#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ৪০
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
"শুনেছি মন থেকে চাইলে নাকি সবকিছু পাওয়া যায়। আমিও তো কৌশিক ভাইকে মন থেকে চেয়েছিলাম। তাহলে তাকে কেনো পেলাম না সিফাত ভাই?"
রাইমার কন্ঠে ছিলো একরাশ হতাশা। এক বুক হাহাকার। না পাওয়ার তীব্র যন্ত্রণা। সিফাত নির্বিকার ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। জবাব দেয়ার মতো কোনো ভাষা খুঁজে পেলো না। কিইবা বলবে? কি বলে শান্তনা দেবে? সে নিজেও তো একই পথের পথিক। সেও তো তুবাকে চেয়েছিল। একদম মন থেকে চেয়েছিল। কিন্তু নিয়তির চাওয়া বোধহয় ভিন্ন কিছু। তাই তো, আজ ওদের দুজনের প্রাপ্তির খাতা শূন্য। অপর দিকে কৌশিক আর তুবা পরিপূর্ণ।
-
-
ভুঁইয়া মঞ্জিল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে খুশির আমেজ। বাড়ির বড়ো মেয়ে এবং মেয়ে জামাই এক ঝলক খুশির জোয়ার নিয়ে হাজির হয়েছে বাড়িতে। বাড়ির গিন্নীরা সবাই জামাই আদরে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন। বাচ্চারা, একমাত্র দুলাভাইকে ঘিরে জমিয়েছে আড্ডার আসর।
তখন সবে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। এই, আনুমানিক রাত নয়টার মতো বাজে। রাতের খাওয়া শেষে সবাই আড্ডার আসর বসিয়েছে ছাঁদে। বাচ্চাদের আড্ডায় বড়রা কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ চালাতে চায়নি। এজন্য সবাই যার যার ঘরে চলে গেছেন ঘুমানোর উদ্দেশ্য। পুরো ছাঁদ জুড়ে বর্তমানে বাচ্চাদের বিচরণ চলছে। ছাঁদের ঠিক মাঝ বরাবর মাদুর পেতে সবাই গোল হয়ে বসেছে। মাঝখানে চিপস আর কোকের বোতল রাখা। পাশে কিছু ফলও রাখা আছে। কর্মজীবনে ব্যস্ততার জন্য ভাইবোনদের মধ্যে আর আগের মতো আড্ডা দেওয়া হয়না। তাই তো একটু সুযোগ পেলেই ওরা ছাঁদে আসর পেতে বসে। জীবন থেকে চলে যাওয়া এক সেকেন্ড সময়ও নষ্ট করা অনুচিত।
ভাইবোনদের আড্ডার এক পর্যায়ে উঠে আসলো কৌশিক তুবার বিয়ের কথা। বাড়িতে আলোচনা চলছে ওদের বিয়ের বিষয়ে। শুরুতে জামাল সাহেব না মানলেও বাচ্চার আগমনের কথা শুনে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। রাগ জেদ ভুলে তিনি সম্পর্কটাকে মেনে নিয়েছেন। সেই সাথে যত দ্রুত সম্ভব, ছোটো পরিসরে একটা আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ওদের বিয়ের ঘোষণা দেবেন। কথাটা শোনার পর থেকেই বাচ্চারা সবাই হাওয়ায় উড়ছে। রাতুল সবার মাঝে আগ বাড়িয়ে কথা ছুড়লো,
"কি! শালা বাবু! মানুষ তো আগে বিয়ে করে বউ বানায়। তারপর বাচ্চা পায়। তুমি তো বিয়ের দিন বউ বাচ্চা একসাথে ঘরে তুলবে। ফিলিংস কেমন?"
প্রশ্নটা করেই দাঁত কপাটি বের করে হাসলো রাতুল। কৌশিক তখন কমলার খোসা ছাড়াতে ব্যাস্ত। খোসা থেকে কমলার কোষগুলো বের করে একটা একটা করে তুবার হাতে দিচ্ছে। তুবাও বেশ সংকোচন বিহীন মনে কমলা খেয়ে যাচ্ছে। ঠিক এমন পর্যায়ে প্রশ্ন ওঠায় এক পলক মাথা তুলে চাইলো কৌশিক। পরপরই আবারও নিজের কাজ করতে করতে বলল,
"ইনফরমেশনে একটু মিস্টেক আছে দুলাব্রো। আমিও তথাকথিত নিয়ম অনুযায়ী আগে বিয়ে করেছি। দু বছর সংসার করেছি। এরপরই বাচ্চা আসছে। আপনার এই ভুলভাল ইনফরমেশনের জন্য আমার তো বদনাম রটে যাবে।"
"সে যেটাই হোক। ফিলিং কেমন সেটা বলো?"
এই পর্যায়ে কৌশিকের চলন্ত হাত জোড়া থেমে গেলো। আঁড়চোখে একবার তুবার দিকে তাকালো। তুবা তখন লজ্জায় মাথা নিচু করে রেখেছে। চোখ তুলে তাকানোর অবস্থাতে নেই মেয়েটা। তুবাকে অতিরিক্ত লজ্জা পেতে দেখে কৌশিক আড়ালে হাসলো। চোখের দৃষ্টি জোড়া তুবার ঝুঁকিয়ে রাখা মুখের দিকে নিবদ্ধ রেখে বলল,
"ফিলিং তো অসাধারণ। একদম হৃদয় শীতল করা। হার্টবিট থমকে দেয়া। মেশিন কাঁপিয়ে তোলা।"
কৌশিক কথা শেষ করার আগেই ভুসভুস করে মুখের কোক ফেলে দিলো নীরব। ছেলেটা মাত্রই কোকের বোতলে একটা চুমুক দিয়েছিল। তরল টুকু গিলতে যাবে ঠিক এমন সময় ভাইয়ের ফিলিংসের এমন ভয়নাক বর্ননা নীরবের কিডনি কাঁপিয়ে তুলেছে। ঝাঁঝালো কোঁকা কোলা নাকে মুখে উঠে বেহাল অবস্থা। এদিকে বাকি সবাই যার যার মতো ঠোঁট টিপে হাসছে। এমন পরিস্থিতিতে তুবা পড়ে গেলো বেজায় বিপাকে। লজ্জায় কান দুটো দিয়ে গরম ধোঁয়া বেরিয়ে গেছে। এখানে বসে থাকলে পাক্কা মেয়েটা দম বন্ধ হয়ে মরে যাবে। তাই বাঁচার তাগিদে হুড়মুড়িয়ে উঠে পড়লো তুবা। আগে পিছে না তাকিয়ে দৌড়ে চলে গেলো সেখান থেকে। এদিকে তুবাকে দৌড়াতে দেখে আঁতকে উঠলো কৌশিক। পেছন থেকে চেচিয়ে উঠলো,
"তুবা দাঁড়া। দৌড়াচ্ছিস কেনো বেয়াদব?"
তুবা শুনলো না। এক ছুটে নিচে নেমে গেলো। এতে করে কৌশিকের চিন্তা কমার বদলে বাড়লো। মেয়েটা ভিষণ ছটফটে। সারাক্ষণ তুড়ুৎ ফুড়ুৎ করে ছুটে বেড়ায়। পড়ে গেলে কি হবে? ভাবতে ভাবতে উঠে দাঁড়ালো কৌশিক। দুই হাতে কমলার খোসা গুলো ঝেড়ে ফেলে যেতে যেতে বললো,
"ইউ গাইস ক্যারি অন। আমি আসছি।"
কথাটুকু বলতে যে দেরি। সঙ্গে সঙ্গে ছুট লাগালো সিঁড়ির দিকে। পেছন থেকে ভেসে এলো ভাই বোনদের উচ্চ কন্ঠের হাসির আওয়াজ।
-
-
তুবা ছুটতে ছুটতে সিঁড়ির একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছে। ঠিক এমন সময় খপ করে ওর হাতটা ধরে নিলো কৌশিক। বাঁধা পেয়ে ধেমে গেলো তুবা। ধীরে সুস্থে পেছন ফিরে তাকালো। কৌশিক চোয়াল জোড়া শক্ত করে রেখেছে। শক্ত চাহনি টাই বলে দিচ্ছে ছেলেটা বেজায় রেগে আছে। সেই অবস্থাতেই তুবাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরলো কৌশিক। দুই বাহু শক্ত করে ধরে ঝাঁকিয়ে বলল,
"এমন ব্যাঙের মতো লাফাস কেনো বেয়াদব? পড়ে গেলে কি হবে ভেবে দেখেছিস?"
"কি হবে?"
তুবার সহজ জবাব। বিপরীতে কৌশিক রেগে কটমট করে তাকালো। রেগে কিছু বলতে যাবে ঠিক সেই মুহুর্তে কৌশিকের নজর গেলো তুবার গলার নিচে। তুবার পড়নের জামার গলাটা একটু বেশিই বড়ো। যার ফলে বুকের মাঝ বরাবর কালো কুচকুচে তিলটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। তিলটা চোখে পড়তেই থমকে গেলো কৌশিক। চোখের দৃষ্টি জমে গেলো। বুকের ভেতর হঠাৎ করেই নড়েচড়ে উঠলো। অবাধ্য অনুভুতি গুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো। পুরুষালী ঠোঁট জোড়া নিসপিস করে উঠলো কালো বিন্দুটা ছুঁয়ে দিতে। নিজের দুর্বলতা চোখের সামনে ধরা দিতেই মাথা ধরে গেলো কৌশিকের। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি জোড়া সেদিকে রেখেই জিভ দিয়ে গাল ঠেলে তাকিয়ে রইলো। পরপরই পেছন ফিরলো কৌশিক। দুই হাত কোমরে রেখে লম্বা করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। হুট করে পেছন ফিরে বলল,
"সিডিউস করতে চাইছিস আমাকে?"
তুবা বোকার মতো তাকালো একবার। অবোধের মতো মাথা ডানে বামে নেমে বলল,
"না তো। একদম না।"
"তাহলে এগুলো বের করে রেখেছিস কেনো? ঢাক বলছি। একদম আমার সামনে এভাবে আসবি না। আমি কন্ট্রোললেস হয়ে যাই।"
তুবা একবার তাকালো নিজের দিকে। পরপরই চোখ ছোটো ছোটো করে কৌশিকের দিকে চাইলো। দুই হাতে কোমরে রেখে ঝগড়া করার ভঙ্গিতে বলল,
"আপনি এবং আপনার কন্ট্রোল, দুটোই অসভ্য।"
"তাই? তাহলে অসভ্যতামির প্রমাণ আরও একবার দেই?"
বলেই দুকদম সামনে এগিয়ে আসলো কৌশিক। ভেবেছিল তুবা ভয়ে পিছিয়ে যাবে। তবে ওর ধারণাকে সম্পুর্ন ভুল প্রমান করে এগিয়ে এলো তুবা। পায়ের আঙ্গুলে ভর দিয়ে উঁচু হয়ে, এক হাতে কৌশিকের গলা জড়িয়ে ধরলো। অন্য হাতে কৌশিকের ডান হাতটা নিয়ে নিজের পেটের ওপর রাখলো। কন্ঠ খাদে নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"দুঃখিত জনাব। আমি জানি, এই মুহুর্তে আপনি নিরুপায়। তাই তো জ্বালানোর কোনো সুযোগ হাতছাড়া করছি না। তো বলুন? যাবো নাকি?"
বলেই চোখের ইশারায় ঘরের দিকে দেখিয়ে দিলো তুবা। চোখে মুখে স্পষ্ট বিজয়ের হাসি। কৌশিককে জ্বালিয়ে মেয়েটা বেশ মজা পাচ্ছে। সেটা তুবার দুষ্টুমিতে ভরা চাহনিতেই স্পষ্ট। কৌশিক আহত চোখে তাকালো একবার। হতাশ সুরে বললো,
"প্রতিশোধ নিচ্ছিস জান? আমি অধৈর্য্য হয়ে গেলে তখন কিন্তু ছাড়বো না।"
"দেখা যাবে।"
বলেই কৌশিকের নাক টেনে দিলো তুবা। এরপর হেলেদুলে নিজের ঘরের দিকে হাঁটা দিলো। পেছনে রয়ে গেলো হতভম্ব কৌশিক। ছেলেটার বুকের ভেতর ধরাস ধরাস করছে। মেয়েটা সুযোগ পেয়ে বড্ড বেশি জ্বালাচ্ছে। এর শোধ কৌশিক ঠিক তুলবে। তুলবেই তুলবে।
-
-
রাত তখন গভীর। পুরো শহর তখন ঘুমে বিভোর। দূর থেকে ভেসে আসা কিছু বেওয়ারিশ কুকুরের ডাক ছাড়া আশেপাশে আর কোনো শব্দের চিহ্ন নেই। এই মাঝরাতে অন্ধকারের চাঁদর গায়ে মুড়িয়ে বেলকনিতে বসে আছে নীরব। কানে চেপে ধরে রাখা তার সেলফোন। মাঝরাতে প্রেয়সীর সাথে প্রেমালাপে বিভোর। নতুন নতুন প্রেমের সূচনা হয়েছে তার। বহু কষ্ট এবং ত্যাগের বিনিময়ে অবশেষে রিমিকে নিজের ভালোবাসা বোঝাতে পেরেছে। রিমিও মেনে নিয়েছে। নতুন কপোত-কপোতী এখন রাত জুড়ে প্রেমালাপে মগ্ন থাকে। তবে ওদের মধ্যে প্রেমের আলপা চলতে চলতে আচমকাই ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। এই যেমন দীর্ঘক্ষন প্রেম ভালোবাসা নিবেদনের মাঝে রিমি বলে উঠলো,
"আমার না খুব করে নীরব।"
"কেনো? কি নিয়ে ভয়?"
"আমাদের সম্পর্ক নিয়ে। প্রেমে জড়িয়ে তো গেলাম। কিন্তু আমাদের সম্পর্কের পরিণতি কি? বিয়ে পর্যন্ত যাবে তো?"
রিমির এহেন কথা শুনে ভিষণ অবাক হলো নীরব। কন্ঠে একরাশ অবাকের রেশ ঢেলে বলল,
"মানে? বিয়ে হবে না মানে কি? তোর কি মনে হয় আমি তোর সাথে চিট করবো? তুই আমাকে চিটার ভাবিস রিমি? চিট করার জন্য বছরের পর বছর তোর পেছনে পাগলা কুত্তার মতো পড়ে ছিলাম?"
"আরে না রে বাবা। আমি সেটা বলিনি।"
"তাহলে এই অদ্ভুত কথার কারণ?"
"কারণ হলো, তুই আর আমি সমবয়সী। আর স্বাভাবিক ভাবেই কিন্তু মেয়েদের বিয়ে আগেই হয়ে যায়। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা দেবো আমরা। এর পরেই হয়তো বাড়ি আমাকে বিয়ের জন্য চাপ দেবে। তখন কি করবো?"
"কি আবার? দুজন বিয়ে করে নেবো।"
"হ্যা, মামার বাড়ির আবদার। মাত্র উচ্চমাধ্যমিক পাস একটা ছেলের সাথে আমার বাবা মা নাচাতে নাচতে আমার বিয়ে দেবে তাই না? তার ওপর ছেলে বেকার।"
এই পর্যায়ে নীরবকে কিছুটা চিন্তিত দেখালো। কথা থামিয়ে দিয়ে একদম শান্ত নদীর মতো চুপ হয়ে কিছু একটা ভাবতে লাগলো। নীরবকে চুপ হয়ে যেতে দেখে রিমি বলে উঠলো,
"চুপ হয়ে গেলি যে? বিয়ের কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলি নাকি?"
"ভয় পাওয়ার ছেলে আমি নই রিমি। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি আসে তাহলে আমরা দুজন পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে নেবো। কি বলিস?"
নীরবের সহজ সমাধান দেখে মুখ ভেঙচালো রিমি। নাক মুখ কুঁচকে বলল,
"বললেই হলো। তারপর কি হবে? পরিবার যদি না মেনে নেয় তখন কি হবে? আমার বাড়ির কথা নাহয় বাদই রাখলাম। তোর পরিবারই তো মেনে নেবে না। এদিকে তুইও বেকার। যদি দুজনকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তখন কি হবে?"
"রিল্যাক্স। এতো টেনশন করছিস কেনো? ভাইয়া আছে না? ভাইয়া সব সামলে নেবে।"
বেশ ভাব নিয়ে কথাটা বলল নীরব। তবে নীরবের এমন জবাবে রিমি মোটেও খুশি হলো না। বরং রাগে পুরো শরীর রিরি করে উঠলো। রিমি আশা করেছিলো নীরব ওকে ভরসা দিয়ে বলবে, "রিমি তুই চিন্তা করিস না। আমি তো আছি। আমি সব সামলে নেবো।" কিন্তু রিমির আশায় এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে নীরব ভাইয়ের ওপর ভরসার বোঝা চাপিয়ে দিলো। রাগে দুঃখে রিমি কটমট করে বলে উঠলো,
"তুই একটা হাঁদারাম। গরু, গাধা, ছাগল, ভেড়া, বলদ। তোর মতো ছ্যাবলা মার্কা ছেলে মানুষ আমি দুটো দেখিনি। প্রেম করবি তুই। বিয়ে করবি তুই। সংসার করবি তুই। আর তোর প্রেমের বিষয়ে ন্যাটা চুকাবে তোর ভাই? ভাইয়ের চামচা একটা। দূরে থাকবি আমার থেকে।"
আচমকা রিমিকে রেগে যেতে দেখে ভড়কে গেলো নীরব। অবাক হয়ে বলল,
"ঝগড়া কেনো করছিস?"
"তো করবো না? সব যখন তোর ভাই করবে তাহলে বউটাও তোর ভাইকেই দিয়ে দিস। সংসারটাও না হয় তার সাথেই করবো।"
"আমি দিলেও সে নেবে না। আমার ভাইয়া এক নারীতে আসক্ত। তুবা ছাড়া ভাইয়া আর কাউকে চোখে দেখে না।"
"তাহলে আগে নিজের ভাইকে দেখে কিছু শেখ। তারপর আমার কাছে আসিস। তার আগে ভুলেও আমাকে ফোন দিবি না বেয়াদব।"
ঝাঁঝালো কণ্ঠে কথাগুলো বলেই খট করে ফোনটা কেটে দিলো রিমি। নীরব কিছুক্ষণ আপন মনে হ্যালো হ্যালো করে ঝিম মেরে বসে রইলো। এই মেয়েটার রাগ দেহের প্রতিটা লোমকূপে বসে থাকে৷ নীরব পড়েছে মহা জ্বালায়। ভবিষ্যতে এই জোয়ালামুখীকে কিভাবে সামলাবে ছেলেটা?
চলবে?