#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ২৩
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
⛔কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ⛔
*********************
পুরো বাড়ি জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজমান। পুরনো দোতলা বাড়িটা ভুতের বাড়িতে রুপ নিয়েছে। কারোর মুখে কোনো কথা নেই। কেমন একটা গা ছমছমে পরিবেশ। উঠোনে বসেছে বাড়ির কর্তাদের আলোচনা সভা। সেই সভায় যোগদান করেছে মৌমিতার বিয়ের ঘটক মহাশয়। সেদিন যে পাত্রপক্ষ মৌমিতাকে দেখতে এসেছিলো, তাদের মেয়ে ভিষণ পছন্দ হয়েছে। সেদিন থেকেই ঘটককে চাপ দিচ্ছে বিয়ের কথা আগানোর জন্য। জামাল সাহেবও আগ্রহ দেখাচ্ছেন। হাটে গিয়ে একবার ছেলের সঙ্গে দেখা হয়েছিল জামাল সাহেবের। দেখতে বেশ সুদর্শন। নম্র, ভদ্রও লাগলো। পেশায় একজন ইন্জিনিয়ার। কোনো দিকে কমতি নেই। তাছাড়া মৌমিতার বয়স বাড়ছে। আর অল্প কিছুদিন পর লেখাপড়াও শেষ হয়ে যাবে। এই লেখাপড়ার দোহাই দিয়েই তো জামাল সাহেবকে আটকে দিতো সবসময়। এবার মেয়েটার বিয়ে দেয়া আবশ্যক।
নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার মাঝেই জামাল সাহেব গলা উঁচিয়ে হাঁক ছাড়লেন,
"মৌমিতা। আম্মু একটু নিচে আসো তো।"
দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাবার হাঁক ডাক শুনলো মৌমিতা। কিন্তু সিঁড়ি মারিয়ে নিচে নামার আর শক্তি পেলো না। পা দু'টো অসার হয়ে আসছে। দুশ্চিন্তায় মাথা ধরে গেছে। যদি সবকিছু ঘেঁটে যায়? মৌমিতার আকাশ কুসুম কল্পনার মাঝেই ওর কাঁধে হাত রাখলো তুবা। নিচু স্বরে বললো,
"চাচ্চু ডাকছে আপু।"
মৌমিতা কোনো জবাব দিলো না। মাথা নিচু করে হাঁটা দিলো সিঁড়ির দিকে। পেছন পেছন তুবাও গেলো সাথে। নিচে আসতেই মেয়েকে নিজের কাছে বসালেন জামাল সাহেব। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে আদুরে সুরে বললেন,
"আমরা তোমার বিয়ে ঠিক করেছি আম্মু। এখানে বিয়ে করতে তোমার কি কোনো আপত্তি আছে?"
মৌমিতা ছলছল চোখে তাকালো নিজের বাবার দিকে। ধরা গলায় বলল,
"আমার মাস্টার্স এখনও শেষ হয়নি বাবা। তুমি তো কথা দিয়েছিলে, লেখাপড়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের জন্য চাপ দেবে না।"
"এখনই তো বিয়ে হচ্ছে না আম্মু। কথাবার্তা বলে রাখছি। বিয়ে না হয় তোমার পরিক্ষার পরেই হবে।"
গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাঝেই কোথা থেকে যেনো ভুতের মতো আগমন ঘটলো কৌশিকের। হুড়মুড়িয়ে এসে জলচৌকিতে ধপ করে বসে গমগমে সুরে বললো,
"কোনো বিয়ে হবে না। সবকিছু ক্যান্সেল।"
আচমকা কৌশিকের এহেন কথায় ছোটো খাটো বোমা ফাটলো যেনো। জামাল সাহেব রেগে গেলেন,
"আবার কি করতে চাইছো তুমি? শুভ কাজে ব্যাগড়া দিচ্ছো কেনো?"
"কারণ আছে বলেই দিচ্ছি। মৌয়ের জন্য আমি একটা ছেলে পছন্দ করেছি। ছেলে একজন ডক্টর। ফ্যামিলিও ভালো। আমি চাই তোমরা তার সাথে একবার দেখা করো।"
মুহুর্তেই পরিবেশ থমথমে হয়ে উঠলো। তাওহীদ সাহেব আর লুৎফর সাহেব একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করলেন। জামাল সাহেবের মুখটাও বেজায় থমথমে। তিনি গম্ভীর কন্ঠে বললেন,
"এখানে সিরিয়াস বিষয়ে কথা হচ্ছে কৌশিক।"
"আমিও সিরিয়াস হয়েই বলছি বাবা। চেনা নেই জানা নেই, এক দেখায় কোনো ছেলের হাতে আমার বোনকে তুলে দেবো না। কি গ্যারান্টি আছে, ভবিষ্যতে ছেলের কোনো ফল্ট বের হবে না? এদিকে আমি ডক্টর রাতুলকে চার বছর ধরে চিনি। তার ফ্যামিলিকেও চিনি। মৌয়ের জন্য রাতুল একদম পার্ফেক্ট। ক্যারিয়ারের দিক বিবেচনা করলে রাতুলই সেরা। সরাসরি রিজেক্ট করার আগে একবার ওর সাথে দেখা তো করো বাবা। দেখা করার পরেও যদি তোমার ঠিক না লাগে, তাহলে আমি কিছু বলবো না।"
ছেলের লম্বা যুক্তির কাছে দমে গেলেন জামাল সাহেব। চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা নিচু করে নিলেন। সামনেই ঘটক বসে আছে। তাকে দিয়ে এতো খাটিয়ে হুট করেই মানা করে দিলে কেমন দেখায়? জামাল সাহেবের মুখ দেখে ঘটক হয়তো কিছুটা আন্দাজ করে নিলো। এরপর তাওহীদ সাহেবের পেছনে দাঁড়ানো তুবার দিকে তাকিয়ে বলল,
"বুঝতে পেরেছি জামাল ভাই। কোনো সমস্যা নেই। তবে একটা কথা। বড় মেয়ের বিয়ে না হয় না হলো। কিন্তু মেয়ে তো আপনাদের আরও আছে। আপনাদের এই মেয়ের জন্য ছেলে দেখবো জামাল ভাই? আপনার মেয়েগুলো ভারি মিষ্টি।"
কথাগুলো বলতে বলতে তুবার দিকে আঙ্গুল তাক করলো ঘটক। কৌশিকের শান্ত মস্তিষ্কে একবার ধপ করে আ'গু'ন জ্ব'লে উঠলো। সেকেন্ডের ব্যবধানে সুদর্শন মুখটা র'ক্তিম বর্ণ ধারণ করলো। ঘাড় ঘুরিয়ে আ'গু'ন চোখে তাকালো তুবার দিকে। সেই আ'গু'ন দৃষ্টিতে নজর মিলিয়ে শুকনো ঢোক গিলল তুবা। ও ঠিক বুঝতে পারলো না এখানে ওর দোষটা কি? এমন চোখ দিয়ে পু'ড়িয়ে ভ'স্ম করে দেবো লুক দেয়ার কি আছে? একটু নিচেই তো এসেছে। এতে আহামরি কোনো দোষ হয়েছে নাকি? এরই মাঝে কৌশিক শান্ত কন্ঠে বললো,
"তুবা ঘরে যা।"
কথাটা শান্তভাবে বললেও তুবার শরীরে কা'টা দিয়ে উঠলো। আর এক মুহুর্তও সেখানে দাঁড়ালো না তুবা। ছুটে চলে গেলো নিজের ঘরে। কৌশিক এবার আয়েশ করে বসলো জলচৌকিতে। ঘটকের দিকে তাকিয়ে মেকি হেঁসে বললো,
"আমার বাড়ির মেয়েকে নিয়ে আপনার চিন্তা করতে হবে না চাচা। আপনি এখন আসতে পারেন।"
"মানে, মেয়েটা অনেক সুন্দরী আছে। ওর জন্য ভালো ছেলে দেখবো।"
ঘটকের শেষের কথায় হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেলো কৌশিকের। তবে বাপ চাচাদের সামনে রাগারাগি করাটা ভালো দেখাবে না। তাই অগত্যাই কোনোমতে রাগটা গিলে নিলো। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"ওর বিয়ে দেবো।"
"কিন্তু কেনো বাবা?"
"খুঁটি চেনেন খুঁটি? ঘরের খুঁটি বানিয়ে সারাজীবন আমাদের কাছেই রেখে দেবো। যাতে ঝড় বৃষ্টিতে আমাদের বাড়ির ছাঁদ মাথার ওপর ভেঙে না পড়ে। উত্তর পেয়েছেন? এবার আপনি নিজের রাস্তা মাপুন।"
জামাল সাহেব ছেলেকে ধমকে কিছু বলতে যাবেন তার আগেই তাওহীদ সাহেব কৌশিকের সাথে তালে তাল মিলিয়ে বললেন,
"কৌশিক ঠিকই বলেছে। আমার মেয়েকে এতো আগেই বিয়ে দেবো না। একটাই মেয়ে আমার। ওকে বিয়ে দিয়ে কোল খালি করে, আমি কি নিয়ে নিয়ে বাঁচবো? অন্তত মাস্টার্স শেষ করুক। তারপর বিয়ের চিন্তা।"
চারিদিক থেকে অপমানিত হয়ে থমথমে মুখে উঠে দাঁড়ালো ঘটক। কোনোদিক থেকেই সুবিধে করতে না পেরে কালো ছাতাটা বগলের তলে ফেলে হাঁটা দিলো বাড়ির বাইরে।
-
-
পুরো পরিবার সমেত আজ ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও ঘটকের আগমনে ফিরে যাওয়াটা ক্যান্সেল করে দিয়েছিলেন জামাল সাহেব। যদিও লাভের লাভ কিছুই হলো না। উপর দিয়ে আজকেও থেকে যেতে হলো তাদের গ্রামেই। তবে আগামীকাল সকাল সকাল সপরিবারে বেরিয়ে পড়বেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। তাই সবাই যার যার মতো গোছগাছ শুরু করে দিয়েছে।
রাত তখন প্রায় এগারোটা ছুঁই ছুঁই। দোতলা বাড়িটা পুরোপুরি নিস্তব্ধ। বোঝাই যাচ্ছে সবাই গভীর ঘুমে তলিয়ে আছে। তুবাও তখন গভীর ঘুমে বিভোর। ঠিক এমন সময় আচমকা তুবার ফোনটা বিপ বিপ করে বেজে উঠলো। ঘুমের মধ্যেই ফোন হাতড়ে, রিসিভ করে কানে চেপে ধরলো তুবা। ঘুমঘুম কন্ঠে বললো,
"হ্যালো।"
"দড়জা খোল।"
আচমকা পরিচিত কন্ঠ কানে বাজতেই ঘুমটা ছুটে গেলো তুবার। নিমেষেই উঠে বসে হুড়মুড়িয়ে ছুটে গেলো দড়জার কাছে। এক টানে দড়জা খুলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠলো কৌশিকের সুদর্শন মুখ। তুবার চোখে তখনও হালকা ঘুমের রেশ। সেই রেশ নিয়েই তুবা হাই তুলতে তুলতে বলল,
"এতো রাতে এখানে কেনো আপনি? কিছু লাগবে?"
"হুম, তোকে লাগবে। চল আমার সাথে।"
তুবা হকচকালো। মৃদু চেঁচিয়ে উঠে বলল,
"এই মাঝরাতে কোথায় যাবো?"
"জাহান্নামে। কোনো সমস্যা? আমি যেখানে নিয়ে যাবো চুপচাপ যাবি। কেনো প্রশ্ন করবি না?"
তুবা ভ'য়ার্ত চোখে চারিদিকে নজর বুলালো। এই মুহুর্তে বাড়ির একটা বিড়ালও জেগে নেই। মানুষ তো অনেক দূরের কথা। তাহলে এতো রাতে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে ওকে?
পায়ে পায়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রায় মিনিট দশেক পর একটা খোলা মাঠে এসে থামলো কৌশিক। তুবা অবাক চোখে চারিদিকে নজর বুলালো। যতদুর নজর যায় শুধু সবুজের সমারোহ। আজকের আকাশটা বড্ড বেশি পরিষ্কার। সুবিশাল আকাশে থালার মতো বড়ো একটা চাঁদ উঠেছে। চাঁদের আলোয় চারিদিক জ্বলজ্বল করছে। কি স্নিগ্ধ চোখ ধাঁধানো সেই দৃশ্য। এই মাঝরাতেও সবকিছু স্পষ্ট দৃষ্টি গোচর হচ্ছে। তুবা চারিদিকে নজর বুলালো। কৌতুহল নিয়ে বলল,
"এই মাঝরাতে আমরা এখানে কেনো আসলাম কৌশিক ভাই?"
"বউয়ের একটা ইচ্ছে অপূর্ণ রয়ে গেছিলো। সেই অপূর্ণ ইচ্ছে পূর্ণ করতে চাইছি।"
তুবার তৎক্ষনাৎ মনে পড়ে গেলো, সে রাতে কৌশিকের সাথে ঘুরতে বের হতে চেয়েছিল। এতো ঝুটঝামেলার মধ্যেও কৌশিক সেটা মনে রেখেছে, ভাবতেই প্রসস্ত হাসলো তুবা। পায়ের জুতো জোড়া খুলে সবুজ ঘাসে পা রাখলো। সঙ্গে সঙ্গে অদ্ভুত এক শিহরণে চাঙ্গা হয়ে উঠলো শরীর। তুবা আলতো করে কৌশিকের এক হাত ধরে বলল,
"চলুন। আপনার হাত ধরে ঘাসের ওপর হাঁটবো।"
কৌশিক বাঁধা দিলো না। বরং নিজের পায়ের জুতো জোড়া খুলে তুবার জুতোর পাশে রাখলো। এরপর গুটি গুটি পায়ে হাঁটতে শুরু করলো গন্তব্যহীন পথে। হাঁটতে হাঁটতেই নিচু কন্ঠে বললো,
"আজ রাতটা তোর নামে লিখে দিয়েছি জান। সেই সাথে এই সম্পুর্ন আমিটাকেও। আজ তুই যা বলবি তাই করবো। উইদাউট এনি কোয়েশ্চন।"
তুবা আলতো হাসলো। দুই হাতে কৌশিকের পেশিবহুল বাহুটা জড়িয়ে ধরলো। নিঃশব্দে খানিকক্ষণ হাঁটলো কাঁচা রাস্তা দিয়ে। পায়ের নিচে মাটি এবং দুর্বাঘাসের শীতল ছোঁয়া। সঙ্গে সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। সে এক দারুণ অনুভুতি।
বেশ কিছুক্ষন ঘাসের ওপর হাঁটাহাটি করে আবারও আগের জায়গায় ফিরে এলো দুজন। পরিস্কার ঘাস দেখে সেখানে বিনা দ্বিধায় সটান হয়ে শুয়ে পড়লো তুবা। আজ সারা রাত এখানে শুয়ে শুয়ে চন্দ্রবিলাস করবে। সকালের আগে বাড়ি মুখো হবে না। কৌশিকও কোনো বারন করলো না। বরং তুবার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেও ওর পাশাপাশি শুয়ে পড়লো। দুজনের নজর মাথার ওপর স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রুপালি চাঁদের দিকে।
চারিদিক শুনশান নিস্তব্ধ। দূর থেকে ঝিঁঝি পোকার ডাক শোনা যাচ্ছে শুধু। তুবা মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে চাঁদের পানে। এর আগেও সে বহুবার চাঁদ দেখেছে। কিন্তু আজ, চাঁদের সৌন্দর্য যেনো হাজার গুণ বেড়ে গেছে। সেটা কি প্রিয় মানুষ পাশে আছে তাই? হবে হয়তো!
তুবার ভাবনার মাঝেই আচমকাই তুবার দিকে কাত ঘুরে শুলো কৌশিক। এক হাতে মাথা উঁচু করে পূর্ণ দৃষ্টিতে তুবার দিকে তাকালো। অত্যন্ত ঠান্ডা কন্ঠে আওড়ালো,
"এতো মনোযোগ দিয়ে চাঁদকে কেনো দেখছিস জান? আমার যে হিং'সে হচ্ছে।"
"দিনদিন একটু বেশিই হিং'সুক হয়ে যাচ্ছেন না?"
"তো হবো না? আমাকে রেখে তুই চাঁদ দেখায় ব্যাস্ত। এতে যে আমার জ্বলছে। তোর চোখ শুধু আমাকে দেখে মুগ্ধ হবে। অন্য কিছুতে মুগ্ধ হবে কেনো?"
এই পর্যায়ে তুবা চাঁদের থেকে নজর সরিয়ে নিলো। কৌশিকের পাশ ঘুরে সেও এক হাতে মাথা উঁচু করে শুলো। এরপর পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকালো কৌশিকের চোখে। এই চোখে শুধু রাশি রাশি ভালোবাসাই দেখতে পায় তুবা। সেই সাথে আকাশ সমান মুগ্ধতা। কয়েক পল কেটে গেলো নিরবতায়।কারো মুখে কোনো কথা নেই। শুধু একে অপরের চোখের গভীরতা মেপে চলেছে দুজন। বেশ কিছুক্ষণ পিনপতন নীরবতা কাটানোর পর কৌশিক প্রথম কথা তুললো,
"বিয়ের কথা বাসায় জানিয়ে দেই জান?"
আচমকা কৌশিকের এহেন কথা শুনে চমকে উঠলো তুবা। আতঙ্কিত কন্ঠে বললো,
"এতো তাড়া কেনো?"
"তোকে ছাড়া থাকতে যে কষ্ট হচ্ছে।"
"আপনার কাছেই তো আছি। একই বাড়িতে থাকি।"
"কাছে থেকেও যে দূরে। আজকাল তোকে বুকে না নিলে ঘুম আসে না। বড্ড জ্বা'লাচ্ছিস আমাকে।"
তুবা হাসলো। তবে মুখে কোনো জবাব দিলো না। বরং মাথা থেকে হাত সরিয়ে আবারও সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো। মাথার ওপর ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলল,
"একটা গান শোনাবেন কৌশিক ভাই? ছোটোবেলায় যেমন শোনাতেন। আপনার গলায় গান শুনতে খুব ইচ্ছে করছে।"
কৌশিক দ্বিমত পোষণ করলো না। কোনোরুপ বাহানাও দিলো না। আজ রাতটা সে তুবার নামে লিখে দিয়েছে। ওর ইশারায় কাঠের পুতুল হয়ে নাচতে রাজি কৌশিক। সেই রেশ ধরেই, নিজেও এবার দুই হাত মাথার নিচে রেখে সোজা হয়ে শুয়ে পড়লো। স্থির হয়ে থাকা চাঁদের দিকে তাকিয়ে খালি গলায় গেয়ে উঠলো,
"তোকে পেয়েছি জীবনে আমার করে।
কি দারুণ ভাগ্য আমার।
ছাড়বো না দুহাত কোনোদিন।
হোক না যা হবার.........!"
গান গাইতে গাইতে এক পর্যায়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো কৌশিক। মুহুর্তেই দৃষ্টি জোড়া শীতল হলো এক মনোরম দৃশ্যে। তুবা ঘুমিয়ে পড়েছে। চাঁদের আলোয় মায়াবী মুখটা থেকে আলাদা এক দ্যুতি ছড়াচ্ছে। এই মুখের মায়ায় বরাবর আটকে যায় কৌশিক। ঘায়েল হয়ে ক্ষত বিক্ষত হয় হৃদয়। কৌশিক ঝুঁকে এলো ঘুমন্ত তুবার দিকে। দুজনের মাঝে ইঞ্চি খানিক দুরত্ব রেখে নাকে নাক ঘষে ফিসফিস করে বলল,
"যতদিন এই দেহে প্রাণ আছে, তোর হাত আমি ছাড়বো না জান। কোনোদিন না।"
চলবে?