#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ০২
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
"যদি বলি আমি আপনাকে ভালোবাসি। তাহলে আমি আমার পাপ হবে কৌশিক ভাই?"
বোকার মতো প্রশ্নটা করে আশাভরা নয়নে তাকালো তুবা। কৌশিক তুবার দিকেই তাকিয়ে ছিলো। দুজনের চোখাচোখি হওয়ার এক পর্যায়ে কৌশিক মুখ ঘুরিয়ে নিলো। তুবার অগোচরে ঠোঁট কামড়ে হাসলো। সেই হাসির স্থায়িত্ব ছিলো কয়েক সেকেন্ড। এরপর আবারও ঘাড় ঘুরিয়ে তুবার দিকে তাকালো। কাঠকাঠ কন্ঠে বললো,
"পাপ তো হবেই। শুধু পাপ নয়, মহাপাপ।"
"কেনো?"
এই কেনোর জবাব দিলো না কৌশিক। তুবার প্রশ্ন সম্পুর্ন উপেক্ষা করে উঠে দাঁড়ালো। তুবার একটা হাত আলতো করে ধরে বলল,
"বাড়ি চল।"
তুবা কিছু বলতে চাইলো। কিন্তু পরক্ষণেই মুখটা বন্ধ করে নিলো। এক আকাশ মন খারাপ নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। মাথা নিচু করে কৌশিকের সাথে পা মেলালো। বুকের ভেতর ধিকিধিকি করে জ্বলছে তুবার। কৌশিকের মন পড়তে আবারও ব্যর্থ হওয়ায় বুকের জ্বালা বেড়ে গেছে। নিজের আকাশ কুসুম ভাবনা নিয়ে চলতে থাকা তুবা যদি একবার পাশে ফিরে তাকাতো। তাহলে দেখতে পেতো একজন পাগল প্রেমিকের মুগ্ধ চাহনি। উল্টো পাল্টা চিন্তার দরুন হারিয়ে ফেললো সেই চাহনি দেখার সুযোগ।
-
-
বাড়ি ফেরার পর থেকেই তুবার মন ভালো নেই। কোনো এক অজানা কারণে মনের মধ্যে খচখচ করছে। ভারাক্রান্ত মন নিয়ে পুরো বাড়ি একবার চক্কর কাটলো তুবা। কিন্তু কিছুই ভালো লাগছে না। একবার জামাল সাহেবের কামরাতেও উঁকিঝুঁকি দিয়েছে। ভদ্রলোক সিরিয়াস ভঙ্গিতে বসে কাজ করছেন। এজন্য আর তাকে জ্বালানোর সাহস হলো না তুবার। একরাশ বিরক্তি নিয়ে বসার ঘরে চলে আসলো। সোফায় দুই পা গুটিয়ে বসে টিভি অন করলো। রিমোট দিয়ে চ্যালেন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একটা মুভি চালু করলো। নিজের সম্পুর্ন মনোযোগ ঢেলে দিলো টিভিতে। মিনিট দশকে যেতেই পাশে কারোর উপস্থিতি অনুভব করলো তুবা। টিভি থেকে নজর সরিয়ে পাশ ফিরে চাইলো। সঙ্গে সঙ্গে চোখাচোখি হলো রাইমার সাথে। তুবাকে নিজের দিকে তাকাতে দেখে একগাল হাসলো রাইমা।
এমনিতেই তুবার মনে শান্তি নেই। কৌশিক এতোদিন ধরে ওকে ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেছে। তার ওপর আজকে তুবা নিজে থেকে ভালোবাসার কথা প্রকাশ করার পরও কৌশিক নির্বকার। তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। সরাসরি হা ও বলে। না ও বলেনি। এই দোটানার মাঝে আরেক জঞ্জাল হলো রাইমা। সর্বোক্ষন কৌশিকের সাথে চুইংগামের মতো চিপকে থাকে। কাঁঠালের আঠার চেয়েও ভয়ানক এই মেয়ে। আর এই কারণেই তুবা ওকে পছন্দ করে না। শুধু রাইমা কেনো? কৌশিকের আশেপাশে ঘুরঘুর করা কোনো মেয়েকেই তুবা পছন্দ করে না। কিন্তু অপছন্দ হলেও আত্মীয়তার খাতিরে মুখে জোর করে হাসি ফুটালো তুবা। অনিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন করল,
"আপনি কেনো এসেছেন আপু? মানে কখন এসেছেন?"
রাইমা কথা বলার সুযোগ পেলো যেনো। একটু চেপে তুবার কাছাকাছি বসলো। হাসিমুখে বলল,
"মাত্রই এসেছি। শোনো না তুবা। কৌশিক ভাই কোথায়?"
রাইমার মুখে কৌশিককে নাম শুনে মুখটা তেঁতো হয়ে উঠলো তুবার। বিরক্তি আরও একধাপ বেড়ে গেলো। প্রচন্ড অনীহা নিয়ে তুবা কর্কশ গলায় বলল,
"জানি না।"
"জানো না মানে? বাসায় নেই?"
"নাহ্!"
"কোথায় গেছে?"
তুবার মন সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে বলে উঠলো "জাহান্নামে গেছে। তুই যাবি? আয় তোকেও পাঠিয়ে দেই।" কিন্তু মুখে সেগুলো একদম প্রকাশ করলো না। বরং ছোট্ট করে জবাব দিলো,
"জানি না।"
তুবার এমন গা ছাড়া জবাব শুনে বিরক্ত হলো রাইমা। ঠিক সেই মুহুর্তে বসার ঘরে আগমন ঘটলো কনকচাঁপা বেগমের। তিনি বাচ্চাদের জন্য সন্ধ্যার নাস্তা বানাচ্ছিলেন। গরম গরম বড়া ভাজা টেবিলে রাখতে রাখতে বললেন,
"তোর কৌশিক ভাই বিকালে ফুটবল নিয়ে বেরিয়েছে রাইমা।"
কনকচাঁপা বেগমকে দেখে হুড়মুড়িয়ে উঠে গেলো রাইমা। ঝড়ের গতিতে গিয়ে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো তাকে। কনকচাঁপা বেগম হাসলেন। রাইমার মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে দিলেন। আদুরে কন্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
"এসেই ভাইয়ের খোঁজ করা কেনো?"
"একটু দরকার ছিলো ফুপি।"
"তাহলে বোস। সন্ধ্যা হয়ে এলো বলে। কৌশিক যে কোনো মুহুর্তে চলে আসবে।"
রাইমা ঠোঁট ছড়িয়ে হাসলো। হেঁসে কনকচাঁপা বেগমের দিকে একটা টিফিনবক্স এগিয়ে দিলো। খুশিতে গদগদ হয়ে বলল,
"আম্মু পাঠিয়েছে তোমাদের জন্য।"
কনকচাঁপা বেগম হাসিমুখে বক্সটা নিজের হাতে নিলেন। রাইমার কপালে চুমু খেয়ে বললেন নাস্তা করে যেতে। রাইমা মাথা দুলিয়ে সম্মতি জানালো।
তুবার মনোযোগ টিভি থেকে বহু আগেই সরে গেছে। ওর সি আইডির চোখ দুটো রাইমা আর কনকচাঁপা বেগমের দিকেই স্থির। দুই ফুপু ভাইঝির মিষ্টি আলাপ দেখে রাগে গা জ্বলে গেলো তুবার। দাঁতে দাঁত চেপে সবটা হজম করে চুপচাপ বসে রইলো। রাইমা পুনরায় এসে তুবার গা ঘেঁষে বসলো। কিছুটা চাপা কন্ঠে ফিসফিস করে বলল,
"একটু সাহায্য করবে তুবা?"
তুবার চোখ দুটো তখন টিভির দিকে ছিলো। যদিও মুভিতে তার বিন্দুমাত্র মনোযোগ নেই। মনের মধ্যে তো আবারও সেই উল্টো পাল্টা চিন্তা ভাবনা ভর করেছে। কিন্তু ভাবটা এমন ধরে আছে যেনো টিভি দেখতে না পারলে তুবা মরেই যাবে। এদিকে প্রশ্ন করে জবাব না পেয়ে বিরক্ত হলো রাইমা। রিমোটটা নিয়ে ঠাস করে টিভি বন্ধ করে দিলো। তুবার নজর এবার রাইমার দিকে ঘুরলো।
"কি চাই আপু?"
"বললাম তো সাহায্য চাই।"
"আমি আপনার ছোটো। আমি আপনাকে কিভাবে সাহায্য করবো?"
"তুমিই পারবে করতে।"
"আচ্ছা বলুন। কি সাহায্য চাই।"
ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল তুবা। রাইমা আরও একটু চেপে বসলো। আশেপাশে একবার সতর্ক নজর বুলিয়ে তুবার হাতে একটা কাগজ গুঁজে দিলো। ফিসফিস করে বলল,
"এটা কৌশিক ভাইকে দিবে কেমন?"
"কি এটা?"
"সেটা তোমার না জানলেও চলবে। শুধু এটা দিয়ে বলবে রাইমা আপু দিয়েছে। তবে খবরদার! তুমি কিন্তু ভুলেও ভাজ খুলবে না। এসব তোমার মতো বাচ্চাদের পড়া নিষেধ।"
তুবার ইচ্ছে করলো বিরোধীতা করতে। কিন্তু মনটা সায় দিলো না। এই কাগজে কি আছে পড়ার জন্য মনটা আকুপাকু করে উঠলো। তাই শুধুমাত্র নিজে পড়ার উদ্দেশ্যেই রাজি হয়ে গেলো তুবা।
রাইমা সেখানে ঘন্টাখানেক সময় ছিলো। কৌশিককে বাড়ি ফিরতে না দেখে শেষমেশ অধৈর্য্য হয়ে ফিরে গেলো। তুবার হাতে মুঠোয় তখনও সেই কাগজটা। সুযোগ পেতেই দৌড়ে চলে গেলো নিজের ঘরে। দরজা আটকে কাগজের ভাজ খুলে মেলে ধরলো। সঙ্গে সঙ্গে অশ্রু কণার আগমনে চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে এলো তুবার। রাইমা ওই কাগজে গোটা গোটা শব্দে প্রেম নিবেদন করেছে। বড়সড় করে লিখে রেখেছে "আই লাভ ইউ কৌশিক ভাই"। এই লাইনটা তুবার মনে ব্যথার পাহাড় জাগিয়ে তুলল যেনো। তুবা হাসফাস করে উঠলো। কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হচ্ছে। হৃদপিণ্ড টিপটপ আওয়াজে বাজছে। এই অসয্য পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সোজা বাথরুমে চলে গেলো তুবা। বাথটাবে ডুবে রইলো প্রায় ঘন্টা খানের। শরীর যখন পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে কাঁপুনি ধরে গেলো তখন তুবা পানি থেকে উঠলো। ক্লান্ত দেহটা বিছানায় আছড়ে ফেললো অনিহা নিয়ে।
-
-
রাত তখন আটটা। কৌশিক সবে মাত্র বাড়ি ফিরেছে। বিকালে ফুটবল খেলতে বের হলেও খেলা শেষে কোথাও একটা গিয়েছিল। এজন্য ফিরতে ফিরতে এতো রাত। বাড়ির সকলে একে একে ড্রয়িংরুমে উপস্থিত হচ্ছে রাতের ডিনার করার জন্য। কৌশিক আর সেখানে না দাঁড়িয়ে সোজা নিজের ঘরে চলে গেলে। মিনিট পাঁচেক সময় লাগিয়ে ঝটপট গোসল সেরে নিলো। একটা ঢিলেঢালা টিশার্ট আর ট্রাউজার পড়ে নিচে নেমে এলো। ততক্ষণে সবাই নিজেদের মতো একে একে খাওয়ার জন্য বসে পড়েছে। কৌশিক দ্রুতপায়ে এসে নিজের চেয়ারে বসলো। এক হাতে মাথার পেছনের চুল ঝাড়তে ঝাড়তে পাশ ফিরে তাকালো। কিন্তু একি? তুবার চেয়ার খালি। ভ্রু কুঁচকে একবার পুরো টেবিলে নজর বুলালো কৌশিক। তুবা খেতে নিচে নামেনি। কৌশিক নিজে থেকে কিছু বলবে তার আগেই জামাল সাহেব প্রশ্ন করলেন,
" তুবা মামনি কোথায়? ও কেনো আমেনি?"
ময়না বেগম জবাব দিতে পারলেন না। কাজের চাপে মেয়েকে ডাকতে ভুলে গেছেন। তৎক্ষনাৎ রিয়া উঠে দাঁড়ালো। সবাইকে আশ্বাস দিয়ে বলল,
"আমি ডেকে আনছি ওকে।"
বলেই রিয়া দৌড়ে উপরে চলে গেলো। বাড়ির গিন্নিরা খাবার পরিবেশনে ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন। মিনিটের মাথায় রিয়া দৌড়ে নিচে নেমে এলো। দৌড়ের গতি দেখে মনে হচ্ছে কোনো প্রতিযোগীতায় নেমেছে। রিয়া সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে চিৎকার করে বলল,
"বড় চাচ্চু! ছোটো মা! তুবার গায়ে খুব জ্বর। ও কোনো কথাও বলছে না।"
আচমকা রিয়ার কথাগুলো বিস্ফোরণ হলো পুরো ঘরজুড়ে। কৌশিক চমকে পেছন ফিরে তাকালো। বুকটা হঠাৎ করেই মুচড়ে উঠলো। চোখে মুখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো। অন্য কেউ ওঠার আগেই কৌশিক দৌড়ে চলে গেলো তুবার ঘরে। পেছন পেছন বাকিরাও গেলো।
-
-
বাড়ির সবচেয়ে আদরের দুলালির জ্বর হয়েছে। এতে কি বাড়ির মানুষেরা ঠিক থাকতে পারে? না পারে না। কেউ ঠিক নেইও। এই যেমন মেয়ের চিন্তায় বাড়ির তিন কর্তা অস্থির হয়ে উঠেছেন। বাড়ির গিন্নিরা মেয়ের চারিদিকে বসে হাত পা মালিশ করে দিচ্ছেন। ভাই বোনেরা চিন্তিত মুখে তুবার মাথার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। আর তুবা? সে তো জ্বরে অচেতন হয়ে বিছানার চাদরের সাথে লেপ্টে আছে।
জামাল সাহেবের ঝাড়িতে দশ মিনিটের মাথায় বাড়িতে ডাক্তার এসে হাজির। পরিক্ষা নীরিক্ষা করে দেখলেন জ্বর উঠেছে একশত চার ডিগ্রি। ডাক্তার ওষুধপত্র লিখে দিয়ে বিদায় নিলেন। যাওয়ার আগে আশ্বাস দিয়ে গেলেন, "কিছুই হয়নি। ওষুধ খেলেই জ্বর ভালো হয়ে যাবে।" ডাক্তারের শান্তনা বাণীতে স্বস্তি ফিরে পেলো সবাই। রাতে তুবার কাছে থেকে গেলো মৌমিতা। বাকিরা সবাই যার যার ঘরে চলে গেলো।
-
-
রাত তখন প্রায় দুইটা ছুঁই ছুঁই। কৌশিক নিজের ঘরে পাগলের মতো ছটফট করছে। নির্ঘুম চোখ দুটো চিন্তায় বন্ধ হতে চাইছে না। পরিবারের উপস্থিতিতে তুবার কাছে যেতে পারেনি কৌশিক। এজন্য মনটা একটু বেশিই আনচান আনচান করছে। শেষ মেষ মনের সাথে দন্দে হেরে পা বাড়ালো তুবার ঘরের দিকে। কৌশিক জানে আজ মৌমিতা আছে তুবার সাথে। এই সুযোগটাই কাজে লাগালো। ধীরে সুস্থে তুবার ঘরের দড়জার সামনে এসে দুই আঙ্গুলের টোকায় ঠকঠক শব্দ করলো। মৌমিতা এতোক্ষণ ধরে জেগে থেকে মাত্রই একটু ঘুমিয়েছিল। এমন সময় দড়জায় টোকা পড়ায় উঠে দাঁড়ালো। হা করে হাই তুলতে তুলতে এসে দড়জা খুলে দিলো। দড়জার সামনে কৌশিককে দেখে নিমেষেই ঘুম উড়ে গেলো মৌমিতার। ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো,
"একি ভাই। তুই এতো রাতে?"
"একটু বাইরে যা তো মৌ।"
"কেনো?"
"দরকার আছে।"
মৌমিতা হকচকিয়ে গেলো। আচমকা মাঝরাতে তার ভাইয়ের অন্যায় আবদার শুনে মাথা ঘুরে উঠলো। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুমন্ত তুবার দিকে তাকালো। তারপর ঘুরে কৌশিকের দিকে তাকালো। নিজের ভাইয়ের ব্যাকুল চাহনির অর্থ বুঝতে বিন্দু মাত্র বেগ পেতে হলোনা মৌমিতার। এছাড়া জমজ হওয়ায় একে অপরের মনের ভাব খুব সহজেই বুঝে যায় ওরা। মৌমিতা বেশ বুঝতে পারছে তার ভাইয়ের চাওয়া। তুবার প্রতি কৌশিকের দুর্বলতাও মৌমিতা টের পায়। কিন্তু এর পরিণাম কি? পরিবার কি মেনে নেবে? মৌমিতা ভয় ভয় চাহনিতে তাকিয়ে বলল,
"তুই ভুল করছিস ভাই।"
"ঠিক ভুল আমি বুঝে নেবো। তুই বের হ।"
"বাবা জানতে পারলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।"
"তুই না বললে কেউ জানবে না।"
মৌমিতা হতাশ হলো। তর্ক করার ভাষা হারালো। হাল ছেড়ে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার আগে কড়া ভাষায় জানিয়ে দিলো,
"সময় মাত্র দশ মিনিট। ঠিক দশ মিনিটের মাথায় আমি ফিরে আসবো। যদি এর এক মিনিটও এদিক সেদিক হয় তাহলে আমি সবকিছু বাবাকে বলে দেবো।"
কড়া ভাষায় কথাগুলো বলেই সেখান থেকে চলে গেলো মৌমিতা। কৌশিক শক্ত চোখে ওর যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইলো। বিড়বিড় করে বলল,
"শাঁকচুন্নি! চুরায়েল একটা।"
নিচু স্বরে মৌমিতাকে দুই চারটা গা*লি দিয়ে দড়জাটা আস্তে করে আটকে দিলো কৌশিক। এরপর দ্রুতপায়ে চলে গেলো তুবার কাছে। জ্বরে অচেতন তুবা লেপ্টে আছে বিছানার সাথে। মুখটা এই কয়েক ঘন্টার ব্যবধানেই কেমন শুকিয়ে গেছে। কৌশিকের বুকটা মুচড়ে উঠলো। তুবার শুকনো মুখ ওর বুকে বিষাক্ত ছুরি বিঁধিয়ে দিলো। কৌশিক একটানে তুবাকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিলো। শক্ত করে চেপে ধরলো বুকের সাথে। তুবার আগুন উত্তাপ কপালে আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াল। সঙ্গে সঙ্গে জলন্ত আগুনে ঝলসে গেলো যেনো ঠোঁট জোড়া। কৌশিকের চোখ জ্বলে উঠলো। এক ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়লো চোখের কার্ণিশ বেয়ে।
কপালে পানির ছোঁয়া পেয়ে নড়েচড়ে উঠলো তুবা। ভারি চোখের পাতা টেনে ছাড়ালো। ঘোলাটে চোখে সুদর্শন কৌশিকের মুখটা জ্বলে উঠলো যেনো। মাথা সামনে ঝুঁকিয়ে রাখায় কৌশিকের বড়বড় সিল্কি চুলগুলো কপাল জুড়ে ছড়িয়ে আছে। তুবা অজ্ঞানে হাসলো। কন্ঠ স্বর মাতালের মতো শোনালো,
"আপনি এসে গেছেন কৌশিক ভাই?"
কৌশিক উপর নিচ মাথা ঝাকালো। তুবা ঠোঁট ছড়িয়ে হাসলো। দুর্বল দুই হাতে যথা সম্ভব শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো কৌশিককে। জ্বরের ঘোরে এলোমেলো কন্ঠে বললো,
"আপনাকে আর যেতে দেবো না কৌশিক ভাই। আমার সাথে বেঁধে রাখবো। ওই চিঠিও আপনাকে দেবো না। না না না।"
কৌশিক আবারও তুবার আগুন উত্তপ্ত কপালে ঠোঁট ছোঁয়াল। অত্যন্ত ধীর কন্ঠে ফিসফিস করে বলল,
"কোথাও যাবো না জান। তুই বললেও যাবো না। আমাকে বরং তোর কাছে বেঁধেই রাখ। কসম! সারাজীবন তোর কাছেই থাকবো। খুব কাছে।"
চলবে?