ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 41

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ৪১

### ভালোবাসার নতুন এক সকাল

সকালের নরম আলোয় মায়ার ঘরটা বেশ সুন্দর দেখাচ্ছে। জানালার পাশে রাখা ফুলের টবটিতে কয়েকটি নতুন পাতা এসেছে। মায়া গাছটিতে পানি দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াল। আজ তার মনটা বেশ ভালো।

ফোন হাতে নিতেই শাহজাদের মেসেজ দেখতে পেল।

শাহজাদ: সুপ্রভাত। আজ কি আমার কথা মনে পড়েছে?

মায়া: সুপ্রভাত। সকাল সকাল এমন প্রশ্ন কেন?

শাহজাদ: কারণ আমার তো ঘুম ভাঙার পর থেকেই একজনের কথা মনে পড়ছে।

মায়া: কে সে?

শাহজাদ: নাম বললে রাগ করবেন না তো?

মায়া: আগে বলেন।

শাহজাদ: মায়া।

মায়া মুচকি হেসে লিখল,

মায়া: নামটা তো বেশ পরিচিত!

শাহজাদ: মানুষটাও আমার কাছে বেশ পরিচিত হতে শুরু করেছে।

মায়া আর উত্তর দিল না। শুধু ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকল।

নাস্তার টেবিলে মায়ার মা মেয়ের হাসিমুখ দেখে বললেন,

— কী রে, আজ এত খুশি কেন?

— এমনিই মা।

— এমনিই হলে ভালো। তবে মনে হচ্ছে কারও মেসেজ পেয়েছিস।

মায়া লজ্জা পেয়ে বলল,

— মা, তুমি সব বুঝে যাও কেন?

মা হেসে বললেন,

— মায়ের চোখকে ফাঁকি দেওয়া সহজ নয়।

অন্যদিকে খান বাড়িতে শাহজাদ অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তার ছোট বোন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

— ভাইয়া, আজ মায়া আপুকে আমাদের বাসায় আসতে বলবে?

— কেন?

— তোমার সঙ্গে তো দেখা হয়, আমার সঙ্গে হয় না!

— তোমার সঙ্গে তো সেদিনই কথা হয়েছে।

— ফোনে কথা বলা আর সামনে বসে গল্প করা এক নয়।

শাহজাদ হেসে বলল,

— ঠিক আছে, সুযোগ হলে বলব।

রেহানা বেগম পাশ থেকে বললেন,

— শুক্রবার ওদের পরিবারকে দুপুরের খাবারের দাওয়াত দেওয়া যায়। কী বলো?

শাহজাদ মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

— ভালো হয় মা। তবে আগে মায়া আর ওর পরিবারের সুবিধা জেনে নিও।

রেহানা বেগম মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন।

দুপুরে অফিসের কাজ শেষ করে শাহজাদ মায়াকে ফোন করল।

— কী করছেন?

— বই পড়ছিলাম। আপনি?

— কাজ শেষ করলাম। একটা কথা ছিল।

— বলুন।

— মা শুক্রবার আপনাদের সবাইকে দুপুরে আমাদের বাসায় দাওয়াত দিতে চাচ্ছেন। আপনারা সময় পেলে আসবেন।

মায়া একটু চুপ করে বলল,

— আমি মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছি।

— অবশ্যই। কোনো চাপ নেই।

কিছুক্ষণ পর মায়া ফোন করে জানাল, শুক্রবার তাদের পরিবার যেতে পারবে।

শাহজাদ খুশি হয়ে বলল,

— তাহলে তো ভালোই হলো।

— আপনার বোন নিশ্চয়ই অনেক খুশি হবে।

— ও তো এখন থেকেই পরিকল্পনা করছে আপনাকে কী কী দেখাবে।

মায়া হেসে বলল,

— তাহলে ওকে বলবেন, আমি কিন্তু অনেক গল্প শুনব।

— বলব। তবে আমার জন্যও একটু সময় রাখবেন।

— আপনি তো একই বাড়িতে থাকবেন!

— একই বাড়িতে থাকলেই কি আপনার সঙ্গে কথা বলা হয়ে যাবে?

মায়া হেসে বলল,

— আচ্ছা, আপনার জন্যও সময় রাখব।

শুক্রবার সকাল থেকেই খান বাড়িতে আয়োজন শুরু হলো। রেহানা বেগম নিজে রান্নাঘরে গিয়ে সবকিছু দেখছিলেন। শাহজাদের ছোট বোন বারবার ঘড়ি দেখছে।

— মা, ওরা কখন আসবে?

— দুপুরের দিকে আসবে। তুমি এত অস্থির হচ্ছ কেন?

— মায়া আপুর সঙ্গে গল্প করব।

শাহজাদ সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলল,

— তোমার গল্পের জন্য আপুকে আগে খেতে দাও।

ছোট বোন মুখ বাঁকিয়ে বলল,

— তুমি শুধু ভাইয়া বলেই সব সময় কথা বলো!

শাহজাদ হেসে ফেলল।

দুপুরে মায়ারা খান বাড়িতে পৌঁছাল। রেহানা বেগম হাসিমুখে সবাইকে অভ্যর্থনা জানালেন। মায়া সালাম দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই শাহজাদের ছোট বোন দৌড়ে এল।

— মায়া আপু! অবশেষে এসেছেন!

মায়া হেসে বলল,

— তোমার সঙ্গে দেখা করতে না এসে কি থাকা যায়?

ছোট বোন তাকে নিজের ঘর দেখাতে নিয়ে গেল। ঘরজুড়ে বই, খেলনা আর নানা রঙের জিনিসপত্র। মায়া সবকিছু দেখে প্রশংসা করল।

— তোমার ঘরটা খুব সুন্দর।

— সত্যি? ভাইয়া কিন্তু বলে আমি অনেক অগোছালো।

— তাহলে আজ থেকে ঘরটা গুছিয়ে রাখবে।

— আপনি বললে রাখব।

এদিকে শাহজাদ বসার ঘরে মায়ার বাবার সঙ্গে সাধারণ গল্প করছিল। তাদের মধ্যে ভদ্র ও স্বাভাবিক কথাবার্তা চলছিল। দুজনেরই কাজকর্ম নিয়ে কিছু আলোচনা হলো।

খাওয়া শেষ হওয়ার পর সবাই বসার ঘরে গল্প করতে লাগল। মায়া এক পাশে বসেছিল। শাহজাদ তার দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

কিছুক্ষণ পর ছোট বোন মায়াকে নিয়ে বাগানে গেল। শাহজাদও অনুমতি নিয়ে সেখানে এল।

— কেমন লাগছে আজকের আয়োজন?

মায়া বলল,

— খুব ভালো। আপনার মা অনেক কষ্ট করেছেন।

— মা আপনাদের আসার জন্য খুশি।

— আপনার বোনও খুব খুশি।

— ও আপনাকে বেশ পছন্দ করে।

মায়া হেসে বলল,

— আমিও ওকে পছন্দ করি।

শাহজাদ কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— আজ আপনাকে দেখে আমার একটা কথা মনে হচ্ছে।

— কী কথা?

— আপনাকে আমাদের পরিবারের সঙ্গে এত সহজভাবে মিশতে দেখে ভালো লাগছে।

মায়া নরম গলায় বলল,

— আপনার পরিবার আমাকে আপন করে নিয়েছে। তাই হয়তো সহজ লাগছে।

শাহজাদ মৃদু হেসে বলল,

— আপনার ভালো লাগাটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মায়া একটু লজ্জা পেয়ে বলল,

— আপনি সব সময় এমন কথা বলেন কেন?

— কারণ কিছু কথা আপনাকে না বললে নিজের কাছেই অসম্পূর্ণ লাগে।

মায়া হেসে অন্যদিকে তাকাল।

শাহজাদ বাগানের একটি ফুলের দিকে ইশারা করে বলল,

— এই ফুলটা আপনার ভালো লাগবে মনে হয়।

— কেন?

— আপনার পছন্দের ফুলের কথা তো মনে আছে। এটা গোলাপ নয়, তবে দেখতে সুন্দর।

মায়া ফুলটির দিকে তাকিয়ে বলল,

— সত্যিই সুন্দর।

— একদিন আপনার স্বপ্নের বাগানে এমন অনেক ফুল থাকবে।

মায়া মুচকি হেসে বলল,

— ইনশাআল্লাহ।

সন্ধ্যার আগে মায়ারা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিল। শাহজাদের ছোট বোন মায়াকে জড়িয়ে ধরার বদলে তার হাত ধরে বলল,

— আপু, আবার আসবেন। অনেক গল্প বাকি আছে।

মায়া বলল,

— অবশ্যই আসব।

বিদায়ের সময় শাহজাদ দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিল।

— আজকের দিনটা কেমন কাটল?

— খুব ভালো। আপনার পরিবারের সবাই অনেক আন্তরিক।

— আবার আসবেন তো?

— সময় হলে অবশ্যই।

শাহজাদ মুচকি হেসে বলল,

— তাহলে অপেক্ষায় থাকলাম।

বাড়ি ফিরে মায়া নিজের ঘরে এসে ফোন হাতে নিল। শাহজাদের মেসেজ এসেছে।

শাহজাদ: আজ আপনাকে আমাদের বাড়িতে পেয়ে খুব ভালো লেগেছে।

মায়া: আমারও। আপনার বোনকে খুব মিস করব।

শাহজাদ: শুধু ওকে?

মায়া: আর কাউকে না!

শাহজাদ: বাহ! তাহলে আমার জন্য মন খারাপ হবে না?

মায়া: কে বলেছে হবে না?

শাহজাদ: তাহলে একটু স্বীকার করুন।

মায়া: আপনার সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে। এবার খুশি?

শাহজাদ: অনেক। তবে একদিন আপনার মুখ থেকেও কথাটা শুনতে চাই।

মায়া মৃদু হেসে লিখল,

মায়া: সময় হলে শুনবেন।

শাহজাদ ফোনের দিকে তাকিয়ে হাসল। তার মনে হলো, সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো—দুজন মানুষ ধীরে ধীরে একে অপরের কাছে নিজেদের মনের দরজা খুলে দেয়।

আর মায়া জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভাবল, কিছু মানুষ জীবনে এসে খুব সাধারণ দিনগুলোকেও বিশেষ করে তোলে।

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 41 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন