পর্ব: ৫
গল্প: শেষ রাতের চন্দ্রিমা
লেখিকা: ঐশানী পোলিনা
সুমাইরা সুহানার ফোনটা নিয়ে দ্রুত নিজের ঘরে চলে এলো। ধড়ফড় করতে থাকা বুকটা শান্ত করার চেষ্টায় তড়িঘড়ি করে ঘরের দরজাটা আটকে দিল সে।
এরপর দরজার সাথে নিজের পিঠ ঠেকিয়ে, বুকের ওপর দুই হাত চেপে ধরে জোরে জোরে দম নিতে লাগল।
তার মনে হচ্ছে, বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা কেউ যেন হাতুড়ি দিয়ে অনবরত পিটিয়ে চলেছে। কিছুতেই নিজের উত্তেজনা আর ভয় সামাল দিতে পারছে না সুমাইরা।
সে নিজের শুকিয়ে যাওয়া নরম ঠোঁট জোড়া জিব দিয়ে হালকা ভিজিয়ে নিল। তারপর ক্ষোভ ও অভিমানে বিড়বিড় করে বলে উঠল—
'অসভ্য লোক একটা! কী এমন অপরাধ হয়েছে আমার যে আমি দিহান ভাইয়ের সাথে জাস্ট একটু ডান্স করেছি বলে আমার সাথে এমন উদ্ধত আচরণ করল!'
খানিকটা দম নিয়ে রাগে মুখ ফুলিয়ে আবারও বলল—
'নিষ্ঠুর লোক একটা! আপনার সাথে আমি আর কোনোদিন কথাই বলব না, হুহ!'
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই সুমাইরা অলস পায়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াল।
হাতে টুথব্রাশ নিয়ে আপনমনে দাঁত ব্রাশ করতে করতে সে বাইরের সকালটা দেখছিল।
একপর্যায়ে মুখের জমে থাকা ফেনাগুলো বারান্দার গ্রিলের ফাঁক গলে নিচে ফেলে দিল সে। তারপর আবারও মনোযোগ দিয়ে দাঁত মাজতে শুরু করল।
ঠিক এমন সময় হঠাৎ তার কানে কেমন যেন একটা অদ্ভুত শব্দ আসল—চটাস!
সুমাইরা ভ্রু কুঁচকে আওয়াজের উৎস খুঁজতে আশেপাশে ভালো করে তাকিয়ে দেখল। কিন্তু না, আশেপাশে তেমন কিছুই চোখে পড়ল না।
সে আবারও কৌতূহলী হয়ে চারপাশটা দেখে এবার সোজা নিচের দিকে তাকাল। আর নিচে তাকাতেই সুমাইরার চক্ষু চড়কগাছ! তার কলিজা যেন এক নিমেষে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল।
নিচে একদম অগ্নিশর্মা হয়ে রাগী দৃষ্টিতে সোজা সুমাইরার মুখের পানে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে অধীর। তার চাউনি দেখে মনে হচ্ছে— সে এখনই জ্যান্ত চিবিয়ে গিলে ফেলবে সুমাইরাকে!
অবশ্য অধীরের এমন রাগ হওয়াটাই স্বাভাবিক; সুমাইরা যে মারাত্মক এক কাণ্ড বাঁধিয়ে বসেছে!
এইমাত্র সে বারান্দা থেকে দাঁত ব্রাশ করে যে থুতু নিচে ফেলেছিল, তা নিখুঁত নিশানা বজায় রেখে সোজা গিয়ে পড়েছে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অধীরের মাথার ওপর!
সুমাইরা এখন কী করবে ভেবে পেল না; ভয়ে তার হাত-পা অবশ হয়ে কাঁপতে লাগল।
অধীর নিজের মাথাটা এক হাত দিয়ে মুছতে মুছতে প্রচণ্ড রেগে উচ্চৈঃস্বরে ওপরের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল—
"তোকে একবার যদি আমি হাতের কাছে পাই, এমন শিক্ষা দেবো যে তুই তোর নিজের নাম পর্যন্ত ভুলে যাবি!"
অধীরের এমন গর্জন শুনে সুমাইরা মনে মনে মুখ বাঁকিয়ে বলতে লাগল—
‘হুহ! নিষ্ঠুর লোক একটা! আমি আপনার কাছে যাওয়া তো দূরের কথা, ভুলেও আপনার ছায়াও মাড়াব না!’
তবে মনে মনে যতই রাগ দেখাক না কেন, বাইরে নিজের পিঠ বাঁচাতে সে মুখে অত্যন্ত ভয়ার্ত ও নরম সুরে বলে উঠল—
"সরি... একদম সরি অধীর ভাইয়া! আমি আসলে নিচে আপনাকে খেয়াল করিনি।"
অধীর তার কথায় একটুও শান্ত না হয়ে আরও তীক্ষ্ণ ও গম্ভীর স্বরে ধমকে উঠে বলল—
"তোর রুমে কি কোনো ওয়াশরুম নেই? তুই যে সাতসকালে এখানে এসে দাঁত ব্রাশ করে নিচে থুথু ফেলাচ্ছিস! অদ্ভুত মেয়ে একটা, তোকে শুধু হাতের কাছে পাচ্ছি না একবার!"
অধীরের সেই রাগী চাউনি আর ধমক খেয়ে সুমাইরা দ্রুত বারান্দা থেকে ঘরের ভেতরে পালিয়ে আত্মরক্ষা করল।
সকালে ডাইনিং টেবিলে অধীরের সেই রাগী চাউনি আর ধমকের ভয় পেরিয়ে কোনোমতে ব্রেকফাস্ট শেষ করল সুমাইরা। তারপর সে আর কিয়ারা দ্রুত স্কুলে চলে এসেছে।
আজ ক্লাসে তাদের সাথে একদম নতুন একটি মেয়ের পরিচয় হলো। কথাবার্তা বলতে বলতে অল্প সময়ের মধ্যেই তারা তিনজন একে অপরের বেশ ভালো বন্ধু হয়ে উঠল।
মেয়েটির নাম নাইমা।
নাইমা সুমাইরার মায়াবী রূপের দিকে কিছুক্ষণ মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল। তারপর হুট করেই তার কাছে গিয়ে বলল—
"আচ্ছা সুমু, তুই এত সুন্দর কেন বলতো? মাশাল্লাহ! কারো যেন নজর না লাগে তোর ওপর। ট্রাস্ট মি সুমাইরা, আমি যদি কোনো ছেলে হতাম, তবে এই মুহূর্তেই একটা লাল গোলাপ ফুল দিয়ে তোকে প্রপোজ করে বসতাম!"
নাইমা একটু চোখ টিপে কিয়ারার দিকে তাকাল। তারপর আবারও রসিকতা করে বলল—
"তবে ছেলে না হলে কী হবে, আমার একটা হ্যান্ডসাম বড় ভাই আছে। আমি তোকে নিজের ভাবি বানিয়ে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাব। কী বলিস কিয়ারা, আমার আইডিয়াটা একদম জোস না?"
নাইমার এই চটপটে কথা শুনে পাশ থেকে সাগর আর চুপ করে থাকতে পারল না। সে মুখ কুঁচকে নাক সিটকে বলে উঠল—
"আরে ধুর! তোর ওই ভোলাভালা সোজা-সরল ভাইকে ভুলেও এই মেয়ের হাতে তুলে তুলে দিস না বোন! তোর ভাইয়ের পুরো জীবনটাই এক নিমেষে অশান্তিতে ভরিয়ে ছাড়বে এই মেয়ে।"
সাগরের মুখে এমন কথা শুনে সুমাইরা রাগে একেবারে অগ্নিশর্মা হয়ে তার দিকে জবাব দিতে এগিয়ে গেল।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই সাগরের পিঠে সজোরে একটা কড়া থাপ্পড় বসিয়ে দিল সে। তারপর রেগে চিৎকার করে বলল—
"ওর ভাইয়ের জীবন অতিষ্ঠ করার আগে আমি আজ তোর জীবন অতিষ্ঠ করব, পাজি ছেলে কোথাকার!"
সুমাইরার হাতের আচমকা সেই শক্ত ধাক্কা খেয়ে সাগর ব্যথায় কঁকিয়ে উঠে পিঠ চাপড়াতে লাগল। সে বেশ খ্যাঁকিয়ে উঠে চিৎকার করে বলল—
"ওমাগো! আমার পিঠটা বোধহয় একেবারেই ভেঙে ফেলল রে! দজ্জাল একটা, আমি তো ভুল কিছু বলিনি, একদম ঠিকই বলেছি। যে ছেলের কপালে তুই বউ হয়ে জুটবি, তার তো জীবন নষ্ট হবেই, সাথে সাথে তার আশেপাশের নিরপরাধ মানুষের জীবনও কয়লা হয়ে যাবে!"
সাগরের এই মুখে মুখে তর্ক সুমাইরার রাগ আরও বাড়িয়ে দিল। ব্যস, সুমাইরা আর সাগর মিলে স্কুলের বারান্দায় পুরোদস্তুর ঝগড়া বাঁধিয়ে দিল।
তাদের এই এলাহী কাণ্ড দেখে কিয়ারা কপালে হাত দিয়ে মাঝখানে এসে চেঁচিয়ে বলল—
"আরে থাম তোরা! স্কুল বারান্দার মধ্যে সকাল সকাল এই কী শুরু করেছিস বলতো!"
সুমাইরা আর সাগরের এই কাণ্ডের মাঝেই হঠাৎ করে ক্লাসে শিক্ষক এসে হাজির হলেন।
স্যারকে ঢুকতে দেখে ক্লাসের সব হইচই এক নিমেষে থেমে গেল। সবাই দ্রুত যার যার জায়গায় গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে একযোগে সালাম দিল।
স্যার মৃদু হেসে সবার সালামের উত্তর নিলেন এবং স্নেহের সুরে জিজ্ঞেস করলেন—
"তা বাচ্চারা, তোমরা সবাই কেমন আছো?"
স্যারের মুখে ‘বাচ্চারা’ ডাক শুনে কিয়ারা আর চুপ থাকতে পারল না। সে একটু হেসে বেশ পাকা মানুষের মতো বলল—
"স্যার, আমরা এখন আর মোটেও বাচ্চা নই; আমরা কিন্তু এখন বেশ বড় হয়ে গিয়েছি!"
কিয়ারার এমন চটপটে উত্তর শুনে স্যার হো হো করে হেসে উঠলেন। তারপর পরম মমতায় বললেন—
"তোমরা বয়সে বা বুদ্ধিতে যতই বড় হও না কেন, আমাদের শিক্ষকদের কাছে তোমরা সব সময় সেই ছোট বাচ্চাই থাকবে।"
এরপর স্যার একটু ধীর ও গম্ভীর গলায় ক্লাসের উদ্দেশ্যে বললেন—
"এভরিওয়ান পে অ্যাটেনশন! আই উইল টেক রোল কল নাউ।"
স্যারের এই আদেশে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ক্লাসরুমে পিনপতন নীরবতা নেমে এল। সবাই যার যার রোল কলের দিকে মনোযোগী হলো ।
রোল কল শেষ করার পর স্যার ডায়েরিটি টেবিলের ওপর রাখলেন। তারপর ক্লাসের টপার অর্থাৎ সুমাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বেশ গর্বিত কণ্ঠে বললেন—
"সুমাইরা, তুমি হচ্ছো আমাদের স্কুলের সব থেকে মেধাবী ও নিয়মানুবর্তী স্টুডেন্ট। আমরা শিক্ষকেরা এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ তোমার কাছ থেকে অনেক বড় আশা রাখছি।"
স্যার খানিকটা দম নিয়ে পরম স্নেহে আবারও বললেন—
"আমরা বিশ্বাস করি, তুমি শুধু এসএসসি পরীক্ষায় খুব ভালো রেজাল্টই করবে না, বরং পুরো ঢাকা সিটিতে টপ করে আমাদের স্কুলের নাম উজ্জ্বল করবে। তাই এখন ক্লাস নাইন থেকেই নিজেকে একদম নিখুঁতভাবে প্রেপেয়ার করতে শুরু করো।"
স্যারের মুখ থেকে সবার সামনে এমন প্রশংসা ও বড় আশার কথা শুনে সুমাইরার চোখে-মুখে এক দৃঢ় প্রত্যয় ফুটে উঠল। সে অত্যন্ত বিনীত ও আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলল—
"জি অবশ্যই স্যার! স্কুলের সম্মান বজায় রাখতে আমি নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করব, ইনশাল্লাহ।"
সুমাইরার এমন দায়িত্বশীল উত্তর শুনে স্যার অত্যন্ত সন্তুষ্ট হলেন এবং নরম সুরে বলে উঠলেন—
"গুড! তোমার ওপর আমাদের পূর্ণ ভরসা আছে।"
আহনাফ অধীর চৌধুরী নিজের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে বসে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছে।
চারপাশের শান্ত পরিবেশের মাঝে হঠাৎ করেই ল্যাপটপের পাশে রাখা অধীরের ফোনটি তীব্র শব্দে ভাইব্রেট করে উঠল। কাজের মাঝেই অধীর নিজের ডান হাত বাড়িয়ে ফোনটা হাতে তুলে নিল।
phones স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই দেখল— তার চঞ্চল বন্ধু জিসান কল দিয়েছে।
অসময়ে জিসানের ফোন দেখে অধীর কিছুটা বিরক্তিতে মুখ দিয়ে ‘চ’ সূচক একটা শব্দ উচ্চারণ করল। তারপর ফোনটা রিসিভ করে কানের কাছে ধরল।
ওপাশ থেকে জিসান তার চিরচেনা সুরে বলে উঠল—
"কিরে দোস্ত! ফোনটা ধরতে তোর এতক্ষণ লাগে?"
অধীর তার স্বভাবসুলভ গম্ভীর গলায় ঠান্ডাভাবে উত্তর দিল—
"কী বলবি জলদি বল, নাহলে আমি ফোন রাখছি। আমার হাতে অনেক কাজ।"
জিসান এবার নিজের গলার স্বর কিছুটা সিরিয়াস করে বলল—
"শোন, আলীকদম-থানচি রুটের ‘ডিমপাহাড়ে’ আজ রাত ৯টায় একটা বাইক রাইডিং রেস আছে। তুই কি আসবি এই রাইডিংয়ে অংশগ্রহণ করতে? ‘Riders Squad - RS’ তোকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে!"
চ্যালেঞ্জের কথা শুনে অধীর কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তার চোখের কোণায় এক অদ্ভুত আভা ফুটে উঠল। সে অত্যন্ত গম্ভীর ও আত্মবিশ্বাসী গলায় ইংরেজিতে জবাব দিল—
"Okay, I'm coming. Tell everyone to get ready."
বলেই সে আর কোনো কথা না বাড়িয়ে, ওপাশ থেকে জিসানের উত্তরের অপেক্ষা না করেই কলটা কেটে দিল।
আসলে আলীকদম-থানচি রুটে অবস্থিত এই ‘ডিমপাহাড়’ হচ্ছে পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানের এক অনবদ্য বিস্ময়।
এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত এবং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বাইক রাইডিং রোড হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত।
এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় মনে হয় যেন মেঘের ওপর দিয়ে কোনো এক রূপকথার দেশে ভ্রমণ করা হচ্ছে। তবে এর সৌন্দর্য যতটা মোহনীয়, এর পথ ঠিক ততটাই বিপজ্জনক।
পাহাড়ি আঁকাবাঁকা, খাড়া ঢালু ও তীব্র উঁচু-নিচু রাস্তা হওয়ার কারণে এই পাহাড়ি পথটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সামান্য অসতর্কতায় এখানে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো বিপত্তি।
তাই এই পথটি শুধুমাত্র অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ রাইডারদের জন্যই সেরা অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে গণ্য করা হয়; আর অধীর ঠিক তেমনই একজন টপ-লেভেল রাইডার।
জিসান হচ্ছে অধীরের বেস্ট ফ্রেন্ড এবং বাংলাদেশের সাংবিধানিক, কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে একজন অত্যন্ত নামকরা লয়ার।
কোর্ট-কাছারির গম্ভীর পরিবেশ সামলানোর পাশাপাশি জিসানের রক্তেও মিশে আছে বাইক রাইডিংয়ের এক পাগলামি।
সন্ধ্যার পরপরই অফিস থেকে চৌধুরী ভিলায় ফিরে অধীর আর দেরি করল না; সে রাতের সেই দুর্ধর্ষ বাইক রাইডিং রেসে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে লাগল।
নিজের সুঠাম দেহে সে প্রথমে জড়িয়ে নিল একটি কুচকুচে ব্ল্যাক শার্ট, আর তার ওপর চাপিয়ে নিল প্রিমিয়াম কোয়ালিটির ব্লাক লেদার জ্যাকেট।
নিচে ডার্ক জিন্স পরে, সে দুই হাতে গলিয়ে নিল মজবুত প্রোটেক্টিভ রাইডিং গ্লাভ্স— যা যেকোনো তীব্র ঘর্ষণ বা আকস্মিক পরিস্থিতি থেকে হাতকে সম্পূর্ণ রক্ষা করবে।
এরপর পায়ে হাই-অ্যাঙ্কেল রাইডিং বুট গলিয়ে, নিজের নিরাপত্তার জন্য হাঁটুতে নি-গার্ড এবং কনুইতে এলবো-গার্ড শক্ত করে বেঁধে নিল সে।
পুরোপুরি রাইডার গেটআপে নিজেকে মুড়ে, এক হাতে কার্বন ফাইবার হেলমেটটি নিয়ে অধীর অত্যন্ত রাজকীয় ভঙ্গিতে বাড়ির গ্যারেজে গিয়ে ঢুকল।
আজকের এই রেসের জন্য অধীর গ্যারেজ থেকে বের করল তার সবচেয়ে প্রিয় এবং অমূল্য রত্ন— ‘ডুকাটি সুপারলেগেরা ভি৪’ (Ducati Superleggera V4)।
এটি কোনো সাধারণ বাইক নয়, বরং এটি একটি অত্যন্ত প্রিমিয়াম এবং অত্যন্ত সীমিত সংস্করণের (লিমিটেড এডিশন) সুপারবাইক। বাংলাদেশে এই বাইকটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৮৪ লাখ টাকার কাছাকাছি (৮৩,৯৯,৯১২ টাকা)।
সম্পূর্ণ কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি এই দানবীয় বাইকটির ওজন যেমন হালকা, এর গতি ঠিক ততটাই বজ্রগতির।
এতে রয়েছে শক্তিশালী ১০০০ সিসি-র ওপরের একটি হাই-পারফরম্যান্স ইঞ্জিন, যা চোখের পলকে যেকোনো রেসট্র্যাক কাঁপিয়ে দিতে পারে।
শুধু তাই নয়, এটি বিশ্বের প্রথম বাইক যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্বন সিরামিক ডিস্ক ব্রেক ব্যবহার করা হয়েছে।
এমন এক অনন্য ও দুর্ধর্ষ ডুকাটি সুপারলেগেরা ভি৪-এর ওপর সওয়ার হয়ে, বান্দরবানের ডিমপাহাড়ে রাইডার স্কোয়াডের চ্যালেঞ্জ চুরমার করে দিতে গর্জে ওঠার জন্য প্রস্তুত হলো অধীর।
তবে চৌধুরী ভিলার গ্যারেজে থাকা এই দুর্ধর্ষ ডুকাটিই অধীরের একমাত্র বাহন নয়।
তার ব্যক্তিগত সংগ্রহে এমন কিছু অবিশ্বাস্য বাইক আছে, যা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে।
তার কালেকশনের সবচেয়ে অমূল্য ও ক্ষ্যাপা দানবটি হলো— ‘নাইম্যান মার্কাস লিমিটেড এডিশন ফাইটার’
বিশ্ব বাজারে এই বাইকটির আকাশচুম্বী দাম প্রায় ১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১শ ১৭ কোটি টাকারও বেশি । ভারতীয় রুপিতে যা প্রায় ৯১ থেকে ৯৪ কোটি রুপি।
মূলত এর অভূতপূর্ব মেটাল বডি ডিজাইন, বডিতে খাঁটি টাইটানিয়াম ও কার্বন ফাইবারের এক্সক্লুসিভ ব্যবহার এবং অত্যন্ত সীমিত উৎপাদনের (লিমিটেড এডিশন) কারণে এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মোটরসাইকেলের তকমা পেয়েছে
চোখের পলকে ৩০০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার গতি স্পর্শ করতে পারা এই দানবীয় ফাইটারটি যেকোনো বাইক প্রেমীর কাছে এক চরম আরাধ্য বস্তু
সাধারণত বাংলাদেশে আইনি নিয়মানুযায়ী ১৬৫ সিসি-র বেশি ইঞ্জিন ক্ষমতার মোটরসাইকেল সাধারণ মানুষের জন্য আমদানির অনুমতি নেই।
অথচ অধীরের এই রাজকীয় ফাইটারটিতে রয়েছে প্রায় ২,০০০ সিসি-র এক অবিশ্বাস্য শক্তিশালী ইঞ্জিন!
স্বভাবতই দেশের প্রচলিত সাধারণ আমদানির আওতায় এই বাইকটির রেজিস্ট্রেশন করা কিংবা ঢাকার রাস্তায় চালানো আইনত অসম্ভব। কিন্তু অধীরের দুনিয়াটা অন্য নিয়মে চলে।
পর্দার আড়ালে থাকা হাতেগোনা কয়েকজন ক্ষমতাধর ডার্ক সিন্ডিকেট বা গোপন দলের সদস্যরা মূলত আন্ডারগ্রাউন্ডে এই ধরনের আল্ট্রা-প্রিমিয়াম হাই-সিসি বাইক রাইডিং করে থাকে; আর আহনাফ অধীর চৌধুরী তাদেরই একজন অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য।
এই গোপন দলগুলো ক্ষমতার দিক থেকে এতটাই শক্তিশালী আর ধরাছোঁয়ার বাইরে যে— বড় বড় বাঘা বাঘা আইনজীবীদের হাতের নাগালে তো দূরে থাক, দেশের প্রচলিত আইন বা প্রশাসনের কেউই এই বিশেষ দলগুলোর ছায়াও মাড়ানোর সাহস পায় না।
আজ পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড রেসিং ট্র্যাকে অধীরকে বাইক রাইডিংয়ে কেউ হারাতে পারেনি, সে অপরাজিত।
এর আগেও সে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ ও বিপজ্জনক রুট ‘পান-আমেরিকান হাইওয়েতে’ একসময় বুক কাঁপানো বাইক রাইডিং করেছে সে।
বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার পেরু উপকূলের তীব্র চ্যালেঞ্জিং রুট— কালামা থেকে পুন্টা দে বোম্বন পর্যন্ত বিস্তৃত সেই রুটে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য অধীর এক কিংবদন্তির নাম।
আন্তর্জাতিক রাইডারদের মাঝেও বিপজ্জনক গতি আর নিখুঁত কন্ট্রোলিংয়ের জন্য অধীরের এক বিশাল জনপ্রিয়তা রয়েছে।
আজ রাতের ডিমপাহাড়ের রেসটি তাই অধীরের জন্য মামুলি এক খেলা মাত্র, যেখানে সে নিজের অপরাজেয় রাজত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে তীব্র গতিতে ছুটে চলেছে।
"রাহান ভাইয়া... ও রাহান ভাইয়া, কোথায় তুমি?"
কিয়ারা আর সুমাইরা একনাগাড়ে ডেকেই চলেছে রাহানকে।
চৌধুরী ভিলার বিশাল করিডোর কাঁপিয়ে তারা সেই কখন থেকে তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে, অথচ রাহানের কোনো পাত্তাই নেই।
ওদিকে তাদের সমস্ত ডাক উপেক্ষা করে রাহান তখন নিজের রুমের দরজা ভেতর থেকে শক্ত করে আটকে এক এলাহী কাণ্ড বাঁধিয়ে বসেছে!
রুমের ভেতরে সে স্পিকারে ফুল ভলিউমে লাতিন বিটের একটি হিপহপ গান ছেড়ে দিয়েছে—
"an..vem , vem , vem chego no bailao, son da nave cravao,as mine no paredao, entao paga a visao,Vai pega, pega, pega, pega, pega, pega no estilo cachorrao..."
গানের এমন উরাধুরা আর পাগলাটে তালের সাথে তাল মিলিয়ে রাহান খাটের ওপর, ফ্লোরে একা একাই তুমুল নাচানাচি করছে।
তার ড্যান্সের অদ্ভুত সব স্টেপ দেখলে যে কেউ নির্ঘাত হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়বে।
তবে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাহানের এমন পাগলাটে ড্যান্সের পেছনে কিন্তু এক বিশাল আর ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে।
আজ সকালেই তার জীবনের ঠিক ‘১৩ নাম্বার’ গার্লফ্রেন্ডের সাথে অফিশিয়ালি ব্রেকআপ হয়েছে!
সাধারণত মানুষের ব্রেকআপ হলে মন খারাপ করে বিষণ্ণ হয়ে বসে থাকে, কিন্তু রাহানের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক তার উল্টো।
এই ১৩ নম্বর বিচ্ছেদের পর তার মনের ওপর থেকে যেন এক বিশাল বোঝা নেমে গেছে।
সে রীতিমতো দুই কান ধরে পরম নিষ্ঠার সাথে প্রতিজ্ঞা করেছে— এই জীবনে সে আর কখনো কোনো মেয়ের মায়ায় বা মিষ্টি কথার পাল্লায় পড়বে না!
মেয়েদের এই মায়াবী দুনিয়া থেকে চিরতরে ইস্তফা দেওয়ার এই পরম আনন্দেই সে নিজের বন্ধ রুমে এভাবে উরাধুরা নাচানাচি করে ব্রেকআপ সেলিব্রেট করছে।
এদিকে সুমাইরা আর কিয়ারা অনেকক্ষণ দরজায় ধাক্কাধাক্কি আর ডাকাডাকি করেও রাহানের ঘরের ভেতর থেকে কোনো রেসপন্স পেল না।
কোনো উপায় না দেখে তারা অগত্যা হতাশ হয়ে পা বাড়াল রাইসার রুমের দিকে।
আসলে তারা কিন্তু এমনি এমনি রাহানকে খুঁজছিল না; তারা মূলত এসেছিল রাহানের কাছ থেকে এক জম্পেশ ‘ব্রেকআপ ট্রিট’ আদায় করতে!
রাইসা ওদের দুজনকে খালি হাতে মুখ চুন করে ফিরে আসতে দেখে মুচকি হাসল। সে বেশ রসিকতার সুরে বলল—
"কী রে? পেলি না তো রাহান ভাইয়ার কোনো রেসপন্স? আমি তো আগেই জানতাম!"
সুমাইরা আর কিয়ারা একদম অসহায় আর করুণ মুখ করে মাথা নেড়ে জানাল যে— না, ঘরের ভেতর গানের এত আওয়াজ যে তাদের ডাক রাহানের কান পর্যন্ত পৌঁছায়ইনি।
রাইসা এবার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, কমার্স বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করছে।
আজ কলেজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে সে রাস্তার মোড়ে রাহান আর ‘মিম’ নামের একটা মেয়েকে তুমুল ঝগড়া করতে দেখেছিল।
তাদের সেই ঝগড়ার ধরন দেখেই রাইসা অনায়াসে বুঝে ফেলেছিল যে— আজই তাদের সম্পর্কের অফিশিয়াল ব্রেকআপ ঘটতে চলেছে।
আর বাড়ি ফিরে এই গরম গরম খবরটি সে সুমাইরা আর কিয়ারাকে বলতেই, দুজনে মিলে মহা আনন্দে লাফিয়ে উঠেছিল।
রাহান ভাইয়ের পকেট খালি করার এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া না করার উদ্দেশ্যে তারা তক্ষুনি ব্রেকআপ ট্রিট নিতে ছুটে গিয়েছিল।
অন্যদিকে রাহান এবার অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র, অত্যন্ত কঠিন একটি সাবজেক্ট ‘ফিজিক্স’ (পদার্থবিজ্ঞান) নিয়ে পড়াশোনা করছে।
সে সারাদিন যতই টো টো করে ঘুরে বেড়াক আর নানারকম বাঁদরামি করুক না কেন, লেখাপড়ার লাইনে সে কিন্তু যথেষ্ট মেধাবী এবং প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন।
আর প্রেমের কথা বলতে গেলে— সে আসলে ওই রকম সিরিয়াসলি বা মন থেকে কারোর সাথে কখনো সম্পর্কে জড়ায়নি।
মূলত চৌধুরী বাড়ির সব ছেলে-মেয়েরাই জন্মগতভাবে দেখতে মাশাল্লাহ অত্যন্ত মায়াবী ও আকর্ষণীয় রূপের অধিকারী।
রাহান নিজেও যথেষ্ট হ্যান্ডসাম, স্টাইলিশ ও চটপটে হওয়ার কারণে মেয়েরাই আগ বাড়িয়ে সবসময় তার সাথে কথা বলতে আসে।
আর রাহানও তো কম নয়; সে তার স্বভাবসুলভ একটু চোখের ইশারা আর মিষ্টি হেসে কথা বললেই মেয়েরা একেবারে ক্লিন বোল্ড হয়ে তার প্রেমে মজে যায়!
আর এভাবেই একের পর এক মেয়েরা তার জীবনে আসে আর যায়, যার সর্বশেষ তেরোতম শিকার হলো আজকের এই মিম।
অধীরকে চ্যালেঞ্জ করলে যে এই অবস্থাই হবে—তা তো আগেই জানা ছিল!"
হাততালি দিয়ে বেশ হাস্যকর ও বিদ্রূপের ভঙ্গিতে বলে উঠল জিসান।
আসলে আজ রাতে বান্দরবানের ডিমপাহাড়ে অধীর আর 'Riders Squad - RS' যখন সেই রোমাঞ্চকর বাইক রাইডিং রেসে নেমেছিল, তখন রেসের শেষ মুহূর্তে Riders Squad-এর লিডার অধীরকে অন্যায়ভাবে হারানোর জন্য এক নোংরা ফন্দি আঁটে।
সে চলন্ত বাইক থেকেই পেছন থেকে অধীরকে পরাস্ত করার চেষ্টা করে।
যদিও অধীরের তাতে বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয়নি; কারণ আন্ডারগ্রাউন্ড রেসের ট্র্যাকে এমন কুৎসিত প্রতারণা যে হতে পারে, তা সে নিজের প্রখর বুদ্ধি দিয়ে আগেই আঁচ করতে পেরেছিল।
Riders Squad-এর সেই রাইডার যখন চলন্ত বাইক থেকেই অধীরকে গতি রোধ করে ট্র্যাক থেকে ছিটকে ফেলার জন্য এক নোংরা ও বিপজ্জনক চাল চালল, ঠিক সেই মুহূর্তেই অধীর নিজের ড্যাকাটি বাইকের গতি এক ঝটকায় ফুল করে দিল।
বজ্রগতিতে অধীরের বাইকটি সামনে এগিয়ে যাওয়ায় শূন্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রতিপক্ষের বাইকটি সজোরে গিয়ে ধাক্কা খেল রাস্তার পাশের স্টিলের গার্ডরেলের ওপর।
ধাতব গার্ডরেলের সাথে তীব্র সংঘর্ষে রাইডার নিজের বাইকের তাল সামলাতে না পেরে ছিটকে পাহাড়ি রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ল। মারাত্মক গতিতে পড়ার কারণে সে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারাত্মকভাবে জখম হলো।
প্রতিপক্ষের এমন করুণ ও বোকা বনে যাওয়ার দশা দেখেই জিসান মূলত রসিকতা করে কথাটি বলে উঠেছিল।
জিসানের উপহাস শুনে Riders Squad রাগে অন্ধ হয়ে তার দলের ছেলেদের একযোগে প্রতিরোধের নির্দেশ দেয়।
ছেলেদের তেড়ে আসতে দেখে, এক বিকট শব্দে সবাই চমকে ওঠে এবং তখনই অধীর নিজের কড়া ব্যক্তিত্ব ও দুর্দান্ত ডিফেন্স টেকনিক দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে সামনের ছেলেটিকে ধুলিসাৎ করে ফেলে।
অধীরের সেই অবিশ্বাস্য রূপ দেখে প্রতিপক্ষের পুরো ট্র্যাকে এক হিমশীতল নীরবতা নেমে আসে।
এমন পরিস্থিতিতে, জিসান Riders Squad-এর দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ সুরে বলে—
"কী রে স্কোয়াড? তুই কি আদেও জানিস যে তুই আজ কার পেছনে লাগতে এসেছিস? ইনি হলেন লাভেলিয়া দ্বীপের ক্রিসেনজো শহরের সেই আন্ডারগ্রাউন্ড ডার্ক সি.ন্ডি.কে.টের প্রধান, স্বয়ং মৃত্যুও যাকে সামনাসামনি দেখতে ভয় পায়!"
জিসানের এই কথায় ভয়ে সেই দলের বাকি সদস্যদের হাত থেকে লোহার চেইন, ভারী লাঠিগুলো প্রায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
জিসানের মুখে লাভেলিয়া দ্বীপের ক্রিসেনজো ডার্ক সিন্ডিকেট প্রধানের নাম শোনামাত্রই Riders Squad-এর শরীরের সমস্ত চেতনা যেন এক নিমেষে হিম হয়ে গেল। তার পুরো শরীর তখন তীব্র আতঙ্কে থরথর করে কাঁপতে লাগল।
কারণ আন্ডারগ্রাউন্ডের সেই গো.পন জগতের প্রতিটি মানুষই খুব ভালো করে জানে – লাভেলিয়া দ্বীপের ক্রিসেনজো শহরটিকে বিশ্বজুড়ে সেই বিশেষ দলগুলোর প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য করা হয়।
'দ্য শ্যাডো সিন্ডিকেট' মূলত এই ক্রিসেনজো শহরকে কেন্দ্র করেই তাদের সমস্ত বিশ্বব্যাপী কালো সাম্রাজ্য ও চাঞ্চল্যকর কার্যক্রম পরিচালনা করত।"
আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে অধীর, দিহান ও জিসান যখন ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে পড়তে গিয়েছিল, ঠিক তখনই ভাগ্যের এক অদ্ভুত চক্রে তারা এই অন্ধকার ও ভয়ানক ডার্ক সি.ন্ডি.কে.টের সাথে জড়িয়ে পড়ে।
বিশেষ করে অধীর ঠান্ডা মাথায় যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা, অসাধারণ রণকৌশল এবং নিখুঁত নিশানায় হা.তি.য়া.র চালনায় এতটাই অবিশ্বাস্য রকমের পারদর্শী ছিল যে—স্বয়ং লাভেলিয়া দ্বীপের ক্রিসেনজো তৎকালীন প্রধান মুগ্ধ হয়ে নিজের জীবনের শেষ সময়ে অধীরকে এই বিশাল ও শক্তিশালী গোপন দলের পরবর্তী লিডার হিসেবে সিলেক্ট করে যান।
"তবে সেই কঠিন ও কড়া সিংহাসনে বসার পর বেশ কিছুকাল দাপটের সাথে অ.ন্ধ.কার সাম্রাজ্য কাঁপিয়েছে অধীর।" জিসান বা দিহান—কারো অজানা নয় যে অধীরই এই গো.পন জগতের অঘোষিত সম্রাট।
কিন্তু ইদানীং অধীর তার সেই বিশেষ সাম্রাজ্যের ক্ষমতা ও জৌলুসকে ছাপিয়ে আগের চেয়েও বহুগুণ বেশি ভয়াবহ, গম্ভীর আর ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে।
সে নিজেকে এমন এক রহস্যের আড়ালে লুকিয়ে ফেলেছে, যা জিসানের মতো বিশ্বস্ত মানুষের পক্ষেও ভেদ করা অসম্ভব।
অধীর যে শুধু সেই ডার্ক সি.ন্ডি.কেটের প্রধান হিসেবেই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং নেপথ্যে থেকে আরও দু.র্ধর্ষ আর গোপন কোনো খেলা খেলছে—তার পেছনের আসল কারণটি আজ পর্যন্ত এই পৃথিবীর বুকে অন্য কোনো দ্বিতীয় ব্যক্তি জানে না।
অধীর তার জীবনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও কলিজার বন্ধু দিহান কিংবা জিসানকেও আজ অবধি তার এই রূপান্তরের মূল রহস্যটি বিন্দুমাত্র টের পেতে দেয়নি ।
তাই অধীরের এই অতিরিক্ত আড়ালে চলে যাওয়া এবং এক অদম্য ও কঠোর শাসকের মতো গম্ভীর হয়ে ওঠার কারণ জানতে যখনই দিহান বা জিসান প্রচণ্ড কৌতুহলী হয়েছে— তখনই অধীর তাদের সব প্রশ্নের পিঠে নিজের সেই চিরচেনা গম্ভীর ও রহস্যময় কণ্ঠে শুধু একটি কথাই আওড়েছে—
"সময় হলে তোরা সব জানতে পারবি।"
.
.
.
.
"চলবে ইনশাআল্লাহ ।"
"শুধু আন্ডারগ্রাউন্ডের সম্রাটই নয়, সে এক অদৃশ্য শ্যাডো রুলার! কিন্তু কেন সে দিন দিন এতটা রহস্যময় হয়ে উঠছে? সেই রহস্য খোদ তার ছায়াও জানে না..."
রহস্য, রোমাঞ্চ আর ভালোবাসায় ঘেরা এই উপন্যাসের পরবর্তী সব পর্ব সবার আগে পড়তে এখনই পেজটি ফলো (Follow) করে রাখুন! আপনার একটি ফলো এবং শেয়ার নতুন এই লেখিকাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক বড় অনুপ্রেরণা দেবে।
#শেষ_রাতের_চন্দ্রিমা