ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

১০ম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ১০

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

আজ তুবার মনটা বেজায় ফুরফুরে। তখন কাজি অফিস থেকে বাড়িতে ফেরার পর থেকেই তুবা হাওয়ায় উড়ছে। মনে যেনো নতুন করে রঙ লেগেছে। কুশন বুকে জড়িয়ে ধরে মিটিমিটি হাসছে। আবার কখনো হেঁসে সোফায় গড়াগড়ি খাচ্ছে। ওর এমন অদ্ভুত আচরণ দেখে চোখ পাকিয়ে তাকালেন ময়না বেগম। চোখের ইশারায় কাজ না হওয়ায় জোরে শোরে ধমকে উঠলেন,

"এই তোর কি হয়েছে রে? এমন অদ্ভুত ব্যবহার করছিস কেনো?"

মায়ের ধমক শুনে মিইয়ে গেলো তুবা। কিন্তু পরপরই দুই হাতে মুখ চেপে দৌড়ে দোতলায় নিজের ঘরে চলে গেলো। মেয়ের এমন সন্দেহজনক আচরণ দেখে অতিষ্ট ভঙ্গিতে মাথা দোলালেন ময়না বেগম। তার মায়ের মন কড়া ভাষায় বলছে কিছু একটা গন্ডগোল আছে। মেয়েটা তলে তলে নিশ্চয়ই কোনো শয়তানি করছে। বিড়বিড় করে মেয়েকে বকতে বকতে তিনি রান্নাঘরে ছুটলেন।

-

-

রাতে খাওয়ার টেবিলে একত্রিত হয়েছে সবাই। রাইমা আজ সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে গেছে। এতে করে তুবার ফুরফুরে মনে প্রজাপতির পাখা লেগেছে যেনো। রঙিন ডানা মেলে মনটা হাওয়ায় উড়ে বেড়াচ্ছে। বাড়িটা কি সুন্দর ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। বাতাসও মনে হচ্ছে ফ্রেশ, স্বচ্ছ, পরিস্কার। তুবা লাজুক চাহনিতে একবার আঁড়চোখে পাশে বসা কৌশিকের দিকে তাকালো। সঙ্গে সঙ্গে ভয়ে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো তুবার। কৌশিক ওর দিকে খেয়ে ফেলবো লুকে তাকিয়ে আছে। তুবা বুঝলো না হঠাৎ এই লোকটার গরম হওয়ার কারণ কি? একটু আগেও তো কত্তো রোমান্টিক রোমান্টিক কথা বলছিল। তুবা মুখ ভেঙচি কেটে খাওয়ায় মনোযোগ দিলো। খাওয়ার এক পর্যায়ে জামাল সাহেব কথা শুরু করলেন,

"ভাবছি একবার গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে আসবো। বাবা মা মারা যাওয়ার পর থেকে বহুদিন গ্রামে যাওয়া হয়না। মনটা বড্ড টানছে। তাছাড়া বাচ্চাদের পরিক্ষাও অনেক দেরি আছে। তোমরা সবাই সম্মতি দিলে খুব তাড়াতাড়ি একটা দিন ঠিক করবো। কি বলো সবাই?"

বেড়াতে যাওয়ার কথা শুনে চোখ দুটো চকচক করে উঠলো তুবার। কতোদিন পরিবারের সাথে কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। এবার বেশ মজা হবে। তুবার আগ্রহ আরও একধাপ বাড়িয়ে দিতে রিয়া বলে উঠলো,

"বড় চাচ্চু। গ্রামে প্রতিবছর এই সপ্তাহেই তো মেলা বসে তাই না?"

জামাল সাহেব মাথা নেড়ে সায় জানালেন। খেতে খেতে জবাব দিলেন,

"হুম! এটা বছরের সবচাইতে বড়ো মেলা। ছোটোবেলায় অনেক ঘুরেছি এই মেলায়। মেলায় গিয়ে মায়ের জন্য তালপাতার হাতপাখা, তাওহীদের জন্য তালপাতার বাঁশি, আর লুৎফরের জন্য মাটির ঘোড়া কিনে নিয়ে যেতাম। কত সুন্দর ছিলো সেই সোনালী দিন। হায়! সময়ের সাথে সাথে সেই সোনালী রঙ হারিয়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।"

বলতে বলতে অতীতে হারিয়ে গেলেন জামাল সাহেব। চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। আঁখি দুয়ারে ভেসে উঠলো ছোটোবেলার মিষ্টি মধুর স্মৃতি। জামাল সাহেবের দেখাদেখি বাড়ির ছোটো দুই কর্তাও আবেগী হয়ে পড়লেন। হয়তো অতীতের খানিক ঝলক তাদের চোখেও ভেসে উঠেছে। বাপ চাচাদের ছলছলে চোখ দেখে মন খারাপ হয়ে গেলো তুবার। হাসিখুশি মুখটা মুহুর্তেই চুপসে গেলো। ঠিক সেই মুহুর্তে এক পরিচিত কন্ঠের শীতল বাক্য সবার কানে বারি খেলো,

"তাহলে চলো! আরও একবার গ্রামে গিয়ে স্মৃতিচারণ করে আসো। এবার না হয় বাপ চাচাদের সাথে ছেলে মেয়েরাও সঙ্গ দেবে।"

সবাই এক জোটে তাকালো কৌশিকের দিকে। জামাল সাহেব ছেলের প্রস্তাবে খুশি হয়ে গেলেন। সবাই একে একে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। হুট করেই পুরো বাড়ি জুড়ে খুশি খুশি আমেজ ছড়িয়ে পড়লো।

-

-

খাওয়া শেষে সবাই নিজেদের ঘরে ব্যাগপত্র গোছাতে ব্যাস্ত। ঠিক করা হয়েছে আগামীকালই সবাই গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হবে। সেখানে সপ্তাহ খানেক থেকে আবারও শহরে ফিরে আসবে। বাড়ির কর্তারা নিজেদের ব্যাবসা সামলান বিধায় ছুটিছাটার কোনো ঝামেলা নেই। আর বাচ্চারা তো স্কুল কলেজ ফাঁকি দেয়ার ওস্তাদ।

রাত তখন প্রায় এগারোটা ছুঁই ছুঁই। এই মুহুর্তে বাড়ির সবাই যার যার নিজের ঘরে অবস্থান করছে। সুযোগ পেয়ে তুবা ঘর থেকে বেরিয়ে এলো। পা টিপে টিপে বারান্দা পার করে কৌশিকের ঘরের দড়জার সামনে এসে হাজির হলো। চাপানো দড়জাটা আলতো হাতে সামান্য খুলে ভেতরে মাথা ঢুকিয়ে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে চোয়াল ঝুলে পড়লো তুবার। কৌশিক মাত্রই গোসল সেরে বেরিয়েছে। তার আবার সকালে এবং রাতে দুই বেলা গোসল করার অভ্যাস। তুবা সরু চোখে কৌশিককে পর্যবেক্ষন করতে লাগলো। গলায় একটা তোয়ালে ঝোলানো। পড়নে শুধু হাঁটু পর্যন্ত তোয়ালে পেঁচানো। উপরিভাগ খালি। আচমকা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখে হকচকিয়ে গেলো তুবা। বোধ জ্ঞান খুইয়ে সেভাবেই দাঁড়িয়ে রইলো। সে ভেতরে ঢুকবে নাকি ঘরে ফিরে যাবে বুঝতে পারলো না। এমন সময় হুট করেই কৌশিক ভুতের মতো তুবার সামনে এসে দাঁড়ালো। এরপর একটানে তুবাকে ভেতরে টেনে নিয়ে ঠাস করে দরজা আটকে দিলো।

তুবা লজ্জা, ভয়, আতঙ্কে দেয়ালের দিকে সেটে গেলো একদম। কৌশিক এক কদম এগিয়ে এলো। তুবার একপাশের দেয়ালে হাত ঠেকিয়ে সামনে ঝুঁকলো। ধিমি কন্ঠে বললো,

"কিহ্? আমার ইজ্জতের দফারফা না করে শান্তি পাচ্ছিস না তাই না?"

তুবা নজর লুকাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। এলোমেলো দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,

"আম...আমি কি করলাম?"

"কি করলি মানে? যখন তখন সেখানে সেখানে উঁকি ঝুঁকি মারিস। এসবের প্রয়োজন কি? দেখতে চাইলে সরাসরি বল। আমি নিজ দায়িত্বে সব খুলে তোর সামনে হাজির হচ্ছি। অন্তত দড়জার আড়াল থেকে উঁকিঝুঁকি মেরে আমার ইজ্জতের ফালুদা বানাস না।"

তুবা আঁড়চোখে একবার কৌশিকের উন্মুক্ত বুকের দিকে তাকালো। ফর্সা বুকটা অল্পস্বল্প লোম দ্বারা আবৃত। তাতে পানির কণা মুক্তর মতো চিকচিক করছে। তুবার লোভ বেড়ে গেলো। প্রসস্ত বুকটা একবার ছুঁয়ে দিতে মন চাইলো। পরপরই নিজের বেহায়া মনকে জোরেশোরে ধমক দিয়ে শান্ত করলো তুবা। মুখে মিনমিন করে বলল,

"আমি তো শুধু আপনার লাগেজ গুছিয়ে দিতে এসেছিলাম।"

কৌশিক আরও একটু ঝুঁকল। তুবার মুখোমুখি হয়ে বাঁকা হেসে বলল,

"এখন থেকেই বউয়ের মতো বিহেব করা শুরু করে দিয়েছিস? আমি যদি বরের মতো বিহেব শুরু করি? তখন কি করবি?"

"কি করবো?"

"সেটাই তো আমার প্রশ্ন।"

তুবা মাথা নিচু করে নিলো। দুই পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে ফ্লোর খোটলাতে লাগলো। কৌশিক এক পলক তাকালো সেদিকে। এরপর শান্ত চোখে তাকিয়ে বলল,

"কি চাই?"

তুবা আঁড়চোখে একবার কৌশিকের দিকে তাকালো। কিন্তু সরাসরি চোখে চোখ রাখার সাহস হলো না। তুবা মাথা নিচু রেখেই বিড়বিড় করে আওড়ালো,

"এতো রাতে গোসল করেছেন কেনো?"

"তুই এটা জানতে উঁকি ঝুঁকি মারছিলি?"

তুবার ভেতরের সব গুলিয়ে গেলো। বোকার মতো একবার উপর নিচ মাথা নাড়লো। আবার ডানে বামে মাথা দোলালো। অর্থাৎ হা, না দুটোই বোঝাচ্ছে। তুবার এমন এলোমেলো অবস্থা দেখে হেঁসে ফেললো কৌশিক। মাথাটা সামান্য ঝুকিয়ে ফিসফিস করে বলল,

"অভ্যাস করছি। যাতে ভবিষ্যতে হুট করে জ্বর না চলে আসে।"

তুবার কান গরম হয়ে গেলো। দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরে চোখ বন্ধ করে আবার খুলল। কৌশিক ফের প্রশ্ন করলো,

"আর কোনো প্রশ্ন?"

"হঠাৎ বিয়ে কেনো করলেন? প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। উত্তর না জেনে শান্তি পাচ্ছি না।"

"শরীরের উছাল মাছাল বেড়ে গেছিলো। কন্ট্রোল করতে পারছিলাম না। তাই বিয়ে করে নিলাম। এবার ঠান্ডা হতে বাসর করা দরকার, করবি?"

কৌশিকের থেকে এমন সরাসরি উত্তর তুবা মোটেও আশা করেনি। আলতো হাতে ধাক্কা দিয়ে কৌশিককে সরিয়ে দিয়ে খাটের কাছে চলে গেলো তুবা। নিজ উদ্যোগে আলমারি খুলে এক এক করে কৌশিকের জামাকাপড় বের করতে লাগলো। কাজে মনোযোগ দিয়ে নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলো। নিজের পছন্দ মতো শার্ট প্যান্ট নিয়ে আলাদা ভাবে ভাজ করে রাখলো। কৌশিক দেয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে শুধু দেখে যাচ্ছে। দুই হাত আড়াআড়ি ভাবে বুকে ভাজ করা। তুবা ব্যাস্ত হাতে কৌশিকের জামাকাপড় ভাজ করে লাগেজে রাখতে রাখতে বলল,

"আর কি কি লাগবে আপনার? দেখিয়ে দেন, আমি সব গুছিয়ে দিচ্ছি।"

"আমার তো তোকে লাগবে।"

"সে তো পেয়েই গেছেন।"

আচমকা কৌশিক তুবার কোমর পেঁচিয়ে ধরলো। সঙ্গে সঙ্গে চলন্ত হাত থেমে গেলো তুবার। কৌশিক এক হাতে তুবার কোমর পেঁচিয়ে ধরে অন্য হাতে তুবার মুখের ওপর পড়ে থাকা চুলগুলো কানের পিছে গুঁজে দিলো। তুবার চোখে চোখ রেখে মোহনীয় কন্ঠে বললো,

"পেলাম আর কই? কাছে থেকেও দূরে।"

"সরুন তো, কাজ করতে দিন।"

"বেইমানী করলি তো বউ। নিয়ম অনুযায়ী আজ তোকে নিজের করে পাওয়ার কথা ছিলো। দিলি না। এটা কিন্তু অন্যায়।"

কৌশিকের এমন করুন স্বরে আকুতি শুনে ঠোঁট কামড়ে হাসলো তুবা। হুট করেই লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে পায়ের পাতায় ভর দিয়ে উঁচু হয়ে কৌশিকের কপালে আলতো করে ঠোঁটের ছোঁয়া বসিয়ে দিলো। এরপর দুই হাতে কৌশিকের ঘাড় জড়িয়ে ধরলো। একদম বউদের মতো অধিকার নিয়ে বলল,

"এবার হয়েছে বর মশাই?"

"খুবই কম।"

তুবা এবার কৌশিকের ডান গালে কষে চুমু খেলো। কৌশিক পানসে মুখে বলল,

"শান্তি পাচ্ছি না কেনো?"

তুবা এবার কৌশিকের বাম গালে শক্ত করে চুমু খেলো। কৌশিকের চোখে মুখে এখনও হতাশা। তুবা বুঝতে পারলো কৌশিক কিসের জন্য মুখ লটকিয়ে রেখেছে। বুঝতে পেরে ঠোঁট কামড়ে হাসলো। ডানে বামে একবার তাকিয়ে দেখলো কেউ আছে কি না। কিন্তু এই মাঝরাতে ওরা দুজন ছাড়া আশেপাশে আর কেউ নেই। তুবা সুযোগ পেয়ে গেলো। এক হাতে কৌশিকের ঘাড় জড়িয়ে ধরে ওষ্ঠে ওষ্ঠ মিলিয়ে দিলো। এক গাঢ় চুম্বন শেষে সরলো তুবা। কৌশিকের ঠোঁটের কোণে তখন প্রাপ্তির হাসি ঝুলে আছে। তুবা আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"এবার?"

"খুব খুশি।"

বলেই প্রসস্ত হাসলো কৌশিক। সেই সাথে তুবার ঠোঁটেও হাসি ছড়িয়ে পড়লো। তুবা আরও একটু শক্ত করে গলা জড়িয়ে ধরলো কৌশিকের। অনুনয় সুরে বললো,

"ঘুরতে নিয়ে যাবেন আমাকে?"

"কোথায় যেতে চাস?"

"উমম! গ্রামে যাওয়ার পর কোনো একদিন মাঝরাতে দুজন হাঁটতে বের হবো। আপনার হাত ধরে গ্রামের ফাঁকা মাঠের সবুজ ঘাসের উপর খালি পায়ে হাঁটবো। নিয়ে যাবেন তো?"

কৌশিক একটু ভাবনায় পড়ে গেলো। চিন্তিত স্বরে বললো,

"পুরো পরিবার সেখানে থাকবে তুবা। হয়তো একা বের হওয়ার সুযোগ হবে না।"

"সুযোগ আপনি তৈরি করে নেবেন।"

"যদি বাড়ির কারোর কাছে ধরা পড়ে যাই।"

"তাতে কি? আমি জানি আপনি সামলে নেবেন।"

নিজের প্রতি তুবার আকাশ সমান বিশ্বাস দেখে বুকের ভেতর প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়লো কৌশিকের। সে তুবার চিকন কোমর আরও একটু কাছে চেপে ধরলো। মৃদু কন্ঠে বললো,

"এতো বিশ্বাস?"

"বিশ্বাস না থাকলে কি আপনার এক বলাতে বিয়ে করে নিতাম? আপনাকে আমি নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করি। আর আমি জানি, আপনি আমাকে ঠিক প্রোটেক্ট করবেন।"

কৌশিক হাসলো। ধীরে ধীরে হাসি প্রসস্ত হলো। তুবাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো বুকে। বিড়বিড় করে আওড়ালো,

"আই লাভ ইউ জান।"

তুবা নিরুত্তর। চুপটি করে পড়ে রইলে কৌশিকের বুকে। ভিষণ শান্তি শান্তি লাগে এই বুকে মাথা রাখলে। মনে হয় দুনিয়ার সব চিন্তা লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেছে। চারিদিকে সুখেরা ডানা ঝাপটাতে থাকে।

ঠিক এমন সময় হুট করেই কৌশিকের ঘরের দড়জা খুলে ঢুকে পড়লো মৌমিতা। এবং ঢুকেই যেনো বিপদে পড়লো মেয়েটা। চোখের সামনে এমন অপ্রিতিকর ঘটনা দেখে দুই হাতে চোখ ঢেকে চেঁচিয়ে উঠলো মৌমিতা।

আচমকা মৃদু চিৎকার শুনে হকচকিয়ে গেলো তুবা। তড়িঘড়ি করে কৌশলের থেকে সরে দাঁড়ালো। দড়জার সামনে মৌমিতাকে দেখে লজ্জায় মাথা নিচু করে নিলো তুবা। তবে কৌশিক বেজায় বিরক্ত হলো। বিরক্তি প্রকাশ করতে হাত দিয়ে চুলগুলো পেছনে ঠেলে দিয়ে বলল,

"হাতির মতো পুরো বাড়ি দাপিয়ে বেড়াস কেনো? তোর জন্য শান্তিতে বউকে আদরও করতে পারবো না?"

মৌমিতা ফুঁসে উঠলো। নাক ফুলিয়ে জবাব দিলো,

"একদম আমাকে অপমান করবি না ভাই। আমি কিন্তু তোর বড়। আমাকে সম্মান দিয়ে কথা বলবি।"

"দেবো না সম্মান। কি করব?"

"আমাকে রাগাস না। আমি রাগলে তোর সব অপকর্মের কথা পইপই করে বাবাকে জানিয়ে দেবো বলে দিলাম।"

"বলে বড় উপকার করলি। এতো রাতে বিবাহিত ভাইয়ের ঘরে কি? যা ভাগ।"

মৌমিতা তর্ক করার ভাষা হারালো। ধুপধাপ পা ফেলে কৌশিকের টেবিলের কাছে চলে গেলো। এরপর টেবিল থেকে কৌশিকের ল্যাপটপটা নিয়ে আবারও ধুপধাপ পা ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। যাওয়ার আগে ঠাস করে দড়জা আটকে দিতে ভুললো না। তুবা হতাশ ভঙ্গিতে কপাল চাপড়ালো। নিজের ঘরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো। তৎক্ষনাৎ কৌশিক পেছন থেকে ডেকে উঠলো,

"শোন!"

তুবা থেমে গেলো। কৌশিক পায়ে পায়ে এগিয়ে এলো কাছে। তুবার মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে সামান্য ঝুঁকে বলল,

"বেড়াতে যাচ্ছিস। ইটস ওকে। কিন্তু সেখানে শামিমা ফুপির ছেলে সিফাত থাকবে। ওর থেকে দূরে থাকবি। আমি যেনো তোকে ওর সাথে কোনোপ্রকার কথা বলতে না দেখি। মনে থাকবে?"

কৌশিকের ঠান্ডা হুমকি শুনে তুবা ভাবনায় পড়ে গেলো। এই সিফাত তুবাদের পাড়াপ্রতিবেশী ফুপির ছেলে। সেই ছোটোবেলায় একবার মজা করে বলেছিল "বড় হয়ে আমি তুবাকে বিয়ে করবো।" এরপর থেকে কৌশিক ছেলেটাকে দুই চোখে সহ্য করতে পারে না। এখন তো আবার সরাসরি হুমকিও দিলো। বেড়াতে যাওয়ার জন্য তুবার মনে যত এক্সাইটমেন্ট ছিলো তা মুহুর্তেই ফুস হয়ে গেলো। এখন তো তুবার ভয় হচ্ছে। সেখানে গিয়ে আবার কোনো বিপত্তি না ঘটে।

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন