ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 20

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ২০

### এক বিকেলে নতুন পরিচয়

সকালের আলো ধীরে ধীরে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। মায়া ঘুম থেকে উঠে জানালার পর্দা সরিয়ে দিল। বাইরে পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। আজ তার মনটা বেশ ফুরফুরে। কারণ গত রাতে শাহজাদ বলেছিল, আজ বিকেলে তার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলবে।

নাশতা শেষ করে মায়া নিজের ঘরে এসে পড়ার টেবিলে বসল। বই খুললেও বারবার ফোনের দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল। এমন সময় মা ঘরে ঢুকে বললেন,

—কী রে, পড়াশোনা হচ্ছে তো?

মায়া একটু হেসে বলল,

—হ্যাঁ মা, হচ্ছে।

মা মেয়ের পাশে এসে দাঁড়ালেন।

—আজ বিকেলে কোথাও যাবি?

—না তো। কেন মা?

—তোর খালা ফোন করেছিলেন। বিকেলে আসবেন। অনেক দিন তো দেখা হয় না।

মায়া খুশি হয়ে বলল,

—সত্যি? তাহলে তো ভালোই হবে!

মা হেসে বললেন,

—তুই আবার ঘরটা একটু গুছিয়ে রাখিস।

মায়া উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

—আচ্ছা মা, করে দিচ্ছি।

অন্যদিকে খান বাড়িতে শাহজাদ অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার ছোট বোন ঘরে এসে বলল,

—ভাইয়া, আজ বিকেলে তাড়াতাড়ি ফিরবেন কিন্তু!

শাহজাদ ঘড়ি পরতে পরতে বলল,

—কেন?

—আপনাকে একটা কথা বলব।

—এখন বলো।

—না, সন্ধ্যায় বলব।

শাহজাদ হেসে বলল,

—তোমার কথারও দেখি অনেক নিয়মকানুন!

বোন মুখ বাঁকিয়ে বলল,

—আপনি শুধু হাসেন। আমার কথা শোনেন না।

শাহজাদ তার মাথায় হাত রেখে বলল,

—আচ্ছা, আজ তাড়াতাড়ি ফেরার চেষ্টা করব।

নিচে নেমে সে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিল। রেহানা বেগম বললেন,

—বাবা, দুপুরে ঠিকমতো খেয়ে নিস।

—আচ্ছা মা।

—আর বেশি রাত করিস না।

—ঠিক আছে।

শাহজাদ গাড়িতে উঠে অফিসের উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

দুপুরের পর মায়ার খালা বাসায় এলেন। সঙ্গে তাঁর মেয়েও এসেছে। বাড়িতে হাসি-গল্প শুরু হয়ে গেল। মায়া সবার জন্য নাশতা নিয়ে এল।

খালা মায়াকে দেখে বললেন,

—মাশাআল্লাহ, আমার ভাগ্নিটা তো অনেক বড় হয়ে গেছে!

মায়া হেসে বলল,

—খালা, আমি কি এখনো ছোট আছি নাকি?

—আমার কাছে তো তুই সেই ছোট্ট মায়াই আছিস।

সবাই হেসে উঠল।

কিছুক্ষণ পর খালা মায়ার মায়ের সঙ্গে গল্প করতে করতে বললেন,

—তোমার মেয়েটা খুব শান্ত আর মিষ্টি স্বভাবের হয়েছে।

মায়ার মা হেসে বললেন,

—শান্ত কোথায়? সারাদিন কথা বলে!

মায়া পাশ থেকে বলল,

—মা!

আবারও সবাই হেসে উঠল।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে শুরু করেছে। শাহজাদ অফিসের কাজ শেষ করে গাড়িতে উঠল। গাড়িতে বসেই সে মায়াকে ফোন করল।

—হ্যালো, মায়া?

—জি, বলুন।

—আজ কেমন কাটল দিন?

—ভালো। আজ খালা এসেছেন।

—তাহলে তো আপনার বেশ আনন্দে কেটেছে।

—হ্যাঁ। আপনি অফিস থেকে ফিরেছেন?

—এইমাত্র বের হলাম।

—আজ কি খুব ব্যস্ত ছিলেন?

—সকালে একটু বেশি কাজ ছিল। এখন সব শেষ।

মায়া বলল,

—তাহলে বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেবেন।

শাহজাদ হেসে বলল,

—আপনি কি আমাকে সব সময় বিশ্রাম নিতে বলেন?

—কারণ আপনি নিজের যত্ন নিতে ভুলে যান।

—আচ্ছা, আপনার কথা রাখব।

কথা বলতে বলতে শাহজাদ বাড়ির সামনে পৌঁছে গেল।

—মায়া, আমি বাসায় পৌঁছে গেছি। পরে কথা বলব।

—ঠিক আছে। ভালো থাকবেন।

—আপনিও।

খান বাড়িতে ঢুকতেই ছোট বোন দৌড়ে এল।

—ভাইয়া! আপনি এসেছেন!

—হ্যাঁ, বলো এবার কী কথা?

বোন একটু লজ্জা পেয়ে বলল,

—আমার স্কুলে একটা অনুষ্ঠান হবে। আপনি কি সেদিন আসবেন?

শাহজাদ বোনের দিকে তাকিয়ে বলল,

—অবশ্যই আসব। তারিখটা আমাকে জানিয়ে দিও।

বোন আনন্দে বলল,

—সত্যি আসবেন তো?

—কথা দিলাম।

রেহানা বেগম পাশ থেকে বললেন,

—তোর বোন তোকে নিয়ে অনেক আশা করে।

শাহজাদ হেসে বলল,

—ওর জন্য সময় বের করব না, তা কি হয়?

রাতের খাবারের পর শাহজাদ মায়ের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসে গল্প করল। তারপর নিজের ঘরে গিয়ে মায়াকে মেসেজ দিল।

শাহজাদ: এখন কী করছেন?

মায়া: খালার সঙ্গে গল্প করছিলাম। এখন একটু বিশ্রাম নিচ্ছি।

শাহজাদ: আজ আপনাকে একটা কথা বলার ছিল।

মায়া: কী কথা?

শাহজাদ: আমার ছোট বোনের স্কুলে অনুষ্ঠান আছে। ও আমাকে যেতে বলেছে।

মায়া: তাহলে অবশ্যই যাবেন। ছোটদের আনন্দের মুহূর্তগুলো খুব সুন্দর।

শাহজাদ: ও আমাকে অনেক ভালোবাসে। ওর কোনো আবদার ফেলতে পারি না।

মায়া: বুঝতেই পারছি। আপনার বোন নিশ্চয়ই আপনাকে খুব জ্বালায়!

শাহজাদ: সেটা আর বলতে!

মায়া হেসে উত্তর দিল।

মায়া: ভাইবোনের সম্পর্কই এমন।

কিছুক্ষণ পর শাহজাদ আবার মেসেজ দিল।

শাহজাদ: মায়া, একটা কথা বলব?

মায়া: বলুন।

শাহজাদ: কোনো একদিন আপনার পরিবারের সবার সঙ্গে আবার দেখা করতে চাই। আপনার মা আর আন্টির সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে।

মায়া একটু ভেবে উত্তর দিল।

মায়া: অবশ্যই। মা-কে বললে উনিও খুশি হবেন।

শাহজাদ: তাহলে সুযোগ হলে একদিন দেখা হবে।

মায়া: জি।

এরপর মায়া ফোনটা রেখে মায়ের কাছে গেল। মা তখন বসার ঘরে বসে ছিলেন।

—মা, একটা কথা বলব?

—বল মা।

—শাহজাদ বলছিল, কোনো একদিন আবার তোমাদের সঙ্গে দেখা করতে চায়।

মা মৃদু হেসে বললেন,

—ওদের সময় হলে আসতে বলিস। দেখা হলে ভালোই লাগবে।

মায়া খুশি হয়ে বলল,

—আচ্ছা মা।

রাত বাড়তে লাগল। শাহজাদ জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। তার মনে হচ্ছিল, জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও কিছু মানুষ ধীরে ধীরে বিশেষ হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে মায়া নিজের ঘরে বসে দিনের ঘটনাগুলো ভাবছিল। শাহজাদের পরিবারের কথা শুনে তার ভালো লাগে। বিশেষ করে শাহজাদের মায়ের আন্তরিকতা আর ছোট বোনের দুষ্টুমির গল্প।

ঘুমানোর আগে শাহজাদ শেষবারের মতো মেসেজ দিল।

শাহজাদ: ভালো থাকবেন। কাল কথা হবে।

মায়া: আপনিও ভালো থাকবেন। আর নিজের যত্ন নিতে ভুলবেন না।

শাহজাদ: আপনার কথাটা মনে থাকবে।

মায়া ফোন রেখে মৃদু হাসল।

তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শাহজাদের ছোট বোনের স্কুলের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এমন একটি ঘটনা ঘটবে, যেখানে মায়ার সঙ্গে খান পরিবারের আরও কয়েকজনের পরিচয় হবে।

সেই পরিচয় কি তাদের সম্পর্ককে আরও সুন্দর করে তুলবে?

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 20 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন