#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ২৮
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
⛔কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন।⛔
**************
তুবাকে ঘুম পাড়িয়ে মাত্রই চোখ দুটো লেগে গেছিলো ময়না বেগমের। ঠিক এমন সময় সেখানে মৌমিতার আগমন ঘটলো। পানি ভর্তি জগটা টেবিলে রেখে আলতো করে ময়না বেগমকে ডাকলো। এক ডাকেই সাড়া দিলেন ময়না বেগম। হুড়মুড়িয়ে উঠে বললেন,
"কি হয়েছে?"
"কিছু হয়নি চাচি। তুমি নিজের ঘরে যাও, তুবার কাছে আজ আমি থাকছি।"
ময়না বেগম এবার উঠে বসলেন। অবাক সুরে বললেন,
"ওমা কেনো?"
"কেনো মানে? ছোটো চাচ্চু নিজের ঘরে একা আছে। এমনিতেই হাই প্রেশার তার। আজ আবার তুবার জন্য পুরো পরিবার দুশ্চিন্তায় ছিলো। রাতে যদি চাচ্চুর প্রেশার বেড়ে যায়? একা একা কি করবে বলো তো? দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তখন শুধু হা হুতাশ করতে হবে।"
মৌমিতার যুক্তির পিছে চিন্তায় পড়ে গেলেন ময়না বেগম। তুবাকে খুঁজে না পেয়ে সন্ধ্যায় একদফা প্রেশার বেড়ে গিয়েছিল তাওহীদ সাহেবের। রাতে যদি আবার বাড়ে? ভাবতে ভাবতে ঘাড় ঘুরিয়ে একবার মেয়ের দিকে তাকালের। চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে তুবা। হয়তো ঘুমিয়েই পড়েছেন। তিনি ইতস্তত মনে থেমে থেমে বললেন,
"কথা তো তুই ঠিকই বলেছিস। কিন্তু তুবা।"
"আরেহ্, তুমি ওকে নিয়ে চিন্তা করো না। আমি আছি তো। আমি দেখে রাখবো।"
"পারবি তো?"
"পারবো পারবো। তুমি যাও তো।"
ময়না বেগম একটু আস্বস্ত হলেন। শাড়ির আঁচল টেনে ঘরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালেন। কয়েক কদম গিয়ে আবারও ঘুরে বললেন,
"কোনো সমস্যা হলে ডাকিস।"
"তুমি নিশ্চিন্তে গিয়ে ঘুমাও চাচি। কোনো সমস্যা হবে না। দরকার পড়লে তোমার মেয়েকে কোলে করে ওয়াশরুমে নিয়ে যাবো। ঠিক আছে?"
ময়না বেগম আর কথা বাড়ালেন না। মৌমিতা সবার বড়। ওর দায়িত্ব বোধও বেশি। মেয়েটা খুব দক্ষ হাতে সবকিছু সামলায়। আর সেখানে তুবা তো সবার চোখের মনি। ছোটো থেকে ওরাই তো মেয়েটাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে। তাই চিন্তা ভাবনা ঝেরে ফেলে নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন ময়না বেগম। বারান্দায় আসতেই মুখোমুখি হলেন কৌশিকের।
কৌশিক বারান্দা জুড়ে হাঁটতে হাঁটতে ফোন টিপছিল। ভাবটা এমন, যেনো ওর সব মনোযোগ এক এবং একমাত্র ফোনেই। ময়না বেগম কৌশিককে দেখে একটু থামলেন। নিচু কন্ঠে বললেন,
"এতো রাতে বারান্দায় কেনো?"
"ঘুম আসছিল না চাচি।"
অকপটে জবাব দিলো কৌশিক। ময়না বেগম ফের বললেন,
"আচ্ছা! একটু তুবার ঘরে খেয়াল রাখিস তো বাপ। মৌমিতা আছে ওর সাথে। তবুও একটু খেয়াল রাখিস।"
"চিন্তা করো না চাচি। আমি আছি তো। তোমার মেয়েকে ঠিক সামলে নেবো।"
কৌশিকের ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি দেখা গেলো। ময়না বেগম আর দাঁড়ালেন না। ঝটপট সিঁড়ি মারিয়ে নিচে নেমে গেলেন। কৌশিক উঁকি দিয়ে দেখলো একবার। এরপর ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে সোজা চলে গেলো তুবার ঘরে।
ঘরের চৌকাঠ পার হতেই দেখলো তুবা ফুপিয়ে কাঁদছে। মৌমিতা ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে শান্তনা দিচ্ছে। অথাৎ, মায়ের সামনে এতোক্ষণ ঘুমিয়ে থাকার ভান করছিল তুবা। কৌশিকের মন বলছিল এমন কিছুই হবে। এজন্যই মনটা আনচান করছিল এঘরে আসার জন্য। ভাবতেই ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো কৌশিক। দুই আঙ্গুলের ঘর্ষনে তুড়ি বাজিয়ে বলল,
"ওই হাতি। যা বের হ।"
মৌমিতা এক পলক তাকালো। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"মেয়েটা কাঁদছে ভাই। বেয়াদবি বন্ধ কর।"
"এজন্যই তো বের হতে বলছি। আমার বউ। আমি ঠিক সামলে নেবো। এখানে তোর কোনো কাজ নেই। যা ভাগ।"
রাগে নাক ফুলিয়ে উঠে দাঁড়ালো মৌমিতা। কৌশিকের দিকে একবার আগুন চোখে তাকিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। বিড়বিড় করে দু চারটে গালিও দিলো। মৌমিতা চলে যেতেই কৌশিক আলতো হাতে দড়জা আটকে দিলো। এরপর লম্বা শ্বাস টেনে চলে গেলো তুবার কাছে। কোনো বাক্য ব্যায় না করে সোজা তুবাকে কোলে তুলে নিলো। নিজের কান্না ভেজা মুখটা কৌশিকের গলায় গুঁজে দিলো তুবা। সেভাবেই ফুপিয়ে উঠলো। কৌশিক সোজা চলে গেলো তুবার ঘরের বেলকনিতে।
বেলকনিতে পাতা ইজিচেয়ারে আরাম করে বসে পড়লো কৌশিক। এরপর তুবাকে নিজের মুখোমুখি করে কোলে বসালো। নিস্প্রভ চোখে তাকালো তুবার ক্রন্দনরত মুখে। থেকে থেকে ফুপিয়ে উঠছে মেয়েটা। চোখ থেকে গড়গড়িয়ে তপ্ত নোনাজল ঝরছে। কৌশিক দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে তুবার চোখ মুছে দিলো। অত্যন্ত ঠান্ডা কন্ঠে বললো,
"এখনও কাঁদবি জান? তোকে কাঁদতে দেখে আমার যে বুকে ব্যথা করছে।"
তুবা চোখ মেলে চাইলো একবার। ওই ভেজা দুই চোখে আকাশ সমান ভয় ভেসে বেড়াচ্ছিল। কৌশিকের বুকটা সহসাই মুচড়ে উঠলো। তুবার চোখের অব্যাক্ত ভাষা বুঝতে বিন্দু মাত্র সময় লাগলো না। কৌশিক দুই হাতে তুবার মুখটা আগলে ধরলো। আলতো করে ওষ্ঠ ছুঁইয়ে দিলো তুবার কাঁপতে থাকা ওষ্ঠে। কন্ঠে একরাশ আকুতি ঢেলে ফিসফিস করে বলল,
"এবার তো থেমে যা জান। প্লিজ! আমার বুকটা জ্বলে যাচ্ছে।"
থামার পরিবর্তে তুবার যেনো বেশি কান্না পেলো এবার। এতো আদুরে স্বর শুনলে কোনো মেয়ে কি শক্ত হতে পারে? প্রিয় মানুষের সামনে সব মেয়েরাই আহ্লাদী হয়ে ওঠে। তুবার তার ব্যাতিক্রম নয়। ঠোঁট ফুলিয়ে তুবা জাপ্টে ধরলো কৌশিককে। প্রসস্ত বুকে মুখ গুঁজে ভেজা কন্ঠে বললো,
"আশেপাশের মানুষ গুলো এতো নিষ্ঠুর কেনো কৌশিক ভাই? আমাদের আলাদা করতে সবাই উঠেপড়ে লেগেছে।"
"লাগুক! আমিও দেখি ওরা ঠিক কি করতে পারে।"
"যদি আলাদা করে দেয় আমাদের"
"এই ক্ষমতা এক সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কারো নেই।"
এই পর্যায়ে তুবা মাথা তুলে তাকালো। ছলছল চোখে তাকিয়ে বলল,
"আমার খুব ভয় হয় কৌশিক ভাই। আপনাকে হারানোর ভয় আমাকে ভেতর থেকে পুড়িয়ে দেয়।"
"সব ভয় ডর আজ এখানেই কবর দে জান। একটা কথা মনে রাখবি। কৌশিক আর তুবা আলাদা কেউ নয়। আমরা দুটি দেহ একটি প্রাণ। একটা প্রাণকে মানুষ আলাদা করবে কিভাবে? এটা কি সম্ভব?"
তুবা নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো কৌশিকের চোখে। নিঃশব্দে ব্যাক্ত করলো হাজারও ভালোবাসা। দুজনে যেনো হঠাৎ করেই পুরোপুরি থেমে গেলো। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো পিনপতন নীরবতা। শুধু দুজনের শ্বাস প্রশ্বাসের শব্দ কানে ভেসে আসছে। ইতিমধ্যে বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সাথে এলোমেলো ঠান্ডা বাতাস। তুবার চোখে ঘোর লেগে গেলো। কৌশিকের ঘাড়ে একটা হাত রেখে কিছুটা এগিয়ে গেলো। কৌশিকের শক্ত পুরুষালী ওষ্ঠে নিজের নরম ওষ্ঠ মিলিয়ে দিলো। প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে এক গাঢ় চুম্বনে লিপ্ত হলো দুজন। এর স্থায়িত্ব ছিলো মিনিট খানেক সময়। ছেড়ে দিয়ে কপালে কপাল ঠেকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। শোনা গেলো কৌশিকের গা হিম করা শীতল কন্ঠ,
"আই লাভ ইউ জান।"
এই একটা বাক্য তুবার মনের প্রলয়কারী ঝড় থামিয়ে দেয়। বুকটা শীতলতায় ছেয়ে যায়। ভিষণ সুখ সুখ অনুভব হয় তুবার। মনে হয়, পৃথিবীর সব সুখ ওর পায়ে এসে লুটিয়ে পড়েছে। তুবা লম্বা শ্বাস টেনে কৌশিককে জড়িয়ে ধরলো। দুই পা কৌশিকের কোমরের দুই পাশ দিয়ে ফ্লোর ছুঁয়েছে। সেভাবেই আরও একটু ঘনিষ্ট হলো। কৌশিকের বুকে মাথা রেখে দেহের ভার ছেড়ে দিলো প্রসস্ত বুকে। কৌশিক পরম যত্নে আগলে ধরলো নরম দেহটা। মাথায় আলতো করে চুমু দিয়ে বলল,
"যতক্ষণ আমার বুকে আছিস, তুই নিরাপদ। একটা ফুলের টোকাও লাগতে দেবো না তোর গায়ে। তুই নিশ্চিন্তে ঘুমা জান। আমি আছি তোর সাথে।"
-
-
প্রকৃতির রুপ আজ বড়ই উত্তাল। হিম শীতল ঠান্ডা বাতাস গায়ে কাঁপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে। বাইরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। ঠান্ডা আবহাওয়ায় গায়ে চাদর টেনে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে রাইমা। ঠিক এমন সময় বিপ বিপ শব্দে ফোনটা বেজে উঠলো। প্রশান্তির ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় বিরক্ত হলো রাইমা। কোনোমতে টেনে চোখ খুলে তাকাতেই পরিচিত নাম্বার দেখে ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো রাইমা। আধখোলা চোখে তাকিয়ে ফোনটা রিসিভ করে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বললো,
"নবদম্পতিকে অভিনন্দন।"
ওপাশ থেকে শোনা গেলো সিফাতের ভরাট কন্ঠ,
"মশকরা রেখে নিচে নামো। জলদি।"
"আরে ভাই। আপনাদের মাঝে আমি গিয়ে কি করবো? পছন্দের মানুষকে বিয়ে করেছেন। বাড়ি গিয়ে বাসর টাসর করেন।"
বলতে বলতে হুট করেই চোখ মেলে তাকালো রাইমা। মস্তিষ্কের বাতি আচমকাই জ্বলে উঠলো। সিফাত ওকে নিচে নামতে বললো কেনো? গাধাটা কি বিয়ে করে তুবাকে নিয়ে ওর বাড়িতে এসেছে? তাহলে তো সবাই সব জেনে যাবে। ব্যপারটা বোধগম্য হতেই লাফিয়ে উঠে বসলো রাইমা। আতঙ্কিত কন্ঠে বললো,
"নিচে নামবো মানে? আপনি কোথায়?"
"তোমার বাসার নিচে।"
"কি? আর তুবা? তুবা কোথায়?"
"তুবা এখানে নেই। তুমি জলদি নিচে আসো। দরকারী কথা আছে।"
রাইমা একবার দেয়াল ঘড়িতে নজর বুলালো। রাত একটা পেরিয়ে গেছে। ঘড়ি থেকে নজর সরিয়ে মৃদু কন্ঠে বললো,
"এতো রাতে কিভাবে দেখা করবো?"
"এতোকিছু জানি না আমি। পাঁচ মিনিট সময় দিচ্ছি। হয় তুমি নিজে নিচে আসবে। নাহলে আমি ওপরে যাবো। তোমার জন্য আমি বিপদে পরেছি। এবার বিপদ থেকে তুমিই উদ্ধার করবে।"
বিপদের কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলো রাইমা। কোনো গন্ডগোল হয়নি তো? ভাবতে ভাবতে দৌড়ে ঘরে থেকে বেরিয়ে এলো। গভীর রাত হওয়ায় ওর বাবা মা ঘুমিয়ে আছে। সেই সুযোগে বাইরে বেরিয়ে এলো। গেইটের বাইরে আসতেই দেখলো রাস্তার এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে সিফাত। রাইমা ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে এগিয়ে গেলো। কাছাকাছি গিয়ে মৃদু চিৎকার করে বলল,
"কি গন্ডগোল করে এসেছেন?"
"বিয়ে করতে পারিনি। তুবা পালিয়ে গেছে।"
রাইমার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো। মুখ ঢেকে রাখা ওড়না টাও মাথা থেকে পড়ে গেলো। রাইমা দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"একটা ছোটো মেয়েকে সামলাতে পারেন না। কিসের পুরুষ মানুষ আপনি? আপনাকে বিশ্বাস করাই আমার একদম উচিত হয়নি।"
সিফাত হুট করেই রাইমার বাহু চেপে ধরলো। রাগী কন্ঠে বললো,
"উচিত তো আমার ছিলো না তোমাকে বিশ্বাস করা। তুবা আর কৌশিক ভাইয়ের বিয়ে হয়েছে। এই কথা আমাকে জানাওনি কেনো?"
শেষের বাক্যটা ধমকের সাথে বলল সিফাত। রাইমার চোখে মুখে অবাকের রেশ ছড়িয়ে পড়লো। ও ভ্রু কুঁচকে বলল,
"কি সব যা তা বলছেন? এসব ফালতু কথা কে বললো আপনাকে?"
"তুবা নিজে বলেছে।"
"মিথ্যে বলেছে। আপনার থেকে বাঁচতে মিথ্যে রচনা শুনিয়েছে। আর আপনি সেই রচনায় বিশ্বাস করে এতবড় ভুল করলেন। মাথামোটা লোক।"
সিফাত রেগে গেলো। রাইমার বাহু শক্ত করে চেপে ধরে ঝাঁকিয়ে বলল,
"একদম আমাকে গালাগাল করবে না। তোমার উস্কানিতে ঝোঁকের বশে এতবড় পদক্ষেপ নিয়েছি আমি। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি কাজটা ঠিক হয়নি। এবার অন্য সবাই ছেড়ে দিলেও কৌশিক ভাই আমাকে ছাড়বে না।"
রাইমা বিরক্ত হলো। চোখ মুখ কুঁচকে বলল,
"ভালোবাসার জন্য এটুকু ঝুঁকি নিতে না পারলে কিসের পুরুষ আপনি? ভেবেছিলাম তুবাকে বিয়ে করে গ্রামে নিয়ে গিয়ে আপনার ভালোবাসা পূর্ণতা দেবেন। এদিকে আমিও নিজের ভালোবাসা পেয়ে যাবো। ধুর, সব ঘেঁটে গেলো।"
রাইমার কন্ঠে এক আকাশ সমান বিরক্তি। সিফাত ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,
"এবার কি করবো তাহলে?"
"আপাতত কিছুদিন লুকিয়ে থাকুন। পরিবেশ ঠান্ডা হলে গ্রামে ফিরে যাবেন।"
সিফাত সঙ্গে সঙ্গে রাইমার হাত ধরে ওর বাড়ির দিকে হাঁটা দিলো। রাইমা হকচকিয়ে প্রশ্ন করলো,
"কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে?"
"তোমার বাসায়।"
"তাহলে আপনি কেনো যাচ্ছেন?"
"তোমার বাসাতেই কয়দিন গা ঢাকা দিয়ে থাকবো তাই।"
রাইমার পা দুটো সেখানেই জমে গেলো। চোখে বিস্ফোরণ ঘটলো। ভয়ে বুক কেঁপে উঠলো। এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলল,
"পাগল নাকি? আমার বাসায় কি পরিচয়ে রাখবো আপনাকে?"
"সেটা তোমার বিষয়। আমি তো সেসব নিয়ে ভাববো না। তোমার জন্য আমি ফেসে গেছি। এখন তুমিই আমাকে উদ্ধার করবে। নাহলে আমি সোজা কৌশিক ভাইয়ের সামনে আত্নসমর্পণ করবো। সেই সাথে বলে দেবো তোমার কথায় এই সবকিছু করেছি আমি। তারপর যেটা হবে তার জন্য আমি দায়ী থাকবো না।"
সিফাতের গা ছাড়া জবাবে শুকনো ঢোক গিলল রাইমা। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,
"আপনি কিন্তু আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছেন।"
"যা খুশি ভাবতে পারো। তবে এই মুহুর্তে আমার কিছু খাওয়া এবং ঘুম প্রয়োজন। দুটোরই ব্যবস্থা করো। যতদিন তুমি আমার কথা শুনবে ততদিন বিপদমুক্ত থাকবে।"
রাইমা পড়ে গেলো মহা বিপাকে। চারিদিক থেকে বিপদ একসাথে ঘিরে ধরেছে মেয়েটাকে। এখন সে কিভাবে সামাল দেবে সবকিছু?
চলবে?