ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 40

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ৪০

### তোমার জন্য জমিয়ে রাখা অনুভূতি

সকালের মিষ্টি রোদে খান বাড়ির চারপাশটা ঝলমল করছে। শাহজাদ নিজের ঘরে বসে ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছিল। কিন্তু বারবার তার মন ফোনের দিকে চলে যাচ্ছিল। গতকাল মায়ার সঙ্গে বাগানে কাটানো সময়টা তার মনে বারবার ফিরে আসছিল।

মায়ার ছোট্ট বাগানের স্বপ্ন, তার হাসি, কথা বলার ভঙ্গি—সবকিছুই যেন শাহজাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

ঠিক তখনই ফোনে মেসেজ এল।

মায়া: কী করছেন?

শাহজাদ সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল।

শাহজাদ: কাজ করছি। তবে এখন মনে হচ্ছে কাজের চেয়ে আপনার মেসেজটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মায়া: তাহলে কাজ করবেন কখন?

শাহজাদ: আপনি অনুমতি দিলে এখনই আবার কাজে মন দেব।

মায়া: আমার অনুমতি নিয়ে কাজ করতে হবে নাকি?

শাহজাদ: আপনার সঙ্গে কথা বলতে গেলে অনুমতি লাগে না, কিন্তু আপনার সময় নষ্ট করতে চাই না।

মায়া হেসে উত্তর দিল,

মায়া: আচ্ছা, কাজ করুন। পরে কথা হবে।

শাহজাদ ফোনটা রেখে আবার কাজে মন দিল। তার মুখে তখনও হাসি লেগে ছিল।

অন্যদিকে মায়া রান্নাঘরে মায়ের সঙ্গে ছিল। মা তাকে কিছু সবজি কাটতে দিয়ে বললেন,

— কী রে, আজকাল তো ফোনটা বেশ ব্যস্ত থাকে!

মায়া হেসে বলল,

— মা, আপনি আবার শুরু করলেন?

— আমি তো কিছু বললাম না। শুধু দেখছি, আমার মেয়েটা আজকাল বেশ হাসিখুশি।

— হাসিখুশি থাকলে সমস্যা কী?

— কোনো সমস্যা নেই। সব সময় এমন থাকিস।

মায়া মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলল,

— আপনি পাশে থাকলে তো এমনিতেই ভালো থাকি।

মা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

দুপুরে শাহজাদের ছোট বোন মায়াকে ফোন করল।

— আপু, কী করছেন?

— তোমার সঙ্গে কথা বলছি। তুমি কী করছ?

— পড়ছি। কিন্তু পড়তে একদম ভালো লাগছে না।

— কেন?

— কারণ আমার ভাইয়া আমাকে সারাক্ষণ পড়তে বলে।

মায়া হেসে বলল,

— ভাইয়া তো তোমার ভালো চায়।

— জানি। কিন্তু আপনি এলে আমার সঙ্গে গল্প করবেন, তাই না?

— অবশ্যই। তবে পড়াশোনা শেষ করে।

— ঠিক আছে। আপনি কিন্তু কথা দিয়েছেন!

ফোন রাখার পর মায়া বেশ কিছুক্ষণ হাসল। মেয়েটার দুষ্টুমিগুলো তার ভালোই লাগে।

বিকেলে শাহজাদ অফিস থেকে ফিরে মায়ের সঙ্গে বসে চা খাচ্ছিল। রেহানা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— কী ব্যাপার, আজকাল তো তোমাকে বেশ হাসিখুশি দেখাচ্ছে।

শাহজাদ হেসে বলল,

— এমন কিছু না মা।

— কিছু না হলে এত হাসছ কেন?

— মানুষের ভালো সময় এলে তো হাসতেই পারে।

রেহানা বেগম মুচকি হেসে বললেন,

— ভালো সময়ের পেছনে কি কোনো বিশেষ মানুষ আছে?

শাহজাদ এবার আর অস্বীকার করল না।

— আছে মা। তবে আমি চাই, সবকিছু সুন্দরভাবে এগোক।

— সেটাই ভালো। মায়ার মতামতকে সব সময় গুরুত্ব দেবে।

— অবশ্যই।

সন্ধ্যার দিকে মায়া নিজের ঘরে বসে বই পড়ছিল। হঠাৎ ফোনে শাহজাদের কল এল।

— আসসালামু আলাইকুম।

— ওয়ালাইকুম আসসালাম। কী করছেন?

— বই পড়ছি। আপনি?

— আপনার সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা করছি।

মায়া হেসে বলল,

— আপনার কি আর কোনো কাজ নেই?

— আছে। কিন্তু সব কাজের মাঝেও কিছু সময় নিজের পছন্দের মানুষের জন্য রাখতে হয়।

মায়া একটু চুপ করে গেল। শাহজাদ বুঝতে পেরে বলল,

— কী হলো? চুপ করে গেলেন কেন?

— কিছু না।

— সত্যি?

— হ্যাঁ।

— তাহলে একটা প্রশ্ন করি?

— করুন।

— আপনি কি কখনো আমার কথা ভেবে হাসেন?

মায়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,

— মাঝে মাঝে।

শাহজাদ হেসে উঠল।

— শুধু মাঝে মাঝে?

— বেশি জানতে চাইবেন না।

— আচ্ছা, আর জিজ্ঞেস করব না। তবে একটা কথা বলি?

— বলুন।

— আমি অনেক সময় কাজের মাঝেও আপনার বলা কথাগুলো মনে করি। বিশেষ করে আপনার বাগানের স্বপ্নটা।

মায়া মৃদু গলায় বলল,

— আপনি কি সত্যিই আমার স্বপ্নটা মনে রেখেছেন?

— অবশ্যই। আপনার পছন্দের ফুলগুলোও জানতে চাই।

— কেন?

— কোনো একদিন আপনার স্বপ্নের বাগান নিয়ে আরও গল্প করব।

মায়া হেসে বলল,

— আমার গোলাপ, বেলি আর রজনীগন্ধা খুব পছন্দ।

— তাহলে তিনটি ফুলের নাম মনে রাখলাম।

— শুধু নাম মনে রাখলেই হবে না। গাছের যত্নও নিতে হবে।

— সেটা আপনার কাছ থেকে শিখে নেব।

দুজনেই হেসে উঠল।

কথার মাঝেই মায়ার মা ঘরে এসে জানালেন, পরদিন তাদের এক আত্মীয়ের বাসায় যেতে হবে। মায়া শাহজাদকে বিষয়টি জানাল।

— তাহলে কাল দেখা হচ্ছে না?

— মনে হয় না।

— সমস্যা নেই। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। পরে কথা হবে।

মায়া একটু মিষ্টি গলায় বলল,

— আপনি মন খারাপ করলেন?

— একটু।

— কেন?

— আপনার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা ছিল।

— ইচ্ছা থাকলেই তো সব সময় সম্ভব হয় না।

— ঠিক বলেছেন। তাই বলে ইচ্ছেটা তো আর কমে যায় না।

মায়া হেসে বলল,

— আপনি সত্যিই অনেক কথা বলতে শিখেছেন।

— আপনার কাছেই তো শিখছি।

রাত বাড়তে লাগল। ফোন রাখার আগে শাহজাদ বলল,

— একটা কথা মনে রাখবেন।

— কী?

— নিজের যত্ন নেবেন। ঠিকমতো খাবেন, আর বেশি রাত জাগবেন না।

মায়া মজা করে বলল,

— আপনি কি আমার মা হয়ে গেলেন?

— না। তবে আপনার ভালো থাকাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

মায়া মৃদু হেসে বলল,

— আচ্ছা, আপনি নিজেও নিজের যত্ন নেবেন।

— কথা দিলাম।

পরদিন সকালে মায়া পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়ের বাসায় চলে গেল। সারাদিন ব্যস্ততার কারণে শাহজাদের সঙ্গে বেশি কথা হয়নি। বিকেলে একটু সময় পেয়ে সে ফোন হাতে নিল।

মায়া: আজ খুব ব্যস্ত ছিলাম। তাই কথা বলতে পারিনি।

শাহজাদ: জানি। কোনো সমস্যা নেই। আপনার দিনটা কেমন কাটল?

মায়া: ভালো। তবে আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারলে আরও ভালো লাগত।

শাহজাদ মেসেজটা কয়েকবার পড়ল। তারপর লিখল,

শাহজাদ: জানেন, আপনার এই ছোট্ট কথাগুলোই আমার পুরো দিনের ক্লান্তি দূর করে দেয়।

মায়া: তাহলে প্রতিদিন এমন কথা বলব?

শাহজাদ: প্রতিদিন বললে আমার অভ্যাস হয়ে যাবে।

মায়া: অভ্যাস খারাপ কিছু নয়, যদি ভালো হয়।

শাহজাদ উত্তর দিল,

শাহজাদ: আপনার সঙ্গে কথা বলার অভ্যাসটা আমি যত্ন করে রাখতে চাই।

মায়া ফোনের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।

রাতে বাড়ি ফিরে সে জানালার পাশে দাঁড়াল। ফুলের টবটিতে নতুন একটি কুঁড়ি এসেছে। মায়া গাছটিকে পানি দিতে দিতে ভাবল, সম্পর্কও হয়তো গাছের মতো। প্রতিদিন একটু যত্ন, একটু সময় আর বিশ্বাস পেলে ধীরে ধীরে সুন্দর হয়ে ওঠে।

ঠিক তখনই শাহজাদের মেসেজ এল।

শাহজাদ: ঘুমাবেন না এখনো?

মায়া: এই তো ঘুমাতে যাচ্ছি।

শাহজাদ: শুভরাত্রি। সুন্দর স্বপ্ন দেখবেন।

মায়া: আপনিও ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

শাহজাদ ফোনটা পাশে রেখে জানালার বাইরে তাকাল। তার মনে হলো, জীবনে এমন একজন মানুষ থাকা সত্যিই সুন্দর, যার সঙ্গে দিনের ছোট্ট ঘটনাগুলোও ভাগ করে নিতে ইচ্ছে করে।

আর মায়ার মনে তখন একটাই কথা—কিছু অনুভূতি মুখে প্রকাশ না করলেও আচরণে ঠিকই প্রকাশ পায়।

তাদের সম্পর্কও যেন প্রতিদিন একটু একটু করে গভীর হচ্ছে।

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 40 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন