#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ১২
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
পুরনো আমলের কাঠের দড়জাটা হাট করে খোলা। চৌকাঠের বাইরে সটান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিফাত। মুখে তার চমৎকার হাসি। উজ্জ্বল চোখ দুটো সোজা তুবাতে স্থির। সিফাত ঝটপট পায়ে ভেতরে ঢুকলো। ঘরে উপস্থিত কৌশিক এবং নীরবকে এক প্রকার উপেক্ষাই করলো। তুবার থেকে দুই হাত দূরে এসে থামলো। ফট করে পেছনে মুড়িয়ে রাখা হাতটা সামনে মেলে ধরলো। সিফাতের হাতে একটা ফুটন্ত পদ্মফুল। ফুলটা তুবার দিকে এগিয়ে দিয়ে হাসিমুখে প্রশ্ন করলো,
"কেমন আছো তুবা? অনেকদিন পর দেখা হলো। বেশ বড় হয়ে গেছো।"
তুবা ভয় ভয় চোখে একবার কৌশিকের দিকে তাকালো। সঙ্গে সঙ্গে অন্তরাত্মা কেঁপে উঠলো তুবার। কৌশিক কেমন যেনো ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে চোখ দিয়েই জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেবে। ওর এমন ভয়ানক লুক দেখে শুকনো ঢোক গিলল তুবা। তৎক্ষনাৎ সিফাত আবারও বলল,
"কিছু বলছো না যে? আচ্ছা ফুলটা নাও৷ তুমি তো পদ্মফুল পছন্দ করো। শুধু মাত্র তোমার জন্য এই ভর সন্ধ্যায় পদ্ম বিল থেকে এটা তুলে এনেছি। নাও ধরো।"
বলেই ফুলটা এগিয়ে দিলো। এই পর্যায়ে তুবা পড়ে গেলো মহা বিপাকে। কৌশিক এখানে আসার আগেই শাসিয়ে রেখেছে সিফাতের সাথে যেনো সে কথা না বলে। কিন্তু সামনাসামনি একটা মানুষকে উপেক্ষা করবে কিভাবে? এটা কি দৃষ্টিকটু দেখায় না? তুবা ইতস্তত বোধ করলো। মিনমিন করে ছোট্ট করে জবাব দিলো,
"লাগবে না ভাইয়া। আমার আর পদ্ম ভালো লাগে না। আমি...........! "
তুবা কথা শেষ করতে পারলো না। আচমকা দুম করে চাপা শব্দে দেয়াল কেঁপে উঠলো। তুবা চমকে পেছন ফিরে তাকালো। তাকাতেই চোখ দুটো বিকট আকার ধারণ করলো। কৌশিক স্ব জোরে দেয়ালে ঘুসি মেরেছে। তুবার সাথে চোখে চোখ পড়তেই কৌশিক হনহন করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। তুবা অবোধের মতো তাকিয়ে রইলো শুধু। ঘরে উপস্থিত নীরব আর সিফাতও অবাক। কি থেকে কি হলো কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কৌশিক আবারও ঘরে ফিরে এলো। সেকেন্ডের ব্যবধানে তুবার হাতটা শক্ত করে ধরে নিজের সাথে নিয়ে আবারও ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। ঘরে রয়ে গেলো হতভম্ব নীরব আর সিফাত। মিনিট খানেক সময় কেটে গেলো পিনপতন নীরবতায়। নীরবতা ভেঙে সিফাত বলে উঠলো,
"এটা কি হলো? কৌশিক ভাই এমন রেগে গেলো কেনো?"
"ভাইয়া তোমার ওপর রেগে আছে তাই।"
ফট করে উত্তরটা দিয়েই জিভে কামর দিলো নীরব। ঝোঁকের বশে সত্যটা মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে। এবার বাকি সত্য বের হওয়ার আগেই দ্রুত স্হান ত্যাগ করলো নীরব। রেখে গেলো ভাবনায় মশগুল সিফাতকে। সে বিড়বিড় করে আওড়ালো,
"সেই ছোটোবেলায় একবার ঝামেলা হয়েছিল কৌশিক ভাইয়ের সাথে। সেটাও তুবাকে নিয়ে। সে তো রেগে আমাকে অনেক মেরেছিল। ঘুসি দিয়ে নাকটাও ফাটিয়ে দিয়েছিল। তখন থেকে আমার নাকের নকশা বদলে গেছে। তবে মাঝে তো অনেক বছর কেটে গেছে। আমি তো সব ভুলে গেছি। তাহলে এই মানুষটা ভোলেনি কেনো? এতো প্রোটেক্টিভ ভাইও হয়? আজব।"
আপনমনে বিড়বিড় করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে এলো সিফাত।
-
-
রাতে খাবার খেতে নিচে নেমেছে সবাই। এই বাড়িতে ডাইনিং টেবিল নেই। সাধারণ ভাবে গ্রামের মানুষ মাটিতে বসে খায়। আজকের খাওয়ার আয়োজন নিচেই করা হলো। বসার ঘরের মেঝেতে দুই সারি করে লম্বা মাদুর পেতে দিলেন কনকচাঁপা বেগম। এরপর একে সবাই মাদুরে বসে পড়লো। খাবার রান্না এবং পরিবেশনে বাড়ির গিন্নিদের সাহায্য করলো শামিমা। সিফাতকে জামাল সাহেব নিজের পাশে বসিয়েছেন। বড্ড আদর করেন তিনি ছেলেটাকে। এই যেমন খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে তিনি সিফাতের পিঠে হাত রাখছেন। ভালো মন্দ খোঁজ খবর নিচ্ছেন। লেখাপড়া কেমন চলে সেটাও জিজ্ঞেস করলেন। সিফাতও মাথা নিচু করে ভদ্র ভাবে জবাব দিলো। আত্মীয়তার খাতিরে সিফাত মাঝে মাঝে ঢাকায় জামাল সাহেবের সাথে দেখা করতে যায়। তবে বিগত চার বছরে ছেলেটা একবারও ঢাকায় যায়নি। এজন্য জামাল সাহেবের খোঁজ খবরের লিস্ট বড় হয়েছে।
অপর পাশের মাদুরে বসা কৌশিক তীঘ্ন চোখে তাকিয়ে দেখলো শুধু। খাবার আর তার গলা দিয়ে নামছে না। শুধু প্লেটে আঙ্গুল নাড়াচাড়া করছে। বিষয়টা অন্যদের নজর এড়ালেও তুবার নজর এড়ালো না। তুবা শান্ত চোখে একবার কৌশিকের দিকে চাইলো। চেহারা কেমন যেনো ফ্যাকাশে, উদাসীন। তুবা নজর ঘুরিয়ে কৌশিকের প্লেটের দিকে তাকালো। হাতের উল্টো পিঠের আঙ্গুলের গোড়া লালচে হয়ে আছে। তখন দেয়ালে অতো জড়ো ঘুসি দেয়ার কি প্রয়োজন ছিলো? এখন নিশ্চয়ই হাত ব্যথা করছে। আচমকা তুবার মনটা খারাপ হয়ে গেলো। খাবার আর গলা দিয়ে নামলো না। মন খারাপ করে নিজেও প্লেটে আঙ্গুল ঘোরাতে লাগলো। পাশ থেকে মৌমিতা ধাক্কা দিলো তুবাকে।
"কিরে? খাচ্ছিস না কেনো?"
"নিচে বসে খেতে সমস্যা হচ্ছে আপু।"
ঠাস করে একটা মিথ্যে বানোয়াট কথা শুনিয়ে দিলো মৌমিতাকে। আসল সত্য নিজের পেটেই হজম করে নিলো তুবা। মৌমিতাও আর বেশি ঘাটলো না। সবাই খাওয়া দাওয়া করে যার যার ঘরে চলে গেলো।
-
-
নীরব ঘরে এসে আবারও ফোন নিয়ে বসলো। ডায়াল প্যাডে রিমির নাম্বার তুলে ফোন লাগালো। কিন্তু হায়। এবারেও ফোন গেলো না। নীরব হতাশ হলো। বিচ্ছুটা ওকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে রেখেছে। এদিকে রবিনের চিন্তায় নীরবের ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাচ্ছে। অনেক চিন্তা ভাবনা করে হাতড়ে লাগেজ থেকে অন্য একটা সিম খুঁজে বের করলো নীরব। নিজের ফোনের চলমান সিম খুলে নতুন সিম লাগালো। এরপর সেই সিম দিয়ে রিমির নাম্বারে ডায়াল করলো।
সময় গেলো কয়েক সেকেন্ড। বিপবিপ করে ফোন বাজছে। কিন্তু রিসিভ করার মানুষ বোধহয় এজগতে নেই। নীরবের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলো। রেগে যেইনা ফোন কান থেকে নামাতে যাবে এমন সময় হুট করেই ফোনটা রিসিভ হলো। শোনা গেলো রিমির ঘুম জড়ানো মৃদু কন্ঠ,
"হ্যালো! কে?"
আচমকা রিমির ঘুমঘুম কন্ঠ শুনে বুকের ভেতর ধ্বক করে উঠলো নীরবের। ভেতর জুড়ে উথাল পাথাল ঝড় শুরু হলো। হৃদপিণ্ড কেঁপে উঠলো। রাগের পাহাড় মুহুর্তেই অর্ধেকটা ভেঙে পড়লো। নীরব ধিমি কন্ঠে বললো,
"আমি নীরব।"
"কোন নীরব?"
এই প্রশ্ন শুনে নীরবের মেজাজটা আবারও বিগড়ে গেলো। কোন নীরব মানে? এই মেয়ের জীবনে কয়টা নীরব আছে? রাগে খিটখিটে মেজাজ নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে নীরব জবাব দিলো,
"কোন নীরব মানে? তোর জামাই নীরব। কয়টা নীরব আছে তোর?"
রিমির হুঁশ ফিরলো বোধহয়। ঘুমটাও চট করে ছুটে গেলো। ফোনটা কান থেকে সরিয়ে চোখের সামনে এনে নাম্বারটা দেখে নিলো। অচেনা নাম্বারে চেনা কন্ঠ শুনে কিটমিট করে উঠলো রিমি। ঝগড়ার ভঙ্গিতে বলল,
"তুই আবার অন্য নাম্বার থেকে ফোন দিয়েছিস কেনো?"
"তুই আমাকে ব্লক করেছিস কেনো?"
"তুই কে রে? তোকে কেনো কৈফিয়ত দেবো?"
"তুই দিতে বাধ্য রিমি।"
"আমার বয়েই গেছে তোকে কৈফিয়ত দিতে। একদম আমাকে ফোন করবি না। শা*লা খবিশ।"
দাঁত খিঁচে গা*লি দিয়েই খট করে ফোনটা কেটে দিলো রিমি। সঙ্গে সঙ্গে এই নাম্বারও ব্লক করে দিলো। রাগে নীরবের শরীর থরথর করে কাঁপছে। এই নারী জাত খুবই ভয়ঙ্কর। এদের তেল চারদিক থেকে চুইয়ে চুইয়ে পড়ে। কি এমন অন্যায় করেছে নীরব? সেদিন মুখ ফসকে শুধু মোটা বলে ফেলেছিল রিমিকে। ব্যাস এটুকুই। এই রাগে মেয়েটা কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। সব জায়গা থেকে ব্লক করে দিয়েছে। এটা কি ছেলেমানুষী নয়? নীরবের রাগ বাড়লো। রাগে কাঁপতে কাঁপতে ঝটপট একটা ম্যাসেজ লিখলো,
"হৃদয়! এই রবিনের দিকে নজর রাখিস তো। ওই শা*লা যেনো রিমির আশেপাশেও না ঘেঁষতে পারে। বিস্তারিত আমি ঢাকায় ফিরে জানাবো।"
এটুকু লিখেই টুক করে হৃদয়ের নাম্বারে ম্যাসেজটা সেন্ট করে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লাই এলো,
"ওকে বন্ধু!"
নীরব ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। টানটান হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লো। মাথার ওপর ঘুরতে থাকা সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে রাগে কিটমিট করতে করতে আওড়ালো,
"একবার শুধু ঢাকায় ফিরি। তোকে আমি দেখে নেবো রিমি। আমাকে জ্বালানোর শাস্তি তুই হারে হারে টের পাবি।"
-
-
রাত তখন প্রায় বারোটা ছুঁই ছুঁই। হঠাৎ করেই তুবার ঘুমটা ভেঙে গেলো। নড়েচড়ে উঠে বসতেই পেটের ভেতর কেমন যেনো মুচড়ে উঠলো। তুবা থ মেরে বসে রইলো কিছুক্ষণ। তখন কৌশিকের দুঃখে দুঃখ মেলাতে গিয়ে খাবারের দানা পেটে দিতে পারেনি। এখন ভেতর থেকে রাক্ষুসে খিদে বলছে "খেতে দে। নাহলে তোর নাড়িভুড়ি খাবো।" নিরুপায় হয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো তুবা। ভাবলো পানি দিয়ে আজ পেট পূর্ণ করা যাক। ভাবতে ভাবতে উঠে দাঁড়ালো। টেবিলের কাছে গিয়ে আরও একবার হতাশ হলো। জগটা পুরো ফাঁকা। উপায় না পেয়ে ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো তুবা। উদ্দেশ্য, রান্নাঘরে গিয়ে পানি খাবে।
ভাবনা মোতাবেক কয়েক কদম এগোতেই দোতলার লম্বা বারান্দায় কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পেলো। প্রথমে খানিকটা ভয় পেয়ে গেলো তুবা। এই মাঝরাতে অন্ধকারে কে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে? কোনো ভুত টুত নয় তো? তুবা শুনেছে, গ্রামে নাকি রাত গভীর হলে ভুতের দেখা মেলে। যদিও তুবা আধুনিক শিক্ষা নিয়ে বড় হওয়া মেয়ে। ভুত টুতে সে একদম বিশ্বাস করে না। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই কেমন যেনো মনে ভয় চেপে ধরেছে। হয়তো নতুন জায়গা তাই।
ভয় ভয় বুকে পা টিপে টিপে এগিয়ে আসলো তুবা। এতোক্ষণ ধরে ফোনের ফ্ল্যাশ নিচের দিকে রেখে এগিয়েছে। বেশ খানিকটা কাছাকাছি এসে তুবা ঠিক করলো এবার লাইটটা সামনের দিকে তাক করবে। কিন্তু কেনো যেনো সাহসে কুলচ্ছিল না। যদি ভয়ানক চেহারায় অতিপ্রাকৃত কিছু চোখের সামনে ধরা দেয়? তাহলে তো তুবা এখানেই হার্ট অ্যাটাক করবে। দুরুদুরু বুকে ভয় চেপে ফোনটা উঁচু করে ধরলো তুবা। সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে যাওয়া মনে এক ফোঁটা পানির ছোঁয়া পেলো যেনো। ভয়ে জ্ঞান না হারালেও এবার খুশিতে নির্ঘাত জ্ঞান হারাবে।
বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে কৌশিক। মাঝ রাতে দূরের মাঠে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে ছিলো। এমন সময় নিজের দিকে লাইটের আলো পড়ায় ঘাড় ঘুরিয়ে পেছন ফিরে তাকালো। চাঁদের আবছা আলোয় তুবার ভয়ার্ত মুখ স্পষ্ট দেখতে পেলো। কৌশিক ঘুরে কিছু বলবে তার আগেই ঝড়ের গতিতে ছুটে এলো তুবা। একটা ছোটোখাটো সাইক্লোনের বেগে আছড়ে পড়লো কৌশিকের বুকে। সজোরে বারি খেলো শক্ত বুকের সাথে নরম দেহটা। তুবার বুকের বেগতিক ধুকপুকানি কৌশিক স্পষ্ট টের পেলো। সঙ্গে সঙ্গে এক হাতে তুবার কোমর জড়িয়ে ধরলো। অন্য হাত রাখলো তুবার থুতনিতে। কন্ঠে কৌতুহল,
"কি হয়েছে জান? এতো ভয় পেয়ে আছিস কেনো?"
তুবা জোরে জোরে শ্বাস টানছে। কোনোমতে নিঃশ্বাস নিয়ন্ত্রণে এনে বলল,
"এমন ভুতের মতো দাঁড়িয়ে আছেন কেনো? আমি কত ভয় পেয়েছি জানেন? হার্ট অ্যাটাক হতে হতে হয়নি।"
"ভুত বলে কিছু হয়না বোকা।"
"কিন্তু অশরীরী আছে।"
কৌশিক তর্কে গেলো না। ছোট্ট করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,
"আচ্ছা স্যরি। ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু তুই এতো রাতে বাইরে কেনো?"
সঙ্গে সঙ্গে গড়গড় শব্দে তুবার পেট আবারও মুচড়ে উঠলো। ভয়ের কারণে খিদের কথা প্রায় ভুলেই বসেছিল। কৌশিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। হয়তো তুবার পেটের গড়গড় শব্দ সেও শুনতে পেয়েছে। কৌশিককে হাসতে দেখে তুবা লজ্জায় মাথা নিচু করে নিলো। কৌশিক নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো কয়েক সেকেন্ড। এরপর তুবার কোমর থেকে হাত সরিয়ে স্বাভাবিক হলো। আলতো করে তুবার হাতটা ধরে বলল,
"আয় আমার সাথে।"
"কোথায়?"
"কাজি অফিসে কেউ বারবার যায় না। রান্নাঘরে চল। খাওয়ার কিছু আছে কি না দেখি।"
তুবা দাঁড়িয়েই রইলো। মিনমিন করে জবাব দিলো,
"খাবার নেই তো।"
কৌশিক শান্ত চোখে তাকালো তুবার দিকে। মুচকি হেসে বলল,
"আমার একমাত্র বউকে না খাইয়ে রাখবো না। চল আমার সাথে।"
চলবে?