ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 1

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ ২য় পরিচ্ছেদ ]
#পর্বসংখ্যা_১
#ইসরাত_ইতি

🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ।

জংলি ছাপার ইউনিফর্মটা জবজবে হয়েছে লাল রক্তে। বলিষ্ঠ শরীরটা ধ্বংসস্তূপের কাছেই পরে আছে। কালি ঝুলি আর রক্তে মাখা মুখটা তাকিয়ে আছে অসহায়ের মতো,ঐ দৃষ্টিতে প্রাণ নেই আছে অসহায়ত্ব। একজন বীর যোদ্ধাও অসহায় হয়। অবশ্যই হয়। রক্তাক্ত হাতটা বাড়িয়ে সে অস্ফুটে আর্তনাদ করতে থাকে,“তাজওয়ার প্লিজ সেইভ মি! সে আমাকে কখনো ক্ষ'মা করবে না। সে ম'রে যাবে আমার কিছু হলে!”

কথাগুলো কর্ণকুহরে বারংবার প্রতিধ্বনিত হয়, হতেই থাকে। মস্তিস্কে আলোড়ন তোলে।

ঘুম ভে'ঙ্গে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে সে। ঘনঘন নিশ্বাসের সাথে কয়েকটা ফাঁকা ঢোক গিলে এলোমেলো দৃষ্টিতে ঘরের চতুর্দিকে তাকায়। গলা শুকিয়ে কাঠ কাঠ হয়ে গিয়েছে, জরুরি তরল পানীয়ের প্রয়োজন।
হাত মুষ্টিবদ্ধ করে একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে নেয়। কিছুটা সময় নিয়ে নিজেকে ধা'তস্থ করে বেড সাইডের টেবিল ল্যাম্প জ্বেলে দেয় সে।ট্রিম কাট দেওয়া চুলের ঘাড়ের দিকটায় হাত বোলাতে বোলাতে বিছানা থেকে নামে।
উদোম শরীরে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। ঐ দুঃস্বপ্ন টা যখনই আসে তখনই এমন বিদঘুটে অবস্থা হয় তার। এসির মধ্যেও ঘামতে থাকে। পুরুষালি লোমশ চওড়া উদোম বুকটাকে ঢাকার জন্য হাত বাড়িয়ে বিছানার ওপর ফেলে রাখা ধূসর রঙের শার্টটা উঠিয়ে নেয়।

লম্বা চওড়া, সুগঠিত পা দুটো ঘরে পড়ার চপ্পলে ঢুকিয়ে নিয়ে সোজা হেঁটে ঘরের উত্তর পাশের কোণে অবস্থানরত সেন্টার টেবিলের ওপর থেকে পানির বোতলটা উঠিয়ে পানি খেয়ে নেয়।
বোতলটা খালি করে পুনরায় এসে বিছানায় পাশ ফিরে শুয়ে পরে সে। তারপর অক্ষিপল্লব প্রশস্ত করে খানিকটা ভীত চোখে তাকিয়ে থাকে খোলা জানালার দিকে। খুব সম্ভবত ফজরের আজানের সময় হয়ে এসেছে।

সময়টা ফাল্গুনের শুরু। জানালার পর্দার ফাঁক গলিয়ে হিমেল হাওয়া ফুলদানির কৃত্রিম ফুলগুলোকে সমান তালে নাচিয়ে যাচ্ছে।

তার দৃষ্টি ফেরেনা জানালা থেকে, বিবশ হয়ে শুয়ে থাকে সে, মস্তিস্কে অনবরত কারো ভারি কন্ঠস্বর দামামা বাজিয়ে যাচ্ছে,“আমাকে বাঁচিয়ে নাও তাজওয়ার। আমি বাঁচতে চাই! কাউকে কথা দিয়েছি!”

★★★

“প্লিজ প্লিজ প্লিজ এই মুহূর্তে শেষ হয়ে যাস না প্লিজ”

মানবসৃষ্ট যন্ত্রটা তার মালকিনের অনুরোধ রাখে না। বিষন্ন ভঙ্গিতে নিজের ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে একটা লম্বা নিঃশ্বাস ফেলে ইনায়া। মেজাজ তার আকাশ ছুঁয়েছে। চার্জ টা এখনই শেষ হতে হলো! এখন কি করবে সে! হাতে যে আর মাত্র কয়েকঘন্টা সময় আছে। এর মাঝে অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করে ক্লাসের গ্রুপটাতে সাবমিট করতে হবে নয়তো আজ প্রফেসর বারি ইনায়াকে ছাড়বে না। আজ প্রফেসর বারি ইশমাম মির্জার একমাত্র কন্যা এবং সামিন ইয়াসার মির্জার একমাত্র ভাতিজি ইনায়া মির্জাকে শ্রেনীভর্তি কতগুলো স্টুপিডের সামনে নাকানিচোবানি খাইয়ে ছাড়বে। সাথে আছে ক্লাস প্রে'সিডেন্ট।কে জানে এই প্রফেসর বারির সাথে ইনায়ার কোন জন্মের শত্রুতা! সবসময় ইনায়াকে এক হাত দেখে নিতে প্রস্তুত থাকে সে। বুড়ো ভাম একটা!

কপালের ওপর অযথাই বিরক্ত করতে থাকা চুলগুলোকে ঠেলে কানে গুঁজে দিয়ে সে উঠে দাঁড়ায়। এক ক্লাস স্টুডেন্টের সামনে প্রফেসর বারির মতো খরুস মানবের কটু কথা শোনার দুশ্চিন্তায় তার ভ্রু-যুগল কুঁ'চ'কে যায় আপনা আপনি। এখন আপু অথবা ভাইয়ারাই তার ভরসা! বাঁচিয়ে নেবে তাকে কোনোভাবে। কিন্তু কার কাছে যাবে সে! আপু বাড়িতে নেই, সম্ভবত মর্নিং ওয়াকে বেরিয়েছে। আর ইনায়ার সাহস নেই এই সাত সকালে মেজো দাদানকে ডেকে তোলার,ঐ বাঘের গুহায় অসময়ে হানা দিলে ইনায়া আস্ত থাকবে না। ডান হাতের এক থা'বায় ইনায়া শেষ। সেদিনের গাট্টায় ইনায়ার মাথার এক সাইড ফুলে গিয়েছিলো। মেজো দাদানকে অসম্ভব ভালো বাসলেও ইনায়া খুব স'মঝে চলে। আপাদমস্তক একটা পাগলা লোক!

দুমিনিটে স্টাডি টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা পূর্ববর্তী অ্যাসাইনমেন্টের হার্ডকপি গুলো সযত্নে হাতে তুলে নিয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে ঘর থেকে বেরোয়। ঘর থেকে বেরোনোর আগে ওড়নাটাকে ভালো করে গাঁয়ে পেঁচিয়ে নিতে ভোলেনা ইনায়া। মাম্মা যদি দেখে ওড়না ছাড়া ভাইয়াদের সামনে গিয়েছে তাহলে কান ছিঁ'ড়ে নেবে একেবারেই।

ঘরের বাইরে পা রেখে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে দোতলার লিভিং রুম একেবারেই ফাঁকা। প্রতিদিন ভোরের এই সময়টিতে পাপা,বড় বাবা,মেজো বাবা লিভিং রুমে বসে ভোরের হেডলাইন গুলো দেখতে দেখতে চা পান করে। আজ কেউ নেই। ইনায়া দ্রুতপায়ে হেঁটে একে একে মাম্মা-পাপা, বড় বাবা-বড় মা, মেজো বাবা-মেজো মায়ের ঘর অতিক্রম করে দোতলার পূর্ব পাশের সবথেকে কোণের ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। সবসময়ের মতো দরজা খোলা। অভদ্রতা জেনেও ইনায়া দরজায় টোকা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না। খামখেয়ালি দরজা ঠেলে হুরমুর করে ঢুকে পরে ঘরে, সবসময়ের মতো।

গালে কড়া মিঠা রোদ লাগতেই বিরক্তিতে কপাল কুঁ'চ'কে ফেলে সে। সূর্য্যের প্রখরতা বড্ড জ্বালাচ্ছে বুজে থাকা দু'টো চোখের পাতাকে, তবুও সে চোখ খুলে তাকানোর কোনো তাড়া দেখায় না। এই কোণার ঘরটাতেই সম্ভবত সূর্য্যের আলো সবথেকে প্রথমে পৌঁছায়। সে চোখ বন্ধ করেই থাকে,যেন খামখেয়ালি চোখ দু'টো বুজে আছে। দু'টো চোখের আশেপাশের পেশী টনটন করছে এখন,ভোর রাতে ঘুম ভে'ঙ্গে যাওয়ার পরে এক সেকেন্ডের জন্যেও ঘুমের হদিস পায়নি দু'টো চোখ।

জানালার পর্দা পুরোটা সরিয়ে দিয়ে ইনায়া মাথা ঘুরিয়ে পুরো ঘরটাকে একবার পর্যবেক্ষণ করে নেয়। চেয়ারের ওপর সেই সাদা রঙের পাঞ্জাবি টা অবহেলার সাথে ফেলে রাখা যেটা ঐ বিছানায় শুয়ে থাকা লোকটা গতকাল গায়ে চাপিয়ে সভায় গিয়েছিলো।
ট্রেডমিলটা ঘরের মাঝামাঝি এনে রাখা,ডাম্বেল আর বারবেল গুলো একটা টেকনাফ আরেকটা তেঁতুলিয়া। কম্পিউটার টেবিলের ওপর কফির তিনটা মগ জমা হয়েছে । পুরো অগোছালো অবস্থা। এই ঘরটাকে ইনায়ার কাছে একটা শোবার ঘর কম,জিম বেশি মনে হয়।

ইনায়া হাতের কাগজ গুলো রেখে ঘর গোছাতে আরম্ভ করে দেয়, গোছাতে গোছাতে রাগী গলায় বলতে থাকে,"ত্রিশ বছরের একজন ভদ্রলোকের ঘর এটা?"

_না, একত্রিশ বছরের একজন ভদ্রলোকের ঘর এটা। আজ আমার একত্রিশ বছর পূর্ন হয়েছে ইনু।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে ঘুম ঘুম ভারি কন্ঠে বলে ওঠে সে।

ইনায়া জিভ কেটে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। তো এটাই হচ্ছে সাত সকালে কাউকে লিভিং রুমে না পাওয়ার কারণ! ভাইয়ার জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সবাই! ইনায়ার মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল আজকের তারিখ টা!
আর সে! প্রানপ্রিয় বড় দাদানের জন্মদিনটা পর্যন্ত ভুলে বসে আছে! ইনায়ার প্রচন্ড রাগ হয় নিজের ওপর,রাগ হয় প্রফেসর বারির ওপর। তার চক্করেই ইনায়ার স্মৃতিভ্রষ্ট হয়েছে।

এখন ইনায়া কি করবে? সে যে তারিখটা ভুলে গিয়েছিলো এটা সে কিছুতেই বড় দাদানকে বুঝতে দেবে না। দাদান যদি কষ্ট পায়?
ইনায়া একটা চোরা হাসি হেসে কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে বলে ওঠে,“শুভ জন্মদিন বড় দাদান।”

চোখ মেলে বোনের দিকে তাকায় সে, ঠোঁট বাঁকিয়ে স্মিত হাসি হাসে,জবাবে কিছু না বলে গায়ের ওপর থেকে কমফোর্টার সরিয়ে হাই তুলে ভারি গলায় গমগম করে ওঠে,"এতো সকাল সকাল কোত্থেকে চলে আসিস বলতো জ্বালাতে।"

ইনায়া বিছানা গোছাতে গোছাতে বলে,"একটা ভাবী নিয়ে এসো। তাহলে আর জ্বালাতে আসবো না।"

বলিষ্ঠ শরীরের প্রস্বস্ত বুকের সাথে ধূসর রঙের শার্ট টা অগোছালো ভাবে লেপ্টে আছে। পোড় খাওয়া শরীরটা একটু নেড়েচেড়ে আড়োমোড়া ভেঙে বারান্দায় চলে যায় সে।
ইনায়া পেছন থেকে বলে ওঠে,“এভাবে এরিয়ে গেলে তো চলবে না দাদান। জানো মেজো মা রোজ কথাটা তোলে,তুমি এড়িয়ে যাও। বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি করছো তুমি। একত্রিশ বছর হয়ে গিয়েছে। তুমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছো দাদান।”

বেলকোনিতে পেশীবহুল হাতে গ্রিল আকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা বাইরের দিকে তাকিয়ে নিশ্চুপ হাসে। বোনের কথার জবাব দেয়না সে।

ইনায়া কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বলে ওঠে,"জন্মদিনে কোনটা খাবে? কি রাঁধবো? আজ আমি তোমার জন্য একটা ডিশ রাধবো!"

_বড় মা ইতিমধ্যে রান্না করে ফেলেছে আমার পছন্দের খাবার,আমি জানি। তুই যা। এসেছিলি কেন?

_উইশ করতে।

মিথ্যাটা বলতে গিয়ে ইনায়ার কন্ঠরোধ হয়ে আসে। পর পর বলে ওঠে,
_আর এসেছি অ্যাসাইনমেন্ট করার জন্য তোমার ল্যাপটপ টা নিতে। তোমার ল্যাপটপ টা চাই কিছুক্ষণের জন্য। দেবে?

_নিয়ে যা!
সাথে সাথে জবাব দেয়। বোনদের জন্য তার কাছে কোনো না নেই।

ইনায়া হাসি মুখে ল্যাপটপ তুলে নেয়, তারপর দাদানের দিকে একপলক অপরাধীর মতো তাকিয়ে চলে যায়।

বিছানার পাশের ছোটো টেবিলের ওপর যান্ত্রিক আওয়াজ করে যাচ্ছে মোবাইল ফোনটা।

ঘাড় ঘুরিয়ে সেদিকে তাকিয়ে সে এগিয়ে যায়। এইতো সবে শুরু। আজ ফোনকল রিসিভ করতে আলাদা একজন লোক দরকার পরবে তার। কলটা রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে অচেনা পুরুষালি গলায় কেউ বলে ওঠে,"হ্যালো। আসসালামুয়ালাইকুম।"

_ওয়ালাইকুমুস সালাম।

ওপাশ থেকে লোকটা বলে,"আমি কি ইহান তাজওয়ার মির্জার সাথে কথা বলছি?"

এপাশের মানুষটি ভারী এবং দৃঢ় কন্ঠে বলে ওঠে,“জি আপনি ইহান তাজওয়ার মির্জার সাথেই কথা বলছেন।”

★★★

ইনায়া ল্যাপটপটা বিছানার ওপর ফেলে রেখে তড়িঘড়ি করে নিজের ফোনটা হাতে তুলে নেয়। ফোনের চার্জও শেষ। হাতের ওয়াচ টার পাওয়ার বাটনে ক্লিক করে সচল করে দ্রুত আঙুল চালিয়ে বোনের নাম্বার ডায়াল করে কল দেয়। কিছুক্ষণ রিং হবার পরে ওপাশ থেকে কেউ কলটা রিসিভ করতেই ইনায়া তাড়াহুড়ো লাগিয়ে বলতে থাকে,“হ্যালো আপু! আজ বড় দাদানের জন্মদিন! আমি একদম ভুলে বসে আছি। তুমিও মনে রাখলে না? কোথায় তুমি?”

ওপাশ থেকে কেউ সুমিষ্ট গলায় বলে ওঠে,“আ'ম কামিং!”

বাক্যটা আওড়ে কল কাটে সে। ইনায়া ওয়াচ টা যথাস্থানে রেখে আয়নার দিকে ঘুরে তাকায়।
নিজের গোলগাল, নাদুসনুদুস সুশ্রী মুখের দিকে সরু চোখে তাকিয়ে বলতে থাকে,"আমি হচ্ছি ইনায়া মির্জা। এই মির্জা বাড়ির সবথেকে ছোট আর আহ্লাদী সদস্য। বায়োলজিক্যাল ডটার অব ইশমাম মির্জা এ্যান্ড রুকাইয়া পরী। এ বাড়ির কর্তা সামিন ইয়াসার মির্জা এবং ইলহাম মির্জার ছোটো আম্মা আমি, সোনা মা আমি বড় মা এবং মেজো মায়ের, দুই ভাইয়ের কাছে সবথেকে মূল্যবান, আদরের আমি, বড় আপুর কাছে সবথেকে স্নেহের মানুষ টা আমি। এ ছাড়াও আরো একটা পরিচয় আছে, আমি হচ্ছি একবিংশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ের একটা ইউনিক ব'ল'দ। যে নিজের প্রানপ্রিয় বড় দাদানের বার্থডে ডেট মনে রাখে না। শেম অন মি!"
কথাগুলো বলে ফোঁস শব্দ করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে ইনায়া। তার অ্যাসাইনমেন্টের কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছে সে। মাথায় এখন একটা কথাই ঘুরছে,"বড় দাদানের বার্থডে গিফট!"

★★★
সরকারি মহিলা কলেজ রোড থেকে থানা পর্যন্ত একবার চক্কর কে'টে হাতের প্যাকেট থেকে ব্রেড গুলো রাস্তার ক্ষুধার্ত, জীর্ণ শীর্ণ কুকুরগুলোর সামনে রেখে,দু হাত পিছিয়ে গিয়ে তৃপ্তি নিয়ে দেখতে থাকে কুকুর গুলোর খাওয়া।
একহাত নেভি ব্লু রঙের হুডির পকেটে,অন্যহাতে মাথার পনিটেলে হাত বুলিয়ে ক্যাপ তুলে দেয় মাথায়।
কুকুর গুলো আরাম করে খাচ্ছে,বেশ লম্বা একটা শ্বাস ফেলে সে তা দেখে। যে দেশের দুর্নীতিবাজ সরকারের পাল্লায় পরে মানুষ গুলোই ঠিকমতো খেতে পারছে না,সে দেশের অবলা প্রানী গুলোর কথা আর কে ভাববে!

থানা চত্বরের সামনের চা-কফির শপের সামনে দাঁড়িয়ে দুজন কনস্টেবল তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে দূরে পুরুষালি বেশভূষায় টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের সুন্দরী তরুণীকে দেখতে থাকে।‌ এই মুখশ্রীটা তাঁদের কাছে পরিচিত। ইদানিং সাত সকালে জগিং স্যুট পরে এখানে এসে পথের অবলা প্রানীদের খাবার দিয়ে যায়,গলায় ঝোলানো থাকে দামী ক্যামেরা। সাথে করে নিয়ে আসে একটা গোলাপী রঙের স্কুটি!

মেয়েটি কে? বড়লোকের মেয়ে মনে হয় দেখলে! কনস্টেবল দু'জন এ থানায় নতুন। এই শহরের কোনো স্থানই যেখানে চেনে না সেখানে এই তরুণীর পরিচয় তারা জানবে কি করে!

পাশে এসে দাঁড়ায় এ থানার আরো একজন কনস্টেবল। কিন্তু সে পুরনো,বিগত আঠেরো বছর ধরেই এই থানায়। নতুন দুজনের দৃষ্টি অনুসরণ করে থানা চত্বরের সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা তরুণীকে অবলোকন করে তার কলিগদের বলে ওঠে,"জানো এ কে?"

কনস্টেবল দু'জন মাথা নাড়ায়। পুরনো কনস্টেবল বলে ওঠে,“সামিন ইয়াসার মির্জাকে চেনো?”

দু'জনে মাথা নাড়ায়। পুরনো বয়ঃজ্যেষ্ঠ কনস্টেবল বলে,“এ হচ্ছে সামিন ইয়াসার মির্জার কন্যা! এর বাবার সাথে বেশ কয়েকবার দেখেছি একে।”

নতুন কনস্টেবল দু'জনের চোয়াল ঝুলে যায়, তৎক্ষণাৎ মাথা ঘুরিয়ে তরুণীকে দেখবে বলে তাকায়। ততক্ষণে তরুণী স্কুটি স্টার্ট করে রাস্তার ধুলো উড়িয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছে।

★★★

উন্মুক্ত চওড়া শরীরটা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ডানে বায়ে ঘোরাতেই চোখে পরে বুকের নিচের কুৎসিত দগদগে দাগটা। একই রকমের একটি দাগ তার ডান বাহুতে রয়েছে। দু'টোই গু'লির দাগ,এই দুটি তার তিন বছরের ডিফেন্স জীবনের স্মৃতিকে সবসময় তাজা রাখে। কখনও ভুলতে দেয়না তাকে এক মূহুর্তের জন্যও।

ইহান তাজওয়ার নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে, ক্যারিয়ার পাল্টেছে, জীবন যাপন করার ধরণ পাল্টেছে, স্বভাব পাল্টেছে। শুধু পাল্টাতে পারেনি চুলের স্টাইল। ওটা এখনও সেভাবেই ছেঁটে ফেলে। যেকোনো আগন্তুক দেখে প্রথমেই জিজ্ঞেস করে,"ভাইয়া আপনি কি ডিফেন্সের কেউ?"

ইহান তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছে ঘা'ড় ঘুরিয়ে বিছানার দিকে তাকাতেই মুচকি হাসে। বিছানার ওপর একটা নতুন পাঞ্জাবি রাখা। এটা বড় মায়ের কাজ,প্রতি বছর জন্মদিনের এই দিনটা ইহানের শুরু হয় তার বড় মা অদ্রিতা আলোর দেওয়া একটা সুতির পাঞ্জাবি পরে। এটা যেন একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় মায়ের।
ইহান হাত বাড়িয়ে পাঞ্জাবিটা তুলে নেয়, পাঞ্জাবিটা ধরতেই সে টের পায় কতটা স্নেহ মিশে আছে বড় মায়ের এই পাঞ্জাবিটাতে। পাঞ্জাবিটার রং অফ হোয়াইট।
গাঁয়ে চাপিয়ে ইহান তাজওয়ার মির্জা আয়নায় নিজেকে দেখে। তার দানবীয় শরীরে মানিয়েছে বেশ।

পাঞ্জাবির কলারের কাছটা ঠিক করে ফোঁস শব্দে নিঃশ্বাস ফেলে ইহান তাজওয়ার মির্জা সময় দেখে। সকাল সাড়ে সাতটা। এতক্ষণে বাড়ির সবাই নিশ্চয়ই সব আয়োজন শুরু করে দিয়েছে।
সে দেরী না করে ঘর থেকে বের হয়। দ্রুতপায়ে হেঁটে চলে যায় নিচতলার লিভিং রুমে।

“বড় বাবা।”
ইহান সামনের দিকে এগোচ্ছে। তার দিকেই পিঠ দিয়ে ডিভানে বসে চা খাচ্ছিলো এ বাড়ির কর্তা সামিন ইয়াসার মির্জা। সম্পর্কে সে ইহান তাজওয়ার মির্জার বড় চাচা। ছেলের কন্ঠস্বর কানে যেতেই মাথা তুলে তাকায় সে, উঠে দাড়িয়ে ঘুরে তাকায়। তার পাশেই এসে দাঁড়ায় এই মির্জা বাড়ির আরো দুজন কর্তা। একজন ইহান তাজওয়ার মির্জার বাবা ইলহাম মির্জা এবং আরেকজন তার ছোটোচাচা ইশমাম মির্জা।

ইহান তাজওয়ার তিন ভাইকে দেখতে দেখতে তার চোখ জুড়ায়,সাথে তার হৃদয় খানিকটা ব্যথিতও হয়। সন্তানের কাছে সবথেকে কষ্টের বিষয় হচ্ছে চোখের সামনে বাবাকে বৃদ্ধ হতে দেখা। ইহানও দেখছে তার বাবারা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নিজেদের বয়স বাড়িয়ে চলেছে। কত বদলেছে সবাই। ইহানের তিনজন হ্যান্ডসাম বাবার হাতেগোনা কয়েকটা চুল কালো রয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারা এখনো শরীরে এই মির্জা বংশের আভিজাত্য ধরে রেখেছে। এখনও বেশ শক্তিশালী এবং ব'লিষ্ঠ।

সামিন ইয়াসার তার ভাইপোর দিকে তাকিয়ে একটা নির্মল হাসি দেয়। ইহান তার জন্মদিনের উপহার পেয়ে যায়। এতো বছরে সবকিছু বদলে গেলেও বদলায়নি ইয়াসার মির্জার ঐ ভুবন ভোলানো নির্মল হাসি।

ইহান এগিয়ে গিয়ে বড় বাবার সাথে কোলাকুলি করে। সামিন ইয়াসার ছেলেকে আন্তরিকতার সাথে জাপটে ধরে পিঠে চাপড় মেরে বলে,“জীবনে সব কিছু শুভ হোক তোমার বাবা। শুভ জন্মদিন।”

ইহান মির্জা একে একে তার বাবা এবং ছোটোবাবার সাথে কোলাকুলি করে। ছেলেকে দোয়া ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বুকে টেনে নেয় ইলহাম মির্জা এবং ইশমাম মির্জা।

ইহান আশেপাশে তাকায়। তারপর বলে,“মা জননীরা কোথায় আমার?”

“এখানে!”
রান্নাঘর থেকে একে একে বেরিয়ে আসে এ বাড়ির তিনজন গিন্নি। এ বাড়ির বড় বৌ আলো,মেজো বৌ রিতু এবং ছোটো বৌ পরী।

ইহান তাজওয়ার মির্জা ঘুরে তাকায়। তার তিন মায়ের দিকে তাকিয়ে বিনয়ে নুয়ে যায়, দ্রুতপায়ে এগিয়ে যায় বড় মায়ের কাছে। আলো বড় ছেলেকে আগলে ধরে, দু'চোখ চকচক করছে তার। ইহান নুয়ে যায়, অদ্রিতা আলো ইহানের কপালে চু'মু এঁকে দিয়ে বলে,“মাশাআল্লাহ বাবা। পাঞ্জাবিটাতে ভীষণ মানিয়েছে তোমাকে, তুমি নিঃসন্দেহে তোমার বাবা চাচাদের থেকেও সুদর্শন, সুপুরুষ।”

ইহান মির্জা ম্লান হেসে বড় মায়ের স্নেহমাখা হাতদুটো আগলে নিয়ে চু'মু খায়, এগিয়ে যায় মায়ের কাছে, পরপর এগিয়ে যায় ছোটো মায়ের কাছে।

আজকের দিনটা বিশেষ,সবার কাছে। কেননা আজ ইহান তাজওয়ার মির্জা নিজের কম্ফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে এসে পরিবারের সবার সাথে একটু কথা বলে, নয়তো ইহান তাজওয়ার মির্জা স্বল্পভাষী, গম্ভীর। শুধু বোন দু'টোর বেলাতে সে খানিকটা ব্যতিক্রম।

খাবার টেবিলে খাবার সাজিয়েছে মির্জা বাড়ির গিন্নিরা। খেতে বসেছে সামিন ইয়াসার, ইশমাম মির্জা, ইলহাম মির্জা এবং ইহান তাজওয়ার। ছেলের সামনে একবাটি ক্ষীর রেখে আলো বলতে থাকে,“আমি খাইয়ে দেবো বাবা?”

ইহান ম্লান হাসে,ভারী গলায় গমগম করে,“আমাকে তুমি এখনও আট বছর বয়সী ইহানের মতো ট্রিট করো বড় মা। আর ইনু আজ বললো আমি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি!”

_তুমি গাঁয়ে বেড়েছো! আমি তোমার দিকে তাকালে আমার ছোটো ইহানকেই দেখি। যে তার বড় মায়ের ন্যাওটা ছিলো।

খেতে খেতে হাত স্থির হয় সামিন ইয়াসারের। মাথা তুলে এদিক ওদিক তাকিয়ে ইলহাম মির্জার স্ত্রী রিতুকে বলে ওঠে,“সে কই?”

রিতু চোখ মুখ খিচিয়ে ভাসুরকে নালিশ দেওয়ার মতো করে বলে “কাল নাক ফাটিয়ে এসেছে। রাত দুটো কি তিনটে হবে। কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই রক্তাক্ত নাক নিয়ে ঘরে ঢুকে আমার মুখের ওপর দরজা লাগিয়ে দিল।
কত করে বলি আপনাকে ভাইয়া ছেলেটাকে চাপ দিন। ও আপনাকে ছাড়া কাউকে মানে না। এখন বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।”

ইহান তাজওয়ার সহ ইলহাম মির্জা এবং ইশমাম মির্জার চামচের টুং টাং আওয়াজ থেমে যায়। ইলহাম মির্জা বৌয়ের মুখে ছোটো ছেলের কীর্তি শুনে চোখ মুখ বিকৃত করে।

সামিন ইয়াসার হাসে,রিতুকে আশ্বস্ত করে বলে,“ও ইরফান মির্জা। মির্জা বাড়ির ছেলে রিতু। বাড়াবাড়ি করলেও লিমিটের মধ্যে থেকে করবে। তুমি টেনশন করো না। আমি বুঝিয়ে বলবো।”

তারপর ইশমাম মির্জার দিকে তাকিয়ে সামিন ইয়াসার বলে,“অ্যাংগার ম্যানেজমেন্ট একাডেমীর প্রফেসর তোর বন্ধু না?”

ইশমাম মির্জা হ্যা সূচক জবাব দিতেই সামিন ইয়াসার বলে ওঠে,“অ্যাপয়েনমেন্ট চাই। বলবি ইয়াসার মির্জা কথা বলতে চায়।”

★★★

“পারবি না তুই প্রেরনা। আমি তোকে বারবার বলছি, একা একা শুদ্ধকে বড় করতে পারবি না তুই। তুই আমার প্রস্তাবে রাজী হয়ে বিয়ে টা করে নে। শাদাদকে বিয়েটা কর। আমি চাইনা তোর জীবনটা এভাবে কাটুক।”

বসার ঘর থেকে ভেসে আসা মুবিনার কথা গুলো নিজের ঘরে বন্ধ দরজার এপাশ থেকে শুনছে প্রেরনা। তার হাতে ফোনের স্ক্রিনে মৃত স্বামীর ছবিটাতে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ। মনে মনে অনেক কিছুই বলে ওঠে,“এটাই চেয়েছিলেন আপনি? ঠিক এতোটা মানসিক যন্ত্রণা দিতেই আপনি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন? খুশি হয়েছেন? খুশি হয়েছেন শাওকাত ওয়াসীত?”

বাক্য গুলো মনে মনে আওড়ালেও গলা ধরে আসে তার। ধীরে ধীরে ডান হাতে একবার ছবিটা ছুঁয়ে দিয়ে ফোনটা অফ করে দেয়। তারপর আয়নার সামনে দাঁড়ায়। বন্ধ দরজার আড়ালে সে নিজেই নিজেকে শান্তনা দিয়েছে শাওকাতের মৃ'ত্যুর পর থেকে, প্রতিটা দিন। কখনো অন্য কারো প্রয়োজন পরেনি। আজও সে তার প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বলে,“তোর কাউকে লাগবে না প্রেরনা।”

বসার ঘরে মুবিনা শরীফ বসে আছে। মুখোমুখি সোফায় বসে আছে তার ভাইঝি প্রেরনার পাঁচ বছরের ছেলে শুদ্ধ। হাতে একটা খেলনা রোবো-কার। এই মাত্র তার নানীর কাছ থেকে গিফট পেয়েছে সে। ভীষণ উচ্ছ্বসিত সে, রোবো-কারকে সচল করে ইন্সট্রাকশন দিচ্ছে।

মুবিনা কিছুক্ষণ বসে থেকে উঠে দাঁড়ায়। ভাইঝির ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে পার্স হাতে তুলে নেয়। ওখানেই দাঁড়িয়ে চেঁচিয়ে বলে ওঠে,“ভাব। তোকে সময় দিলাম আমরা। আশা করছি হ্যা বোধক উত্তর পাবো তোর থেকে। আজ চললাম।”

প্রেরনা শুনছে তার ফুপির কথা। কিন্তু সে ঘর থেকে বের হয় না। যেভাবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তার প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে ছিলো ঠিক সেভাবেই তাকিয়ে থাকে দীর্ঘক্ষণ। নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে সে। শুদ্ধ জন্মানোর পরে ওজন বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় সাতষট্টি কেজিতে। এখন ওজন নেমে দাঁড়িয়েছে বায়ান্ন কেজিতে। প্রেরনার শীর্ণকায় শরীর এবং ছোটোখাটো উচ্চতা দেখে কোনো আগন্তুক মানতে চাইবে না তার বয়স ঊনত্রিশে গিয়ে ঠেকেছে। সেদিন শুদ্ধর স্কুলে একজন অভিভাবক প্রেরনাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করে বসে,“আপনি শুদ্ধর বড় আপু?”

প্রেরনা বেশ কয়েকবার এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। নিজের চেহারার তারুণ্য মুছে ফেলতে একটা সৌন্দর্য ক্রিম এখন আর লাগায়না গালে। তবু ফর্সা রঙের গাল দুটো থেকে লাবণ্যতা সরছেই না।

বাড়িতে প্রেরনার ফুপি মুবিনার অনুপস্থিতি নিশ্চিত করে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।

★★★

বিগত বিশ মিনিট ধরে পুশআপ দিয়ে যাচ্ছে মেঝেতে। টপটপ করে শরীর থেকে ঘাম ছুটে গড়িয়ে পরছে। মাঝে মাঝে নিঃশ্বাসের শব্দ তীব্র হয়। সে থামে না, থামবার নাম নেই।

হঠাৎ দরজায় ঠকঠক আওয়াজ হয়। ওপাশ থেকে প্রেরনা মিহি স্বরে বলে ওঠে,“ভাই আমি।”

প্রিতম থেমে যায়। একটা ঘন প্রশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ায়। ট্রেডমিলের ওপর থেকে তোয়ালেটা নিয়ে মুখের ঘাম মুছতে গিয়ে মৃদু আর্তনাদ করে ওঠে,“আউচচচ!”

সে ভুলেই গিয়েছিলো তার মুখে ক্ষ'ত। এক ঢোকের সাথে যন্ত্রনা গিলে ফেলে সে স্বাভাবিক গলায় জবাব দেয়,“দুমিনিট আপু!”

দুমিনিটে নিজের নগ্ন শরীর ঢেকে নেয় একটা ব্ল্যাক ফুলস্লিভ টি-শার্টের নিচে। বোতল উঠিয়ে খড়খড়ে গলাটাকে ভিজিয়ে নিয়ে গিয়ে দরজা খুলে দেয়।

প্রেরনা ভেতরে ঢোকে। প্রিতমের দিকে তাকিয়ে বলে,“প্রনমিকে মিস জেনির সাথে ছাদে পাঠিয়েছি। তোকে ইনফর্ম করলাম। চেঁচামেচি শুরু করে দিস না। আমি ফিশ মার্কেট যাচ্ছি।"

প্রিতম ধীরস্থির। জবাব দেয়,“চলো আমিও যাই তোমার সাথে!”

প্রেরনা ভাইয়ের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে তার থুতনিতে হাত রেখে ক্ষতটা ভালো করে দেখে, একটা একটা করে বেশ কয়েটা দাগ বসিয়ে ফেলেছে সুদর্শন এই মুখটাতে। ভীষণ চোখে বিঁধছে দাগগুলো।
সদ্যজাত ক্ষতটাকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে সে,তারপর বলে ওঠে,“তুই কি পাল্টা আ'ঘাত করেছিলি?”

প্রিতম হ্যা সূচক মাথা নাড়ায়। স্পষ্ট স্বরে বলে,“আমিও ঘুষি দিয়েছি। নাক বরাবর।”

_শুরুটা তো ঐ ছেলেটাই করেছিলো তাই না?

_হ্যা। শুরুটা ওই করে সবসময়। তুমি এসব কেনো জানতে চাইছো?

_কারন আমি ঐ ছেলেটার বড় ভাইয়ের কাছে বিচার নিয়ে যাবো আজ।

প্রিতমের ভ্রু কুঁচকে যায়। প্রেরনা খুবই শান্ত। বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রিতম বলে ওঠে,

_তুমি যাবে? ইহান তাজওয়ার মির্জার কাছে?

কন্ঠে দৃঢ়তা নিয়ে প্রেরনা বলে,“হ্যা। ইহান তাজওয়ার মির্জার কাছে।”

চলমান....

বিশেষ বিশেষ বিশেষ নোটিশ 🚫

গল্পটা শুধুমাত্র বিনোদনের উদ্দেশ্যে রচিত, এর সাথে বাংলা সাহিত্যের কোনো লেনা-দেনা নেই। তবে বাংলা সিনেমার অনেক সম্পর্ক আছে। আমি সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখছি, ভবিষ্যতে সিনেমা বানাবো বলে।

আর হ্যা পাঠকগণ, এবছর আমার ভীষণ ব্যস্ততায় কাটতে চলেছে। তাই আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সপ্তাহে পাঁচদিন আমি গল্প দেবো। আর দুদিন ছুটি। তাই আপনাদের অসুবিধা থাকলে গল্পটি শেষ হবার পরেই পড়বেন। নয়তো আমার কিছুই করার নেই। নিজেকে রেস্ট দিয়ে দিয়ে গল্পটি দেবো আপনাদের। বাকি পাঁচদিন সময় মতো গল্প পাবেন অবশ্যই।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন