#বৃষ্টি_ভেজা_এক_সন্ধ্যায়
#নাবিলা_সৈয়দ
(৮)
আড্রিয়ান আমার কথা শুনে কিয়ৎক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। আমি উনার চাহনি বিশেষ পাত্তা না দিয়ে প্রেগ্ন্যাসির রিপোর্টটা খুটিয়ে দেখলাম। যা ভেবেছি তাই। মাথা তুলে তাকাতেই আড্রিয়ানের সাথে চোখাচোখি হলো। তিনি অতিষ্ঠ ভঙ্গিতে দু-পাশে মাথা নাড়তে নাড়তে বললেন,”এই ব্যাপারে আর আমি কিছু বলব না, তুমি আর তোমার বাচ্চা জাহান্নামে যাও।
আমি বিগলিত হাসলাম। হেসে বললাম,”তা যাব ঠিক আছে, আপনি যাবেন না?
“আমি কেন যাব, মেহমেদকে নিয়ে যাও।
আমি উনার মুখটার দিকে চোখ গেড়ে তাকালাম। যথাসম্ভব চেষ্টা করছেন রাগ ঢাকার,কিন্তু ফরসা মুখটা লাল হয়ে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। বললাম,”প্রেমে পড়ে গেলেন নাকি আমার, আড্রিয়ান?
উনি চোখ মুখের বিকৃতি এমন ভাবে করলেন যেন আমি কোনো গু। বললেন,”ইন ইউ্যের ড্রিম’'স। জেগে জেগে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো।
আড্রিয়ান থামলেন। বললেন,”আমি তোমার মতো পাগল, এনয়িং মহিলার সাথে বাক্যলাপ করতে চাচ্ছি না, তাই স্টপ করো।
আমি যথাজ্ঞা স্বামী বলে মুখ বন্ধ করে ফেললাম। তার আগে বললাম,”আমি পাগলে আপনি ও পাগল। ভুলে গেছেন, একই পাগলা গারদে ছিলাম?
উনাকে রিমাইন্ড দিয়ে আমি ঠোঁটে কুলুপ আটলাম।
আড্রিয়ান মাথায় হাত রেখে, কাউচে বসলেন দু-পা ছড়িয়ে। ভাব এমন মাথা ব্যথা, বিরক্তিতে উনি আমার উপর ফেটে পড়ছেন।
আমি বিছানায় বসে বসে দেখলাম, আমার পেটের বাচ্চার বাপ কে সেটা ভেবে ভেবে উনি মাথার চুল ছিঁড়ে ফেলছেন। চিন্তারা কুন্ডুলি পাঁকিয়েছে ধোঁয়াশার মতো গোলাকার হয়ে মাথার উপর। উনি অনেকক্ষণ ভাবলেন। ভাবার মধ্যে আমার দিকে চাইলেন আড়ে আড়ে। বারবার চোখ ঘুরে ফিরে এসে আমার পেটেই আটকাল। তারপর বললেন,”বাচ্চা আছে তোমার পেটে? আসলেই?
আমি গা ছাড়া ভাবে বললাম,”বাচ্চা না থাকলে পজেটিভ আসে রিপোর্ট?
“সেটাই তো কথা, তবে তোমার পেটে বেবি বাম্প দেখা যাচ্ছে না কেন? একটু তো ফুলে ওঠা উচিত।
আমি পা তুলে বসলাম আড্রিয়ানের মুখোমুখি বিছানায়। বললাম,” আমার বাচ্চা হওয়া না হওয়া নিয়ে তদন্ত বাদ দেন, আপনার প্রেমিকা নিয়ে কী ভাবনা? কী করবেন? বিয়েটা সম্পাদন করবেন কীভাবে?
আড্রিয়ানকে কথাটা বলতেই সে চিন্তিত হয়ে পড়ল। বাচ্চার দিক থেকে তার মন ঘুরে গেল। নরম সুরে বললেন,”তোমার কাছে কোনো প্ল্যান নেই?
“সে তো আছেই। কিন্তু আপনাকে প্ল্যান দিয়ে লাভ কী? একটু আগেই আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছেন আপনি।
আড্রিয়ান মাথা ঝুঁকিয়ে নিলেন। বললেন,”মাথা ঠিক ছিল না। তুমি তোমার আইডিয়া দাও। পরেরবার থেএ খেয়াল রাখব।
আমি গলা ঝাড়লাম। মানবতার ফেরিওয়ালারা ছোট খাটো ব্যাপারে রাগ করা মানায় না। তাই টাকার জন্য এইটুকু অপমান মেনে নিলাম। কথা বলার আগে ডং করে একটুক্ষণ কাশলাম ও। সময় নিয়ে বলতে শুরু করলাম কীভাবে কী হবে! আমার শ্বশুর মশাইকে সবার আগে বোঝাতে হবে আমরা দাম্পত্য জীবনে সুখী না। একজন আরেকজনকে মারধোর করতে হবে। প্রয়োজনে মাথা ফাটিয়ে দিলেও সমস্যা নেই। শ্বশুর মশাই যদি স্বাস্থ্য সম্মত লোক হোন, তাহলে এমন মানুসিক রোগীদের বাড়িতে রাখবেন না। একদিকে লাথি দিয়ে আমাকে বের করবেন, একদিকে আড্রিয়ানকে। আড্রিয়ান তখন আমাকে ডিভোর্স দিয়ে বাহিরে চলে যাবেন, আর আমি আউট অফ শহর হয়ে যাব। উনি আমার কথাগুলো শুনে মাথা দোলালেন। বললেন,”এত বুদ্ধি তোমার মাথায় আছে, দেখে বোঝাই যায় না।
আমি নিজের প্রশংসা শুনে খুশি হলাম। দেখালাম সব মস্তিষ্কের খেলা। আড্রিয়ান আমাকে শুধালেন,”এত বুদ্ধি নিয়ে রাতে ঘুমাও কীভাবে তুমি?
আমি রয়েসয়ে উত্তর দিলাম,”পশ্চাৎদেশে রেখে ঘুমাই।
আমার কথা শুনেই উনি নাক শিকোয় তুললেন। ছি্হ জাতীয় শব্দ উচ্চারণ করে বললেন,”অশ্লীল কথাবার্তা বলবে না।
আমি অবাক চোখে তাকিয়ে বললাম,”ওমা, আপনি বুঝি বলেন না?
আড্রিয়ান কঠোর সুরে বললেন,”না, বলি না।
আমি হাত বাড়িয়ে উনার গাল টিপে দিতে যাব, উনি পেছনে সরে গেলেন। বললেন,”প্রফেশনাল হয়ে কথা বলো।
আমি বললাম,”প্রফেশনাল হয়েই কথা বলছি। যাই হোক, আপনার প্রেমিকা কোথায়? আপনার বিয়ে হয়ে গেল আর ও এসে একদিনও হট্টগোল করল না? বিষয়টা তো জটিল!
আড্রিয়ান আমার জটিল সমীকরণে উত্তর বের করতে না দিয়েই বললেন,”ওর একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে, এভাবে অন্যের বাড়িতে এসে চেচামেচি ওর ধাঁচের সাথে যায় না।
আমি উনার কথা শুনে বিড়বিড় করলাম,”চ্যাঁচানো ধাঁচের সাথে যায় না, কিন্তু আরেক ব্যাটার টাকা মেরে খাওয়া ধাঁচের সাথে যায়।
আমার বিড়বিড় করে বলা কথা বোধগম্য হলো না আড্রিয়ানের। তিনি বললেন,”কিছু বলেছ?
আমি মাথা নেড়ে না করে দিলাম। চুপচাপ দু-জনে অনেক সময় বসে রইলাম। হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে আড্রিয়ান প্রশ্ন করলেন,”আসলেই তুমি সন্তান সম্ভবা? মেহমেদ এর বাচ্চা তোমার পেটে?
আমি তীক্ষ্ণ চোখে চেয়ে বললাম,”মেহমেদের সন্তান হলেই বা কী আপনার? এত চিন্তিত হচ্ছেন কেন?
আড্রিয়ানের মুখ গোমড়া হয়ে গেল। চেহারায় আধার নামল। আমি হেসে ফেললাম। হো হো করে হেসে বললাম,”আপনি এখনো বুঝতে পারেননি বিষয়টা?
আড্রিয়ান ভ্রু উচালেন। বললেন,”কোন বিষয়টা?
“রিপোর্ট ঠিকভাবে দেখেছিলেন?
আড্রিয়ান নিষ্পাপের মতো দু-পাশে মাথা দোলালেন। বললেন,” না। শুধু পজেটিভ লেখা দেখেছি।
আমি বললাম,”নেইম ট্যাগ দেখে নিলে এত ঝামেলা হতো না। যাই হোক, আপনি হয়তো খেয়াল করেননি, রিপোর্টটা আমার না।
“তোমার না?
“ না, আমার না। আমি ইসাবেলা আর্থার, আর ও-ই মহিলা হলো ইসাবেলা উইলিয়াম।
থামলাম কয়েক পলের জন্য। আড্রিয়ানকে নিচু দেখাতে কিছুটা শ্লেষ মিশ্রিত স্বরেই বললাম,’ছি্হ আড্রিয়ান ছি্হ, আপনি আপনার স্ত্রীর নাম পর্যন্ত জানেন না? খুবই দুঃখের বিষয় এটা। শোকাহত হলাম আমি।
চলবে….
(টার্গেট ১.২ কে। যখনই হয়ে যাবে তখনই পেয়ে যাবেন। গল্পের ভিউজ অনুযায়ী, রিয়েক্ট কম। আশা করব হয়ে যায় যেনো। গল্পে রিয়েকট দিবে ভালো থাকবেন তা এমন কলে হবে না ও অ আর ই উঃ ঙজ ডঃ ত থ দল নয় ভ ত থ দল দল ধ আঃ আঃ নি কা কি ক রো ও ই ব লো কি হ লো)
পর্ব 8
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে পর্ব 8 শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান