#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)
#পর্বঃ৪৩
#কলমে_সোনালিকা_আইজা
⛔কপি করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন।⛔
নিচের নোটটা সবাই পড়বেন।
*******************
নিশুতি রাত! চারিদিকে শুনশান নীরবতা। আঁধারিয়া রাতের বুক চিরে উঁকি দিচ্ছে অগণিত উজ্জ্বল তাঁরা। আজ চাঁদের আকারটাও বেজায় বড়ো। বিশাল আকার রুটির মতো আকৃতি ধারণ করেছে চাঁদ মামা। মেঘ বিহীন স্বচ্ছ আকাশে আপন ধারায় আলো ছড়াচ্ছে সে। সেই সাথে বইছে মৃদুমন্দ দখিনা বাতাস। দেহের প্রতিটি লোমকূপ ছুঁয়ে যাচ্ছে সেই বাতাসের অংশ।
আত্মীয় স্বজন বিদায় দিয়ে কিছুক্ষণ আগে ঘরে এসেছে তুবা। নিজের বাড়িতেই বউয়ের অধিকার নিয়ে পা রাখলো স্বামীর ঘরে। স্বামী! তুবার আপন স্বামী! তার একান্তই ব্যাক্তিগত পুরুষ। যার ওপর এক এবং একমাত্র তুবার অধিকার। যে মানুষটার দেহ, মন এবং পুরো জীবন জুড়ে তুবার রাজত্ব। যাকে দুই বছর আগে পরিবারের অগোচরে আপন করে নিয়েছিল তুবা। আজ তাদের এই সম্পর্ক সামাজিক স্বীকৃতি পেলো। এখন আর হারানোর ভয় নেই। আর না কাছে আসতে দ্বিধা নন্দ। তবে কি তুবার সুখের দিনের শুরু হলো? এবার থেকে তুবার প্রতিটা রাত কাটবে কৌশিক নামক প্রেমিক পুরুষের বুকে। সেই বুক, যেটা তুবার চির শান্তির জায়গা। যেখানে তুবা নিজেকে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ অনুভব করে। ভাবতে ভাবতে লাজুক হাসলো তুবা। ভারি বেনারসিটা দুই হাতে সামান্য উঁচু করে পা বাড়ালো বেলকনির দিকে। খোলা আকাশে নজর রেখে গায়ে দখিনা হাওয়া মাখতে লাগলো। আকাশের বুকে রাজত্ব করতে থাকা চাঁদের দিকে তাকিয়ে বলল,
"শুনেছো হে চাঁদ? তোমার মতো আমারও একটা চাঁদ আছে। আমার ব্যাক্তিগত চাঁদ। যার আলো আমার পুরো জীবনকে আলোকিত করে রাখে। তোমার গায়ে তো দাগ আছে। কিন্তু আমার চাঁদের গায়ে কোনো দাগ নেই। কেনো নেই জানো? কারণ সে আমার চাঁদ। শুধুই আমার।"
শূন্যে ছোঁড়া বাক্যগুলো অদৃশ্য বুদবুদের ন্যায়ে ভেসে বেড়ালো চারিদিকে। আনমনে কথা শেষ করতেই আচমকা পেটের ওপর ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেলো তুবা। সেই সাথে ঘাড়ের বাম পাশে আছড়ে পড়লো এক মুঠো তপ্ত শ্বাস। মৃদু কেঁপে উঠলো তুবা। পেছনে না ফিরেও বেশ বুঝতে পারলো মানুষটা কে? স্বামী নামক মানুষটা ছাড়া আর কেউ তুবাকে এতোটা যত্ন নিয়ে আগলে ধরে না। ঘাড়ের কাছের নিঃশ্বাসের বেগ আরও কিছুটা ঘনীভূত হলো। অদৃশ্য আবেশে চোখ বন্ধ করে নিলো তুবা। তুবার চুলের সাথে নাক ঘষে কৌশিক ফিসফিস করে বলল,
"আমার বউ আমি ব্যাতিত অন্য কারোর সাথে কথা বলছে। এটা তো আমার সহ্য হচ্ছে না জান।"
বলতে বলতে তুবার ঘাড়ে নাক ঘষলো কৌশিক। সহসাই কেঁপে উঠলো তুবা। বন্ধ রাখা চোখের পাতা খিঁচে ধরলো। থেমে থেমে জবাব দিলো,
"চ..চাঁদের সাথে কথা বলছিলাম। কোনো মানুষের সাথে নয়।"
"হোক সেটা চাঁদ বা অন্য কোনো জড়বস্তু। তবুও যে আমার হিংসে হচ্ছে জান।"
"তাহলে এখন আমি কি করতে পারি?"
"উমম! অনেক কিছুই করতে পারিস। এই যেমন, আজ নিজ ইচ্ছায় আমাকে আদর করতে পারিস। তোর নরম হাতে আমাকে ছুঁয়ে দিতে পারিস। আমি কিন্তু মাইন্ড করবো না।"
কৌশিকের কন্ঠে স্পষ্ট দুষ্টুমির আভাস। এদিকে লজ্জায় তুবার কান গরম হয়ে গেলো। বুকের ভেতর টিপটিপ আওয়াজ এবার বাদ্যযন্ত্রের ন্যায়ে বাজতে লাগলো। তুবা লাজুক কন্ঠে মিনমিন করে বলল,
"দিনদিন লাগামহীন হয়ে যাচ্ছেন আপনি।"
"লাগাম আমার কোনো কালেই ছিলো না জান। অন্তত তোর ক্ষেত্রে লাগাম নামক শব্দটা একেবারেই বেকার।"
বলতে বলতে হাতের বিচরণ বাড়িয়ে দিলো কৌশিক। একদিকে তুবার ঘাড়ে ছোটো ছোটো করে ঠোঁট ছোঁয়াচ্ছে। অন্য দিকে দুই হাত পুরো উদর জুড়ে বিচরণ করছে। মিনিটের ব্যবধানে কৌশিকের হাত উদর ছাড়িয়ে উপরে উঠতে লাগলো। শাড়ির আঁচল ভেদ করে মসৃণ ত্বকে চলতে থাকলো হাতের ছোঁয়া। ধীরে ধীরে হাত জোড়া পৌঁছে গেলো বক্ষদেশের চূড়ান্ত সীমায়। এই পর্যায়ে দিশেহারা হয়ে পড়লো তুবা। নিঃশ্বাসের বেগ বাড়লো বহুগুণ। হৃদপিণ্ড কেঁপে উঠলো বারবার। দুই কান দিয়ে গরম ধোঁয়া বের হতে লাগলো। অত্যাধিক লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে মাথা নিচে নামিয়ে নিলো তুবা। দেহের শক্তি হারিয়ে নেতিয়ে পড়লো কৌশিকের বুকে। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,
"থ...থামবেন আপনি?"
"উহুম।"
তুবা হতাশ হলো। লজ্জা, জড়তা, ভয়, সুখ মিলেমিশে মিশ্র অনুভুতি হলো। দেহের ওপর জোর খাটিয়ে হুট করেই ঘুরে গেলো পেছনে। সেকেন্ডের ব্যবধানে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলো কৌশিককে। দুজনের মাঝে চুল পরিমাণ দুরত্ব নেই। তুবার বুকের বেগতিক ধুকপুকানি স্পষ্ট টের পেলো কৌশিক। তুবার দিশেহারা অবস্থা দেখে ঠোঁট কামড়ে হাসলো। মাথাটা সামান্য ঝুকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"ভয় নেই জান। কিচ্ছু করবো না আমি। একটু আদর করবো শুধু। এই এতটুকু।"
আঙ্গুলের ইশারায় পরিমাণ দেখিয়ে দিলো কৌশিক। তুবা তবুও মানলো না। তখনও শক্ত করে কৌশিকের বুকে মুখ গুঁজে আছে। কৌশিক দুই হাতে তুবার মাথা চেপে ধরে সামান্য তুললো। ফিসফিস করে বলল,
"নিজের চাঁদকেও দেখবি না জান? দেখার ইচ্ছা শেষ?"
এই পর্যায়ে ফট করে চোখ মেলে চাইলো তুবা। চোখে চোখ মিলে গেলো দুজনার। কৌশিকের চোখে তখন এক সাগর প্রেমের ঢেউ। ভালোবাসা উপচে উপচে পড়ছে যেনো। তুবা নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো সমুদ্রের ন্যায়ে সেই গভীর চোখে। কৌশিক কিছুটা ঝুঁকলো। কন্ঠ অত্যন্ত খাদে নামিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"আই লাভ ইউ জান। আই লাভ ইউ ডেস্পারেটলি। ইউ নো না?"
তুবা হারিয়ে গেলো সেই কথার মাঝে। মস্তিষ্ক ফাঁকা, শূন্য মনে হলো। দেহের ভারটাও যেনো চরম হালকা হয়ে গেলো। অনুভুতির জোয়ারে ভেসে হারিয়ে গেলো কোথায়। ওষ্ঠের সংঘর্ষে মেতে উঠলো প্রকৃতি। আঁধার রাতের সাথে তাল মিলিয়ে চলল ভালোবাসার আদান প্রদান।
-
-
নতুন অতিথির আগমনের বার্তা খুশির জোয়ার নিয়ে এলো ভুঁইয়া মঞ্জিলে। এই যেমন, বাড়ির কর্তারা তাদের আগামী প্রজন্মকে বরন করতে নানান আয়োজনে ব্যাস্ত। বাচ্চাদের খেলনায় বাড়ির প্রায় অর্ধেকাংশ ভরে ফেলেছেন। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় যেই খেলনা চোখে পড়বে, সঙ্গে সঙ্গে কিনে নেবেন। এমন করতে করতে স্টোর রুম পুরো ভরে গেছে খেলনায়। এদিকে বাড়ির রমনীরাও কোনো অংশে কম যান না। তারা সংসার এবং রান্না বান্নার ফাঁকে ফাঁকে বাহারি রকমের নকশিকাঁথার সেলাই করে আলমারি ভরেছেন। এক বাচ্চাকে নিয়ে বড়দের কতই না আয়োজন।
এদিকে সময়ের জোয়ারটাও এক ঝটকায় পেরিয়ে গেছে অনেকটা। দিনগুলো কেমন যেনো চোখের পলকেই চলে গেলো। তুবার প্রেগনেন্সির নয় মাস চলে এখর। দেহের তুলনায় উঁচু পেটটা নিয়ে চলাফেরা করা দায়। অবশ্য কৌশিক তুবাকে একা চলাফেরা করতেই দেয় না। যতক্ষণ বাসায় থাকবে, সে নিজের হাতে তুবার যত্ন নেবে। অফিসে যাওয়ার আগে মা চাচিদের হাতে তুবার দায়িত্ব দিয়ে যাবে। অফিসে থাকাকালীন প্রতি ঘন্টায় ফোন করে তুবার খবর নেবে। এটা এখন কৌশিকের জীবনের দৈনন্দিন রুটিন।
এই যেমন ভারি পেট নিয়ে বিছানায় শুয়ে গড়াগড়ি করছে তুবা। ঘড়িতে এখন সকাল আটটা বেজে পাঁচ মিনিট। কৌশিক ওয়াশরুমে গেছে ফ্রেশ হতে। অফিস যাওয়ার জন্য একেবারে রেডি হয়ে তারপর তুবাকে নিয়ে নিচে নামবে। ওয়াশরুমের দড়জার দিকে একবার নজর বুলিয়ে খাটের সাথে আধশোয়া হয়ে বসলো তুবা। আজকাল ভারি পেটটা নিয়ে নড়াচড়া করতেও কষ্ট হয় মেয়েটার। কোনোমতে খাটের সাথে হেলান দিয়ে বসে পেটে একটা হাত রাখলো তুবা। আজ সকাল থেকে পুচকুটার নড়াচড়া নেই। সারা রাত ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন খেলে মাকে জাগিয়ে রাখবে। আর দিনে সে নিজে ঘুমাবে। ভাবতে ভাবতে ফোঁস করে দম ছাড়লো তুবা।
এরই মাঝে কৌশিক ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে এসেছে। সাদা শার্টের হাতটা কনুই পর্যন্ত গোটাতে গোটাতে তুবার কাছে গেলো। পুরোপুরি ঝুঁকে গিয়ে তুবার পাহাড় সমান উঁচু পেটে আলতো করে চুমু খেলো। সঙ্গে সঙ্গে পেটের মসৃণ চামড়া ভেদ করে একটা ছোট্ট পায়ের ছাপ ফুটে উঠলো। হঠাৎ এহেন দৃশ্যে তুবা ব্যথায় নড়েচড়ে উঠলেও বিচলিত হলো না কৌশিক। কারণ এই ঘটনার সাথে সে বেশ কিছুদিন ধরে অভ্যস্ত। যখন সে পেটের ভেতর একেবারে শান্ত হয়ে থাকে, তখন বাবার ছোঁয়া পেলেই হাত পা ছোড়ে। এমনকি দীর্ঘক্ষন হাত পা ছোড়াছুড়ি করার ফলে তুবা যখন ব্যথায় কাতরায়, তখন কৌশিকের আওয়াজ পেলে সে শান্ত হয়ে যায়। দুনিয়াতে আসার আগেই বাবার সাথে বেশ ভালো একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে। এটাকে কি বলে? রক্তের টান? নাকি অন্য কিছু? ভাবতে ভাবতে হাসলো কৌশিক। দুই হাতে পেট আগলে ধরে আরও একবার চুমু দিলো। পেটের সাথে মুখ লাগিয়ে ফিসফিস করে বলল,
"আমার বাচ্চাটা বাবার জন্য অপেক্ষা করছিল বুঝি?"
সঙ্গে সঙ্গে পেটের মাঝ বরাবর আবারও পায়ের ছাপ ভেসে উঠলো। কৌশিকের ঠোঁটের হাসি প্রসস্ত হলো এবার। সে পূর্বের ন্যায়ে ফিসফিস কন্ঠে বললো,
"বাবা এখন অফিস যাবে ওকে? বাবা ফিরে আসার আগ পর্যন্ত মাকে জ্বালাবে না। একদম ভালো বাচ্চা হয়ে থাকবে কেমন? তাহলে রাতে বাড়ি ফিরে তোমাকে অনেক আদর করবো।"
বলতে বলতে আরও একবার পেটে চুমু দিলো। এই পর্যায়ে অনাগত অতিথি একদম শান্ত হয়ে গেলো। সে যে বাবার বাধ্যগত সন্তান সেটা এখনই বোঝা যাচ্ছে।
বাচ্চার সাথে আলাপচারিতা শেষে কৌশিক উঠে দাঁড়ালো। অতি সপ্তপর্ণে নিজের প্রসস্ত দুই হাতে তুবাকে কোলে তুলে নিলো। এরপর হাটা দিলো ডাইনিংয়ের দিকে।
-
-
পরিবারের সবাই ইতিমধ্যে খাবার টেবিলে উপস্থিত। তবে কৌশিক আর তুবার অপেক্ষায় এখনও কেউ খাওয়া শুরু করেনি। সকলের উৎসুক নজর যখন দোতলার সিঁড়ির দিকে ছিলো, ঠিক তখনই তুবাকে নিয়ে কৌশিক উপস্থিত হলো সেখানে। তুবাকে জামাল সাহেবের পাশের চেয়ার টেনে বসিয়ে দিয়ে নিজে তুবার পাশে বসলো। নিজের প্লেটে খাবার তুলে তুবাকে খাইয়ে দিতে লাগলো। এটাও আজকাল কৌশিকের জীবনের রুটিনের একটা অংশ হয়ে গেছে। বিশেষ করে সকাল এবং রাতে সে তুবাকে নিজ হাতে খাইয়ে দেবে। দুপুরে অফিসে থাকে বিধায় ওই এক বেলা ছুটি।
এই ছোট ছোট বিষয় গুলো বেশ মুগ্ধ করে পুরো পরিবারকে। জামাল সাহেব শুরুতে ওদের সম্পর্ক নিয়ে অসন্তুষ্ট থাকলেও, ছেলের দায়িত্ব বোধে তিনি নিজেও মুগ্ধ। এই যেমন, কৌশিক মাছের কাটা বেছে এক এক লোকমা তুবাকে খাইয়ে দিচ্ছে। তুবাও নিঃসংকোচে সেই খাবার মুখে পুরে নিচ্ছে। খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে কৌশিক পানির গ্লাস তুবার মুখের সামনে ধরছে। কখনো আবার বাম হাতে তুবার মুখের ওপর পড়া চুল কানের পিছে গুঁজে দিচ্ছে। থেকে থেকে প্রশ্ন করছে,
"খারাপ লাগছে? আর একটু মাছ দেই? লেবু দেবো? ভর্তা খাবি?"
জামাল সাহেব মুগ্ধ চোখে দেখে যাচ্ছেন সেই দৃশ্য। ছেলে মেয়ের সুখের সংসার অবলোকন করতে গিয়ে নিজে খাওয়ার কথাই বেমালুম ভুলে গেছেন। জামাল সাহেবের ধ্যান ভাঙে তার মেজো ভাই লুৎফর সাহেবের আওয়াজে। ভদ্রলোক খেতে খেতে বললেন,
"শামিমা ফোন করেছিল ভাইয়া। সিফাত আর রাইমা নাকি পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে নিয়েছে। শামিমা ওকে মানতে চাইছে না। তোমাকে একবার কথা বলতে বলেছে।"
খাওয়ার ফাঁকে তুবা মাত্রই এক চুমুক পানি মুখে নিয়েছে সবে। তবে গিলতে যাওয়ার মাঝপথে এহেন অনাকাঙ্খিত বাক্য শুনে বিষম খেলো মেয়েটা। ভুসভুস করে মুখের পানি সবটা ফেলে দিলো কৌশিকের গায়ে। এতেই ক্ষান্ত হয়নি। পানি মুখ থেকে বের করেই শুরু হলো কাশি। কাশতে কাশতে চোখ মুখ লাল হয়ে গেলো বেচারির। আচমকা তুবার অবস্থার অবনতি দেখে বিচলিত হয়ে পড়লো সবাই। ময়না বেগম ছুটে এলেন মেয়ের কাছে। পরপর বাকিরাও এলেন। কৌশিক ততক্ষণে তুবার পিঠে হালকা চাপর দিয়ে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। তবে তাতে খুব একটা সুবিধা হলো না। বরং অতিরিক্ত কাশতে কাশতে কৌশিকের কোল বমি করে ভাসিয়ে দিলো।
সখের ষোলো কলা পূর্ণ হওয়ার পরেই থামলো তুবা। ময়না বেগম মেয়েকে ধরে সোফায় বসাতে নিয়ে গেলেন। পরিবারের সকলের হতবাক নজর তখন কৌশিকের দিকে। অফিস যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে এসেছিল ছেলেটা। অথচ এখন তার কি অবস্থা!
নিজের দিকে একবার তাকিয়ে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো কৌশিক। তবে চেহারায় কোনো রাগ, ঘৃণা বা বিরক্তি প্রকাশ পেলো না। প্রকাশ পেলো তো কেবল তুবার জন্য একরাশ দুশ্চিন্তা। যতটুকু খেয়েছিলো পুরোটাই বের করে দিয়েছে মেয়েটা। পেটে একটা দানাও বোধহয় অবশিষ্ট নেই। চিন্তা গ্রস্থ মুখে সেভাবেই উঠে দাঁড়ালো কৌশিক। নিজের ঘরের দিকে যেতে যেতে কনকচাঁপা বেগমকে উদ্দেশ্য করে বলল,
"মা! এক গ্লাস দুই খাইয়ে দাও ওকে। পেট পুরো খালি হয়ে গেছে। এক ঘন্টা পর ভাত খাইয়ে দিও। আমি চেঞ্জ করে অফিসে যাচ্ছি।"
চলবে?