#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ২৪
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
⛔কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ⛔
*******************
রাতের প্রায় শেষ ভাগ। অমানিশার কালো চাদরে ঢেকে আছে চারিধার। আকাশের বুকে ভেসে বেড়ানো এক টুকরো চাঁদ নিয়ন বাতির ন্যায়ে ধিকিধিকি জ্বলছে। জোছনার স্নিগ্ধ আলো চিকন সুতোর মতো ছুটে এসে লেপ্টে যাচ্ছে সারা অঙ্গে। প্রকৃতি বড়ই অদ্ভুত। মানুষের সৌন্দর্যকে কি নিদারুণ ভাবে হু হু করে বাড়িয়ে দেয়। এই যেমন তুবার সৌন্দর্য আজ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘুমন্ত তুবাকে সেই মাঝরাত থেকে নিরবে নিভৃতে দেখে চলেছে কৌশিক। এই দেখার তৃষ্ণা যেনো কোনো মতেই মিটছে না।
রাত পেরিয়ে ভোর হতে চললো। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের মিটিমিটি আলোর দেখা পাওয়া যাচ্ছে। হুট করেই সূর্যের একফালি তীক্ষ্ণ আলো আছড়ে পড়লো তুবার মুখে। সঙ্গে সঙ্গে ঘুমটা ছুটে গেলো তুবার। পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো। চোখের কপাট মেলতেই দৃষ্টি সীমায় খোলা আকাশ দেখে ধরফরিয়ে উঠে বসলো তুবা। মুহুর্তেই মনে পড়ে গেলো রাতের কথা। তুবা ডানে বামে তাকালো। তৎক্ষনাৎ দৃষ্টি গোচর হলো কৌশিকের সুদর্শন মুখ। কেমন মুগ্ধ চোখে চেয়ে আছে তুবার দিকে। সেই চাহনিকে সম্পুর্ন উপেক্ষা করে তুবা চিন্তিত স্বরে বললো,
"সকাল হয়ে গেছে। আমাকে ডাকেননি কেনো?"
"ইচ্ছে করছিল না তাই।"
কৌশিকের গা ছাড়া জবাব। তুবার খানিকটা রাগ হলো। লাফিয়ে উঠে বলল,
"শুরু হয়ে গেলো ত্যাড়া জবাব। সকাল হয়ে গেছে। বাড়িতে সবাই আমাদের খুঁজে না পেলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে। আজ ঢাকায় ফেরার কথা, ভুলে গেছেন?"
তুবার কথার বিপরীতে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো কৌশিক। কি সুন্দর ঘুমন্ত তুবার মুখ দেখে মনটা ঠান্ডা করছিল সে। মেয়েটা জেগে ওঠায় কৌশিকের নিরব প্রেম নিবেদনে বাঁধা পড়লো। তার ওপর এই মেয়ের অতিরিক্ত চিন্তা। কপালে দুই তিনটা ভাজ ফেলে হাত ঘড়িতে একবার নজর বুলালো কৌশিক। সময়টা দেখে নিয়ে শান্ত কন্ঠে বললো,
"রিল্যাক্স জান। সবে সাড়ে পাঁচটা বাজে। এতো আগে কেউ ঘুম থেকে ওঠেনি।"
কৌশিকের শান্তনা বাণীতে তুবার মন গললো না। মনের ভয়ও একটুও কমলো না। বরং তাড়াহুড়ো করে কৌশিকের হাত ধরে হাঁটা দিলো বাড়ির পথে।
-
-
দোতলা পুরনো বাড়িটা এখনও নিস্তব্ধতায় ঘেরা। শুনশান নীরবতাই বলে দিচ্ছে বাড়ির সদস্যরা সবাই এখনও ঘুমে বিভোর। তুবা আর কৌশিক যখন বাড়িতে ঢুকলো তখনও উঠোনে কারো পায়ের ছাপ পড়েনি। পুরো বাড়ি নিশ্চুপ দেখে বুকে হাত রেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো তুবা। কৌশিকের হাতটা ছেড়ে এক ছুটে চলে গেলো নিজের ঘরে।
দেখতে দেখতেই কেমন ছুটির ঘন্টা বেজে গেলো। ভুঁইয়া পরিবারের গ্রামে থাকার মেয়াদ শেষ। এই এক সপ্তাহ মনে রাখার মতো কিছু স্মৃতি সবাই গেঁথে নিয়েছে নিজেদের মস্তিষ্কে। বাকিটা জীবন এই সাতদিনের স্মৃতিচারণ করে কাটিয়ে দেয়া যাবে।
যথারীতি পুরো পরিবার সমেত ঢাকায় উদ্দেশ্যে রওনা হলো সবাই। বিদায়ের সময় শামীমা বেগম অনেক কাঁদলেন। জামাল সাহেব আবারও নিজের এই পুরনো পৈতৃক বাড়ির দেখাশোনার দায়িত্ব শামীমা বেগম ও তার স্বামীর কাঁধে তুলে দিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। শেষ বেলায় সিফাতকে কোথাও দেখা গেলো না। শুধু আজ নয়, বিগত কয়েকদিন ধরেই সিফাত নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে। আজ যখন সবাই একে একে গাড়িতে চড়ে বিদায় নিলো, তখন সিফাত ছিলো বাড়ির ছাঁদে। দুর থেকেই ভগ্ন হৃদয়ে একবার তুবাকে দেখে নিলো। এই শেষ বার। আর কোনোদিন সে ফিরে তাকাবে না তুবার দিকে। কি দরকার মরিচীকার পেছনে ঘোরার? দিন শেষে সে তো অদৃশ্য হয়ে নাগালের বাইরে চলে যাবে। তার চেয়ে থাকুক না, কিছু অনুভুতি লুকিয়ে। শুধু অনুভবে ছুঁলেই হবে। সিফাতের আকাশ কুসুম ভাবনার মাঝেই সাই সাই করে বেরিয়ে গেলো বড় বড় গাড়ি দুটো।
লম্বা রাস্তা পেরিয়ে ভুঁইয়া মঞ্জিলে যখন গাড়ি দুটো ঢুকলো তখন দুপুর পেরিয়ে বিকেল। আপন নীড়ে ফিরতেই হৃদয়টা আনন্দে নেচে উঠলো সবার। ক্লান্ত দেহ নিয়ে ছুটে গেলো নিজেদের ঘরে। রাইমা আজ এবাড়িতেই থেকে গেলো। কাল সকালে বাড়ি ফিরে যাবে। আপাতত সে জায়গা করে নিলো মৌমিতার ঘরে। দেহের ক্লান্তি মেটাতে পা বাড়ালো মৌমিতার সাথে। পরিচিত বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ক্লান্ত দেহে আরও ক্লান্তি নেমে এলো সবার। অতঃপর, এক প্রশান্তির ঘুম।
-
-
লম্বা একটা ঘুম শেষে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলো তুবা। ঘুম ঘুম চোখে একবার দেয়াল ঘড়িতে নজর বুলালো। সময়টা এখন সন্ধা সাতটা। বেশ ভালোই ঘুম দিয়েছে। ভাবতে ভাবতে বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো তুবা। দুই হাতে চোখ ডলতে ডলতে নিচের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো। পেটের ভেতর গুড়গুড় আওয়াজ করছে। মা চাচিদের রান্না হয়ে গেলে ঝটপট পেটে কিছু ঢুকিয়ে নেবে।
ভাবনা মোতাবেক ঘরের বাইরে আসতেই আচমকা কারোর সাথে জোরেশোরে ধা'ক্কা খেলো তুবা। পড়ে যেতে যেতে নিজেকে সামলে নিলো মেয়েটা। চোখ থেকে হাত সরাতেই দেখতে পেলো রাইমার আগুন লাল মুখ। দেখে মনে হচ্ছে ইচ্ছে করেই ধা'ক্কাটা মে'রে'ছে। তুবা ভ্রু কুঁচকে বলল,
"আপনি আমাকে ধা'ক্কা দিলেন কেনো আপু?"
"কৌশিক ভাইয়ের সাথে তোমার কি তুবা?"
তুবার প্রশ্ন সম্পুর্ন উপেক্ষা করে নিজের দিক থেকে প্রশ্নটা রাখলো রাইমা। তুবার ঘুম এবার পুরোপুরি ছুটে গেলো। ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলল,
"মানে? কি বলতে চাইছেন?"
"বলতে চাইছি তোমার আর কৌশিক ভাইয়ের মধ্যে কি চলে? আজ সকালে তোমরা দুজন একসাথে বাড়ি ফিরেছিলে। আমি সেটা নিজের চোখে দেখেছি। আমার প্রশ্ন হলো, অতো ভোরে তোমরা দুজন কোথায় গিয়েছিলে?"
"এই প্রশ্ন করার আপনি কে? কোন অধিকারে আপনি এই প্রশ্ন করছেন?"
"কৌশিক ভাইয়ের হবু বউয়ের অধিকারে বলছি। তুমি হয়তো ভুলে গেছো, ফুপি নিজে আমাকে তার ছেলের জন্য পছন্দ করেছেন।"
অত্যন্ত আত্নবিশ্বাস নিয়ে গড়গড় করে কথাগুলো বললো রাইমা। তুবার বুকটা হঠাৎ করেই কামড়ে ধরলো। রাইমার মুখে "কৌশিক ভাইয়ের হবু বউ" কথাটা বড্ড বেশি বিশ্রী শোনালো। হুট করেই কান্নারা দলবেঁধে চোখের সীমানা পেরিয়ে উপচে পড়তে চাইলো। তবে রাইমার সামনে নিজেকে দুর্বল দেখালো না তুবা। বরং ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্য হাসি ঝুলিয়ে বলল,
"আসল মানুষ তো সম্মতি দিক। সে তো আপনাকে পাত্তাই দেয় না।"
তুবার এহেন খোঁচা মা'রা কথায় রাইমা বেশ অপমান বোধ করলো। তর্ক আগাতে কিছু বলবে তার আগেই তুবা ফের বলে উঠলো,
"আপনি নিজের বাড়ি কবে ফিরবেন আপু? এই যে, কারণে অকারণে ফুপির বাড়ি এসে পড়ে থাকেন। আপনার কি লজ্জা টজ্জা করে না? আসলে আমার বাড়িতে অযাচিত লোকের আনাগোনা আমার পছন্দ নয়। ভাবছি চাচ্চুর সাথে বিষয়টা নিয়ে কথা বলবো। আত্মীয় স্বজন, ঘুরতে আসবে আবার চলে যাবে। থেকে যাওয়া আবার কেমন অভদ্রতা?"
তুবার অকপটে করা চূড়ান্ত অপমানে কান দুটো গরম হয়ে গেলো রাইমার। একবার আ'গু'ন ঝরা চোখে তুবার দিকে তাকিয়ে গটাগট সিঁড়ি মারিয়ে নিচে নেমে গেলো। তুবা কিছুক্ষণ ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো সেখানেই। রাইমা চলে যেতেই ঝরঝর করে কয়েক ফোঁটা অশ্রু ঝড়ে পড়লো চোখের কোটর বেয়ে। একটা মানুষকে নিয়ে আর কত টানা হ্যাচড়া হবে? তুবার মনের এই ভয় আর কতদিন তাড়া করে বেড়াবে ওকে? ভাবতেই চিকন অশ্রু কণা গুলো বৃহৎ আকার ধারণ করলো। ঠিক সেই মুহুর্তে ঘুমে ঢুলতে ঢুলতে উপস্থিত হলো রিয়া। তুবাকে এমন খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রশ্ন করলো,
"কি হয়েছে রে?"
তুবা জবাব দিলো না। কয়েক সেকেন্ড চুপচাপ নিরবে অশ্রু বিসর্জন দিলো। এরপর নাক টেনে চোখ মুছে বলল,
"এখানে একটু দাঁড়াও তো আপু। মা, চাচি দের মধ্যে কেউ আসলে সিগন্যাল দেবে। আমি আসছি।"
বারান্দায় পাহারাদার দাঁড় করিয়ে রেখে তুবা হাঁটা দিলো কৌশিকের ঘরের দিকে।
-
তুবা যখন কৌশিকের ঘরে ঢুকলো তখন কৌশিক ল্যাপটপ নিয়ে কাজে ব্যাস্ত। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। পড়নে ওভার সাইজ টিশার্ট আর ট্রাউজার। এলোমেলো চুলগুলো কপাল জুড়ে ছড়িয়ে আছে। নির্ঘুম চোখ দুটো লালচে বর্ণ ধারণ করেছে। ক্লান্ত পরিশ্রান্ত দেহেও ছেলেটা কাজ নিয়ে ব্যাস্ত। খাটের সাথে হেলান দিয়ে পায়ের ওপর ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করছে। বাড়ি ফেরার পর থেকেই কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে ছেলেটা। ঠিক এমন সময় দড়জার সামনে কারো উপস্থিতি বুঝতে পেরে চোখ ল্যাপটপের স্ক্রিনে রেখেই বলল,
"কিছু লাগবে?"
তুবা কোনো জবাব দিলো না। মুখ ভার করে সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। সামনে থেকে কোনো জবাব না পেয়ে চলন্ত হাতের গতিবিধি থামিয়ে দিলো কৌশিক। চশমার ফাঁক গলিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো সামনে। তাকাতেই তুবার ভারাক্রান্ত শুকনো মুখ দেখে কৌশিকের সমতল কপালে কয়েকটা ভাজ পড়লো। কৌশিক ভ্রু কুঁচকে প্রশ্ন করলো,
"কি হয়েছে? মুখের এই অবস্থা কেনো?"
তুবা তবুও জবাব দিলো না। শুধু ছলছল চোখে তাকিয়ে রইলো কৌশিকের চোখের দিকে। কয়েক সেকেন্ড কেটে গেলো পিনপতন নীরবতায়। তুবার মুখ দেখে ওর মনের অবস্থা কিছুটা আন্দাজ করে নিলো কৌশিক। সঙ্গে সঙ্গে ল্যাপটপটা পায়ের ওপর থেকে সরিয়ে পাশে রেখে দিলো। চোখের চশমা খুলে ল্যাপটপের ওপর রাখলো। এরপর পেশিবহুল দুই হাত ছড়িয়ে ডাকলো,
"কাছে আয়।"
তুবা সময় নিলো না। একপ্রকার দৌড়েই গিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো কৌশিকের ওপর। কৌশিকের কোমরের দুই পাশে পা ছড়িয়ে দিয়ে সামনে থেকে কোলে বসে পড়লো। দুই হাত ঘাড়ে পেঁচিয়ে ধরে মুখ লুকালো কৌশিকের গলায়। শরীরটা কেঁপে উঠলেও নিজেকে সামলে নিলো কৌশিক। দুই হাতের দৃঢ় আলিঙ্গনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো তুবাকে। প্রিয় মানুষের আদুরে স্পর্শে আবেগী হয়ে পড়লো তুবা। মুখটা কৌশিকের গলার ভাঁজে শক্ত করে ডুবিয়ে দিলো। অভিমানী স্বরে মিনমিন করে বলল,
"আপনাকে পাওয়া এতো কঠিন কেনো কৌশিক ভাই?"
"কঠিন কোথায় জান? আমি তো সহজেই তোর কাছে ধরা দিয়েছি।"
"তবে আমি যে সহজে পাচ্ছি না? আমার পথেই কেনো এতো এতো কাঁ'টা?"
কৌশিক থমকালো একটু। তুবার অভিমানী কন্ঠে বুকটা মুচড়ে উঠলো যেনো। এক অদৃশ্য সুক্ষ্ম ব্যথা অনুভব হলো। কৌশিক কৌতুহলী কন্ঠে বললো,
" কি হয়েছে জান? কেউ কিছু বলেছে?"
এতো আদুরে প্রশ্নে তুবার এবার আরও বেশি কান্না পেলো। বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বলল,
"আপনার আশেপাশে এতো শেয়াল শকুন কেনো বলুন তো? সুযোগ পেলেই আপনাকে আমার থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যেতে চায়।"
" নিতে তো পারেনি।"
"যদি পেরে যায়? তখন?"
"কোনোদিন পারবে না।"
" কি গ্যারান্টি আছে?"
তর্কের এই পর্যায়ে কৌশিকের বুক চিরে হতাশার নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো। ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,
"নিজেকে কাগজে কলমে তোর নামে লিখে দিয়েছি আমি। সাথে এক সময়ের এই ভর্জিন দেহটাও তোর কাছে সপে দিয়েছি। আমার প্রথম ভার্জিনিটি হরণ করেছিস তুই। আমার আমির ওপরে আমার কোনো অধিকার নেই। আমার স্থাবর অস্থাবর সবকিছুর মালকিন তুই। আর কি চাই বল? তুই যা চাইবি আমি সেটাই করতে প্রস্তুত।"
"আপনি বরং আমাকে নিজের ভেতরে ঢুকিয়ে নিন। একটা দেহে দুটো প্রাণ থাকবে। আমি চিন্তা মুক্ত হবো।"
কৌশিক হাসলো। ধীরে ধীরে হাসি চওড়া হলো। তুবাকে আরও একটু টেনে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো। ঘন কালো চুলে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে বলল,
"উপায় থাকলে সেটাও করতাম জান। কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমি যে নিরুপায়।"
"বাহানা দিচ্ছেন?"
কৌশিক বিপরীতে জবাব দিতে পারলো না। কথোপকথনের ঠিক এমন মুহুর্তে রিয়ার দমফাটা কাশির আওয়াজে কান ঝালাপালা হয়ে গেলো। মনে হচ্ছে কাশতে কাশতে যক্ষা রোগীর ট্যাগ নিজের নামের পাশে বসিয়ে তবেই থামতে। রিয়ার আওয়াজ কানে আসতেই কৌশিকের কোল থেকে লাফিয়ে উঠে পড়লো তুবা। দুজনের মধ্যে বেশ খানিকটা দুরত্ব রেখে বসলো। ফিসফিস করে বলল,
"কেউ আসছে।"
বলতে বলতেই ঘরে আগমন ঘটলো কনকচাঁপা বেগমের। তিনি আঁচলে হাত মুছতে মুছতে ঘরে ঢুকলেন। ছেলেকে ডেকে বললেন,
"কৌশিক। খেতে চল তো আব্বা।"
বলতে বলতে তার নজর পড়লো তুবার ওপর। মেয়েটা কেমন বোকার মতো হাসিহাসি মুখ করে আছে। তুবাকে দেখে কনকচাঁপা বেগম বললেন,
"তুই এখানে? তোকে আমি পুরো বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছি। ময়না তোকে ডাকছে। জলদি নিচে যা।"
তুবা তড়িঘড়ি করে নামলো। নিজের পক্ষে এক লাইন মিথ্যে যুক্তি দাঁড় করিয়ে বলল,
"আসলে বড় মা! একটা পড়ায় একটু আটকে গেছিলাম আমি। তাই তোমার ছেলের কাছে বুঝতে এসেছিলাম। আমি এক্ষুনি নিচে যাচ্ছি।"
ডাহা এক মিথ্যে কথা বলেই দিলো ভো দৌড়। কনকচাঁপা বেগম চিন্তিত স্বরে বললেন,
"আরে আস্তে। পড়ে যাবি তো।"
বলতে বলতে তিনিও ছুটলেন তুবার পেছনে। কৌশিক শান্ত চোখে তাকিয়ে দেখলো শুধু। ঘরটা ফাঁকা হতেই নিচে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালো। ঠিক এমন সময় নজর পড়লো বালিশের পাশে। জর্জেটের একটা ওড়না সেখানে অবলীলায় পড়ে আছে। বেখেয়ালে কখন যে ওড়নাটা গায়ের থেকে পড়ে গেছে, মেয়েটা খেয়ালই করেনি বোধহয়। কৌশিক ঝুঁকে ওড়নাটা তুলে নিলো। এরপর সুন্দর করে সেটা হাতে পেঁচিয়ে নিলো। কয়েক সেকেন্ড ওড়নাটার দিকে তাকিয়ে থেকে ঠোঁট কামড়ে হাসলো। ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়েই পা বাড়ালো ঘরের বাইরে।
চলবে?