ফন্ট সাইজ:
থিম:
বধূ কোন আলো লাগল চোখে ২

পর্ব 2

লেখক: ইসরাত ইতি

#বধূ_কোন_আলো_লাগলো_চোখে [ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ ]
#পর্বসংখ্যা_২
#ইসরাত_ইতি

🚫কঠোর ভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য।

🚫শিক্ষা ও সাহিত্যের সাথে আমার এই কল্পিত ঘটনাগুলোর লিখিত শব্দগুলোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫
[৩৪০০+ শব্দ। বড় পর্ব, সবাই মেইন ফেসবুক থেকে পড়বেন]

কালো রঙের মার্সিডিজটা রাস্তার মাঝখানে আড়াআড়ি ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তাতে হেলান দিয়ে দাঁড়ানো একজন সুদর্শন তরুণ। এক পায়ের হাঁটু খানিকটা ভাজ করে গাড়িতেই ঠেকিয়ে রেখেছে সে। সাদা রঙের টি-শার্টের ওপর ব্লু ডেনিম জ্যাকেট চাপিয়েছে। পায়ে তার একজোড়া ঝকমারি কেডস। চোখে আছে রে ব্যান সানগ্লাস।

তর্জনীতে গাড়ির চাবি নিয়ে চক্রের মতো ঘোরাচ্ছে ,সামনের দিকে দৃষ্টি স্থির তার।

গোলাপি রঙের স্কুটিটা তড়িৎবেগে ছুটতে ছুটতে আসছিলো যদিও,তবে ঠিক তরুণের সামনে এসেই কায়দা করে ব্রেক ক'ষে।

তরুণী নিরুদ্বেগ। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুঠামদেহী সুদর্শন তরুণ একটা বাঁকা হাসি হেসে চোখ থেকে খুলে ফেলে সানগ্লাস,সামনের স্কুটিতে সুস্থির হয়ে থাকা তরুণীকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে,“ইনশিরাহ বিনতে সামিন!”

ইনশিরাহ অবিচল তাকিয়ে আছে। তরুণ বলতে থাকে,“সরি ফর বিয়িং লেট!”

_ইটস ওকে! এখন পথ ছাড়ো। আমার যেতে হবে সাঈম!
নিচুস্বরে বলে ওঠে ইনশিরাহ।

_কিসের তা'ড়া?
সাইম নামের তরুণ ভ্রু নাচিয়ে জানতে চায়।

_বড় দাদানের বার্থডে আজ।

_আমার সমন্ধির আজ বার্থডে? প্লিজ আমার পক্ষ থেকে উইশ করে দিও।

ইনশিরাহ মুখ বিকৃত করে ঘাড় কাত করে। তারপর বরফ ঠান্ডা গলায় বলে,“কি বলবো? দাদান,তোমাদের রাইভাল পার্টির সাগর ভূঁইয়ার ছোটো পুত্র সাঈম ভুঁইয়া তোমাকে বার্থ ডে উইশ করেছে। এটা?”

সাঈম হাসে। তারপর বলে,“সাহস হলে বলে দিও।”

_আমার তো সে সাহস আছে। তোমার কি সাহস আছে আমার এই সাহস দেখার?

সাঈম তাকিয়ে ইনশিরাহর দিকে। তারপর দৃঢ় ভাবে বলে,“নয়তো ছয়টা বছর লেগে থাকতাম না তোমার পেছনে!”

ইনশিরাহর মুখভঙ্গি মুহুর্তেই পালটে যায়। আগের সে কঠিন খোলস ভেঙে বেরিয়ে বলে,“বুঝেছি খুব সাহসী আপনি। সময় হলে বাকিটা দেখবো। এখন সরুন। যেতে হবে!”

_সত্যিই চলে যাবে! দুমিনিট সময় দেবে না আমাকে?

_নাহ! এটা লেট লতিফের শাস্তি। তার তুমি মা'স্ক পরো। আমাদের দুজনকে এভাবে দেখলে তৃতীয় বিশ্ব'যুদ্ধ লেগে যাবে।

কথাটা বলেই ইনশিরাহ নিজের হেলমেট পরে স্কুটি স্টার্ট দেয়। সাঈমের দিকে তাকিয়ে বলে,“বাই। আই উইল কল ইউ লেটার!”

যে গতিতে এসেছিলো,ঠিক একই গতিতে স্কুটি নিয়ে ছুটতে থাকে। অটল হয়ে দাঁড়িয়ে সেদিকে তাকিয়ে থাকে সাঈম, তারপর হঠাৎ এক রহস্যময় হাসি দিয়ে গাড়িতে উঠে বসে।

★★★

সকালের নাস্তার টেবিলেই এ বাড়ির অর্ধেক গুরুত্বপূর্ণ আলাপ-আলোচনা করা হয়। নিয়মানুযায়ী আজও হচ্ছে। রিতু বেশ কিছুক্ষণ ধরে উ'শ'খু'শ করে যাচ্ছে স্বামী,ভাসুর,দেবরের সামনে জরুরি কথাটা তোলার। আজ দিনটাও ভালো। সবাই ফুরফুরে মেজাজে আছে, বিশেষ করে বড় ছেলে তার। এই একটা দিনে ইহান তাজওয়ার মির্জা তাড়াহুড়ো দেখায় না কোনো।

সামিন ইয়াসার ভাইদের সাথে পারিবারিক ব্যবসা সংক্রান্ত জরুরী আলোচনা করছে। বরাবরের মতো তার ছোট ভাই ইশমাম উদাসীন এসব ব্যাপারে,সে কস্মিনকালেও পারিবারিক ব্যবসাতে নাক গলায়নি। সবসময় নিজের পছন্দের পেশাকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। ইশমাম মির্জা বর্তমানে একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির লেকচারার হিসেবে আছেন।

মেজো জা'কে উ'শ'খু'শ করতে দেখে আলো কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করে,“কিছু বলবে রিতু?”

বাড়ির পুরুষরা সবাই কথা বন্ধ করে রিতুর দিকে তাকায়। ইহান মায়ের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রিতু ছেলের দিকে একপলক দৃষ্টি ফেলে সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে,“ইহানের জন্য একটা মেয়ে দেখেছি আমি আর পরী। পরীর কলিগের মেয়ে। মেয়ে ডাক্তারি পড়ছে......”

কথাটা রিতুকে শেষ করতে না দিয়েই ইহান গুরুগম্ভীর স্বরে বলে ওঠে,“মাম্মা!”

সাথে সাথে পরী ইহানকে ধ'ম'কে ওঠে,“তুই চুপ কর! চুপ করে বোস!”

ইহান চুপ হয়ে যায়। রিতু তার অসম্পূর্ণ কথা শুরু করতে নিলে ইলহাম মির্জা রিতুকে থামিয়ে দিয়ে বলে,“ছেলে যখন সময় চাচ্ছে একটু তাকে সময় দিই!”

ইলহাম মুখ থেকে কথাটা বের করে মাটিতে ফেলতে পারলেন না,অদ্রিতা আলো বলে ওঠে,“একত্রিশ বছর হয়ে গেলো! আর কত সময় দেবো ওকে ভাইয়া? পরে দেখা যাবে হুট করে ওর বড় চাচার মতো কাউকে তুলে এনে বিয়ে করে নিলো....”

সামিন ইয়াসার মাত্রই পারিবারিক আলোচনা শুনতে শুনতে কফির মগে চুমুক বসিয়েছে। স্ত্রীর কথাতে বি'ষম খেয়ে কাঁশতে থাকে অনবরত।
রিতু এক গ্লাস পানি ঢেলে এগিয়ে দেয় ভাসুরের হাতে। সামিন পানিটুকু গলায় ঢেলে ধা'তস্থ হয়, অক্ষিপল্লব প্রশ্বস্ত করে স্ত্রীর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।
আলো ধীরস্থির দাঁড়ানো, ভাবলেশহীন মুখে।

পরিবেশটা কেমন গুমোট হয়ে ওঠে, এরই মাঝে পরী মুখে শাড়ির আঁচল চে'পে মৃদু হেসে ওঠে। সামনে তার দু'জন ভাসুর বসে খাচ্ছে সেদিকে তার খেয়াল ছিলো না।

ইশমাম মাথা তুলে স্ত্রীর দিকে তাকায়। তার ভ্রু-যুগল গুটিয়ে মাঝখানে এসেছে। শ্বাস ফেলে মনে মনে আওড়ায়,“একটুও বদলালো না এতো বছরেও!”

স্বামীর কঠিন দৃষ্টি দেখে পরী হাসি থামিয়ে চুপ হয়ে যায়।

ইলহাম বড় ভাবীর বিরোধীতা করে,“ভাবী ওটা আমার ছোটো ছেলে ইরফান মির্জাকে নিয়ে যদি বলতে তবে মেনে নিতাম।”

ইহান তাজওয়ার চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ায়। আলো কড়া গলায় ছেলেকে বলে,“উঠছো কেনো! বসো! মেয়ের ছবি দেখবে তুমি!”

_বড় মা! তাড়া আছে। ছেলেগুলো অপেক্ষা করছে আমার। আজ তাড়াতাড়ি ফিরবো।
ইহান সবার মুখের দিকে একপলক তাকিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। তারপর পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে নিতে নিতে পরীকে উদ্দেশ্য করে বলে,“ছোটো মা! তুমি চেম্বারে বসবে তো। চলো আমি পৌঁছে দিচ্ছি!”

নিজের ওয়ালেট আনতে দোতলায় ওঠে ইহান,ছেলে প্রস্থান করলে একে একে খাবার টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় ইশমাম মির্জা এবং ইলহাম মির্জা। রিতু আর পরী তাদের স্বামীদের অনুসরণ করে পা বাড়ায় শোবার ঘরের দিকে। বাড়ি থেকে বের হবার আগে স্বামীর এটা ওটা টুকটাক জিনিস পত্র এগিয়ে দেওয়াটা নিয়ম বানিয়ে রেখেছে এই মির্জা বাড়ির বৌয়েরা।

খাবার টেবিলে বাকি রইলো সামিন ইয়াসার মির্জা এবং তার সহধর্মিণী অদ্রিতা আলো। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে। আলোর মুখভঙ্গি শান্ত, সামিনেরও তাই। কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে সে স্ত্রীকে গম্ভীরস্বরে বলে,“ছেলে মেয়েগুলোর সামনে পুরনো কথা না টানলেই হয়না? রীতিমতো আমার সম্মান ধরে টান মারো আছিয়া!”

আলো অবিচল। অচপল কন্ঠে বলে,“আজ থেকে ছাব্বিশ বছর আগে কাজ টা করার সময় এসব কথা মাথায় আনা উচিত ছিলো।”

সামিন তর্ক বাড়ায় না, অঘোষিত মৌখিক যুদ্ধে হার তার নিশ্চিত তাই সে পরিশ্রম বাঁচিয়ে অগ্রিম হার মেনে উঠে দাঁড়ায়। শুধু অস্ফুট স্বরে বলে,“অফিসে ব্যস্ততা আছে, কিছু লাইসেন্স রিনিউ করাতে হবে। এদিকটা সব গুছিয়ে দিয়ে যাবো। লোকবল আসবে। এতিমখানা গুলোতে প্রথমে যাবে খাসি গুলো। সামলাতে পারবে না?”

_ছাব্বিশ বছর ধরে আস্ত ইয়াসার মির্জাকে সামলে এসেছি। এখন ভরসা করা বা না করা আপনার বিবেচ্য বিষয়।

টেবিল গোছাতে গোছাতে পাল্টা জবাব দেয় আলো‌।

সামিন ইয়াসার আর একটা শব্দও বাড়ায় না। হেলেদুলে সিড়ির দিকে পা বাড়ায়, বিড়বিড় করে আওড়ায়,“সংসার সুখের হয় পুরুষের গুণে, চুপচাপ সে যদি বৌয়ের খোটা শোনে!”

_কিছু বললেন মেয়র সাহেব?

_না না, কানে ইদানিং বেশি শুনছো আছিয়া।

★★★

আটান্ন বছর ধরে অনমনীয় আভিজাত্য নিয়ে টান টান হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা “শান্তিনীড়ের” গেটের সামনে এসেই স্কুটির ব্রেক কষে ইনশিরাহ।‌ গেট দাড়োয়ান আসাদ ছুটে এসে লোহার গেটটাকে একপাশে সরিয়ে দেয়। ইনশিরাহ স্কুটি নিয়ে ভেতরে ঢোকে। ধবধবে সাদা রঙের এই ঝা চকচকে বাড়িটা সম্ভবত এই শহরের সবথেকে পুরনো দালান। এই শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে এরকম সাবেকি ডিজাইনের ডুপ্লেক্স বাড়ি কোথাও নেই। যদিও রেনোভেশনের পরে বাড়ির ডিজাইন কিছুটা বদলেছে, অবকাঠামো পরিবর্ধিত হয়েছে,তবুও খুব আলাদা লাগে।

পার্কিং হাউজে স্কুটিটাকে না ঢুকিয়ে পোর্চের সামনে এনে দাড় করায় ইনশিরাহ। এরপর বেশ তাড়াহুড়ো করে নামে, প্রথমেই স্কুটির ব্যাকপার্ট উঠিয়ে সেখান থেকে একটা সিল্কের সাতরঙা স্কার্ফ ওড়না বেড় করে গলায় পেঁচিয়ে নেয়।
ইনশিরাহ জানে,এটা না পেঁচিয়ে অন্দরমহলে পা রাখার সাথে সাথে তার ঝাসি কি রানী মাতারানী অদ্রিতা আলো, ওয়াইফ অব সামিন ইয়াসার মির্জা বজ্রপাতের ন্যায় তার ওপর আছড়ে পরবে, চুলের মুঠি ধরে বলবে,“এই তোর ওড়না কই?”
তাই সুবোধ তরুণীর মতো আগেভাগেই ইনশিরাহ ফাঁসি দিয়ে নেয় গলাতে। এ বাড়িতে গরমে ম'রে যাও,অথবা বেঁচে থাকো। ইনশিরাহ আর ইনায়া ওড়না রেখে হাঁটতে পারবে না।

গলায় ফাঁস লাগিয়ে ইনশিরাহ হাতে তুলে নেয় একটা শপিং ব্যাগ। যেটাতে আছে বড় দাদানের জন্য গিফট।

★★★

ফিশ মার্কেট থেকে ফিরেই প্রেরনা গোসল সেরে নেয়। তার দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে অপছন্দের কাজ হচ্ছে ফিশ মার্কেট যাওয়া,সপ্তাহে চারদিন। এছাড়া কোনও উপায় নেই তার, মাছগুলো বেছে বেছে তাকেই কিনতে হবে। স্টাফদের দিয়ে এসব হয়না।

কোমল তনুতে বাথরোব জরিয়ে ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে আসে প্রেরনা। আলমারির কাছে গিয়ে বেছে বেছে নীল সুতার কাজ করা অফ হোয়াইট শাড়িটা বের করে নিজেকে তৈরি করে ঘর থেকে বেরোয়।

ডাইনিং টেবিলে শুদ্ধ বসে বসে ঝিমুচ্ছে। প্রেরনা তাড়াহুড়ো লাগিয়ে ছেলের কাছে এসে পিঠ ডলে দিয়ে বলে,“ঘুমায় না বাবাই। স্কুলের বাস এসে যাবে।”

শুদ্ধ নড়েচড়ে ওঠে। সাত সকালে নানী আসার পরে ঘুমটা কে'টে গিয়েছিলো। এখন আবারও ছোটো ছোটো চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে। আজ স্কুলে যেতে ইচ্ছে করছে না পাঁচ বছরের শুদ্ধের। পাছে মাম্মা বকুনি দেয়,তাই মুখ ফুটে কিছু বলছেও না। তবে সে প্ল্যান করেছিলো কথাটা মামা অথবা খালামনিকে বলবে।

প্রেরনা যখন ছেলেকে তাড়া দিয়ে যাচ্ছে, তখনই পাশের ঘর থেকে শ্রুতিমধুর সুরে ভেসে আসে রবি ঠাকুরের গান,

“বধূ কোন আলো লাগলো চোখে,
বুঝি দীপ্তি রূপে ,ছিলে সন্ধ্যালোকে।”

প্রেরনা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনতে থাকে সে গান। আশেপাশে তাকিয়ে কিচেনে অবস্থানরত পঞ্চাশোর্ধ মিস জেনিকে জিজ্ঞেস করে,“আজ ছাদ থেকে জলদি ফিরলো কেনো মহারানী?”

গভর্নেস জেনেলিয়া কেক বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার স্বভাবসুলভ মিহি স্বরে জবাব দেয়,“অ্যাপার্টমেন্টের মালিকের ছেলে তার বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছাদে চলে গিয়েছিলো হঠাৎ।”

প্রেরনা শুদ্ধর মুখে এক চামচ কর্নফ্লেক্স তুলে দিয়ে বলে ওঠে,“ওষুধ টা সময় মতো খাইয়ে দেবেন ওকে।”

মিস জেনি ঘা'ড় কাত করে আশ্বস্ত করে প্রেরনাকে।

“সুন্দর হে, সুন্দর হে,
বরমাল্যখানি তব আনো বহে,
অবগুণ্ঠনছায়া ঘুচায়ে দিয়ে
হেরো লজ্জিত স্মিতমুখ শুভ আলোকে!
বধূ কোন আলো লাগলো চোখে!”

প্রনমি শ্বাস ফেলে। গলায় সুর উঠেছে শেষমেশ। স্বস্তিতে চোখের পলক ঝাপটায়, হাসে মিষ্টি হাসি। দুদিনের সর্দিকাশিতে গলার অবস্থা হয়েছিলো বেহাল। মিস জেনির জাদুর টোটকা গলায় পরতেই গলা ঠিক হয়ে গিয়েছে। মিস জেনিকে একটা লম্বা ধন্যবাদ দিতে হবে।

হাত বাড়িয়ে বিছানায় বালিশের নিচ থেকে হাতরে হাতরে ওয়াচটা তুলে নিয়ে সচল করতেই যন্ত্রটা প্রনমিকে সকালের সময় জানিয়ে দেয়। এখন সময় সকাল আটটা।

প্রনমি বেড ধরে ধরে উঠে দাঁড়ায়। ছড়িটা কোথায় রেখেছে সে জানে না। হাত বাড়িয়ে বিছানা,বেড সাইড টেবিল,সব হাতরে যাচ্ছে। মিস জেনিকে ডাকতে গিয়েও ডাকে না।

ছড়িটা প্রনমির ড্রেসিং টেবিলের ওপরেই রাখা ছিলো। খুঁজে পেয়ে প্রনমি ম্লান হাসে। অস্ফুট স্বরে বলে ওঠে,“অন্ধের লাঠি!”

শুদ্ধর স্কুল বাস প্রেরনাদের এপার্টমেন্টের সামনে এসে থামে ঘড়ি ধরা সময় ঠিক আটটা ত্রিশে। প্রেরনা ছেলেকে নিয়ে গেটের বাইরে আটটা পঁচিশে এসে দাড়িয়ে ছিলো।

গলায় ওয়াটার বোতল ঝুলানো, কাঁধে স্পাইডারম্যানের ছবি আঁকা নীল রঙের স্কুল ব্যাগ, ইউনিফর্মের রং সাদা এবং নেভি ব্লু প্যান্ট। চুলগুলো মাম্মা খুব সুন্দর করে সেট করে দিয়েছে। একেবারে পরিপাটি স্টুডেন্ট বেশে ভদ্রভাবে মায়ের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে শুদ্ধ। সে ছাত্র এবার প্লে-ওয়ানের । তিন মাস হলো তার ছাত্রজীবন শুরু হয়েছে। মোটামুটি কাছেই একটা নামকরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে তাকে।

স্কুলের বাস এসে থামে। শুদ্ধর নবাগত বন্ধুরা সবাই বাসের জানালা দিয়ে উঁকি দেয়,হাত নেড়ে শুদ্ধকে গুড মর্নিং জানাচ্ছে। শুদ্ধ চুপচাপ এগিয়ে যায় বাসের দিকে।

তাদের ক্লাস টিচার শুদ্ধকে তুলে নেয় বাসে। নিজের নির্দিষ্ট সিটে বসে জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে মাম্মাকে টাটা দেয় শুদ্ধ।

প্রেরনা ছেলেকে হাসি মুখে বিদায় জানিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। হাতে বেশি সময় নেই,আজ অনেক কাজ। ত্রস্ত পায়ে গিয়ে লিফটের বাটন টিপে দাড়িয়ে অপেক্ষারত অবস্থায় আজকের দিনের সময়সূচি ভাগ করে নেয়।
সুতির শাড়িটার আঁচল সেই কখন তার ডান কাধ থেকে খসে পরেছে খেয়াল করেনি প্রেরনা। লিফটের দরজা খুলতেই ব্যস্ত ভঙ্গিতে ভেতরে পা বাড়াতেই থ'মকে যায় সে।
লিফটে দাঁড়িয়ে আছে এপার্টমেন্টের মালকিনের একমাত্র ছেলে রাদিফ।
প্রেরণার কপাল কুঁ'চ'কে যায়। সে চেষ্টা করে মুখভঙ্গি স্বাভাবিক রাখার। কিন্তু তার মুখবিবরের কানায় কানায় ছেয়ে আছে অস্বস্তি।

এই রাদিফ নামের চব্বিশোর্ধ ছেলেটার দৃষ্টিতে সে বরাবর অন্যকিছু খুঁজে পায়। বিরক্ত লাগে প্রেরনার।
রাদিফ ফুরফুরে মেজাজে প্রেরনাকে জিজ্ঞেস করে,“ভালো আছো প্রেরনা আপু?”

_হু।
গম্ভীর স্বরে জবাব দেয় প্রেরনা।
লিফটে রাদিফ আর সে ব্যতীত কেউ নেই। রাদিফ প্রেরনাকে দেখে যেনো আকাশের চাঁদ পেয়ে যায়। কামুক দৃষ্টি ছোঁয়াতে থাকে প্রেরনার শরীরে। তার দৃষ্টি এসে থামে প্রেরনার সুডৌল কোমরে। সবসময় প্রেরনা শাড়ির আঁচল ডান কাঁধে জরিয়ে থাকে বিধায় তার দেহের ভাঁজ অনুমান করা মুশকিল। কিন্তু আজ রাদিফ দেখে নিয়েছে। নিজের সৌভাগ্যে রাদিফ খুশি। লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে প্রেরনার কোমরের দিকে।
চোখ বন্ধ করে একটা আফসোসের নিঃশ্বাস ছাড়ে সে। ইশ! কবে ঐ সুগঠিত কোমর পেঁচিয়ে ধরবে তার দুহাতে। ইচ্ছে করছে এক্ষুনি,এই লিফটেই ওই শাড়ির আঁচল সরিয়ে মেদহীন নরম পেটে চু'মু খেতে। প্রেরনার ফরসা গালদুটোর মতো তার শরীরটাও নিশ্চয়ই অনেক ফর্সা!
প্রেরনার অস্বস্তি বাড়তে থাকে, হঠাৎ খেয়াল আসে তার শাড়ির আঁচল ডান কাঁধ থেকে খসে পরেছে। সাথে সাথে টান মেরে সে নিজেকে জরিয়ে নেয়।

রাদিফ লিফটের একপাশে দাঁড়িয়ে বাঁকা হাসি হাসে। মনে মনে আওড়ায়,“যা দেখার দেখে ফেলেছি ডিয়ার প্রেরনা জান! সুযোগ পেলে আরো দেখবো! সবটা দেখবো!”

লিফট নয়তলায় এসে ভিড়তেই ত্রস্ত পায়ে প্রেরনা বেরিয়ে যায়। সকাল সকাল এই অস্বাভাবিক বিদঘুটে চাহনির ছেলেটাকে দেখতে পেয়ে প্রথম দফায় তার মুড নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

ঘরে ঢুকে তাড়াহুড়ো করে নিজের পার্স ব্যাগ উঠিয়ে জেনেলিয়াকে সবটা বুঝিয়ে দিতে থাকে প্রেরনা। তখনই গুটি গুটি পায়ে দরজার বাইরে এসে দাঁড়ায় প্রনমি।

প্রেরনা বোনকে দেখতে পেয়ে আদেশের সুরে বলে,“ভদ্র মেয়ে হয়ে থাকবি। মিসেস জেনি যা ওষুধ দেবে খেয়ে নিবি। কোথাও বেরোতে হবে না। বিকেলে ছাদে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই।”

প্রনমি মুখে হাসি নিয়েই বোনকে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকে,“তাইতো! আমি অন্ধ মানুষ বারবার ছাদে গিয়ে দেখবোটাই বা কি!”

কথাটা বলে শেষ করতেই প্রনমি মৃদু আর্তনাদ করে ওঠে। প্রিতম বোনের কান মলে দিতে দিতে গম্ভীর স্বরে বলে,“খুব কথা শিখেছো তুমি! একেবারে চড়িয়ে দাঁত ফেলে দেবো।”

প্রনমি বলতে থাকে,“অন্ধ হলে নিজেকে আর কি বলবো? দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বলা যেতে পারে!”

প্রেরনা ধ'ম'কে বলে,“যা গিয়ে গান বাঁধ। পাকা পাকা কথা বলতে হবে না। যা। মিস জেনি,ওকে নভেল পড়ে শোনান। যান।”

জেনেলিয়া ঘা'ড় কাত করে প্রনমিকে এসে ধরে। নম্র স্বরে বলে,“চলো মামনী। ঘরে চলো।”

প্রনমি চলে যেতেই প্রিতম প্রেরনাকে বলে ওঠে,“উন্নতি দেখছো ওর?”

_হু। ট্রিটমেন্ট বাদ দেওয়া যাবে না।

বলতে বলতে আঁচল ডান কাঁধে টেনে নিয়ে ব্যাগটা তুলে নেয় প্রেরনা।

প্রিতম বোনকে বলে,“সোজা রেস্তোরাঁয় যাবে?”

_না।

_তবে?

_ইহান তাজওয়ার মির্জার পার্টি অফিসে।

_আপু বাদ দাও। আমার টা আমি বুঝে নেবো।

_এখন আর বাদ দেওয়া যাবে না ভাই। দরকার পরলে সামিন ইয়াসার মির্জার কাছে যাবো।

প্রেরনা কথাটা শেষ করে দ্রুতপায়ে এপার্টমেন্টের সদর দরজার নিকটে যায়। প্রিতম তার বড় বোনকে চেনে। একবার যেটা মাথায় ঢুকে যায় তা করেই ছাড়বে এই জেদী মহিলা। সে দ্রুত নিজের শার্ট পালটে বোনের পিছু পিছু যায়।

যদিও সে তার আপুকে চেনে, খুবই ঠাণ্ডা মাথার জেদী মেয়ে। সিনক্রিয়েট করবে না। তবুও সে ভরসা করতে পারছে না। একজন নেতাশ্রেনীর মানুষের কাছে তার নিজেরই ছোটো ভাইয়ের নামে নালিশ নিয়ে যাওয়াটা খুব সহজ ভাবে দেখবে না সামিন ইয়াসার মির্জার ভাইপো ইহান তাজওয়ার মির্জা! কখনোই না।

একপ্রকার লাফিয়ে প্রিতম প্রেরনার স্কুটারে উঠে বসে। প্রেরনা প্রিতমের দিকে তাকিয়ে বলে,“তুই কোথায় যাচ্ছিস? তোকে তো প্রয়োজন নেই। আমি একা গিয়ে কথা বলবো। নাম।”

★★★

দরজায় টোকা দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না ইনশিরাহ। হুরমুর করে ঢুকে পরলো । শুভ্র পাঞ্জাবির ওপরে কোটি চাপিয়ে বোতাম গুলো লাগিয়ে দিচ্ছিলো ইহান,এক্ষুনি সে বেরোবে। পার্টি অফিস থেকে একটার পর একটা ফোন কল আসছে। আওয়াজ পেয়ে ইহান ঘুরে দাঁড়ায়,চোখ বড় বড় করে বোনের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে,“কার নাক ফাটিয়ে এলি ইশি!”

ইনশিরাহ হাঁপাতে হাঁপাতে ভাইয়ের কম্পিউটার টেবিলের সামনের চেয়ারটা টেনে বসে। হাতের গিফট বক্স টা ভাইয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,“শুভ জন্মদিন দাদান। আরো একশো বছর আমি তোমাকে উইশ করতে চাই!”

ইহান তাজওয়ার হেসে হাত বাড়িয়ে বক্সটা নেয়। নম্র স্বরে বলে,“থ্যাংক ইউ সো মাচ!”

ইনশিরাহ সাথে সাথে উঠে দাঁড়ায়। দাদানকে সে অগাধ ভালোবাসলেও তার সাথে সে ইনায়ার মতো আহ্লাদ করতে পারে না। ইনশিরাহ কারো সাথেই আহ্লাদ করে কথা বলতে পারে না। নানুমনি এজন্য ইনশিরাহকে বলতো আলোর ফটোকপি। যার জিহ্বায় কোনো মধু নেই। গুছিয়ে দু'টো কথাও বলতে জানে না ‌।

ভাইকে বিদায় জানিয়ে ঘর থেকে প্রস্থানের নিমিত্তে পা বাড়াতেই পেছন থেকে ইহান ডেকে ওঠে,“ইশি!”

ইনশিরাহ দাঁড়িয়ে যায়। ইহান বলে ওঠে,“সাঈম ভুঁইয়ার সাথে কাল ইউনিভার্সিটির সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলেছিলি?”

ইনশিরাহ স্তম্ভিত, বাকরুদ্ধ, কিংকর্তব্য বিমূঢ়।

ইহান তার লম্বা পা ফেলে বোনের মুখোমুখি দাড়ায়। ইনশিরাহ খুব ভালো করে চেনে বড় দাদানকে,খুব সহজে পড়ে ফেলে মানুষের মাইন্ড। তাই সে সাথে সাথে কপাল কুঁ'চ'কে কিছু একটা মনে করার ভান করে বলে ওঠে,“সাইম ভুঁইয়া? ও হ্যা। আসলে ক্যাম্পাসে একটা ঝামেলা হয়েছিলো। ওর দলের একটা ছেলে ফার্স্ট ইয়ারের এক জুনিয়রকে টিজ করেছিলো। সেটা নিয়েই ওকে ওয়ার্ন করেছি। খুব করে ওয়ার্ন করেছি।”

তরতর করে ঠোঁটের আগায় যা পেলো বলে দিলো ইনশিরাহ। তাকিয়ে আছে দাদানের দিকে। ইহানের চোখ দেখে মনে হলো সে বিশ্বাস করে নিয়েছে।
ইনশিরাহর পা থেকে মাথা অবধি দেখে বলে ওঠে,“হু! বুঝলাম। তবে ওর সাথে ফারদার কোনো ঝামেলা বাধাবি না। সরাসরি এসে আমাকে বলবি। বাকিটা আমি সামলে নেবো!”

ইনশিরাহ ঘা'ড় কাত করে,ভাইকে আশ্বস্ত করে সে তাই করবে। ইহান তাজওয়ার বোনের মাথায় স্বভাবসুলভ হাত বুলিয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে ঘর থেকে প্রস্থান করে।

ইনশিরাহ আতঙ্কে জমে গিয়েছে! কানে বাজছে সাঈমকে বলা নিজের বাক্যটা,“আমারতো সাহস আছে।”

সত্যিই কি সাহস আছে ইনশিরাহর? তাহলে দাদানের সামান্য জিজ্ঞাসাবাদে এমন হাঁটু কাঁপবে কেনো তার!

নিজেকে জিজ্ঞাসাবাদের মুহূর্তে ইনায়া ঢুকে পরে ইহানের ঘরে। ঢুকেই হাঁপাতে থাকে সে বুকে হাত দিয়ে। ইনশিরাহর ভাবুক দৃষ্টি বোনের মুখবিবরে গিয়ে থামে। ইনায়া এদিক ওদিক তাকিয়ে স্বভাব সুলভ আঁতকে উঠে বলে,“দাদান চলে গিয়েছে?”

_হু।

_যাহ! গিফট টা দিতে পারলাম না যে!

_রাতে দিয়ে দিস।

ইনায়া বোনের দিকে এগিয়ে আসে। অভিযোগ নিয়ে বলে,“তুমিও মনে করিয়ে দিলে না? কেউ মনে করিয়ে দিলো না!”

_সারাক্ষন দরজা বন্ধ করে পড়াশোনা রেখে রোমান্টিক সিরিজ দেখিস দুনিয়ার হুস জ্ঞান হারিয়ে। তুই ঘরে জীবিত নাকি মৃত সেটাই তো কেউ জানি না আমরা। খাচ্ছিস আর মোটি হচ্ছিস দিনকে দিন। লাইফলেস কোথাকার!

বোনকে অনর্গল কথাগুলো শুনিয়ে ইনশিরাহ চিন্তিত ভঙ্গিতে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

ইনায়া ইহানের স্টাডি টেবিলের ওপর গিফট বক্স টা রেখে তার আয়নায় সামনে দাঁড়ায়। আপু কি বলে গেলো এই মাত্র? সে মোটি হয়ে যাচ্ছে? কি ভয়ংকর কথা!

★★★

সরকারি কলেজ রোডের পশ্চিমে বাগানবাড়ি পয়েন্টের ঝা চকচকে রাস্তা দিয়ে স্কুটার এগিয়ে যাচ্ছে । আর দুমিনিটের মতো রাস্তা পেরোলেই ইহান তাজওয়ারের দলীয় অফিস।

এ শহরে আসার পর,প্রেরনা পাঁচ বছরে কখনো ইহান তাজওয়ারের দলীয় অফিসে যায়নি, সামনাসামনি দেখাও হয়নি। তবে সে চেনে অফিসটা, ইহান তাজওয়ারের পার্টি অফিস বিল্ডিং-এর সামনে রাস্তার বিপরীতে প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতিতে সে বহুবার এসেছে।

স্কুটার পার্টি অফিসের ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে যায়। প্রেরনা নেমে হেলমেট খুলে নেয়। প্রিতমকে সে সাথে করে আনেনি। আগে সে কথা বলবে বলে ঠিক করে নেয়। চোখ ঘুরিয়ে আশেপাশে তাকায়। পার্টি অফিস বিল্ডিং-য়ের ঠিক সামনেই একটা বিএমডব্লিউ পার্ক করে রাখা। গাড়িটা সম্ভবত নেতার।

এগিয়ে গিয়ে কলাপসিবল গেইটের কাছে সিকিউরিটি গার্ডের সামনে দাঁড়িয়ে পরে প্রেরনা। সিকিউরিটি গার্ড শুকনো গলায় বলে ওঠে,"
“কাকে চাই?”

প্রেরনা বলে ওঠে,“ইহান তাজওয়ার মির্জাকে।”

সিকিউরিটি গার্ড প্রেরনার কাঠ কাঠ কন্ঠস্বর শুনে খানিকটা ভড়কে যায়। তারপর আমতা আমতা করে বলে ওঠে,“কি দরকার?”

_আপনি কি ইহান তাজওয়ার? আমার তো তাকে দরকার টা বলতে হবে। তার সাথে কথা বলতে চাই আমি।

সিকিউরিটি গার্ড প্রেরনার পা থেকে মাথা পর্যন্ত একবার দেখে বলে,“একটু দাঁড়ান,আমি কল করছি ভেতরে। কি নাম আপনার?”

প্রেরনা গলার স্বর খানিকটা উঁচু করে বলে ওঠে,“প্রেরনা। আমার নাম প্রেরনা আহসান।”

★★★

অফিসের অভ্যন্তরে আজ দলের ছেলেরা মিলে পুরো অফিসটাকে সাজাচ্ছে। তাদের প্রানপ্রিয় সভাপতি ভাইয়ের জন্মদিন বলে কথা। যদিও ভাই এসে অনেক রাগারাগী করেছে।

ইহান সাংগঠনিক কিছু কাগজপত্র দেখছিলো। সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কিছু কাজের সূচী লিখে ফেলে সে সাধারণ সম্পাদককে দিয়ে। আচমকা কাগজ গুলো থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে ডেস্কের সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে রাখতেই দৃষ্টি স্থির হয় তার। গেটের কাছে একজন মেয়ে সিকিউরিটি গার্ডের সাথে দাঁড়িয়ে কিছু বলছে। ইহান মেয়েটিকে দেখে, আগেকার বাঙালি মেয়েদের মতো শাড়ি পরেছে। শাড়ির রঙটা নীল সাদা। বেশ সাদামাটা বেশভূষা। এক কাঁধে একটা ভ্যানিটি ব্যাগ,অন্য কাঁধে শাড়ির আঁচল টেনে তুলেছে। এই রূপটার সাথে ইহান তাজওয়ার অত্যন্ত পরিচিত! ভ্রু যুগল গুটিয়ে আসে তার।
বড় মা! হ্যা, একেবারেই বড় মায়ের মতো বেশভুষা। হাতের কাগজ গুলোর কথা বেমালুম ভুলে ইহান তাজওয়ার মনিটরে তাকিয়ে আছে। আজকাল সাংস্কৃতিক ফাংশন ছাড়া দেশীয় মেয়েরা শাড়ি পরে না‌। এই মেয়ে কেন পরেছে!

মুহুর্তেই ইন্টারকম বেজে উঠলে ইহান মনিটরে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেই কলটা রিসিভ করে। ওপাশ থেকে সিকিউরিটি গার্ড বলে,“ভাই...”

_ভদ্রমহিলার পরিচয়?

_ভাই নাম বলছে প্রেরনা আহসান। আপনার সাথে কথা বলতে চায়।

_ঠিকাছে,ভেতরে পাঠিয়ে দাও।

কল কাটে। ইহান মনিটরের দিকেই তাকিয়ে। ভদ্রমহিলা কলাপসিবল গেট পেরিয়ে মেইন বিল্ডিং-এ ঢুকছে।

ইহান তাজওয়ারের পাশে এসে দাঁড়ায় দলের ক্রিড়া সম্পাদক নাহিদ। মনিটর থেকে দৃষ্টি না সরিয়ে নাহিদকে শুধায়,“ভদ্রমহিলাকে কোথাও দেখেছি মনে হচ্ছে,চিনিস ভদ্রমহিলাকে?”

নাহিদ ঘা'ড় কাত করে, চিন্তিত ভঙ্গিতে বলে ওঠে,“হু! চিনিতো।”

_কে?

_আরে ইনি তো “স্বাদে আহ্লাদে” হোটেলের সত্ত্বাধিকারী।

ইহান তাজওয়ার নাহিদের দিকে তাকায়। ধিমি আওয়াজে বলে ওঠে,“স্বাদে আহ্লাদে রেস্তোরাঁর মালকিন!”

চলমান...

বিশেষ বিশেষ বিশেষ নোটিশ 🚫

১.আপনারা অনেকেই জানতে চেয়েছেন,১ম পরিচ্ছেদ না পড়লে এটা পড়া যাবে কি না। কেনো যাবে না, অবশ্যই যাবে, দু'টো দুইটা আলাদা জেনারেশনের আলাদা গল্প।

২.আর হ্যা পুরাতন পাঠকরা এতো কনফিউজড হচ্ছেন কেন? প্রেরনা, সাঈম, শাওকাত ওয়াসীত,প্রিতম,প্রনমি,শুদ্ধ, রাদিফ এরা নতুন চরিত্র। এরা এই পরিচ্ছেদের মুখ।

৩.গল্পের প্রয়োজনে অনেক অশালীন শব্দ ব্যবহার করতে হয়। দু্ঃখিত সে কারনে।

৪.নায়ক পলিটিক্স করে কারন তাদের বাড়ির ইতিহাসে পলিটিক্স জড়িত। এছাড়া গল্পটিতে পলিটিক্সের ভূমিকা নেই। এটা কোনো রাজনৈতিক গল্প নয়। ভালোবাসার কাহিনী আগাতে যতটুকু ঘটনা ঘটাতে হবে ততটুকুই ঘটাবো।

৫.এটা রূপকথার গল্প। সব চরিত্র কাল্পনিক, ঘটনাপ্রবাহ,স্থান সব কাল্পনিক।

৭.অসংখ্য চরিত্র। এক পর্বে সবাইকে ঢোকানো যায়না। অপেক্ষা করুন। ক্রমশ প্রকাশ্য...

৬.আগামীকাল ছুটি। বুধবার আবার গল্প পাবেন সন্ধ্যা নাগাদ।🖤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 2 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন