হওয়ার আগেই বেলার এতক্ষণকার রাগ যেন মুহূর্তের মধ্যে কোথায় উধাও হয়ে গেল। সে বিছানা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বললো,

--- সত্যি? এখনই যাবো?

সায়র বেলার এই পরিবর্তন দেখে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে মুচকি হাসলো।

---একটু আগেও তো বলছিলি আমার সঙ্গে কথাই বলবি না।

বেলা সঙ্গে সঙ্গে গম্ভীর মুখ করার চেষ্টা করে বললো,

--- তখন রাগ ছিল। এখন শপিংয়ের কথা বলেছেন, তাই রাগটা একটু ছুটি নিয়েছে।

সায়র হেসে বললো,

--- বাহ! তোর রাগও দেখি সুবিধামতো আসে-যায়।

বেলা আর কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত আলমারির দিকে এগিয়ে গেলো,

--- তাহলে দাঁড়ান, আমি তৈরি হচ্ছি।

--- এত তাড়া কিসের? দোকান তো পালিয়ে যাচ্ছে না।

বেলা আলমারি খুলতে খুলতে বললো,

--- আপনি বুঝবেন না। সাজেকে গিয়ে কিন্তু সুন্দর সুন্দর ছবি তুলবো। তাই নতুন কয়েক সেট ড্রেস লাগবে। পাহাড়ের সামনে, মেঘের মধ্যে একদম সুন্দর ফটোশুট করব।

সায়র চেয়ারে বসে তার কাণ্ড দেখছিলো। কিছুক্ষণ আগেও যে মেয়েটা রাগে মুখ ফুলিয়ে বসে ছিল, এখন সেই মেয়েটাই সাজেকের ছবি তোলার পরিকল্পনা করতে করতে ব্যস্ত হয়ে গেছে।সে মুচকি হেসে বললো,

---ঠিক আছে, যা পছন্দ হয় কিনিস।

বেলা হাসতে হাসতে বললো,

--- সেটা আপনার বাজেটের ওপর নির্ভর করছে।

সায়র ভুরু তুলে তাকাল।

---ওহ! তাহলে আগে থেকেই সাবধান করে দিলি?

--- অবশ্যই। সাজেকের জন্য সুন্দর কিছু ড্রেস না কিনলে কিন্তু ছবি সুন্দর আসবে না।

সায়র মাথা নেড়ে হেসে বললো,

---আচ্ছা, চল। দেখি তোর সাজেকের প্রস্তুতি কতদূর যায়।

বেলা খুশিতে রেডি হতে গেলো। কিছুক্ষণ আগের সব রাগ, অভিমান আর ঝগড়া যেন মুহূর্তেই উধাও হয়ে গেছে। সায়র চুপচাপ তার এই পরিবর্তনটা দেখছিল আর মনে মনে হাসছে। এই মেয়েটাকে রাগ ভাঙানোর জন্য কখনো কখনো অনেক কষ্ট করতে হয়, আবার কখনো শুধু একটু শপিংয়ের প্রস্তাবই যথেষ্ট!

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন