#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ০১
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
ভুঁইয়া মঞ্জিল আলোকিত করে রাখে তাদের পাঁচজন চোখের মনি। দুই রাজপুত্র আর তিন রাজকন্যা। তবে পাঁচজনের মধ্যে পরিবারের সবচেয়ে আদরের সন্তান হলো তুবা। সে পরিবারের সবচাইতে ছোটো সদস্য। ছোটো হওয়ার সুবাদে প্রত্যেকের আদরে বেশি ভাগ বসায়। এই যেমন বাড়ির বড় কর্তা জামাল সাহেব, নিজের দুই ছেলে মেয়ের চাইতে তুবাকে বেশি আদর করেন। তার মতে, তুবা নাকি ওনার মায়ের চেহারা পেয়েছে। ওকে দেখলেই মা মা অনুভুতি হয়। তাই ভালোবাসা, আদর, স্নেহ তুলনামূলক বেশি প্রকাশ পায়। তুবা জন্ম থেকেই বাবা মায়ের চেয়ে বেশি বড় চাচার কাছেই থেকেছে।
তবে ছোট্ট তুবা শুরু থেকেই ছিলো কৌশিক ভাইয়ের বিশাল বড় ভক্ত। কৌশিক ভাই ছাড়া সে যেনো কিছুই বোঝে না। বড় ভাই কি না! এজন্য সবসময় কৌশিকের পেছনে ঘুরঘুর করতো। হাতে পুতুল নিয়ে ছুটে যেতো কৌশিকের কাছে খেলতে। ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়ে দিতো কৌশিকের ঘরেই। মাঝে মাঝে বায়না ধরতো কৌশিক ভাইয়ের সাথে ঘুমানোর। গলা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করতো কৌশিক ভাইয়ের সাথে ঘুমাবে বলে। বাচ্চা মেয়েটার জেদের কাছে হার মেনে তাওহীদ সাহেব রাতেও মেয়েকে রেখে আসতেন জামাল সাহেবের ঘরে। এভাবে ধীরে ধীরে তুবা যেনো কৌশিকের অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু শুরুর দিকে সম্পর্কটা ছিলো একদম স্বাভাবিক। আর পাঁচটা কাজিনদের মতো ওদের সম্পর্কও ছিলো নরমাল।
তবে সর্বনাশের সুত্রপাত হয়েছিল সেদিন। জামাল সাহেবের দূর সম্পর্কের আত্মীয় তার মেয়ের বিয়েতে পুরো ভুঁইয়া পরিবারকে দাওয়াত করেছিলেন। সেইদিন তুবা প্রথম শাড়ি পড়ার বায়না ধরেছিল। অনেক জোড়াজুড়ি করে ছোট্ট দেহে একখানা লাল রঙের শাড়িতে জড়িয়েছিল। এরপর ছুটে গিয়েছিল কৌশিকের কাছে। প্রচন্ড উত্তেজনা নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো,
"আমাকে কেমন লাগছে কৌশিক ভাই?"
কৌশিক শার্টের বোতাম লাগাতে গিয়ে একপলক তাকিয়েছিল শুধু। এই তাকানোই কৌশিকের জীবনে সবচেয়ে বড় সর্বনাশ ডেকে আনলো। শাড়ি পরিহিত দশ বছর বয়সী তুবা নাড়িয়ে দিয়েছিল কৌশিকের কিশোর মন। তুবার দেহের গড়নে পরিপূর্ণ নারীর ছাপ তখনও আসেনি। তবুও থমকে গিয়েছিল কৌশিকের চোখ জোড়া। আটকে গিয়েছিল শ্বাস প্রশ্বাস।
কৌশিক তখন সদ্য আঠারোতে পা দিয়েছে। যৌবনের শুরু। চোখের মনিতে তখন রঙধনুর সাত রং। চেহারায় নব্য পুরুষত্বের ছোঁয়া। চোখে মুখে অল্প স্বল্প গাম্ভীর্য আসছে মাত্র। মনটা তখন ছিলো পাখিদের মতো স্বাধীন। উড়ে উড়ে বিভিন্ন ডালে বসার সময়। কিন্তু কৌশিক তখন আটকে গিয়েছিল তুবা নামক একটিমাত্র ডালে। হাসফাস করতে করতে ছেলেটার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার দশা। শার্টের বোতাম লাগানো হাত দুটোও থরথরিয়ে কাঁপছে। নতুন অনুভুতি ভেঙেচুড়ে গুড়িয়ে দিচ্ছে কৌশিকের কিশোর মন। এই নতুন অনুভুতি থেকে পালাতে সেদিন প্রথম নজর লুকিয়েছিল কৌশিক। শুধু ছোট্ট করে বলেছিল,
"খুব বাজে লাগছে। একদম পঁচা। আর কোনোদিন শাড়ি পড়বি না।"
ব্যাস। তুবার ছোট্ট মনটা ভেঙে দিতে এতটুকুই যথেষ্ট ছিলো। কৌশিকের থেকে নেগেটিভ মন্তব্য পেয়ে তুবার সে কি কান্না। কাঁদতে কাঁদতে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছিল মেয়েটা। কেউ মেয়েটার কান্না থামাতে পারলো না। শেষমেশ কৌশিক তুবাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার পর তুবা কান্না থামিয়েছিল।
এভাবে সময় গড়ালো। দিন এগিয়ে গেলো। ধীরে ধীরে সবাই বড় হতে লাগলো। সেই সাথে গাঢ় হলো দুজন মানুষের মনের অনুভুতি। তুবা কৌশিকের প্রতি আরও বেশি টান অনুভব করতে লাগলো। শুরুটা ভাইবোন হিসেবে হলেও এখন সিচুয়েশনে বদলে গেছে। তুবার কৌশিককে ভালো লাগে। কৌশিকের সান্নিধ্য তুবার সবচেয়ে পছন্দের। কৌশিক আশেপাশে থাকলে তুবা অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করে। চারিদিকে খুশি ছড়িয়ে পড়ে। তুবা সর্বক্ষন কৌশিককে লুকিয়ে লুকিযে দেখে। কখনো খেতে বসে, তো কখনো পড়তে বসে। কৌশিকের হাঁটাচলা, কথা বলা, খাবার খাওয়া এমনকি পানি খাওয়ার স্টাইলও তুবাকে মুগ্ধ করে। এই মুগ্ধতা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। কমার কোনো নাম নিচ্ছে না। সেই অনুভুতি গুলোও দিনদিন গাঢ় হচ্ছে। তুবা বেশ বুঝতে পারছে, তার ভালো লাগা দিনদিন ভালোবাসায় রুপ নিচ্ছে। কিন্তু কৌশিক ভাইয়ের মনে কি আছে সেটা বুঝতে তুবা অক্ষম। আর এই অক্ষমতাই তুবার মনের সবচেয়ে বড় শত্রু।
পাঁচতলা বিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলার ক্যান্টিনে বসে এসব হাবিজাবি ভাবছিলাম তুবা। একহাত গালে রেখে অন্য হাতে বার্গার। তুবাকে খাওয়া বাদ দিয়ে আপন মনে ভাবতে দেখে হালকা ধাক্কা দিলো রিয়া। বার্গরের একটা বাইট চিবাতে চিবাতে বলল,
"খাওয়া বাদ দিয়ে কি ভাবছিস রে?"
তুবা তৎক্ষনাৎ নড়েচড়ে উঠলো। সামনে তাকাতেই দেখতে পেলো ছয় জোড়া শকুনের চোখ তুবার দিকে তাকিয়ে আছে। অফ পিরিয়ডে তুবা, রিয়া, নীরব আর রিমি ক্যান্টিনে এসেছে কিছু খেতে। তুবা, নীরব, রিমি বর্তমানে দশম শ্রেণিতে পড়ে। রিয়া এবার ইন্টার পরিক্ষা দেবে। কৌশিক আর মৌমিতা এবার মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছে। তুবাদের স্কুল আর রিয়ার কলেজ একসাথেই। মাঝখানে বড় একটা মাঠ। মাঠের একপাশে হাইস্কুল আর অপর পাশে কলেজ। আর মেইন রোডের অপজিটে কৌশিক মৌমিতার ভার্সিটি।
তুবা সবার নজর উপেক্ষা করে নড়েচড়ে বসলো। হাতের বার্গারে একটা কামর বসিয়ে অরুচি নিয়ে চিবোতে চিবোতে বলল,
"আজকাল কেমন জানি কিছুই ভালো লাগে না। অদ্ভুত কিছু অনুভুতি অনুভব হয় আপু।"
তুবার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকালো রিয়া। কৌতুহল নিয়ে প্রশ্ন করলো,
"কেনো কেনো? কি হয়েছে?"
তুবা মুখ খুললো কিছু বলতে। কিন্তু পরপরই থেমে গেলো। মাথায় হাজারটা চিন্তা জেঁকে বসলো। মনের নব্য অনুভুতি কি সবার সামনে প্রকাশ করা ঠিক হবে? সবাইকে বলা কি উচিত হবে যে, তুবা কৌশিক ভাইকে পছন্দ করে। কৌশিক ভাইকে নিয়ে ওর মনে নতুন নতুন কিছু অনুভুতি সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই এই অনুভুতি তুবাকে জ্বালাতন করছে। বলাটা কি ঠিক হবে? এসব শুনে ওরা আবার রাগ করবে না তো? বলবো কি বলবো না এই দন্দের মাঝেই সেখানে আগমন ঘটলো রাইমার। সে আবার রিয়ার ক্লাসমেট। একসাথেই দুজন পরিক্ষা দেবে এবার। রাইমা এসেই সোজা তুবার পাশের চেয়ারে ধপ করে বসলো। দুই হাত ডলতে ডলতে উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বললো,
"কৌশিক ভাইকে এক নজর দেখে আসলাম। উফফ! কালো শার্টে যা লাগছে না। কাঁচাই চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। এই লোকটা আমাকে হার্টঅ্যাটাক করিয়ে মেরেই ছাড়বো।"
আচমকা রাইমার মুখে কৌশিককে নামে এধরনের কথা শুনে বুকের ভেতর ধ্বক করে উঠলো তুবার। বুকটা কেমন জানি মুচড়ে উঠলো। মুহুর্তেই চোখের কোটরে এক সমুদ্র নোনাপানি জমে গেলো। শুধু পলক ফেলার অপেক্ষা মাত্র। রাইমা আগেপিছে না তাকিয়ে আপন মনে বলে চলেছে,
"আজ আমি কৌশিক ভাইকে প্রপোজ করেই ছাড়বো তোমরা দেখে নিও। আর দেরি করতে পারবো না বাবা। পরে যদি বেশি দেরি হয়ে যায়?"
পাশ থেকে রিয়া উত্তর দিলো,
"তুমি প্রপোজ করলেই কি ভাইয়া মেনে নেবে?"
"না মেনে যাবে কোথায়? আমি কি অসুন্দর নাকি?"
"না অসুন্দর না। তবে মেবি ভাইয়ার টেস্টের সাথেও যাবে না। না মানে, আমাদের পরিবারে আবার আত্মীয় মধ্যে বিয়ে, সম্পর্ক নিষেধ। শুধু শুধু ঝামেলা হবে না?"
রিয়ার কথা শুনে রাইমা মুখ ভেঙচালো। এক বুক আত্নবিশ্বাস নিয়ে বলল,
"এতো নিষেধাজ্ঞা দেখে লাভ নেই। প্রেম ভালোবাসা কি হিসাব কষে হয় নাকি? ব্যাস হয়ে যায়। আমারও হয়ে গেছে। কৌশিক ভাইয়েরও হয়ে যাবে।"
"দেখো! আবার প্রেম নিবেদন করতে গিয়ে থাপ্পড় টাপ্পড় খেয়ে এসো না। আমার ভাই তো। আমি জানি। তার আবার হুটহাট হাত চলতে পারে।"
তুবা আর সেখানে বসে থাকতে পারলো না। চোখ ফেটে কান্না আসছে। বুকে জন্ম নেয়া নতুন অনুভুতি গুলো একে একে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। এই কষ্ট সহ্য করার মতো নয়। তুবা তাড়াহুড়ো করে ব্যাগটা হাতে নিয়ে সোজা বেরিয়ে গেলো ক্যান্টিন থেকে। পেছন থেকে রিয়া, রিমি ডেকে উঠলো। কিন্তু তুবা সেই ডাকে সাড়া দিলো না।
-
-
ছুটির পর সবাই মিলে গেটের বাইরে এসে দাঁড়িয়েছে। তখন তুবা ক্যান্টিন থেকে বের হওয়ার পর আর কারোর সাথে দেখা হয়নি। নীরব, রিমি পুরো ক্লাসে খুঁজেও তুবাকে পায়নি। এখন ছুটি হয়ে গেছে। ওকে না পেলে সবাই বাড়ি ফিরবে কিভাবে?
ওদের ভাবনার মাঝেই সেখানে উপস্থিত হলো মৌমিতা আর কৌশিক। কাছাকাছি আসতেই কৌশিকের নজর সবার আগে খুঁজলো তুবাকে। কিন্তু একি! তুবা কোথায়? কৌশিক গম্ভীর কন্ঠে প্রশ্ন করলো,
"তুবা কোথায়? ও ক্লাস থেকে বের হয়নি এখনও?"
নীরব, রিয়া একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। এরপর রিয়া ভয়ে ভয়ে জবাব দিলো,
"ভাইয়া! অফ পিরিয়ডে আমরা সবাই ক্যান্টিনে বসে খাচ্ছিলাম। তখন তুবা ক্যান্টিন থেকে বেরিয়ে এসেছে। কিন্তু ক্লাসে যায়নি। আমরা ওকে খুঁজে পাচ্ছি না। ফোনটাও বন্ধ ওর।"
"খুঁজে পাচ্ছি না" বাক্যটা কৌশিকের কানে বজ্রপাতের ন্যায়ে শোনালো। বুকটা আচমকা মুচড়ে উঠলো। হৃদপিণ্ডের গতি বাড়লো। অজানা ভয় কৌশিকের মনকে গ্রাস করে নিলো। ছটফট করে উঠলো হৃদয়। পাশ থেকে মৌমিতা ধমকে উঠলো দুই ভাই বোনকে,
"বাদর এক একটা। তুবাকে পাওয়া যাচ্ছে না সেটা ছুটির পর বলছিস? আগে কেনো জানাসনি? পুরো ক্যাম্পাসে খুঁজেছিস?"
নীরব, রিয়া মাথা উপর নিচ নেড়ে হ্যা বোঝালো। মৌমিতার মন তবুও মানলো না। সে কৌশিককে উদ্দেশ্য করে বলল,
"ভাই চলতো। সবাই চারদিকে আবার খুঁজে দেখি। আমার মনে হয় ক্যাম্পাসের ভেতরেই আছে তুবা। ছুটির আগেই বাইরে বের হওয়া সম্ভব নয়।"
মৌমিতার কথা কৌশিকের কানে গেলো কি না কে জানে? কৌশিক আপন মনে উদ্ভ্রান্তের মতো দৌড় লাগালো স্কুলের মাঠের দিকে। বাকি তিন ভাই বোনও তিনদিকে ছড়িয়ে পড়লো।
কৌশিক পাগলের মতো পুরো স্কুল বিল্ডিং খুঁজলো। মাঠ পেরিয়ে রিয়ার কলেজের বিল্ডিংও খুঁজলো। কিন্তু তুবা কোথাও নেই। উদ্ভ্রান্তের মতো দৌড়াতে দৌড়াতে কৌশিকের নজর আটকে গেলো কলেজের পেছন দিকের পুরনো বাগানে। সারি সারি মেহগনি গাছের গোড়ায় উল্টো মুখে বসে আছে কেউ। পেছন থেকে শুধুমাত্র কোমর সমান লম্বা চুলগুলো দেখা যাচ্ছে। কৌশিকের চিনতে বিন্দু মাত্র বেগ পেতে হলো না। অত্যাধিক রাগে ফুঁসে উঠলো কৌশিক। চোয়াল জোড়া শক্ত হয়ে গেলো। মনে মনে ঠিক করলো, আজ এই মেয়েটার দাঁত দুই তিনটা তুলেই ছাড়বে। ভাবনা মোতাবেক রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে এগিয়ে গেলো কৌশিক। কাছাকাছি গিয়ে যেই না জোরে শোরে ধমক দেবে আচমকা তুবার কান্নার শব্দ শুনে থেমে গেলো। মেয়েটা দুই হাতে মুখ চেপে ধরে করুন স্বরে কাঁদছে। কান্নার সুর এতোই বেদনাদায়ক ছিলো যে কৌশিকের পা জোড়া টলে উঠলো। বুকের পাঁজর ভেঙে আসলো। কৌশিক দুর্বলের ন্যায়ে তুবার পাশে গিয়ে বসলো। পাশে কারোর উপস্থিতি অনুভব করে কান্না থামিয়ে দিলো তুবা। পাশে না ফিরেও বেশ বুঝতে পারলো কে হতে পারে। তাই ফিরে না তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়েই রইল। কৌশিক নিজের ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে তুবার দিকে এগিয়ে দিলো। কন্ঠস্বর বেজায় ঠান্ডা,
"কি হয়েছে? এভাবে বসে কাঁদছিস কেনো? কেউ কিছু বলেছে? একবার নামটা বল। জাস্ট পুঁতে রেখে দেবো তাকে।"
তুবা জবাব দিলো না। পানির বোতলও নিলো না। কিন্তু হুট করেই একটা অদ্ভুত কান্ড ঘটিয়ে ফেললো। হঠাৎ ঘুরেই কৌশিককে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। তুবার মাথা গিয়ে ঠেকলো কৌশিকের বুকে। আচমকা তুবার ছোঁয়ায় কৌশিকের হৃৎস্পন্দনের গতি বেড়ে গেলো। বুক কাঁপতে শুরু করলো। বুকের ভেতর খুব কষ্টে দমিয়ে রাখা অনুভূতি গুলো নড়েচড়ে উঠলো।
তুবা কাঁদছে। আবারও কাঁদছে। কেঁদে কেটে কৌশিকের বুকের পাশের শার্ট ভিজিয়ে দিচ্ছে। কন্ঠস্বর ব্যথাতুর,
"আমার সীমার বাইরে গিয়ে বড় একটা কথা বলতে চাই কৌশিক ভাই। আপনি কি রাগ করবেন?"
"কি কথা?"
"আগে বলুন আপনি রাগ করবেন না। আমার থেকে দূরত্বও বাড়াবেন না। কথা দিন।"
কৌশিকের মনে অজানা ভয় জেঁকে বসলো। এ কি অদ্ভুত কথাবার্তা? তুবার থেকে দূরে যাওয়ার কথা তো কৌশিক ভাবতেও পারে না। পরিবারের কথা ভেবে বহু কষ্টে নিজের অনুভুতিগুলো ছেলেটা লুকিয়ে রাখে। কিন্তু তাই বলে দূরে চলে যাবে? কিভাবে? ও কি দম আটকে মরে যাবে না? মনের মধ্যে হাজারও দন্দ নিয়ে তুবার মাথায় হাত রাখলো কৌশিক। আশ্বাস দিয়ে বলল,
"রাগও করবো না। দূরেও যাবো না। এবার পেটের ভেতর যা আছে সব উগ্রে দে।"
তুবা থামলো। সময় নিয়ে কৌশিকের বুক মাথা মাথা তুলল। কৌশিকের মুখোমুখি হয়ে বসে চোখে চোখ রাখলো। মনে শত শত সংকোচ নিয়ে মিনমিন করে বললো,
"যদি বলি আমি আপনাকে ভালোবাসি! তাহলে কি আমার পাপ হবে কৌশিক ভাই?"
চলবে?