ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

২৯তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ২৯

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

⛔কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন।⛔

*****************

রাতের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে রাইমার দুশ্চিন্তা। সিফাত যেনো গো ধরে আছে। সে কোনোকিছুর বিনিময়েই রাইমার পিছু ছাড়বে না। নিজের উদ্দেশ্যে অসফল হয়ে সেই জেদ রাইমার ওপর খাটাচ্ছে।

রাইমা অধৈর্য্য হলো। দুই হাত কোমরে রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। কোনো উপায় নেই। আপাতত সিফাতের এই অন্যায় আবদার মানতেই হবে। তাই অগত্যাই সিফাতকে নিয়ে হাঁটা দিলো বাড়ির দিকে। রাইমার বাবা মা এই মুহুর্তে ঘুমিয়ে থাকায়, সিফাতকে বাড়িতে ঢোকাতে খুব একটা সমস্যা হলো না। এছাড়া রাইমার বাবা মা দু'জনেই চাকরি করেন। এটাই রাইমার জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ। সকাল সকাল দুজনে যার যার অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়বেন। এটুকু সময় সামাল দিলেই হবে। তাহলেই আর খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হবে না।

ভাবতে ভাবতে এক প্রকার শ্বাস আটকেই সিফাতকে নিজের ঘরে নিয়ে এলো। সিফাতকে বসতে বলে রান্নাঘর থেকে রাতের বেঁচে যাওয়া খাবারও নিয়ে এলো। খাবারের প্লেট টেবিলের ওপর রেখে কাঠকাঠ কন্ঠে বললো,

"মানবতার খাতিরে এসব করছি। যেহেতু আমার কথাতে আপনি গ্রাম থেকে ছুটে এসেছেন, তাই আপনাকে সাহায্য করলাম। তবে আজকের রাত টুকুই। কালকেই আপনি নিজের পথ নিজে বেছে নেবেন। এর বেশি আমার বাড়িতে রাখতে পারবো না আপনাকে। বাবা মা জানলে সমস্যা হবে।"

রাইমার কথার বিপরীতে মৃদু হাসলো সিফাত। ইতিমধ্যে সে খাওয়া শুরু করে দিয়েছে। সারাদিন অভুক্ত থাকায় খাবারগুলো প্রোগ্রাসে গিলছে। খেতে খেতেই সিফাত জবাব দিলো,

"কাল যাওয়া সম্ভব নয়। কৌশিক ভাই ক্ষেপে আছে। একটু আগে খুঁজতে বেরিয়েছিল আমাকে। ভাগ্যিস আমি তাকে দেখে ফেলেছিলাম। খুব কষ্টে সেখান থেকে পালিয়ে এসেছি। আপাতত তার সামনে যাওয়া সম্ভব নয়। ওর হাত খুব শক্ত। ঘুসি গুলো বেশ জোরেই লাগে।"

রাইমা বিরক্ত হলো খুব। নাক মুখ কুঁচকে বিড়বিড় করলো,

"কাপুরুষ একটা।"

সিফাত শুনলো বোধহয়। কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না। বরং ঝটপট খাওয়া শেষ করে আদেশ সুরে বললো,

"পানি দাও তো।"

রাইমা চোখ পাকিয়ে তাকালো। ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললো,

"এই! একদম আমাকে হুকুম করবেন না। আমি আপনার বউ নই যে আপনি যা হুকুম করবেন সেটাই করবো।"

"আমার বউ হওয়ার কোনো যোগ্যতাও নেই তোমার।"

"আপনি কিন্তু আমাকে অপমান করছেন।"

"তোমার মতো অভদ্র মেয়ের জন্য এটাই উপযুক্ত ব্যবহার।"

রাগে রাইমার নাক ফুলে উঠলো। ইচ্ছে তো করছে আপদ টাকে লাথি মেরে ঘর থেকে বের করে দিতে। কিন্তু এই মুহুর্তে রাইমা নিরুপায়। তাই অপমান গুলো দাঁতে দাঁত চেপে হজম করে নিলো। আর কোনো কথা না বাড়িয়ে ধুপধাপ কদম ফেলে বেলকনির দিকে চলে গেলে। বেলকনির দড়জার কাছে যেতেই সিফাত বলে উঠলো,

"তোমার ঘরে আছি বলে নিজেকে আবার রাজকুমারী ভেবে বসো না। আমি আগেই বলেছি, আমার বউ হওয়ার যোগ্যতা তোমার নেই। এই যোগ্যতা এক এবং একমাত্র তুবার আছে। সো নিশ্চিন্তে থাকো। তোমার প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট দেখাবো না।"

রাইমা তবুও কোনো জবাব দিলো না। চোখ মুখ খিঁচে ঠাস করে বেলকনির দড়জা আটকে দিলো। ছোটোখাটো বেলকনির ফ্লোরে বসে দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দিলো। যত যাই হোক, সিফাত একজন পুরুষ মানুষ। ওর সাথে এক ঘরে থাকার মতো রিস্ক রাইমা কিছুতেই নেবে না।

-

-

রাত পেরিয়ে এক মিষ্টি সকালের আগমন। সকাল থেকেই ভুঁইয়া মঞ্জিল সাজ সাজ রবে মেতে মেতে উঠেছে। আজ বাড়িতে আমন্ত্রিত বিশেষ মেহমান, ডক্টর রাতুলের পরিবারের আগমন ঘটেছে যে। যদিও ওদের গতকাল বিকেলে আসার কথা ছিলো। কিন্তু তুবা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় মৌমিতা ফোন দিয়ে নিষেধ করে দিয়েছিল। এজন্য একদিন পরে আসলো তারা।

অতিথিদের আপ্যায়নে ব্যাতিব্যাস্ত পুরো পরিবার। এই যেমন, বাড়ির রমনীগণ বাহারি রকমের রান্নায় ব্যাস্ত। আর বাড়ির কর্তারা ব্যাস্ত অতিথিদের সাথে খোশগল্পে। মাঝে মাঝে রিয়া আর নীরব রান্নাঘর থেকে খাবারের বাটি টেবিলে সাজাচ্ছে। মৌমিতা নিজের ঘরে। তার নিচে নামার জন্য এখনও ডাক পরেনি। তবে এই মুহুর্তে বাড়িতে পুরো পরিবার উপস্থিত থাকলেও উপস্থিত নেই কৌশিক আর তুবা। সেই সাত সকালে তুবাকে নিয়ে বেরিয়েছে কৌশিক। বলে গেছে কোনো দরকারী কাজ আছে। ছেলের এমন হেয়ালি পনায় চরম বিরক্ত জামাল সাহেব। শুধু মাত্র মেহমান দের জন্য মেজাজটা নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

-

-

এদিকে তুবাকে নিয়ে সোজা স্কুলে চলে এসেছে কৌশিক। ভেতরে জ্বলতে থাকা রাগের আগুন এখনও এক ফোঁটাও কমেনি। সিফাতকে খুঁজে না পেয়ে রাগটা তরতর করে বেড়েই চলেছে।

গেইটের সামনে গাড়ি থামিয়ে তুবার হাত ধরে নেমে গেলো কৌশিক। স্কুলের গেইট দিয়ে না ঢুকে ডুকলো পাশাপাশি দাঁড় করানো কলেজ গেইটে। ভবনে ঢুকে আগে খুঁজে বের করলো লাইব্রেরিয়ানকে।

তুবার ভাষ্যমতে, সে লাইব্রেরির ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে রিমিকে খুঁজছিল। কিন্তু রিমি তখন লাইব্রেরিতে ছিলো না। তাই ওকে খুঁজতে খুঁজতে তুবা বাইরে বেরিয়ে আসে। বারান্দায় দেখা হয় লাইব্রেরিয়ান চাচার সাথে। তিনি তুবাকে বলেন, গার্লস কমনরুমে তুবার হাসবেন্ড ওর জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু তুবা সেখানে গিয়ে কাউকে দেখতে পায় না। এর কিছুক্ষণ পর সেখানে সিফাত আসে। প্রথমে তো সিফাতকে দেখে বেশ চমকে যায় তুবা। গ্রাম থেকে হঠাৎ এই লোক ঢাকায় কি করে এলো? তবে তুবার ভাবনা এগোতে না দিয়ে সিফাত মিষ্টি হেঁসে বলেছিল, "কৌশিক ভাই তোমার জন্য সারপ্রাইজ প্ল্যান করেছে। আমার সাথে চলো।" বোকা মেয়েটা কৌশিকের নাম শুনেই গলে গেছে। ভালো মন্দ বিচার না করে সিফাতের সাথে চলে গেছিলো স্কুল থেকে। কিন্তু অটোতে ওঠার পর তুবার চোখ দুটো আচমকাই ঘুমে তলিয়ে যায়। যখন ঘুম ভাঙে, তখন তুবা নিজেকে সেই অটোর মধ্যেই আবিষ্কার করে। আর অটোটা তখন ছিলো কাজি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে।

গত রাতের কথা মনে পড়তেই গায়ে কাটা দিয়ে উঠলো তুবার। চলতে চলতে এক পলক কৌশিকের দিকে তাকালো। সকালে ঘুম থেকে উঠে এই সব কাহিনি বিস্তারিত বলেছে কৌশিককে। সেই মুহুর্তেই ওকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে কৌশিক।

লাইব্রেরিতে এসে কিছুক্ষণ খোঁজা খুঁজি করতেই লাইব্রেরিয়ানকে পেয়ে গেলো কৌশিক। ভদ্রলোক সেলফে বই সাজিয়ে রাখছিলেন। তুবার হাতটা আলতো করে ধরে সেদিকে পা বাড়ালো কৌশিক। হঠাৎ তুবাকে আসতে দেখে ভদ্রলোক ঘুরে দাঁড়ালেন। তুবা সবার আগে প্রশ্ন ছুড়লো,

"গতকাল আমাকে যে আমার হাসবেন্ড ডেকে পাঠিয়েছিল, সেই কথা আপনাকে কে বলেছিল চাচা?"

"তোমাদের আত্মীয় যে মেয়েটা আছে না? এই কলেজেই পড়ে। সেই তো আমাকে বললো তোমাকে ডেকে কমনরুমে পাঠাতে। কেনো? সেখানে তোমার হাসবেন্ডকে পাওনি?"

লোকটার চোখে মুখে প্রশ্ন। তুবা আঁড়চোখে তাকালো কৌশিকের দিকে। দাঁতে দাঁত চেপে দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে কৌশিক। লাইব্রেরিয়ানের আকার ইঙ্গিতে স্পষ্ট বুঝতে পারছে নাটের গুরু কে। তবুও নিশ্চিত হতে পকেট থেকে ফোনটা বের করলো কৌশিক। এরপর রাইমার আইডি সার্চ করে ওর একটা ছবি বের করলো। এরপর সেটা লাইব্রেরিয়ানকে দেখিয়ে বলল,

"এই মেয়েটা?"

রাইমার ছবি এক দেখাতেই চিনে ফেললেন তিনি। মাথা দুলিয়ে বললেন,

"হ্যা, এটাই তো। কিন্তু কি হয়েছে?"

কৌশিকের শান্ত মেজাজ মুহুর্তেই বিগড়ে গেলো। কপালের মাঝ বরাবর রগ ফুলে ফেপে উঠলো। গলার দুইপাশের শিরাও দাঁড়িয়ে গেলো যেনো। কৌশিক হাত মুষ্টিবদ্ধ করে কিছু একটা ভাবলো। এরপর লাইব্রেরিয়ানকে উদ্দেশ্য করে কাঠ কাঠ কন্ঠে বললো,

"আমার সাথে চলুন। দরকার আছে।"

এটুকু বলেই তুবার হাতটা ধরে গটগট পায়ে বেরিয়ে গেলো কৌশিক। পেছন পেছন লাইব্রেরিয়ানও আসলো।

-

-

ঘড়িতে সময় তখন সকাল নয়টা। মাত্রই ক্লাস শুরু হয়েছে। সবগুলো ক্লাসে স্টুডেন্টদের চেঁচামেচি আর হৈচৈ হট্টগোলে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে যেনো। রাইমাদের ক্লাসে টিচার ঢুকেছে মিনিট দশেক আগে। এই মুহুর্তে তিনি খসখস শব্দে বোর্ডে কিছু লিখে যাচ্ছেন। ঠিক এমন সময় ক্লাসের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন কলেজের দপ্তরি। ক্লাস টিচারকে উদ্দেশ্য করে বললেন,

"স্যার, রাইমা কে? ওর সাথে একজন দেখা করতে এসেছে। শহীদ মিনারে অপেক্ষা করছে।"

ভরা ক্লাসে আচমকা নিজের নাম শুনে অপ্রস্তুত উঠে দাঁড়ালো রাইমা। এই অসময়ে ওর সাথে আবার কে দেখা করতে আসলো? ভাবতে গিয়ে সমতল ভ্রুদ্বয় কুঁচকে গেলো। দপ্তরি তাড়া দিয়ে নিজের কাজে চলে গেলো। এদিকে রাইমার মাথায় হাজারও চিন্তা দানা বাঁধলো। ওর সাথে কার দেখা করার প্রয়োজন হতে পারে? সিফাতকে তো নিজের ঘরে রেখে ঘর তালা দিয়ে এসেছে। তাহলে?

ভাবতে ভাবতে রাইমা ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলো।

তবে শহীদ মিনারের কাছাকাছি আসতেই চমকে উঠলো রাইমা। চোখ দুটো মার্বেলের আকার ধারণ করলো। শহীদ মিনারের সিঁড়িতে পাশাপাশি বসে আছে কৌশিক আর তুবা। কৌশিক বাদামের খোসা ছাড়িয়ে তুবার হাতে দিচ্ছে। তুবা সেগুলো একে একে মুখে পুরে নিচ্ছে। ভাবটা এমন, যেনো তুবা বাদামের খোসা গুলোও ছাড়াতে পারে না।

আচমকা এখানে কৌশিককে দেখে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলো রাইমা। নিজের করা দুঃসাহসিকতার কথা মনে পড়ে বুকে ভয় জমে গেলো। তখন এই ভয়টা কাজ না করলেও এই মুহুর্তে বেশ ভয় লাগছে। তবে নিজের অপরাধটা ঢেকে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করলো রাইমা। কপাল কুঁচকে বলল,

"একি! আপনারা?"

"হুম আমরা। কেনো, খুশি হওনি?"

বেশ শান্তশিষ্ট ভঙ্গিতে জবাব দিলো কৌশিক। চোখ মুখ বেজায় শান্ত। রাইমা ফের বলে উঠলো,

"না মানে, হঠাৎ এভাবে দেখা করতে এলেন যে?"

"এমনি এমনি আসিনি রাইমা। বিশেষ দরকারে এসেছি।"

বলতেই হাতে রাখা শেষ বাদামের খোসা ছাড়িয়ে তুবার হাতে সবগুলো দিলো কৌশিক। এরপর লাফ দিয়ে উঠে কয়েক কদম এগিয়ে এলো। শান্ত গলায় বলল,

"তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ প্ল্যান করেছি।"

বলতে যে দেরি, সেকেন্ডের ব্যবধানে কৌশিকের শক্ত হাতের থাপ্পড় পড়লো রাইমার গালে। মুহুর্তেই কি থেকে কি হয়ে গেলো বুঝে উঠতে পারলো না রাইমা। তবে কৌশিকের বলিষ্ঠ হাতের দাবাং মার্কা থাপ্পড়ে দেহের ভারসাম্য হারিয়ে ছিটকে পড়ে গেলো মাটিতে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য অনুভুতি শূন্য লাগলো সবকিছু। এরপর বোধ শক্তি ফিরতেই গালে হাত রেখে ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো রাইমা। গালটা আগুনের মতো গরম হয়ে গেছে। পাতলা চামড়া জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। সেই অবস্থাতেই রাইমার বাহু ধরে টেনে দাঁড় করালো কৌশিক। চোখ থেকে যেনো আগুনের ফুলকি ঝরছে। কৌশিকের হঠাৎ এই রুপ পরিবর্তনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো রাইমা। ঠিক সেই মুহুর্তে কৌশিক হিংস্র কন্ঠে গর্জে উঠলো,

"এই থাপ্পড়টা অত্যাধিক সাহস দেখানোর জন্য।"

বলেই সপাটে আরেক গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিলো। এবার রাইমা বিপরীত দিকে ছিটকে পড়ে গেলো। দুই গালে দুটো থাপ্পড় খেয়ে পুরো মুখটা অসার হয়ে গেলো যেনো। মনে হচ্ছে দাঁতগুলো সব খুলে খুলে পড়ে যাচ্ছে। গালে কোনো বোধ শক্তি নেই। এরই মাঝে মাটিতে হাঁটু গেড়ে ঝুঁকে গেলো কৌশিক। দাঁতে দাঁত চেপে কিড়মিড় করে বলল,

"দ্বিতীয় থাপ্পড় তুবার হাতের ওই আঘাতের জন্য।"

কৌশিকের এই কথা কানে আসতেই তুবা হুট করেই নিজের হাতের দিকে তাকালো। কাল সিফাত হাতটা শক্ত করে ধরে রাখার ফলে সেখানে কালসিটে দাগ পড়ে গেছে। এই সামান্য দাগের জন্য এতো জোরে থাপ্পড়? তুবা হতভম্ব হয়ে গেলো। কৌশিককে না থামিয়ে বোকার মতো শুধু সামনের দৃশ্য দেখতে লাগলো। ঠিক এই পর্যায়ে কৌশিক খপ করে রাইমার গলা চেপে ধরলো। অত্যাধিক রাগে হিসহিস করে বলল,

"তোর সবচেয়ে বড় অপরাধ, তুই আমার কলিজায় হাত দিয়েছিস। এই অপরাধের শাস্তি তো থাপ্পড়ে হবে না মামার মেয়ে। কি শাস্তি দেবো বল? মেরে ফেলবো? চল মেরেই ফেলি। তোর বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।"

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন